বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২০
ইরানের ৫২ স্থানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের
০৫জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৫২ স্থানে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি আমেরিকানদের বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় তবে তেহরানের ৫২ স্থানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। খবর রয়টার্স। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৫২ স্থানকে টার্গেট করেছে। এর মধ্যে কিছু ইরানের প্রথম সারির এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এগুলো ইরানের সংস্কৃতি এবং ইরানিদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে খুব দ্রুত ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনও হুমকি চায় না। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ৫২ জন আমেরিকানকে জিম্মি করা হয়েছিল। তারা ৪৪৪ দিন বন্দি ছিলেন। ওই ৫২ জনের কথা স্মরণ করেই ইরানের ৫২ স্থানকে টার্গেট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। শনিবার তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। তার জানাজার কয়েক ঘণ্টা পরেই বাগদাদে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
কতটা শক্তিশালী ইরানি সামরিক বাহিনী?
০৪জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগদাদ বিমানবন্দরে জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। যারা জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পেছনে দায়ী তাদের জন্য কঠিন প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে,বলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। কিন্তু কতটা সক্ষমতা আছে ইরানের সামরিক বাহিনীর? দেশটির আর্মি কতটা বিশাল? যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মতে প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার সক্রিয় সদস্য আছে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার নিয়মিত আর্মি আর কমপক্ষে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার ইসলামিক রিভলিউশানারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। এছাড়া আরও ২০ হাজার আছে আইআরজিসির নৌ বাহিনীতে। এরা হরমুজ প্রণালিতে আর্মড পেট্রল বোট পরিচালনা করে। আইআরজিসি বাসিজ ইউনিটও নিয়ন্ত্রণ করে যারা মূলত স্বেচ্ছাসেবী ফোর্স। মূলত অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ মোকাবেলায় তারা কাজ করে। এরা দ্রুত হাজার হাজার মানুষকে জমায়েত করতে পারে। আইআরজিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৪০ বছর আগে যা পরে বড় মিলিটারি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। এটাকে ইরানর সবচেয়ে প্রভাবশালী ফোর্স বলে মনে করা হয়। দেশের বাইরে অভিযান: কুদস ফোর্স যার নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল সোলেইমানি, সেটি বিদেশে অনেক গোপন অভিযান পরিচালনা করে এবং তারা সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। এই ইউনিটকেই সিরিয়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল যারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও সশস্ত্র শিয়া মিলিশিয়াদের সঙ্গে একসাথে যুদ্ধ করেছে। ইরাকে তারা শিয়া নিয়ন্ত্রিত একটি প্যারা মিলিটারি ফোর্সকে সমর্থন করতো যারা ইসলামিক স্টেট গ্রুপের পরাজয়ে সহায়তা করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কুদস ফোর্স অর্থ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও উপকরণ দিয়েছে এমন সংগঠনকে যাদের যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে মনে করে। এর মধ্যে লেবাননের হেজবোল্লাহ আন্দোলন এবং প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদও রয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যা ও অবরোধ ইরানের অস্ত্র আমদানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যে পরিমাণ আমদানি হয়েছে তা সৌদির আরবের মোট সামরিক আমদানির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মাত্র। ইরানিরা সামরিক খাতে বেশী আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে এবং এর পরেই আছে চীনের অবস্থান। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আছে?- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড়, বিশেষ করে স্বল্প পাল্লা আর মাঝারি পাল্লার। তারা আরও বলছে, ইরান স্পেস টেকনোলজি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে যাতে করে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যায়। তবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইরান স্থগিত করেছিল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর, বলছে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউট। তবে তারা এও বলছে যে এটি আবার শুরু হয়ে যেতে পারে ওই চুক্তির অনিশ্চয়তার কারণে। অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি আরব ও উপসাগরীয় এলাকার অনেক টার্গেট ইরানের স্বল্প বা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতাতেই আছে, বিশেষ করে ইসরায়েলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো। এছাড়া আরও প্রমাণ আছে যে তেহরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও ইরানের সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে বিশেষ করে সৌদি আরব, ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের টার্গেটগুলোর ক্ষেত্রে। গত বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট অ্যান্টি মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করে মধ্যপ্রাচ্যে যা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এর মানে হলো পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল ও অগ্রবর্তী এয়ারক্রাফট। অপ্রচলিত (নন কনভেনশনাল) অস্ত্র কোনগুলো কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২০১৬ সাল থেকেই ইরাকে ড্রোন ব্যবহার করে ইরান। ২০১৯ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করে তারা এই অভিযোগে যে ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এর বাইরে তারা ড্রোন প্রযুক্তি তাদের মিত্রদের কাছেও স্থানান্তর বা বিক্রিও করেছে, বলছেন বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা জোনাথন মার্কাস। ২০১৯ সালেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল সৌদি তেল ক্ষেত্রে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইরানকেই দায়ী করেছিল। যদিও তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বরং তারা ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের দায় স্বীকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে। ইরানের সাইবার সক্ষমতা আছে? - ২০১০ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর বড় ধরণের সাইবার অ্যাটাকের পর তারা সাইবার স্পেস সক্ষমতায় জোর দেয়। আইআরজিসিরি নিজস্ব সাইবার কমান্ড আছে বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের এক রিপোর্টে বলেছে, ইরান অ্যারোস্পেস কোম্পানি, প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, এনার্জি ও ন্যাচারাল রিসোর্সেস কোম্পানি ও টেলিকম ফার্মগুলোকে তাদের বিশ্বব্যাপী সাইবার অপারেশনের কাজে টার্গেট করেছে। ২০১৯ সালে মাইক্রোসফট বলেছিল ইরান ভিত্তিক একটি হ্যাকার গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকে টার্গেট করেছিল ও তারা আমেরিকা সরকারের অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেছিল। সূত্র: বিবিসি বাংলা
নববর্ষের উৎসব কেড়ে নিলো ৩১৭ প্রাণ
০২জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নববর্ষ উদযাপনের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৩১৭ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১৬০ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ (ডিডিপিএম)। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে নববর্ষের ছুটি ২৭ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। থাইল্যান্ডজুড়ে ৩ হাজার ৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ ছিল মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো। আর অতিরিক্ত গতির কারণে ঘটেছে ২৮ শতাংশ দুর্ঘটনা। ডিডিপিএম আরও জানায়, দুর্ঘটনায় পতিত যানগুলোর মধ্যে ৭৯ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল। এদিকে, নববর্ষের সময়ে হতাহতদের মাঝে পুরো দেশের সবগুলো প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪ জন মারা গেছেন ব্যাংককে। আর সবচেয়ে বেশি ১০০ জন আহত হয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশ সোংখালাতে। সূত্র- শাইন.সিএন
জার্মানিতে চিড়িয়াখানায় আগুনে পুড়ে ৩০ প্রাণির মৃত্যু
০২জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: খ্রিস্টীয় নববর্ষ উদযাপনের কয়েক ঘণ্টা আগে জার্মানির ডুসেলডর্ফের পাশের শহর ক্রেফেলের চিড়িয়াখানায় রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ত্রিশটির বেশি প্রাণির মৃত্যু হয়েছে। খবর জার্মানির গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের। সারারাত ধরে আগুনে পুড়েছে বানরের অভয়ারণ্য। এখানে যে প্রাণিগুলো ছিল, সেগুলোর একটিও বেঁচে নেই বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে দেয়া এক বিবৃতিতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, পাশের গরিলা গার্ডেন এই অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। আমরা এখনও বিস্মিত। কোনও সহযোগিতা লাগবে কিনা বা কোথায় লাগতে পারে তা বলতে পারছি না। এদিকে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নববর্ষ উদযাপনের আতশবাজি থেকে এর সূত্রপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
অশালীন পোশাক পরায় সৌদিতে ২০৮ জন আটক
০১জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক রীতিনীতি ভঙ্গ করে অশালীন পোশাক পরার অভিযোগে দুই শতাধিক নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরব প্রশাসন। টুইটারে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে রিয়াদ পুলিশ। টুইটারে তারা জানায়, গত সপ্তাহে সামাজিক রীতি ভঙ্গের দায়ে এখন পর্যন্ত ১২০ জন নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রীতিনীতি ভঙ্গ, অশালীন পোশাক পরিধান ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরেকটি পৃথক টুইট বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলায় আরও ৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসের শুরুর দিকে রিয়াদে একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হয়রানির শিকার হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু নারী এমন অভিযোগ করার প্রেক্ষিতে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ। মঙ্গলবার থেকে সিরিজ টুইট বার্তায় রিয়াদ পুলিশ জানিয়েছে, অশালীন পোশাক পরিধানসহ আরও বিভিন্ন নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। যারা আইন ভঙ্গ করেছে তাদের বিভিন্ন ধরনের সাজা দেয়া হয়েছে। ওই মিউজিক ফেস্টিভ্যালে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় আয়োজন। এদিকে আটক হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এমনকি এসব ব্যক্তিদের কতদিনের জন্য সাজা দেয়া হয়েছে সেটিও জানায়নি তারা। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর থেকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর এই প্রথম এ ধরনের অভিযান চালানো হলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখেছে রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরব। এর মধ্যে রয়েছে- সিনেমা থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া এবং নারী-পুরুষ একইসঙ্গে কনসার্ট ও স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি।
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
৩১ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবৈধভাবে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় জড়িত থাকা তিন গবেষককে সোমবার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন চীনের এক আদালত। খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার। তিন গবেষকের প্রধান হি জিয়ানকুইকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ ইউয়ান (চার লাখ ৩০ হাজার ডলার) অর্থদণ্ড দেন গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের ন্যানশ্যান ডিস্ট্রিক্ট পিপলসের এই আদালত। তার দুই সহকারী ঝ্যাং রেনলি এবং কিন জিনঝৌর শাস্তি কমিয়ে তাদেরকে যথাক্রমে দুই ও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া তাদেরকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। হি জিয়ানকুই ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিন এডিট করে সন্তান জন্ম দেয়ায় সাহায্য করার কথা জানালে জিন এডিটিংয়ের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এছাড়া জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ার আরেকটি ঘটনায় জড়িত ছিলেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হি জিয়ানকুই।
ভারতে ঘন কুয়াশার কারণে গাড়ি খালে, নিহত ৬
৩০ডিসেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘন কুয়াশার কারণে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের নয়ডায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন যে, ঘন কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মহেশ (৩৫), কিষাণলাল (৫০), নীরেশ (১৭), রাম খিলাড়ি (৭৫), মাল্লু (১২), নেত্রপল (৪০)। খবরে বলা হয়েছে, একটি মারুতি এটিগ্রা গাড়িতে মোট ১১ জন ছিলেন। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাংকুরা এলাকায় পৌঁছনোর সময় গাড়িটি খেরলি খালে পড়ে যায়। এরপর সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা ছয়জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা চলছে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম হয়ে গেছে। সেই কারণেই দুর্ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই গাড়িটির সঙ্গে আরেকটি গাড়ি ছিল। সবাই সম্ভল জেলা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে ভারতের উত্তরপ্রদেশ, দিল্লিসহ উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্যে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। শীতের কারণে কেবল উত্তরপ্রদেশেই এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জাপানে ভেসে আসা-ভুতুড়ে নৌকায়-মানুষের দেহাবশেষ
২৯ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাঁচটি মৃতদেহ ও দুটি মানুষের মাথাসহ একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করা হয়েছে জাপানের উপকূল থেকে। জাপানের মূল ভূখণ্ডের উত্তর পশ্চিমের সাদো দ্বীপে শুক্রবার ভেসে আসে জাহাজটি। পরে শনিবার কর্তৃপক্ষ জাহাজের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। খবর বিবিসি বাংলার। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া জাহাজটির গায়ে কোরিয়ান ভাষা লেখা ছিল। জাহাজে থাকা মাথা দুটি মৃতদেহগুলোর মধ্যে দুজনের কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে জাপানের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, জাহাজে পাওয়া দেহাবশেষগুলোর সবগুলোই আংশিকভাবে কঙ্কাল হয়ে গেছে। এর ফলে মনে করা হচ্ছে যে, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় যাবত সমুদ্রে অবস্থান করছিলেন। জাপানের উপকূলে উত্তর কোরিয়া থেকে আসা ভুতুড়ে জাহাজ আবিষ্কারের ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। এসব জাহাজ সাধারণত খালি থাকে বা সেখানে মানুষের দেহাবশেষ থাকে। জাহাজের নাবিকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ থাকে, শীতের সময় তীব্র ঠান্ডা বা খাবার না পাওয়া। এর আগের ঘটনাগুলোয় জাহাজে থাকা মৃত নাবিকরা আসলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জংউনের রাজত্ব থেকে পালিয়ে আসতে চেয়েছিল কিনা, তা যাচাই করার কোনও উপায় ছিল না। তবে এমন ধারণা করা হয় যে, অতিরিক্ত দারিদ্র্যই উত্তর কোরিয়ার নাবিকদের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে বাধ্য করে। ২০১৭ সালে ভাসতে থাকা এরকম একটি জাহাজে একজন মাছ ধরা জেলেকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাকে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সাম্প্রতিক এই জাহাজ দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুকবার জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে ভুলবশত খবর তৈরি করেছে যে, ত্রুটি শোধরানোর আগেই নিক্ষেপ করা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার মিসাইল। পরে তারা ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে এবং বলে যে প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভুলবশত এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। নভেম্বরে উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করার কথা বলে জাপানকে হুমকি দেয় এবং উত্তর কোরিয়ার মিসাইল পরীক্ষা সম্পর্কে ত্রুটিপূর্ণ খবর প্রচার করায় প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে নির্বোধ বলে সমালোচনা পিয়ংইয়ং।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘে নিন্দা প্রস্তাব পাস
২৮ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করে দেখার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর যথেচ্ছ গ্রেফতার, নির্যাতন, ধর্ষণ, হেফাজতে মৃত্যুসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ। রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয় প্রস্তাবটিতে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করে দেখার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ। জাতিসঙ্ঘ তিনশো সাত কোটি ডলারের এই তদন্ত তহবিলে প্রথমবারের মতো সিরিয়া ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুক্রবার আনা নিন্দা প্রস্তাবে জাতিসঙ্ঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৪টি দেশ আর বিপক্ষে ভোট পড়ে নয়টি। ভোটদানে বিরত ছিল ২৮টি দেশ। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে পাশ হওয়া কোনো প্রস্তাব দেশটি মানতে বাধ্য না হলেও, বিশ্ব মতামতের ক্ষেত্রে এ ধরণের প্রস্তাব প্রভাব ফেলে থাকে। তবে মিয়ানমারের দাবি, তারা উগ্রবাদীদের দমন করতে তাদের এসব অভিযান। গত নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করে মিয়ানমার, যে শুনানিতে হাজিরা দিয়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এগারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের যেসব তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেছিল একটি স্বাধীন তদন্ত দল, সেগুলোও তুলে ধরা হয় নিন্দা প্রস্তাবে। সেসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনে চরম অপরাধ বলে মিশনটি বর্ণনা করেছিল। এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাও দো সুয়ান একে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নামে আরেকটি বৈষম্যমূলক ও বিশেষভাবে বাছাই করার দ্বৈত আচরণ'' বলে বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাবটি রাখাইন রাজ্যে জটিল পরিস্থিতি সমাধানে কোন ভূমিকা রাখবে না। এই প্রস্তাব সেখানে অবিশ্বাসের বীজ বপন করবে বলে তিনি বলছেন। তার মতে, এটি ওই অঞ্চলে নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে আরো মেরুকরণ তৈরি করবে। জাতিসঙ্ঘের ওই প্রস্তাবে চার দশক ধরে প্রতিবেশী বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার ব্যাপারে সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দমন পীড়ন অভিযান চালানোর পর থেকেই এসেছে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ থেকে কয়েক বার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা হলেও, মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশের অভাবে ফিরতে রাজি হয়নি রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গত ১১ই নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। বিবিসি

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর