রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
ফ্লোরিডায় দুটি প্রশিক্ষণ বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত
অনলাইন ডেস্ক :যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জলাভূমি এভারগ্লেইডসের মাঝ আকাশে দুটি প্রশিক্ষণ বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয়সহ চারজন মারা গেছেন বলে জানা গেছে। সেখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে বিধ্বস্তের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়। খবর সিএনএন। মায়ামি দেইদ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের ঘটনা দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা জরুরি সেবা ৯১১ এ ফোন দেয়। সিএনএন অধিভূক্ত টিভি স্টেশন ডাব্লিউএসভিএন এক প্রতিবেদনে জানায়, বিধ্বস্ত হওয়া একটি বিমান থেকে দুইজন নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। তৃতীয় লাশটি পাওয়া যায় দ্বিতীয় আরেকটি বিমান থেকে। দুর্ঘটনাটি মায়ামি এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্ট থেকে নয় মাইল পশ্চিমে ঘটে থাকে বলে এফএএ সূত্রে জানা যায়। বিমান দুইটি পাইপার পিএ-৩৪ এবং সেসনা ১৭২ এয়ারক্রাফট মডেলের ছিল। মায়ামি দেইদের পুলিশ ডিটেকটিভ আলভারো জাবালেটা বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজাখুজি চলছিল। গতকাল বুধবার নিখোঁজ আরও একজনের খোঁজে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশি কাজ চলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই চতুর্থ লাশটিকে উদ্ধার করা হয়। নিহত চারজন মায়ামি এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্ট ভিত্তিক একটি ফ্লাইট স্কুলের শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষক। নিহতরা হলেন কার্লোস আলফ্রেডো জানেত্তি স্কারপাতি (২২), হোর্হে সানচেজ(২২), র‌্যালফ নাইট এবং নিশা সেজওয়াল(১৯)। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের এজেন্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছিলেন। তবে বিধ্বস্তের ঘটনাটির সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। চারজন নিহতের মধ্যে একজন লাইসেন্স প্রাপ্ত পাইলট ছিলেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিমান দুইটি সম্ভবত একটি প্রশিক্ষণ অনুশীলন পরিচালনা করছিল। প্রতিটি বিমানে একজন করে ছাত্র ও প্রশিক্ষক ছিলেন।
বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন মিলার
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন আর্ল রবার্ট মিলার। সাড়ে তিন বছর ধরে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের দায়িত্ব সামলে আসছিলেন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার আর্ল রবার্ট মিলারকে ওই পদের জন্য মনোনীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস অনুমোদন করলে শিগগিরই বার্নিকাটের জায়গায় দেখা যাবে মিলারকে। মার্কিন মেরিন কোরের সাবেক কর্মকর্তা মিলার পররাষ্ট্র দপ্তরের হয়ে কাজ করে আসছেন ১৯৮৭ সাল থেকে। আর ২০১৪ সাল থেকে তিনি আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় রাষ্ট্রদূতের পালন করে আসছেন। মিলার ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। নয়াদিল্লি, বাগদাদ ও জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার পর মিলার যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি মেরিন কোরে এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত মেরিন কোর রিজার্ভে অফিসার পদে ছিলেন।
আমিরাতি প্রিন্সের কাতার পলায়ন
অনলাইন ডেস্ক: জীবননাশের হুমকির মুখে কাতারে পালিয়ে গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক প্রিন্স। শেখ রশিদ বিন হামাদ আল-শার্কি নামের ওই প্রিন্স দোহার কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলেও খবর বেরিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি মনার্কির (রাজ্য) ফুজারিয়াহ আমিরের দ্বিতীয় সন্তান ৩১ বছর বয়সী শেখ রশিদ। গত ১৬ মে তিনি দোহা পৌঁছেছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। জীবন হুমকির মুখে থাকায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই প্রিন্স। মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস রোববার এক প্রতিবেদনে এমন খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন। প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি মনার্কি বা রাজ্যের মধ্যে আবুধাবি দেশটির রাজধানী এবং সবচেয়ে ধনী অঞ্চল। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে শেখ রশিদ আমিরাতি শাসকদের ব্লাকমেইল ও অর্থপাচারের ব্যাপারে বলেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। এ ছাড়া ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে দেশটির এলিটদের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তাও ফাঁস করে দেন শেখ রশিদ। তিনি বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে প্রকাশ্যে ১০০ আমিরাতি সেনা নিহতের কথা বলা হলেও বাস্তবে আরো বেশি নিহত হয়েছে এবং অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ফুজারিয়াহ মনার্কির সেনা বেশি নিহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে এক আমিরাতি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই, এগুলো রাজপরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। উল্লেখ্য, কাতার সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে এবং গাল্ফ অঞ্চলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করছে এমন অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের জুন মাসে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক চ্ছিন্ন করে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিতে প্রথম কাতার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ওই অভিযোগ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম রাজপরিবারের কোনো সদস্য শাসকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলল।
৫ লাখ ডলার দান করবেন এমবাপ্পে
অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের দারুণ ভূমিকা নিয়ে দ্বিমত করার মতো লোক কমই আছে। তবে এবার ভিন্ন কারণে পাদপ্রদীপের আলোয় তিনি। স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড ম্যাগাজিনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বিশ্বকাপে যেই ৭ ম্যাচ খেলেছেন সেখানে প্রতি ম্যাচে এই ১৯ বছর বয়সী তারকা ২২৫০০ ডলার করে ফি আয় করেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপ জয়ের পর বোনাস হিসেবে পেয়েছেন সাড়ে ৩ লাখ ডলার। এই হিসাবে বিশ্বকাপে মোট ৫ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করেছেন তিনি। তবে এই অর্থের এক কানাকড়িও নাকি তিনি নিজে নেবেন না। এই অর্থ তিনি দান করবেন প্রিমিয়ের্স দ্য কোর্ডে নামে একটি দাতব্য সংস্থায়। এই সংস্থা হাসপাতালে ভর্তি ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করে থাকে। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো এই সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। সংস্থাটির ব্যবস্থাপক সেবাস্তিয়ান রাফিন এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পেকে অসাধারণ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এমবাপ্পের দানের বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কয়েকদিন আগে এমবাপ্পে ও তার পরিবারের প্রতিনিধি এসে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে আমরা প্রথমে সবাইকে জানাতে চাইনি। কারণ কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেই বোনাস পেতেন তিনি। তবে আমরা তার এই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ভীষণ আপ্লুত হয়েছি। আমরা কখনই আমাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা চাই না। এমবাপ্পে নিজেই তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।’ প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপে মোট ৪ গোল করেছেন এমবাপ্পে। এছাড়া জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের খেতাব। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর হয়ে খেলার সুবাদে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ লাখ ডলার আয় করেন তিনি।
গ্রীনল্যান্ডের গ্রামের দিকে ভেসে আসছে বিশাল আইসবার্গ
অনলাইন ডেস্ক: গ্রীনল্যান্ডের পশ্চিমের একটি গ্রামের দিকে ভেসে আসছে বিশাল একটি আইসবার্গ বা সাগরে ভাসমান বরফখন্ড। এরফলে গ্রামটির কিছু বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।- খবর বিবিসির। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, তারা জীবনে এতো বড় আইসবার্গ দেখেননি। ১০০ মিটার উচুঁ এই আইসবার্গটি সমুদ্রতটের কয়েক মিটার সামনে থেমেছে এবং ধীরে ধীরে বরফ গলা শুরু হয়েছে। ইন্নারসুইট নামের ওই গ্রামটি কোণাকুণি পাথুরে জায়গার ওপর, যার তিনদিকেই সমুদ্র। আশংকা করা হচ্ছে, আইসবার্গটি যদি ভেঙে পড়ে তাহলে সাগরে যে ঢেউ তৈরি হবে, তা বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ইন্নারসুইট গ্রামের বাসিন্দা ১৬৯ জন। যাদের বাড়ি সাগরের একেবারে তীরে এমন ৩৩ জনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাকিদেরকে তাদের নৌকা আইসবার্গ থেকে দূরে রাখতে বলা হয়েছে। গ্রীনল্যান্ডের রাজধানী নুক থেকে ৬০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই গ্রাম ইন্নারসুইট। এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা শিকারি ও মৎস্যজীবী। গ্রামের কাউন্সিল সদস্য সুজান এলিয়াসেন স্থানীয় এক পত্রিকাকে বলেছেন, আইসবার্গটির গায়ে ফাটল দেখা যাচ্ছে, তাই আমরা ভয় পাচ্ছি যে এটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়া গ্রামটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি তেলের ডিপোও সাগরের কাছেই। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আইসবার্গ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। জুন মাসেই বিজ্ঞানীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যাতে পূর্ব গ্রীনল্যান্ডে একটি হিমবাহ থেকে এক বিশাল আইসবার্গ আলাদা হয়ে যাবার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গ্রীনল্যান্ড ঢেকে থাকা বরফের স্তরের আয়তন প্রায় ১৮ লাখ বর্গকিলোমিটার এবং বরফের স্তর গড়ে দেড় কিলোমিটারেরও বেশি পুরু। আলোকিত বাংলাদেশ
নওয়াজ শরীফ ও মেয়ে মরিয়ম কারাগারে
অনলাইন ডেস্ক: বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তাদের বহনকারী বিমানটি আবুধাবি থেকে লাহোরের আল্লামা ইকবাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। সেখান থেকেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। খবর: দ্য ডন। গত শুক্রবার এভেনফিল্ডের দুর্নীতি সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নওয়াজ ও তার মরিয়মকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। নওয়াজকে ১০ বছর এবং মরিয়মকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের জন্য বাবা নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তাকে বাঁচাতে এটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অবহিত করায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় মেয়ে মরিয়মকেও। আদালতের দণ্ডাদেশ থাকা সত্বেও নওয়াজ ও মরিয়ম ঘোষণা দেন যে, তারা দেশে ফিরবেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। কিন্তু দেশে নামার আগেই ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) এবং পাঞ্জাব প্রদেশ সরকার বাবা-মেয়েকে কারাগারে নেয়ার সকল ব্যবস্থা করে রাখে। এজন্য হেলিকপ্টারও প্রস্তুত করে রাখা হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, নওয়াজ ও তার মেয়েকে নিয়ে বিমানটি অবতরণ করার সাথে পুরা বিমানবন্দর আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সেখানে অবস্থানরত অন্য যাত্রীদের সরিয়ে দেয়। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় আবুধাবি থেকে একটি বিমানে করে তারা রওনা দেন। রাত ৮.৪৫টার দিকে পাকিস্তানে নামার পরপরই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) তিনজন সদস্য তাদের দুইজনেরই পাসপোর্ট জব্দ করেছে। এর আগে তাদেরকে বহন করা ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি ৩ ঘণ্টা বিলম্ব করলে বিমানবন্দরে নেমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নওয়াজ শরীফ। এ ঘটনায় ফোনে বিস্ময় প্রকাশ করে সংবাদকর্মীদের তিনি বলেন, ‘যে ফ্লাইট কখনো দেরি করে না, সেটি কেন আজকে দেরি করল। বুঝে নেন, কেন কাদের নির্দেশে বিমান বিলম্ব করল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো জানিই যে, আমাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং আমার মেয়েকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরপরেও আমরা দেশে ফিরেছি, দেশের গণতন্ত্রের প্রয়োজনে, আমাদের পরিবর্তন দরকার। তারা জানে, মানুষ জাগছে, গণমাধ্যম জাগছে; এতেই তারা ভীত।’ তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর নওয়াজ শরীফ এর বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে সংবাদকর্মীদের অনুরোধ করেন। সেইসাথে তারা যাতে কারও ভয়ে পিছপা না হন সে আহ্বান জানান। এদিকে নওয়াজ ও তার মেয়েকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে লাহোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হওয়া বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিমানবন্দরের সামনে। একইভাবে ভাই ও ভাতিজিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে গাড়িবহর নিয়ে উপস্থিত ছিলেন পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ।
পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে বোমা হামলা
অনলাইন ডেস্ক :পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের শহর বান্নুতে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন ও আহত হয়েছেন ১৯ জন। ২৫শে জুলাই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এ নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মত এ ধরণের হামলার ঘটনা ঘটল। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। শুক্রবার, পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক দল জেইউআই-এফ আয়োজিত এক জনসভা শেষে এ হামলা চালানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনসভাটি করা হয়েছিল হুয়াইদ অঞ্চলে। প্রচন্ড বিস্ফোরণে সমাবেশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল। তিনি জানান, সমাবেশস্থলে একটি মোটরসাইকেলে স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরক ডিভাইসের মাধ্যমে দূর থেকে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। সমাবেশটি আয়োজন করেছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুরানি। তিনি জেইউআই-এফ পার্টির হয়ে পাকিস্তানের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি অক্ষত রয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক সমাবেশকে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় ভয়াবহ হামলা। এর আগে মঙ্গলবার, পেশওয়ারে এক জনসভায় আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনায় বিখ্যাত রাজনীতিবিদ হারুন বিলৌর নিহত হন। এতে আরো ২০ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবানের পাকিস্তান শাখা। ২০১২ সালে জঙ্গিবাদবিরোধী মনোভাবের কারণে বিলৌরের বাবাকেও হত্যা করেছিল তালেবান জঙ্গিরা। তবে এখন পর্যন্ত শুক্রবারের বোমা হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনপূর্ব সময়ে বিভিন্ন সহিংসতায় প্রায় ১৫৮ জন নিহত হয়েছিল। পাকিস্তান ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীগোষ্ঠি তেহরিক-ই-তালিবান ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ করে আসছে। ২০০৭ সাল থেকে সংগঠনগুলো পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামলা চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জঙ্গিগোষ্ঠিগুলোকে তাদের ঘাটি উত্তর ওয়াজিরিস্তান থেকে উতখাতের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলে এ অঞ্চলে সহিংসতার পরিমাণ কমে আসে। তবে, এখনো সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে বিক্ষিপ্তভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
লন্ডনে ট্রাম্প-মে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক :যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ারে অবস্থিত বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন চেকার্স-এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাজ্যে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। এ সফরের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক আগামী দিনে আরো জোরদার হবে। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বৈঠক শেষ হলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্তারিত অবহিত করবেন। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, এ সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করবো। ব্রেক্সিট ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মে।
ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনের সামরিক প্রভাব
অনলাইন ডেস্ক :দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনের সামরিক প্রভাব। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নেপালের সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙঘি বুধবার বেইজিংয়ে সফররত নেপালের সেনাপ্রধান রাজেন্দ্র ছেত্রির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এসময় ওয়েই বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে চীন ও নেপাল বন্ধুপ্রতীম দুই প্রতিবেশী। চীন তার কোর স্বার্থগুলোর ব্যপারে নেপালের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন আশা করে।তিনি জোর দিয়ে বলেন যে চীন ও নেপালের রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ একমত হয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেবেন সেগুলো বাস্তবায়ন করবে দুই দেশের সেনাবাহিনী। তারা বাস্তব সহযোগিতাকে এগিয়ে নেবে, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করবে এবং মানবতা ও বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের জন্য অভিন্ন ভবিষ্যতসম্পন্ন একটি জাতি গড়ে তুলতে অবদান রাখবে।নেপাল সেনাবহিনীকে সমর্থন দেয়ার জন্য ছেত্রি চীনকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন যে তার দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা ও লেনদেন জোরদার করতে আগ্রহী। ছেত্রি বলেন, নেপাল দৃঢ়ভাবে এক চীন নীতি অনুসরণ করে এবং কখনো কোন শক্তিকে তার ভূখ- চীন বিরোধী কাজে ব্যবহৃত হতে দেবে না। সাউথ এশিয়ান মনিটর

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর