মালদ্বীপে কমছে কাজের ক্ষেত্র ফিরতে হতে পারে বহু কর্মীকে
মালদ্বীপ সঙ্কটে বাংলাদেশী কর্মীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়তে যাচ্ছেন। দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারির পর থেকে বিদেশী কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশী বহুকর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে অবৈধ কর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। এখন তাদের জমানো টাকা খরচ করে চলতে হচ্ছে। কাজে যেতে না পারলে অল্পদিনের মধ্যে তারা আরও খারাপ পরিস্থিতির শিকার হবেন। এমন অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ থেকে বহু কর্মীকে দেশে ফিরতে হতে পারে। এদিকে মালদ্বীপ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র মালদ্বীপের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির চিন্তা করছে। যদি সীমিত আকারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলেও দেশটির অর্থনীতিতে চরম চাপ সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হলে হাজার হাজার বিদেশী কর্মীদের চাকরি এমনিতেই চলে যাবে। বাংলাদেশের প্রায় এক লাখ কর্মী দেশটিতে বর্তমানে কাজ করছেন। মালদ্বীপ সঙ্কট নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালদ্বীপ পরিস্থিতি সব সময় মনিটর করা হচ্ছে। দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বক্ষণিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দূতাবাস নির্দেশগুলো যথাযথভাবে পালন করেছে। দূতাবাস মালদ্বীপে বাংলাদেশী নাগরিকদের বিনা প্রয়োজনে বাইরে চলাফেরায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে কর্মীদের জন্য একটি হটলাইনও চালু করা হয়েছে। দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারির পর নিজ দেশের নাগরিক ও বিদেশী নাগরিকদের চলাফেরায় অনেক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সেনাবাহিনী। হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে কর্মীদের নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশটিতে বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী।
আগামী মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আটটি সদস্যদেশের ডাকে আগামী মঙ্গলবার রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী, সেটা এদিন নিরাপত্তা পরিষদের কাছে তুলে ধরার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির। নিউইয়র্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ছাড়াও অস্থায়ী পাঁচ সদস্যদেশ সুইডেন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কাজাখস্তান ও গিনি পরিষদকে বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানায়। নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার প্রায় তিন মাসের মাথায় ওই বৈঠক ডাকার অনুরোধ এল। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লাগাম টেনে ধরে রোহিঙ্গাদের তাদের আবাসে ফেরার পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত হলেও রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ম্যাসাকার ইন মিয়ানমার প্রকাশের ফলে জাতি হত্যার নতুন অকাট্য তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘ গত শুক্রবার রাতে জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নৃশংসভাবে হত্যার পর কবরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে সহিংসতার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আবার জোরালো হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক কমিটিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট-দলীয় সিনেট সদস্যের আনা একটি বিল ভোটাভুটির জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে। ভোটাভুটিতে পাস হলে এটি আইনে পরিণত হবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক রয়টার্সের প্রতিবেদন সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়টি আমরা জানি এবং এতে বিস্তারিতভাবে যা এসেছে তা অত্যন্ত ভয়ংকর। এটি আবারও রাখাইন রাজ্যের সব ধরনের সহিংসতা ও সেখানকার সব সম্প্রদায়ের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সীমিত আকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নিয়ে দ্য বার্মা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম অ্যাক্ট নামের একটি বিল অনুমোদন করেছে। এখন সেটি ভোটাভুটির জন্য সিনেটে উপস্থাপন করা হবে। মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান-দলীয় সিনেটের জন ম্যাককেইন ও ডেমোক্র্যাট-দলীয় সিনেটর বেন কার্ডিনের প্রস্তাবটি বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে শুক্রবার পাস হয়েছে। প্রস্তাবটিতে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া এতে বলা হয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা সহিংসতা থামিয়েছেন এটি মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত না করা পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সহযোগিতা বন্ধ থাকবে। এদিকে মিয়ানমারের রোমান ক্যাথলিকদের কার্ডিনাল চার্লস বো মনে করেন, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা আর রাখাইনে না-ও ফিরতে পারে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতি নির্মূলের উপাদানের কারণে যে তারা পালিয়েছে তা এখন দৃশ্যমান। ফেরাতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। মানব পাচারবিষয়ক এক সম্মেলনে অংশ নিতে ভ্যাটিকানে গিয়ে চার্লস বো এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
অবশেষে বাজেট নিয়ে মার্কিন সিনেট নেতাদের সমঝোতা
মার্কিন সিনেট নেতারা বুধবার জানিয়েছেন, তারা ২০১৮ ও ২০১৯ সালের জন্য দ্বিদলীয় একটি বাজেট চুক্তি করেছেন। কংগ্রেসে এটি অনুমোদিত হলে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় অচল হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। চুক্তিটিকে ক্ষমতাসিন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটস উভয়ের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সরকারের ব্যয় সংক্রান্ত একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ পাসের ব্যাপারে কংগ্রেসের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পার হওয়ার প্রাক্কালে বাজেট নিয়ে এ সমঝোতা হলো। সহকারিরা জানান, ফেডারেল সরকারে বাজেট বিষয়ে মার্কিন সিনেট নেতারা সমঝোতায় পৌঁছানোয় ২০১১ সালের আইন অনুযায়ী এ সরকারের ব্যয়ের বিষয়ে যে সীমা নির্ধারিত ছিল তা দূর হয়ে যাবে। এর ফলে সামরিক ও বেসামরিক খাতে মোট ৩শ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দের বিষয়টি জোরদার হবে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি যে, আমেরিকার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর আরো অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে সামরিক বাহিনীর জন্য এটি হচ্ছে সবচেয়ে ভাল খবর। এ চুক্তি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ খাতের বরাদ্ধও নিশ্চিত করা হবে। অভ্যন্তরীণ খাতে দুর্যোগ, স্বাস্থ্য সেবা ও মহামারি মোকাবেলার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। আর এই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে ডেমোক্রেটরা চাপ দিয়ে আসছে।
ট্রাম্প উপদেষ্টার পদত্যাগ। অভিযোগ স্ত্রী নির্যাতন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক শীর্ষ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তার সাবেক দুই স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ আনলে তিনি পদত্যাগ করেন। পদছাড়ার পর ট্রাম্পের উপদেষ্টা রব পোর্টার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুরোদস্তুর মিথ্যা। ৪০ বছর বয়সী এ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তার সাবেক দুই স্ত্রী কলবি হোল্ডারনেস ও জেনিফার ইউলাগবি অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল প্রথম এ অভিযোগের কথা জানায়। যেখানে প্রথম স্ত্রী হোল্ডারনেস অভিযোগ করে বলেন, ২০০৩ সালে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে হানিমুনের সময় পোর্টার তাকে লাথি মেরেছিলেন। কয়েক বছর ইতালিতে ছুটি কাটাতে গেলে সেখানেও স্বামী তার মুখে ঘুষি মারেন। স্বামীর নির্যাতনের প্রমাণস্বরূপ নিজের কালো চোখের ছবিও গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছেন তিনি। পরের স্ত্রী উইলোবির সঙ্গে পোর্টারের সংসার শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। টিকেছিল ২০১৩ পর্যন্ত। অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে পরিচিত উইলোবি তার ওপর চালানো পোর্টারের নির্যাতন নিয়ে হোয়াই আই স্টেইড নামে ব্লগও লিখেছেন। উইলোবি জানান, ২০১০ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার বাড়ির দরজার কাঁচে পোর্টার ঘুষি মারার পর তিনি স্বামীর কাছ থেকে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সাবেক স্ত্রীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পোর্টার।
সীমান্তে রাশিয়ার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন
পূর্ব ইউরোপে রুশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে দেশটি। জানা গেছে, রাশিয়া সর্ব পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির শামানোভ বার্তা সংস্থা রিয়া নোভোস্তিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর জানিয়েছেন। তবে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কতদিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে তা তিনি জানাননি। শামানোভ বলেন, ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদেশি সামরিক স্থাপনাকে বাছাই করা হয়েছে। রাশিয়া এর আগেও একাধিকবার তার পশ্চিম সীমান্তে মার্কিন সেনা সমাবেশের জবাব দিতে কালিনিনগ্রাদে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত অথবা পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এদিকে রাশিয়ার এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট ডালিয়া গ্রিবুসকাইত। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া স্থায়ীভাবে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং ফলে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক দেশের রাজধানীর নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তবর্তী এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও পোল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। রাশিয়া নিজের দোরগোড়ায় পাশ্চাত্যের এ সেনা সমাবেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
মালদ্বীপে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি
মালদ্বীপে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের পক্ষে এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন আইনমন্ত্রী আজিমা শাকুর। পরে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মালদ্বীপের সরকার দেশের সব নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিশ্চয়তা দিচ্ছে, দেশের সব নাগরিক এবং এখানে বসবাসরত ও ভ্রমণরত সব বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলিও জরুরি অবস্থা জারির খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে সোমবার থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট। আর সংবিধানের ২৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংকট সমাধানের উপায় প্রস্তাব করে তা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে হবে। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) সাংসদ এভা আবদুল্লাহ বলেন, জরুরি অবস্থা জারি করা মরিয়া চেষ্টা। এতে বোঝা যায়, তিনি (প্রেসিডেন্ট) জনগণ, পার্লামেন্ট, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও আদালতের আস্থা -সবকিছু হারিয়েছেন। তাঁর এখনই পদত্যাগ করা উচিত। গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সন্ত্রাসবাদে জড়িত অভিযোগে কারাবন্দী বিরোধীদলীয় নয়জন নেতাকে মুক্তির আদেশ দেন। এঁদের মধ্যে বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদও রয়েছেন। এ ছাড়া বহিষ্কার করা ইয়ামিনের দলের ১২ জন আইনপ্রণেতাকে স্বপদে ফিরিয়ে আনার আদেশও দেন আদালত। এই ১২ জন আইনপ্রণেতার ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ ফিরিয়ে নেওয়া হলে ৮৫ সদস্যের আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে সরকারি দল। কিন্তু ইয়ামিনের সরকার আদালতের এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় রাজনৈতিক সংকট। আদালত প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিরুদ্ধে একটি রুলও জারি করেন। প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সমালোচনা করা হয় ওই রুলে। এর আগে আইনমন্ত্রী শাকুর বলেছিলেন, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির যে আদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছেন, তা সরকার পালন করবে এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। আদালতের আদেশ পালন না করায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রধান কৌঁসুলিকে অপসারণের জন্য রোববার পার্লামেন্টে একটি পিটিশন দেন বিরোধী দলের নেতারা। এরপরই পার্লামেন্ট সিলগালা করে এর চারপাশে সতর্ক অবস্থান নেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। আদালতের আদেশ কার্যকর না করতে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রতি আহ্বানও জানান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক আবদুল্লাহ সাঈদসহ অন্য বিচারকদের বরখাস্ত করার উপায় খুঁজছেন। তবে মালদ্বীপের সর্বোচ্চ আদালত দেশের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি অবসানে রোববার প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাহায্য চেয়েছেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মালদ্বীপের পার্লামেন্টের মহাসচিব ও উপমহাসচিব পদত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মালদ্বীপের বিচার বিভাগীয় প্রশাসনের প্রধান হাসান সাঈদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, মালদ্বীপের চলমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মালদ্বীপে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিরোধীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
মালদ্বীপে মুখোমুখি আদালত-সরকার
মালদ্বীপে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের বিচার নিয়ে আদালত ও সরকার মুখোমুখি অবস্থায় নেওয়ায় চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের বিচার করাকে হাই কোর্টে শুক্রবার অবৈধ ঘোষণা এবং বিরোধী ১২ এমপিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেয়। তবে সরকার তার বিচার করতে বদ্ধপরিকর। পাল্টা পদক্ষেপে পার্লামেন্টের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেপ্তারে আদালতের যে কোনো পদক্ষেপ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে তৎপর করেছে সরকার। বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির ১২ এমপিকে মুক্তি দেওয়ায় এখন তারাই পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। ওই ১২ জনের মধ্যে নয়জন দেশে কারাবন্দি আছেন। বাকিরা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান। মালদ্বীপ সরকারের আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেপ্তার বা অভিশংসনের নির্দেশ দিতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মোহামেদ অনিল বলেন, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা গ্রেপ্তারের যে কোনো উদ্যোগ বেআইনি হবে। এদিকে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছে।
মার্কিন সেনারাও হামলার শিকার হবে
সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনারা বাধা দিলে তারাও হামলার শিকার হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ রোববার সিএনএন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, অভিযানে যদি মার্কিন সেনারা বাধা দেয় কিংবা কুর্দি গেরিলাদের হয়ে লড়াই করতে আসে তাহলে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। তারাও হামলা থেকে রেহাই পাবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা মার্কিন সেনাদেরকে সন্ত্রাসী বলেই বিবেচনা করব। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তুরস্ক সংঘাত চায় না উল্লেখ করে বাকির বোজদাগ বলেন, তুরস্কের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে মার্কিনিরা সচেতন বলে আমরা মনে করি। তারপরও যদি তারা কুর্দি পোশাক পরে তুরস্কের সেনাদের ওপর হামলা চালায় তাহলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদেরকে আলাদা করার সুযোগ থাকবে না। তুর্কি গণমাধ্যম বলছে, গত শনিবার একটি ট্যাংকে কুর্দি গেরিলাদের হামলায় তুরস্কের সাত সেনা নিহত হয়েছে। আর ওই ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেনাবাহিনীর দখলে পার্লামেন্ট
মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ভবন সিলগালা করার পর দখলে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশটির বিরোধীদলীয় দুই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাবন্দি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ বেশ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতাকে মুক্তি দিতে সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার আদেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ না মানায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লা ইয়ামিনকে অপসারণের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে রোববার মালদ্বীপের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান। সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশ ঘিরে দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ এনে রোববার তার পদত্যাগের দাবিতে সংসদ সচিবালয়ে পিটিশন দিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এর পরপরই রাজধানী মালেতে অবস্থিত দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর দাঙ্গা ইউনিটের সদস্যরা। ৮৫ আসনবিশিষ্ট মালদ্বীপের পার্লামেন্টে বিরোধীদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। গত বছর দেশটির ক্ষমতাসীন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পার্লামেন্টের ১২ সদস্যের পদ বাতিল করা হয়। পরে পুনরায় তাদের স্বপদে বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লা ইয়ামিনকে অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট চেষ্টা করছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল অভিযোগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পার্লামেন্ট সিলগালা করে দিল দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। রবিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে মালদ্বীপের সেনাবাহিনী ও পুলিশপ্রধানের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের আদেশ জারি করতে পারেন বলে আমরা খবর পেয়েছি। আমি সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছি যে, এ ধরনের একটি অবৈধ আদেশ মানা উচিত হবে না তাদের। অ্যাটর্নি জেনারেল অনিল বলেন, রাজধানী মালেতে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তিনি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান আহমেদ শিয়াম বলেন, মালদ্বীপ সঙ্কটে পড়বে আর তা দেখে বসে থাকবে না নিরাপত্তাবাহিনী। তিনি বলেন, আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল বৈধ আদেশ অনুস্মরণ করবো এবং বেআইনি কোনো নির্দেশ মানতে বাধ্য হবো না। এদিকে, রবিবার রাজধানী মালের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির বিরোধীদলীয় দুই সংসদ সদস্য আব্দুল্লা সিনান ও ইহাম আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে পার্লামেন্টে হারানো পদ ফিরে পাওয়া ১২ সংসদ সদস্যের মধ্যে এ দুজনও ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রধান কর্মকর্তা আহমেদ মোহাম্মদ পদত্যাগ করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি। তবে পদত্যাগের কারণ জানাননি তিনি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর