যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি
যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। যে কোনও ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন ওই আইন প্রণীত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিসভায় (শূরা কাউন্সিল) অনুমোদন পাওয়া ওই খসড়া আইনে যৌন নিপীড়নের সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এখন সৌদি বাদশা এ নিয়ে ডিক্রি জারি করলে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। কট্টর রক্ষণশীল ধারার দেশটিতে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের চলমান কথিত সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। উল্লেখ্য, বিপুল নারী অধিকারকর্মীকে আটকের ঘটনা চলমান থাকায় যুবরাজের সেই সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়নে সৌদি আরবের সুরা কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটির অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া এই খসড়া আইনে যৌন হয়রানির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর আইনে সেখানে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সুরা কাউন্সিলের সদস্য লতিফা আল সালানকে উদ্ধৃত করে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, খসড়া বিলটি সৌদি আরবের আইনের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আরও বলেন, এটার মাধ্যমে একটি বড় আইনি শূন্যতা পূরণ হলো। যৌন হয়রানি রোধে এটা একটা বড় উদ্যোগ। ২০৩০ সাল নাগাদ তেল নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতি বহুমুখী করতে সৌদি আরবে পরিচালিত হচ্ছে সংস্কার উদ্যোগ। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতবছর নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব যা আগামী ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে সম্প্রতি ১১ জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে যাওয়া সুপরিচিত কর্মীরাও রয়েছেন। সৌদি সরকারের দাবি, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সন্দেহমূলক যোগাযোগ চালানোর জন্য এসব আন্দোলনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া ও দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সৌদি সরকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনও দেশটিতে নারীদের জন্য অন্যতম বড় বড় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখনও সৌদি আরবে নারীদের পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা প্রচলিত। আইন অনুযায়ী নারীদের পড়াশুনা, ভ্রমণ বা অন্য কোনও কাজের জন্য বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতির দরকার পড়ে। সৌদি অ্যাকটিভিস্টদের দাবি নারী অধিকারের লড়াইয়ের জন্য এই অভিভাবকত্ব একটি বড় ইস্যু। ২০১১ সাল থেকে প্রায় ৩০ জন অ্যাকটিভিস্ট ও বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে সৌদি আদালত। এইচআরডব্লিউ এর মতে এদের অনেককেই ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকে যোগ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট মুন
আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। আর তারই জের ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকে যোগ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন।তবে ব্লু হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মুনের ওই বৈঠকে যোগ দেয়া না দেয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকের ওপর।এর আগে রবিবার ওই বৈঠকের ব্যাপারে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া এসেছেন।আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিমের ঐতিহাসিক সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে
স্টুপিড বললেন উত্তর কোরিয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ‘স্টুপিড’ বলে অভিহিত করেছেন উত্তর কোরিয়ার এক কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে উত্তর কোরিয়া ‘পরমাণু শোডাউন’ শুরু করতে পারে। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা জানান, পিয়ংইয়ং আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে করজোড় করবে না অথবা তাদেরকে আলোচনায় বসতে প্ররোচিতও করবে না। আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে। তবে সাম্প্রতিককালে উভয়পক্ষই একে অপরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ১২ জনের সম্মেলন বিলম্বিত কিংবা প্রত্যাহার হতে পারে। ফলে কার্যত সম্মেলনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পিয়ংইয়ং জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফাভাবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র বর্জনের কথা বলে তবে তারা দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। আগে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসতে হলে আগে শর্ত পূরণ করতে হবে। গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক আলোচনায় জড়িত ছিলেন চো সান-হি নামের উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র এক প্রতিবেদনে এই নারী কূটনীতিক বলেন, সাম্প্রতিককালে মাইক পেন্স মিডিয়ায় লাগামহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে এটিও ছিল যে, উত্তর কোরিয়া লিবিয়ার মতো শেষ হয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়াকে লিবিয়ার সাথে তুলনা করায় মাইক পেন্সকে ‘রাজনৈতিক সাক্ষী-গোপাল’ উল্লেখ করে চো সান-হি বলেন, লিবিয়া কেবল কয়েকটি যন্ত্রপাতি ছিল এবং তাই ঢোল পিটিয়ে বেড়াত। উত্তর কোরিয়া এমনটি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন অজ্ঞ ও স্টুপিড বক্তব্য মুখ থেকে নিঃসৃত হওয়া দেখে আমি আমার বিস্ময় প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি বলেও উল্লেখ করেন উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা।
সৌদি রাজা ও যুবরাজকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান খালেদ বিন ফারহানের
সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তার দুই চাচা প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ও প্রিন্স মুকরিন বিন আব্দুল আজিজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার আহ্বানে ইতোমধ্যে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন।জার্মানিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান। তিনি বর্তমান রাজা ও যুবরাজের সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমান রাজা সালমান এবং তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ রাজপরিবারের অনেক ক্ষতি করেছেন। তারা যে মর্যাদা হানি করেছেন তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। রাজা ও যুবরাজের অযৌক্তিক ও বাজে সিদ্ধান্তের কারণেই সৌদি রাজপরিবারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।খালেদ বিন ফারহান বলেন, রাজা এবং তার ছেলেকে ক্ষমতা থেকে সরালে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীসহ সবাই তাদের সমর্থন জানাবে। ইতোমধ্যে তিনি সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কাছ থেকে অভ্যুত্থানের সমর্থনে অনেক ই-মেইল পেয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। স্কুলে একসঙ্গে পড়ার সময় তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন বলে জানান ফারহান। সৌদি আরবের নির্বাসিত প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান এমন সময় এসব বক্তব্য দিলেন যখন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এক মাসের বেশি সময় ধরে রহস্যজনকভাবে জনসমক্ষে আসছেন না। গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকেই তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। প্রিন্স ফারহান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ২১ এপ্রিলের ঘটনাও প্রমাণ করে সৌদি আরবে বর্তমান রাজার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি রয়েছে।
যৌথ তদন্তে তুর্কি-বিদেশি গোয়েন্দারা,এরদোগানের ওপর হামলার তথ্য ফাঁস
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগানের ওপর হামলার প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। হামলা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনসমূহ তদন্তের জন্য তুরস্ক ও বলকান রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দারা যৌথভাবে কাজ করছে। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সমপ্রচারকারী চ্যানেল টিআরটি এ খবর জানিয়েছে। নির্ধারিত সফরে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা যাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের। তার এই সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে সম্ভাব্য এই হামলার তথ্য প্রকাশ পেল। দেশটিতে বসবাসরত তুর্কিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য এই হামলার তথ্য পায় মেসিডোনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পরে তথ্যটি তারা তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্থানান্তর করেন। তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজাদাগ তার টুইটার পেজে লিখেছেন,আমরা জানি যে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা আমাদের এইরকম দৃঢ়চেতা নেতাকে সহ্য করতে পারে না, তাই তারা তাকে হত্যা করতে চায়। তার ওপর পরিকল্পিত হামলার অনেক প্রতিবেদন রয়েছে। আমাদের প্রেসিডিন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান এমন ব্যক্তি নন, যিনি হুমকিকে ভয় পাবেন এবং তার নীতি পরিবর্তন করবেন। যারা এখনো তাকে বুঝতে পারেননি, তারা বোকা। টানা ১১ বছর তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে এরদোগান ২০১৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। আগামী জুন মাসে তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই নির্বাচনে এরদোগান দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অংশ নিচ্ছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে কসোভোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ফেতুল্লাহ গুলেনের ৬ সিনিয়র সদস্য আটক করেছিল। প্রসঙ্গত, গত বছর তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ সৃষ্টি করতে গণভোটের সময় দেশটির বাইরে এ ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু তখন জার্মানীসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ ওই সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ জন্য সারাজেভোতে এরদোগানের নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত আঙ্কারা ও ব্রাসেলসের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। স্পুটনিক নিউজ, এএফপি।
আফগানিস্তানে স্টেডিয়ামে বোমা হামলায় নিহত ৮
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগড়হারের রাজধানী জালালাবাদের একটি স্টেডিয়ামে গতরাতে শক্তিশালী তিনটি বোমা বিস্ফোরণে আট জন নিহত ও আরো ৪৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার দেশটির প্রাদেশিক সরকার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে জালালাবাদ নগরীর পুলিশ ডিস্টিক্ট ১ এর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সমন্বিত এই সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার। বিস্ফোরণের আগে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে একটি স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল। হতাহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়িতে করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে আট জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে এই ম্যাচটির আয়োজক হিদায়াতুল্লাহ্ জহির ও বেশ কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রাদেশিক গভর্ণর হায়াতুল্লাহ হায়াত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।
গাজায় ইসরাইলি হত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
রোম সংবিধান অনুযায়ী গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরাইলি গণহত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। শুক্রবার ফিলিস্তিন ইস্যুতে একথা বলেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাইকেল লিঙ্ক। জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে মাইকেল লিঙ্ক এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলেন, আমি অবশ্যই ওই বেসামরিক লোকদের চালানো হত্যাকাণ্ডকে জেনেভা কনভেনশন এবং রোম সংবিধানের আওতায় যুদ্ধাপরাধ বলবো। তিনি বলেন, গাজায় বিক্ষোভকারীরা সম্পূর্নভাবে নিরস্ত্র এবং অহিংস। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা শুধু তাদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সেখানে বিক্ষোভ করছে। তারা কোনো অপরাধী নয়। লিঙ্ক আরও বলেন, গত সাত সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ লোকই তাদের দখলকৃত বাসভূমিতে শান্তিতে এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের জন্য বিক্ষোভ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মতে গত সাত সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সৈন্যদের হাতে প্রায় শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং বহু তরুণ ছিলেন। এছাড়াও প্রায় ১২ হাজার লোক আহত হয়েছেন।
কিউবায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শতাধিক যাত্রী নিহত
কিউবার রাজধানী হাভানাতে একশর বেশি যাত্রী নিয়ে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিমানটিতে ১০৪ জন যাত্রী এবং পাঁচজন মেক্সিকান কেবিন ক্রু ছিলেন। বিমানের যাত্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, বিমানটি স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১২টা ৮ মিনিটে রানওয়ে থেকে উড়ার পরই বিমানবন্দর এবং সান্তিয়াগো দে লাস ভেগাস শহরের মাঝামাঝি এলাকায় একটি মাঠের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে শুধু তিনজন বেঁচে আছেন। তবে গুরুতর আঘাত নিয়ে। আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা এই বিমানটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের ওলগিন শহরে যাচ্ছিলো। মেক্সিকোর একটি কোম্পানির কাছ থেকে ধারে বিমানটিকে ব্যাবহার করছিলো কিউবার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা। মেক্সিকোর যানবাহন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে ১৯৭৯ সালে তৈরি বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি গত নভেম্বরে মাসে পুরোপুরি সফলভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল ডিয়ায ক্যানেল ঘটনাস্থল গেছেন। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, একটি দুর্ভাগ্যজনক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। মনে হচ্ছে মৃতের সংখ্যা খুব বড়। যা মোটেও আশাপ্রদ খবর নয় বিমান চলাচল বিষয়ক গবেষণায় জানা যায় যে গত বছর ছিল বেসরকারি যাত্রীবাহী বিমান যাত্রার ক্ষেত্রে সবচাইতে নিরাপদ বছর। কিন্তু এবছর মাত্র পাঁচ মাসেই অনেকগুলো বড় বিমান দুর্ঘটনা হয়ে গেছে। গত মাসেই আলজেরিয়াতে একটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ২৫০ জন মারা যায়।