জুলাইয়ে ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা
০৩আগস্ট,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও শুধু জুলাই মাসে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা । বিশ্বজুড়ে ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। গত জুন মাসের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৮৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবতকালের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত ৩০ জুন ২০২০ তারিখে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ০১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি ছিল সর্বোচ্চ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেটি পৌছেছে ৩৭ দশমিক ২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ডে। রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের আন্তঃপ্রবাহ। করোনার মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে। এক্ষেত্রে দেশ ও পরিবারের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতার বহি:প্রকাশ ঘটেছে। অর্থনীতির চাকাকে বেগবান রাখতে বড় অবদান রাখছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্সে দেশের এ অনন্য রেকর্ডে প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসীদের প্রেরিত আয়ের উপর ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত আছে যার ফলে গতবছর ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরে ৩-৫ বিলিয়ন ডলার বাড়তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। সামনের দিনে রেমিট্যান্স বৈধ পথে আনতে যত কৌশল অবলম্বন করতে হয় সেটা আমরা নেব। তিনি বলেন, প্রবাসীদের রয়েছে দেশের প্রতি অকৃতিম ভালোবাসা আর মমত্ববোধ। তাদের টাকা প্রেরণে যত বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করা হবে। উল্লেখ্য, চিকিৎসার ফলোআপের পরে লন্ডন থেকে আজ সকালে অর্থমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু করেছেন।
পানির দামে চামড়া বিক্রি
০৩আগস্ট,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ও রপ্তানির ঘোষণা দেয়ার পরও রাজধানীসহ সারা দেশে পানির দামে বিক্রি হয়েছে চামড়া, ঠেকানো যায়নি বিপর্যয়। অনেকে চামড়া বেচতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এতিমখানায় দিতে বাধ্য হয়েছেন। পথে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ১০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। আর ছাগলের ২ থেকে ১০ টাকা। রাজধানীর বাহিরে আরও ভয়াবহ অবস্থা। অনেক স্থানে গত বছরের চেয়েও নাজুক পরিস্থিতি। যেখানে মৌসুমী ব্যবসায়ী না থাকার পাশাপাশি, সাড়া নেই পাইকারদেরও। রাজধানীর জিগাতলা, পোস্তগলা, বাড্ডা এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। অথচ গতবারের চেয়ে এ বছর ২০-২৯ শতাংশ কমে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। যাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরাও। যদিও, চলমান করোনা মহামারির কথা চিন্তা করে আগেই চামড়া বিক্রি কম বলে আশঙ্কা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। দেশের আড়তদার ও ট্যানারির মালিকরা বলছেন, এ বছর গতবারের চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ কম চামড়া আসবে। তাই চামড়ার বেশি চাহিদা রয়েছে। তারপরও দাম কমার সেই পুরনো অজুহাতই দেখাচ্ছেন তারা। এদিকে, ঢাকার বাহিরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যের হেরফের করে চামড়া কিনলেও এবার যেন সম্পূর্ণই নিরব ভূমিকায় স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ী ও পাইকাররা। তাই কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ বিক্রেতারা। অনেক স্থানে খুচরা ও মৌসুমী ব্যবসাীয় না থাকায় কোরবানির পশুর চামড়া কেটে ভাগীদারদের মাঝে বন্টন করতেও দেখা গেছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে, যা গতবার ছিল প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সে হিসেবে দাম কমানো হয়েছে ২৯ শতাংশ। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয় প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এক্ষেত্রে গতবছরের চেয়ে দাম কমানো হয় প্রায় ২০ শতাংশ। এ ছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে ২৭ শতাংশ কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয়। আর বকরির চামড়া গত বছরের ১৩ থেকে ১৫ টাকা বর্গফুটের দর থেকে কমিয়ে এবার ১০ থেকে ১২ টাকা করা হয়।- একুশে টেলিভিশন
বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
৩০জুলাই,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বন্যা কবলিত এলাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। একইসঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় স্বাভাবিক মৎস্য ও প্রাণিজ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে কর্মকৌশল নির্ধারণেরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তার নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে নির্দেশনা পত্র পাঠিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরবর্তী মৎস্যখাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের কারিগরী সহায়তা দিতে মাঠ পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যা পরবর্তী মৎস্য চাষে পোনার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারিদের অতিরিক্ত পোনা উৎপাদন ও মজুদ করে পরবর্তীতে ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ আলোকে সরকারি-বেসরকারি খামারে পোনা মজুদের ব্যবস্থা নেওয়া এবং চাষ করা মাছের সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে মৎস্য চাষি, উদ্যোক্তা ও খামারিদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশু-পাখির রোগব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিকার কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং বন্যাপীড়িতদের পরামর্শ দান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই পত্রে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর চেকলিস্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ও সে অনুযায়ী কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, বন্য কবলিত এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত পশু খাদ্যখাতে বাজেট বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কন্ট্রোল রুম চালু করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণিসম্পদ খাতের সর্বশেষ চিত্র এবং বন্যাকবলিত এলাকায় নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে ২৯ জুলাই তারিখে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা কবলিত এলাকায় মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৬শ ২২টি গবাদিপশু ও ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৪শ ২১টি হাঁস-মুরগি উঁচু জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ২৪৯টি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করে ৮১ হাজার ১শ ৬৮টি গবাদিপশু ও ৪ লাখ ১৩ হাজার ৬শ ৩৪টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭শ ১৩ মেট্রিক টন গো-খাদ্য।- বাংলা নিউজ
