শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১
কৃষি আইনের পক্ষেই বক্তব্য দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি
২৯,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংসদের যৌথ অধিবেশনে কৃষি আইনের পক্ষে জোর সাফাই গেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে ছিল কৃষি আইন এবং কৃষকদের জন্য মোদি সরকার কী কী করেছে, তার বর্ণনা। খবর আনন্দবাজারের। কৃষি আইন নিয়ে যে দেশটির সরকার পিছু হটবে না, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কৌশলে তা আরও একবার যেন বুঝিয়ে দিতে চাইল মোদি সরকার। শুক্রবার থেকে দেশটির সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শুক্রবার সেই অধিবেশনের শুরুতে বক্তৃতায় কৃষি আইনে নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন ৩টি আইনের ফলে দেশের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। কয়েকটি রাজ্য সরকারও কৃষি আইনের প্রশংসা করেছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্রাক্টর Railly তে দিল্লি জুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বহু এলাকা। লালকেল্লায় ঢুকে পতাকা উত্তোলনের ছবি দেখা গিয়েছিল। কৃষকদের সেই আন্দোলনের নিন্দা জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকরা ট্রাক্টর Railly করেছেন। সেই আন্দোলনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। লালকেল্লায় জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সংবিধান, যার জন্য আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করি, আমাদের স্বাধীনতার কথা বলে। কিন্তু এটাও বলে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিশ্চিত করা নাগরিকদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের রোজগার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী- কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করেছে। কৃষি খরচের দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সুফল বিকাশ যোজনার সুবিধাও পেয়েছেন কৃষকরা। ২০২০ সাল প্রায় পুরো বছরই করোনার প্রকোপ ছিল ভারতে। ওই ভারতের রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে দেশে করোনার সংক্রমণ রুখে দিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে অর্থনীতি। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে ভারত সরকার। করোনার টিকাদান কর্মসূচিও সফল ভাবে চলছে দেশে।
দিল্লিতে কৃষক-পুলিশ সংঘর্ষে ২২ মামলা
২৭,জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংঘাত-সংঘর্ষ-সহিংসতায় পুলিশের তিন শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২২টি মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। দ্য হিন্দু। সংঘর্ষের ঘটনায় কৃষকেরাও আহত হয়েছেন। তবে ঠিক কতজন কৃষক আহত হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। মঙ্গলবার ছিল ভারতের ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবস। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এদিন নয়াদিল্লির রাজপথে ট্রাক্টর মিছিল করার পূর্বঘোষণা ছিল দেশটির আন্দোলনরত কৃষকদের। কৃষকদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন সংঘাত-সংঘর্ষ-সহিংসতা হয়। রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের বার্ষিক প্যারেড চলাকালেই সীমান্তে অবস্থানরত কৃষকদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীতে ঢুকে পড়েন। কেউ পায়ে হেঁটে ঢোকেন, কেউ ট্রাক্টর নিয়ে। এই নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের মধ্যেই একদল কৃষক রাজধানীর কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তাঁরা লালকেল্লায় উঠে পড়েন। পরে অবশ্য লালকেল্লা থেকে কৃষকদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। গতকালের ঘটনায় এক কৃষক মারা যান। পুলিশ বলছে, তিনি ট্রাক্টর উল্টে মারা গেছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশের ভাষ্য, পুলিশের গুলিতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, গতকাল ৮টি বাস ও ১৭টি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বেশ কিছু কৃষকনেতাকেও আসামি করা হয়েছে। এই সহিংসতার ঘটনায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও সূত্র জানায়। এদিকে সহিংস ঘটনার পরদিন কৃষকনেতারা আন্দোলনকারী কৃষকদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাঁদের আন্দোলনের পথ দীর্ঘ। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে কৃষকদের পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। তবে গতকালের সহিংস ঘটনার পর কৃষকদের এই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে কৃষকনেতারা আজ সিংঘু সীমান্তে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে দিল্লিতে আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
করোনা ব্যর্থতায় সরে যাচ্ছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী
২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইতালিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে কন্তে জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার পদত্যাগ করবেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে। বিবিসি। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্তে। তার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি ওই বৈঠকে তার নিজের ইচ্ছার কথা মন্ত্রীদের কাছে ব্যক্ত করবেন। এরপরেই হয়তো তিনি প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাবেন। করোনা মহামারির কারণে দেশজুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে কন্তে হয়তো নতুন সরকার গঠনের পরামর্শ চাইতে পারেন। ইতালিতে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমে এসেছে। গত ১৩ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি তার ইটালিয়া ভিভা পার্টিকে দল থেকে প্রত্যাহারের পর থেকেই ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে পড়েছে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে কোনমতে টিকে গেছেন কন্তে। কিন্তু সিনেটের উচ্চ কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে তার সরকার বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি। সংবিধান সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিলেন রেনজি। ওই পরিকল্পনার ওপর গণভোটে শোচনীয় পরাজয় দেখে আকস্মিক পদত্যাগ করেন তিনি। মাত্র মাত্র আড়াই বছর ক্ষমতায় থাকার পর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন রেনজি। করোনার কারণে শুরু থেকেই ইতালিতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এক বছরের বেশি সময় আগে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর পরই ইতালিতে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ইতালি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সে সময় ইতালিতে সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭২। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৫ হাজার ৮৮১ জন। ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬১ জন। বর্তমানে সেখানে করোনার অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪ লাখ ৯১ হাজার ৬৩০।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্রাজিলের ৪ ফুটবলারসহ নিহত ৬
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাজিলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লাস পালমাস নামক একটি ক্লাবের চার খেলোয়াড় ও সভাপতি নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলটও নিহত হয়েছেন। খবর ডেইলি মিররের। রোববার (২৪ জানুয়ারি) লুজিমাঙ্গুয়েস নামক স্থানে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার রাতে ভিলা নোভা ক্লাবের বিপক্ষে তাদের খেলার কথা ছিল। এই ঘটনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই ক্লাবটির সভাপতি লুকাস মেইরা, ফুটবলার লুকাস প্রাক্সেদেস, গুইলহেরমে নোয়ি, রানুলি, মার্কাস মোলিনারি ও পাইলট ওয়াগনার মাচাদো নিহত হয়েছেন। লাস পালমাসের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, ক্লাবটি ভিলা নোভার বিপক্ষে বিমানে করে খেলতে যাচ্ছিল। বেসরকারি সংস্থার এই বাণিজ্যিক বিমানটি উড্ডয়ন করতে গিয়ে রানওয়ের শেষ প্রান্তে ভূপাতিত হয়। এতে বিমানটিতে থাকা সবাই প্রাণ হারান। বিমানটি ৮০০ কিলোমিটার দূরের গইয়ানিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে যাচ্ছিল। সেখানে কোপা ভার্দের শেষ ষোলোর ম্যাচে সোমবার ভিলা নোভার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাদের। যে চারজন খেলোয়াড় মারা গেছেন তারা চলতি বছর (২০২১) পালমাসে যোগ দিয়েছেন। তার মধ্যে প্রাদেস, নোয়ি ও রানুলে গেল সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। লাস পালমাম ব্রাজিলের চতুর্থ টায়ারের একটি দল। এই ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। পাশাপাশি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।
রাশিয়ায় নজিরবিহীন বিক্ষোভ, গ্রেফতার তিন হাজার
২৪,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাশিয়ায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ থেকে ৩ হাজারের বেশি জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। খবর রয়টার্স। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যতম এই বিক্ষোভ Raillyতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের শারীরিকভাবে মস্কোর দাঙ্গা পুলিশ নির্যাতন করছে, এমনও দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি অ্যালেক্সি নাভালনি গত রোববার গ্রেফতার হওয়ার পর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। মস্কো, সেইন্ট পিটার্সবার্গ, সাইবেরিয়াসহ প্রায় ১শ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে মানুষ। কিশোর, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরা পর্যন্ত বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা নাভালনির মুক্তি দাবি করেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, মস্কোর Raillyতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। তবে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ৪ হাজার। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ায় এই মাত্রার বিক্ষোভ আগে কখনো দেখা যায়নি। আর মস্কোতে গত দশ বছরের মধ্যে এত বড় পরিসরে বিক্ষোভ হয়নি। Railly পর্যবেক্ষণের কাজ করে থাকে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা ওভিডি ইনফো, তারা জানিয়েছে প্রায় ৩,১০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে ১,২০০ জনের বেশি মস্কো থেকে। বিক্ষোভের মধ্যে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়াকেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করে পুলিশ। তিনি ওই ঘটনার একটি ছবিও তাঁর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। এ বিষয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাশিয়ার বিরোধী নেতা নাভালনির ওপর স্নায়ু বিকল করার বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। তারপর থেকে তিনি চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে ছিলেন। গত রোববার বার্লিন থেকে মস্কোতে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে। মূলত এই ৩০ দিন বিচারকার্য শুরু হওয়ার আগে তাকে রিমান্ডে রাখা হবে। প্যারোলের শর্ত ভাঙ্গার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। তবে নাভালনি দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। এদিকে রাশিয়ায় শনিবার (২৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, তবে বিক্ষোভের সাথে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা জানা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটকে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সমর্থন করে অসংখ্য ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে এবং নাভালনি সম্পর্কে ভাইরাল মেসেজ শেয়ার করা হয়েছে। রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা তাদের সন্তানদের কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে না দেয়।
আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে করোনার নতুন ধরন
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার নতুন ধরন নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া দেশজুড়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চলছে। যদিও ভ্যাকসিন কতটা কাজ করছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। করোনার পুরোনো এবং নতুন ধরনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে যে, পুরোনো ধরনের চেয়ে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এই নতুন ধরনটির কারণে মৃত্যু হারও বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। লন্ডন এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে প্রথম করোনার এই নতুন ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। করোনার নতুন ধরনটি কতটা ভয়াবহ তা মূল্যায়ণের চেষ্টা করছে ইংল্যান্ডের গণস্বাস্থ্য, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, দ্য লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার। এই গ্রুপটি বলছে যে, নতুন ধরনের ভাইরাসটি মারাত্মক হয়ে উঠেছে বলে- বাস্তববাদী সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এই তথ্যকে এখনও পর্যন্ত ততটা শক্তিশালী নয় বলেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমাদেরকে এ বিষয়ে আরও কাজ করে যেতে হবে। তবে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়াটা অবশ্যই উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংক্রমণও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর আগে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে ৩০ থেকে ৭০ ভাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি ৩০ শতাংশ বেশি প্রাণঘাতী বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, করোনার পুরোনো ধরনে ৬০ বছর বয়সী এক হাজার আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু নতুন ধরনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ১৩ জন। অর্থাৎ নতুন ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হারও বেশি। গত সেপ্টেম্বরে কেন্ট এলাকায় প্রথম করোনার নতুন ধরনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এটি এখন ইংল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সাধারণ ধরনে পরিণত হয়ে গেছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনে নার্সিং হোমে আগুন লেগে ১৫ জনের মৃত্যু
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউক্রেনের একটি নার্সিং হোমে আগুন লেগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এছাড়া ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির পুলিশকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিল্ডিংটি মূলত একটি আবাসিক ভবন ছিল। তবে এটিতে একটি নার্সিং হোম কাজ চালাচ্ছিল। বিল্ডিংটি নার্সিং হোমের জন্য নিবন্ধিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিয়য়ে বাড়ির মালিক ও নার্সিং হোমের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে দমকল বাহিনী। নার্সিং হোমে আটকে থাকা প্রচুর মানুষকে উদ্ধারও করা হয়েছে। তবে এরমধ্যেই ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও পাঁচ জন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ফের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে আমেরিকা: বাইডেন
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শপথ নেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে বের করে নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত রেখে যাননি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার আগে। তার স্থলে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ঘোষণা দিলেন, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করবেন তিনি। বুধবার (২০ জানুয়ারি) ক্যাপিটল হিলে শপথ অনুষ্ঠান শেষে বাইডেন এ ঘোষণা দেন। বিশ্বের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতি বার্তা হলো, আমেরিকাকে পরীক্ষা করা হয়েছে, আমরা এটির জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে এসেছি। আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করবো। পাশাপাশি ফের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে আমেরিকা। আমরা বিশ্বকে শক্তি দিয়ে নয় বরং উদাহরণ সৃষ্টি করে নেতৃত্ব দেবো। আমরা শান্তি, অগ্রগতি এবং সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হবো। এদিকে বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস শপথ নেওয়ার পরপর ইউরোপের বহু নেতা নতুন প্রশাসনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন। এসব টুইটে তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নীরবতা ভেঙে বিদায়ী বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প
২০,জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমেরিকার ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। তর্ক-বিতর্ক আর আলোচনার মধ্যেই বিদায় নিচ্ছেন এই প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে আজই তার শেষ দিন। তার চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর হামলার পর গত এক সপ্তাহ ধরে দেখা মেলেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অবশেষে এক ভিডিওবার্তায় নীরবতা ভেঙে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পূর্বে রেকর্ড করা ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি কঠোর লড়াইয়ের মোকাবিলা করেছেন, কঠিনতম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমরা এখানে যা করতে এসেছিলাম তা করেছি, তার চেয়ে বেশি করেছি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ দিনে দেওয়া ভাষণে আরো বলেন, আমরা নতুন প্রশাসনের অভিষেক করতে যাচ্ছি এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সফল হোক সেই প্রার্থনা করছি। এ সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ বেশ কয়েকজনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার পরিবার, হোয়াউট হাউসের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশাসন এবং দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে আমি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনাদের সেবা করা অনেক বেশি সম্মানের। ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আমার মেয়াদ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি তাতে সত্যিই গর্বিত। এই সপ্তাহে, একটি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এবং নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখবে এই প্রার্থনা করছি। আমার শুভকামনা রইল। ট্রাম্প বলেন, মনে রাখতে হবে যে মার্কিনিদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে, তবে মার্কিন জনগণ বিশ্বস্ত এবং শান্তিকামী নাগরিক, যারা তাদের দেশকে সমৃদ্ধ দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, সারা যুক্তরাষ্ট্র ক্যাপিটলে আক্রমণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েছিল। এ রকম রাজনৈতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ। এটি কখনোই সহ্য করা যায় না। ট্রাম্প বলেন, (আজ) বুধবার দুপুরে আমি যখন নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি জানাতে চাই যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছি, তার কেবল সূচনা হলো।