রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
সৌদি যুবরাজ সালমান নিহত!
সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বেশ কিছুদিন ধরে জনসম্মুখে অনুপস্থিত ইরানের বেশ কিছু গণমাধ্যমকে বিস্মিত করেছে। তাদের ধারণা, গত মাসে এক অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় তিনি নিহত হন। ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে এক হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলিতে সৌদি যুবরাজ সালমান নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আরব রাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তার কাছে আসা গোপন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইরানের কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দুটি বুলেট আঘাত হানে। তিনি হয়তো মারা গেছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এদিকে, প্রেস টিভি বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নজর দিয়ে জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এপ্রিলের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি সফরে গেলে তখনো যুবরাজ সালমানকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে যুবরাজ সালমানকে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু রিয়াদে ওই গোলাগুলির পর গত ২৭ দিন ধরে তাকে আর গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ সময় যুবরাজ সালমানের এমন অনুপস্থিতি তার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জেরুজালেমে ভয়াবহ সংঘর্ষ
লাখো মানুষের বিক্ষোভে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরাইলের অধিকৃত গাজা উপত্যকা। সীমান্তের বেশ কিছু পয়েন্টে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে সরাসরি গোলাবারুদ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। এতে অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের গ্রেট মার্চ রিটার্ন মুভমেন্ট এর অংশ হিসেবে সোমবার স্থানীয় সময় সকালে বিক্ষোভ করতে গেলে এ সংঘর্ষ হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার তেল আবিবের পরিবর্তে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সীমিত আকারে এ কার্যক্রম শুরুর দিন সেখানে উপস্থিত আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকা ট্রাম্প ও জামাত জ্যারেড কুশনার। স্থানীয় সাংবাদিক মারাম হুমাইদ বলেন, আজকের বিক্ষোভে যে পরিমাণ মানুষ অংশ নিয়েছে, তা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অকল্পনীয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল ফিলিস্তিনের থেকে ওই অঞ্চল দখলে নেয়ার পর থেকে ইসরাইলিরা এটিকে নাকবা বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করছেন। প্রতি বছর ১৫ ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার এ দিন ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরই বিক্ষোভ করে থাকে। এ বছর তার ঠিক একদিন আগে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেয়া ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
সরকার গঠনের সুযোগ চাইলেন মাহাথির দ্রুততম সময়ে
দ্রুততম সময়ে মালয়েশিয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের সুযোগ দাবি করেছেন নির্বাচনে বিজয়ী বিরোধী জোটের প্রধান ড. তুন মাহাথির মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, আইন অনুসারে তাৎক্ষণিকভাবে সরকার গঠনের অধিকার তার জোট পাকাতান হারাপানের। মাহাথির বলেন, আজই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চান তিনি। আর এ জন্য পার্লামেন্টে ২২২ আসনের মধ্যে ১১২ আসনে বিজয়ী হওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তার জোটের ১৩৫ আসনের সমর্থন রয়েছে। খবর সিএনবিসি অনলাইনের। বুধবার চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট বারিসান ন্যাশনালকে বড় ব্যবধানে হারায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের জোট। এর পর গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে ৯২ বছরের এ নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের রাজপ্রাসাদে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে তাকে মালয়েশিয়ার সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন রাজা। কিন্তু সকালে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এক সংবাদ সম্মেলনে এসে পরাজয় মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি রাজাই ঠিক করবেন বলে জানান তিনি। এর পর আজ মাহাথিরের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে যায়। বিশেষ করে রাজপ্রাসাদ থেকে বলা হয়, আজ নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানের কোনো কর্মসূচি নেই। এর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মাহাথির বলেন, সংবিধান বোঝাপড়ায় ঘাটতির কারণে সেখানে কিছু বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে একটি অত্যাবশ্যকীয়তা রয়েছে। আমাদের আজ এখনই সরকার গঠন করা দরকার।মালয়েশিয়ায় বর্তমানে কোনো সরকার নেই বলেই তার শপথ নেয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন মাহাথির। বিজয়ী জোট পাকাতান হারাপানের ঘোষণা অনুযায়ী, মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তার সঙ্গে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসবেন পিকেআর দলের প্রধান ডা. আজিজাহ। তিনি মাহাথিরের এক সময়ে সহযোগী ও সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহধর্মিণী।
কি ভয়ঙ্কর আগুনের স্রোত
জ্বলন্ত এক অগ্নিকুন্ডে রূপ নিচ্ছে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ড। সেখানে কিলাউয়া আগ্নেয়গিরি থেকে উৎক্ষিপ্ত লাভা গ্রাস করে নিচ্ছে সব। চারদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু অগ্নিকুন্ড। তাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে গাছপালা, লোকালয়। রাস্তার ওপর দিয়ে সমুদ্রের স্রোতের মতো কখনো ধীর গতিতে, কখনো দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে সেই লাভার স্রোত। এতে এরই মধ্যে ৩৫টি বাড়ি ও দালান ধ্বংস হয়েছে। বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে ১৭০০ মানুষ। বৃহস্পতিবার কিলাউয়া আগ্নেয়গিরি থেকে শুরু হয় অগ্নুৎপাত। চারদিকে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে লাভা। বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের গন্ধ। ফলে বিগ আইল্যান্ডে মানুষ বসবাস করা এক দুঃসাধ্য বিষয় হয়ে ওঠে। পাহাড়ের নিচ থেকে গলিত পাথর তরল লাভা হিসেবে বেরিয়ে এসে যে দৃশ্য সৃষ্টি করেছে তাতে এক ধ্বংসলীলা চারদিকে। এমন অনেক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমা মিডিয়ায়। তার একটিতে দেখা যাচ্ছে রাস্তায় পার্ক করা গাড়িকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে লাভার স্রোত। এক পর্যায়ে ওই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে তা হারিয়ে যায় লাভার নিচে। এসব কারণে লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাওয়াই কাউন্টি সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইটে সতর্কতা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মুহূর্তের নোটিশে বাড়িঘর থেকে লোকজন উদ্ধারে প্রস্তুত থাকুন। দ্বিতীয় এলাকা লানিপুনা গার্ডেনের অধিবাসীদেরকে সোমবারও তাদের বাড়িঘরে ফেরত যেতে দেয়া হয় নি।
সিলেটের ৭ কাউন্সিলর নির্বাচিত যুক্তরাজ্যে
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার সাতজন প্রবাসী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন পুনর্নির্বাচিত ও তিনজন প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৩ মে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ ফলের খবর পৌঁছানোর পর প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথের সর্বত্র আনন্দের বন্যা বইছে। খবর ইউএনবির। বিশ্বনাথের হাজারীগাঁও গ্রামের মনোয়ার হোসেন ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম এশিয়ান কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টির যে সূচনা করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় তার বাংলাদেশি উত্তরসূরিরা এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বনাথের আয়েশা চৌধুরী রাখি প্রথম বিশ্বনাথী নারী হিসেবে ১৯৯৪ সালে নিউহাম কাউন্সিলে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। আর ২০০৪ সালে ওল্ডহাম মেট্রোপলিটন বরা কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন বিশ্বনাথের আবদুল জব্বার। পরে ২০০৯ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন বিশ্বনাথের রোশনারা আলী। পর পর তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়ে বিলাতের মাটিতে বাংলাদেশকে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বিশ্বনাথের পল্লীগাঁয়ে জন্ম নেয়া রোশনারা আলী। গত ৩ মে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এবার রেকর্ডসংখ্যক বিশ্বনাথের সাত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে তিনজন, নিউহাম কাউন্সিলে দুজন, ওল্ডহাম ও সাউথ ওয়ার্ক কাউন্সিলে একজন করে নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ছয়জন পুরুষ একজন নারী। বিশ্বনাথ উপজেলার ৬নং বিশ্বনাথ ইউনিয়নের উত্তর ধর্মদা গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলাম এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বেথনাল গ্রিন ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র। উপজেলার ৭নং দেওকলস ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের আয়েশা চৌধুরী রাখি এবার নিয়ে পঞ্চমবারের মতো নিউহাম কাউন্সিলের বেকটন ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের আবদুল মালিক এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ওল্ডহাম কাউন্সিলের কোল্ড হার্সট ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বনাথ উপজেলার ৮নং দশঘর ইউনিয়নের ধরারাই গ্রামের চ্যার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আয়াছ মিয়া এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এসটি ডানসটানস্ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার। উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের বাহাড়া দুবাগ গ্রামের ব্যারিস্টার নাজির আহমদ প্রথমবারের মতো নিউহাম কাউন্সিলের ইলফোর্ড ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বনাথ উপজেলার ৪নং রামপাশা ইউনিয়নের ইলামেরগাঁও গ্রামের শাহ সুহেল আমিনও এবারই প্রথম টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোয়াইট চ্যাপেল ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিশ্বনাথ উপজেলার ৬নং বিশ্বনাথ ইউনিয়নের রজকপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামও সাউথ ওয়ার্ক থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
গত বছরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় হয়েছে
স্নায়ুযুদ্ধের পর দুই মেরুর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় হয়েছে ২০১৭ সালে। ওই বছর বিশ্বে অস্ত্রের কেনাকাটা হয়েছে ১ হাজার ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারের। ১৯৯৯ থেকে ২০১১ এই ১২ বছরে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা গেলেও ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যয় কম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০১৭ থেকে ব্যয় বাড়ানো শুরু করে দেশগুলো। সুইডেনভিত্তিক সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিচার্স ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) সিপ্রি এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০১৭ বিশ্বে সামরিক ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। আর দেশভিত্তিক ব্যয়ে শীর্ষে যথারীতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই চীন। তৃতীয় স্থানের দেশটি কিছুটা চমক জাগানো। নানা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া সৌদি আরব আছে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের পরে। এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সামরিক ব্যয়ের ৩৫ শতাংশই করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। গত বছর তাদের ব্যয় ছিল ৬১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। তালিকায় দ্বিতীয় থেকে অষ্টম স্থান পর্যন্ত দেশগুলোর সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র একাই। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বছরও উল্লেখযোগ্য হারে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধিতে সেরা চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন গত বছর ব্যয় করেছে ২২ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এসআইপিআরআইয়ের মতে, ২০০৮ সালে চীন বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ১৩ শতাংশ করত। কিন্তু ২০১৭ সালে দেশটি এ খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করেছে। সামরিক ব্যয়ের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা নামটি একটু চমক জাগানিয়াই। কারণ রাশিয়াকে হটিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশ সৌদি আরব। গত বছর দেশটি অস্ত্র কিনতে ব্যয় করেছে ৬ হাজার ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার। রাশিয়ার সামরিক ব্যয় গত বছর কমিয়েছে। এ কমানোর হার ২০ শতাংশ। গত বছর পুতিনের রাশিয়া ব্যয় করেছে ৬ হাজার ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বলা হচ্ছে, রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেশটির ব্যয় সামরিক খাতে কমেছে। রাশিয়ার পরের দেশগুলো হলো ভারত, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া। ভারত ২০১৭ সালে সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ৬ হাজার ৩৯০ কোটি মার্কিন ডলার। ফ্রান্স এ খাতে ব্যয় করেছে ৫ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। ব্রিটেন সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৭৭২ কোটি মার্কিন ডলার। জাপানের সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার। ৪ হাজার ৪৪৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে জার্মানি আর সেরা দশের শেষ স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যয় এ খাতে ৩ হাজার ৯৯২ কোটি মার্কিন ডলার। ১১ থেকে ১৫ নম্বরের দেশগুলো হলো ব্রাজিল, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও তুরস্ক। সামরিক খাতের ব্যয়ের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের শীর্ষ ১৫টি দেশ ২০১৬ সালেও শীর্ষ ১৫ তে ছিল।
বেসামরিক লোকদের রক্ষায় জাতিসংঘের আহ্বান মিয়ানমারের কাচিনে
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাচিন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি ওই প্রদেশে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ১০ বেসামরিক মানুষকে হত্যা, বহু হতাহত এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি জানান, তিনি রিপোর্ট পেয়েছেন যে, কাচিন প্রদেশের চীন সীমান্তে বেসামরিক লোকজনের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বোমাবর্ষণের পাশাপাশি ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণও করেছে। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাচীন প্রদেশে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এখনই তা বন্ধ হওয়া উচিত। লি আরও বলেন, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, অনেকে আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দ্বন্দ্বের সময় বেসামরিক নাগরিকরা অবশ্যই সহিংসতার সম্মুখীন হবে না। তাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য সব পক্ষকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মঙ্গলবার জেনেভা থেকে ইউএনবির হাতে আসা বার্তানুসারে, গত মার্চে জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদকে লি জানান যে, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা নিয়ে সারা বিশ্বের মনোযোগের মধ্যেই কাচিনসহ অন্যান্য অঞ্চলে সহিংসতা বাড়ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, গত তিন সপ্তাহে পাঁচ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ চীন সীমান্তের কাছের গ্রামগুলো থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। লি জানান, তিনি এও রিপোর্ট পেয়েছেন যে কাচিনের ম্যানও নামক গ্রামে প্রায় তিন সপ্তাহ কোনো খাদ্যদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে পারেনি মিয়ানমারের রেডক্রস। কোনো প্রকার খাদ্য, ওষুধসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি দ্রব্যাদি সরবরাহে বাধা প্রদান করে ১০০ জনেরও অধিক বেসামরিক ব্যক্তিকে বন্দি করা হয়েছিল।
ভারত-পাকিস্তান কেন পারবে না-কোরিয়া পারলে
দুই কোরিয়ার অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ ছাপ ফেলল উপমহাদেশেও। দশকের পর দশক ধরে পরস্পরকে যুদ্ধের হুঙ্কার শোনাতে থাকা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া অত্যন্ত দ্রুত বদলে ফেলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি। কিম জং-উন এবং মুন জায়ে-ইনের বৈঠকের পরে বেনজির সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে। তার প্রেক্ষিতেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন, ভারত-পাকিস্তান কেন এই ভাবে এগোতে পারবে না পরস্পরের দিকে? কেন হাত মেলাতে পারবেন না মোদি-আব্বাসি? উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে সমঝোতা গ্রাম পানমুনজমে কয়েকদিন আগে যে ছবি তৈরি হয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচিতে তার কোনও সংস্থানই ছিল না। দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন সীমান্তের নিচু কংক্রিট বাউন্ডারির ধারে পৌঁছতেই, হাত বাড়িয়ে দেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন। প্রথমে করমর্দন করেন, তার পরে হাত ধরে টেনে নিজের দেশে ঢুকিয়ে নেন মুনকে, ঘুরিয়ে আনেন উত্তর কোরিয়ার কিছুটা ভিতরের দিক থেকে। পানমুনজমে কিম এবং মুনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ঠিকই। কিন্তু কিমের হাত ধরে উত্তর কোরিয়ার ভিতর দিকে ঢুকে যাবেন মুন, অভূতপূর্ব সম্প্রীতির ছবি তৈরি হবে, এমনটা বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। দুই শাসকের বৈঠকেই কিন্তু শেষ হয়নি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া। বৈঠকের পর থেকে দুই কোরিয়া পরস্পরের প্রতি একের পর এক সৌজন্যমূলক বার্তা দিতে শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া নিজেদের ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার টাইম জোনের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সময়কে। আর সীমান্তে লাউড স্পিকার লাগিয়ে উত্তরের কমিউনিস্ট রাজত্বের বিরুদ্ধে অবিরত যে প্রচার চালাত দক্ষিণ, সেই প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লাউডস্পিকার। কোরীয় উপদ্বীপের এই ছবি তুলে ধরে পাকিস্তানের ডন নিউজ লিখেছে, ভারত এবং পাকিস্তানেরও উচিত এই পথই ধরা। দীর্ঘ দিনের সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য মিল ভারত ও পাকিস্তানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে যে অভিন্ন ইতিহাস এবং অভিন্ন স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দিয়েছে, তাতে সম্পর্কে স্বাভাবিকতা এবং শান্তি ফেরানো এই অঞ্চলের সবচেয়ে মহান লক্ষ্য। যে সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে ডন তাতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর লাহৌর সফরের স্মৃতিচারণও করা হয়েছে। কিম জং-উন এবং মুন জায়ে-ইনের বৈঠক অবধারিত ভাবে ১৯৯৯ সালের সেই অভূতপূর্ব আশা-আকাঙ্খার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক সফরে পাকিস্তানের লাহৌরে পা রেখেছিলেন এমনই লেখা হয়েছে পাক সংবাদমাধ্যমে। দুই কোরিয়াকে দেখে ভারত এবং পাকিস্তানের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মত ডন-এর। সেখানে লেখা হয়েছে, আরও এক বার শান্তি ও মৈত্রীর পথে হাঁটুক ভারত এবং পাকিস্তানের নেতৃত্ব, সেই সময় এসে গেছে।
পদত্যাগ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অভিবাসন বিতর্কে বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রোরবার রাতে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। খবর বিবিসির। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন। থেরেসা মে বলেন,দুঃখিত, আমাকে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে হচ্ছে। কী কারণে রুড পদ্যতাগপত্র দিয়েছে সেটাও বুঝতে পেরেছি। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার বিষয়ে পার্লামেন্টকে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের (উইন্ডরাশ জেনারেশন) বৃটেন থেকে তাড়ানোর বিষয়ে রুডকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন পার্লামেন্টের এমপিরা। সে সময় রুড বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কিন্তু গার্ডিয়ানের ফাঁস করা এক ইমেইলে দেখা যায় যে, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।