করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ২৪৫
২৫এপ্রিল,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্তি বিশ্ব। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি করোনা রোগী। এ তথ্য জানিয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার। শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ২৪৫ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫১ জন। অপরদিকে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও এখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫২ হাজার ১৮৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৪৩২ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৫২৪ জনের। মৃত্যুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৯৬৯ জনের। চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত তিন মাসে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। অধিকাংশ দেশেই মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে মানুষের চলাফেরার ওপর বিভিন্ন মাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো দেশে আরোপ করা হয়েছে সম্পূর্ণ লকডাউন, কোথাও কোথাও আংশিকভাবে চলছে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাত্রায় নিষেধাজ্ঞার ওপর পড়েছেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ পড়ার কারণে কিছুদিনের মধ্যেই অনেক দেশেই স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।
ঘরবন্দী অবস্থায় সংবাদপত্র পড়া বেড়ে গিয়েছে ৭২ শতাংশ
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:লকডাউনের একত্রিশ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। ঘরবন্দী অবস্থায় সকলেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। টিভির পর্দায় চোখ রেখেও সময় কাটছে না। টিভিতে একঘেয়েমি খবরে ঘরবন্দী মানুষ রীতিমত দিশেহারা। তাই আমরা ক্লান্ত হলেও দিনে একাধিবার সংবাদপত্র টেনে নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে নানা কিছু জানার চেষ্টা করছি। আগে সকালে সংবাদপত্র হকার দিয়ে যাবার পর সেটা নিয়ে কেটে যেত বেশ খানিকটা সময়। তার পরে আর সংবাদপত্রে খুব একটা কেউ চোখ বোলাতেন না। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গেছে, আগে সাধারণত আমরা দিনে যেখানে একবারই সংবাদপত্রে চোখ বোলাতাম সেখানে এখন ৪২ শতাংশ মানুষ একাধিকবার সংবাদপত্রের পাতা ওল্টাচ্ছেন।মানবজমিন। আরও জানা গেছে, আগে যেখানে সাধারনত পাঠকরা ৩৮ মিনিট সংবাদপত্র পড়তেন, এখন লকডাউনের সময় ৩৮ শতাংশ পাঠক গড়ে এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে সংবাদপত্র থেকে নিত্যনতুন তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। সব বিভাগে মনোযোগ দিয়ে চোখ বেলাচ্ছেন। এভান্স ফিল্ড এন্ড ব্রান্ড সলুউশান নামের একটি মার্কেট রিসার্চ সংস্থা সমীক্ষা করে জানিয়েছে, লকডাউনের আগে আমার-আপনার মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ পাঠক এক ঘন্টা ধরে সংবাদপত্র পড়তেন। এখন লকডাউনের সময়ে সংবাদপত্র পাঠে সকলেই অনেক বেশি সময় ব্যয় করছেন। আগে যেখানে ৪২ শতাংশ পাঠক ৩০ মিনিটের বেশি সংবাদপত্র পড়তেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশ। আর আগে যেখানে ১৪ শতাংশ মানুষ ১৫ মিনিটের কম সময় সংবাদপত্র পড়তেন এখন তা কমে এসেছে ৩ শতাংশে। সমীক্ষা থেকে একটি জিনিষ স্পষ্ট হয়েছে, এই সঙ্কটের সময়ে লকডাউনের সময়ে পাঠকদের সঙ্গে সংবাদপত্রের সখ্যতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই ধারা যদি লকডাউনের পরেও বজায় থাকে তাহলে সংবাদপত্র শিল্পেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
কাবা তাওয়াফ ও মক্কা-মদিনা হেরামে রোজার প্রথম তারাবীহ
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুসলিম বিশ্বের প্রথম ও প্রাচীন স্থাপনা ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্থান মসজিদুল হেরাম বায়তুল্লাহ কাবা ও রসূলের রওজা মোবারক মদিনা হেরামে এবারের রোজার প্রথম ১০ রাখাত তারাবীহ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহে রমজান উপলক্ষে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বায়তুল্লাহ কাবা-ঘরের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তাওয়াফ করছেন। এশা নামাজের পরপর তারাবীহ নামাজ শুরু হয়। এশা নামাজে ইমামতি করেন মক্কা-মদিনা হেরামের প্রধান ইমাম শাইখ আবদুর রহমান আল সুইদাস। দশ রাকাত তারাবীহ নামাজের শুরুতে ইমামতি করেন সাউদ উদ আল সুরাইম। পরে তারাবীহ এর কিছু অংশ ও বিতরের নামাজে ইমামতি করে মসজিদুল হেরামের ইমাম শাইখ সুইদাসি। বিতর নামাজ চলাকালীন সময়ে দু'হাত তুলে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মোনাজাত করেন শাইখ আবদুর রহমান আল সুইদাসি। তিনি মোনাজাত দোয়া চেয়ে বলেন, আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তোমার ঘর ছাড়া করো না। আমাদের বর্তমান চলামান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দাও। করোনা বিস্তার প্রতিরোধে গত ২ মার্চ ১৩টি বড় শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ও সমগ্র সৌদি আরবজুড়ে কারফিউ জারি করেন। মাহে রমজানকে সামনে রেখে গত ২২ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ পরিবর্তন এনে মক্কা-মদিনা হেরামে ২০রাকাত থেকে ১০ রাকাত তারাবীহ নামাজ পড়ার অনুমোদন দেন দেশটির সরকার।
রাষ্ট্রপতির স্ত্রী নিজ হাতে মাস্ক বানালেন
২২এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে যখন কঠিন সংকটের মধ্যে গোটা বিশ্বের প্রায় সব দেশ, তখন সাধারণ মানুষের সেবায় বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ ছেড়ে হাসপাতালে কাজ করতে নেমে এসেছেন সুইডিশ রাজকন্যা সোফিয়া, চিকিৎসকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার। এবার তেমনই এক খবর এলো প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে। ভারতে এবার করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্ত্রী সবিতা কোবিন্দ। ভারতের ফার্স্ট লেডি সাবিতা অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ভবন শক্তি হাটে বসে নিজের হাতে বানান ঘরোয়া মাস্ক। তার সেই হাতে বানানো মাস্কগুলো বিতরণ করা হয় রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। সবিতা নিজেও পরেছিলেন লাল রঙের কাপড়ের তৈরি মাস্ক। খবর এনডিটিভির। কিন্তু কেন তার এই মাস্ক বানানোর সিদ্ধান্ত? সবিতা জানান, মাস্ক বানিয়ে সবাইকে বিতরণের মাধ্যমে তিনি সবাইকে এই বার্তা দিতে চান যে, এভাবেই যেন ভারতবাসীরা সবাই নিজের মুখ ঢেকে করোনা রোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালান। সেই সাথে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার বার্তাও পাঠাতে চান তিনি। উল্লেখ্য, ভারতে ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে রোগমুক্তির সংখ্যাও। এমন সময়ে কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্রমণ এড়ানো যেতে পারে তার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সৌদিতে রমজানে কাজের সময় ও অভিবাসীদের জন্য নির্দেশনা
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতির কারণে যে সকল অভিবাসী সেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তাদেরকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, আপনি ছুটিতে অথবা একবারেই সৌদি ত্যাগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ব্যক্তির আবশির একাউন্ট থেকে আবেদন করতে হবে। এদিকে রমজানে সৌদি আরবে সরকারি অফিস আদালতে দিনে ৫ ঘণ্টা (সকাল ১০টা-বিকেল ৩টা) কাজের সময় নির্ধারণ করেছে সরকার। যদিও সর্বসাধারণের জন্য সরকারি অফিসে সরাসরি সেবা গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। আর প্রাইভেট সেক্টরে কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ ঘণ্টা। এই এসময় কোম্পানিসমূহ তাদের সুবিধামত নির্ধারণ করবে। এদিকে যে সমস্ত অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ বলবৎ ছিল না, সেখানে সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলাচল করা যাবে। তবে, যে সমস্ত শহর ও অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা কারফিউ চলমান রয়েছে, সেখানে জরুরি চিকিৎসা সেবা, খাদ্যদ্রব্য কেনাকাটা ও ব্যাংকিং সেবা অত্যান্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে। ইতিপূর্বে বড় বড় শহরের মধ্যে যে সকল নির্দিষ্ট এলাকাগুলো সম্পূর্ণরুপে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল (আল আজল আস সিহহী আত তাম) সেখানে আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা কোনক্রমেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। শুধু জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনার জন্য নিজের এলাকার ভেতরে অবস্থিত তাম উইনাত (মুদির দোকান) বাক্কালাতে যেতে পারবেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বের হতে পারবেন। কেনাকাটার পর রশিদ রাখতে হবে। পুলিশি বাধায় পড়লে তা দেখাতে পারবেন। প্রয়োজনে ৯৯৭ এ কল করেও সাহায্য নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। রমজানে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদীনার মসজিদে নববীতে সর্বসাধারণের জন্য তারাবীহসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিতি এবং ওমরা বন্ধ থাকবে।
করোনা নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা
২২এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মরণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ এনে চীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শাসিত মিসৌরির আটর্নি জেনারেল এরিক স্মিথ মঙ্গলবার চীনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। বিবিসি জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সংক্রমণের ঘটনা গোপন করার অভিযোগ এনে ফেডারেল আদালতে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মিসৌরি। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, সার্বভৌম বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে করা এ দেওয়ানি মামলা ধোপে টিকবে না। আর এতে বেইজিং সরকারের উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই। এ মামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটনস্থ চীনা দূতাবাস কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এ মহামারীতে ভয়ানক প্রাণহানির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইরাসটির উৎপত্তি ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীনকে দায়ী করছেন। তিনি বলেছেন, ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে চীনের হাত রয়েছে এবং তারা যদি জেনেশুনে এটি করে থাকে বলে প্রমাণ হয়, তবে দেশটিকে এর ফল ভোগ করতে হবে। ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা বাগযুদ্ধও ঘটে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে মামলা করলো যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট। যুক্তরাষ্ট্রের এ রাজ্যটিতে করোনায় এ পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার। আর পুরো দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ১৯ হাজার ১৭৫ জন, যেখানে মৃতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৪৩ জন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উহানে সংক্রমণ দেখা দেয়ার পরও চীন সরকার ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য ইস্যুতে অবহেলা দেখিয়েছে। অবহেলাজনিত এই মামলা দায়েরের বিষয়ে মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্মিথ বলেন, চীনের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ মানুষের কাছ থেকে বিষয়টি লুকিয়েছে, যিনি প্রথম এই ভাইরাসের কথা প্রকাশ করেছেন, তাকে গ্রেফতার করেছে এবং মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর কথা অস্বীকার করেছে। যে কারণে ভাইরাসটি মহামারী আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ চীন বিষয়টি ভালোভাবে প্রকাশ করলে মহামারী এড়ানো যেত। এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্বভৌম কোনো দেশকে দেওয়ানি মামলায় অভিযুক্ত করা বা শাস্তির আওতায় আনার এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নেই। তাই চীনের মতো বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে এ মামলা করে কিছুই হবে না। এ ব্যাপারে সেইন্ট জনস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক অ্যান্থনি সাবিনো বলেন, এ মামলা অনায়াসে ডিসমিস হয়ে যাবে। এ মামলায় অভিযুক্ত করার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যটিই বড়। এমন মামলা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পালে কিছুটা হাওয়া দিতে পারে বলে মনে করেন এই আইনজীবী।
মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদে তারাবির অনুমোদন
২২এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র মাহে রমজানে মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদে তারাবিহ পড়ার অনুমোদন দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। তবে তারাবি হবে সংক্ষিপ্ত এবং মুসল্লিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। খবর রয়টার্স ও আল-আরাবিয়াহর। বুধবার এক বিবৃতিতে মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম ও হারামাইন শরীফাইনের প্রেসিডেন্সির প্রধান শায়েখ আবদুর রহমান আস সুদাইস এমন খবর দিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার তিনি বলেন, পবিত্র দুই মসজিদে তারাবির নামাজ হবে ১০ রাকাতে, কিন্তু তাতে কেবল ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রমজানে কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করার পরিকল্পনা করেছে সৌদি সরকার, যাতে নিজেদের মহল্লার বাইরে গিয়ে লোকজন প্রয়োজনীয় সওদা করতে পারেন। এদিকে করোনাভাইরাস বিস্তারের লাগাম টানতে পরীক্ষার পরিসর বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে ১১ হাজার ৬৩১ জনের শরীরে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনে করোনার হানা
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। সূত্র জানিয়েছে, চার দিন আগে সেখানকার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। আক্রান্ত ব্যক্তি তার কর্মস্থলে অন্য যাদের সংস্পর্শে এসেছেন স্বভাবতই তারাও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাই রাষ্ট্রপতি ভবন কমপ্লেক্সের প্রায় শখানেক কর্মীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বাড়িতেই কোয়ারেনন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদের দিল্লির একটি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওই ব্যক্তি ছাড়া বাকিদের নমুনা পরীক্ষার ফল করোনা-নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত সেখানকার আর কারও শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি। এদিকে ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬০১। এর মধ্যে ৫৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গোটা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানী দিল্লিতেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে দিল্লি। ভারতের রাজধানী শহরে করোনার সঙ্গে লড়াই করছে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।
ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখা বাকি আছে : হু প্রধান
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সংক্রমণের মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। সারাবিশ্ব এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনও আসা বাকি। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস আধানোম ঘেবরেসাস এভাবেই সাবধান করলেন। ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষের। জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী এই তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হু প্রধান ঠিক কী কারণে মনে করছেন এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে তা স্পষ্ট করে বলেননি। তবে বেশ কিছু দেশে ইতোমধ্যেই লকডাউন ও বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। টেডরোস ১৯১৮-র স্প্যানিশ ফ্লু এর প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছেন, করোনাভাইরাস এর চেয়েও সাংঘাতিক। তিনি জেনিভার সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, করোনা ভাইরাস খুবই সাংঘাতিক। ১৯১৮-র ফ্লুতে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, এখন আমাদের প্রযুক্তি উন্নত। আমরা এই বিপর্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। আমাদের সেই ক্ষমতা এখন আছে। বিশ্বাস করুন। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি সাবধান করে বলছেন, আমাদের আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা বাকি আছে। তাই এটা আমাদের আটকাতে হবে। এখনও অনেকে বুঝতে পারছেন না কতটা সাংঘাতিক এই ভাইরাস। উল্লেখ্য, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে ১৭২৬৫ জন আক্রান্ত। মৃত্যু হয়েছে ৫৪৩ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২৫৪৬ জন।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর