পৃথিবীর ২৩ দেশে হানা দিয়েছে পঙ্গপাল
০৫মে,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারী করোনার সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের আরেক আতঙ্কের নাম পঙ্গপাল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মরুর পঙ্গপাল যারা এ বসন্তে পূর্ব আফ্রিকা, ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইরানে হানা দিয়েছে, তারা আফ্রো-এশীয় অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাংক তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২০ সালের মধ্য এপ্রিল নাগাদ পাকিস্তান থেকে তানজানিয়া পর্যন্ত ২৩ দেশে হানা দিয়ে ফসল নষ্ট করেছে পঙ্গপাল। এর মধ্যে ৯টি দেশ পূর্ব আফ্রিকার, ১১টি উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের এবং ৩টি দেশ দক্ষিণ এশিয়ার। পঙ্গপাল খুব দ্রুত চলাফেরা করতে পারে। প্রতিদিন প্রায় ৯০ মাইল। চলতি পথে বংশবিস্তার করে পঙ্গপাল। যদি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয় তবে মরুর এ দলটি আগামী জুনের মধ্যে ৪০০ গুণ বড় হবে যা বিশ্বের ২০ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস করে দিতে পারে। ইথিওপিয়া সরকারের এক হিসাবে বলা হয়, সম্প্রতি দেশটিতে পঙ্গপাল হানা দিয়ে ৩ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন শস্য নষ্ট করেছে, ২ লাখ হেক্টর কৃষিজমি নষ্ট করেছে। এর ফলে দেশটির ১০ লাখেরও বেশি লোকের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বছর দুয়েক আগে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে পঙ্গপালের তিনটি প্রজন্মের বংশবৃদ্ধি নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ইয়েমেন, সৌদি আরব ও ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল যায়। সেখান থেকে বংশবৃদ্ধি করে পূর্ব আফ্রিকার দিকে যায় তারা। গত বছরের শেষদিকে এরিত্রিয়া, জিবুতি ও কেনিয়ায় দেখা যায় এই পতঙ্গ। মিশর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে পঙ্গপালের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি ভারতের হিন্দু পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হর্ন অব আফ্রিকা থেকে একদল পঙ্গপাল গতিপথে মরু অঞ্চলের আরেকদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হানা দিচ্ছে। এদের একটি ঝাঁক ইয়েমেন, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ইরান, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান হয়ে ভারতে হানা দিয়েছে। ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ঢুকে ফসল নষ্ট করেছে। অন্যদলটি ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে সরাসরি ভারত উপদ্বীপের কৃষিজমিতে নেমে পড়বে। এরপর যেতে পারে বাংলাদেশের দিকে। উভয় ঝাঁকের সম্মিলিত হামলায় ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির নীতি নির্ধারকরা।
নিস্তব্ধতা ভেঙে ইতালিতে কাজে ৪০ লাখ মানুষ
০৫মে,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্পূর্ণ না হলেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে করোনার লাগাম। তাইতো অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গতকালই শিথিল করা হয়েছে চলমান লকডাউন। এতে করে নিস্তব্ধতা ভেঙে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে ৪০ লাখের বেশি মানুষ। চীনের পরেই করোনার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে জেঁকে বসে পশ্চিম ইউরোপের দেশটিতে। যাতে ২৯ হাজারের বেশি মানুষ পৃথিবী ছেড়েছেন। যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে সোমবার থেকে দেশজুড়ে লকডাউন আংশিক শিথিলের ঘোষণা দেয় ইতালি সরকার। ফলে প্রায় দুই মাস ঘরবন্দি থাকার পর আবার রাজধানী রোমসহ দেশটির বড় বড় শহরগুলো কিছুটা হলেও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার আশায় কর্মস্থলে যোগ দিতে শুরু করে। তবে, এমন এক সময়ে লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যখন দেশটি করোনা সংক্রমণে বিশ্বে মৃতের সংখ্যায় দ্বিতীয় ও আক্রান্তে তৃতীয় অবস্থানে। ১২ লাখের বেশি আক্রান্ত ও ৭০ হাজার মৃত্যুর রেকর্ড নিয়ে শীর্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মাঝে প্রায় আড়াই লাখ আক্রান্ত ও সাড়ে ২৫ হাজার প্রাণহানি নিয়ে স্পেন। আর ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৭৯ জনে ঠেকেছে। আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২২১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা ২ লাখ প্রায় ১২ হাজার মানুষ। সুস্থ হয়েছেন ৮২ হাজার ৮৭৯ জন। লকডাউন শিথিলের এ পর্যায়ে আপাতত সীমিত আকারে বার, রেস্টুরেন্ট, খুচরা ও পাইকারি দোকানপাট, স্টেশনারি, বইয়ের দোকান, শিশুদের পোশাকের দোকান, কম্পিউটার ও কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৮ মে থেকে খুলবে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, প্রদর্শনী, জাদুঘর, ক্রীড়া ক্ষেত্র এবং গ্রন্থাগার। ১ জুন থেকে খোলা যাবে বড় রেস্টুরেন্ট, বার, সেলুন, ম্যাসেজ সেন্টার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে খোলার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে বলেন, এখন ভাইরাসটির সঙ্গে সহাবস্থানের পর্যায় সবার জন্য শুরু হতে যাচ্ছে। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে। এখনো ঝুঁকি আছে, আমাদের অবশ্যই এটা পদ্ধতিগতভাবে ও কঠোরতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু
০৪মে,সোমবার,এস.বি শিমুল,যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সমীর চন্দ্র দেব ও কায়সার আহমদ। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৩১ প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন। যাদের বেশিরভাগই প্রবীণ। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে একদিনেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। যাদের অধিকাংশই ছিল ষাটোর্ধ্ব। এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৮৮ হাজার ১২২ জন। প্রাণহানি ঘটেছে ৬৮ হাজার ৫৯৮ জনের। যা যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে নিউইয়র্কে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। যেখানে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৬৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্ত ৩ লাখ প্রায় ২৪ হাজার জন। এরপরেই রয়েছে নিউ জার্সি। যেখানে ভাইরাসটি থাবায় ৭ হাজার ৭৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত বেড়ে সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৩৮ জনে পৌঁছেছে।
জম্মু-কাশ্মীরে গোলাগুলি
০৩মে,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদের সাথে গোলাগুলিতে এক কর্নেল ও এক মেজরসহ ৫ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছে ২ জঙ্গি। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তারা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার(০২ মে) উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় একটি বাড়িতে সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করে রেখেছিল এমন খবর পেয়ে অভিযান চালায় ভারতের সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথবাহিনী। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে আচমকা জঙ্গিরা গুলিবর্ষণ করে। এ সময় সেনাবাহিনী শীর্ষ দুই কর্মকর্তাসহ ৫ জন নিহত হয়। আটকেপড়া নাগরিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ২ লাখ ৪৪ হাজার ,আক্রান্ত ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩৫ জন
০৩মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বে মারা গেছে আরও ৫ হাজার ২১৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ছাড়ালো। বিশ্বে একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৮৩ হাজার ২৫৭ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩৫ জন। এরমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৬ জন। বর্তমানে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৩ জন। করোনার প্রাদুর্ভাব চীনে শুরু হলেও বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৪১৪ জন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৪ জন। করোনায় মৃতের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ ইতালি। দেশটিতে ২৮ হাজার ৭১০ জন করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। ইতালিতে গত একদিনে ৪৭৪ জন কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন। গত ২১ এপ্রিলের পর দেশটিতে একদিনে এতো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৯ হাজার ৩২৮ জন। এদিকে যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আরও ৬২১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮ হাজার ১৩১ জনে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১লাখ ৮২ হাজার ২৬০ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি। গত একদিনে দেশটিতে নতুন করে আরও ২৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়ালো। গত কয়েক সপ্তাহে স্পেনে তুলনামূলক করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসায় দেশটিতে লকডাউন শিথিল করে খুলে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাত। লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিলের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে স্পেন। করোনায় বিপর্যস্ত ইউরোপের আরেকটি দেশ ফ্রান্স। এ পর্যন্ত দেশটির ২৪ হাজার ৭৬০ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনাভাইরাস। আর এতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৬ জন। তবে আগের তুলনায় দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া ও ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকহারে। একদিনে ব্রাজিলে ৩৪০ জন মারা গেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৯৬ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪ জন। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় ইরানে ৬৫, বেলজিয়ামে ৬২, জার্মানিতে ৭৬ জন, নেদারল্যান্ডসে ৯৪, কানাডায় ১৭৫ এবং ভারতে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে।
করোনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫৫ সাংবাদিকের মৃত্যু
০৩মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত দুই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫৫ সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইন (পিইসি) তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। করোনায় সাংবাদিকের মৃত্যুতে নিন্দা জানিয়ে, বিশ্বজুড়ে সাংবাদকর্মীদের ওপর করোনাকালে নির্যাতনের অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। এসব মৃত্যুর পেছনে পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবকেই দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। পিইসির দেওয়া তথ্যমতে জানা যায়, গত ১ মার্চ থেকে ১ মে পর্যন্ত বিশ্বের ২৩টি দেশের প্রায় ৫৫ সংবাদকর্মী প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মহামারি শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকটি দেশে অসংখ্য প্রেসের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের এই কঠিন সময়ে সেন্সরশিপ, ইন্টারনেট শাটডাউন, বিনা বিচারে সাংবাদিকদের আটক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা সংবাদপত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। খবর এএফপির।
সময় পেয়েও করোনা ঠেকাতে ব্যর্থ বিশ্বনেতারা
০২মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকানোর জন্য চীন ছাড়া বাকি বিশ্ব পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিল বলে দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি আরো দাবি করছে, তারা করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করেনি। শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস এ দাবি করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বিশ্বনেতাদের পরোক্ষে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন টেড্রোস। তিনি মনে করিয়ে দেন, চীন ছাড়া বাকি বিশ্বের ক্ষেত্রে করোনা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে ছিল। ৩০ জানুয়ারি যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে মহামারি ঘোষণা করে তখন চীনের বাইরে মাত্র ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয় এবং এদের কেউ মারা যাননি।
সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯২ জনের
০২মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বে মারা গেছে আরও ৫ হাজার ৬২৪ জন। মোট আক্রান্ত ৩৪ লাখেরও বেশি মানুষ। এরমধ্যে ৫১ হাজারের বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯২ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৪ হাজার ৫৫২ জন। তবে, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ লাখ ৮১ হাজার ৫৯৯ জন। বর্তমানে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৫ জন। বিশ্বের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। গেল ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ১ হাজার ৮৯৭ জন। যা নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজার ছাড়ালো। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৩১ হাজার ৩০ জন । তবে, সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৩ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ইউরোপের দেশ স্পেন। দেশটিতে গত একদিনে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু সাড়ে ২৪ হাজার ছাড়ালো। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৮ জন। ইউরোপের অরেক দেশ ইতালিতে একদিনে নতুন করে আরও ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু ২৮ হাজারে ছাড়িয়েছে। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন। এদিকে, ফ্রান্সে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে আরও ২১৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা সাড়ে ২৪ হাজার ছাড়ালো। মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৬ জন। তবে সুস্থ হয়ে ফিরেছে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। অপরদিকে, যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে ২৭ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের দিক দিয়ে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘন্টায় সেখানে আরও ৭৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া ও ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকহারে। একদিনে ব্রাজিলে ৫০৯ জন মারা গেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় ইরানে ৬৩, বেলজিয়ামে ১০৯, জার্মানিতে ১১৩ জন, নেদারল্যান্ডসে ৯৮, কানাডায় ২০৭ এবং ভারতে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে।
অবশেষে জনসমক্ষে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন
০২মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানা জল্পনা, গুজব, কানকথার পর অবশেষে জনসমক্ষে এসেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বলেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি একটি সার কারখানায় প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়েছিলেন। আজ শনিবার খুব সকালে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) রিপোর্ট করেছে, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সানচেওন-এ একটি সার কারখানায় একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি। এ সময় তার পাশে ছিলেন বহুল আলোচিত তার ছোটবোন কিম ইয়ো জং। কেসিএনএ বলেছে, শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিম জং উন ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা বজ্রনিনাদে হুররে ধ্বনিতে ফেটে পড়েন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, কিম জং উনের ওই সময়কার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে। তাতে তাকে হাস্যোজল দেখা যাচ্ছে। সহযোগীসহ ওই প্লান্ট সফরে গিয়েছিলেন তিনি। তাদের সঙ্গে তাকে এ সময় কথা বলতে দেখা যায়। সরকারি পত্রিকা রোডং সিনমুন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব ছবির যথার্থতা যাচাই করা যায় নি বলে জানাচ্ছে আল জাজিরা। কেসিএনএর রিপোর্ট সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এখনও আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না। গত ১৫ই এপ্রিল ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও কিম জং উনের দাদা কিম ইল সাং-এর জন্মদিন। এদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় ছুটি হিসেবে পালন করা হয়। আয়োজন করা হয় বড় অনুষ্ঠান। তাতে ক্ষমতাসীন নেতার উপস্থিতি একরকম বাধ্যতামূলক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু ২০১১ সালে দেশের ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন নি কিম জং উন। কেন তিনি যোগ দেন নি সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কোনো পর্যায় থেকে, কোনো সূত্র থেকে কিছুই বলা হয় নি। তারপর থেকে প্রকাশ্যে তাকে আর দেখা যায় নি। ফলে স্বাভাবিক কারণেই তিনি কোথায়, বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন- তা নিয়ে তীব্র কৌতুহল সারা বিশ্বে। এরই মধ্যে অনির্ভরশীল সূত্রগুলো প্রকাশ করে যে, তিনি মারা গেছেন। কেউ কেউ বলেন, তার হার্টের অপারেশন করা হয়েছে। এরপর তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে চীন। এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যত এক অন্ধকারের মধ্যে আছেন বিশ^বাসী। কিন্তু কেসিএনএর আজকের ওই রিপোর্ট বাদে আর কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয় নি। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি পর্যায় থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, কিম জং উন জীবিত আছেন এবং ভাল আছেন। ওদিকে স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে কিমের ব্যবহৃত একটি স্পেশাল ট্রেন এবং একটি বোটের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তাতে ধারণা করা হয়, তিনি অবকাশ যাপনের শহর ওনসানে অবস্থান করছেন। কিন্তু এটা শুধু ধারণাই। এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর