বাবরি মসজিদ রায় পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন
০৩ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ বনাম রাম জন্মভূমি বিতর্ক মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের করেছে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ। গতকাল সোমবার জমিয়ত প্রধান মওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, দেশের মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ওই রায় পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ওই মামলার পুনরায় শুনানির দাবি জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা চাইছি এর সুবিচার হোক। আমরা আদালতের রায়ে খুশি নই এটা খুব পরিষ্কার কথা। বাবরি মসজিদের তথ্যভিত্তিক কোনও বিচার হয়নি, আবেগের ভিত্তিতে রায় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। পুনর্বিবেচনার আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের আদেশ স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। ওই আদেশে আদালত বিতর্কিত জমিকে রাম মন্দিরের জন্য দিতে বলেছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে আদেশ দিক যাতে মন্দির নির্মাণের জন্য ট্রাস্ট না তৈরি করা হয়। আবেদনে বলা হয়েছে- সুপ্রিম কোর্ট ১৯৩৪, ১৯৪৯ এবং ১৯৯২ সালে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্যায়কে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে কিন্তু তা উপেক্ষাও করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ণ ন্যায়বিচার কেবল তখনই করা হবে যখন মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। ওই কাঠামোটি সবসময়ই একটি মসজিদ ছিল এবং তাতে মুসলিমদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব ছিল। জমিয়তের শীর্ষ নেতা আরশাদ মাদানী বলেন, আদালতই আমাদের অধিকার দিয়েছে মামলা করার, সেজন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। অযোধ্যা মামলায় বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু ছিল মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ তৈরি হয়েছিল কিনা। শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, মন্দির ধ্বংস করেই যে মসজিদ তৈরি হয়েছিল, এমন কোনও প্রমাণ নেই। সুতরাং মুসলিমদের অধিকার প্রমাণিত। অথচ চূড়ান্ত রায় এর বিপরীতধর্মী। আমরা রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছি কারণ, রায় বোধগম্য হয়নি। এদিকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের পক্ষ থেকেও রিভিউ পিটিশনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হবে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারকে মসজিদের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
তামিলনাডুতে দেয়াল ভেঙে ১৫ জনের মৃত্যু
০২ডিসেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়ির ওপর দেয়ার ভেঙে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে রাজ্যের কোয়েম্বাটুর জেলায় নাদুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, নিহতরা ঘুমিয়ে ছিলেন। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় ২০ ফুট উঁচু দেয়াল ৪টি বাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে। পরে জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এর আগে ভারী বৃষ্টিপাতে গত তিন দিনে তামিলনাডুতে আরও অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়। রোববার (১ ডিসেম্বর) চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএমসি) জানায়, আগামী দুইদিনে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে। এ রাজ্যের ছয় জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া ১৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে কুডালোর জেলার প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের সিয়াচেনে তুষারধসে ২ ভারতীয় সেনার মৃত্যু
০১ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের সিয়াচেনে তুষার ধসে দুই সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, দক্ষিণ সিয়াচেন হিমবাহে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদারি দল তুষারপাতের কবলে পড়ায় ভারতীয় দুই সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। তুষার ঝড়ের পরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেনা জওয়ানদের উদ্ধার করতে নেমে পড়েন এবং তাদেরকে বরফের মধ্যে থেকে বের করে আনতে সমর্থ হন। হেলিকপ্টারের সাহায্যে আহত জওয়ানদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হলেও দুই জওয়ানের জীবন বাঁচানো যায়নি। কারাকোরাম পর্বতমালার ২০ হাজার ফুট উঁচুতে রয়েছে সিয়াচেন হিমবাহ। এটিই সবচেয়ে উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়।
সাংবাদিক হত্যার জেরে মাল্টার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ !
৩০নভেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই বছর আগে এক সাংবাদিক খুনের জেরে দেশজুড়ে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগের চিন্তা করছেন মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাস্কট। রাজনৈতিক ও আইনি সংকট বাড়তে থাকায় মাস্কট তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এ চিন্তার কথা বলেছেন। তার মুখপাত্র এ বিষয়ে মুখ না খুললেও শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম জানায়, কাল রোববার (১ ডিসেম্বর) নির্ধারিত মাস্কটের একটি অনুষ্ঠান বাতিল করেছে তার দল লেবার পার্টি। সেখানে দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী মাস্কটের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জন্য নন্দিত সাংবাদিক কারুয়ানা গালিজিয়া ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হন। সাংবাদিকরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে এলেও সরকার মামলার তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এই হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত সপ্তাহে আটক করা হয় প্রধানমন্ত্রী মাস্কটের ডান হাত খ্যাত চিফ অব স্টাফ কেইথ স্কেমব্রিকে। কিন্তু স্কেমব্রি কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে পুলিশ জানায়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আর আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। এরপর সাংবাদিক গালিজিয়া পরিবারের চোখে সন্দেহভাজন স্কেমব্রিকে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন থেকেই ওই পরিবার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছে। তাদের সঙ্গে সোচ্চার হয়েছে দেশের জনগণ। গালিজিয়া পরিবার বলছে, হত্যা মামলায় প্রধানমন্ত্রীর তিন সহযোগীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে বিধায় এ মামলা দেখভালের দায়িত্বে তিনি থাকতে পারেন না, তার পদত্যাগ করতে হবে। এলিটদের প্রধানমন্ত্রী খ্যাত মাস্কট এর আগেও অবশ্য পদত্যাগ দাবির মুখে পড়েছিলেন। তখন তিনি সে দাবি নাকচ করে বলেছিলেন, আমি আমার দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না। মাল্টার অটল নেতৃত্ব প্রয়োজন এবং আমি দেশের স্বার্থে নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা পালন করে যাবো, তবে (অপরাধী) কাউকে রক্ষাও করবো না আমি। গালিজিয়াকে হত্যার দায়ে বিচার চলছে তিন জনের। তবে এই তিন জনকে ভাড়া করার পেছনে কে জড়িত ছিল, সেটা এই দু বছরেও বের করতে পারেনি সরকার। সেজন্যই গালিজিয়ার পরিবার দাবি করছে, সরকারই হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দিতে চাইছে। পরিস্থিতি নাজুক বুঝে মাস্কটের মন্ত্রিসভার দুই সদস্য অর্থাৎ দুই মন্ত্রী চলতি সপ্তাহেই সরে দাঁড়িয়েছেন। পরিস্থিতি এলিট শাসকদের জন্য অশনিসংকেত বলে জানাচ্ছে সেখানকারই সংবাদমাধ্যম। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের চিন্তার খবরও ছড়িয়ে গেলো।
ইসরায়েলকে শত্রু বিবেচনা করে জর্ডানের যুদ্ধ মহড়া
৩০নভেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জর্ডানের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলকে শত্রু কল্পনা করে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। মহড়ায় জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলার কৌশল অনুশীলন করা হয় এ মহড়ায়। মহড়ায় বাদশাহ আব্দুল্লাহর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ওমর রাজ্জাকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এবারের মহড়ার নাম দেয়া হয় কারামার তলোয়ার। ১৯৬৮ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন ফাতাহর বিরুদ্ধে যে অভিযান পরিচালনা করেছিল দৃশ্যত তার স্মরণে এ নাম দেয়া হয়েছে। কারামা গ্রামের কাছাকাছি সে যুদ্ধে ফাতাহ আন্দোলনের পাশাপাশি জর্ডানও লড়াই করেছিল। জর্ডানের একটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে জর্ডানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এবং পাল্টাপাল্টি কড়া বিবৃতি চলছে। এ অবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ ঘোষণা করেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ২৫ বছর আগে জর্ডানের যে দুটি ভূখণ্ড লিজ দেয়া হয়েছিল তার মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং জর্ডান এখন ওই ভূমি ইসরায়েলের কাছে লিজ দেবে না। তবে ইসরায়েল জর্ডানের এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে জর্ডানের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু জর্ডানের সাধারণ মানুষ তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকে ভালো চোখে দেখে না।
ইরানি দূতাবাসে আগুন দিল বিক্ষোভকারীরা
২৮নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ছে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজাফে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে এক বিক্ষোভকারী নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। হামলার সময় দূতাবাসের কর্মীরা পিছন দরজা দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যায়। আল জাজিরা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবার এ ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই ঘটনা ইরাকি বিক্ষোভকারীদের ইরানবিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। কর্মসংস্থানের অভাব, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ১ সেপ্টেম্বর বাগদাদের রাজপথে নামে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরানসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের প্রভাব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আওয়াজ নিয়ে রাজপথে নামে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এ বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে তিনশ মানুষ নিহত হয়েছে।
ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে লাখ টাকার গয়না লুট
২৭নভেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগদ টাকা ও গয়না লুট করেছিলেন এক যুবক। ভারতের লেকটাউনের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে দুইজনকে। সূত্রের খবর, ফেসবুকে লেকটাউনের বাসিন্দা ওই গৃহবধূর সঙ্গে পরিচয় হয় সন্দেশখালির সৌমিত্র মণ্ডলের। সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। এরপরই ওই গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সৌমিত্র। কথা মতো সমস্ত গয়না, টাকা-পয়সা নিয়ে আনন্দপুরে চলে আসেন গৃহবধূ। এরপরই ব্যাগটি নিজের কাছে নেয় ওই যুবক। ঘুরে আসার নাম করে কার্যত চম্পট দেন তিনি। ঘটনার পরই লেকটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই গৃহবধূ। অভিযোগের ভিত্ততে তদন্তে নামে পুলিশ। সোমবার বাঁশদ্রোণী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সৌমিত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুলাল নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। দুলালকে জেরা করে তার কাছ থেকে সমস্ত সোনা-গয়না উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুরো বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
২৬নভেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরান বলেছে, বিশ্বের একমাত্র রাসায়নিক অস্ত্রধর দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে রয়েছে। হেগে রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের ২৪তম বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গতকাল সোমবার এ আশঙ্কার কথা জানান ইরানের আইন বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম-হোসেইন দেহকান। তিনি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সব রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা- ওপিসিডব্লিউকে যুক্তরাষ্ট্রের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের প্রক্রিয়া তদারকি করতে হবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ওপর ইরাকের মাধ্যমে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রে আহত ইরানি নাগরিকদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের হাতে যে রাসায়নিক অস্ত্র তুলে দিয়েছিল তার নির্বিচার প্রয়োগে ইরানের হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয় এবং ওই অস্ত্রে আহত বহু মানুষ এখনও তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করছে। দেহকানি বলেন, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দয় নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই মানুষগুলোর চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
২৫ বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৭০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়ন
২৪নভেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্র কাগজপত্রবিহীন ২৫ বাংলাদেশিকে ডিপোর্ট (বিতাড়ন) করেছে। গত বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত ৩টায় ওইসব বাংলাদেশিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। একই বিমানে কাগজপত্রবিহীন ১৪৫ ভারতীয় ও কয়েকজন শ্রীলঙ্কানকেও ডিপোর্ট করা হয়। পরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের নামিয়ে দিয়ে বিমানটি দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা করে। ঢাকার বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওয়েজ আর্নারস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সহকারী পরিচালক তানভীর হোসেন পরে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় অবতরণের পর ২৫ বাংলাদেশিকে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিপোর্টেড ২৫ বাংলাদেশি হলেন- মো. রাজু, রাজু আহমেদ, রেজাউল হক, মোহাম্মদ ইয়াসিন, মোহাম্মদ ইসলাম, মোহাম্মদ আল আমিন, আব্দুল আউয়াল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দেওয়ান, আকরাম হোসেন, নাহিদুল হাসান, আরিফুল রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইসলাম, আব্দুল করিম, মেহরাব হোসেন, শহিদুল ইসলাম, জাহির উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল আলী, আরিফ রহমান, শাকিল আহমেদ, আমিনুল শাকিব, আবদুল ওয়াহেদ, মেহেদী হাসান এবং জাহিদুল ইসলাম নাইম। তাদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হবে বলে জানা গেছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল ইসলাম জানান, এই ডিপোর্টেশন প্রমাণ করে, কাজের জন্য কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এখন আর নিরাপদ নয়। তারা প্রত্যেকে দালালদের হাতে ৩৫ লাখ করে টাকা তুলে দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে জেল খেটেছে এবং এখন তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলো। অবৈধ পথে যারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিতে চায় বিপুলসংখ্যক মানুষের এই ডিপোর্টেশন তাদের জন্য একটা বড় শিক্ষা এবং উদাহরণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউরোপ এবং আমেরিকা অবৈধ অভিবাসীদের এখন থেকে এভাবেই ফেরত পাঠাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে ধরা পড়ে জেল খাটছেন শতাধিক বাংলাদেশি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর