নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের যোগসাজশ ছিল না
২৫মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো যোগসাজশ ছিল না বলে অবশেষে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট ম্যুলারের তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আজ সোমবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ম্যুলারের তদন্ত বিষয়ে দাখিল করা এক সারসংক্ষেপের বরাত দিয়ে এ কথা জানানো হয়। বিবিসি জানায়, গতকাল রোববার দেশটির কংগ্রেসে ওই তদন্তের সারসংক্ষেপ দাখিল করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার কংগ্রেসম্যানদের কাছে সেই সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেন। উইলিয়াম বার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে স্পেশাল কাউন্সেল (রবার্ট ম্যুলার) বিগত নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করার প্রমাণ পাননি। এদিকে ট্রাম্প গত দুই বছর ধরে চলা ম্যুলারের তদন্ত পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, এর আগে এমন অভিযোগও তোলা হয় বিরোধী পক্ষসহ বিভিন্ন মহল থেকে। সেই প্রসঙ্গে উইলিয়াম বার আরো জানান, এ বিষয়ে যা উপাত্ত পাওয়া গেছে তা মি. প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) তদন্ত পরিচালনায় বিঘ্ন বা হস্তক্ষেপ করেছেন তা প্রমাণে যথেষ্ঠ নয়। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ট্রাম্প লেখেন, কোনো যোগসাজশ নেই, কোনো হস্তক্ষেপ নেই। গত দুই বছর ধরে নানা সময়ে ট্রাম্প এ প্রতিবেদন পরিচালনা না করার ব্যাপারে আহ্বান জানাচ্ছিলেন। তিনি বারবার নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময়ে এটিকে তিনি উইচ হান্ট বলে মন্তব্য করেন। গতকাল টুইটারে এ প্রসঙ্গেই ট্রাম্প লেখেন, এটা লজ্জার যে আমার দেশকে এ প্রতিবেদনের ভেতর দিয়ে যেতে হলো। এটি একটি অবৈধ পদক্ষেপ ছিল, যা বিফল হয়েছে। অন্যদিকে ম্যুলারের এ তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ছোটখাটো বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়েছে ট্রাম্পের বিরোধী শিবিরে।
নিহত ছেলের জানাজায় এসে মারা গেলেন মা
২৪মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শোক কাটতে না কাটতে আরেকটি ঘটনা শোক আরো বাড়িয়ে দিলো। সেই আল-নূর মসজিদে গুলিতে নিহত ছেলের জানাজায় এসে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন মা। চোখের জলে ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন ফিলিস্তিনি এই মা। শনিবার( ২৩ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্টের বন্দুক হামলায় ৫০ মুসল্লির প্রাণহানি ঘটে। এই হামলায় মারা যান ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ৩৮ বছর বয়সী কামাল দারউইশ। তিন সন্তানের বাবা কামাল ক্রাইস্টচার্চের একটি দুগ্ধ খামারে কাজ করতেন। তার বড় ভাই আগে থেকেই নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে আসছিলেন। গত বছর জর্ডান থেকে ভাইয়ের কাছে আসেন কামাল। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিউজিল্যান্ডে আনার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন। সিডনিতে নিযুক্ত জর্ডান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্রাইস্টচার্চে নিহত কামালের ৬৫ বছর বয়সী মা সউদ আব্দেল ফাত্তাহ মেইসেন আদওয়ান শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পারিবারিক বন্ধু ইয়াসির মোহাম্মদ বলেন, কামালের মা শুক্রবার জর্ডান থেকে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছিলেন। ছেলের জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে আসেন তিনি। শনিবার সকালের দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি; কারণ ছেলেকে হারিয়ে তিনি শোকে ভেঙে পড়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডে তার আরো এক ছেলে রয়েছে। এখন তারা মায়ের মরদেহ জর্ডানে নেয়ার ব্যবস্থা করছেন।
খুতবায় ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের ইমাম যা বললেন
২২মার্চ,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঠিক এক সপ্তাহ আগে শুক্রবারে জুমার নামাজের সময়ই নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ৫০ জন মুসলমান নারী, পুরুষ ও শিশু। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরে সেই মসজিদ ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। শুধু মুসলিমরা নন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু নানা জাতি-ধর্মের মানুষের ঢল নেমেছিল সেখানে। ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলায় নিহতদের স্মরণে পুরো নিউজিল্যান্ড জুড়েই দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। আল নূর মসজিদে হাজার হাজার মানুষের সামনে ইমাম জামাল ফাওদা যে বক্তৃতা দেন, সেটি আলোড়িত করেছে সব মানুষকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার বক্তব্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। ইমাম জামাল ফাওদার বক্তব্যের উল্লেখ্যযোগ্য অংশ: গত শুক্রবার আমি এ মসজিদটিতে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সন্ত্রাসীর চোখে-মুখে ঘৃণা ও ক্ষোভ দেখেছি। এতে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪২ জন আর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মন ভেঙে গেছে। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে তাকিয়েছি, তখন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের চোখে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখেছি। এতে আরও লাখ লাখ মানুষের হৃদয় ভরে গেছে, যারা আমাদের সঙ্গে এখানে শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাদের আত্মা আমাদের সাথেই আছে। সন্ত্রাসী আমাদের দেশকে তার অশুভ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বদলে আমরা তাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, নিউজিল্যান্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। বরং বিশ্ব আমাদের ভালোবাসা আর ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। আমাদের মন ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের অশুভ এই মতাদর্শের প্রথম শিকার আমরা হইনি, কিন্তু তবু তা আমাদের ভীষণভাবে আঘাত করেছে। নিহত মানুষের সংখ্যা হয়তো অসাধারণ নয়, বরং নিউজিল্যান্ডের মানুষের যে সংহতি আমাদের সাথে তা অসাধারণ। এই হামলায় যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে বলছি, আপনাদের স্বজনের মৃত্যু বৃথা যায়নি। আশার বীজে জল সঞ্চার করেছে তাদের রক্ত। তাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসী ইসলাম এবং আমাদের ঐক্যের সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। আল্লাহর রাস্তায় গিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, দয়া করে বলবেন না তারা মৃত, তারা বেঁচে আছেন, তাদের প্রভুর কাছে আনন্দে আছেন। আপনাদের হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ঐক্য ও শক্তি জোরদার হয়েছে। কিন্তু আপনাদের চলে যাওয়াটা যেন নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্বমানবতার জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল। ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ হন্তারক। মুসলমানেরা আগেও এর শিকার হয়েছে। কানাডা, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইসলাম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। কিন্তু ইসলাম-বিদ্বেষ খুবই বাস্তব। এ মতাদর্শ মানুষের মানবতা ভুলে অযৌক্তিকভাবে মুসলমানদের সম্পর্কে ভীতি ছড়ায়। আমরা কী কাপড় পরি, কোন ধরণের খাবার খাই, যেভাবে আমরা নামাজ পড়ি আর যেভাবে নিজেদের বিশ্বাস আমরা লালন করি, তা সম্পর্কে ভীতি ছড়ায়। আমরা নিউজিল্যান্ডের সরকার এবং আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাই, হেটস্পিচ বা হিংসাত্মক বক্তৃতা ও ভয়ের রাজনীতির ইতি টানার জন্য যেন উদ্যোগ নেয়া হয়। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের উত্থান এবং ডানপন্থী প্রতিক্রিয়াশীলতা বিশ্বমানবতার জন্য বিরাট এক হুমকি এবং এর অবসান এখনি হতে হবে। ইমাম তার বক্তব্যে গত শুক্রবারের ঘটনায় হতাহতদের প্রতি নিউজিল্যান্ডের মুসলমান ও অমুসলমানদের ভালোবাসা এবং চোখের জলের জন্য ধন্যবাদ জানান। নিউজিল্যান্ডের মানুষ মুসলমানদের সাথে সংহতি জানিয়ে যে ঐতিহ্যবাহী হাকা নৃত্যের আয়োজন করেছে সেজন্য ধন্যবাদ জানান।
নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র আইন সংস্কারে বৈঠকে মন্ত্রিসভা
১৮মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনে জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন আনার জন্য আজ (সোমবার) কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটির মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনা হবে। ওই হামলায় ৫০ জন মারা গেছেন। হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন টারান্ট একটি সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে। হামলাকারী যে ধরণের সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল, আশা করা হচ্ছে, দেশটির মন্ত্রী পরিষদ সে ধরণের অস্ত্রের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। ঘটনার পরে পুলিশ জানায়, টারান্টের অস্ত্রটি বৈধ, যে কারণে তার গুলি কিনতেও অসুবিধা হয়নি। সেদিনই বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এর আগে কয়েকবারই অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনতে চাইলেও সেটি শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার এই ভয়াবহ ঘটনার পর তড়িঘড়ি আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এদিকে, ওই দুই হামলায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর শুরু হয়নি। বুধবার নাগাদ পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সেখানকার করেনার কার্যালয়। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টের দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সেখানকার পুলিশ। পুলিশ বলছে, ওই এলাকায় টারান্ট জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। এপ্রিলের ৫ তারিখে টারান্টকে আবার আদালতে হাজির করা হবে। ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার ঘটনা ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করেছিলেন ব্রেন্টন টারান্ট। ব্রেন্টন টারান্ট এর আগে এক তথাকথিত ইশতেহার প্রকাশ করেন যেখানে তিনি তার সহিংস কট্টর দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভাষায়, ব্রেন্টন টারান্ট আসলে একজন 'উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদী। সূত্র: বিবিসি
ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় ৪ বাংলাদেশি নিহত
মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি নিহতের তথ্য পেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা হলেন- স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ, নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ উমর ফারুক, চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক ও গৃহিণী হোসনে আরা ফরিদ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম নিহত চার বাংলাদেশির তথ্য পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের একজন করে সদস্যকে নিউজিল্যান্ডে নেয়ার ব্যবস্থা করবে দেশটির সরকার। তারা চাইলে লাশ দেশে নিয়ে আসতে পারবেন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতের সংখ্যা ছয়জনও হতে পারে। স্থানীরা ধারণা করছেন নিখোঁজরাও নিহত। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালান ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে এক অস্ট্রেলীয়। এতে এ পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর এ হামালায় আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত মানুষ।
সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বিজেপির আমলে: মমতা ব্যানার্জি
১৩মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের আমলে দেশে সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপরে অত্যাচার করা হচ্ছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে তিনি মঙ্গলবার দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে কৃষকদের উপরে, দলিতদের উপরে অত্যাচার, সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার, মা-বোনেদের উপরে অত্যাচার, ছাত্র-যুবকে বঞ্চনা, শ্রমিক-কৃষককে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে। মমতা বলেন, ইতিহাসকে পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে, বিভিন্ন সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। অনেক সময় ঘোষিত জরুরি অবস্থার থেকে অঘোষিত জরুরি অবস্থা বেশি মারাত্মক হয়। তৃণমূল নেত্রী বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সংবিধানকে আঘাত করা হয়েছে। বিদ্বেষ, ঘৃণার রাজনীতি চলছে। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওদের লজ্জা থাকা উচিত। দেশে গো-রক্ষক সিন্ডিকেট, লিঞ্চিং সিন্ডিকেট আমদানি করেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে। গণমাধ্যমকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত রোববার (১০ মার্চ) ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সব মিলিয়ে সাত দফায় ভোট গ্রহণ হবে। শুরু হবে ১১ই এপ্রিল, শেষ হবে ১৯শে মে। ভোট গণনা হবে ২৩শে মে। একই সঙ্গে উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল- এই চারটি রাজ্যে লোকসভা ছাড়া বিধানসভা নির্বাচনও হবে।
আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটির কাছেই বসবাস করতেন মোল্লা ওমর
১২মার্চ,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আফগানিস্তানের তালেবান নেতা মোল্লা ওমরকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কার ঘোষণা করলেও তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছেই নিশ্চিন্তে বসবাস করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের অনুসন্ধানী সাংবাদিক বেট্টে ড্যামের লেখা দ্য সিক্রেট লাইফ অব মোল্লা ওমর বইয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে বলা হয়েছে, মোল্লা ওমর পাকিস্তানে পালিয়ে গেছেন বলে যু্ক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও তিনি কখনই পাকিস্তানে যাননি। এর পরিবর্তে মোল্লা ওমর তার নিজ প্রদেশ জাবুলে অবস্থিত একটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে তিন মাইল দূরে বসবাস করেছেন। ড্যাম তালেবান নেতাদের সাক্ষাৎকার নেয়া ও তাদের ওপর গবেষণার কাজে পাঁচ বছর সময় ব্যয় করে বইটি লিখেছেন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ইঙ্গো-মার্কিন আগ্রাসনে তালেবান সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান মোল্লা ওমর। ওই সময় তালেবান নেতার দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালনকারী জব্বার ওমরির সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন বেট্টে ড্যাম। ২০১৩ সালে অসুস্থতার জের ধরে স্বাভাবিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তালেবান নেতাকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন ওমরি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে উৎখাত করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মোল্লা ওমরের মাথার দাম ঘোষণা করে এক কোটি ডলার। কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন সেনাদের নাকের ডগায় অবস্থিত একটি বাড়িতে ১২ বছর অবস্থান করেন মোল্লা ওমর। বইটিতে বলা হয়েছে, একবার মার্কিন সেনারা ওই বাড়িটিতে তল্লাশিও চালিয়েছিল কিন্তু তারা তালেবান নেতাকে খুঁজে পায়নি। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ করার দাবি করলেও বেশিরভাগ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্মদাতা ও পালনকর্তা হিসেবে ওয়াশিংটনের কুখ্যাতি রয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে দীর্ঘ একযুগ ধরে তালেবান নেতার বসবাসের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে। যাইহোক, আত্মগোপনে থাকার এই সময়টিতে মোল্লা ওমরের পক্ষে তালেবান গোষ্ঠীকে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলে জব্বার ওমরি জানিয়েছেন। যদিও তালেবান জঙ্গিরা সে সময় দাবি করতো তারা মোল্লা ওমরের নির্দেশে কাজ করছেন। বেট্টে ড্যামের লেখা বইটি গত মাসে ডাচ ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে এবং শিগগিরই এর ইংরেজি ভার্সন বাজারে আসবে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
গাঁজার চাহিদা বাড়ছে জার্মানিতে
১১মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চিকিৎসার প্রয়োজনে দুই বছর হলো জার্মানিতে রোগীরা বৈধভাবে গাঁজা সংগ্রহ করতে পারছেন। এই অনুমোদনের পর দেশটিতে গাঁজার চাহিদা ব্যাপকহারে বেড়েছে। ফলে ব্যবসার বড় সম্ভাবনা দেখছে বিদেশি কোম্পানিগুলো। জার্মানির স্বাস্থ্য খাতের জন্য সিদ্ধান্তটি বেশ বিতর্কিতই ছিল। ২০১৭ সালের ১০ মার্চ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের গাঁজা সংগ্রহের অনুমতি দেয় সরকার। এরপর থেকেই এর চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। খবর ডয়চে ভেলের। ডাক্তার, ফার্মেসি আর স্বাস্থ্য বিমা কোম্পানিগুলো এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। কেননা চাহিদা অনুযায়ী দেশটিতে গাঁজার সরবরাহ নেই। এই পরিস্থিতিই এখন ব্যবসার বড় দুয়ার খুলে দিয়েছে গাঁজা সরবরাহকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য। মূলত নেদারল্যান্ডস আর কানাডার প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর এখন জার্মানির দিকে। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান টিলরে জার্মানির সব ফার্মেসিতে খুব শিগগিরই গাঁজার ফুল সরবরাহ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ডাচ প্রতিষ্ঠান নুভেরা বলেছে, কয়েক লাখ রোগীর কাছে গাঁজা সরবরাহের জন্য জার্মানিকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করছে। জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে ঔষধ হিসেবে গাঁজা রপ্তানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলও। দেশটিতে গাঁজার চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ২০০টি গবেষণা চলমান রয়েছে। স্বল্প আর্দ্রতা আর উপযুক্ত আবহাওয়ার কারণে ইসরায়েলে গাঁজা চাষও ভাল হয়। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রতি বছর সেখানে ১৮ টনের বেশি ঔষধি গাঁজা উৎপাদন হয়। দেশটির অন্যতম ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্যানাক্সিয়ার প্রধান দাদি সেগাল জানান, ইসরায়েল থেকে আমদানি করতে আগ্রহী এমন বেশ কিছু জার্মান প্রতিষ্ঠানের সাথে তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে উন্মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে প্রায় এক হাজার ব্যক্তি ঔষধি গাঁজা ব্যবহার করতেন। ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্মান অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফার্মেসিগুলো গেল বছর ৯৫ হাজার প্রেসক্রিপশনের আওতায় এক লাখ ৪৫ হাজার ইউনিট গাঁজার ঔষধ ও অপ্রক্রিয়াজত ফুল সরবরাহ করেছে। ২০১৭ সালের চেয়ে তা ১০ গুণ বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও জার্মানিতে গাঁজার ঔষধের চিকিৎসা নেন এমন রোগীর সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সেখানে গাঁজার উৎপাদন বৃদ্ধির মতো যথেষ্ট রাজনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর ড্রাগস অ্যান্ড মেডিক্যাল প্রোডাক্টস এখন চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য ১০ দশমিক ৪ টন গাঁজা উৎপাদনের অনুমতি দেয়ার নিলাম আহবান করতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশা ২০২০ সালের শেষ নাগাদ জার্মানিতে প্রথম গাঁজার চাষ শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর