আফগানিস্তানে আকাশ পথে ড্রোন হামলা, কমপক্ষে ১৭ জঙ্গি নিহত
আফগানিস্তানে আকাশ পথে ড্রোন হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৭ জন আইএস জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার আফগানিস্তানের নানগারহর প্রদেশের কাছে আইএস জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে বলে খবর পায় মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন ড্রোন হামলায় তাদের হত্যা করা হয়। একটি আর্ন্তজাতিক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, রোববার নানগারহর প্রদেশের হাসকা মীনা এবং আচিন জেলায় আইএস জঙ্গিদের খোঁজে ড্রোন হামলা করা হয়। আচিনে ১৪ জন এবং মীনা জেলাতে তিন আইএস জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে এই প্রদেশে গত এক বছর ধরে মার্কিন সেনারা আফগান সেনাদের সঙ্গে যৌথভাবে আইএস নিধনে অভিযান চালাচ্ছে। এই এক বছরে একশর উপর আকাশ পথে হামলা করে দেশটির বিমানবাহিনী। মাটিতে অপারেশন চালানোর জন্য স্পেশাল ফোর্সও নামানো হয়। তাছাড়া, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। নানগারহার প্রদেশসহ আটটি প্রদেশে বেশ কিছুদিন আগে ২৪ ঘন্টার সেনা অভিযানে মোট ৭৬ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে আফগান সেনারা। ৭৬ জন জঙ্গির মধ্যে অন্তত তিনজন তালেবান কমান্ডার রয়েছে বলে জানা যায়।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ
আফ্রিকান অভিবাসীদের কটাক্ষ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতারা। এ অবস্থায় নিজের বক্তব্য অস্বীকার করে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আবর্জনা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এর পরপরই তার বক্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এমন মন্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ বলেও আখ্যা দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এ অবস্থায় নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আফ্রিকান অভিবাসীদের আবর্জনা বলেননি; বরং তাদেরকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। গণমাধ্যমে বিরুদ্ধে তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াট হাউসের ওভাল দপ্তরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সিনেটরদের সঙ্গে অভিবাসী ইস্যুতে বৈঠকে কাণ্ডটি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক কথায় দু'কথায় এক পর্যায়ে হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকান অভিবাসীদের আবর্জনা বলে আখ্যা দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্যারাবিয়ানদের কটাক্ষ করায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাসকারী হাইতির নাগরিকরা। ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন তারা। হাইতির নাগরিকরা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যুক্তরাষ্ট্রে সবাই সমান। প্রত্যেকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিৎ। বিতাড়িত করা, বা এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ লজ্জাজনক। শুক্রবার রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে আয়োজিত শোকসভায়ও ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন হাইতিয়ানরা। এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আফ্রিকানদের ইতিহাস জানার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেনিয়রা। তারা বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আদিকাল থেকে মার্কিনীদের সঙ্গে হইতিয়ানদের ভালো সম্পর্ক চলে আসছে। এটা খুবই দুঃখজনক প্রেসিডেন্ট আমাদেরকে নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলছেন। আমার মনে হয় ট্রাম্পের নিজেকে শোধরানো উচিৎ। কারণ এসব বক্তব্য তাকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তুলনা করতে পারে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন ২শ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমরা আমাদের জায়গায় উন্নতি করে যাচ্ছি। আমাদেরকে অসম্মান করার কোনো অধিকার ট্রাম্পের নেই। আমি আশা করি ট্রাম্প তার অসুস্থ বক্তব্য প্রত্যাহার করবে। আফ্রিকানদের আবর্জনা বলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে বলেছে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আফ্রিকান ইউনিয়ন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যে আফ্রিকান জাতি মর্মাহত, অপমানিত এবং উদ্বিগ্ন বলেও জানায় সংস্থাটি। এর সালভাদরের নাগরিকদের সম্মান দিয়ে কথা বলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সানচেজ ক্যারেন। এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এসবরে মধ্যেই ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বর্ণবাদী বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা সংস্থার মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেন, 'অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ জন্য তাকে বর্ণবাদী ছাড়া অন্য শব্দে অভিহিত করা যায়। তিনি কোনো ভাবেই একটি দেশের মানুষকে অবহেলা করতে পারে না। পুরো জাতিকে আবর্জনা বলে অবজ্ঞা করতে পারেন না।' এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্যকে দুঃখজনক এবং উচ্ছৃঙ্খল বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। ঘরে বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে শুক্রবার নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, আবর্জনা শব্দ তিনি ব্যবহার করেননি। আফ্রিকান অভিবাসীদের কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছেন। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য সঠিকভাবে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প চাপে পড়ে টুইটে নিজের পক্ষে সাফাই গাইছেন বলে অভিযোগ করেন গত ওভার অফিসে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকা ডেমোক্রেট সিনেটর ডিক ডারবিন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি নিজের কানে শুনেছি তিনি কয়েকবার বর্ণবাদী এবং ঘৃণিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। পরে গণমাধ্যমে এসব তথ্য দেখে আমি মোটেও বিস্মিত হয়নি। কারণ গণমাধ্যমে ভুল কিছু আসেনি।'
সিরিয়ায় রুশ নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত! দাবি রাশিয়ার
আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। আর তারই জের ধরে সিরিয়ায় রুশ নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে রাশিয়া। এ ব্যাপারে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত শনিবার সিরিয়ার লাতাকিয়া প্রদেশে হেমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌ ঘাঁটিতে ১৩টি ড্রোনের সাহায্যে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। রাশিয়ার অভিযোগ, সেই সময় আশেপাশে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতি ছিল। এর ফলে ড্রোন হামলা প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন হামলার জন্য যেসব তথ্য প্রয়োজন হয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব! এবং তা অবশ্যই উন্নত দেশই পারে বলে দাবি মস্কোর। এছাড়া জিপিএস ব্যবহার করে ড্রোনকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট স্থানে হামলার জন্য যে কারিগরি দক্ষতা ও কৌশল প্রয়োজন হয় সেটাও কেবল উন্নত দেশের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব বলে রাশিয়া উল্লেখ করেছে। রাশিয়া আরও বলেছে, ড্রোন হামলার একই সময়ে রুশ ঘাঁটির কাছে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতি বিস্ময়কর। তবে ওই হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আইএসই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে আইএসের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত
ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত। আর তারই জের ধরে এবার পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর ১৪ হাজারেরও বেশি বাঙ্কার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এ ব্যাপারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার সংঘর্ষ বিরতি লংঘন করে যেভাবে গোলাবর্ষণ করছে পাকিস্তান, তার হাত থেকে গ্রামবাসীদের সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে। জানা গেছে, দুই ধরনের বাঙ্কার তৈরি করা হবে। ইনডিভিজুয়াল বাঙ্কার এবং কমিউনিটি বাঙ্কার। দুই ধরনের বাঙ্কারই হবে ভূগর্ভস্থ। নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন দুই জেলা পুঞ্চ এবং রজৌরিতে তৈরি করা হবে ৭ হাজার ২৯৮টি বাঙ্কার। আর আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন জম্মু, কঠুয়া এবং সাম্বা জেলায় তৈরি করা হবে ৭ হাজার ১৬২টি বাঙ্কার। মোট ১৪ হাজার ৪৬০টি। এছাড়া, ইনডিভিজুয়াল বাঙ্কারের আয়তন হবে ১৬০ বর্গফুট। সেগুলোতে সর্বোচ্চ ৮ জন আশ্রয় নিতে পারবেন। আর কমিউনিটি বাঙ্কারের আয়তন হবে ৮০০ বর্গফুট। একসঙ্গে ৪০ জন করে থাকতে পারবেন এগুলোতে।
উচ্চ প্রযুক্তি লঞ্চ সিস্টেম সহ তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তৈরি করছে চীন
তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তৈরি করছে চীন, সতর্ক ভারত আন্তর্জাতিক মহলকে উত্তপ্ত করে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যস্ত। আর তারই জের ধরে এবার উচ্চ প্রযুক্তি লঞ্চ সিস্টেম সহ তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তৈরি করছে চীন। ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে স্থিত আধুনিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য এই সিস্টেম আনছে চীন৷ ২০১১ সালে শেষ হয় চীনের প্রথম এয়ারক্র্যাফ্ট তৈরির কাজ। এর পর সাংহাই শিপইয়ার্ডে প্রায় দু'বছর ধরে চীনের দ্বিতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট নির্মিত হয়। এবছর সেটি লঞ্চ করার কথা। কিন্তু তার আগেই তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্টের কথা ঘোষণা করে দিল চীন। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন এই এয়ারক্র্যাফ্ট তৈরির কাজ আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। বাকি দু'টি এয়ারক্র্যাফ্ট থেকে এটি অনেকটাই আলাদা হবে এটি। এদিকে, এই ধরনের এয়ারক্র্যাফ্ট পরিচালনার জন্য পাইলটদেরও ট্রেনিং দিচ্ছে চীন। জানা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪টি এয়ারক্র্যাফ্ট বানানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট কবে লঞ্চ করবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু বলতে পারছে না তারা। এ ব্যাপারে চীনের একটি সংবাদমাধ্যমে আরও প্রকাশ হয়েছে, অ্যান্টি মিসাইল, অ্যান্টি শিপ, মর্ডার্ন ডিফেন্স ও অ্যান্টি সাবমেরিন অস্ত্র আটকাতে নতুন অস্ত্র আনছে চীন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই অস্ত্র তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে যাবে। খুব শিগগিরই হয়তো দক্ষিণ চীন ও ভারত মহাসাগরে এর ব্যবহার চোখে পড়বে। এছাড়া চীনের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, হেলকপ্টারের পরিকল্পনা আর করতে চাইছে না চীনা সেনারা। এখন তারা আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে নজর দিয়েছে। সেই কারণেই চীনে নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের কাজ চলছে। জাহাজে সেনা ও কর্মীদের থাকার পরিবেশ যাতে আরও ভালো হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
রেকর্ড তুষার ঝড়ে ১৭ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ কোটি মার্কিনী
১৯২১ সালের পর রেকর্ড তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত গোটা উত্তর আমেরিকা। এতে কমপক্ষে ১৭ মার্কিনী মারা গেছে। বাতিল করা হয়েছে ছয় হাজার ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বরফের স্তর জমেছে। ওই এলাকার ৬ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই তুষার ঝড়কে বোমা সাইক্লোন বলা হচ্ছে। বিরূপ আবহাওয়ায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম প্রহরে শুরু হাড় কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহের অবনতি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোরে। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার সঙ্গে যোগ হয় ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেগে প্রবাহিত তুষার ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাউথ ক্যারলিনা, নর্থ ক্যারলিনা, উইসকনসিন, মিজৌরি, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ডিসি, পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়ার, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যামশায়ার, ভারমন্ট, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় দেড় কোটি বাসিন্দা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এক রকম গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় ১৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়ে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর মধ্যে উইসকনসিনে ছয়, টেক্সাসে চার, নর্থ ক্যারোলিনায় চার, মিজৌরি, মিশিগান ও নর্থ ডাকোটায় একজন করে মারা গেছে। এসব এলাকায় ১২ ইঞ্চি থেকে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতের জাতীয় আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, এছাড়া বস্টন ও লং আইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। গলে যাওয়া বরফের পানিতে ডুবে যায় বস্টনের রাস্তা। দুর্যোগের কারণে নিউইয়র্ক, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, বাল্টিমোর, প্রভিডেন্স, রোড আইল্যান্ডসহ ১১টি শহরের সব স্কুলে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারী অফিসে উপস্থিতির ওপর ছিল না কোন বাধ্যকতা। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ম্যাসেচুসেটস ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। লোকজনকে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন রাজ্য গবর্নরেরা। নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সির বিভিন্ন এয়ারপোর্টের দুই হাজার ফ্লাইটসহ বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, ভার্জিনিয়া এলাকার চার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বলে জানান পোর্ট অথরিটির নির্বাহী পরিচালক রিক কটন। নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, ওজনপার্ক, পার্কচেস্টার, হাডসন, নিউজার্সির প্যাটারসন, আটলান্টিক সিটি, পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া, আপারডারবি, মেলবোর্ন সিটি এলাকার সব দোকানপাট ছিল জনমানব শূন্য। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানায় দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচন্ড ঠান্ড বাতাস বয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সেখানে এ ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে।
জেরুজালেম ইস্যুর জের ধরে ফিলিস্তিনকে সহায়তা পাঠানো বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের
জেরুজালেম ইস্যুর জের ধরে ফিলিস্তিনকে সহায়তা পাঠানো বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ফিলিস্তিনকে কোটি কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিলেও বিনিময়ে দেশটির পক্ষ থেকে কোনো প্রশংসা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আলোচনায় ফিলিস্তিনের কোনো আগ্রহ নেই বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এ মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এতে তিনি বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানই নয়, যাদের আমরা খামোখা কোটি কোটি ডলার দিই, এ রকম আরও অনেক দেশ আছে। যেমন আমরা প্রতিবছর ফিলিস্তিনকে শত মিলিয়ন ডলার দিই এবং কোনো প্রশংসা বা মর্যাদা পাই না। এমনকি তারা অনেক দিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়ে সমঝোতাও করতে চায় না।’ এর আগের দিন পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়ে এক টুইট করেছিলেন ট্রাম্প। এই টুইটটি সেটারই ফলোআপ।
আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইন্টার অলিম্পিকে তার দেশ অংশ নিতে পারে- কিম জং-উন
উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন সোমবার এই প্রথমবারের মতো আভাস দিয়েছেন আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইন্টার অলিম্পিকে তার দেশ অংশ নিতে পারে। পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা সত্ত্বেও কিমের এমন আভাস দিলেন। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া নববর্ষের ভাষণে বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি পিয়েওংচ্যাং উইন্টার অলিম্পিকটি সফলভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের প্রতিনিধি পাঠানোসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। কিম বলেন, এ জন্য উভয় কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ অদূর ভবিষ্যতে বৈঠকে বসবে।সিউলের প্রেসিডেন্ট ভবন ব্লু হাউস কিমের এই প্রস্তুবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ব্লু হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা একে স্বাগত জানাই। এই অলিম্পিক সফলভাবেই আয়োজিত হওয়া উচিত। এটা শুধু কোরীয় উপদ্বীপেই নয়, বরং গোটা এলাকার পাশাপাশি সারা বিশ্বের শান্তিতে ভূমিকা রাখবে।পিয়েওংচ্যাং অর্গানাইজিং কমিটি ফর দ্য অলিম্পিক গেমস (পিওসিওজি)র প্রধান লি হি-বেওম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা উত্তর কোরিয়ার অবস্থানকে উষ্ণ স্বাগত জানাচ্ছি।
লন্ডনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আলাদা ছুরিকাঘাতে ৪ জন নিহত হয়েছেন
লন্ডনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আলাদা ছুরিকাঘাতে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সোমবার পুলিশের বরাতে বিবিসি জানায়, থার্টি ফার্স্ট নাইটে ওয়েস্ট হ্যামের মেমোরিয়াল এভিনিউতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ, এবং নরউড রোডে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ছুরিকাঘাতের শিকার হন। নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ওল্ড স্ট্রিটে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ২০ বছর বয়সী দুই তরুণ। এরমধ্যে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে এনফিল্ড এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তদন্ত চলছে বলে জানায় তারা।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর