বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২০
মৃত্যু নয়, এবার করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার রেকর্ড গড়ল ইতালি
০১মে,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ধ্বংসযজ্ঞে ইতোমধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। এখন পর্যন্ত (শুক্রবার দুপুর ১টা) দেশটিতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৬৭ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৪৬৩ জন। চীন থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরপরই যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ে পড়েছিল, সেটি হচ্ছে ইতালি। তবে দেশটিতে পরিস্থিতি দিন দিন ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন সুস্থতা হওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে নতুন রেকর্ড গড়ে। দেশটিতে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৪৫ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৬৯৩ জন। যা দেশটিতে এখন পর্যন্ত একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ; রেকর্ড। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একদিনে নতুন রেকর্ড ৪ হাজার ৬৯৩ জন মানুষ সুস্থ হওয়ার কথা জানায়। নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি এ তথ্য দেন। সূত্র: সিনহুয়া
করোনায় ভারতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অংশু মন্ডল,ভারত প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে করোনা ভাইরাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। একদিনেই মারা গেছেন ৭৪ জন করোনা রোগী। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭৩৮ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সব রাজ্য মিলিয়ে এ পর্যন্ত ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬২ জন। মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৭৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪৩৭ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৩ হাজার ৫৪৬ জন। বুধবার এক হাজার ৮৭৩ জন নতুন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৬৯ জন। তার আগের দিন একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৫৬১ এবং মারা যান ৫৮ জন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মৃত্যু সংখ্যা আগের সব দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোতে শীর্ষে অবস্থান করছে মহারাষ্ট্র। এর পর গুজরাট। মহারাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। মৃত্যুও সবার চেয়ে বেশি এই রাজ্যে। ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ জন। এই ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতে চলছে টানা লকডাউন। আগামী ৩ মে পর্যন্ত এই লকডাউন জারি রয়েছে। এর পরবর্তীতে এই লকডাউন নিয়ে ভারত সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হবে যার ফলে দেশের অনেক রাজ্যেরই নানা জেলায় বিধিনিষেধে যথেষ্ট শিথিলতা দেওয়া হবে, তবে নতুন এই নিয়মটি ৪ মে থেকে কার্যকর করা হবে।
করোনায় বিশ্বব্যাপী ১৬০ কোটি মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে: আইএলও
২৯এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও মনে করে, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় প্রায় ১৬০ কোটি মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে আছে, যা মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক। আজ বুধবার আইএলও করোনা নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তাতে এ মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে যে পরিমাণ কর্মঘণ্টা কমেছে, তা আগে যা ধারণা করা হচ্ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি। গত বছরের শেষ প্রান্তিকের (প্রাক-সংক্রমণের সময়) চেয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ অবনতি আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের (সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ ধরে) সমান। পূর্ববর্তী অনুমান ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমার অর্থাৎ সাড়ে ১৯ কোটি পূর্ণকালীন কর্মীর সমতুল্য। বর্তমানে পরিস্থিতি সব বড় আঞ্চলিক গোষ্ঠীর জন্য আরো খারাপ হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মঘণ্টা হারাবে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া হারাবে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কর্মঘণ্টা। মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ফলে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির প্রায় ১৬০ কোটি শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ ঝুঁকিতে পড়বে। মূলত করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে দেশে নেয়া লকডাউন পদক্ষেপের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকটের প্রথম মাসে বিশ্বব্যাপী অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের আয় কমেছে ৬০ শতাংশ, যা আফ্রিকার দেশের ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৭০ শতাংশ। আইএলওর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিআইনেন বলেন, জনসংখ্যার বিভিন্ন অংশ যেমন নারী, যুবক, বয়স্ক শ্রমিক, অভিবাসী ও চাকরিজীবী ব্যক্তিরা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তরুণ জনগোষ্ঠী এমনিতে উচ্চ বেকারত্বের হারে রয়েছে, তারা জীবিকা হারাতে বসেছেন। বয়স্ক কর্মীরা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় বেকারত্বের ঝুঁকিতে আছেন। নারীরা সামাজিক সুরক্ষার অভাবে রয়েছেন। স্ব-কর্মসংস্থানের কর্মীরা প্রচলিত সামাজিক সুরক্ষা প্রক্রিয়া দ্বারা সুরক্ষিত নন। বিকল্প আয়ের উৎস ব্যতীত এই শ্রমিক এবং তাদের পরিবারগুলোর টেকার কোনো উপায় থাকবে না বলে মনে করে আইএলও। এ অবস্থায় কর্মীকে সহায়তা দেয়ার জন্য জরুরি, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী এবং নমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএলও।
শিগগিরই মসজিদে আল-হারাম ও নববি খুলে দেয়া হবে
২৯এপ্রিল,বুধবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মসজিদে আল-হারাম ও মসজিদে নববীর দরজা আল্লাহর মেহমানদের জন্য অতি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুই মসজিদের প্রধান শেখ আবদুল রহমান আল-সুইদাসি। গতকাল মঙ্গলবার মক্কায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল-সউদ সরকারি ফরমান মাধ্যমে বলেছিলেন আল্লাহইচ্ছা করলে এই দিন শেষ হয়ে যাবে মেঘ সরে গিয়ে আলোর মুখ দেখব। সেইদিন আর বেশি দূরে নয় আমরা আবার আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স:) খেদমতে নিজেদের নিযুক্ত করব এবং সমস্ত বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমতে প্রার্থনা করব। আল-সুইদাসি আরও বলেন, সৌদি সরকার এই দেশের নাগরিক ও এই দেশে বসবাসরত সকল মুকিমের জন্য একটি সুস্বাস্থ্যকর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আল্লাহ চাইলে, অতি তাড়াতাড়ি এই মহামারী থেকে ফিরে আসবে এই রাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্ব। ততক্ষণে এই দেশের সরকারের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে এবং তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বজুড়ে করোনায় ২ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ জনের মৃত্যু
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডোমিটারে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ লাখ ২২ হাজার ৩৮৯ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯ লাখ ৩০ হাজার ৮২২ জন। এদের মধ্যে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫২২ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৫৬ হাজার ৩০০ জনের অবস্থা গুরুতর। ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৮০৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ১০ হাজার ৫০৭ জন। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরে অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৯৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৪২২ জন। ইতালির পরের অবস্থানেই রয়েছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য ২য় অবস্থানে রয়েছে এ দেশটি। এখানে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪২২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুর তালিকার চার নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪২ জন। ফ্রান্সের পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৯ জন। এদিকে জার্মানিতে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১২৬ জনের। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে। সেখানে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৮৩৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৩ জন। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইরানে। এখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ হাজার ৪৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮০৬ জনের। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯১৩ জনের শরীরে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১৫২ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৩১ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৬৩০ জন। ডিসেম্বরে চীনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ওইদিন তিন জন করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই সমান্তরাল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে হুট করেই বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা। তবে ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য মার্চেই ব্যবস্থা নেয় সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। পঞ্চম দফায় বাড়িয়ে সেই ছুটি করা হয়েছে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পদক্ষেপ অনেকটা এ রকমই। তবে এর মাঝেও কিছু কিছু দেশ তাদের দেয়া লকডাউন কিছুটা শিথিল করছে। স্পেন, জার্মানি ও ভারত সেই পথে হেঁটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিও তেমনটাই ভাবছে।
চীনের সঙ্গে ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সৌদির
২৭এপ্রিল,সোমবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মোকাবেলায় চীন থেকে চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য দুইশ ৬৫ মিলিয়ন বা ২৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে সৌদি আরব। রবিবার দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির ফলে সৌদি আরবে দৈনিক ৬০ হাজার করোনাভাইরাস পরীক্ষা সম্ভব হবে। জানা যায়, এই চুক্তির আওতায় চীন থেকে ছয়টি পরীক্ষাগার ও পাঁচশ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেবে সৌদি আরব। বিশাল পরিমাণ টেস্ট কিট আমদানিও করবে। এর ফলে দৈনিক ৬০ হাজার করোনা পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে দেশটিতে। চীন থেকে পাঁচশ টেস্ট কিট বিশেষজ্ঞও সৌদি আরবে এসে স্থানীয় টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেবেন। সৌদি আরবের ন্যাশনাল ইউনিফায়েড প্রকিউরম্যান্ট কম্পানি ও চীনের বেইজিং জিনোম ইনস্টিটিউটের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আরও কয়েকটি সংস্থার কাছ থেকে করোনা পরীক্ষার কিট কিনেছে। যার পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন। আর এবার চীন থেকে কিনতে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ করোনা পরীক্ষার কিট। সৌদি আরবে ১৭ হাজার পাঁচশ ২২ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন একশ ৩৯ জন। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকেই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সৌদি আরব। করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশটির মসজিদে জমায়েত বন্ধ ও সারাদেশে কারফিউ জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে মক্কা ছাড়া বেশ কয়েকটি অঞ্চলে কারফিউ কিছুটা স্তগিত করেছে সৌদি আরব।
বেঁচে আছেন কিম জং উন
২৭এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুঞ্জনে কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম সরগরম। এ গুঞ্জনের মধ্যে কিম জং উন বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা চাং ইন মুন। ১৫ এপ্রিল দেশের প্রতিষ্ঠাতা ও তার দাদা কিম ইল সুংয়ের জন্মদিনে তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। এরপরই নানা জল্পনা ছড়িয় পড়ে। রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা চাং বলেন, আমাদের সরকারের অবস্থান স্পষ্টকিম জং উন বেঁচে আছেন ও সুস্থ আছেন। তিনি ১৩ এপ্রিল থেকে ওনসান এলাকায় অবস্থান করছেন। এখনও সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি। খবর এনডিটিভির। তিনি জানিয়েছেন, কিমের হলিডে রিসোর্টের কাছে একটি ব্যক্তিগত রেলস্টেশন আছে। সেখানে তার ট্রেন দেখা গেছে। কিম জং উনকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় ১১ এপ্রিল দলের পলিটব্যুরোর এক মিটিংয়ে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, হার্টের অপারেশনের পর তিনি অচেতন হয়ে গেছেন। হংকংয়ের একটি টেলিভিশনের দাবি, তিনি আসলে মারাই গেছেন। এ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কিছূ জানানো হয়নি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৯০ জন
২৭এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৯০ জন। অন্যদিকে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৬ জন। তবে রবিবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী করোনার মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। অনেক দিন ধরে ছয় হাজারের বেশি করে দৈনিক মৃত্যু হচ্ছিল সেখানে গতকাল রবিবার বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১ জন। এই সংখ্যায় আশা দেখছে বিশ্ববাসী। একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪২ হাজারের বেশি করোনা রোগী। এ তথ্য জানিয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার। বর্তমানে ভাইরাসটির উপস্থিতি রয়েছে ১৯ লাখ ৮ হাজার ৯২৮ জনের শরীরে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৩২৫ জনের শরীরে রয়েছে মৃদু সংক্রমণ ও ৫৭ হাজার ৬০৩ জনের শরীরে অবস্থা গুরুতর। যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৬০ জনের শরীরে। সেখানে মারা গেছেন ৫৫ হাজার ৪১৩ জন। এছাড়া স্পেনে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬২৯ জনের শরীরে এবং সেখানে মারা গেছেন ২৩ হাজার ১৯০ জন। বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ জনের শরীরে এবং মারা গেছেন ১৪৫ জন ও সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন।
উহানকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করেছে চীন
২৬এপ্রিল,রবিবার,এম.সিরাজ সাকি,চীন প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার গতি থামাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে উহানকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করেছে চীন। যদিও রাজধানী বেইজিংসহ অন্যান্য স্থানে এখনও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা অনেক কম। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে। স্বাস্থ্য কমিশনের মুখপাত্র মি ফেং বলেন, ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত উহানে করোনা রোগীর সংখ্যা শূন্য। এর জন্য উহান ও সারাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই। উহানে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৪৫২ জন ভাইরাসটির শিকার হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৯ জন, যা চীনে মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৪ শতাংশ। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি সবজি বাজার থেকে কোন এক প্রাণীর মাধ্যমে ভাইরাসটির সৃষ্টি হয়। যদিও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যা বিশ্বের ২১১টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। করোনার প্রকোপ দেখা দিলে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে গোটা হুবেইজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় সবধরনের যান চলাচল, কলকারখানা ও বিমান চলাচল। জরুরি নিত্যপণ্য কেনা ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় দেয়া হয় কড়া নিষেধাজ্ঞা। বন্ধ হয়ে যায় অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিরমুখে পড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। যার প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হাজারো প্রচেষ্টায় দেশটিতে গতমাসের প্রথম দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে করোনা। এরপর সম্প্রতি তুলে নেয়া হয় লকডাউন। ফলে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় এখন চীন। তবে বহিরাগতদের এখনও পরীক্ষা ছাড়া শহরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কারণ, বাকি অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ কমে গেলেও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশে রাশিয়াফেরত নাগরিকদের মাধ্যমে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৮২৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩২ জন। উৎপত্তিস্থল চীন স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও মৃত্যু উপত্যকায় ইউরোপ ও আমেরিকা। ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। যার শিকার হয়েছেন এখন পর্যন্ত ২৯ লাখ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ সাড়ে ৩ হাজার মানুষের। যদিও সুস্থ হয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯শ জন।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর