বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২০
তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন বৃটেন
২৫মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:তিন সপ্তাহের জন্য পুরো বৃটেনে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পর্যালোচনা করে তিন সপ্তাহ পর লকডাউনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। বৃটেনে এমন ঘটনা অভূতপূর্ব। তবে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হওয়া করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের অন্য আক্রান্ত দেশের মতো বৃটিশ সরকারও বাধ্য হয়েছে লকডাউনে। গত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনা ভাইরাস মহামারিটির প্রসারণকে কমিয়ে দেয়ার জন্য দেশবাসীকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাকে অবশ্যই বৃটিশ জনগণকে একটি খুব সাধারণ নির্দেশনা দিতে হবে- সেটা হচ্ছে, আপনাকে অবশ্যই বাড়িতে থাকতে হবে। কারণ মারাত্মক এই ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আমাদের ঘরে অবস্থান করতে হবে। আপনারা ঘরে অবস্থান করুন, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করুন। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে লোকজন কেবল জরুরি কেনাকাটার জন্য, দিনে একবার শরীরচর্চার জন্য (একা বা পরিবারের সঙ্গে দৌড়ানো বা হাঁটা), কোনো চিকিৎসার জন্য, শারীরিকভাবে দুর্বলদের সহায়তা করতে এবং কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করতে পারবে। লকডাউন চলাকালে দুইজনের বেশি লোকের বৈঠক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময় নিজের বাসা-বাড়িতে কোনো বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন গ্রহণ না করতে এবং কোনো বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে না যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বরিস জনসন দেশের নাগরিকদের বলেছেন, আপনারা অবশ্যই নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে অবস্থান করুন। বন্ধুদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। কোনো বন্ধু দেখা করতে চাইলে না বলুন। এমন কি আপনার পরিবারের সদস্য যারা আপনার বাড়িতে থাকেন না, তাদের সঙ্গে দেখা করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, লকডাউনের সময় খাবার এবং ওষুধের প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা করতে বের হবেন না। কোনো পণ্য বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ফুড ডেলিভারি সার্ভিস ব্যবহার করুন। এছাড়া বিবাহ, ব্যাপটিজম এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বরিস জনসন বলেছেন, লকডাউনের সময় ঘরের বাইরে দুজনের বেশি লোকের জমায়েত হওয়া নিষিদ্ধ এবং পুলিশ প্রয়োজনে নতুন বিধি প্রয়োগ করতে পারবে। আপনি যদি নিয়ম না মানেন তবে পুলিশ জমায়েত ভেঙে দিতে ও আপনাকে জরিমানা করতে এবং আইন মানতে বাধ্য করতে পারবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস আতঙ্কিত করে তুলেছে মানুষের মন। সারাবিশ্বের ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ স্ব-বিচ্ছিন্নতা (সেল্ফ কোয়ারেন্টিন) মেনে চলতে শুরু করেছেন। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বেরুচ্ছেন না। যারা বাইরে বেরুচ্ছেন তাদের হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক; চলছেন অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে। মানুষ এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে, নিজের ছায়াকেও ভয় পাচ্ছে। জনসম্মুখে হাঁচি-কাশি দেয়া এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ। সর্দি-কাশির লক্ষণ দেখা দিলেই মানুষ চলে যাচ্ছে সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে। চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা গ্রহণের। ইতিমধ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লকডাউনের ফলে বৃটেনজুড়ে বিপুলসংখ্যক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ভূতুড়ে হয়ে পড়েছে শপিংমলগুলো। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতিমধ্যে বৃটেনে নিজেদের সমস্ত আউটলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ন্যানডোজ, কস্তা কফি ও সাবওয়ে। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় অত্যাধিক জনসমাগম হওয়া জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডস, প্রাইমার্ক তাদের সকল শাখা বন্ধ ঘোষণা করেছে। সীমিত করা হচ্ছে গণপরিবহন সার্ভিস। এদিকে, কভিড -১৯ এর বিস্তার বন্ধে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের সমস্ত জুরি ট্রায়ালগুলো স্থগিত রাখা হবে। করোনা ভাইরাস দুনিয়ার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে জীবন-মৃত্যুর সমীকরণ। যুক্তরাজ্যে গত সোমবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মৃত্যুর সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সংখ্যাটি ৩৩৫। ইংল্যান্ডে ৪৬ ও স্কটল্যান্ডে ৪ জন মিলিয়ে সোমবার একদিনেই মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০ জন। এনএইচএস-ইংল্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে- করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) পরীক্ষায় পজেটিভ শনাক্ত হওয়া ৪৬ জন মারা গেছেন। কেবল ইংল্যান্ডেই মোট মৃত্যুর নিশ্চিত সংখ্যা ৩০৩ এ পৌঁছেছে। এমন পরিস্থতিতেও নিজের জীবন বাজি রেখে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের। তাদেরই একজন তিন সন্তানের জননী ছত্রিশ বছর বয়স্কা নার্স আরিমা নাসরিন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন ওয়ালসাল মেনর হসপিটালে নিবিড় পরিচর্যায়। করোনা ভাইরাস কেবল মানুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেনি। কেড়ে নিয়েছে মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা। চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য সীমিত বা বন্ধ রাখায় রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েছে সব ধরনের বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ। সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে টালমাটাল তখন বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে ব্যবসায়িক অর্ডার। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বক্তব্যের পর বন্ধ হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট, বার ও পাব। জনসমাগম সীমিত হয়ে পড়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। তারপরও জরুরি খাদ্য সরবরাহের প্রয়োজনে অব্যাহত রাখতে হচ্ছে কিছু সেবামূলক সার্ভিস। রেস্টুরেন্টগুলো সীমিত পরিসরে চালু রেখেছে তাদের টেকওয়ে সার্ভিস।
সৌদি আরবে কারফিউ জারি
২৫মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মক্কা, মদিনা ও রিয়াদ অঞ্চলকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এটি অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। একইসঙ্গে অন্য অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সৌদি আরবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এর সংক্রমণ থামাতে ইতিমধ্যে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে দেশটি। তবে মক্কা ও মদিনার ক্ষেত্রে এই অবরোধ আরো কঠিন করা হয়েছে। এ ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে গণমাধ্যমকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, সেনাবাহিনী ও চিকিৎসকরা এই কারফিউয়ের বাইরে থাকবে।উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সৌদি আরবে। এছাড়া একইদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে মঙ্গলবার। এরপরই নতুন করে অবরোধ কঠিন করার এ ঘোষণা এলো।
কেনিয়া থেকে উধাও জার্মানির কেনা ৬০ লাখ মাস্ক
২৫মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জার্মানির কেনা প্রায় ৬০ লাখ মেডিকেল মাস্ক কেনিয়ার একটি বিমানবন্দর থেকে উধাও হয়ে গেছে। জার্মানির দের স্পাইগেল একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে এমন খবর প্রকাশ করেছে। ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু জানায়নি তারা। জার্মানিতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় মেডিকেল সরঞ্জামে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের জোট সরকার সম্প্রতি ২৬২ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেল মাস্ক, অন্যান্য সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনে। স্পাইগেল বলছে, গত ২০ মার্চ নিখোঁজ হওয়া মাস্কের চালানটি জার্মানিতে আসার কথা ছিল। জার্মানির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বেগবান করার জন্য ওই চালানটি খুব প্রয়োজন ছিল বলেও উল্লেখ করেছে স্পাইগেল। ইউরোপে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর ইতালি ও স্পেনের পর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে জার্মানি। জন হপকিন্স করোনাভাইরাস রেসকিউ সেন্টারের তথ্য মতে, জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৫০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের। উল্লেখ্য, চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে চার লাখ ২২ হাজার ৮২৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭ জনের। তবে সুস্থ হয়ে উঠেছে এক লাখ ৯ হাজার ১০২ জন।
মৃত্যুপুরী ইতালিতে আরও ৬৫১ জনের প্রাণহানি
২৩মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীন থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের আঘাতে অনেক আগেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন সর্বোচ্চ সংখ্যক ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫ হাাজর ৪৭৬ জনে দাঁদিয়েছে। অপরদিকে থেমে আক্রান্তের মিছিল। প্রতিনিয়ত প্রাণহানির তুলনায় আক্রান্ত হওয়ার হার কয়েকগুণ। চীনের বাহিরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ হাজার ৫৮০ জন সংক্রমিত হয়েছে। আর এ নিয়ে ইতালিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ১৩৮ জনে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ছয় হাজার অন্তত ১০০ জন। আক্রান্ত ও প্রাণহানির এসব ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে দেশটির লম্বার্ডিয়া অঞ্চলে। এ পর্যন্ত ইতালিতে ১৮ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে। মৃত্যুর মিছিলের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলের ভো শহরের মানুষ এই কঠিন সময়ের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। উন্নত পরীক্ষা পদ্ধতি ও রোগীকে সতর্কতার সঙ্গে আইসোলেশনে রাখার কারণে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে ওই এলাকার মানুষের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। দু সপ্তাহ আগে যেখানে করোনা পজিটিভের মাত্রা ছিল ০.৪১ শতাংশ। চলতি মাসের ১৩ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র একজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এই শহরে। এদিকে, করোনা সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে। দেশের জনগণের আর্থিক সমস্যা মেটাতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন একটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা বিভাগ। করোনা ভাইরাস বিশ্বের ১৮৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ লাখ ৩২ হাজার ১৪৯ জন। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।
করোনায় বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার
২২মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের। সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৯১ হাজারের বেশি মানুষ। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিনিদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ট্রাম্পের পর এবার দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করা হবে। দেশটিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ২০ হাজারে। এদিকে, করোনার প্রকোপ বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ায় লকডাউনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এমন আভাস দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। এখন পর্যন্ত ইরানে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনে ১৪শ মানুষ মারা গেছে। আর ফ্রান্সের মৃত্যুর সংখ্যা ৫শ ছাড়িয়েছে। ভারতে কলকাতার উত্তরাঞ্চলের একটি কারাগারে করোনাভাইরাস আতঙ্কে বন্দি ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এক বন্দি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহবান ইমরানের
২১মার্চ,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল পিটিভি নিউজ এ খবর জানিয়ে বলেছে, ইমরান খান শুক্রবার করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানান। খবর পার্স টুডের। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমেরিকার পক্ষ থেকে আরোপিত নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞার শিকার এবং এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তেহরান আরও নির্বিঘ্নে করোনা ভাইরাস বিরোধী অভিযান চালাতে পারবে। ইরানের ওপর আরোপিত এক তরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তিনি বিশ্ব সমাজের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। এর আগে গেল সপ্তাহেও এ আহবান জানিয়েছিলেন ইমরান।
নিউইয়র্কে ৩ বাংলাদেশিসহ ২৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত
১৬মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউইয়র্ক সিটিতে তিন বাংলাদেশিসহ ২৬৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক নারীসহ মারা গেছেন দু জন। সেই নারীর বয়স ৮২ বছর এবং পুরুষের ৬৫ বছর। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে। আর এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৪ জন মানুষ। জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে থেকে ব্রুকলীনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক বাংলাদেশি নারীসহ দু জন। আরেকজন রয়েছেন ম্যানহাটানের হাসপাতালে, তিনি গ্রীনক্যাব চালাতেন। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ওমরা পালন শেষে নিউইয়র্কে ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মধ্যবয়সী এক বাংলাদেশি। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত নারী তার স্বামীর সঙ্গে ম্যানহাটানে একটি ফুটকার্টে সহযোগিতা করতেন। এদিকে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোও জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং তুলনামূলকভাবে কম মুসল্লির অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা জানান, তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাপারে প্রবাসীদের সঙ্গে যতটা সম্ভব যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কনস্যুলার সার্ভিসের জন্য অফিসে না এসে অনলাইন অথবা টেলিফোনে সকলকে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্যে অবশ্য কন্স্যুলেট অফিস খোলা রাখা হচ্ছে। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির স্পিকার কার্ল ই হিস্টি রবিবার সকালে জানান, ব্রুকলীন থেকে নির্বাচিত দুই ডেমক্র্যাট-অ্যাসেম্বলির হেলেন উইনস্টাইন (৬৭) এবং চার্লস ব্যারন (৬৯) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নিউইয়র্কে শনিবার রাতে ৬১৩ জন আক্রান্ত হবার খবর দিয়েছে স্টেট গভর্নরের অফিস।
করোনা আতঙ্কে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ ঘোষণা
১৫মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মুসলমানদের প্রথম কিবলাহ ও তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজ রোববার জেরুজালেমের ওয়াকফ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আল জাজিরা জানায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাবধানতার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষে জানিয়েছে। তবে মসজিদের বাইরের অংশ ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মসজিদের পরিচালক ওমর কিসওয়ানি বলেন, ইসলামিক ওয়াকফ কমিটি করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আল আকসা মসজিদের অভ্যন্তরে নামাজের স্থানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মসজিদের প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করা যাবে বলে ওয়াকফ কমিটি থেকে জানানো হয়। এদিকে ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নাগরিকদের ঘরে বসে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ কমানো এবং যতটা সম্ভব জনসমাগম কমিয়ে আনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে আমরা ফিলিস্তিনের জনগণকে ঘরে বসে প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর