দিল্লিতে মৃত বেড়ে ৪২,আহত আরো ২০০ জন
২৮ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়া সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে পৌঁছেছে। এতে আহত হয়েছেন আরো ২০০ জন। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, বাড়িঘর, দোকানপাট ও যানবাহন। ভাংচুর করা হয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুলে। টানা কয়েকদিন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর শহরটিতে অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশ বিরাজ করেছে। স্থানীয় মসজিদগুলোয় শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। সংঘাতের সময় নিষ্ক্রিয়তার দায়ে অভিযুক্ত দিল্লি পুলিশ এদিন জনগণ ও সংবাদকর্মীদের প্রতি বক্তব্য দিতে আহ্বান জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে দ্য হিন্দু। খবরে বলা হয়, শুক্রবার দিল্লির উত্তরাংশের মসজিদগুলোয় শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতারা। এক ঘোষণায় মসজিদগুলো জনগণের প্রতি শান্তি রক্ষা করতে ও গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, সন্দেহজন ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে ঘোষণায়। এদিকে, গুরু তেজ হাসপাতালে শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দাঙ্গায় জখম হওয়া চার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালটি দাঙ্গায় নিহত হওয়া ২৫ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া, আরো ১৩ জন আহত অবস্থায় ভর্তি হওয়ার পর মারা গেছেন। অন্যদিকে লোক নায়েক হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে এমন আরো তিন জনের। জাগ প্রকাশ হাসপাতালে মারা গেছেন একজন। শুক্রবার শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি রেখেছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীগুলো। জুম্মার নামাজ উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় জীবনযাত্রা খানিকটা স্বাভাবিক হওয়া শুরু করলেও, বেশিরভাগ জায়গায়ই বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। সোমবার নিরাপত্তা রক্ষায় মোতায়েন করা হয় ৭ হাজার আধাসামরিক সেনা। দিল্লির সহিংসতায় কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও পুলিশের গাফিলতি তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এ নিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব সমালোচনা ‘ভুল ও অসত্য’। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংগঠনগুলোকে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, সহিংসতার সময় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার ও কিছু ক্ষেত্রে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে সমম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এই বাহিনীটি দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত। এটি সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহিতা করে। সহিংসতা থামাতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার জন্য সমালোচিত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহও। এছাড়া, দাঙ্গা নিয়ে অগ্রাহ্যতার অভিযোগে নিন্দিত হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এ সহিংসতা নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন তিন দিন পর। ততদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন মানুষ। এসব কারণে সরকারের সমালোচনা করেছে ইউএস কমিশন ফর ইন্টারন্যাশনাল রেলিজিয়াস ফ্রিডম, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নেতা ও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি, অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কোঅপারেশন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়,
আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারও নেই : আরএসএস
২৭ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দিল্লিতে শান্তি পুনর্স্থাপন নিশ্চিত করা সরকারের উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবকের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক সুরেশ ভাইয়াজি। গত কয়েকদিনের টানা সহিংসতায় বিধ্বস্ত দিল্লি পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। যদিও উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দিল্লির দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে দেশটির কিছু গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জোশি বলেছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারও নেই। যেসব এলাকায় অশান্তি বিরাজ করছে; সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের। রাজধানী নয়াদিল্লির উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে গত রোববার থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে বিক্ষোভ-সংঘাত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রুপ নেয়। আরএসএস ও স্থানীয় বিজেপির নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে সিএএ-বিরোধীদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়। এই দাঙ্গার সময় বেছে বেছে মুসলিমদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ও মসজিদে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে ইন্ডিয়া ট্যুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রুপ দেয়া বিজেপি-আরএসএসের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ। দেশটির জ্যেষ্ঠ এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ঘিরে উত্তরপূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আরও আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দিল্লির তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই আটজনকে নিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার রাত পর্যন্ত দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা ছিল ২৭; যাদের ২৫ জনই দিলশাদ গার্ডেনের জিটিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।- jagonews24
দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় শহরগুলোর রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে
২৪ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস আতংক কতটা জেঁকে বসেছে তা আক্রান্ত শহরগুলোর রাস্তায় বেরুলেই বোঝা যায়। রাস্তাঘাটে কেউ নেই, একদমই ফাঁকা। শিশুরা নেই, বয়স্ক লোকদেরও কাউকেই রাস্তাঘাটে দেখা যাচ্ছে না। গত দুই দিন ধরে এমন অবস্থা দেখছি - দেগু শহর থেকে বলছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় এই শহরে আছেন আট বছর ধরে, কাজ করেন একটি কারখানায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস বা কোভিড নাইনটিন সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে ৬ শতাধিক লোক - মারা গেছেন ৫ জন। সংক্রমিতদের একটা বড় অংশই এই দেগু শহরের। জিয়াউর রহমান বলেন, দেগুতে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে, এবং তাদের মধ্যে ফেসবুক বা অন্য উপায়ে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তাতে যেসব কথাবার্তা শুনছি - তাতে বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশিরা ভীষণভাবে আতংকিত। আজকে একটা শপিং মলে গিয়েছিলাম বাজার করতে। খাদ্যদ্রব্য তেমন একটা নেই। ফলমূলের অভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষজন আগেই সব কিনে ফেলেছে। বেচাকেনা মোটামুটি শেষ। হ্যান্ডওয়াশ কিনতে গিয়েছিলাম, পাইনি। ঘরে খাবার মজুতের প্রবণতা দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্য বাংলাদেশিদের মধ্যেও । দেগু থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের বুসান শহরে থাকেন এ জামান শাওন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন চার বছর ধরে। তিনিও বলছেন, বুসান শহরে ৬/৭ জন করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গতকাল পর্যন্ত জানা গেছে। শহরের রাস্তায় লোকজন কমে গেছে। লোকজনের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। অনেকেই দোকান থেকে নানা জিনিসপত্র কিনে ঘরে জমিয়ে রাখছেন। এ জামান শাওন বলছেন, তিনি নিজেও এক মাসের খাবার কিনে ঘরে জমিয়ে রেখেছেন, এবং তার পরিচিত অন্য অনেকেই এটা করেছেন। তিনি বলছেন, কর্তৃপক্ষ ১০ মিনিট পর পর মোবাইলে টেক্সট মেসেজ করে লোকজনকে নানা স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জানাচ্ছে। তবে দেগু থেকে জিয়াউর রহমান বলছেন, আমি অতটা করি নাই। শাকসব্জি তো আর কেনা যায় না। আলু বা মাছের মতো যা ফ্রিজে রাখা যায় - সেগুলো কিছু কিনেছি। আমি যে কারখানায় কাজ করি - তার কাছেই একটি এলাকা আছে সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার লোক বাস করে। সেখানকার কোন লোককে রাস্তায় বের হতে দেয়া হচ্ছে না। আপনি কি এ রোগের কথা ভেবে আতংকিত? এ প্রশ্ন করা হলে জিয়াউর রহমান বলেন,আতংক তো অবশ্যই আছে। তবে একদিন তো মৃত্যু হবেই - কিন্তু আমি যদি আক্রান্ত হই তাহলে আমাকে হয়তো এক মাস হাসপাতালে থাকতে হবে, তার মধ্যে রোগ না সারলে আরো এক মাস। আমি এ দেশে একা - সে জন্য এতদিন হাসপাতালে থাকার কথা ভেবে ভয় হচ্ছে। আল্লাহ না করুক, কোন প্রবাসী বাংলাদেশি যদি এখানে মারা যায় - তাহলে তার লাশটাও কিন্তু দেশে পাঠানোর কোন ব্যবস্থা নেই। এটাও একটা আতংক। আমি মনে মনে এটা চিন্তা করি। এটা একটা বিরাট জিনিস। এ অবস্থায় কিছুদিনের জন্য হলেও দেশে চলে যাবার চিন্তা করছেন কিনা - এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না আমি এরকম চিন্তা করি নাই। আমি এখানেই নিরাপদ থাকার চেষ্টা করবো। আমি আমার কাজের জায়গা থেকে এক কিলোমিটার দূরে থাকি। এই পথটা আমি সাইকেল চালিয়ে আসি। এই যাতায়াতটা আমার কাছে এক বিরাট আতংকের বিষয়। এই রাস্তাটুকুতে আমার কারো সাথে দেখা হলে কি হবে না হবে - এটা আমার এক বিরাট আতংক। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন বলছেন, এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আগামি কয়েকদিন কী ঘটে তা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান থেকে ৭শ নাগরিককে দ্রুত ফিরিয়ে নিচ্ছে কুয়েত
২৩ফেব্রুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের উহানে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবা পড়েছে ইরানেও। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইরানের ছয় নাগরিক মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আরও ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা শংকটাপন্ন। দেশটির কুয়াম থেকে বাবোল, আরাক, ইসফাহান ও রাশত অঞ্চলে ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে। এমনকি রাজধানী তেহরানেও কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মিনোও মোহরেজ। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে থাকা ৭শর বেশি নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে কুয়েত। ইতোমধ্যে শনিবার প্রথম পাঁচটি ফ্লাইটে ১৩০ জন যাত্রী কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। শনিবার কুয়েত এয়ারওয়েজ ও কুয়েত বার্তা সংস্থা (কুনা) এ তথ্য জানিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মিনোও মোহরেজ ইসলামি বলেছেন, ২৮ আক্রান্তের অধিকাংশই কুয়াম শহরের। শহরটি রাজধানী তেহরান থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে এটির অবস্থিত। তবে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ইরানের সব শহরে পাওয়া গেলেও অসম্ভব কিছু না। এমন পরিস্থিতিতে কুয়ামে সব ধরনের ধর্মীয় সমাবেশ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মোহরেজ বলেন, শহরগুলোতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে; এটা পরিষ্কার। কুয়ামে কাজ করা চীনা শ্রমিকরাই এই বিস্তারের মূল উৎস হতে পারেন। তারা নিয়মিত চীন ভ্রমণ করেন। এর আগে বুধবার মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে ইরানে দুজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার মৃত্যু হয় আরও দুজনের। পরে ইরানের মারকাজী প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর আরাকে শনিবার আরও এক করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যান।শনিবার নতুন করে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে এক নারী দেহে প্রথম কভিড-১৯ এর ভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর গত দেড় মাসে দ্রুত বিস্তার লাভ করে ভাইরাসটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ২৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ নামক রোগে এখন পর্যন্ত আক্রান্তেন সংখ্যা এখন ৭৬ হাজার ২৮৮ জন। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৩৪৫।
ইরানে সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরানের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুক্রবার তেহরান সময় রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। এর শুরু হয় ভোট গণনার কাজ। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করার কথা থাকলেও বিকেলের দিকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় সময় বাড়ায়। বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, প্রথমে দুই দফায় দুই ঘণ্টা করে এবং পরে দুই দফায় এক ঘণ্টা করে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হয়। এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এবারের নির্বাচনে ২৯০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে সাত হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইরানে প্রতি চার বছর পরপর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ইরানে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সি সব নাগরিক ভোট দিতে পারেন। ভোটগ্রহণের সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৮টায় ভোট দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একইদিন ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটাররা বিশেষজ্ঞ পরিষদের সাত সদস্যকে নির্বাচিত করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সারাদেশে তবে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোটগ্রহণ হয়েছে শুধুমাত্র তেহরান,কোম,উত্তর খোরাসান,খোরাসান রাজাভি এবং ফার্স প্রদেশে।
পাকিস্তানে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা, নিহত ৫
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:পাকিস্তানে এক হামলায় ৫ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশের তুরবাত এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরো তিন পুলিশ সদস্য। এ খবর দিয়েছে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। বৃহ¯পতিবার পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পুলিশও এর পাল্টা জবাব দেয়। এতে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উভয় দলের মধ্যে কয়েক ঘন্টা ব্যাপি গোলাগুলি হয়। এ নিয়ে একটি তদন্ত কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর একদিন পূর্বেই পাকিস্তানের কুলাচি তেহসিল জেলায় বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও ২ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই হামলাও পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ওই পুলিশ সদস্যরা পোলিও টিকাদানকারীদের নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন হেড কনস্টেবল। গত মাসেও দেশটিতে দুই নারী পোলিও কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে ইসলামপন্থি জঙ্গিরা।
করোনায় বিশ্বব্যাপী ১৭৭৫ জনের মৃত্যু
১৭ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল চীনে করোনাভাইরাসে আরও ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৭৭৫ জনে। হুবেইয়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সেখানে আরও ১০০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী হেনান প্রদেশে তিনজন এবং গুয়াংডং প্রদেশে দুইজন মারা গেছে। এদিকে চীনে নতুন করে আরও ২ হাজার ৪৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেলো। অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কারও শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সিঙ্গাপুরে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে পৌঁছার পর থেকেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্রিটিশ প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসে তিন শতাধিক যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। কোভিড-১৯ নামে পরিচিত এই ভাইরাসটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ২৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
চীনে করোনায় মৃত কয়েক হাজার দেহ পোড়ানোর অভিযোগ
১৬ফেব্রুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দেহ পুড়িয়ে ফেলছে চীন। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে অন্তত ১৫২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ও দ্য সান একটি স্যাটেলাইট ইমেজ তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ওই স্যাটেলাইট ইমেজ অনুযায়ী চীনের উহান এবং চংকিং শহরের ওপর সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা খুব বেশি ছিল। যখন কোনো মৃতদেহ পোড়ানো হয় তখন সালফার ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয় এবং তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া মেডিকেল বর্জ্য ভস্মীভূত করলেও সালফার ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। তাই পত্রিকা দুটি তাদের রিপোর্টে প্রশ্ন তুলেছে, এটাই কী চীনের করোনায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যার চিত্র। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইয়ুন নামে উহানের একজন দাহকর্মী বলেন, তারা মৃতদেহ পোড়াতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের তিনটি বড় হাসপাতাল ছাড়াও ছোট হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বাড়ি থেকে লাশ সংগ্রহ করতে তাদের প্রতিদিন ১০০টি মৃতদেহ বহনকারী ব্যাগের প্রয়োজন পড়ে। এপোক টাইমসকে ইয়ুন বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আমাদের ৯০ ভাগ কর্মী সপ্তাহের সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। আমরা বাড়ি যেতে পারিনি। আমাদের আরও লোকবল দরকার। উহানের সব ফিউনারেল হোমের প্রায় সব দাহকর্মী পুরোপুরি ব্যস্ত এবং উহানের সব দাহ চেম্বারে ২৪ ঘণ্টা মৃতদেহ পোড়ানো হচ্ছে। উইন্ডি ডট কম নামে একটি অনলাইন আবহাওয়া ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, উহানের বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১ হাজার ৩৫০ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার ছিল। উচ্চমাত্রায় সালফার ডাই অক্সাইড চংকিং শহরের বাতাসেও ছিল। যুক্তরাজ্যের কোনও অঞ্চলে বাতাসে ১৫ মিনিট ধরে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫৩৩ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার থাকলে তা উচ্চহার বলে ধরা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫০০ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার ১০ মিনিটের বেশি থাকা ঠিক না। এর ফলে স্যাটেলাইটের ওই ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বলছেন, উহানের শহরতলীতে অনেক মৃতদেহ পোড়ানো হচ্ছে। মূলত বড় জমায়েত এড়ানোর জন্য অল্পসংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে এসব দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এরপরই মূলত এসব খবর চাউর হয়েছে যে, মৃতের সংখ্যা কম দেখাতে মৃতদেহ পুড়িয়ে দিচ্ছে চীন। যদিও এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে চীনা কর্তৃপক্ষ, করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের দেহ পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এদিকে চীনা ভাষায় সংবাদমাধ্যম ইনিটিয়াম বলছে, তাদের বিশ্বাস চীনা সরকার গোপনে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলছে। উহানের দাহকর্মীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এমন বিশ্বাসের কথা পোষণ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ওই সাক্ষাৎকারের দাহকর্মীরা ইনিটিয়ামকে জানায়, মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার জন্য সঠিক ভৈরবের রাজকাচারী মাঠে দশদিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু একুশে বইমেলা চলছে। সরাসরি জানাচ্ছেন সহকর্মী মো. আল আমিন শনাক্তকরণ ও অফিসিয়াল রেকর্ড ছাড়াই সরাসরি হাসপাতাল থেকে তাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তবে ডয়চে ভেলে নিউজের পূর্ব এশিয়া সংবাদদাতা উইলিয়াম ইয়্যাং বলেছেন, চীন যে তথ্য শেয়ার করছে তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ ভাইরাসটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা যেমন স্বচ্ছতা দেখিয়েছে, তেমনি বেশ কিছু বিষয় নিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ও অসত্য তথ্য দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর