বিবস্ত্র করে তল্লাশি,বিমানবালাদের বিক্ষোভ
ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইস জেটের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে বিমানবালাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার চেন্নাই বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করেন বিমানবালারা। বেশ কয়েক দিন ধরে এভাবে তাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশি করা হচ্ছে বলে বিক্ষোভের সময় তারা অভিযোগ করেন। খবর এনডিটিভির। বিক্ষোভের পর গত সোমবার বিক্ষোভকারী বিমানবালাদের সঙ্গে স্পাইস জেটের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসার আশ্বাস দিলে কাজে যোগ দেন তারা। তবে বিক্ষোভের কারণে সেখান থেকে কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটসহ দুটি বিমানের উড্ডয়নে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়। বিক্ষুব্ধ বিমানবালাদের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে বিমান থেকে নামার পরপরই তাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশি করা হয়। শরীর তল্লাশির পাশাপাশি তাদের ব্যাগ, ব্যক্তিগত সামগ্রীও খুলে দেখা হয়। শৌচাগারেও যেতে দেয়া হয় না। তাদের হাতব্যাগ থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলে দিতেও বাধ্য করা হয়। বিমানের খাবার অসাধু উপায়ে বিমানবালারা বিক্রি করছেন এমন অভিযোগে এ তল্লাশি করেন বেসরকারি এই বিমান সংস্থা। সেই অর্থ ও বিমানের অন্য মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগও করা হয়। যে কারণে বিমান থেকে নামার পর তাদের শৌচাগারেও যেতে দেয়া হয় না। চেন্নাই বিমানবন্দরে বিমানবালাদের বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পরে। এরপরই প্রকাশ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্পাইসজেটের ইউনিফর্ম পরা একদল বিমানবালা বিক্ষোভ করছেন। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের শরীরে আপত্তিকরভাবে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভারত সীমান্তে ভয়ঙ্কর দুর্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান!
আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত। চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি আর ভয়ঙ্কর সব মহড়া। আর তারই জের ধরে ভারত সীমান্তের খুব কাছেই নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্ত্র সাজানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেই সেনা দুর্গের ছবি স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে। পাকিস্তানের গুরজানওয়ালায় রয়েছে সেই দুর্গ যা ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে। সেখানেই রয়েছে পাকিস্তানের ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন। জানা গেছে, খুব কাছ থেকে ভারতকে আক্রমণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। গুরজানওয়ালা ও পানো আকিল নামে দুটি জায়গায় রয়েছে সেই দুর্গ। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে গুরজানওয়ালার দুর্গ। এতে রয়েছে দুটি গ্যারেজ। পূর্ব দিকে রয়েছে অটোমেটেড ব্লাস্ট ডোর। আর পশ্চিমে পাঁচ মিটার চওড়া একটা এন্ট্রান্স। ইগলুর মতো ঘরে রয়েছে অস্ত্রাগার। এছাড়া ৩২ মিটার লম্বা ও ১৭ মিটার চওড়া আটটি গ্যারেজ আছে। এর মধ্যে ছটি এসি প্লান্টের সঙ্গে যুক্ত। রয়েছে পাঁচটি ব্লাস্ট প্রুফ বাংকার। অস্ত্র মেরামত করার জায়গাও রয়েছে সেখানে। কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোলের জন্য রয়েছে বিশেষ জায়গা। চার স্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রয়েছে সেখানে। আছে ওয়াচ টাওয়ার। অন্যদিকে পানো আকিলে এটি তৈরি করা হয় ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে। একই ধরনের ব্লাস্ট ডোর ও এন্ট্রান্স রয়েছে এখানেও। রয়েছে ইগলু। গুরজানওয়ালার তুলনায় একটু বড় মোট নটি গ্যারেজ আছে সেখানে। সবকটি একই সাইজের। অনেকটা খোলা জায়গা আছে সেখানে। এখানেও আছে চার স্তরীয় নিরাপত্তা। মোটা প্রাচীরের আড়ালে রয়েছে সেই দুর্গ।
সৌদি আরবকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম ৯/১১ হামলার ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে সৌদি আরবকে। নিউইয়র্কের এক বিচারক এমনই নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী, শতকোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা চলমান থাকবে। সৌদি আরব সবসময়ই বলে আসছিল যে বিমান ছিনতাই ঘটনায় রিয়াদ কোনো ধরনের সহায়তা করেছিল এমন প্রমাণ নেই। -খবর বিবিসি অনলাইনের। কিন্তু বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস বলেছেন, ২০১৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটির যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি আছে বলেই মনে করেন তিনি। সৌদি আরব ওই হামলায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে হামলাকারী ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি নাগরিক। ২০০১ সালে নাইন ইলেভেনের ওই হামলায় বিমান অপহরণকারীদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন সৌদি আরব থেকে এবং বারবার এমন সন্দেহ করা হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে সৌদি সরকারের একটি সংশ্লিষ্টতা ছিল। ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আর ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে চালানো আত্মঘাতী হামলায় সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার লোক নিহত হয়েছিলেন। দুটি বিমান আঘাত হেনেছিল টুইন টাওয়ারে, একটি পেন্টাগন আর চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলে। এর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তার ভাষায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করেন। গত ১০ বছরে আফগানিস্তান ও ইরাকে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে আমেরিকা, যার রেশ এখনও চলছে। ওই আক্রমণের জন্য আল কায়েদার সদস্যদের দায়ী করা হয় এবং আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন পরে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনাদের এক গোপন অভিযানে নিহত হন। নিউইয়র্কে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের দুটি টাওয়ার যেখানে ছিল সেই শূন্যস্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল দুটি জলাশয়, চারপাশে উৎকীর্ণ হয়েছে নিহতদের নাম।
পোল্যান্ড প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে
আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চলেছে ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড। আর এ জন্য ৪৭৫ কোটি ডলারে মার্কিন রেথিয়ন কোম্পানি থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে আন্দ্রেজ দুদা'র সরকার। মূলত প্রতিবেশি দেশ পুতিনের রাশিয়াকে সামাল দিতেই নিজেদের প্রতিরক্ষা খাত আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করছে দেশটি। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন,এটি খুবই ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রযুক্তি, আধুনিক অস্ত্রসম্ভার ও প্রতিরক্ষার বিশ্বে পোল্যান্ডেরও সূচনা হলো। প্রসঙ্গত, রেথিয়নের সঙ্গে সম্পাদিত অস্ত্র কেনা চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ-যাবত্কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রয় চুক্তি। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল এবং অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দিক থেকে দেশটির প্রভাব বৃদ্ধির পর থেকেই নিজেদের অস্ত্রাগার ঢেলে সাজাচ্ছে পোল্যান্ড। দেশটির অস্ত্রাগারের দুই-তৃতীয়াংশ অস্ত্রই মস্কোর নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ওয়ারশ প্যাক্টের সময়ে। ১৯৫৫ সালের ১৪ মে চুক্তিটি সই হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র ক্রয় চুক্তির পর দেশটির সঙ্গে পোল্যান্ডের সম্পর্কে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে ওয়ারশ একটি বিল পাস করে, যেখানে বলা হয়, হলোকাস্টে পোল্যান্ডকে অভিযুক্ত করে কিছু বলা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলটি পাসের পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ ধরনের আইন বাকস্বাধীনতা বিঘ্নিত করে।
মার্কিন বিমানবন্দরে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর জ্যাকেট খুলে তল্লাশি
মার্কিন বিমানবন্দরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসিকে তল্লাশি করা হয়েছে। এক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অন্য দেশে গেলে বিমানবন্দরে তাদের যে ধরনের অভ্যর্থনা দেওয়া হয় আব্বাসিকে তার বিন্দুমাত্রও দেওয়া হয়নি। বরং মার্কিন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীরা তার জ্যাকেট খুলে সাধারণ যাত্রীদের মতো করেই তল্লাশি করেন। পরবর্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এতে দেখা যায় এক হাতে কোট, অন্য হাতে স্যুটকেস নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। জানা যায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসিকে। মার্কিন প্রশাসনের কেউই তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যাননি। বরং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীরা তার জ্যাকেট খুলে সাধারণ যাত্রীদের মতো করেই তল্লাশি করেন। এদিকে, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই ভাবে অপদস্থ হতে দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানের জনগণ। সে দেশের একটি টিভি চ্যানেলে ভিডিওটি পোস্ট করে মার্কিন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসিকে অপমান করা হয়েছে বলে দাবি তুলা হয়েছে। যদিও অপর মহল থেকে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভিডিওর ছবিতে দেখানো ব্যক্তি যে পাক প্রধানমন্ত্রী তার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। তবে ঘটনাটি যদি সত্যি হয় তাহলে এর বিরূপ প্রভাব কিছুটা হলেও আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্কে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মত দিয়েছে। এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান নাগরিকদের ভিসার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা চিন্তা ভাবনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মাঝে মধ্যেই পাকিস্তানকে জঙ্গিদের মদত না যোগানোর হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।
ফের ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকে পড়লো চিনা হেলিকপ্টার
ফের ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল চিনা সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। ডোকলামের তিক্ত সম্পর্কের রেশ কাটিয়ে ভারত এবং চিন ঘোষিত ভাবেই মতৈক্যের ক্ষেত্রগুলিকে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, পারস্পরিক স্নায়ুচাপও বহাল রাখছে দুদেশ। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, এশিয়ার দুটি শক্তিধর দেশের সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা এটাই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি মাসে এই নিয়ে দুবার (এর আগে ৮ মার্চ) চিনা সেনার হেলিকপ্টার ঢুকে পড়ল ভারতের আকাশসীমায়। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত কাল ভারত-চিন সীমান্তের চারটি পৃথক পৃথক ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকেছে চিনা কপ্টার। যার মধ্যে একটি হল উত্তরাখ-ের চামোলি জেলার বারাহোতি এলাকা, যেটি কি না কৌশলগত ভাবে ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডোকলামের মতোই চামোলির অধিকার নিয়েও চিনের সঙ্গে ভারতের মতভেদ রয়েছে। এই এলাকায় আইটিবিপি জওয়ানদের সেনার পোশাকে অথবা অস্ত্র নিয়ে টহল দেওয়ার প্রশ্নে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্য দিকে, এখানে চিনা সেনারও প্রবেশাধিকার নেই। এ হেন বারাহোতিতে চিনা সেনা কপ্টারের আকাশসীমা লঙ্ঘন নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লির। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, চিনা কপ্টার কিছু ক্ষণ ভারতীয় আকাশসীমায় চক্কর কেটে ফিরে যায়। সম্ভবত ওখানে ভারতীয় সেনার ছবি তোলাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া লাদাখের দুটি এলাকার উপরেও চক্কর কেটেছে চিনা কপ্টার। আগামী মাসে চিনে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে গত কালই তিনি বলেছেন,ডোকলামের মতো কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটলে তার জন্য প্রস্তুত ভারত। আমরা সেনার আধুনিকীকরণ চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের অখ-তা বজায় রাখা হবে। আকাশ এবং স্থলপথে চিনের বিরুদ্ধে স্নায়ুর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও চিনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে নয়াদিল্লি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা আধিপত্য খর্ব করার জন্য গত বছরেই জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এশিয়া আফ্রিকা গ্রোথ করিডর গড়ার বিষয় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ভারত। সম্প্রতি আসিয়ান-ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকেও পাশে টেনে এই করিডরে সামিল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সাউথ ব্লক। গত সপ্তাহে একটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ কথা জানিয়ে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিংহ বলেছেন, সমুদ্রপথে প্রত্যেকটি দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখন্ডের সীমারেখার প্রতি মান্যতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং পরিবেশ আইন মেনেই এই সংযোগ প্রকল্পটিতে এগোনো হবে।কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, চিনের ওবরমেগা প্রকল্প যাতে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত ভারসাম্য টলিয়ে না দেয়, সে জন্য আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের মতো দেশগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাইছে ভারত। এশিয়া-আফ্রিকা করিডর ওবর এর পাল্টা দেওয়ারই চেষ্টা।
মিয়ানমারজুড়ে সুচির পদত্যাগের গুঞ্জন
মিয়ানমারজুড়ে গুঞ্জন। অং সান সুচি সহসাই পদত্যাগ করবেন। কিন্তু এমন গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করেছেন সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির মুখপাত্র ইউ মিও নিউন্ট। এ খবর দিয়েছে মিয়ানমারের অনলাইন দ্য ইরাবতী। এতে বলা হয়, ইউ মিও নিউন্ট বলেছেন অং সান সুচি পদত্যাগ করবেন এমন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আমি বলছি, যদি দলীয় সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করেন তাহলে তিনি শিগগিরই অবসরে যেতে পারবেন। তিনি তো সব সময়ই এমনটা বলেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি সহসাই অবসরে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন এনএলডি দলের নির্বাহী কমিটিকে সুচি শনিবার বলেছেন- যদি সম্ভব হয় তাহলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এর জবাবে ইউ মিও নিউন্ট বলেছেন, ন্যাপিডতে যে বৈঠক হয়েছে শনিবার তা ছিল সামাজিক এক সমাবেশ। সেখানে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু আলোচনা করা হয়নি। এটা ছিল সাধারণ এক আলাপচারিতা। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সুচি অনেক আগে সাক্ষাৎ করেছেন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট সর্বোচ্চ পদে যাচ্ছেন। এসব কারণে দলের পুরনো ও নতুন নির্বাহীদের সঙ্গে ওটা ছিল সামাজিক এক সমাবেশ। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধন করে। এর অধীনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। তবে সামাজিক সমাবেশে যোগ দেয়া বৈধ। এনএলডির এমপি ইউ নাই মিও তুন বলেন, সুচিকে অবশ্যই দেশের নেতা থাকতে হবে। তার প্রভাব ও তার সক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন তাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা উচিত। আমি বিশ্বাস করি তিনি তা করবেন। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী সুচি। সেখানে তার শরীর শুকিয়ে গিয়েছিল। তিনি কথা পর্যন্ত বলতে পারছিলেন না। তাই বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন বিছানায় শুয়ে। এ কথা বলেছেন এনএলডির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইউ উইন হতেইন।
যেকোনো মুহুর্তে অবসরে যেতে পারেন অং সান সু চি
অবশেষে সরে দাঁড়াচ্ছেন মিয়ানমারের বহুল আলোচিত ডিফ্যাক্টো লিডার অং সান সু চি। তিনি যেকোনো মুহুর্তে অবসরে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কার্য নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে সু চি সম্ভব হলে নিজেকে সরিয়ে নিতে চান বলে জানানোর পর এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার এনএলডির এ তথ্য জানানো হলেও রোববার এনএলডির এক মুখপাত্র সু চির পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,খবর বেরিয়েছে যে অং সান সু চি অবসরে যাবেন। আমি বললাম, না। তবে দলের কর্মীরা যদি কঠোর পরিশ্রম করেন, তবেই তিনি অবসরে যাবেন। এটা তিনি (সু চি) সব সময়ই বলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তিনি শিগগিরই অবসরে যাবেন। এনএলডির মুখপাত্র শনিবারের বৈঠকের ব্যাপারে বলেন, নেইপিদোতে যে বৈঠক হয়েছে সেটি ছিল শুধুমাত্র সামাজিক সমাবেশ। বৈঠকে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এটি ছিল অনিয়মিত একটি আলোচনা। সিইসির সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে এ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ত দেশের শীর্ষ এ পদের দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা কার্যনির্বাহী কমিটির পুরনো এবং নতুন সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক আড্ডা দিয়েছি।