মুজিব কোট কোনও অন্যায়কারী দুর্নীতিবাজের পরিধান নয়
১২সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে লোপা তালুকদার নামের এক নারীর মুজিব কোট পরিধেয় ছবি নিয়ে বেশ হইচই চলছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে কর্ম আর গুনের বিশাল ফিরিস্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল স্তরের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী নেতাদের সবার সাথে ছবি। যে কেউ দেখলেই ভাববেন লোপা তালুকদার কতটা ক্ষমতাধর। হয়তো তার কর্মগুণ ক্ষমতা সবই আছে। সে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়। তবে এমন করিৎকর্মা নারী আওয়ামী লীগের একটি অংগ সংগঠনের বিশেষ পদ ধারণ করে শিশু অপহরণ কেন করছে তা সত্যি চিন্তনীয়। বর্তমান সময়ে কেবল লোপা তালুকদার নয়, দেশে সংঘটিত দুর্নীতি বা অন্য অপরাধসমুহের হোতাদের খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, অপরাধীরা কোনও না কোনভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। সরকার হিসাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে দীর্ঘ সময় ধরে। আর এতে করে দলে পরগাছার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া অমূলক কিছু নয়। এ পরগাছাকে 'কাউয়া হাইব্রিড' নানা উপাধি দেয়া হয়। যে নামই দেয়া হোক না কেন এরা ক্রমশ মহীরুহ হয়ে উঠছে। কারণ এদের ছেঁটে ফেলার মত কোনও উদ্যোগ নেয়া হয় না। পাপিয়া, শাহেদ, সাবরিনার ঘটনার রেশ না কাটতেই মুজিব কোট পরিহিত লোপা তালুকদার আবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে দলের কর্মকাণ্ডকে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচালক, সাংবাদিক, কবি সাহিত্যিক সব পদবীর ধারণ করার এ নারীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরও মামলা আছে বলে গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। আর জিনিয়াকে অপহরন কেন করা হয়েছে তা পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসবে বলে বিশ্বাস। এ মুহূর্তে যে প্রশ্নটি বারবার মানুষের সামনে আসছে তা হলো দলের ভেতরে অবস্থান করে যেসব দূর্নীতিবাজ, অসৎ ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে এর প্রতিকার কি? হঠাৎ করে মুজিব কোট পরিধান করে আর্বিভূত এসব মানুষ কি জানে বঙ্গবন্ধুর মুজিব কোট শুধু ফ্যাশন নয়। এ কোট বাংলার ইতিহাসে কতটা জায়গা জুড়ে আছে। বলা হয়ে থাকে মুজিব কোটের ৬ টি বোতাম বাংলার মানুষের ছয় দফার প্রতীক। যে ছয় দফাকে সামনে রেখে বাঙালি স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। প্রকৃত দেশ প্রেম থাকলে মুজিব কোট পরিধান করে অন্যায় করা যায় না। আর এ কোটের দেশ প্রেমের সাহস, প্রেরনাকে যারা উপেক্ষা করতে পারে তারা এ সমাজের কীট। এরা দেশের ক্ষতি করতে পিছপা হয় না তা অতীতে ও প্রমাণিত হয়েছে। এ দুর্ভাগা জাতি মুজিব কোটের মর্যাদা দিতে পারেনি সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। খন্দকার মোশতাকের মুজিব কোট পরিহিত ছবিকে জাতি ভুলে যায় বলে শাহেদ, লোপারা আশ্রয় পায় আওয়ামী লীগে। মিথ্যা বুলি দিয়ে মিথ্যা লেবাসধারীরা আওয়ামী সরকারের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। অথচ সে লড়াইয়ের পথকে রুদ্ধ করছে নিজের দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীরা। এ নব্য আওয়ামী প্রেমীদের মুখে এক, মনে আরেক রয়েছে বলে বাড়ছে দুর্নীতি, অন্যায় ও অপরাধ। এরা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে মুজিব কোট পরে মুজিব প্রেমী হয়। নির্মম সত্য হলো মুজিব কোট পরিধান করলেই মুজিব প্রেমী হতে পারে না। নিজের ভেতরে মুজিব আর তার ইতিহাসকে ধারণ করতে হবে। এ কারণেই মুজিব কোটকে অন্যায় আর দুর্নীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে দেশের মানুষ আওয়ামী সরকারের ভালোটুকু ভুলে গিয়ে মন্দটুকুই মনে রাখবে। সময়ের সাথে আজ অনেক কিছু বদলে গেছে, তা বাস্তবতাতে সুস্পষ্ট। তাই দলের ভেতর আওয়ামী লীগের আর্দশ আর বিশ্বাসকে যারা শেষ করে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না সত্যিকারের দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা। কারণ তাদের যে মুজিব কোটের লেবাসে উচ্চ পর্যায়ের নেতা কিংবা হর্তাকর্তাদের সাথে ছবি বা যোগাযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে যারা আলাদা করে চিন্তা করতে পারে না কিংবা যারা নেত্রীর সাথে ছবি তোলার চেয়ে রাজপথের আন্দোলনকে মূল কাজ মনে করেছে আজ তারা মূল্যহীন। তাই লোপা তালুকদার, শাহেদদের পরনের মুজিব কোট লজ্জিত করে বঙ্গবন্ধুর আর্দশধারণকারী দেশপ্রেমীকে। লেখক: হাসিনা আকতার নিগার,কলামিস্ট।- বিডি-প্রতিদিন
আদর্শিক-ত্যাগী কর্মীকে মুল্যায়ন করলে রাজনীতির সেই পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আসবে- তসলিম উদ্দিন রানা
৩০আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সঠিক পরিচর্যা,ত্যাগ-মেধার অবমুল্যায়ন ও আদর্শের অভাবে বর্তমানে নেতা সৃষ্টি হচ্ছে না। সব জায়গায় হযবরল অবস্থা। কেউ কারো নই। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কারো কাছে কোন দায় দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। সবাই ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি বলে মনে করি। গুটিকয়েক যোগ্য লোক মন্ত্রী, এমপি, পদে আসলেও তারা একই অবস্থা বলে মনে হয়। নিজের পদ ঠিক রাখার জন্য তারাও তেলবাজি, চামচামি ও যত রকমের অসংগতি আছে তা করে যাচ্ছে। সবাই এখন ক্ষমতা আর টাকা মুখী। আর কয়েকজন মাঠ কাপানো নেতা পদবী ও ক্ষমতা পেয়ে কিছু করতে চাইলেও ব্যবসায়ী, হাইব্রিড ও সিন্ডিকেটের বলয়ের কারণে পেরে উঠতে পারছেনা। তবুও তারা হল আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এককালে রাজনীতি ছিল রাজার নীতি। যাদের অর্থ সম্পদ,পরিবারের ঐতিহ্য, শিক্ষার আলো ছিল তারা রাজনীতি করত। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সব মিছিল মিটিং করত।এমনকি ইউনিয়ন লেবেলের নেতাকে সবাই শ্রদ্ধা আর সম্মান করত। তাদের বাড়ি ঘর ছিল মানুষের প্রাণ কেন্দ্র। মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে যেত। বিপদে পড়লে এগিয়ে যেত।অন্যায়কে প্রশয় দিতনা। আমাদের এলাকায় একজন উপজেলার নেতা রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের সব জমি বিক্রি করে সংগঠন করেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বর্তমানে তাকে কোন পদে রাখেনি কারণ টাকা। সেসময় রাজনীতি ছিল রাজার নীতি আর বর্তমানে তার সম্পুর্ন উল্টা। কেননা দেখতে পাবে অনেক মানুষ ক্ষমতার কারণে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। জীবনে রাজনীতি কি জিনিস জানেনা, রাজনীতি কেন করে তার খবর ছিল না। তারা ক্ষমতার জন্য দলে এসে টাকা দিয়ে পদবী কিনে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। আর অনেকে রাজনীতিকে ব্যবসা হিসাবে ব্যবহার করেছে। যে রাজনীতি রাজনীতিবিদের কাছে নেশা ছিল সেই রাজনীতি এখন পেশা হিসেবে ব্যবহার করছে এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ লোক। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ক্ষতিকর দিক। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মেধাবী সংগঠক নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে কাজ করেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আজকের দিনে অনেক ছাত্র ফাও খাওয়া,হলের সিট ও ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে যোগ দেয়। একসময় তারা নেতা বনে যায় এমনকি সব কিছু তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের ক্ষমতার দাপটে সবাই মেধাবী, ত্যাগীরা হারিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে নেতা জন্ম নিবে তারা যদি আদর্শিক ও ত্যাগী নাহয় তাহলে কিভাবে দেশ চালাতে পারবে তা বোধগম্য নয়। মুলে যদি গলদ হয় তাহলে সব শেষ। রাজনীতি বর্তমানে রাজনীতির মধ্যে নেই। সম্ভবত রাজনীতির অকাল সময় পার করছে। ছাত্র রাজনীতি শুরু করে সব অঙ্গ সংগঠন নতুন এক সংস্কৃতি শুরু হয়েছে তা হল তেলবাজি,টাকা, ক্ষমতা, নেতার কোটা, আত্ত্বীয়তা, চামচামি আর হাইব্রিডদের প্রতিষ্ঠা। এসব হওয়ার পিছনে আমাদের এক শ্রেণীর নেতারা দায়ী। তারা সামান্য কিছুর জন্য আজ আদর্শ চ্যুত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের আদর্শ ও ত্যাগী কর্মীদের বঞ্চিত করে হাইব্রিড, চামচা, টাকা, ক্ষমতা, নেতার আজ্ঞাবহ ব্যক্তিকে নেতা বানিয়ে দলের তেরেটা বাজিয়ে দিচ্ছে। যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হুমকি মুখে পতিত হচ্ছে। যা অশুভ লক্ষণ।নতুন প্রজন্ম আজ আদর্শিক ও ত্যাগ কি জিনিস তা বেমালুম ভুলে গেছে। তারা বেশী ভাগ স্রোতের সাথে থাকতে চাই বিধায় রাজনীতির মাঠ আজ কর্মী শুন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ছাত্র,যুব সংগঠন থেকে শুরু করে মুল সংগঠনে আজ অযোগ্য,অথর্ব,হাইব্রিড,আত্ত্বীয়করন,ব্যবসায়ী লোকে ভরা তার প্রধান কারণ হল ক্ষমতা।ক্ষমতা আজ আমাদেরকে অন্ধকারে নিয়ে গেছে। এই ক্ষমতার জন্য সব জায়গায় আমরা আদর্শিক, মেধাবী,ত্যাগী লোকজন সরিয়ে দিয়ে হাইব্রিড,চামচা,নিজস্ব লোক,আত্ত্বীয়তার লোকজন বসিয়ে দিয়ে দেশ ও দলের তেরেটা বাজিয়ে দিচ্ছি যা বলার বাহুল্য নেই। আগামী প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অমানবিক। রাজনীতি রাজনীতির জায়গা নেই বললে চলে। রাজনীতি এখন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নিকট চলে যাচ্ছে। কিন্তু কেন হচ্ছে? কি জন্য হচ্ছে? তার তদুক্তর দেওয়া কঠিন। তবুও বলতে হয় রাজনীতি হল একটি নীতি এবং আদর্শের প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি রাজনৈতিক দল হল এক একটি পাঠশালার প্রতিষ্ঠান। সব কর্মিরা হল এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। প্রত্যেক নেতারা হল তার শিক্ষক। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেয়া হয় সামাজিক, নীতি, আদর্শ, সততা, দেশপ্রেম আর সাংগঠনিক দক্ষতা।কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন তারা যারা মেধাবী ছাত্র। প্রত্যেক শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ করেন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক ভাল হলে প্রতিষ্ঠানের মানও ভাল হয়। যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক যত সে প্রতিষ্ঠান তত ভালো চলবে আর খারাপ হলে পড়ালেখার মানও খারাপ হবে। তদ্রূপ রাজনীতির প্রতিষ্ঠানের নেতারা যদি খারাপ হয় কর্মীরা খারাপ হবে এটাই নির্ধারিত।যদি ভালো নেতা হয় কর্মীরা ভালো হবে এটাই চিরাচরিত নিয়ম। আগে রাজনীতির প্রতিষ্ঠানের নেতা হতেন যারা তারা আদর্শিক,ত্যাগী,মেধাবী, সাংস্কৃতিক,বিবেকবান,নীতিবান,কথাবার্তার ধরন,সামাজিক, কর্মীবান্ধব লোক। তেমনি কর্মীরা ছিল তাদের মত। গ্রামে কথা আছে ফুল গাছে ফুল ধরে আর মদর গাছে কাটা থাকে। তাই নেতা যেমন হবে কর্মী তেমন হবে। সেই সময়ে রাজনীতি ছিল অত্যন্ত সুন্দর, আদর্শের চর্চা কেন্দ্র, ত্যাগের মহিমান্বিত উদ্ভাসিত নাম। আর বর্তমানে রাজনীতির নেতা হন হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,তেলবাজ। যে যত চামচামি,তেলবাজি করতে পারবে সে তত বেশি বড় নেতা বা যার যত বেশি টাকা আছে সে বড় নেতা। রাজনীতি নামক প্রতিষ্ঠান পরিচালক হয়ে পরিচালিত করে। তার ধারা সৃষ্টি হবে হাইব্রিড আর চামচা। আর ব্যবসার মত টাকা ইনকাম করার জন্য চারদিকে আরও বেশি টাকাওয়ালা লোক খুজবে। আর রাজনীতি হয়ে যায় একধরনের ব্যবসা যা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতি হারিয়ে যায়। যে রাজনীতি ছিল আদর্শ ও ত্যাগের আর তা হল ক্ষমতা আর টাকার। এই অপরাজনীতির বর্তমানে আরও বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য রাজনীতিবিদ ও দক্ষ পার্লামেন্টিয়ান তোফায়েল আহমেদ বলেন - রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদের কাছে নাই। সত্যি কথা রাজনীতি বিপর্যয়ের মুখে পতিত হচ্ছে। তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সঠিক জায়গায় সঠিক নেতা বানাতে হবে।- তসলিম উদ্দিন রানা,সাবেক ছাত্রনেতা
আগস্ট মানে শেখ মুজিবের পুনর্জন্ম
০৬আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কালের প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ তার নিকটতম পূর্ববর্তী অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ পৃথিবীর সকল কিছুই তার জন্মের উপাদান হিসেবে কাজ করে। আগস্ট যেমন বাঙালির শোকের মাস, তেমনি আগস্ট মানে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়ার সময়। তিনি হয়ে উঠেন শোকে কাতর এক দিকভ্রান্ত জাতির আলোর দিশারী, সকল সঙ্কটে মুক্তির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত সর্বময়। যার মানবমুক্তির দর্শনে বাঙালি আজ স্বাধীন ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে নিজের আত্মপরিচয় নির্মাণ করেছে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাঙালির জাতির পিতা শেখ মুজিবের দেহবিনাশ হলেও প্রতি-দিন-প্রতি-ক্ষণ কোটি কোটি বাঙালি নতুন করে আবিষ্কার করেছে বাঙালির জাগরণের এই মহাজাদুকরকে, পুনর্জন্ম দিয়েছে তাদের অন্তরে, সংগ্রামে, প্রতিবাদে, বঞ্চনায় ও অধিকারের লড়াইয়ে। যে দর্শন পাকিস্তানী মতাদর্শের প্রেতাত্মারা থামিয়ে দিতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের কালোরাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। সেদিন ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি। তাদের হাতে একে একে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ অনেকে। সেদিনের সেই ভয়াল বীভৎসতা স্মৃতিতে আনলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট খুনিও বোধ হয় আঁতকে উঠবে। পৃথিবীর ইতিহাসের এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যারা ভেবেছিল শেখ মুজিবের দেহের বিনাশের মাধ্যমে মুছে ফেলা যাবে বাঙালির মন ও মনন থেকে। তার ছবিগুলো মুছে ফেললে হারিয়ে যাবে প্রতিকৃতি। হাজার হাজার বানানো মন গড়া শব্দ লিখে গল্প ফাঁদা যাবে ভিন্নরূপে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল ইতিহাস আর সময়কে বাঁধ দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। ইতিহাস তার পথ নির্মাণ করে নেয় আপন গতিতে। ইতিহাস তার মহানায়ককে খুঁজে নেয় আপন মহিমায়। মিথ্যা বানোয়াট তথ্য মানুষ ছুড়ে ফেলে সঠিক সময়ে আবর্জনার স্তূপে। তাই উল্টোপথে হেঁটেও বহু চেষ্টার পরেও শেখের বেটা মুজিবকে বাঙালির অন্তর থেকে মুছে ফেলা যায়নি বরং বারংবার ফিরে এসেছে তাদের স্বপ্নের স্বদেশে মহাকালের এক অবিনশ্বর চরিত্র ধারণ করে। বাঙালির হৃদয় জয় করে এখনো তার আর্দশ বাঙালির হৃদয়রাজ্যে রাজত্ব করছে। টুঙ্গিপাড়ার সেই খোকা আর কেউ নয়, বাঙালির ইতিহাসের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাগরণের মহান জাদুকর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই জনদরদী মহান নেতা মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। (১৭ মার্চ ১৯২০- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) ৫৪ বছর বয়সের জীবনে বঙ্গবন্ধু ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন, যা তার মোট জীবনের সিকিভাগ। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম দিয়ে শুরু। পরবর্তীতে বাঙালির ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাও অসীম এবং গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে প্রথম সফল হরতাল। এই হরতালে শেখ মুজিব নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন। বাঙালি জাগরণের এই মহাজাদুকর বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনা পর্যন্ত সারাজীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় কারাগারেই কাটতে হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাঙালির মুক্তির জন্য এতো বড় আত্মত্যাগ আর কেউ করেনি। যে মহান নেতা পরিবার পরিজনকে বঞ্চিত করে সারা জীবন বাঙালির অধিকার আদায়ের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বাঙালির সকল আন্দোলোন সংগ্রাম-জাগরণের বাতিঘর হয়ে লড়াই করেছেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে চলেছেন, অকুতোভয়ে হাজার বছরের পরাধীনতার জাল ছিন্ন করতে মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য বাঙালিদের তৈরি করেছেন- তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন তার কর্মীদের প্রাণের মুজিব ভাই। সেই ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিলে পরিণত হয়েছে। যে ভাষণে ৭ কোটি বাঙালির মুক্তির কথা উঠে এসেছে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার আপসহীন সাহসী নেতৃত্বে বাঙালি পেছে স্বাধীনতা। তারই উদাত্ত আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ বীর বাঙালি জীবন বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। তবে আজ যখন দেখি চকচকে মলাটে আর রঙ্গিন পর্দার আড়ালে বাহারী বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে মানবমুক্তির শোষিতের কণ্ঠস্বরকে আবদ্ধ করা হয়। তার আজীবন লড়াইয়ের ইতিহাসের সহযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করা হয় প্রকাশ্যে। তার আদর্শ থেকে দূরে সরে পুঁজিপতিদের প্রতিনিধিত্ব করে তারই রক্ত ঘামে সংগঠিত সংগঠন। বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণে যে মানুষটি আমৃত্যু সংগ্রাম করলেন, আত্মত্যাগ করলেন আজ তাদের উত্তরসূরিরা সেই সকল অপশক্তির সাথে আপোষকামিতায় দ্বিধাহীন। তখন তার আদর্শিক সন্তানদের বুকের মাঝে ভীষণ রক্তক্ষরণ হয়। তারা নীরবে-নিভৃতে কেঁদে কেঁদে চোখের জল মুছে। তখন বড় শঙ্কা জাগে মনে ভোগ-উপভোগ- সম্ভোগের রাজনীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে ফিরতে পারবে তো ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত প্রাণের স্বদেশ। মনে পড়ে জাতির পিতার অসাধারণ সংশয়োক্তি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,আমার দলে নব্য-ধনীরাও আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় তাদের আরও বড় ধনী হওয়ার সুযোগ বেড়ে গেছে, আমি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে'ই দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি এবং দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। যদি এই ব্যবস্থা সফল করতে ব্যর্থ হই এবং কোনো কারণে আমার মৃত্যু ঘটে, তা হলে দলকে কবজা করে ওরা আরও উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে, এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের মূল মন্ত্রে শত্রু পক্ষের নীতি ও চরিত্র অনুসরণ করে আওয়ামী লীগেরও চরিত্র ও নীতি পাল্টে ফেলতে পারে। যদি তা হয় সেটাই হবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু। সেজন্য আগেই বলেছি আমার দল, আমার অনুসারীদের হাতেই যদি আমার এই দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে, তাহলে দীর্ঘকালের জন্য বিস্মৃতির অন্ধকারে চলে যেতে হবে। কবে ফিরবো তা আমি জানি না। আজ এই শোকের মাসে সঙ্গত কারণেই নবীন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- নিজের জীবনের চেয়েও দেশ আর দেশের মানুষকে যিনি ভালোবেসে ছিলেন, ফাঁসি নিশ্চিত জেনেও যিনি পাকিস্তানের কারাগারে বসে আপোস করেননি স্বাধীনতার প্রশ্নে, যিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বলেছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতা আর জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক মুক্তির কথা, এ জাতি তারই উত্তরসূরি। যিনি ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের মেশিনগানের মুখেও ছিলেন অকুতোভয়, প্রশ্ন করেছিলেন, তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?- বাঙালি জাগরণের এই মহাজাদুকরের দৈহিক বিনাশ ঘটলেও তার আদর্শের মৃত্যু হতে পারে না। মানুষ মরে যায়, আদর্শ মরে না। তাই বঙ্গবন্ধু কোন ব্যক্তিমাত্র নন, অবিনশ্বর এক আদর্শ ও প্রেরণার নাম। সেই প্রেরণাতেই এগিয়ে যাবো আমরা। বাঙালির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের মানবমুক্তির দর্শনে বলীয়ান হয়ে গড়বো প্রাণের স্বদেশ। লেখক: এফ এম শাহীন, সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডটকম, সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ।- বিডি প্রতিদিন
পরিবর্তনের মানসিকতা ছাড়া মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে না
১৯,জুলাই,রবিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে চট্রগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মোহসীনের আবেগঘন পোস্টটি অনেকেরই হয়ত নজরে পড়েছে। সিনেমা নাটক আর বাস্তবের পুলিশ চরিত্রের বৈষম্যতা দেখে তিনি নিজের অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছিলেন- টিভিতে একটা নাটক দেখছিলাম। কাকতালীয়ভাবে বাসায় আমার সন্তানেরাও একই নাটকই দেখছিল। ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম। সহজ সরল সে গ্রামের মানুষের জীবন। হাসি, আনন্দ, প্রেম, ভালবাসায় মুখর থাকে সে গ্রাম। কিন্তু হঠাৎই গ্রামের এমন মায়াময় পরিবেশে ছন্দপতন হয়। আর এর নেপথ্যে একজন পুলিশ অফিসার! গ্রামে মাদক ছড়ায়, ইভটিজিং বাড়ে, গরীবের উপর শোষণ বাড়ে, হাতে-পায়ে ধরেও ওই পুলিশের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে না আবাল বৃদ্ধ বনিতা... এরপর টিভি বন্ধ করে দিলাম। আর দেখলাম না। কিন্তু হঠাৎই মনে হল, আমার সন্তানরাও তো এটাই দেখছে! বাসায় গিয়ে যদি তারা জিজ্ঞেস করে, 'বাবা, পুলিশ এমন পঁচা কেন?' আমি কী উত্তর দিব? এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম। আজ বাসায়ই যাব না। এরপর কাজে ডুব দিলাম। হঠাৎ দেখি ১৩-১৪ বছরের এক ছেলে আসল। এক হাতে বাবার তর্জনি ধরা, অন্য হাতে একটা বোর্ড সদৃশ কিছু। বোর্ডটা আমার জন্য সে উপহার এনেছে। বোর্ড উল্টে দেখি, এ তো আমি! আমাকেই এঁকেছে সপ্তম শ্রেণির আদর!! আমাকে দিয়ে বলল, আঙ্কেল আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে। আমি বড় হয়ে আপনার মতো পুলিশ হবে। হঠাৎই আমার নাটকের কথা মনে হল। তাকে ওই নাটকের কথা জিজ্ঞেস করলাম, পুলিশ তো পঁচা। তবুও পুলিশ ভাল লাগে? সে বলে, নাটক তো মিথ্যা দেখায়। এই নাটকে যে নায়ক ছিল। আরেক নাটকে সে গুণ্ডা! নায়ক কি কখনো গুণ্ডা হয়? নাটকই পঁচা। ভালকে তারা পঁচা দেখায়। তার এমন উত্তরে সত্যিই চমকে উঠলাম। নাটক, সিনেমায় আমাদের যেভাবে চিত্রায়িত করা হয় তাতে অন্তত শিশুদের সামনে নিজেদের ক্ষতিকারক মনে হয়। কিন্তু আদরদের মনে যে পুলিশের এমন ছবি আছে তা জেনে আবারও নিজেকে নিয়ে গর্ব হল। সিদ্ধান্ত আবারও পাল্টালাম, আদরের সাথে ছবি তুলেই বাসায় যাচ্ছি আদরের দেওয়া এই ছবি নিয়ে। আমার সন্তানেরা যদি জিজ্ঞেস করে পুলিশ কেন পঁচা আদরের উত্তরটাই তাদের দিব। জোর গলায়ই বলব, তোমাদের বাবা পঁচা না। আমরা পঁচা না। পুলিশ পঁচা না। আদরমাখা ভালবাসা আদরের জন্য। ছোট শিশু আদরের দেখা ওসি মহসীনের মত চিন্তার পুলিশকে সমাজের সবাই দেখতে চায়। কোভিড-১৯ এর মহামারীতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী মানবিকতার যে পরিচয় দিয়েছে তা অনেকটাই 'স্বপ্ন জাগানিয়া বাঁশি' হয়ে বেজেছিল মানুষের মনে। দেশের প্রতিটি পর্যায়ে পুলিশের মতো মানবিকতার প্রত্যাশা ছিল সকলের। কিন্তু তেমনটা দেখা যায়নি। কারণ অনিয়ম আর দুর্নীতির কাছে নতজানু মানুষ নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেনি। বরং কোভিড-১৯ কে হাতিয়ার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে অর্থলোভী ব্যক্তিরা। করোনাভাইরাস সমাজ ও দেশের তথা বিশ্বের চিত্র বদলে দেবে এ প্রত্যাশা ক্রমশ মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির চিন্তাচেতনা সবাই ধারণা করবে- সে আশা পোষণ করা ভুল। বিশেষ করে আমাদের দেশে সামাজিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই করোনাকালের মানবিকতা কেবল উদাহরণে সীমাবদ্ধ হয়েছে। যদি ওসি মহসীনের পজিটিভ চিন্তাটা পুলিশের ছোট বড় সকল সদস্যেদের মনে গ্রোথিত হত, তাহলে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তনের মানসিকতা সত্যিকারভাবে মানবিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করতো। বদলে যাওয়া এ সমাজে খুব সহজ কাজ নয়। লোভাতুর মন দুর্নীতির হাতছানিকে রুখতে পারে না। একই পেশায় থেকে জীবনযাপনের বৈষম্যতা থেকে কেউ দুর্নীতির পথে পা বাড়ায়। আবার কেউ যে কোন পন্থায় অর্থ উপার্জন করতে ঘুষ, চাঁদাবাজিকে অন্যায় মনে করে না। এসবের বাইরে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ তা হলো 'দুর্নীতির সিস্টেম। এ দুর্নীতির সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে না পারলে বাস্তব জীবন থেকে অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে না। একটা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে রাতারাতি বদলে দেয়া যায় না। নাটকের চরিত্রের পঁচা পুলিশ কেন পঁচা হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে এ সমাজের কোন একক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মানসিকতা তৈরি করতে পারবে না। আর মানবিকতা হবে প্রশ্নের সম্মুখীন। লেখক : হাসিনা আকতার নিগার, কলামিস্ট।- বিডি-প্রতিদিন
চট্রগ্রামে বিশ্বমানের একটা চ্যারেঠি হাসপাতাল নির্মাণ করা সময়ের দাবী -তসলিম উদ্দিন রানা
১৮,জুলাই,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্রগ্রাম হল দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী।নামে বাণিজ্যিক রাজধানী হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে।শিক্ষা,সাংস্কৃতিক,চিকিৎসা, আদালত সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিন্তু অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য সব কিছুতে পিছিয়ে আছে।আমরা চাই এই বৈশম্য দূরীকরণের জন্য সবাই সোচ্চার হতে হবে।যার যার অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলতে হবে।আমাদের অধিকার বাস্তবায়নে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এবার হাসপাতাল প্রসঙ্গ নিয়ে বলি,চট্টগ্রামের সাধারন একটি হাসপাতালের ১২ দিনের বিল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা।এত ভুতুড়ে বিল কিভাবে আসল আর আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল হলে কি রকম বিল হতো ? সাধারন মধ্যবিত্ত,নিম্মভিত্ত পরিবার পারবে সারাজীবনের উপার্জনে ? সাধারণ মানুষ কিভাবে চিকিৎসা করাবে তা আমার বোধগম্য নয়।চিকিৎসার জন্য সম্পদ বিক্রি করে বা ধার নিয়ে কিভাবে এত টাকার চিকিৎসা কি বীর চট্রলার সাধারণ জনগণ করতে পারবে সেটা আমার প্রশ্ন? বর্তমানে চট্রগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার দাবী জানাই কিন্তু অতীব বাস্তব সত্য কথা তা দিয়ে কারা সেবা নিবে বা পারবে সেটা একটু দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর সবাই শুধু চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের কথা বলে মুখে ফেনা তুলছে.....আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে সাধারন মানুষ চিকিৎসা পাবে ? নাকি বড় লোকদের জন্য তৈরী হবে? স্কয়ার,এ্যাপোলো,ইউনাইটেড,ল্যাবএইড, বাংলাদেশ স্পেপেশেলাইজ,বিআরবির মত হাসপাতালে কারা যাইতে পারে?কারা চিকিৎসা নেয়? মোট জনসংখ্যার কতো % ? তা সহজে অনুমান করা যায়।তবুও বলব ২-৫% এর বেশী বলে মনে হয়না। জানিনা সরকার বেসরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার মুল্য নির্ধারন করছে কিনা ? সবাই আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করার কথা বললে হবেনা তার সাথে মানুষের সাধ্যের কথা চিন্তা করে হাসপাতাল নির্মাণ করা সময়ের দাবী বলে মনে করি।আপনি যদি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কথা চিন্তা করেন দেখতে পাবে তারা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশ্বের অন্যতম।তাদের সেবার মান উন্নত ও মানুষের সীমার মধ্যে আছে।ভারতের আন্তর্জাতিক হাসপাতাল নির্মাণ করার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে চ্যারিঠি হাসপাতাল নির্মাণ করে জনগণের চিকিৎসা সেবা করছে। প্রতিটি মানুষ যাতে সেবা পায় সেটা মুখ্য বিষয়। চট্রগ্রামের প্রতিটি মানুষের আওয়াজটা তুলুন সরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সেবা আরো উন্নতির জন্য যেন দেশের ৮০% সাধারন মানুষ ভালো চিকিৎসা সেবা পান। মানুষ সুস্থ ও ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা পায়।বেসরকারি হাসপাতালের নীতিমালা সহ বিভিন্ন সেবার মুল্য নির্ধারন করে দিতে সোচ্চার হউন।জনতার দাবী সবাই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের মান উন্নত করে মানুষের নাগালের মধ্যে রাখলে সবাই চিকিৎসা সেবা পাবে আর মানুষের কল্যাণে হবে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের কথা শুধু মুখে ফেনা তুলে লাভ হবেনা।কারণ আমার সাধারণ মানুষ আমাদের চিকিৎসা পেতে হবে।আমাদের বাচতে হবে সেজন্য সবাই আওয়াজ তুলে বলতে হবে হবে আন্তর্জাতিক মানের না?পারলে ভারতের মত চট্টগ্রামে বড় ১টি চ্যারেটি হাসপাতাল তৈরী করুন তখন কম খরচে দামী চিকিৎসাও করতে পারবেন সাধারন আর অসাধারন সবাই ভোগ করতে পারবে। লাভ হবে সবার,লাভ হবে আমজনতার। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা
শোকজ, বদলি কি অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করে?
১৩,জুলাই,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা যখন সমগ্র বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়ে কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত ও পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। তখন বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্ত রোগীর শনাক্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার এর উপরে এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজারের উপর মানুষের। আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। ব্যবসা বাণিজ্য আজ অচল হয়ে পড়েছে, কর্মহীন মানুষের হাহাকার দিনদিন বেড়েই চলেছে। বন্দীজীবন আর আতঙ্ক স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ধারাকে পরিবর্তন করে অচেনা সময়ের মুখোমুখি করেছে। সেখানে সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোমলমতি শিশু ও আমাদের পরিবারের সিনিয়র সিটিজেন। স্বজনদের হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার আজ শোকের সাগরে ভাসছে। পথে বসতে বসেছে ছোট ও মাঝারি মানের লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি দুটি ঘটনা আলোচনার- সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যে আলোচনা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের গণমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হওয়া বিষয় নিয়ে বলছি, নিশ্চয় পাঠকও বুঝতে পারছেন। হ্যাঁ আমি জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা টেস্টের ফলাফল জালিয়াতির কথা বলছি। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতাল সরকারের সাথে চুক্তি করলো বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের করোনাভাইরাস সনাক্ত করার জন্য। কিন্তু আমরা দেখলাম তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে এবং প্রকাশ্যে সরকারের শর্ত ভঙ্গ করেছে। শুধু টাকা নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না তাদের অপরাধ, তারা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগির কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে না পাঠিয়ে ফেলে দিতো ডাস্টবিনে। পরবর্তীতে দেখা গেলো একটি মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে দেয়া হত রোগিদের কাছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পূর্বে তারা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রিজেন্ট হাসপাতেলের ৬ বছর লাইসেন্স নবায়ন না থাকার পরেও তার সাথে চুক্তি করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়। রিজেন্টে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার অভিযোগ করার পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হল না। বরং রিজেন্টের মালিক মোহাম্মাদ সাহেদকে সতর্ক করে দিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জেকেজির আরিফুরকে গ্রেফতার করার পরেও সেই সংস্থার চেয়ারম্যান ডা সাবরিনাকে গ্রেফতারে দীর্ঘ সময় নিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের মনে আজ হাজার হাজার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে মহামারী মোকাবেলায় ব্যর্থ আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাহেদকে গ্রেফতারে এত গড়িমসি কেন, কোথায় লুকিয়ে আছে সে? শত শত প্রতারণার সাথে জড়িত ৩২ মামলার আসামি কিভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে আসে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আয়জনে কারা তাকে দাওয়াত পত্র দিতো? এখানে পরিষ্কার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে এই পর্যন্ত সাহেদদের আসার কথা না। সাহেদ একজন ভয়ঙ্কর প্রতারক জেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে পুলিশকে জানায় ২০১৬ সালে। কিন্তু তারপরও তাকে কিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়, দেয়া হয় ভিআইপি পুলিশ প্রোটোকল? মনে পড়ে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধাদের যখন একে একে হত্যা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করে হুমকি দেয়া হচ্ছে হত্যার, তখন আমাদের অনেক সহযোদ্ধা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু কোন সাড়া মেলেনি তখন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা রিপোর্ট ও গণমাধ্যমের তালিকায় নাম থাকাতে আমার আত্মীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন কয়েকবার। একদিন আমার আবেদনটি দেখে মহামান্য মন্ত্রী সাহেব যেভাবে হাইকোর্ট দেখালেন তা আজও স্পষ্ট মনে আছে। বাসায় এসে ঠিক করলাম নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই ম্যানেজ করে নিতে হবে। আজ বারবার মনে হয়, জাতির পিতার আদর্শ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জামায়াত শিবির- জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি জীবনবাজি রেখে যে রাষ্ট্রের জন্য, সেই রাষ্ট্র সাহেদদের দখলে। সেই রাষ্ট্রের আইন কানুন, অস্ত্র, পুলিশ প্রোটোকল সব সব কিছু তাদের পকেটে। হাওয়া ভবন থেকে উঠে আসা মিঠু- শাহেদ-খালেদদের শত শত কোটি টাকার কাজ দেয়া হয় কমিশনের বিনিময়ে ত্যাগি নেতা কর্মীদের উপেক্ষা করে। তাদের অন্দর মহলে ভোগ উপভোগ- সম্ভোগে উন্মাদ থাকেন ক্ষমতার চেয়ারে বসা আদর্শহীন দানবেরা। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কাজের সমালোচনা করলে আমাদের বলা হয় বিপ্লবী। আমরা কথা বললে নাকি উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্থ হয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’র কথা বলে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন প্রকল্প চলমান নানান ধারায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শোকজ করা হয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন চিঠির বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতর কর্মকর্তা বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কী কী বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে তা জানাতে বলা হয়েছে। কাল হয়তো দেখতে পাবো বদলি করা হয়েছে। কিন্তু জেকেজি বা রিজেন্টের প্রতারণায় সহযোগিতা করার ফলে যে কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হল, আক্রান্ত হল কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি হল তার কি হবে। এই ভুয়া রিপোর্টের ফলে দেশে কত লাখ মানুষ আক্তান্ত হবে তার হিসেব কে করবে। আজ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হল তার নিরূপণ করার কোন যন্ত্র কি আছে সরকারের কাছে। লাখ লাখ প্রবাসিদের ভবিষ্যৎ যারা শঙ্কার মধ্যে ফেললো, পুরো বাংলাদেশকে যারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা শুধু দুর্নীতির জন্য এমন করেছে এমনটি ভাবতে চাই না। তারা সরকারকে দেশ ও বিদেশে বেকাদায় ফেলতে চায় তা আজ স্পষ্ট। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্ঘুম প্রচেষ্টাকে যারা পরিকল্পিত প্রশ্নবিদ্ধ করলো তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মহামারীকালে যারা এই দুর্নীতি ও অপরাধের সহযোগিতা করেছে তাদের চিহ্নিত করে মুখোশ উন্মোচন করা হোক। আজ সকল অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের দায় শুধু রাজনীতিবিদদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাবান আমলারা পার পেয়ে যাচ্ছে। আর তাদের অপরাধ শোকজ আর বদলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বহাল তনিয়তে থেকে পুনরায় নতুন কৌশলে দেশটাকে লুটের জন্য তৈরি হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের প্রতি দেশের মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার চিত্র দেশ বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এই নেতৃত্ব আজ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এখোনো সময় ফুরিয়ে যায়নি আপনার পরিক্ষিত সন্তানদের অর্থাৎ ছত্রলীগ করে আসা দেশ প্রেমিক ব্যক্তিদের দায়িত্বে নিয়ে আসুন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনার ও দেশের কথা চিন্তা করে তারা আর যাই করুক, এদের মত পুকুর চুরি করবে না। লেখক: সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডট কম, সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১।- বিডি-প্রতিদিন
সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা গুমরে কাঁদে
০৮,জুলাই,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ছাত্রলীগ করতে যেয়ে ছাত্রদল ও পুলিশের পিটুনিতে আমার তিনবার হাত ভেঙ্গেছিলো। বন্ধুরা যখন ক্লাসরুম বা পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিল আমি তখন মধুর ক্যান্টিন আর ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াতাম- জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু; শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই- শ্লোগানে। ওয়ান ইলেভেনে নিজের এবং পরিবারের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় ছিলাম। কত কত নির্ঘুম রাত ... জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মনে হয়েছে রাজনীতি আমার জন্য না। তবে একসময় ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম এটা নিয়ে আমি গর্ব করি। ভর্তি পরীক্ষায় বেশ ভালো করেছিলাম। খুব অল্প পড়েই মোটামুটি ভালো নম্বর পেয়েছিলাম অনার্স মাস্টার্সে। আমার যে বন্ধুরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, যুগ্ম জেলা জজ, ইউএনও, এডিশনাল এসপি, ডেপুটি ডিরেক্টর কারো চেয়ে একটুও কম মেধাবী ছিলাম না আমি। ছাত্রলীগ না করে ঠিকমত পড়াশোনাটা করলে অথবা ছাত্রজীবনে অন্য কোন সংগঠন করলে আমিও কর্মজীবন শেষে বড় কিছুই হতাম। আমার মত লাখো বাণী ইয়াসমিন হাসির ঘাম শ্রম আর আবেগ মিশে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গায়ে। পার্টি যদি ভুল পথে হাঁটে আমার ঘাম শ্রমের বিনিময়ে হলেও সমালোচনার দাবি আমি রাখি। ভালো থাকুক ভালোবাসার আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর ছিল একজন খন্দকার মোশতাক। শেখ হাসিনার শয়ে শয়ে। খন্দকার মোশতাকদের ভিড়ে নিরাপদে থাকুক প্রিয় আপা। কোভিড খাতে বরাদ্দ ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ২৫ লাখ টাকার কাজ পেয়েছিলো আমিন ভাইয়ের কোম্পানি। বড় চোরদের বাঁচাতে আমিন ভাইকে ফাঁসানো হলো। উনার নামে পুলিশ কেস হলো, দুদক মামলা করলো। অথচ হাজার কোটি টাকা যারা লোপাট করলো তাদের কিছুই হলো না। আমিন ভাইয়ের সংগঠনের নেতারাই উনার বিরূদ্ধে নিউজ করালেন, নিউজ শেয়ার করালেন আবার বুস্ট করে ভাইরালও করালেন! যশোরের ডিসি তমিজ ভাইকে ছাত্রদলের ক্যাডার বানিয়ে দেওয়া হলো। উনার সময়ের এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট/ সেক্রেটারি কুমিল্লার এসপি নুরুল ভাই ও মাহফুজ মামা দুইজনই বললেন, তমিজ ভাই উনাদের সাথে ছাত্রলীগ করতেন। একটু খোঁজ নিলেই ব্যাকগ্রাউন্ড টা জানা যেত কিন্তু কেউ সেটা করলেন না। প্রশাসন ক্যাডারের গ্রুপিং এর কারণে ভালো পোস্টিং কেউ পেলেই নোংরামি শুরু হয়। আর এটা করে আমাদের লোকেরাই। বিএনপির নোমান সাহেবের পিএস একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন, এটা নিয়ে টুশব্দটাও কেউ করলো না। ডিসি কি এত বড় পদ? অথচ সরকারের কত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে কত পোস্টেড বিএনপি জামাত বসে আছে সেটা নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। লক্ষ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা হলো। কয় টাকার কাজ সাবেক ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ বা সহযোগী অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা পাবে? নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি আর কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করেন। চোখ মেলে দেখেন, আপনারা কাবাডি খেলায় ব্যস্ত। আর অন্যরা সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এবার আত্ম উপলব্ধির সময় এসেছে। আপনাদের দল ক্ষমতায় তারপরও আপনারা ক্ষমতাহীন। চাকরি ব্যবসা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে অন্য কেউ। আর এর জন্য সবচেয়ে বড় দায়টা কিন্তু আপনাদেরই। দেরী হোক, যায়নি সময়। সবাই এক হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই টা শুরু করেন। এতে আপনারা বাঁচবেন, দল বাঁচবে, দেশও বাঁচবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আর যাই হোক মানুষের কথা ভাববে। এভাবে পুকুর চুরি করবে না। এটা আমার বিশ্বাস। দলীয় নেতাকর্মীরা একে অন্যের কাপড় খোলার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। ছোট মুখে একটা বড় কথা বলি। খুউব সুপরিকল্পিতভাবে সবগুলো উইং কে দুর্বল বা ধ্বংস করা হচ্ছে। কালিমালেপন করা হচ্ছে। শুরুটা ছাত্রলীগ দিয়ে তারপর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মূল দলের সম্মেলনে বিতর্কিতদের প্রমোশন অথবা পূনর্বাসন, যুবমহিলা লীগ। এরপর কে বা কোন উইং? কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে একটু ভাবুন। কিসের মোহে ছুটছেন? কাকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন? নাকি কেউ আড়াল থেকে আপনাদের একজনের পেছনে অন্যকে লেলিয়ে দিচ্ছে? ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হচ্ছেন। একে অন্যকে হারাতে গিয়ে দিনশেষে সবাই মিলে হারছেন! মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, প্রশাসনের বড়কর্তা, মিডিয়া সর্বত্রই তার সরব উপস্থিতি। ধরা পড়ার পর জানা গেলো তিনি মীর কাশেম এবং নাজমুল হুদার ঘনিষ্ঠ। তার আওয়ামী রাজনীতির ক্যারিয়ার মাত্র বছর ছয়েকের। এর মধ্যেই তিনি এতকিছু বাগিয়ে নিলেন! অথচ রাজপথে যারা রক্ত ঝরিয়েছে, জেল খেটেছে-গত দুই যুগ বা তারও বেশি সময় ধরে তাদের অধিকাংশই আজও নিজের একটা আইডেনটিটি তৈরি করতে পারেননি। লাইসেন্স এবং নূন্যতম অবকাঠামো না থাকার পরও রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে সরকারি চুক্তি হলো। কোটি কোটি টাকার বরাদ্দও মিললো। এর পেছনে কে বা কোন শক্তি সেটা কি কখনো সামনে আসবে? প্রধানমন্ত্রীর এত কাছে যারা তাকে পৌঁছে দিলো, যারা তাকে আওয়ামী লীগের নেতা বানালো এবং বিভিন্নভাবে প্রমোট করলো তাদের দায় কি কোন অংশে কম? আমি বিশ্বাস করি দল বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে দু:সময়ের কর্মীদের এক হওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যখাতের মিঠু শাহেদরা হাজার কোটি টাকার মালিক। শুধু স্বাস্থ্যখাত না প্রতিটা সেক্টরে মিঠুদেরই দৌরাত্ম। ছাত্রলীগের কোন সাবেক কাজ পায় না, তাদেরকে কাজ দেওয়া হয় না। আপনারা দশজন একত্র হোন। কোথাও গিয়ে দাঁড়ান তো একসাথে। কে আপনাদেরকে কাজ না দিয়ে পারে। কিন্তু আফসোস কি জানেন, আপনারা কখনোই এক হতে পারবেন না। লোকমান জামিন পায়, সম্রাট জেলে পচে মরে। লোকমান খালেদা জিয়ার পেছনে ছাতা ধরতো আর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট জান দিয়ে আওয়ামী লীগটা করতো। লোকমানদের সব পাপ মাফ। কিন্তু পেসমেকার বসানো ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট সম্রাটের কোন মাফ নেই। এখানে কোন মানবিকতা কাজ করে না! সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা গুমরে কাঁদে। তাদের চাওয়া পাওয়ার কোন হিসেব নেই। একটাই প্রাণের আকুতি, দিনশেষে দলটা ভালো থাকুক। তাদের প্রিয় আপা নিরাপদে থাকুন। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে এই আমি লীগের ভিড়ে বড্ড অচেনা লাগে! লেখক: বাণী ইয়াসমিন হাসি, সম্পাদক- বিবার্তা২৪ডটনেট।- বিডি-প্রতিদিন
ড. আসিফ লড়াই অব্যাহত থাকুক; হীনমন্যতার পরাজয় হোক
০৬জুলাই,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেই কতযুগ আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, সাত কোটি সন্তান রে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি। তারপর দীর্ঘকালের লড়াই সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের পর বাঙালির জাগরণের মহাজাদুকর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তারই উত্তর দিয়েছিলেন তার স্বপ্নের স্বাধীন দেশে পা রেখেই ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে। জাতির পিতা বলেছিলেন, কবিগুরু দেখে যান আপনার সাত কোটি মানুষ আজ মানুষ হয়েছে, তারা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।' কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের কথা নির্মমভাবে সত্য প্রমাণ করেছিলেন কিছু বাঙালি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাতে পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আজ এতো বছর পরেও নিশ্চয় কবিগুরু উপর থেকে হাসছেন আমাদের হীনমন্যতা আর সংকীর্ণতার নগ্নরুপ দেখে! দুইদিন আগে গ্লোব বায়োটেকের গবেষক ড. আসিফ মাহমুদ করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছু মানুষকে ভীষণভাবে গর্বিত করলেও কিছু মানুষের নাক ছিটকানতে লজ্জাও পেয়েছি। পৃথিবীর কত বড় বড় ধনবান দেশ ঘোষণা করেও এখনো সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে আসতে পারেনি। কিন্তু সেই ঘোষণা আসার সাথে সাথে আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি কত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছি। আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের জন্য প্রার্থনা আর শুভ কামনার বার্তায় ভরে উঠেছে আমাদের ফেসবুক টাইমলাইনে। কিন্তু আমাদের দেশের সন্তান ড. আসিফ মাহমুদ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রচেষ্টার খবরে সকলকে কেন গর্বিত করতে পারেনি ? করোনাভাইরাসের আতঙ্কের সারা পৃথিবী যখন কাঁপছে, তখন বাংলাদেশর সন্তান আসিফ মাহমুদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনেছি বারবার। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এটি কেবলই প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে চূড়ান্ত সফলতার জন্য আরও কয়েক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সেটি আরও কঠিন ও জটিলতা রয়েছে, সেখানে সফলও হতে পারি আবার আমাদের সফলতা নাও আসতে পারে। আর সেই ঘোষণা নিয়ে আমরা কি না করলাম। আমরা তো জানি পৃথিবীতে সব গবেষণা সফল হওয়ার ইতিহাস নেই। তাই বলে মানুষ আর বিজ্ঞানের প্রচেষ্টা থেমে থাকতে পারে না। সভ্যতার ইতিহাসও তাই বলে । কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যগুলো আমার কাছে দ্রেশপ্রেম আর মানবতাবোধের প্রতীক মনে হয়েছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর আবেগ, দায়িত্ববোধ ও চেষ্টা তাকে এমন সাহসী কাজের দিকে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি। ড. আসিফের চোখের জল নিয়ে যারা ট্রল করেছেন তাদের তেমন কোন দোষ নেই। কারণ এটি ছিল আমাদের মূল্যবোধ ও দেশ প্রেমের অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। যেখানে রাষ্ট্রের উঁচু থেকে নিচু পর্যন্ত বিভক্তির কালো রেখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রতিদিন, যে দেশে আদর্শবান দেশপ্রেমিক মানুষকে ঘরে বাইরে তিরস্কার শুনতে হয়। যেখানে এমন ট্রল খুব বেমানান নয়! যে দেশে নিজের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে বিদেশি শুনলে হুমড়ি খেয়ে পড়ি পড়িমরি করে। যে সমাজের নেতৃত্ব দেয়া তথাকথিত শিক্ষিতজনেরা বিদেশি পণ্য, পোশাক আর খাবার নিয়ে গর্ববোধ করে সেই সমাজে কিছু মানুষ এমন আচরণ আমাদের বিচলিত করে না। যেখানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলারা বিদেশে একাধিক বাড়ি না থাকলে বিষণ্ণতায় ভোগেন ডিপ্রেশনের ওষুধ খান, সেখানে এমনটাই কাম্য! অনেকে ভাবছেন বৈশ্বিক ভ্যাকসিন বা টিকা শিল্পে বড় নামগুলো যেমন পিফিজার, মার্ক, গ্লাক্সোস্মিথ, স্যানোফি এবং জনসন অ্যান্ড জনসন এর সাথে পাল্লা দেবে বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক? যারা তার উদ্যোগ নিয়ে বিদ্রুপ করছেন তাদের অভিভাবকদের খবর নিয়ে দেখেন, তাদের চাওয়া ছিল পড়ালেখা করে তাদের সন্তানেরা হবে বিসিএস ক্যাডার কিংবা বিদেশি কোম্পানির বড় কেরানি কিংবা ছলে বলে কৌশলে এদেশের সম্পদ লুটে পাড়ি জমাবেন ভিনদেশে এক নিরাপদ জীবনের জন্য। তারা চায় না তাদের সন্তান লেখক হোক, শিক্ষক হোক কিংবা গবেষক হোক। সত্য এটাই আমাদের সমাজ চায় না কেউ শিল্পী হোক, ক্রিকেটার হোক, সমাজসেবক কিংবা ফুটবলার। আমরা আমাদের প্রজন্মকে শুধু টাকা উপার্জনের রেসে নামিয়ে দিয়েছি। সেই রেসে দেশপ্রেম কিংবা মানবতাবোধের কোন স্থান নেই। যে দায় নিতে হবে এই সমাজের নীতি নির্ধারক মহামান্য সমাজপতিদের। আমরা জেনেছি নটরডেম কলেজের মেধাবী ছাত্র আসিফ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসিতে ঢাকা বিভাগে মেধা তালিকায় ৭ম হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয়, এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল। তিনি জাপানের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। কিন্তু আমদের অনেকের কাছে এটাই হয়তো খটকা লেগেছে বিদেশি নিরাপদ জীবন রেখে তিনি কেন দেশে ফিরে আসলেন ? আসলেই তাই যে দেশে গুণীদের কদর নিতে সুপারিশ করতে হয়। ভালো কাজ কিংবা অর্জনের স্বীকৃতি নিতে ঘুষ দিতে হয় সেই দেশে এমন সাহসী উদ্যোগ অন্যায়ও বটে! কোন শুভ কাজে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানাতে এত কার্পণ্য আমাদের! আজ যারা বাঙালি কিংবা বাঙালির কর্মের উপর আস্থা রাখতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের জেনে রাখা দরকার পৃথিবীকে চমকে দেওয়া বাংলাদেশের কিংবদন্তী কয়েকজন বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার এর কথা। যাদের আবিষ্কার পৃথিবীর সভ্যতাকে ভিন্নরূপ দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশকে নতুন করে চিনিয়েছেন তারা। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, ময়মনসিংহে ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্ম এই বিজ্ঞানীর। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। সবর্প্রথম উদ্ভিদে প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু৷ বিভিন্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে তার মনে হলো, বিদ্যুৎ প্রবাহে উদ্ভিদও উত্তেজনা অনুভব করে এবং সাড়া দিতে পারে৷ এর অর্থ, উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে৷ ১৯১০ সালের দিকে বিজ্ঞানী বসু তার গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বই আকারে প্রকাশ করেন৷ ড.কুদরাত-এ-খুদা, গবেষণা জীবনের এক পর্যায়ে, তিনি বনৌষধি, গাছগাছড়ার গুণাগুণ, পাট, লবণ, কাঠ কয়লা, মৃত্তিকা ও অনান্য খনিজ পদার্থ নিয়ে কাজ করেন৷বিজ্ঞানী হিসাবে তিনি ও তার সহকর্মীদের ১৮টি আবিষ্কারের পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাট সংক্রান্ত৷ এর মধ্যে পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন, পাটকাঠি থেকে কাগজ এবং রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার আবিষ্কার উল্লেখযোগ্য৷ দেশে বিদেশে তার ১০২টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে৷ সত্যেন্দ্রনাথ বসু , ১৯২২ সালে পার্টিকেল স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে সত্যেন বোসের গবেষণাটি, যেটি আইনস্টাইন নিজে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন, অনেকের ভাষায় ২০ শতকের সেরা দশ কাজের একটি৷ যদিও তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, কোয়ান্টাম থিওরির অনেক গবেষণার পথ খুলে দেয় তার গবেষণা৷ কোয়ান্টাম ফিজিক্সের অনন্য আবিষ্কার গডস পার্টিকেলস বা ঈশ্বর কণা-র নামকরণ করা হয়েছে, তার ও আরেক পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগসের নামে - হিগস-বোসন পার্টিকেল৷ পি সি রায়, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে৷ এটি তার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার৷ তিনি তার সমগ্র জীবনে মোট ১২ টি যৌগিক লবণ এবং পাঁচটি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন৷ মেঘনাদ সাহা, মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, আয়ন মণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা করেন৷ তাপীয় আয়নবাদ সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতি পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন৷ আব্দুস সাত্তার খান, নাসা ইউনাইটেড টেকনোলজিস এবং অ্যালস্টমে কাজ করার সময়ে ৪০টিরও বেশি সংকর ধাতু উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানী খান৷ এই সংকর ধাতুগুলো ইঞ্জিনকে আরও হালকা করেছে, যার ফলে উড়োজাহাজের পক্ষে আরও দ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে এবং ট্রেনকে আরও গতিশীল করেছে৷ তার উদ্ভাবিত সংকর ধাতুগুলো এফ-১৬ ও এফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ কলেরা রোগের কারণ আবিষ্কার করেছেন ডা. ফারুক৷ কলেরার ঘটক ভিবরিও নামে এক ধরনের শক্তিশালী ব্যাক্টেরিয়ার সংস্পর্শে অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া এসে কীভাবে একে আরও কার্যকরী বা শক্তিশালী করে তোলে সেটিই ছিল তার গবেষণা৷ আন্তর্জাতিক কলেরা রোগ গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবি-তে তিনি ও তার গবেষণা দল এ আবিষ্কার করেন৷ পাটের জিনের আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলম। এই বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা৷ বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সৌর বিদ্যুৎ কোষ উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে ম্যারিল্যান্ডের কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গবেষক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. জামালউদ্দিন ইতিহাস গড়েছেন৷ ড. জামাল উদ্দিন এবং তার গ্রুপ সোলার সেল থেকে শতকরা ৪৩.৪ পুনঃব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে যা বিশ্বে এই উৎপাদনের সর্বোচ্চ মাত্রা৷ বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী শুভ রায়৷ এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য কীর্তি৷ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহযোগী অধ্যাপক শুভ রায় তার সহকর্মীদের নিয়ে কৃত্রিম কিডনি তৈরির কাজ শুরু করেন৷চলতি দশকের গোড়ার দিকে দলটি ঘোষণা দেয় যে, তারা কৃত্রিম কিডনি তৈরি করে তা অন্য প্রাণির দেহে প্রতিস্থাপন করে সফল হয়েছে৷ হরিপদ কাপালী ছিলেন এক প্রান্তিক কৃষক। কিন্তু তার আবিষ্কার হরিধান কৃষিবিজ্ঞানের এক অনন্য সাফল্য৷ প্রকৃতির কাছ থেকেই শিক্ষা৷ প্রকৃতিতেই তার গবেষণা৷তার নামে নামকরণ করা এই ধানটি অন্য যে কোনো ধানের চেয়ে উচ্চ ফলনশীল৷ এতে সার ও ওষুধও লাগে অনেক কম৷ সব মিলিয়ে সোনার বাংলার সোনালি আবিষ্কার হরিপদ কাপালীর হরিধান৷ এছাড়াও পৃথিবীতে মানব সভ্যতা এগিয়ে নিতে বাঙালির শত শত আবিষ্কার রয়েছে। যে সকল আবিষ্কার পশ্চিমাদের বিশ্ব বাণিজ্য রাজনীতি কিংবা পুঁজিবাদের আগ্রাসন সামনে আসতে দিতে চায় না। মনে রাখা দরকার আজ বিশ্বক্ষমতাধরদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে তলাবিহীন ঝুঁড়ির তকমা মুছে বিশ্ব দরবারে আজ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমাদের আছে গর্বিত ইতিহাস। বিশ্বাস করি, ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্নকে ধারণ ও জাতির পিতার মানব মুক্তির দর্শন চর্চার মধ্য দিয়ে বাঙালিদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। ড. আসিফ আজ পৃথিবীর মানুষের কঠিন দুঃসময়ে আপনার এমন উদ্যোগ দেশপ্রেমিক প্রজন্মকে আরও সাহসী করে তুলবে নিশ্চিত। আপনার এই সাহসী উচ্চারণ আজ বিশ্ববাসী শুনেছে। ওরা পারলেও কেন আমরা পারবো না। বাঙালি হিসেবে আজ আমরা গর্বিত। আপানার পূর্ব-পুরুষদের গর্বিত ইতিহাস নিয়ে আপনার গবেষণা সফলার চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করুক মানবকল্যাণে সেই প্রার্থনা আমাদের। আপনার লড়াই অব্যাহত থাকুক আমাদের সংকীর্ণতা আর হীনমন্যতার পরাজয় ঘটুক। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ।
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের গর্ব ও বিশ্বের সম্পদ
৩০জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: যা হোক, শেষ পর্যন্ত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং অকুণ্ঠ সহযোগিতা অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যোগদান করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার জন্য উন্নত মানের একটি গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এর অধীনে অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স ও পিএইচ.ডি. করেছে এবং তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ জেএন ইসলাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে হকিং বলেছিলেন, জেএন ইসলাম আমার রুমমেট, বন্ধু এবং আমরা ছিলাম পরস্পর পরস্পরের শিক্ষক। জামাল নজরুল ইসলাম সেরা। আমি তার কাছে কিছুই না। সারা বিশ্বে বিজ্ঞানী মহলে জেএন ইসলাম জিনিয়াস ইসলাম নামেও পরিচিত ছিলেন। জাপানি প্রফেসর মাসাহিতো বলেছেন, ভারতের বিখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী জয়ন্ত নারলিকা জেএন ইসলামের সহপাঠী ছিলেন। ফ্রেডরিক হয়েল, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ব্রায়ান জোসেফসন, স্টিফেন হকিং, প্রফেসর আব্দুস সালাম, রিচার্ড ফাইনমেন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের মুখে আমি অনেক বার জেএন ইসলামের কথা শুনেছি। জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স লেখা হয়েছে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু হকিংয়ের অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম লেখা হয়েছে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে। দুটি গ্রন্থ তুলনা করলে নিঃসন্দেহে জেএন ইসলামের বইটি যে কোনো বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম নিয়ে আমরা যে তোলপাড় করেছি, জেএন ইসলামের আল্টিমেট ফেইট নিয়ে তার এক সহশ্রাংসও করিনি। হকিং তাঁর মূল্যবান গবেষণা সময়ের অধিকাংশই ব্যয় করতেন বাঙালি প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থেকে পারিবারিক বন্ধুত্বে উন্নীত হয়েছিল। হকিংয়ের জ্যেষ্ঠ ছেলে রবার্ট, কন্যা লুসি এবং কনিষ্ঠ ছেলে থিমোতি জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গ খুব পছন্দ করতেন। জামাল নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে সাদাফ যাস সিদ্দিকি ও নার্গিস ইসলাম ছিলেন তাদের খুব আদরের। সাদাফ যাসের আমন্ত্রণে লুসি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে লিট ফিস্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন। অর্থশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে এলে বন্ধু জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার জন্য চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালাম বাংলাদেশে এলে বিমান বন্দরে নেমে বলেছিলেন, জেএন ইসলামকে খবর দিন। ওই সফরে জেএন ইসলামকে একটা পদকও দিয়েছিলেন প্রফেসর আবদুস সালাম। উল্লেখ্য, বয়সে জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন হকিংয়ের সিনিয়র কিন্তু আবদুস সালাম এবং অমর্ত্য সেনের জুনিয়র। জেএন ইসলামের লেখা এবং ক্যাম্ব্রিজ থেকে প্রকাশিত রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি বইটাকে বলা হয় আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অদ্বিতীয় বই। সেটা নিয়ে অধিকাংশ বাঙালি কিছুই জানে না। নিজের ঘরের মানুষের কৃতিত্বের খবর যদি ঘরের মানুষ না রাখে তাহলে বাইরের লোকে রাখবে কেন? জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স ছাড়া আর কোনো বাঙালির বই হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়নি। জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক। নিজের আয় থেকে অর্থ জমিয়ে দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। ১৯৭১ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সর্বোপরি, বিদেশে সহস্র পাউন্ডের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফেরার আগে জামাল নজরুল ইসলামের পরামর্শ চাইলে তিনি, জাফর ইকবালকে দ্রুত দেশে ফেরার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন। দেশের জন্য, দেশের বিজ্ঞানচর্চার জন্য তিনি যে পরিমাণ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন,তা সত্যিই অনন্য বিরল।নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই গুণী বিজ্ঞানী ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরন করেন। তথ্যসূত্রঃ গুগল, দেশি বিদেশী ম্যাগাজিন, প্রথম আলো, ফেইসবুক,উনাকে নিয়ে আরও অনেক কিছু লেখা যায়। কিন্তু লেখা বড় হলে তো আমরা পড়বো না। এতো পড়ার সময় কই? এতোকিছু বলার উদ্দেশ্য হলো আমরা কেন উনাকে চিনি না? জানি না? কারণ আমাদের মিডিয়া তাদের নিয়ে নিউজ করে না। হাইপ তুলেন না। বইয়ে তাদের নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয় না। আমাদের লজ্জা লাগে উনাকে কেন আমরা চিনতে পারিনি? অথচ স্টিফেন হকিং কে কতো আগে থেকেই চিনি।আমার জাতি হিসাবে লজ্জার কারণ তাকে বীর বাঙালী চিনতে পারিনি ? এর দায়ভার পুরো দেশের,মিডিয়ার। জামাল নজরুল ইসলাম স্যার ছিলেন চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের গর্ব না বিশ্বের সম্পদ। এই সম্পদকে আমরা চিনি তার বই গুলো পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়ানো হোক।তাকে নিয়ে গবেষণার করা হোক আর কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলে তার জীবন নিয়ে লেখা কাব্যগ্রন্থ পড়ানো হলে তরুণ প্রজন্মের লোকেরা অনেক কিছু শিখতে পাবে আর আজীবন তাকে ম্মরন রাখবে। তার মত মেধাবী দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী জন্ম নিবে এই বাংলায়। আমরা আলোর প্রদীপ পাব। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা ও নজরুল গবেষক

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর