শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশে সংস্কার চাইলেন ওবামা
৫জুন,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের জেরে বিক্ষোভে উত্তাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন সাবেক চার রাষ্ট্রপতি। তবে শুধু সায় দিয়েই ক্ষান্ত হননি বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে ও পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার চেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সপ্তাহজুড়ে চলা বিক্ষোভ নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি। খবর সিএনএনের। ওবামা বলেন, চলমান বিক্ষোভে কয়েকজন হয়তো সহিংস আচরণ করছেন কিন্তু বাকিরা সঠিক পথেই আছেন। আমেরিকার জন্ম হয়েছে প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে, যা আমেরিকান অভ্যুত্থান নামে পরিচিত। সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, চেজার চাভেজ এবং ম্যালকম দশমের মতো ব্যক্তিরা যুবক বয়সেই বিক্ষোভ করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। বর্তমান যুবকরাও বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এর মাধ্যমেই দেশের উন্নতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আদর্শ বজায় থাকবে। পুলিশে সংস্কারের ব্যাপারে ওবামা বলেন, পুলিশের কিছু ইউনিয়ন ছাড়া সবাই সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের জন্য আটটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ওবামা বলেন, এর মাধ্যমে দেশে সহিংসতা কমবে। চলমান বিক্ষোভে সমর্থন জানান আরও ৩ প্রেসিডেন্ট। জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার। সব সীমাবদ্ধতাকে মোকাবেলা করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, গত ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপোলিসতে শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। চলে ভাঙচূর ও লুটপাটও। গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ইতালি
৪জুন,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনার কারণে ইতালিতে প্রায় তিন মাস পর পর্যটকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই পর্যটনশিল্পকে চাঙ্গা করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এখানে। তাই ইউরোপের পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আছে ইতালি। গত ডিসেম্বরে চীনে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ইতালিতে প্রাদুর্ভাব ঘটে এই ভাইরাসের। ইতালিতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে করোনা। এই ভাইরাসের কারণে ইতালি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসের চেয়ে এখন ইতালির অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক। করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। চালু হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এবার পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ তিন মাস পর খুলে দেওয়া হয়েছে ইতালির ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান পিসা টাওয়ার। পর্যটকদের জন্য মঙ্গলবার পিসা টাওয়ার খুললেও জারি করা হয়েছে কিছু নিয়ম-কানুন। টাওয়ারটিতে একসঙ্গে ১৫ জনের বেশি দর্শনার্থী থাকতে পারবেন না। সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে এবং সবার হাতে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস থাকবে, যার মাধ্যমে একজনের থেকে আরেকজনের দূরত্ব মনিটর করা হবে। কেউ ১ মিটার কম দূরত্বে আরেকজনের কাছে গেলেই কর্তৃপক্ষের কাছে সিগন্যাল চলে যাবে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৫। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৩ হাজার ৫৩০ জন। ইতোমধ্যেই ইতালিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯২ জন। দেশটিতে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৩৯ হাজার ৮৯৩টি। এ ছাড়া আরও ৪০৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল হোতা ড্রোন হামলায় নিহত
৩জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে হত্যার সন্দেহভাজন মূল হোতা খালেদ আল-মিশাই ঘারিয়ানে এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (০২ জুন) তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিজেদের ভেরিফাইড টুইটার পেজে পোস্ট করে জানিয়েছে দ্য লিবিয়া অবজারভার। টুইটে বলা হয়েছে, লিবিয়ার খলিফা হাফতারের দলের মিলিশিয়া খালেদ আল-মিশাই ঘারিয়ান শহরের দক্ষিণাঞ্চলে লিবিয়ার বিমানবাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। টুইটে আরও জানানো হয়, ২৬ জন বাংলাদেশি ও চারজন আফ্রিকান অভিবাসী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ছিলেন আল-মিশাই। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে অপহরণকারীদের গুলিতে নিহত হন এই ৩০ জন অভিবাসী।
যুক্তরাষ্ট্রে কারফিউ অমান্য করে চলছে বিক্ষোভ
৩জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে এক পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০টিরও বেশি শহরে জারি করা কারফিউর মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্ক শহরে কিছুক্ষণ আগে কার্যকর হয়েছে কারফিউ। তবে কারফিউ শুরু হলেও ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনে থেকে অবস্থান ত্যাগ করেনি বিক্ষোভকারীরা। তবে সোমবারের তুলনায় হোয়াইট হাউজের সামনে কম সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছে। এছাড়া আগেরদিনের মত বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ এড়াতে হোয়াইট হাউজের সামনে প্রতিরক্ষা বাড়াতে একটি নতুন গেইট তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন রাজধানী ওয়াশিংটনে আরো বেশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিউ ইয়র্ক শহরেও দেখা গেছে একই চিত্র। কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা রাস্তা থেকে সরছেন না। ম্যানহাটান অঞ্চলে আগের রাতে লুটপাট ও ভাঙচুর হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে না পারার অভিযোগ তুলে নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও ও পুলিশের সমালোচনা করেছেন। গভর্নর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে পারেন তিনি। ওয়াশিংটনে কারফিউ কার্যকর হওয়ার কিছুক্ষণ আগে হোয়াইট হাউজের কাছে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দিকে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয় যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেঁটে নিকটবর্তী একটি গির্জায় বাইবেল হাতে ছবি তুলতে যেতে পারেন। আজকেও ওয়াশিংটন ডিসি'র আরেকটি গির্জা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রে যখন করোনাভাইরাস মহামারি আর কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরণের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতাদের অনেকে। ওয়াশিংটন আর নিউ ইয়র্ক বাদেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের সাথে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অংশ নিতে টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টনে জড়ো হচ্ছে মানুষ। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে সেখানে। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে দুই হাজারের বেশি মানুষ সিটি হলের দিকে পদযাত্রা করছে। পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়াতেও সিটি হলের দিকে বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। টেনেসি'র ন্যাশভিলে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে নিজেদের সুরক্ষা উপকরণ নামিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের। গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ ফুঁসে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায়। এসময় বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের সময় লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।
বুধবার ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাট উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ
২জুন,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাট উপকূলে বুধবার (৩ জুন) আঘাত হানতে পারে গ্রীষ্মকালীন ঘূর্ণিঝড়- নিসর্গ। বর্তমানে নিম্নচাপ রূপে আরব সাগরে অবস্থান করলেও এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য আরব সাগরের নিম্নচাপটি গত ছয় ঘণ্টা ধরে ১১ কিলোমিটার বেগে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে এটি মুম্বাই থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ও এর পরের ১২ ঘণ্টায় শক্তিবৃদ্ধি করে সেটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বুধবার বিকেলে ঝড়টি মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে আঘাত হানতে পারে। এ দুটি রাজ্যে ইতোমধ্যেই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৩১টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। একেকটি টিমে অন্তত ৪৫ জন করে সদস্য রয়েছেন। এনডিআরএফের মহাপরিচালক এস এন প্রধান বলেন, আশা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় নিসর্গে বাতাসের বেগ থাকবে ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে। সতর্কতাস্বরূপ উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
আসামে ভয়াবহ ভূমিধসে ২০ জনের মৃত্যু
২জুন,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের আসামে ভয়াবহ ভূমিধসে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেও রাজ্যটির দক্ষিণ অংশে প্রচণ্ড বৃষ্টির ফলেই ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে কাছার জেলার বাসিন্দা সাতজন, আরও সাতজন হাইলাকান্দি জেলার এবং করিমগঞ্জ জেলার ছয়জন। এ ঘটনায় আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন উদ্ধারকারী দল। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই রাজ্য। আসামে মারাত্মক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কমপক্ষে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। সেখানকার গোয়ালপাড়া জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরেই রয়েছে নাগাঁও এবং হোজাই জেলা। সরকারি হিসাবে আসামের বন্যায় এখনও পর্যন্ত ছয়জন মানুষ মারা গেছেন। ৩৪৮টি গ্রাম পানি নিচে। রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে, বন্যায় আসামে প্রায় ২৭,০০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
মুখ বন্ধ রাখুন, ট্রাম্পকে পুলিশ প্রধান
২জুন,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই। বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে দেশটির বিভিন্ন শহর। এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছেন হৌস্টন পুলিশের প্রধান আর্ট আচেভেদো। চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করায় প্রেসিডেন্টকে চুপ থাকতে বলেন তিনি। খবর সিএনএনের। আর্ট আচেভোদো নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যদি আপনি গঠনমূলক চিন্তা করতে না পারেন, তবে আপনার মুখ বন্ধ রাখুন। এদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার দায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি গভর্নরদেরকে দুর্বল বলে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এমন কি বেশ কয়েকজন গভর্নরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক ভিডিও কনফারেন্সে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গভর্নরদেরকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভ-প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গভর্নরদের চাপ প্রয়োগ করছেন। গত ২৫ মে পুলিশের নির্যাতনের পর মারা যান জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ। তাকে পুলিশের নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও প্রকাশ হতেই বিক্ষোভ দানা বাঁধে যুক্তরাষ্ট্রে। এক শহর থেকে আরেক শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আগুন। ঘাড়ে ও পিঠে ক্রমাগত হাঁটু দিয়ে চাপ দিয়ে রাখার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। মিনিয়াপলিসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরেন। আট মিনিটের বেশি সময় ধরে এভাবে হাঁটুর চাপে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় ফ্লয়েডের। সম্প্রতি এক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প।
বাংলাদেশি হত্যার বিচার হবে লিবিয়া
১জুন,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশির ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়ার সরকার। সোমবার (১ জুন) লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ নিন্দা জানানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত কাজ উল্লেখ করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনারও অঙ্গীকার করা হয়েছে এ শোক বার্তায়। এতে নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে লিবিয়ার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হবে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার শিকার বাকিরা আফ্রিকান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগে সক্ষম হয় লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস। বাংলাদেশি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি কোনো প্রকারে প্রাণে বেঁচে বর্তমানে একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। তিনি দূতাবাসকে জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা তাদের লিবিয়ার ত্রিপোলি শহরে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি মিজদাহ শহরে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন। জিম্মি অবস্থায় তাদের অত্যাচার, নির্যাতন করার এক পর্যায়ে অপহৃত আফ্রিকানরা মূল অপহরণকারী লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করে এবং এর জেরে অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা আকস্মিকভাবে অপহৃতদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে আনুমানিক ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। অবশিষ্ট বাংলাদেশিরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আগুনে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র
১জুন,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে পুলিশের নির্মমতার শিকার হয়ে আফ্রিকান-আমেকিান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে আমেরিকার চল্লিশটি শহরে যেভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তাতে প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। জানা যাচ্ছে যে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভের পর এমনকী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গোয়েন্দা দপ্তর থেকে কিছুক্ষণের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর বিবিসির সেসময় হোয়াইট হাউসের বাইরে শত শত লোক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ জানাচ্ছিল। তারা পাথর ছুঁড়ছিল এবং পুলিশের দেয়া প্রতিবন্ধকতা সরানোর চেষ্টা করছিল। হোয়াইট হাউসের কাছে বিক্ষোভকারীরা একটি ঐতিহাসিক গির্জায় আগুন দিলে ওয়াশিংটন ডিসি-র পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রায় এক ঘণ্টা ওই বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়। তবে ট্রাম্পের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং তাদের ১৪ বছরের ছেলে ব্যারনকেও বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। এই বাঙ্কার তৈরি করা হয় কোনরকম সন্ত্রাসী হামলার সময় প্রেসিডেন্টকে জরুরিকালীন ব্যবস্থায় সরিয়ে নেবার লক্ষ্যে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের বাইরে যে বিক্ষোভ হয়েছে তাতে নাইন-ইলেভেন হামলার পর প্রথমবারের মত আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবনের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একজন রিপাবলিকান সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভের দৃশ্য ট্রাম্পকে বিচলিত করে দিয়েছে। ট্রাম্পকে তড়িঘড়ি বাঙ্কারে সরিয়ে নেবার জন্য গোয়েন্দা দপ্তরের এই আকস্মিক পদক্ষেপ থেকে হোয়াইট হাউসের ভেতর অস্বস্তির বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। গোটা সপ্তাহান্ত জুড়ে বিক্ষোভকারীদের শ্লোগান শোনা গেছে হোয়াইট হাউসের বাইরে। এবং বিক্ষোভকারীদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে। যে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে উত্তাল আমেরিকা, সেই জর্জ ফ্লয়েডের ওপর পুলিশি নির্মমতার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় নিঃশ্বাস নেবার জন্য হাঁসফাঁস করছেন তিনি। তাকে মাটিতে শুইয়ে তার গলার ওপর নিজের হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছেন একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। জর্জ ফ্লয়েড বারবার বলেছেন, "আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।" জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ব্যাপক প্রতিবাদের পর শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে এখন হত্যার মামলা আনা হয়েছে। কিন্তু কে এই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান তরুণ যার মৃত্যুর ঘটনায় আমেরিকা জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। টেক্সাসের হুস্টনে বড় হয়ে ওঠেন জর্জ ফ্লয়েড শহরের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায়। তার ৪৬ বছরের জীবন ছিল ভাল-মন্দের সংমিশ্রণ। খেলাধূলায় আগ্রহ ছিল জর্জের। তরুণ বয়সে হুস্টনে আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে বেশ নামডাক হয়েছিল তার। ১৯৯২ সালে টেক্সাস স্টেট চ্যাম্পিয়ানশিপে রানার্স আপ হয়েছিল তার স্কুলের দল- ইয়েটস হাই স্কুল লায়ন্স। ১৯৯০এর দশকে হুস্টনে হিপহপ সঙ্গীত গোষ্ঠির সদস্য হিসাবেও তিনি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র, বর্ণবৈষম্য, এবং অর্থনৈতিক অসাম্য তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সামাজিক বঞ্চনার শিকার বহু আফ্রিকান আমেরিকান তরুণের মত জর্জ ফ্লয়েডও জড়িয়ে পড়েন গোষ্ঠি সহিংসতা, এবং আফ্রিকান আমেরিকান গোষ্ঠির বাসস্থানের সংকট নিয়ে নানা সামাজিক আন্দোলনে। তার ছেলেবেলার বন্ধুরা বলেছেন বিশাল দীর্ঘদেহী ছিলেন জর্জ ফ্লয়েড। ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার জর্জ একজন প্রতিভাবান অ্যাথলেট ছিলেন। তার বন্ধুরা বলেছেন আমেরিকান ফুটবল আর বাস্কেটবলে তিনি তুখোড় ও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। তার এক বাল্যবন্ধু জনাথান ভিল বলেছেন, "এত লম্বা কাউকে আমি দেখিনি। ১২ বছর বয়সে জর্জ ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা ছিল।তার বর্ণনায় জর্জ ছিলেন, "দৈত্যকায় নরম মনের মানুষ। সিএনএন বলছে জর্জ ফ্লয়েড যখন পরে ফ্লোরিডা স্টেট কলেজে পড়তে যান, তখন ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ তিনি স্কুলের বাস্কেটবল দলে ফ্লোরিডা রাজ্যের তরুণ টিমে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পরে তিনি আবার ফিরে যান হুস্টনে তার স্কুলের শেষ বছরে, এরপর টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলেও তিনি ডিগ্রি কোর্স শেষ করেননি। এসময় জর্জ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। চুরি এবং অবৈধ মাদক রাখার অভিযোগে বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৭ সালে সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে পাঁচ বছরের জন্য কারাভোগ করতে হয়। তবে জেল থেকে ছাড়া পাবার পর জর্জ নিজের জীবন শোধরাতে চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় এক গির্জার মাধ্যমে সামাজিক কাজে নিজেকে জড়ান তিনি। ২০১৭ সালে তিনি তরুণদের সহিংসতা বন্ধের ডাক দিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন, যে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন সহিংসতা ছেড়ে দিয়ে "ঘরে ফিরে এসো", জানিয়েছেন তার সহপাঠী ও বন্ধু ক্রিস্টোফার হ্যারিস। "ফ্লয়েড আবার নতুন করে জীবন গড়ে তোলার, নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তার প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন," আমেরিকার মিডিয়ায় বলেন হ্যারিস। স্যালভেশন আর্মির একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে তিনি নিরাপত্তা গার্ডের কাজ নিয়েছিলেন। পরে লরি চালকের কাজ নেন এবং একটি পানশালায় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করেন। সেখানে সবাই তাকে ডাকত 'বিগ ফ্লয়েড' বা দীর্ঘদেহী ফ্লয়েড নামে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হবার পর পানশালা বন্ধ হয়ে যাবার ফলে বহু আমেরিকানের মত জর্জ ফ্লয়েডকেও ছাঁটাই করা হয়। যেদিন তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যেদিন পুলিশের অত্যাচারের কারণে তাকে প্রাণ দিতে হয়, সেদিন পুলিশের অভিযোগ ছিল জর্জ ফ্লয়েড বিশ ডলারের একটা জাল নোট ব্যবহার করে সিগারেট কেনার চেষ্টা করছিলেন।