ভারতের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ওই ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মৃতদের মধ্যে একটি পাঁচ মাসের শিশু রয়েছে বলেও জানা যায়। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির এমপ্লয়িজ স্টেট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (ইএসআইসি) হাসপাতালে আগুন লাগে। গতকালই ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এনডিটিভি জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকালে আরো দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই হাসপাতাল থেকে ১৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে যোগ দেন অন্য বাহিনীর সদস্যরাও। আগুনে গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পরই শুরু হয়ে যায় উদ্ধারকাজ। ভেতরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্যে বারান্দা ও জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন রোগীরা। মই লাগিয়ে জানালার কাচ ভেঙে দড়ি বেঁধে রোগীদের নিচে নামিয়ে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ওই হাসপাতাল থেকে এরই মধ্যে দেড় শতাধিক রোগীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অন্যান্য হাসপাতালে। উদ্ধার হওয়া রোগীদের আশপাশের কুপার, হোলি স্পিরিট, হীরানন্দানি, সিদ্ধার্থ, সেভেন হিলস এবং পি ঠাকরে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা যায়, আটতলা হাসপাতালটির সবচেয়ে নিচের তলায় প্রথমে আগুন লাগে। নিচে একটি রাবারের গুদাম থেকে আগুন ছড়ায় বলে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা। আগুন ধীরে ধীরে হাসপাতালের ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালজুড়ে রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। আতঙ্কে অনেক রোগী হাসপাতালের দোতলা ও তিনতলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। মুম্বাইয়ের মেয়র ভি মহাদেবেশ্বর জানিয়েছেন, ওই হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এমএসডিসি)। ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে, এমএসডিসির ডেপুটি চিফ এমডি ওগলে জানান, ১৫ দিন আগে ওই হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তবে তাতে পাস করতে পারেনি হাসপাতাল। আগুনের উৎসস্থল খুঁজে সাইরেন বাজানো এবং তারপর স্বয়ংক্রিয় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেনি।
ধেয়ে যাচ্ছে অন্ধ্র প্রদেশের দিকে ঘূর্ণিঝড় ফেথাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ফেথাই। ঘন্টায় ৯৫ কিলোমিটার গতিবেগে এগুচ্ছে ঝড়টি। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সোমবার দুপুরের পর যেকোন মুহূর্তে অন্ধ্র প্রদেশ ও তামিল নাড়ুতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় হেথাই। রোববার থেকেই প্রবল বাতাসের পাশাপাশি শুরু হয়েছে টানা বর্ষণ। এরইমধ্যে, উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। স্থানীয় জেলেদের সোমবার মাছ ধরতে সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া অফিস। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়োগ করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর অন্তত ১৬টি ইউনিট। তবে ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার বিকেল নাগাদ দূর্বল হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পশ্চিমবঙ্গের শিয়ালদহে ট্রেন বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের শিয়ালদহ শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ভারতে ঢুকে সমস্যায় পড়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি। আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম ট্রেন রুট বনগাঁ-শিয়ালদহ এবং বনগাঁ-হাসনাবাদ শাখায় ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে তৈরি হয়েছে এই সমস্যা। জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর আজ রোববার সমস্যায় পড়েছেন বহু বাংলাদেশি ট্রেনযাত্রী। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে আজ রোববার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত ভারতের পূর্ব রেলের শিয়ালদহ বিভাগে বারাসত থেকে মধ্যমগ্রাম রেল স্টেশনের মধ্যে চলাচল করছে না কোনো ট্রেন। ফলে ভারতের সীমান্ত শহর বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একইভাবে হাসনাবাদ শাখাতেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ট্রেন চলাচল। যে কারণে পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর বাংলাদেশি পর্যটকরা শিয়ালদহ যাওয়ার ক্ষেত্রে রেলপথে সমস্যার মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর দিয়েও ভারতে প্রবেশ করে সমস্যায় পড়ছেন বাংলাদেশিরা। ভারতের পূর্ব রেল সূত্রে জানা যায়, বারাসতের ১২ নম্বর রেল গেটের দুই পাশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে রেল লাইনের নিচ দিয়ে ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে তৈরির জন্য ২৪ ঘণ্টা ওই লাইনে ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার জেরে শিয়ালদহ-বনগাঁ, শিয়ালদহ-বারাসত ও শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখায় বহু লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেন মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোতে শাটল হিসেবে চালানো হলেও তার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। ফলে রোববার সকাল থেকেই এই লাইনের যাত্রীরা ও ভারতে আসা বাংলাদেশি পর্যটকরা মহাসমস্যার মধ্যে পড়েছেন। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ বিভাগে বারাসত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন। এই জংশন থেকেই একদিকে বারাসত-বাংলাদেশের বনগাঁ স্টেশন হতে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে যেমন যাওয়া যায়, তেমনি হাসনাবাদ হয়ে ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্তে যাওয়া যায়। ওই দুই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বহু বাংলাদেশি ট্রেনে করে বারাসত জংশন হয়ে শিয়ালদহে যাতায়াত করে। কম খরচে কলকাতায় যাওয়ার জন্য এই ট্রেনপথই বাংলাদেশিদের যাতায়াতের অন্যতম একটি রাস্তা। সেখানে এদিন সমস্যার কারণে রোববার সকাল থেকেই বিপাকে পড়েছেন ভারতে আসা বহু বাংলাদেশি। অগত্যা পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা থেকে মোটা রুপি ব্যয় করে তাঁদের সড়কপথেই যেতে হচ্ছে কলকাতায়। তবে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সহায়তা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা যায়। বারাসত রেলের জিআরপি ওসি দীপক পাইক জানান, মধ্যমগ্রাম ও বারাসত স্টেশনের মধ্যে ট্রেন না চলার কারণে যাত্রীদের রেলের তরফে একটি পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বনগাঁ থেকে বারাসত বা শিয়ালদহ থেকে বারাসত পর্যন্ত শাটল ট্রেনে আসা যাত্রীরা টিকিট দেখিয়ে নিতে পারবেন এই পরিষেবা। ওই পরিসেবার মাধ্যমে যাত্রীদের বারাসত স্টেশন থেকে মধ্যমগ্রাম ও মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসত স্টেশন পর্যন্ত রেল বাসে করে যাত্রীদের পৌঁছে দেবে। তবে সেই পরিষেবা চালু থাকলেও এই লাইনে যেহেতু শাটল ট্রেনের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য থাকবে সেহেতু যাত্রী দুর্ভোগ আজ দিনভর চলবেই। বনগাঁ জিআরপি ওসি লোকনাথ ঘোষ জানান, বনগাঁ থেকে বারাসত পর্যন্ত এদিন কয়েকটি শাটল ট্রেন চললেও সেই ট্রেন থাকবে অত্যন্ত কম। রেলসূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত টাইম টেবিল মেনে এই শাটল ট্রেন চলবে না। ফলে আগেভাগে যাত্রীরা কখন কোন ট্রেন ছাড়বে সেটা বুঝতে না পারায় সমস্যা প্রকট হবে।
ভারতের একটি মন্দিরে প্রসাদ প্রাণ গেল ১১ জনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের একটি মন্দিরে প্রসাদ খাওয়ার পর অন্তত ১১ জন মারা গেছেন। এ সময় আরো অনেক মানুষ অসুস্থ হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের চামারাজানগর জেলার মারাম্মা মন্দিরে গতকাল শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে ওই খাবারের আয়োজন করা হয়। মন্দিরে দীক্ষিতদের বিদায় উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মন্দিরে প্রসাদ খাওয়ার পর অন্তত ৭০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অসুস্থদের মধ্যে আরো ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে এই ঘটনার পর পরই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পুলিশকে জানিয়েছেন, মন্দিরের খাবারটি বিষাক্ত হয়ে থাকতে পারে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একজন ব্যক্তি বলেছেন, মন্দিরে প্রসাদ হিসেবে টমেটো ভাত দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে গন্ধ আসছিল। যারা সেই খাবার খায়নি, তারা ভালো আছে। যারা খেয়েছে, তারাই বমি করতে শুরু করে এবং পেটে ব্যথা হয়। এই ঘটনায় কর্নাটক রাজ্য সরকার শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটেনের কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্বে থাকার প্রশ্নে আস্থা ভোটে টিকে গেলেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এর ফলে আরো অন্তত এক বছর তিনি দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আগামী এক বছরের মধ্যে দলে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন গ্রহণ করা হবে না। বুধবার রাতে ভোটাভুটিতে থেরেসা মের পক্ষে পড়েছে ২০০ ভোট আর বিপক্ষে ১১৭। আস্থা ভোটে থেরেসা মে জিতেছেন ৮৩ ভোটে। দলের ৬৩ শতাংশ এমপি ছিল তাঁর পক্ষে আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ৩৭ শতাংশ। ভোটে হেরে গেলে দলের প্রধানের পদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পদও ছাড়তে হতো তাঁকে। জয়ের পর থেরেসা মে দলের এমপিদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এটি ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে তাঁকে সহায়তা করবে বলেও জানান। মূলত ব্রেক্সিট নিয়েই সমস্যার সূত্রপাত। থেরেসা মের মন্ত্রিসভা থেকে দু-দুজন ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তারপর মন্ত্রিপরিষদ ছেড়ে যান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। পদত্যাগের ধারায় সর্বশেষ যোগ দেন বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হন থেরেসা মে। সংসদে আস্থা ভোটের ডাক দেওয়ার জন্য দরকার ছিল ৪৮ জন কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্যের আবেদন। টিকে থাকার জন্য থেরেসা মের দরকার ছিল ১৫৯টি ভোট। যদিও ভোটের আগেই ১৭৪ জন এমপি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা মের পক্ষে ভোট দেবেন। আর প্রকাশ্যে থেরেসা মের বিরোধিতা করেছিলেন ৩৪ জন।
বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজেপিকে হটিয়ে ক্ষমতায় কংগ্রেস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। গতকাল রাতে টুইটারে হার মেনে কংগ্রেসকে ইতোমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস সভাপতি পদে নাম ঘোষণার ঠিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই জয় পেলে রাহুল। ভারতে লোকসভা ভোটের বাকি এখনও কয়েক মাস। লোকসভার আগে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে ধরা হয় সেমিফাইনাল। কিন্তু তার আগেই থেমে গেল নরেন্দ্র মোদীর বিজয়রথ। গোটা দেশের হিন্দি-বলয়ের রাজস্থান এবং ছত্তীসগঢ়ে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। মোদী-জমানায় প্রথম বার হিন্দি-বলয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপিকে হারালেন রাহুল। ঘোষিত ফলে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কোনটাতেই কংগ্রেসের চেয়ে বেশি আসন পায়নি বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্রিশগঢ়, তেলঙ্গানা, মিজোরাম সব কটি রাজ্যে বিজেপির চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশের ২৩০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ১১৪টি আসন। সেখানে বিজেপি পেয়েছে ১০৯টি। রাজস্থানেও বিজেপির চেয়ে বেশ এগিয়ে কংগ্রেস। এখানকার ২০০ আসনের ১০১টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৭৩টি আসন। ছত্রিশগড়ে মাত্র কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। এখানকার ৯০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৬৮টি আসন। আর তেলাঙ্গানাতে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে টিআরেএস। এখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র একটি আসন। সেখানে কংগ্রেস ও টিডিপি জোট পেয়েছে ২১ আসন। মিজোরামেও বিজেপির চেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। এ রাজ্যে মোট আসন সংখ্যা ৪০টি। এখানে অবশ্য সবচেয়ে বেশি পেয়েছে এমএনএফ ২৬ আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি। আর বিজেপির্ পেয়েছে মাত্র একটি আসন। যদিও মাত্র দুইটি আসনের জন্য রাজস্থানে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মধ্যপ্রদেশে রাত পর্যন্ত ম্যাজিক সংখ্যার নীচেই থেকে গিয়েছে দুইদল। সেখানেও সরকার গড়া নিয়ে নিশ্চিত কংগ্রেস। কারণ, অখিলেশ, মায়াবতীর দল সেখানে আসন পেয়েছে, যা সরকার গড়ার অন্যতম চাবি হয়ে উঠেছে। মোদীর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ গতকালই বলেছিলেন, সব রাজ্যেই জিতবে বিজেপি। সকালে সংসদে গেলেও ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরে তাঁকে আর দেখা যায়নি। পাঁচ বছর আগে এ রকমই এক ডিসেম্বর মাসে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তীসগঢ়ে বিধানসভা নির্বাচনে মোদী-ঝড়ে বিপুল ভোট বিজেপি ক্ষমতাসীন হয়েছিল। নির্বাচনের ফলে স্বাভাবিক ভাবেই উজ্জীবিত কংগ্রেস। দলের নেতাদের মতে, ২০১৮-র এই ভোটই ২০১৯-এর ভোটের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিল। ঠিক যেমন হয়েছিল ২০১৩ সালে।
ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ,আহত ১২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কড়া নিরাপত্তার মাঝেও ফ্রান্সে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন রাস্তায় জড়ো হয়ে পুলিশি বেস্টনিতে প্রতিবাদ করেন ইয়েলো ভেস্ট পরিধান করা হাজারো বিক্ষোভকারী। আন্দোলনের একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আন্দোলনকারীদের অনেকেই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, পেপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ। সংঘর্ষে অন্তত ১২৬ জন আহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে আটক করা হয় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে। চার সপ্তাহ ধরে চলে আসা এই সহিংস বিক্ষোভের কারণে আইফেল টাওয়ার এবং পর্যটক-প্রিয় অন্যান্য জায়গায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার লোক মোতায়েন রয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সের পর ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে নেদারল্যান্ড এবং বেলজিয়ামেও।
তালেবান হামলায় আফগানিস্তানে ১৪ সেনা নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে দুটি সেনা ফাঁড়িতে তালেবান হামলায় অন্তত ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা জানান, হামলার পর ২১ সেনাকে বন্দি করে নিয়ে গেছে তালেবানরা। হেরাত প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য নাজিবুল্লাহ মোহেবি জানান, বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে শিনধান্দ জেলায় হামলা শুরু হয়। ছয় ঘণ্টা সংঘর্ষ চলায় আরও সেনা সদস্য সেখানে হাজির হয়। কিন্তু তার আগেই তালেবানরা ২১ সেনাকে বন্দী করে নিয়ে যায়। তবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গফুর আহমেদ জাওয়িদ নিহত ও আহত সেনার সংখ্যা ১০ বলে দাবি করেছেন। হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিনধান্দ জেলার প্রধান হেকমতুল্লাহ হেকমাত জানান, হামলায় অন্তত ২০০ তালেবান যোদ্ধা অংশ নেয়। তারা রকেটচালিত গ্রেনেড ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। শুক্রবার সংঘর্ষ ১২ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি কক্ষে সৈন্যদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
দৈনিক তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত: ওপেক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দৈনিক তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওমানের তেল ও গ্যাস মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হামাদ। তবে তেল উৎপাদন কতটুকু কমানো হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তো তথ্য জানাননি তিনি। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৃহস্পতিবার ওপেকের শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) দিনভর সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠক করে এ তথ্য জানায়। তবে ওইসব বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। যদিও ধারণা করা হচ্ছে ওপেক থেকে কাতারের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে কথা হয়েছে। আজ বৈঠকের পরই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর