ভারতের সঙ্গে বৈঠক শেষেই সীমান্তে সেনা পাঠালো চীন
৮জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুপক্ষের মুখে শান্তির কথা শোনা গেলেও সীমান্ত বিরোধ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যকার বিরোধ সহসাই সমাধান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দু দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এরইমধ্যে দুইদেশের মধ্যে হয়ে গেল বৈঠক। শনিবার সামরিক পর্যায়ে বৈঠকের পর দিল্লি রোববার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশই এ সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছে। এদিকে বৈঠক শেষের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে থেকে বিমানবাহিনীর সদস্যরা লাদাখ সীমান্তে এসে অবস্থান নিয়েছেন। বৈঠক নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য না এলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসে রোববার সেনা মুভমেন্টের এ খবর দিয়েছে। বিবিসি বাংলা জানায়, ভারতের সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, লাদাখ সীমান্তের এ বিরোধ যে খুব তাড়াতাড়ি মিটবে না, সেটা বৈঠকে দুপক্ষের অনড় অবস্থান থেকেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। মাসখানেক আগে লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান ভ্যালি ও প্যাংগং লেক এলাকায় দু দেশের সেনা মোতায়েনকে ঘিরে ভারত-চীন সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ উত্তেজনার নিরসনে ভারত সামরিকপর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল। চীন তাতে রাজি হওয়ার পর শনিবার পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনের অভ্যন্তরে মালডোতে র্ডার পার্সোনেল মিটিং পয়েন্টে বৈঠকে বসেন দু দেশের সেনা কর্মকর্তারা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং দুপক্ষই শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছে। তবে সীমান্তের বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানোর ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছুই বলা হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক ও লেখক শ্রীরাম চাউলিয়া বলেন, এ বৈঠকে খুব বেশি কিছু হওয়ারও ছিল না। কারণ, চীনের মতো দেশে সব কিছু সর্বোচ্চ নেতার ইশারাতেই চলে, তার সিদ্ধান্তের দিকেই সবাই তাকিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, শি জিনপিং শুধু প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টই নন, তিনি কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনেরও প্রধান-যাদের হাতে সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। কাজেই আমার মতে, এই সংকটের সমাধান করতে গেলে মোদি ও শি-কেও নিজেদের মধ্যে সরাসরি কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো দেশই চায় না আমার বিশ্বাস। অতীতেও সর্বোচ্চ নেতাদের মধ্যে হটলাইনের মাধ্যমেই আমরা উত্তেজনা প্রশমিত করতে পেরেছি। দিল্লিতে রোববার ভারতের সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, গতকাল মালডোর বৈঠকে দুপক্ষই মোটামুটি নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল। লাদাখ সীমান্ত এলাকায় ভারত যেসব রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে, সেগুলোর কাজ বন্ধ রাখতে তারা অস্বীকার করেছে। একইভাবে গালওয়ান ভ্যালি, ডেনচক বা প্যাংগং ঝিলে চীনা সৈন্যরা যেভাবে অগ্রবর্তী অবস্থান নিয়েছে সেখান থেকেও তারা পিছু হঠতে রাজি হয়নি। ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী বলেন, ভারতের জন্য এটা ইতিবাচক কারণ সেখানে আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ আছে। তিনি বলেন, তাছাড়া ওখানে হিমালয়ের যেটা প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট ও পাকিস্তানের সঙ্গেও একটা বিরোধের জায়গা- সেই দৌলত বেগ ওল্ডি-তেও আমাদের অ্যাকসেস বজায় আছে। যা বুঝতে পারছি, ভারতের অবস্থান হল যেটাকে আমরা নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করি তা কোনো মতেই ছাড়ব না এবং যেখানে আছি সেখানেই থাকব। ভারতের সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, বাষট্টির যুদ্ধে বা তারপরেও চীনকে নিয়ে যে হীনমন্যতায় আমরা ভুগতাম, তার থেকে এটা বিরাট এক উত্তরণ কোনো সন্দেহ নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন না বুশ
৮জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন না ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধের কারিগর সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। নিউইয়র্ক টাইমসকে বুশ বলেছেন, মার্কিন জনগণ তার চিন্তাধারা সম্পর্কে অবহিত রয়েছে। ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন না জর্জ ডব্লিউ বুশের ছোট ভাই জেব বুশও। এছাড়া, ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনিও ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বুশ পরিবারের বৈরি সম্পর্ক থাকায় ২০১৬ সালের নির্বাচনেও ট্রাম্পকে তারা সমর্থন দেননি। সে সময় বুশের বাবা সিনিয়র বুশ সরাসরি ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছিলেন। উল্লেখ্য, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হচ্ছেন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেট জো বাইডেন।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে
৭জুন,রোববার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্ব। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও ওঠা-নামা করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৪৪ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার বা ২.৬ শতাংশ কমে হয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৮৩ ডলার, যা ২ মের পর সর্বনিম্ন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৬১ টাকা। পুরো সপ্তাহের হিসাবে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩.৯ শতাংশ। এর পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে ৫.৫ শতাংশ। বিশ্ববাজারের পাশাপাশি সোনার দাম কমেছে ভারতেও। শুক্রবার ভারতে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৪৬ হাজার ৩৫০ রুপিতে নেমে যায়। এদিন সোনার দর প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। সাধারণত মন্দার সময় সোনার দাম বাড়তে থাকে। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ হিসেবে সোনা কিনে মজুদ করে রাখেন। আর অর্থনীতি চাঙ্গা হলে সোনার দাম কমে, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। লকডাউন শিথিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ক্ষেত্র গত মাসের তুলনায় বেড়েছে। ফলে শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে দেশটিতে নতুন ২৫ লাখ চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে দেশটিতে বেকারত্ব কমে হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু চার লাখ ছাড়াল
৭ জুন, রোববার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা চার লাখ অতিক্রম করেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য মতে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৯৪ জন মানুষ মারা গেছেন। আর এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭২১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৪ লাখ ১১ হাজার ২৮১ জন। মহাদেশভিত্তিক বিভাজনে দেখা গেছে, করোনা মহামারিতে সারাবিশ্বে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের এক চতুর্থাংশ হয়েছে আমেরিকায়। তবে দক্ষিণ আমেরিকায়ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ার পর ৫ মাসে এই রোগে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যধির একটি ম্যালেরিয়ায় বছরে মোট মৃত্যুর সমান। করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। সেখানে এরই মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৮৮ জন মানুষ মারা গেছে। এখন ব্রাজিলে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং প্রাণহানিতে দেশটি যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪০ হাজার ৪৬৫ জন। আর ব্রজিলে মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ২১১ জন। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতে মারা গেছে ৬ হাজার ৯৪৬ জন। পাকিস্তানে ১ হাজার ৯৩৫ এবং বাংলাদেশে ৮৪৬ জন।
ট্রাম্পের ভিডিও ডিজেবল করল টুইটার-ফেসবুক
৬জুন,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশি নিপীড়নে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা একটি ভিডিও ডিজেবল করে দিল টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। কপিরাইটের অভিযোগ এনে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে তথ্যটি জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ক্লিপে ফ্লয়েডর হত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতার কিছু খণ্ড খণ্ড ছবি ও ভিডিও দেখা গেছে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কথা বলছেন ট্রাম্প। কোন ছবি বা ভিডিও কপিরাইট আইন ভঙ করেছে তা স্পষ্ট নয়। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী স্যাম কুলাক পলিটিকোকে জানিয়েছে, তার ফার্ম টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের কাছে কপিরাইট সংক্রান্ত অভিযোগ করেছে। ভিডিও অপসারণের পর ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, তারা প্রগতিবাদী বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের হয়ে কঠিন লড়াই করছে, একপেশে লড়াই। অবৈধ। টুইটারের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসে পাল্টা জবাবে লিখেছেন, যা বলছেন সত্যি নয়, আর এটা অবৈধ নয়। এটা সরানো হয়েছে কারণ কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগ এসেছে। সপ্তাহখানেক আগে দুটি পোস্ট নিয়ে টুইটারের সতর্কবার্তা পাঠানোর পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেশ কিছু আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমের বিরুদ্ধে এক নির্বাহী আদেশে সই করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশে সংস্কার চাইলেন ওবামা
৫জুন,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের জেরে বিক্ষোভে উত্তাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন সাবেক চার রাষ্ট্রপতি। তবে শুধু সায় দিয়েই ক্ষান্ত হননি বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে ও পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার চেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সপ্তাহজুড়ে চলা বিক্ষোভ নিয়ে এবারই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি। খবর সিএনএনের। ওবামা বলেন, চলমান বিক্ষোভে কয়েকজন হয়তো সহিংস আচরণ করছেন কিন্তু বাকিরা সঠিক পথেই আছেন। আমেরিকার জন্ম হয়েছে প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে, যা আমেরিকান অভ্যুত্থান নামে পরিচিত। সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, চেজার চাভেজ এবং ম্যালকম দশমের মতো ব্যক্তিরা যুবক বয়সেই বিক্ষোভ করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। বর্তমান যুবকরাও বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এর মাধ্যমেই দেশের উন্নতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আদর্শ বজায় থাকবে। পুলিশে সংস্কারের ব্যাপারে ওবামা বলেন, পুলিশের কিছু ইউনিয়ন ছাড়া সবাই সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের জন্য আটটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ওবামা বলেন, এর মাধ্যমে দেশে সহিংসতা কমবে। চলমান বিক্ষোভে সমর্থন জানান আরও ৩ প্রেসিডেন্ট। জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার। সব সীমাবদ্ধতাকে মোকাবেলা করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, গত ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপোলিসতে শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। চলে ভাঙচূর ও লুটপাটও। গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ইতালি
৪জুন,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনার কারণে ইতালিতে প্রায় তিন মাস পর পর্যটকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই পর্যটনশিল্পকে চাঙ্গা করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এখানে। তাই ইউরোপের পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আছে ইতালি। গত ডিসেম্বরে চীনে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ইতালিতে প্রাদুর্ভাব ঘটে এই ভাইরাসের। ইতালিতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে করোনা। এই ভাইরাসের কারণে ইতালি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসের চেয়ে এখন ইতালির অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক। করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। চালু হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এবার পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ তিন মাস পর খুলে দেওয়া হয়েছে ইতালির ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান পিসা টাওয়ার। পর্যটকদের জন্য মঙ্গলবার পিসা টাওয়ার খুললেও জারি করা হয়েছে কিছু নিয়ম-কানুন। টাওয়ারটিতে একসঙ্গে ১৫ জনের বেশি দর্শনার্থী থাকতে পারবেন না। সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে এবং সবার হাতে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস থাকবে, যার মাধ্যমে একজনের থেকে আরেকজনের দূরত্ব মনিটর করা হবে। কেউ ১ মিটার কম দূরত্বে আরেকজনের কাছে গেলেই কর্তৃপক্ষের কাছে সিগন্যাল চলে যাবে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৫। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৩ হাজার ৫৩০ জন। ইতোমধ্যেই ইতালিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯২ জন। দেশটিতে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৩৯ হাজার ৮৯৩টি। এ ছাড়া আরও ৪০৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল হোতা ড্রোন হামলায় নিহত
৩জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে হত্যার সন্দেহভাজন মূল হোতা খালেদ আল-মিশাই ঘারিয়ানে এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (০২ জুন) তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিজেদের ভেরিফাইড টুইটার পেজে পোস্ট করে জানিয়েছে দ্য লিবিয়া অবজারভার। টুইটে বলা হয়েছে, লিবিয়ার খলিফা হাফতারের দলের মিলিশিয়া খালেদ আল-মিশাই ঘারিয়ান শহরের দক্ষিণাঞ্চলে লিবিয়ার বিমানবাহিনীর চালানো এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। টুইটে আরও জানানো হয়, ২৬ জন বাংলাদেশি ও চারজন আফ্রিকান অভিবাসী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ছিলেন আল-মিশাই। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে অপহরণকারীদের গুলিতে নিহত হন এই ৩০ জন অভিবাসী।
যুক্তরাষ্ট্রে কারফিউ অমান্য করে চলছে বিক্ষোভ
৩জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে এক পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০টিরও বেশি শহরে জারি করা কারফিউর মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্ক শহরে কিছুক্ষণ আগে কার্যকর হয়েছে কারফিউ। তবে কারফিউ শুরু হলেও ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনে থেকে অবস্থান ত্যাগ করেনি বিক্ষোভকারীরা। তবে সোমবারের তুলনায় হোয়াইট হাউজের সামনে কম সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছে। এছাড়া আগেরদিনের মত বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ এড়াতে হোয়াইট হাউজের সামনে প্রতিরক্ষা বাড়াতে একটি নতুন গেইট তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন রাজধানী ওয়াশিংটনে আরো বেশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিউ ইয়র্ক শহরেও দেখা গেছে একই চিত্র। কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা রাস্তা থেকে সরছেন না। ম্যানহাটান অঞ্চলে আগের রাতে লুটপাট ও ভাঙচুর হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে না পারার অভিযোগ তুলে নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও ও পুলিশের সমালোচনা করেছেন। গভর্নর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে পারেন তিনি। ওয়াশিংটনে কারফিউ কার্যকর হওয়ার কিছুক্ষণ আগে হোয়াইট হাউজের কাছে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দিকে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয় যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেঁটে নিকটবর্তী একটি গির্জায় বাইবেল হাতে ছবি তুলতে যেতে পারেন। আজকেও ওয়াশিংটন ডিসি'র আরেকটি গির্জা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রে যখন করোনাভাইরাস মহামারি আর কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরণের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতাদের অনেকে। ওয়াশিংটন আর নিউ ইয়র্ক বাদেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের সাথে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অংশ নিতে টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টনে জড়ো হচ্ছে মানুষ। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে সেখানে। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে দুই হাজারের বেশি মানুষ সিটি হলের দিকে পদযাত্রা করছে। পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়াতেও সিটি হলের দিকে বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। টেনেসি'র ন্যাশভিলে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে নিজেদের সুরক্ষা উপকরণ নামিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের। গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ ফুঁসে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায়। এসময় বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের সময় লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর