বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০১৯
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি সিরিয়া নিয়েই হবে !
চারদিকে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। কি ঘটতে যাচ্ছে সিরিয়ায়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত হামলা চালাতে। প্রস্তুত ফ্রান্স। প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃটেন। রাশিয়ার তরফ থেকে সতর্কতা দেয়া হয়েছে। কোন দিকে মোড় নেবে সিরিয়া যুদ্ধ! তবে কি এখান থেকেই শুরু হবে এ শতকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সিরিয়ার আকাশসীমায় এতগুলো দেশের যুদ্ধবিমান যখন গর্জন করবে তখন একটির সঙ্গে আরেকটির টক্কর লেগে গেলেই সূচনা হতে পারে এমন যুদ্ধ। আর তার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া নামের যে একটি দেশ ছিল, তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ছিল তা হতে পারে বিপন্ন। এখনই তো সিরিয়া বলতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ধ্বংসস্তূপ। চারদিকে লাশের সারি। পচে যাওয়া, পরিত্যক্ত লাশের গন্ধে ভারি হয়েছে বাতাস। হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে আহতদের সামাল দিতে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বেসামরিক লোকজনের ওপর রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালিয়েছেন, এই অভিযোগে তার ওপর তীব্র আক্রমণ চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স। তার সঙ্গে যোগ দেবে বৃটেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পদক্ষেপে তারা সহযোগিতা করবেন। এ জন্য তিনি সিনিয়র মন্ত্রীদের এক বৈঠক আহ্বান করেছেন। বুধবার রাতে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো নিয়ে হাউস অব কমন্সে ভোটের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তেরেসা মে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে কয়েকদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ হামলায় অংশ নিতে মন্ত্রীদের সমর্থন চেয়েছেন তিনি। এ জন্য ডাউনিং স্ট্রিটে তাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। তেরেসা মে বলেছেন, রাসায়নিক গ্যাস হামলাকে কোনো জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে না। দামেস্কের কাছে শনিবার যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তার জন্য দায়ী বাশার আল আসাদের বাহিনী। ওদিকে বৃটেনের সেনা প্রধানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৃটিশ সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজকে প্রস্তুত থাকতে। বলা হয়েছে, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সম্বলিত এসব সাবমেরিনকে সিরিয়ার কাছাকাছি ছুটে গিয়ে অবস্থান নিতে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রবল আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেউ পিছু হটছে না। আর সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন নেই বলেই বিশ্বাস করছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। ওদিকে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার কথা বলে বুধবার নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতিকে উত্তেজনাকর করে তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চমৎকার ও সুন্দর স্মার্ট ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র আসছে। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ না নিতে আহ্বান জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিনকে। ওদিকে লেবাননে অবস্থানরত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যদি সিরিয়ার ক্ষমতাসীন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো হামলা হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজকে টার্গেট করতে প্রস্তুত তার দেশ। যদি এমনটাই হয় তাহলে তা সিরিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নতুন এক মাত্রা পাবে। এমন কি তা তৃতীয় বিশ্বযুুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক সিনিয়র সেনা কমান্ডার স্যার রিচার্ড ব্যারোনস। সিরিয়ায় এমন হস্তক্ষেপেরা বিপদ সম্পর্কে তেরেসা মেকে সতর্ক করেছেন হাউস অব কমন্সের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির চেয়ার জুলিয়ান লুইস। এমনতরো মনোভাব পোষণ করেন আরো অনেক এমপি। ওদিকে সর্বশেষ যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে বলা হচ্ছে, সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে রয়েল এয়ার ফোর্সের যেসব বৃটিশ সেনারা অবস্থান করছেন তারা ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক ফোর্স উপসাগরমুখে যাত্রা করেছে। এটি যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম। অন্যদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীও তাদের এয়ার ইউনিটগুলো নতুন করে সাজানো শুরু করেছে। রাশিয়ার সেনাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে দুমাতে।
রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ৭ সেনাকে
রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে ৭ সেনাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে মিয়ানমারসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে তারা। গত বছর রাখাইনে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার দায়ে তাদের এ সাজা হয়েছে। কমান্ডার ইন চিফ মিং অং এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে জানানো হয় যে, হত্যায় অংশগ্রহণের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৭ জনের মধ্যে ৪ সেনা কর্মকর্তা এবং তিন জন অন্যান্য পদে ছিলেন তাদের সবাইকে সেনাবাহিনী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও পুলিশ কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকরাও দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম রাখাইনের ইন দিন গ্রামের একটি গণকবরে ঐ দশ রোহিঙ্গার মরদেহ পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ইন দিন গ্রামে সেনা বাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা ঐ ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘটনার অভ্যন্ত্যরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত বছর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার জেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।
রাসায়নিক হামলার মূল্য দিতে হবে রাশিয়াকে:ট্রাম্প
সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ট্যুইট বার্তায় বলেছেন,এর জন্য বড় ধরণের মূল্য দিতে হবে রাশিয়াকে। বার্তায় তিনি বাশার আল আল-আসাদকে পশু বলেও উল্লেখ করেছেন। সূত্র জানায়, শনিবারও হামলায় সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দৌমাতে ৭০ জন লোক নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, এই রাসায়নিক হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনায় বসবে রাষ্ট্রসংঘ। ইউরোপীয় ইউনিয়নও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যদিও সিরিয়া সরকার ও রাশিয়া রাসায়নিক হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। এদিকে, পোপ ফ্রান্সিস জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীন মানুষের ওপর বিধ্বংসী অস্ত্র প্রয়োগ কোনোভাবেই মেনে যায় না। দৌমা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিদ্রোহী সংগঠন জাঈশ আল-ইসলামের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে রাশিয়া। রয়টার্স সূত্রে জানা যায়, শহর ছেড়ে পালানো অথবা সেখানে নিরাপত্তার সাথে থাকার নিশ্চয়তা দিলে তারা রুশ বাহিনীকে ভেতরে ঢুকতে দেবে বলে বিদ্রোহীরা জানিয়েছে। জাঈশ আল-ইসলামের সাথে সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেছে সিরিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম। তবে এর জন্য বিদ্রোহীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। এদিন ট্যুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর বিষাক্ত গ্যাস হামলা চালিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ রেড লাইন অতিক্রম করেছে। এই গোটা ঘটনাকে মানবতার অপমান উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন,আপনি যখন নিষ্পাপ সন্তানদের, শিশুদের এবং ছোট্ট বাচ্চাদের হত্যা করবেন তখন এটা সব সীমা ছাড়িয়ে
সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সিরিয়ায়
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানা জানিয়েছে, ওই দেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে আরো বলা হয়, তাইফুর বিমানঘাঁটিতে ওই হামলার সময় সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। হামলার পর সিরিয়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার ভোরে মধ্য সিরিয়ার পালমিরা শহরের নিকটস্থ হোমস শহরের টি৪ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সন্দেহ করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ায় পূর্ব গৌতার দৌমায় রাসায়নিক হামলায় ৭০ জন নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছিলেন,সিরিয়াকে এজন্য বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। অবশ্য সিরিয়ার সরকার কোনো ধরনের রাসায়নিক হামলার কথা নাকচ করে দেয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুপরায়ণ দেশ রাশিয়া রাসায়নিক হামলার খবরকে ভুয়া বলে দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় অস্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনী কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি।
অনলাইন হামলা ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হ্যাক করে সেখানে কিছু চীনা হরফের বার্তা বসানো হয়েছে। চীনা হরফের নিচে সাইটটিতে এরর মেসেজ (ভুল বার্তা) দেখাচ্ছে। খবর এনডিটিভির। এ ঘটনার পর দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টুইটের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সমস্যা লক্ষ করা হয়েছে। এটি মেরামতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটটি দ্রুত আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিতারামান। খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার পর সব সরকারি ওয়েবসাইট ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টারকে এ বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টার ভারতের সব সরকারি ওয়েবসাইটরক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন।
সৌদি যুবরাজ নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুল!
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ক্রাউন প্রিন্স হলেও বর্তমানে তিনিই সৌদির সর্বময়ক্ষমতার অধিকারী। এমনকি দেশটির পরবর্তী রাজা হতে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সুসম্পর্ক। বিপরীতে যুবরাজ সালমানের কাছে ইসলায়েল চায় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এতে সায়ও রয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের। কারণ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোনও রাখ-ঢাক না রেখেই কথা বলেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আর এতেই এমন আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ও পর্যবেক্ষকরা। তাদের দাবি, সৌদি যুবরাজ সালমান আসলে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলছেন যুবরাজ মোহাম্মদ তাই বাস্তবায়ন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরদার হওয়ায় নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ কারণে তারা ইরান, হাশত আশ্ শাআবি, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহর মতো প্রতিরোধ সংগ্রামের বিরোধী হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবকে দিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে অন্য দেশও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে আসে। প্রসঙ্গত, ওই সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা যদি ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও শান্তি স্থাপন করতে পারি, তা হলে মিসর, জর্দানসহ পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলো ব্যাপক লাভবান হবে। যুবরাজের ঘোষণা এমন সময়ে আসলো, যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি দখলদারি থেকে নিজেদের হারানো ঘরবাড়ি উদ্ধারে দুই সপ্তাহের ঘরে ফেরা কর্মসূচি পালন করছেন। গত শুক্রবার থেকে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এরই মধ্যে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং এক হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। মুসলিম বিশ্বসহ পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই ইসরাইলের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফুয়াদ ইব্রাহিম মনে করেন, সৌদি আরবের উগ্র গোষ্ঠীগুলো যাতে রাজার আসন গ্রহণ করতে না পারে, সে জন্য তার আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আমেরিকার আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে সৌদি আরবের প্রকৃত শাসক ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। সৌদি যুবরাজ পররাষ্ট্রনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
ভারতে মেয়েকে বিয়ে না দেয়ায় খুন হলেন একই পরিবারের ৫ জন!
মেয়েটির বয়স তখনও আঠারো হয়নি। অথচ তাকেই বিয়ে করার জেদ চাপে আগেই বিবাহিত এক পুরুষের। কিন্তু বাবা-মা রাজি ছিলেন না। তাতেই খুন হতে হলো পরিবারের ৫ সদস্যকে! ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভুম জেলায়। মার্চের ১৪ তারিখ রাম সিং সিরকার বড় মেয়ে রম্ভা (১৭)কে বিয়ে করতে না পেরে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে খুন করা হয় তাদের পুরো পরিবারকে। রাম সিং-এর স্ত্রী পানু কুই এবং দুই শিশু পুত্র কান্ডে (১২) ও সোন্যা (৮)সহ তাদের দুইজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুর্বৃত্তরা তাদের লাশ ফেলে রেখেছিলো একটি জঙ্গলে। সম্প্রতি তাদের গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল আলম এনডিভিকে জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে খুঁজছে তারা। এরমধ্যে একজন রম্ভাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো। বিবাহিত ওই পুরুষ রম্ভাকে না পেয়েই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ করেছে গ্রামবাসীরা। রাম সিংদের গ্রাম তুলাসাই-এর ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী এক বনে ২৭ মার্চ পাওয়া যায় তাদের মৃতদেহ। পুলিশ বলছে খুনিরা এই পরিবারের সবাইকে হত্যা করে এই জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিযে যায়।
মসজিদে বিমান হামলা আফগানিস্তানে :৭০ জনের প্রাণহানি
আফগানিস্তানের একটি মসজিদে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ প্রদেশে সন্দেহভাজন তালেবান জমায়েতে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরো বহু লোক আহত হন। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ রাদমানিশ জানান, দাস্তি আর্জি জেলায় ওই বিমান হামলায় ৩০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জনই ছিলেন কমান্ডার পর্যায়ের। এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে এ হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় হাসপাতালে হামলায় আহত ব্যাপকসংখ্যক শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সেখানে বেসামরিক লোকজনও ছিল। তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ওই হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক লোক হতাহত হন। একটি মসজিদে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক আলেম ও শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
আবারো উত্তেজনায় ভারত-চীন
লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ। চীনের সঙ্গে এই সীমান্তে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ভারতের। তাই ধীরে ধীরে সেখানে সেনা শক্তি বৃদ্ধি করছে ভারত। প্রায় সাত মাস আগে সিকিম-ভুটান-তিব্বত ত্রি-জংশনের কাছে দোকলাম নিয়ে দুদেশ যুদ্ধংদেহী অবস্থান নেয়। সে অবস্থা অব্যাহত থাকে ৭৩ দিন। তার দৃশ্যত অবসান হলেও নতুন করে আবার শুরু হয়েছে উত্তেজনা। বলা হচ্ছে, এই শীতে দোকলামের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। এর ফলে ভারত সচকিত হয়ে উঠেছে। চীনের সঙ্গে লাইন অব একটুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত সীমান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনারা। এসব এলাকায় চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য কঠিন। কারণ, এসব অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, ব্রিজ, একটি উপত্যকার সঙ্গে আরেকটি উপত্যকার সংযুক্তির ক্ষেত্রে রয়েছে সমস্যা। রয়েছে সমরাস্ত্রের ঘাটতি। হেলিকপ্টার, ড্রোনের অভাব রয়েছে। বিশেষায়িত সমরাস্ত্রের মজুত নেই। তারপরও নৈতিক দিক থেকে ভারতীয় সেনারা রয়েছে উচ্চ মানসিক প্রস্তুতিতে। ধীরে তবে অব্যাহত গতিতে তারা এলএসি বরাবর ৪০৫৭ কিলোমিটার সীমান্তে তাদের পেশিশক্তি বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শুধু অরুণাচল প্রদেশের প্রতিরক্ষার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চারটি ইনফ্যান্ট্রি পাহাড়ি ডিভিশনকে। এর প্রতিটি ডিভিশনে সেনা সদস্য রয়েছেন ১২ হাজারের উপরে। তারা থাকবে ৩ কোর (দিমাপুর) ও ৪ কোর (তেজপুর)-এর অধীনে। সঙ্গে থাকবে অতিরিক্ত দুই ডিভিশন রিজার্ভ সেনা। তিব্বতের দক্ষিণে যে অংশকে চীন তাদের বলে দাবি করছে সেখানকার তেওয়াংয়ে সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিবিথু-ওয়ালং সেক্টরে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে আছেন এমন একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের প্রাথমিক কাজ হলো এলএসিকে নিরাপদ রাখা। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা তা করতে চাই। যদি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবো। এবার আমরা তাদেরকে (চীনা) সামনে এগিয়ে আসতে দেবো না।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর