ট্রাম্প-উনের মধ্যে বিশদ চুক্তি স্বাক্ষর
শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ‘বিশদ’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে দু্ই নেতার মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে চুক্তির বিষয় জানা যায়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, অতি শিগগিরই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ শুরু করবে বলে তিনি আশা করছেন। দীর্ঘ দিনের বৈরি দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরুর প্রথম ধাপেই অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এর মাধ্যমে হয়তো উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা মানচিত্রে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৭২ সালে প্রায় একইভাবে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বেইজিং সফরকালে চীনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছিল। ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘বিশদ চিঠি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। ট্রাম্প বৈঠকের আগে বলেছিলেন, তার অতীতকে পেছনে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ব এক বিশাল পরিবর্তনকে দেখবে।’ উনের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ’ হয়েছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এই সম্পর্ক হবে অনেক ব্যতিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ অনেক বেশি সন্তুষ্ট হবে এবং তারা অনেক বেশি আনন্দিত হবে এবং আমরা বিশ্বের অনেক বিপজ্জনক একটি সমস্যাকে মোকাবেলা করছি।’ কিমকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানাবেন কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, ‘অবশ্যই, আমি আমন্ত্রণ জানাব।’
লিবিয়ার উপকূলে ২ রাবারের নৌকা থেকে ১৫২ অবৈধ অভিবাসী উদ্ধার
লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলে দুটি রবারের নৌকা থেকে ১৫০ জনের বেশি অবৈধ অভিবাসী উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনীর সদস্যরা। নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র একথা জানিয়েছে। মুখপাত্র আয়ুব কাশেম সিনহুয়াকে বলেন, কোস্টগার্ডের একটি টহল জাহাজ রাবার বোট থেকে ১৫২ শরণার্থীকে উদ্ধার করেছে। নৌকাটি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল। এরা সকলেই আফ্রিকার নাগরিক। কাশেম বলেন,প্রথম নৌকাটি রাজধানী ত্রিপোলীর পশ্চিমে অবস্থিত নগরী জুয়ারার উপকূলের ২০ মাইল দূর থেকে উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় নৌকাটি ত্রিপোলীর পূর্বে গারাবুলি নগরীর ২০ মাইল দূর থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় নৌকাটি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল। লিবিয়ার একটি তেলবাহী জাহাজের সহায়তায় এটি রক্ষা পায়। পরে কোস্টগার্ডের জাহাজ আসে।
গন্ধীর মতোই আত্মঘাতি হামলায় মোদীকে হত্যার ছক
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গন্ধীর মতোই আত্মঘাতি হামলায় নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ছক কষেছিল মাওবাদীরা। এই সংক্রাম তাদের এক গোপন চিঠি এখন পুণে পুলিশের হাতে। ওই চিঠির বরাত দিয়ে পুণে পুলিশ জানায়, যেভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও খুনের ফন্দি এঁটেছিলেন মাওবাদীরা। এক সন্দেহভাজন মাওবাদীর কাছ থেকে পাওয়া গোপন একটি চিঠির সূত্রে ওই খুনের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে বলে পুণে পুলিশ বৃহস্পতিবার দিল্লির সেসন আদালতে জানিয়েছে। আদালতে পুলিশের তরফে জমা দেয়া সেই চিঠিতে লেখা হয়, আমরা রাজীব গান্ধী হত্যার মতো একটা ঘটনা ঘটাতে চাইছি। আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ঘটনা। আমরা শেষ পর্যন্ত এটায় ব্যর্থ হতে পারি। কিন্তু এমন কিছুর কথা আমাদের ভাবতেই হবে।’ ধৃত রোনা উইলসনের বাড়ি থেকে পাওয়া মাওবাদীদের ওই গোপন চিঠিতে লেখা হয়েছে, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে বড় বিপর্যয় হলেও দেশের ১৫টি রাজ্যে বিজেপি ভালই সরকার চালাচ্ছে। ওরা (বিজেপি) যদি এভাবে এগোয় তা হলে সবদিক দিয়েই তা আমাদের দলের পক্ষে বিপদের কারণ হয়ে উঠবে। তাই দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা মোদী যুগের অবসান ঘটানোর কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। পাবলিক প্রসিকিউটর উজ্জ্বলা পওয়ার আদালতে বলেছেন, রোনার বাড়ি থেকে যে চিঠিটি উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে লেখা হয়েছে এম-ফোর রাইফেল ও ৪ লক্ষ রাউন্ড গুলিগোলা কেনার জন্য ৮ কোটি টাকা দরকার। মুম্বই, নাগপুর ও দিল্লিতে ধরপাকড় চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই’র (মাওবাদী) সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য বুধবার পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দলিত নেতা সুধীর ধাওয়ালে, আইনজীবী সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রোনা উইলসন। আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ৫ জনই শহরে মাওবাদীদের শীর্ষ স্তরের নেতৃত্ব। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ‘কমিটি ফর রিলিজ অফ পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’ সংগঠনের সদস্য রোনা মূলত দিল্লিতেই কাজ করতেন। ধৃত ৫ জনই গত জানুয়ারিতে ভিমা-কোরেগাঁওয়ে জাতি দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে। ধৃতদের অন্যতম নাগপুরের আইনজীবী সুরেন্দ্র গ্যাডলিং ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ পিপল্স ল’ইয়ার্স’র (আইএপিএল) সদস্য। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোমা সেন, প্রধানমন্ত্রীর গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রাক্তন ফেলো মহেশ রাউত এবং ভিমা-কোরেগাঁওয়ে দলিতদের অভিযানের সংগঠক সুধীর ধাওয়ালে।
ট্রাম্প ও কিম বৈঠকে যে ইস্যু প্রাধান্য পেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আর কিম জং-আনের ১২ই জুনের বৈঠকের প্রস্তুতি ঠিকভাবেই চলছে। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেক জানানো হয়েছে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দুই নেতা দেখা করবেন। তবে পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ করার আগ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। সিঙ্গাপুরে হতে যাওয়া বৈঠকের খুব সামান্য খুঁটিনাটিই জনসাধারণকে জানানো হয়েছে। দুই নেতার বৈঠকের স্থানও এখনও নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকের প্রধান আলোচনার বিষয় হবে কোরিয় উপদ্বীপে পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করার ইস্যুটি। কয়েকজন বিশ্লেষক ধারণা করছেন দুই কোরিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও হতে পারে এই বৈঠকের মাধ্যমে। দুই নেতার বহ প্রতীক্ষিত বৈঠকটি শেষপর্যন্ত হবে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ ছিল। গতমাসে একপর্যায়ে মি. ট্রাম্প এই বৈঠকটি বাতিলও ঘোষণা করেছিলেন। সোমবার হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স সাংবাদিকদের জানান যে,উত্তর কেরিয়া সম্পর্কে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে প্রতিদিন নির্দেশনা নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞা অব্যহত থাকবে মিজ স্যান্ডার্স জানান, পিয়ংইয়ং এর ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এর মনোভাব পরিবর্তিত হয়নি। আমাদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে এবং তারা সম্পূর্ণরুপে পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অব্যহত থাকবে। তবে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে উত্তর কোরিয়ার একজন উচ্চপর্যায়ের নেতার সাথে বৈঠকের পর মি. ট্রাম্প জানান সর্বোচ্চ চাপ শব্দটি তিনি আর ব্যবহার করতে চাননা। দুই দেশের আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বিধায় এধরণের ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে চান তিনি। দুই নেতার বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন রকম কূটনীতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ হঠাৎই পিয়ংইয়ং পরিদর্শনে যান। এ বছরের শেষে মি. কিম মস্কো সফর করতে পারেন, এমন পরিকল্পনা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে যে সিরিয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদও উত্তর কোরিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন।
গুয়াতেমালায় আগ্নেয়গিরিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫
গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে উৎক্ষিপ্ত উত্তপ্ত ধূলি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকর্মীরা আরো লাশ উদ্ধার করেছে। এই নিয়ে প্রাকৃতিক এই ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ডিজাস্টার রিলিফ এজেন্সির মুখপাত্র ডেভিড ডি লিওন ব্রিফিংকালে বলেন, এই ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন মারা গেছে। রবিবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৪৬ জন আহত হয়েছে। এদের অধিকাংশের অবস্থাই গুরুতর। এছাড়াও এতে এস্কুউনটলা, সাকাটেপেকুয়েজ ও চিমাল্টেনাঙ্গো বিভাগে ১৭ লাখের বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ হাজার ২৭১ জনকে অন্যত্র চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৭৮৭ জন আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছে। রবিবার ভোরে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আকাশের ৩ হাজার ৭৬৩ মিটার উঁচুতে ছাইমেঘ, উত্তপ্ত কাদামাটি ও পাথরকণা ছড়িয়ে পড়ে। পার্বত্য দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ধারকার্যক্রম শুরুর পর মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ জন মারা যাবার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। উত্তপ্ত কাদামাটির নিচ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। গুয়াতেমালার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা সার্গিও কাবানাস বলেন, ‘এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আমরা তাদের সঠিক সংখ্যা জানি না।’ উত্তপ্ত লাভা এতো দ্রুত ওই পার্বত্য পাদদেশের বাসিন্দাদের কাছে চলে আসে যে ঘটনার আকস্মিকতায় তারা স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। অনেককে তাদের বাড়ি ও এর আশপাশে মৃত পাওয়া গেছে। কাবানাস বলেন, রোববার দ্রুতগতিতে আসা উত্তপ্ত গলিত লাভা থেকে যারা পালিয়ে যেতে পারেননি তারা মারা গেছেন। দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা লাভা তাদের গ্রাস করে। উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। সান মিগুয়েল লস লোটেস গ্রামের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অন্তত তিনটি দগ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। গ্রামটিতে উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। উত্তপ্ত কাদা ও ছাইয়ের মধ্যে বহু মৃত কুকুর, মুরগি ও হাঁস রয়েছে। এগুলো থেকে এখনো ধোঁয়া উড়ছে। প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস এই ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করছেন। তিনি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।-এএফপি।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ২৫ গুয়াতেমালায়
গুয়াতেমালার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ২৫ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, দেশটির রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই আগ্নেয়গিরিটি থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উদগীরণ হচ্ছে। গুয়াতেমালার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) জানিয়েছে, লাভার একটি স্রোত এল রোদেও গ্রামের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ভিতরে থাকা লোকজনকে দগ্ধ করেছে। এদিকে, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে গুয়াতেমালা সিটির লা অরোরা বিমানবন্দর বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা। কনরেডের প্রধান সের্হিও কাবানিয়াস স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে জানিয়েছেন, লাভার একটি নদী এল রোদেওর দিকে দিক পরিবর্তন করে। “এটি লাভার একটি নদী, এটি উপচে পড়ে এল রোদেও গ্রামকে আক্রান্ত করেছে। এখানে অনেকে আহত হয়েছেন, দগ্ধ হয়েছেন এবং মারা গেছেন। “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এল রোদেও গ্রামটি লাভার নিচে চাপা পড়েছে আর লাভার কারণে আমরা লা লিবার্তাদ গ্রামেও পৌঁছতে পারছি না, সম্ভবত ওখানেও লোকজন মারা পড়েছে।” কাবানিয়াস পরে জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে তার সংস্থার এক কর্মীও রয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি মিয়ানমার
মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন বলেছেন, স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গাদের সবাইকে ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার। শনিবার সিঙ্গাপুরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে একথা বলেন তিনি। নিরাপত্তা সম্মেলনে মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়— রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি কি মিয়ানমারকে জাতিসংঘের আরটুপি (রেসপন্সসিভিলিটি টু প্রটেক্ট) ফ্রেমওয়ার্ক চালুর দিকে নিয়ে যাবে? কথিত এই আরটুপি ফ্রেমওয়ার্কটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের বিশ্ব সম্মেলনে গ্রহণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে নিজ দেশের জনগণকে রক্ষা এবং এই প্রতিশ্রুতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে এক দেশ অন্য দেশকে সহযোগিতা করবে। জবাবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, স্বেচ্ছায় যদি ৭ লাখকে ফেরত পাঠানো যায় তাহলে আমরা তাদের গ্রহণে আগ্রহী। এটাকে কি জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলা যায়? থাউং তুন বলেন, সেখানে কোনও যুদ্ধ চলছে না, তাই এটা যুদ্ধাপরাধ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি কিছুটা বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের অকাট্য প্রমাণ লাগবে। এই গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হতে হবে এবং তা নিয়ে হালকাভাবে আলোচনা করা উচিত নয়। থাউং তুন আরো জানান, রাখাইনের যে আখ্যান প্রকাশিত হচ্ছে তা ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’। তিনি বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমার সেটাকে অস্বীকার করছে না। রাখাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠী যে ভুক্তভোগী তা অস্বীকার করা হচ্ছে না। বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রাখাইন, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও কম নিপীড়িত হচ্ছে না। স্বদেশকে রক্ষার অধিকার রয়েছে সেনাবাহিনীর। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় তারা আইন লঙ্ঘন করেছে তাহলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই নিপীড়নকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে বরাবরই নিজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণে তা কার্যকরে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
সৌদি মন্ত্রীসভায় রদবদল
শনিবার ভোরে বেশ কিছু সৌদি রয়াল ডিক্রি জারি হয়েছে। মন্ত্রীসভায় রদবদল সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল লেবার মিনিস্টারের পরিবর্তন। ড. আলী বিন নাসের আল গুফাইসের পরিবর্তে নতুন মন্ত্রী হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী পরিবার আল রাজেহী পরিবারের ইঞ্জিনিয়ার আহমাদ বিন সুলাইমান আল রাজেহী নিয়োগ পেয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম করণ করা হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। আর এই মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী করা হয়েছে আল উলা প্রদেশের গভর্নর প্রিন্স বাদর বিন আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন ফারহান আল সৌদকে। ধর্মীয় পুলিশের সাবেক প্রধান শেইখ আব্দুল লতিফ আল শেইখকে ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত করা হয়েছ।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি
বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সহযোগিতায় মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ‍দুটি সংস্থা। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি এ চুক্তি করতে যাচ্ছে। ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার জন্য সহায়ক না হওয়ায় ওই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে এই সমঝোতা স্মারক প্রথম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ড ডিজাইন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসবাসে সহযোগিতা করবে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করে। প্রাণে বাঁচতে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা নির্যাতনের এই চিত্রকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেছে। দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত জানুয়ারিতে ঐক্যমতে পৌঁছায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ রয়ে গেছে। পৃথক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, রাখাইনে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে’ তদন্তের জন্য তারা পৃথক একটি কমিটি করবে। কমিটিকে সহায়তা করবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।