দেশে যানজটের কারণে রপ্তানি মূল্য বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক
১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়কে যানজটের কারণে পণ্য রপ্তানির মূল্য বাড়ছে। এজন্য রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মসৃণ পরিবহন অবকাঠামো তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বললেন বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন। আজ বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের মুভিং ফরওয়ার্ড: কানেক্টিভিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস টু সাসটেইন বাংলাদেশ জ সাকসেস শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যানজটমুক্ত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম রেল ও জলপথের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যাটিয়াস হেরেরা ড্যাপে, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। মার্সি টেম্বন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় যে দেশ যত বেশি কম দামে পণ্য দিতে পারছে, সে দেশ রপ্তানি বাজারে ততই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহণে লজিস্টিক সহায়তা বাড়িয়ে বিশেষ করে যানজট কমানোর মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলো রপ্তানি পণ্য পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো মসৃণ সংযোগ অবকাঠামোতে তৈরিতে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ খাতের যানজট রপ্তানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের প্রায় ৭ শতাংশ পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। বর্তমান অবস্থায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ শতাংশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। এছাড়াও বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা কম দামে পণ্য চায়। যে দেশ কম দামে পণ্য দিতে পারে তারা সেই দেশ থেকেই পণ্য কেনে। রপ্তানি বাড়িয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কম খরচের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।
বুলবুলে ২৬৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
১২নভেম্বর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২৬৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য জানিয়েছেন। গত রোববার ভোররাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। জেলাগুলো হচ্ছে- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং লক্ষ্মীপুর। ঝড়ের পরপরই ফসলের ক্ষক্ষতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১৬ জেলার দুই লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবি শস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে । সংবাদ সম্মেলনে একই তথ্য দেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ১৬ জেলার ১০৩ উপজেলায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ দুই লাখ ৮৯ হাজার ছয় হেক্টর (মোট আবাদকৃত জমির ১৪%) এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর (মোট আক্রান্ত জমির ৮%)। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৫০ হাজার ৫০৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,আক্রান্ত ফসলগুলো হচ্ছে রোপা আমন, শীতকালীন সব্জি, সরিষা, খেসারি, মসুর ও পান। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ৭২ হাজার ২১২ টন। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির মধ্যে রোপা আমনের দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর, সরিষার এক হাজার ৪৭৬ হেক্টর, শীতকালীন সবজির ১৬ হাজার ৮৮৪ হেক্টর, খেসারির ৩১ হাজার ৮৮ হেক্টর, মসুরের ১৯৫ হেক্টর, পানের দুই হাজার ৬৬৩ হেক্টর এবং অন্যান্য তিন হাজার ১২৬ হেক্টর জমি রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। ধানে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন,অনুমান করছি ৪৭ কোটি টাকা রোপা আমনে এবং৭৯ কোটি টাকা সবজিতে ক্ষতি হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না জানিয়ে মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছিল। এবার আমন মাঠে যে ফসল আছে, ধান কাটা কেবল শুরু হয়েছে। আমার আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে। এছাড়া এবার ধানে চিটা কম হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ এবং কবে নাগাদ তা দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরিষা পুনর্বাসন করা যাবে, বিএডিসির কাছে বীজ আছে, সরিষা বা খেসারি তারা আবার করতে পারবে। দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন সবজিও খুব কম হয়। চুলচেরা হিসাব করার পর জানানো যাবে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবার ঘূর্ণিঝড়ে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত, কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।
৪৫ টাকায় পেঁয়াজ মিলছে রাজধানীতে
১১নভেম্বর,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেড়েই চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। খুচরা বাজারে এখন পেঁয়াজের প্রতিকেজি ১১০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ। এদিকে, নিন্ম আয়ের মানুষের কথা মাথায় রেখে রাজধানীতে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ট্রাকে করে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। এসময় দেখা যায়, পেঁয়াজ কিনতে মানুষের লম্বা সারি। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ালে মিলছে পেঁয়াজ। ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনেছেন জসিম উদ্দীন। তিনি বলেন,দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো সমস্যা হয়নি। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে কেনা যাচ্ছে। কিন্তু দুই কেজি পেঁয়াজ নিলে ১০০ টাকা নিচ্ছেন তারা। তবে দুই কেজির চেয়ে কিছু বেশি পেঁয়াজ দিয়ে দিচ্ছেন। টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ৩৫টি ট্রাকে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ডিলার কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা দরে প্রতিদিন এক হাজার কেজি (এক টন) পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। গত মাসে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। এর পরপরই হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। আমদানি করা পেঁয়াজ আজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি ৯০-১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা।
আবারও অস্থির পেঁয়াজের বাজার
২৮অক্টোবর,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পেঁয়াজের ঝাঁজ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের বাজার। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা করে। একমাস আগে, হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সে সময় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা বেড়ে নব্বই থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। এরপর মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। এছাড়া টিসিবিও পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও। দাম সামান্য কমে আসলেও আবারও বৃষ্টির অজুহাত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজের মান খারাপের অজুহাতে অস্থির হয়ে পড়েছে বাজার। ভারত থেকে আগের এলসি করা পেঁয়াজ প্রবেশ করলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী দাম বাড়ার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন বাঙালিসহ ৩ জন
১৫অক্টোবর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন এক বাঙালিসহ তিন অর্থনীতিবিদ। বৈশ্বিক দারিদ্র্য লাঘবে অবদান রাখায় তাদের ২০১৯ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। সোমবার স্টকহোমে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল বিজয়ী তিন অর্থনীতিবিদ হলেন- অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। এদের মধ্যে অভিজিত ব্যানার্জি ও এস্তার দুফলো স্বামী-স্ত্রী। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দারিদ্র্য লাঘবে পরীক্ষামূলক গবেষণার কারণে অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমারকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহম্মদ ইউনুসের পর চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন কলকাতায় জন্ম নেয়া অভিজিত ব্যানার্জি। অভিজিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অভিজিতের সঙ্গেই নোবেল পেয়েছেন তার স্ত্রী মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্তার দুফলো। তিনি ফরাসি বংশোদ্ভূত। দ্বিতীয় নারী অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি। সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার কৃতিত্বও দেখালেন দুফলো। বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। দুফলো এমআইটি থেকে পিএইচডি করেন। এদিকে ৫৫ বছরের মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া তিনজনের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছর নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। প্রাণিকোষ কীভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতি বোঝে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নেয় সে বিষয়টি আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তিনজন যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম কায়েলিন ও গ্রেগ সেমেনজা এবং যুক্তরাজ্যের পিটার র‌্যাটক্লিফ। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থে এ বছর নোবেলজয়ীদের নাম। পদার্থ বিজ্ঞানেও এ বছর তিনজন নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– কানাডিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস পিবলস এবং সুইস বিজ্ঞানী মিচেল মেয়র ও দিদিয়ের কুইলজ। কসমোলজি নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বুধবার রসায়নে এ বছর নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের জন গুডেনাফ, যুক্তরাজ্যের স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও জাপানের আকিরা ইয়োশিনো। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে নোবেল পেয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের নাম। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান স্থগিত থাকায় গত বছরেরটিসহ এ বছর সাহিত্যে দুটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পোলিশ লেখক ওলগা তোকারচজুক ২০১৮ সালের জন্য এবং পোলিশ লেখক পিটার হান্দকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
সেবাখাতে রফতানি আয় ৫৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার
০৩অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের সেবাখাতে রফতানি আয় এসেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য ওঠে এসেছে। ইপিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহকৃত পরিসংখ্যান থেকে মোট তিনটি ভাগে সেবাখাতে রফতানি আয়ের সংকলন করা হয়েছে। এ তিনটি ভাগ হলো গুডস প্রকিউরড ইন পোর্টস বাই ক্যারিয়ারস, গুডস সোল্ড আন্ডার মার্চেন্টিং ও সার্ভিসেস। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশসেবা রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৭০ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে প্রথম মাসে এ খাত থেকে আয় করেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সেবা রফতানি কম হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে সেবা রফতানির আয়ের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় এবার এ খাতে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ মাসে সেবা রফতানি করে দেশ আয় করে ৬৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরে সেবা রফতানির প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি পুরো অর্থবছরে সেবা রফতানির আয়ের লক্ষ্য ৮৫০ কোটি ডলার ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু প্রথম মাসেই সেবা রফতানিতে হোঁচট খেল দেশ। রফতানির এ আয়ের মধ্যে সরাসরি সেবাখাত থেকে এসেছে ৫২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়। সেবার অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে চার কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা থেকে চার কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে চার কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বীমা ছাড়া আর্থিক সেবা খাত থেকে ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার রফতানি আয় হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া সেবাপণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিক্যাল ইনপুটস, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কন্সট্রাকশন সার্ভিসেস, ইনস্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দ্য ইউজ অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস, আদার বিজনেস সার্ভিসেস, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস।
একরামুল হক সোনালী ব্যাংকের নতুন জিএম
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:সম্প্রতি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে একরামুল হক সোনালী ব্যাংকের রংপুর অফিসে যোগদান করেছেন। পদোন্নতির পূর্বে তিনি প্রধান কার্যালয়ের গভঃ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড সার্ভিসেস ডিভিশনের বিভাগীয় প্রধান (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একরামুল হক ১৯৮৩ সালে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির মাধ্যমে সিনিয়র অফিসার হিসেবে সোনালী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসিসহ এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। সুদীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, প্রিন্সিপাল অফিস, প্রধান কার্যালয়ের একাধিক বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইবিবির একজন ডিপ্লোম্যাট অ্যাসোসিয়েট। তিনি ১৯৬০ সালে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
বাংলাদেশকে এডিবি ৫০০ কোটি ডলার দেবে
১৩সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩তম বড় অর্থনীতির দেশ এখন বাংলাদেশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার গত দেড় যুগে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি এডিবির কি ইনডিকেটরস্ ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক বিষয়ে প্রতিবেদনে, এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আগামী তিন বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন সংস্থা (এডিবি)। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন পারকাশ এ তথ্য জানান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনমোহন বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত উন্নয়ন কর্মসূচি শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরেন। এডিবি প্রতিনিধি ২০২০-২২ মেয়াদে নতুন কান্ট্রি বিজনেস প্লান প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
বাংলাদেশকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়েছে বিশ্বব্যাংক
০৫সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একসময় পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ালেও বর্তমানে তাদের আচরণে আমূল পরিবর্তন এনেছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, তোমাদের প্রয়োজন মতো টাকা লিখে নাও। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আর কোনো লুকোচুরি থাকবে না। বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলানগরে অর্থমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ-ভূটান) মার্সি মিয়াঙ টেমবনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে প্রকল্প তৈরি ও অর্থায়নে প্রস্তুত। যত অর্থের প্রয়োজন হোক না কেন, তারা তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের পরমর্শও নেবো। আমাদের ৮৮ শতাংশ ব্লু -ইকোনোমিকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এখাতে কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ডেল্টা প্ল্যান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকও এগিয়ে আসবে। এ খাতে অর্থ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে। ফলে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে। ডেল্টাপ্ল্যানে যদি ভারতও আসতে চায়, তবে স্বাগত জানাবো। সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে। বাংলাদেশের সড়ক উন্নয়নে যত টাকার প্রয়োজন তত দিতে আগ্রহী। সড়কে বাস-বে, সড়কের পাশে চালকদের জন্য বিশ্রামাগারসহ নানা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এসব দেখে প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করবে সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিষয়ে সংস্থাটির ইতিবাচক ধারণা হয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্থাটি অর্থায়ন করতে উন্মুখ। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াঙ টেমবন বলেন, আমি বাংলাদেশ নিজেই চিনে নিয়েছি। সুন্দরবন ছাড়া বাংলাদেশের সব জায়গায় ঘুরেছি। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সুবিধাসহ আর্থিক বিষয়ে ব্যাপক উন্নত হয়েছে। নদী, পানি ও ব্লু-ইকোনোমিতে বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মূলত আমি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে ব্র্যান্ডিং করতে এসেছি। ব্লু-ইকোনোমির ৮৮ শতাংশ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে এই দেশটির,’ যোগ করেন তিনি। এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।-আলোকিত বাংলাদেশ