4G ব্যবহারে ভারত - পাকিস্তানের পেছনে বাংলাদেশ
২১,জুলাই,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন মুঠোফোন ব্যবহার করেন। তবে তাদের বেশির ভাগই এখনো ফিচার ফোনে রয়ে গেছেন। আবার দ্রুত গতির চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (ফোরজি) সেবার ব্যবহারকারীও তুলনামূলক কম। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন মুঠোফোন ব্যবহার করেন। তবে তাদের বেশির ভাগই এখনো ফিচার ফোনে রয়ে গেছেন। আবার দ্রুত গতির চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (ফোরজি) সেবার ব্যবহারকারীও তুলনামূলক কম। এ চিত্র উঠে এসেছে মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর মোবাইল ইকোনমি ২০২০: এশিয়া-প্যাসিফিক' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে। এতে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতের পরিস্থিতি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, আঞ্চলিকভাবে ফোরজি ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জিএসএমের হিসাবে, ২০১৯ সালে দেশে মোট মুঠোফোন গ্রাহকের ১০ শতাংশ ফোরজি ব্যবহার করেছে। ৪০ শতাংশ করেছে তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা বা থ্রিজি ব্যবহার। বাকিরা ছিল পুরোনো টুজি প্রযুক্তিতে। আলোচ্য সময়ে ভারতে ৫৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৫৫, পাকিস্তানে ২৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৬৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮২ ও জাপানে ৮৮ শতাংশ গ্রাহক ফোরজি ব্যবহার করেছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফোরজি সেবা চালু হয়। সরকার আগামী বছর উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা ফাইভজি চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে জিএসএমের প্রাক্কলন বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের ৬ শতাংশ গ্রাহক ফাইভজি সেবার আওতায় আসবে। তখন ফোরজি গ্রাহক দাঁড়াবে মোট গ্রাহকের ৪৬ শতাংশে। বাকি ৩০ শতাংশ থ্রিজি ও ১৮ শতাংশ টুজিতে থাকবে। দেশে ফোরজি গ্রাহক এত কম কেন জানতে চাইলে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ২০১৮ সালে দেশে ফোরজি সেবা চালুর পরে মোবাইল অপারেটররা এখন পর্যন্ত দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশে ফোরজি গ্রাহক ততটা বেশি নয়, এর প্রধান কারণ হলো ফোরজি ব্যবহার উপযোগী মুঠোফোনের স্বল্পতা। তিনি বলেন, আরও বেশি গ্রাহককে ফোরজি সেবায় আনতে হলে মুঠোফোনের দাম কমাতে হবে। জিএসএমের হিসাবে, দেশের মুঠোফোন ব্যবহারকারীর ৪০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে দেশের মুঠোফোন ব্যবহারকারীর ৬৯ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী দাঁড়াবে। অবশ্য স্মার্টফোন মানেই ফোরজি ব্যবহার উপযোগী নয়। জিএসএমের হিসাবে, মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশের হাতে মুঠোফোন রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৬ লাখ। আর দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৯৪ লাখ। এটি মূলত 'ইউনিক ইউজার', যার মানে হলো, এক ব্যক্তির একাধিক সিম (গ্রাহক শনাক্তকরণ নম্বর) থাকলেও তাঁকে একজন গ্রাহক হিসেবেই ধরা হয়েছে। জিএসএমের হিসাবে, মোট ইউনিক ইউজারের ২৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, মে মাস শেষে দেশে মুঠোফোন গ্রাহক দাঁড়িয়েছে (সিম সংখ্যা) ১৬ কোটি ১৫ লাখ। আর মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে একবার কথা বলা ও খুদেবার্তা পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তাকে একজন গ্রাহক হিসেবে ধরা হয়েছে।
প্রতি বছর ৪ জুন পালিত হবে- জাতীয় চা দিবস
২০,জুলাই,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় চা দিবস হিসেবে ৪ জুনকে ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত পরিপত্রের খ শ্রণিতে অন্তুর্ভুক্তের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার (২০ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে ৪ জুন প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান হিসেবে চা বোর্ডে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। এসময় তিনি আইন সংশোধন করে চা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করেন। পরে চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেন। চা উৎপাদনকারীদের নগদ সহায়তার পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ করেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ওই দিনটিকে বিবেচনায় নিয়ে ৪ জুনকে জাতীয় চা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হলো বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বিনা মূল্যে ফেসবুক ব্যবহারের প্যাকেজে বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞা
১৭,জুলাই,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিনা মূল্যে অথবা প্রায় বিনা মূল্যে যেসব ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা দিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটি বলছে, এ সেবা নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মোবাইল অপারেটরগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে নানা ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মূল্য তুলনামূলক কম। এসব প্যাকেজেই লাগাম টানল বিটিআরসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিনা মূল্যে অথবা প্রায় বিনা মূল্যে যেসব ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা দিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটি বলছে, এ সেবা নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মোবাইল অপারেটরগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে নানা ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মূল্য তুলনামূলক কম। এসব প্যাকেজেই লাগাম টানল বিটিআরসি। বিটিআরসি ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের চিঠিটি দেয় ১৪ জুলাই। পরদিন, অর্থাৎ ১৫ জুলাই থেকে নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করে, এ ধরনের প্যাকেজ বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। চিঠিতে সই করেন বিটিআরসির উপপরিচালক সাবিনা ইসলাম। চিঠিটি দেওয়া হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে। এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী অপারেটরসমূহ তাদের গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত সেবা আংশিক বা কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রদান করতে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে। এসব ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ করে কিছু অসাধু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) জাকির হোসেন খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসি অপারেটরদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখে। বাজারে যাতে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বজায় থাকে এবং গ্রাহকেরা যাতে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ। অপারেটরগুলো জানায়, তাদের বিভিন্ন ইন্টারনেট প্যাকেজের অনেক সময় ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের অল্প মূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হয়। অপারেটরগুলো বিটিআরসির এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, তাঁরা নির্দেশনা পেয়েছেন। বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা জানিয়েছেন, তাঁরা বৃহস্পতিবার নির্দেশনাটি পাওয়ার পর বাস্তবায়ন করছেন। বিটিআরসির হিসাবে, দেশে মে মাস শেষে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৯ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক, যা মার্চ শেষে ৯ কোটি ৫২ লাখ ছিল।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ৩০২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
১৪,জুলাই,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কৃষি যান্ত্রিকীকরণে তিন হাজার ২০ কোটি ছয় লাখ ৮৫ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ আট প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১০ হাজার ১০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ভার্চুয়াল ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটির উদ্যোগী মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয় আর বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এ প্রকল্পের সব টাকাই সরকারে নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্না বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। আমাদের এগিয়ে যেতে হলে কৃষিকে আধুনিক করতে হবে। উৎপাদন খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জন্য সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। দেশের ৬৪ জেলার সবগুলো উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। কৃষিতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। প্রকল্পটির আওতায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে ফসলের অপচয় রোধ, চাষাবাদে সময় এবং অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে অধিক লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করে ফসল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে প্রকল্প সূত্র জানা গেছে। চলতি মাস (জুলাই) থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার বাড়িয়ে ফসলের ১০-১৫ শতাংশ অপচয় রোধ করা যাবে। এছাড়া চাষাবাদে ৫০ শতাংশ সময় এবং ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা যাবে। পাশাপাশি সমন্বিত সবজি জাতীয় ফসল আবাদ করে কৃষি যন্ত্রপাতির ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতা বাড়ানো যাবে। একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডেও সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন-ফেজ-১, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রংপুর জোন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
টিসিবির ডিলারশিপ নবায়নে নতুন নীতিমালা
১১,জুলাই,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে ডিলারদের ডিলারশিপ নবায়নে নতুন নীতিমালা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এজন্য ডিলারদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা জমা দিতে হবে প্রায় দ্বিগুণ। সস্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রধান কার্যালয়। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। প্রতিবছর এসব ডিলারদের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে ডিলারশিপ নবায়ন করতে হয়। টিসিবি অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সব আঞ্চলিক কার্যালয় ও ক্যাম্প অফিস প্রধানদের জানানো যাচ্ছে যে, চলতি ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে যেসব ডিলার ডিলারশিপ নবায়ন করবেন, তাদের কাছ থেকে নতুন ডিলারশিপ নীতিমালা অনুযায়ী নবায়ন ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা, বিলম্ব ফি বাবদ প্রতিবছরের জন্য এক হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) ও জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা (ফেরতযোগ্য) গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পূর্বে জামানত বাবদ জমাকৃত ১৫ হাজার টাকা সমন্বয়সহ মোট ৩০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা নিশ্চিত করে নির্ধারিত ফরমেটে চুক্তি নবায়ন করতে হবে। এছাড়া ডিলারশিপ মেয়াদ নবায়ন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে অর্থবছরের যে সময়েই ডিলারশিপের মেয়াদ উত্তীর্ণ হোক না কেন নবায়ন করার পর দ্বিতীয় বর্ষের ৩০ জুন পর্যন্ত তার মেয়াদ কার্যকর থাকবে।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর