সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১
ভয়াবহ সংকটে ইউরোপ, মৃত্যু আরও ৬ হাজার
১৬,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউরোপে করোনারঘাত শুরু হয়েছিল ইতালি দিয়ে, যা এখন গোটা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে দেশগুলোকে। কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলেও সুখবর মিলছে না। ফলে দীর্ঘ হয়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। গত একদিনেও যার শিকার আড়াই লাখ মানুষ, প্রাণ ঝরেছে প্রায় ৬ হাজার ভুক্তভোগীর। বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, ইউরোপে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা হানা দিয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯ জনের শরীরে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ৫ হাজার ৭২১ জনের। এ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৪৯ জনে ঠেকেছে। যদিও সুস্থতা লাভ করেছেন ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার রোগী। ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রায় সবগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এর মধ্যে সবচেয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, পোলান্ড, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোতে। এর মধ্যে চরম সংকটে রাশিয়া। গত বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দেশটিতে করোনা হানা দেয়। শুরুতে ততটা ভয়াবহতা না দেখা গেলেও একই বছরের শেষের দিক থেকে এখন পর্যন্ত উপর্যুপুরী আঘাত হেনেই চলেছে ভাইরাসটি। যেখানে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৫৩১ জনের শরীরে হানা দিয়েছে করোনা। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ৫৫৫ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪৯৫ জনে ঠেকেছে। সুস্থতা বাড়লেও তা সংক্রমণের তুলনায় কম। করোনা রুখতে নিজ দেশের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে দেশটি। যদিও এখনও তেমন সুখবর মিলেনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বর্তমানে যুকরাষ্ট্রের পরই শোচনীয় অবস্থায় এ অঞ্চলের আরেক দেশ ব্রিটেন। কঠোর লকডাউন জারি রয়েছে দেশটিতে। তারপরও থামছে না ভাইরাসটি দাপট। তাই, এবার ব্রিটেন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি। এখন পর্যন্ত সেখানে করোনা হানা দিয়েছে ৩৩ লাখ ১৬ হাজার মানুষের দেহে। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ৮৭ হাজার ২৯৫ জনের। অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় নতুন করে ধুকছে ফ্রান্স। যা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত ভুক্তভোগী। এমতাবস্থায় মহামারি থামাতে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। যা আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল পর্যন্ত জারি করা এই কারফিউ চলবে টানা ১৫ দিন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ৬৯ হাজার ৯৪৯ জনের। একই অবস্থায় ইতালিও। যেখানে কোনভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না করোনার গতি-প্রকৃতি। আগের তুলনায় সুস্থতার বাড়লে থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ করোনার কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৫ জন। আশার খবর নেই পার্শ্ববর্তী দেশ স্পেনেও। আক্রান্ত ও মৃতু হলেও বেশ কয়েকদিন ধরেই সুস্থতা শূন্য দেশটি। যেখানে আজ শনিবার পর্যন্ত ২২ লাখ ৫২ হাজারের অধিক মানুষের দেহে হানা দিয়েছে ভাইরাসটি। প্রাণ ঝরেছে ৫৩ হাজার ৩১৪ জনের। আশঙ্কার খবর ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র জার্মানিও নতুন করে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। নতুন বছরের শুরু থেকে দেশটি করোনার যেন লাগাম ছাড়া। প্রতিদিনই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারাচ্ছেন সেখানে। গত একদিনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এখন পর্যন্ত ২০ লাখ ২৪ হাজার জার্মান করোনার শিকার হয়েছেন। এর প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার সুস্থতা লাভ করলেও প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ৪৬ হাজার। দেশটিতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। তারপরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় ভ্রমণে কঠোর বিধি আরোপ করেছেন জার্মান চ্যাঞ্জেলর। এছাড়া পোলান্ডে আক্রান্ত ১১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজার ৮৪৪ জনের। নেদারল্যান্ডসে করোনার হানা দিয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার মানুষের দেহে, প্রাণহানি ঘটেছে ১২ হাজার ৮৬৮ জন ভুক্তভোগীর। বেলজিয়ামে সংক্রমিত ৬ লাখ ৭৩ হাজার, মৃত্যু ২০ হাজার ২৯৪ জনের।
করোনায় মৃত্যু ২০ লাখ ছাড়াল
১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৪ জন। এতে মারা গেছেন ২০ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ জন। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৪ জন এখন পর্যন্ত মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এ পর্যন্ত সেখানে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ১১৫ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৭ হাজার ১৬০ জনের আর সুস্থ হয়েছেন ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৩ জন। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৫০৮ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৯৫৪ জনের আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি এক লাখ ৬২ হাজার ৭৩৮ জন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সঙ্কটকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্কের ২০ বছর কারাদণ্ড
১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হেকে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। প্রথমে গত জুলাই মাসে পার্ককে প্রায় ৩০ বছরের জেল ও ২০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। তবে ওই জরিমানা ও কারাদণ্ডের মেয়াদ হ্রাস করে বৃহস্পতিবার দেশটির উচ্চ আদালত চূড়ান্ত এই রায় প্রদান করেন। আদালত তাকে ১৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম নারী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন পার্ক। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বন্ধু চোই সুন-সিল পার্কের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে সাড়ে ৬৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে স্যামসাং এবং হুন্দাইয়ের মতো কোম্পানিও রয়েছে। ওই অর্থ সন্দেহভাজন একটি ফাউন্ডেশনের নামে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়, পার্ক এসব ফান্ড থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এসব অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন প্রণেতারা পার্ককে অভিশংসিত করার পক্ষে রায় দেন। তখন থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১০ মার্চ পার্ককে সাংবিধানিক আদালত চূড়ান্তভাবে অভিশংসিত করে। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান
১১,জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৬২ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই সমুদ্রে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়ার বিমানটির ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিমানটির ফ্লাইট রেকর্ডার থেকে রোববার কিছু সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল, যার সূত্র ধরেই ব্ল্যাক বক্সের খোঁজ মেলে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির প্রধান সুরিয়ান্ত তাইয়োনো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, দুটি ফ্লাইট রেকর্ডারের অবস্থানই তারা চিহ্নিত করেছেন। এখন ডুবরিরা সেগুলোর উদ্ধারের কাজ শুরু করবেন। আশা করি সেগুলো উদ্ধারে আমাদের খুব বেশি সময় লাগবে না। দেশটির নৌবাহিনীর ডুবুরিরা আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে তারা আজ সোমবার উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পর বিমানের দুটি ব্ল্যাক বক্সই উত্তোলন করতে পারবেন। বিমানের ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডার মূলত ককপিটে কি কথা হচ্ছে এবং বিমানের গতিবিধি সম্পর্কিত তথ্য রেকর্ড করে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে নৌবাহিনীর ডুবুরিসহ দশটির মতো জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু যাত্রীদের দেহাবশেষ এবং বিধ্বস্ত বিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে বিমানটির একটি চাকা, একটি ইঞ্জিনের টারবাইন ও ফিউজিলেজ বা বিমানটির লেজের দিকের কিছু অংশ রয়েছে। উদ্ধারকৃত এই ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তদন্তকারীরা। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে শনিবার যাত্রা শুরু করার চার মিনিট পরেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় শ্রিভিজায়া এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ যাত্রীবাহী বিমানটি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরেডারের তথ্য অনুসারে, বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে ১০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে নেমে এসেছিলো বলে মনে করা হচ্ছে। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পরিবহন মন্ত্রী বুদি কারিয়া জানান, বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লাকি দ্বীপের কাছে সাগরে সেটি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পর রওনা হয়েছিল। জাকার্তা থেকে রওয়ানা হওয়ার পরপরই সেটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। আস্তে আস্তে মানবদেহের খণ্ডাংশ এবং আরোহীদের জিনিসপত্র পানিতে ভেসে উঠতে শুরু করে। বিমানটির ধারণ ক্ষমতা ১৩০ আরোহীর হলেও যাত্রীবাহী বিমানটিতে ১২ জন ক্রু এবং ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে সাতটি শিশু ও তিনটি নবজাতকও ছিল। বিমানে থাকা প্রত্যেকেই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তাদের মধ্যে নবদম্পতিও রয়েছে।
নিখোঁজ প্লেন বিধ্বস্তের স্থান শনাক্ত, উদ্ধারে অভিযান
১০,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শ্রীবিজয়া এয়ারের উড়োজাহাজটির বিধ্বস্তের স্থান শনাক্ত করা গেছে, দাবি কর্তৃপক্ষের। বোয়িং ৭৩৭ যাত্রীবাহী প্লেনটি শনিবার (০৯ জানুয়ারি) আনুমানিক ৬২ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের চার মিনিটের মধ্যেই নিখোঁজ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, উড্ডয়নের পর এটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। জাকার্তার সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে প্লেনটি ইন্দোনেশিয়ার ওয়েস্ট কালিমান্তনের পন্তিয়ানাকে যাচ্ছিলো। নৌবাহিনীর সাহায্য নিয়ে প্লেনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য ওই স্থানে ইতোমধ্যে দশটিরও বেশি জাহাজ পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। জাকার্তা পুলিশের একজন মুখপাত্র ইউসরি ইউনূস বলেন, অনুসন্ধান এবং উদ্ধারদলের কাছ থেকে দুটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। একটিতে রয়েছে যাত্রীদের মালামাল। আর অন্যটিতে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ।
অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় বিমান নিখোঁজ
০৯,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি রাজধানী জাকার্তা থেকে উড্ডয়ন করার পর রাডারের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ওই বিমানে থাকা আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিমানটি সাগরের ওপরে ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছে। ফলে এটি সাগরে বিধ্বস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রিয়িজায়া বিমানটি শনিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে উড্ডয়ন করেছিল। এটি জাকার্তা থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় কালিমানতান প্রদেশের পোন্তিয়ানাক শহরের দিকে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটির সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানটি ১০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে সাগরে বিধ্বস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাকার্তার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের চার মিনিটের মাথায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, আমরা একটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানের নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজ রাখছি। আমরা খুব দ্রুত এ বিষয়ে আরও তথ্য পাব বলে ধারণা করছি।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্ক
০৮,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এলন মাস্ক। মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী তিনি। এই মানুষটি এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী। এ তকমা জিততে তাকে পেছনে ফেলতে হয়েছে জেফ বেজোসকে। তাকে টপকেই তিনি এ জায়গা দখল করেন। এখন তিনি ১৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) তিনি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থানে উঠে আসেন। টেসলার শেয়ারের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই করোনা মহামারির মধ্যেও তড়তড় করে বেড়েছে তার টেসলার বাণিজ্য। গত বুধবার প্রমবারের মতো টেসলা কোম্পানির বাজার মূলধন ৭০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, আর তাতেই মাস্কের বাজিমাত। এই গাড়ি কোম্পানিটির সম্পদ এখন টয়োটা, ভক্সওয়াগন, হুন্দাই, জিএম এবং ফোর্ডের সম্মিলিত সম্পদকেও ছাড়িয়ে গেছে। করোনাকালে জেফ বেজসের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। তবে, তিনি তার কোম্পানি অ্যামাজনের ৪ শতাংশ সম্পদ তার সাবেক স্ত্রী ম্যাকেইঞ্জ স্কটকে লিখে দেন। আর এতেই এলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বেজসের সম্পদের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায়।
ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা জারি
০৭,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভের নামে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের আগ্রাসী তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জো বাইডেনকে জয়ী হিসেবে ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ করে ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে তাণ্ডব শুরু করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। এর পরপরই ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি করা হয়। বুধবার কংগ্রেস অধিবেশনের বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনে জড়ো হন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। এদের মধ্যে উগ্রপন্থি বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছেন। ওই সমাবেশের বক্তব্যে নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এদিকে, পার্লামেন্ট ভবনে সহিংসতার বিষয়ে ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেন, অনেকেই অস্ত্রসহ এখানে সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিতে এসেছে। তারা অস্ত্রের পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, ইট এবং বোতলও নিক্ষেপ করেছেন। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে ওয়াশিংটন ডিসির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য কারফিউ দেয়া, জরুরি পণ্য সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২১ জানুয়ারি দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেনের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরে কারফিউ জারি থাকবে। এদিকে পার্লামেন্ট ভবনে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের তিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন পদত্যাগ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউস, সোশ্যাল সেক্রেটারি রিকি নিকেটা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চিফ অফ স্টাফ স্টেফানি গ্রিশ্যাম বুধবার রাতে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে সারাহ ম্যাথিউস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনে সেবা দিতে পেরে এবং যে নীতিগুলো আমরা গ্রহণ করেছি তাতে আমি গর্বিত। তিনি আরও বলেন, আজ আমি যা দেখেছি তাতে আমি ভীষণভাবে বিরক্ত। আমি আমার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি যা এই মুহূর্ত থেকে কার্যকর হবে। আমাদের জাতির একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন। ইউএস ক্যাপিটল হিস্টোরিকাল সোসাইটির বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালে যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন এমন আগ্রাসনের সাক্ষী হলো। ১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে অভিযান চালানের সময় ভাইস অ্যাডমিরাল স্যার আলেক্সান্ডার ককবার্ন ও মেজর জেনারেল রবার্ট রোসের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন ক্যাপিটল ভবনে আগুন জালিয়ে দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। তবে প্রবল বর্ষণের কারণে সে যাত্রায় ওই ভবনটি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যায়। ইউএস ক্যাপিটল হিস্টোরিকাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পার্লামেন্ট ভবন শুধুমাত্র একটি অবকাঠামো নয়। এটি তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি আমেরিকার গণতন্ত্র এবং আমাদের জীবন-যাপনের মূর্ত প্রতীক। সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কারফিউ ভঙ্গ করার দায়ে। বুধবার আইন প্রণেতারা যখন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন ঠিক সে সময়েই ট্রাম্পের শত শত সমর্থক দেশটির আইনসভা কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে সহিংসতা চালায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের প্রবেশে অনুমতি দেয়নি চীন
০৬,জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের উৎপত্তি অনুসন্ধানে চীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ দলের দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দলটিকে এখনও দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি চীন। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম গেব্রেয়েসুস হতাশা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তেদ্রস আধানম বলেন, চীন এখনও তাদের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলকে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় তিনি খুবই আশাহত হয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রকোপ ধরা পড়ে। প্রায় এক বছর পর দেশটিতে করোনার উৎস খুঁজে বের করতে বিশেষজ্ঞ দলের যাওয়ার কথা থাকলেও তাতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১০ জনের বিশেষজ্ঞ দলটির চলতি মাসের প্রথমেই চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল। জেনেভা থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে তেদ্রস আধানম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, বিশেষজ্ঞ দলটির চীন সফরে যাওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তারা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দেশটিতে বিশেষজ্ঞদের সফরকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলটির নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পিটার বিন এমবারেকের। তিনি প্রাণিরোগের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ। এর আগে গত জুলাই মাসে তিনি প্রাথমিক একটি মিশনের অংশ হিসেবে চীনে সফর করেছিলেন। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের দুই সদস্য নিজ নিজ দেশ থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু চীন অনুমতি না দেয়ায় এদের মধ্যে একজন দেশে ফিরে গেছেন এবং অন্যজন তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থান করছেন। প্রথমদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর ঘোষণা দেয় তখন চীন তাদেরকে স্বাগত জানায়। কিন্তু এখন তারাই আবার ওই বিশেষজ্ঞ দলটিকে দেশে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে করোনার উৎস খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা আবারও থেমে গেল। চীনে প্রথম প্রাদুর্ভাব হওয়া এই ভাইরাস গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছে। তবে করোনার হানায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারে-কাছেও নেই কোনো দেশ।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর