রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
আসারাম বাপু ধর্ষণকে পাপ বলে মনে করতেন না
ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনকে পাপ বলে মনে করতেন না স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। তার মতো মহাজ্ঞানী পুরুষ কোনও নারীকে যৌন নির্যাতন করলে তা পাপ বলে গণ্য হবে না বলে মনে করতেন তিনি। রাহুল কে সাচার নামে আসারামের আশ্রমের এক ভক্ত আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এ কথা সরকারি আইনজীবীকে জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি জোধপুরের আদালত এক নাবিলকাকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করে আসারামকে। যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাও শোনানো হয়েছে তাকে। এ খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অফ ইন্ডিয়া। রাহুলকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, আসারামের কুঠিতে এক সময় ঢোকার অধিকার ছিল তার। ২০০৩ সালে পুষ্কর, ভিওয়ানি আর অমদাবাদের তিনটি আশ্রমে মেয়েদের যৌন নির্যাতন হতে দেখেন তিনি। এ সব কাজে আসারামকে আশ্রমেরই তিন মহিলা ভক্ত সাহায্য করত। ধর্ষণের ফলে কোনও মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আসারাম ঘনিষ্ঠ ওই তিন মহিলা গর্ভপাতের ব্যবস্থাও করত। আশ্রমের ঘরে মেয়েদের ডাকতে ওই তিন মহিলা সহযোগীকে টর্চের মাধ্যমে সঙ্কেতও পাঠাত আসারাম। রাহুলের দাবি, আসারামের মতো এক জন ধর্মগুরু এভাবে নারী নির্যাতন করছে দেখে তাকে চিঠি দিয়েছিলেন রাহুল। পরিণামে তাকে আশ্রম থেকে বের করে দেয়া হয়। পুলিশের সাহায্য নিতে গেলে রাহুলের উপর হামলাও চালানো হয়। আসারামের দশ হাজার কোটির সম্পত্তির দেখাশোনার ভার নিয়েছেন মেয়ে ভারতীশ্রী। আসারামের একমাত্র ছেলে নারায়ণ সাই-ও ধর্ষণের অভিযোগে জেলে। কয়েক বছর আগে থেকেই পারিবারিক ব্যবসার দেখভাল করে আসছেন আসারাম-কন্যা। ২০১৩ সালে আসারামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরে ভারতীশ্রী আর তাঁর মা-কেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তারা জামিন পান। অলৌকিক ও অতিপ্রাকৃতর বাইরে ২০১৩ সালে জেলে গিয়েছিলেন আসারাম। কিন্তু তাতেও তার সমর্থকদের মধ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধার কমতি দেখা যায়নি। এর পেছনে কাজ করেছে বেশকিছু গুজব। সমর্থকদের অনেকের বিশ্বাস আসারাম অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। আসারামের দাবি, তিনি অসাধারন অলৌকিক কাজ করতে পারেন। এমন দাবির মধ্যে, ভারী বর্ষণ থামিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে কারো চিন্তা ভাবনা পড়া, এমনকি মৃত্যুপথযাত্রী অসুস্থ রোগী সুস্থ করে তোলাও রয়েছে। এসব গল্পই এতদিন ধরে তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার আশ্রমে আনাগোনা অব্যাহত রেখেছেন হাজার হাজার সমর্থক। উদাহরণস্বরূপ, তার আশ্রমের আভ্যন্তরীণ ম্যাগাজিন, রিশি প্রসাদের অনলাইন সংস্করণের ২৯৭ নম্বর ইস্যুতে একটি নিবন্ধের শিরোণাম ছিল এমন এমনকি মেঘেরাও তার আদেশ মানে। ম্যাগাজিনটির ২৯৯ নম্বর ইস্যুতে প্রকাশিত অপর এক নিবন্ধে আসারামের এক ভক্ত এমন এক ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়, যেটায় আসারাম, মাখনের বল ব্যবহার করে তার অল্প বয়স্ক ছেলের বাকরোধ রোগ সারিয়ে দেন। জোধপুর পুলিশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আসারামের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা থাকার দাবিই তার সমর্থকদের একজোট রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারা বলেন, আমরা যখন তাকে একটি ভাজরায়(দাঙ্গা বিরোধী যান) করে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তার ভক্তরা গাড়ির সামনে গড়িয়ে পড়ত, শুধুমাত্র তাকে এক পলক দেখার জন্য। তাদেরকে এমন শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, গুরুর নৈকট্য তাদের জীবন পাল্টে দিতে পারে।
গভীর উদ্বেগ চীনের যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়ার সংলাপ নিয়ে
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সমঝোতা সংলাপ অত্যাসন্ন। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে চীন। তারা মনে করছে এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে চীনের বলয় থেকে বের করে নিচ্ছে নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক রক্তের। কোরিয়ান যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে মাও সেতুংয়ের ছেলে সহ কমপক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার চীনা সেনা নিহত হয়েছেন। তারপরও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক অতোটা স্বাভাবিক নয়। ব্যবসা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সমর্থনের জন্য বেইজিংয়ের ওপর নির্ভর করে পিয়ংইয়ং। তা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেক বেশি বড় দেশ চীনের ওপর লিটল ব্রাদারসুলব মনোভাব পোষণ করে থাকে উত্তর কোরিয়া। সেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এখন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাকে নিয়ে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। ফলে এতদিনের রকেট ম্যান এখন বড় মাপের একজন রাজনীতিকের তকমা পেতে চলেছেন। প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ও ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এতেই চীনের উদ্বেগ বেড়েছে। তারা মনে করছে এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের বলয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিম জং উনকে আলোচনার টেবিলে ফেরত আনতে চীনের অর্থনৈতিক চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে বেইজিং এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে, কিম জং উন হয়তো এমন চুক্তি করতে যাচ্ছেন, যাতে তাদের পুরনো শত্রুরা ঘনিষ্ঠ হবে। বেইজিংয়ে টিঙ্গহুয়া কারনেজ সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির পারমাণবিক নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তোং ঝাও বলেছেন, চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম একটি উৎকণ্ঠা রয়েছে। তা হলো, হয়তো পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকারী উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের মিত্র বলে মেনে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। না হয় তাদেরকে একটি বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এমন যদি হয় তাহলে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার টান টান কূটনৈতিক সম্পর্কে আরো টান ধরতে পারে। কারণ, বাণিজ্যে করআরোপ নিয়ে এরই মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হয়ে গেছে।
কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট কানেল,ক্যাস্ট্রো যুগের অবসান
কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। এর মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ ক্যাস্ট্রো যুগের অবসান হলো। বুধবার কিউবার পার্লামেন্টের সদস্যরা ভোটদানের মাধ্যমে ৫৭ বছর বয়সী ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কানেলকে ক্যাস্ট্রোর উত্তরাধিকার হিসেবে নির্বাচন করেন। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রাউল ক্যাস্ট্রো। পদত্যাগ করলেও, কিউবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাউল ক্যাস্ট্রোর হাতেই থাকছে। ২০০৬ সালে ফিদেল ক্যাস্ট্রো ক্ষমতা ছাড়লে সমাজতান্ত্রিক কিউবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রো। কিউবায় দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে শাসন করেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো ও তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রো।
বাংলাদেশিসহ ছয়দিনে গ্রেফতার ২২৫ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে !
যুক্তরাষ্ট্রে গত ছয়দিনে বাংলাদেশিসহ ৫২টি দেশের ২'শ ২৫ জন অবৈধ অভিবাসীসহ বিভিন্ন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছেন দেশটির ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এন্সফোর্সমেন্ট আ.ই.স। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক, লংআইল্যান্ড, এবং হাডসন ভ্যালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা। আটকৃতরা অবৈধ অস্ত্র বহন, যৌন নির্যাতন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত। নিউইয়র্ক আই.সি.এ'র এক কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় প্রশাসনের নীতিমালার কারণে বহিষ্কারাভিযানে নানা বাধা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রমে এ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গাল্ফ শিল্ড-১ এর যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেছেন সৌদিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সৌদি আরবের দাম্মামে ২৪ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গাল্ফ শিল্ড-১ এর যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে সামরিক মহড়ার সমাপনী পর্বে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। এই মহড়ায় ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি যোগ দেয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও। এই যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এর আমন্ত্রণে সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান সৌদি বাদশাহ। কর্মসূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত এই মহড়া পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, সৌদি আরবের কর্মসূচি শেষে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ এর সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর প্রধানমন্ত্রী সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন সেনারা সিরিয়া ছাড়বে না-লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত
লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনারা সিরিয়া ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। সেই সঙ্গে সিরিয়ায় আবারও হামলা চালাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। রোববার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হ্যালি বলেন, সিরিয়ায় নিযুক্ত দুই হাজার মার্কিন সেনা এখনই দেশে ফিরবে না। এর আগে শনিবার রাশিয়ার আহ্বানে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তিনি বলেন, আসাদ সরকার সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা চালালে, দেশটিতে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এদিকে, রাসায়নিক হামলার অভিযোগের তদন্ত ছাড়াই মার্কিন মিত্রদের সিরিয়ায় হামলাকে ''গুণ্ডামি'' এবং ''আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন'' উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। এরই মধ্যেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বলেছেন, পশ্চিমা জোটের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সিরিয়াকে দুর্বল নয় বরং দৃঢ়তা আরও বাড়াবে। এছাড়া বিদ্রোহী দমনে এক ইঞ্চিও ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
শেষ ধাপের অপেক্ষায় ব্রহ্মোস মিসাইল,ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ভারত
আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ব্যস্ত। আর তারই জের ধরে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা করা হবে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল। ২০১৭ সালের নভেম্বরে এটি পরীক্ষা করা হয় তবে সমুদ্রে টার্গেটের বিরুদ্ধে। আর এবার লক্ষ্য ল্যান্ড টার্গেট। এ ব্যাপারে ব্রহ্মোস আ্যারোস্পেসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সু-৩০এমকেআই ফাইটার জেট থেকে ব্রহ্মোস মিসাইল এই পরীক্ষায় সফল হলেই যাবতীয় পরীক্ষার শেষ ধাপে এটি চলে আসবে। তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালের নভেম্বরের ফলাফল দেখে বলা যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। সমুদ্রে এবং স্থলে এই মিসাইলের পরীক্ষা সম্পূর্ণ হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে একে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। উল্লেখ্য, বেশি কিছুদিন আগেই ‘ব্রহ্মোস’ মিসাইলের সফল পরীক্ষা করেছে ভারত।
সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু ট্রাম্পের নির্দেশে
সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে একযোগে অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। হামলার ঘটনায় সিরীয় বিমানবাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রাসায়নিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে সিরিয়ায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। খবর বিবিসির গত সপ্তাহে সিরিয়ার দুমা এলাকায় রাসায়নিক হামলার পর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার সবসময়ই দুমায় রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া এ হামলার বিরোধিতা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের ঘাঁটিতে সেনা হামলার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই হামলা চালানো হচ্ছে। সিরিয়া যতক্ষণ পর্যন্ত এই অবৈধ রাসায়নিক হামলা বন্ধ না করবে, আমরা তাদের ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত আছি। এ হামলায় যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, হামলা চালানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র চারটি টর্নেডো জেট বিমান দিয়ে হোমস শহরের কাছে একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘাঁটিতে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি সিরিয়া নিয়েই হবে !
চারদিকে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। কি ঘটতে যাচ্ছে সিরিয়ায়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত হামলা চালাতে। প্রস্তুত ফ্রান্স। প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃটেন। রাশিয়ার তরফ থেকে সতর্কতা দেয়া হয়েছে। কোন দিকে মোড় নেবে সিরিয়া যুদ্ধ! তবে কি এখান থেকেই শুরু হবে এ শতকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সিরিয়ার আকাশসীমায় এতগুলো দেশের যুদ্ধবিমান যখন গর্জন করবে তখন একটির সঙ্গে আরেকটির টক্কর লেগে গেলেই সূচনা হতে পারে এমন যুদ্ধ। আর তার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া নামের যে একটি দেশ ছিল, তাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ছিল তা হতে পারে বিপন্ন। এখনই তো সিরিয়া বলতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ধ্বংসস্তূপ। চারদিকে লাশের সারি। পচে যাওয়া, পরিত্যক্ত লাশের গন্ধে ভারি হয়েছে বাতাস। হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে আহতদের সামাল দিতে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বেসামরিক লোকজনের ওপর রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালিয়েছেন, এই অভিযোগে তার ওপর তীব্র আক্রমণ চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স। তার সঙ্গে যোগ দেবে বৃটেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পদক্ষেপে তারা সহযোগিতা করবেন। এ জন্য তিনি সিনিয়র মন্ত্রীদের এক বৈঠক আহ্বান করেছেন। বুধবার রাতে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো নিয়ে হাউস অব কমন্সে ভোটের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তেরেসা মে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে কয়েকদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ হামলায় অংশ নিতে মন্ত্রীদের সমর্থন চেয়েছেন তিনি। এ জন্য ডাউনিং স্ট্রিটে তাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। তেরেসা মে বলেছেন, রাসায়নিক গ্যাস হামলাকে কোনো জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে না। দামেস্কের কাছে শনিবার যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তার জন্য দায়ী বাশার আল আসাদের বাহিনী। ওদিকে বৃটেনের সেনা প্রধানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৃটিশ সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজকে প্রস্তুত থাকতে। বলা হয়েছে, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সম্বলিত এসব সাবমেরিনকে সিরিয়ার কাছাকাছি ছুটে গিয়ে অবস্থান নিতে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রবল আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেউ পিছু হটছে না। আর সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন নেই বলেই বিশ্বাস করছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। ওদিকে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার কথা বলে বুধবার নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতিকে উত্তেজনাকর করে তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চমৎকার ও সুন্দর স্মার্ট ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র আসছে। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ না নিতে আহ্বান জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিনকে। ওদিকে লেবাননে অবস্থানরত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যদি সিরিয়ার ক্ষমতাসীন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো হামলা হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজকে টার্গেট করতে প্রস্তুত তার দেশ। যদি এমনটাই হয় তাহলে তা সিরিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নতুন এক মাত্রা পাবে। এমন কি তা তৃতীয় বিশ্বযুুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক সিনিয়র সেনা কমান্ডার স্যার রিচার্ড ব্যারোনস। সিরিয়ায় এমন হস্তক্ষেপেরা বিপদ সম্পর্কে তেরেসা মেকে সতর্ক করেছেন হাউস অব কমন্সের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির চেয়ার জুলিয়ান লুইস। এমনতরো মনোভাব পোষণ করেন আরো অনেক এমপি। ওদিকে সর্বশেষ যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে বলা হচ্ছে, সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে রয়েল এয়ার ফোর্সের যেসব বৃটিশ সেনারা অবস্থান করছেন তারা ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক ফোর্স উপসাগরমুখে যাত্রা করেছে। এটি যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম। অন্যদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীও তাদের এয়ার ইউনিটগুলো নতুন করে সাজানো শুরু করেছে। রাশিয়ার সেনাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে দুমাতে।