লন্ডনকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল পরমাণু বোমায় রাশিয়া!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতা হিরোসিমা ও নাগাসাকির হত্যালীলা। শেষ মুহূর্তে রাশিয়া তার পরিকল্পনা না বদলালে হয়তো আরও একটি পরমাণু বোমার ধ্বংসলীলার সাক্ষী থাকত বিশ্ববাসী। রুশ সরকারের অত্যন্ত গোপন একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর রীতিমতো ঝড় তুলেছে। ওই চিঠি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে নাকি লন্ডনে পরমাণু বোমা ফেলার ছক কষেছিল রাশিয়া। কখন এবং শহরের কোনও প্রান্তে বোমা নিক্ষেপ করা হবে, তাও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ঠাণ্ডাযুদ্ধের সময় লেখা এই গোপন চিঠিটি সম্প্রতি ফাঁস করেছে ন্যাশনাল আর্কাইভ। ১৯৫৪ সালে চিঠিটি লিখেছিলেন পরমাণু বোমা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম পেনি। ওই চিঠিতে অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটি-র চেয়ারম্যান এডুইন প্লওডেনকে তিনি জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডন, পশ্চিম লন্ডনের উক্সব্রিজ ও পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ডে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করা হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র উইলি মিরর-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, লন্ডনে ৩২টির মধ্যে চার-পাঁচটি পরমাণু বোমা ফেলার পরিকল্পনা ছিল রাশিয়ার।
শ্রীলঙ্কার বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রীকে পুনর্বহালে অসম্মতি প্রেসিডেন্টের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে স্বপদে পুনর্বহালে অসম্মতি জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিক্রমাসিংহে সংসদে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারলেও, তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে কখনোই ফিরিয়ে আনা হবে না। একইসঙ্গে বিক্রমাসিংহের দুর্নীতি তদন্ত করতে একটি কমিশন গঠন করা হবে বলে জানান সিরিসেনা। এদিকে, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইউএনপির মুখপাত্র হর্ষ ডি সিলভা, কমিশন গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে সিরিসেনার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা এবং দুর্নীতি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত কোরে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এরপর থেকেই দেশটির রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ প্রোগ্রামে প্রেজেন্টারের হার্ট অ্যাটাক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফুটবল ম্যাচ নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ প্রোগ্রামে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন সুকরু ওতান নামে এক প্রেজেন্টার। ওই সময় ওতান চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে যান তিনি। তুরস্কের এক টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ প্রোগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাইভ প্রোগ্রামে তুরস্কের প্রথম বিভাগের একটি ফুটবল ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করছিলেন ওতান। এ সময় স্টুডিওতে ছিলেন একজন অতিথি। এই ঘটনার পরে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওতান শুরুতে নুয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় পাশে থাকা অতিথি তাকে ধরতে উঠে আসেন। এক বিবৃতিতে টিভি চ্যানেলটি জানায়, সম্প্রচারের সময় সুকরু ওতান অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ঘটনা সম্পর্কে এক মুখপাত্র বলেন, তাকে তখনই হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা স্থিতিশীল। ওতানের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রথম অসুস্থ হওয়ার পর কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন ওতান। এরপর নিজেই জানান তিনি কাজ করতে পারবেন। ফলে আবারও উপস্থাপনায় দেয়া হয় তাকে। যদিও সুকরু ওতানের কিছুদিন আগেই হার্টে সমস্যা ধরা পড়ে। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তার হার্টবিট নিয়মিত নয়। এ কারণে ১০ দিন আগে পেসমেকারও লাগানো হয়।
কাবুলে বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর জমায়েতকে লক্ষ্য করে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার কাবুলের একটি হলে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিন পালনের জন্য উপস্থিত শতাধিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মাজরোহ বলেন, মঙ্গলবারের এ আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানেশ বলেন, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী একটি ওয়েডিং হলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। যেখানে ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিন পালনের জন্য শতাধিক মাওলানা ও আলেম উপস্থিত হয়েছেন। হামলার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকগুলো অ্যাম্বুলেন্স হতাহতদের সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে। তবে এখনও কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলির ঘটনায় চারজন নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি হাসপাতালে গোলাগুলির ঘটনায় হামলাকারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ডাক্তার এবং হাসপাতালের নারী কর্মী রয়েছেন বল নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের মেয়র রাহম ইমানুয়েল। পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গোলাগুলির সময় বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। তবে তিনি অঅত্মহত্যা করেছেন কি না তা নিশ্চিত নয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দুকধারী তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একজন নারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। শিকাগোর মার্সি হাসপাতালে স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ৩টায় এই ঘটনা ঘটে। সেসময় হাসপাতালের গাড়ি পার্কিং এর জায়গায় ‘একাধিক গুলি’র শব্দ পাওয়া যায় বলে জানায় শিকাগো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। পরে হামলাকারী গুলি করতে করতে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন বলে জানান হাসপাতালের ভেতরে অবস্থানরত মানুষ। দ্রুতই মার্সি হাসপাতাল থেকে মানুষজনকে বের করে নেয়া হয় এবং সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ঘটানো সহিংসতা নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি অনলাইন প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা পেশায় জড়িত থাকা ব্যক্তিরা।
খাসোগি হত্যা: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞ সৌদি বাদশাহ
অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ তাঁর দেশের বিচার বিভাগের প্রশংসা করেছেন। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চাপের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া যখন অগ্রগতি হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে খাসোগি হত্যার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলে এই প্রশংসা করলেন বাদশাহ সালমান। গত মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর গত সোমবার সৌদির সুরা কাউন্সিলে সৌদি বাদশাহ সালমান বলেন, তাঁর দেশ কখনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা থেকে বিচ্যুত হবে না। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুরা কাউন্সিলে কথা বলার সময় বাদশা সালমান খাসোগি হত্যার ঘটনা সরাসরি উল্লেখ না করে তা এড়িয়ে গেছেন। এ দিকে জামাল খাসোগি হত্যার সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত থাকার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে সৌদি। তবে রিয়াদ সরকার বলছে, এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জামাল খাসোগি খুন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ৩৩ বছর বয়সের সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। সুরা কাউন্সিলে ৮২ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ইসলামিক ন্যায়বিচারের নীতি ও সমতার ভিত্তিতে রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং আমরা গর্বিত যে, বিচার বিভাগ ও পাবলিক প্রসিকিউশনে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, এই দেশে কখনো আল্লাহর নীতি ও ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন থেকে বিচ্যুত হবে না। বাদশাহ তাঁর বক্তৃতায় ইরান ও সৌদি আরবের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উপসাগরীয় অঞ্চলের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তেলের বাজার স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও ইয়েমেন যুদ্ধ নিরসনে জাতিসংঘের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানান। জামাল খাসোগি হত্যার পর থেকে কঠিন আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তাঁর দেশে কোনো কিছু হয়নি বলে মনে করেন বাদশাহ সালমান। ওই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় সৌদি নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে গত ২ অক্টোবর ব্যক্তিগত কাগজপত্র আনার প্রয়োজনে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সৌদির খ্যাতনামা সাংবাদিক খাসোগি। শুরু থেকে তুরস্ক দাবি করে আসছে, খাসোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতর সৌদি চরেরা হত্যা করেছেন। গত বছর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর রোষানলে পড়েন খাসোগি। তিনি দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়াশিংটন পোস্টে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে একের পর এক কলাম লেখেন খাসোগি। অভিযোগ উঠেছে, যুবরাজের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ হত্যা সংঘটিত হয়েছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সৌদি আরব স্বীকার করে, খাসোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। তবে খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে স্বীকার করলেও এতে রাজপরিবার জড়িত নয় বলে দাবি করছে সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত খাসোগির মৃতদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর দেহের টুকরো-টুকরো অংশের সন্ধান মিলেছে।
যে নেতারা ইউ-টার্ন নেন না তারা প্রকৃত নেতা নয়: ইমরান খান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী যে নেতারা ইউ-টার্ন নেন না তারা প্রকৃত নেতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নিজের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি জার্মানির সাবেক একনায়ক এডলফ হিটলারের উদাহরণও দিয়েছেন। তার মতে, রাজনীতিতে ইউ-টার্ন অর্থাৎ পল্টি খাওয়াই দস্তুর। সময় মতো পল্টি না খাওয়ার জন্যই হিটলার ও নেপোলিয়নকে যুদ্ধে হারতে হয়েছিল। বেশ কিছু দিন ধরেই নীতির প্রশ্নে বিভিন্ন জায়গায় আপস করার জন্য ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যে সব প্রতিশ্রতি দিয়ে তিনি নির্বাচনে জিতেছিলেন, আর ক্ষমতায় আসার পর তিনি যা করছেন, তার মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। কখনো ধর্মীয় মৌলবাদীদের দাবি মেনে নেওয়া, কখনো সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া, কখনো ঋণের ভিক্ষা পাত্র নিয়ে সৌদি আরব বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডারের দরজার সামনে দাঁড়ানো, বাদ নেই কিছুই। অথচ, নির্বাচনের আগে ঠিক উল্টো কথাই বলতেন ইমরান। এই ইউ-টার্ন বা পল্টি খাওয়া নিয়েই তাকে শুক্রবার প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। সেখানেই বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন ইমরান।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে রোমিও নামের একটি হেলিকপ্টার কিনবে ভারত
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে MH-60 রোমিও নামের একটি হেলিকপ্টার কিনতে চায় ভারত সরকর। হেলিকপ্টারের দাম দুই বিলিয়ন ডলার। গত শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর এই খবর জানিয়েছে। জানা যায়, রোমিও সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর সাবমেরিন খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে পারদর্শী। মনে করা হচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কথাবার্তা হয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কলকাতা টুয়েন্টিফোর-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ইতিমধ্যে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে ২৪টি ক্ষমতাসম্পন্ন MH 60 রোমিও সি-হক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে নতুন প্রস্তাব পাস
অনলাইন ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশসমূহের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথভাবে আনীত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ১৪২টি, বিপক্ষে ১০টি এবং ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। ওআইসি ও ইউর পক্ষে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া এই প্রস্তাব উত্থাপন করে। ওআইসি ও ইইউর সকল সদস্যরাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ মোট ১০৩টি দেশ এই প্রস্তাবে কো-স্পন্সর করে। শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রস্তাবটি ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ওআইসির পক্ষে তুরস্ক ও ইইউর পক্ষে অস্ট্রিয়া বক্তব্য রাখে।তুরস্ক ও অস্ট্রিয়ার বক্তব্য সমর্থন করে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দানের আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ। ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে প্রায় সকল সদস্য দেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবদানের কথা উল্লেখ করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এই প্রস্তাবকে সমর্থন করতে সদস্য দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং মিয়ানমারের ছাড়পত্র অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা পরিবার ও সদস্যদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কাজ গত ১৫ নভেম্বর শুরু করতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সদস্যরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রতি কোনভাবেই আস্থা রাখতে পারেনি এবং একটি পরিবারও মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত হয়নি। তারা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে নাগরিকত্বের পূর্ণ নিশ্চয়তা, নিজভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা ও সহিংসতার বিচার করা এবং ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা ব্যতীত মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। অতএব রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির নিশ্চয়তা বিধানে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে অবশ্যই মিয়ানমারে বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে”। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ধরে রাখা বা জোর করে ফেরত পাঠানো এর কোনটিতেই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নেই। গত বছর সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ওআইসির আহ্বানে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একই বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে পূনরায় পাস হয়। সেসময় তৃতীয় কমিটির এই প্রস্তাবে ১৩৫টি দেশ পক্ষে, ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল এবং ভোট প্রদানে বিরত ছিল ২৬টি দেশ। গত বছর সাধারণ পরিষদ গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আওতায় মিয়ানমার সংক্রান্ত স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন, কাচিন ও সান প্রদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাবলীর বিবিধ প্রমান ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারপারসন মারজুকি দারুসমান এ প্রতিবেদনের ওপর সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জোরালো সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন। এবছরের এই প্রস্তাব মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য বর্ধিত করাসহ তার কাজকে আরও বেগবান করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও এতে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্যতম কার্যকলাপের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে আনা হয়েছে।রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ হতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের চেয়েও বেশী ভোটে এবারের প্রস্তাব পাস মিয়ানমারের বিপক্ষে বিশ্ব জনমতের অধিকতর জোরালো অবস্থানেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই প্রস্তাব আগামী ডিসেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে। এই প্রস্তাব মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে চলমান মিয়ানমার সঙ্কটের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর