বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই :অর্থমন্ত্রী
ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার রাজধানীর শিশু একাডেমিতে জিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। মুহিত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থ চুরির পর থেকে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে টাকা ফেরতের ব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গড়িমসি শুরু করে। তাই এখন শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তা দিচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। একটি নির্দিষ্ট সময় পর যদি চুরি হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ উদ্ধার না হয়, তবে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসির চারটি অ্যাকাউন্টে আর বাকি দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। ব্যাংকটির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় বদলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে (জুয়া খেলার জায়গা) চলে যায় বেশির ভাগ অর্থ। তবে হ্যাকারদের একটি বানান ভুলে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ফিলিপাইনের সিনেট শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এক কোটি ৫২ লাখ ডলার ফেরত আনতে সক্ষম হয়।
সেরা ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক
প্রাইম ব্যাংক সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) কর্তৃক করপোরেট সুশাসনের জন্য আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ এর সেরা ব্যাংক হিসাবে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্ত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইসিএসবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে প্রাইম ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ এহসান হাবীব এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রম্নল হোসেনসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি
পাঁচ রপ্তানিকারক পেল এইচএসবিসি পদক
পাঁচ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পদক দিয়েছে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক পুরস্কার জয়ী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের হাতে পদক তুলে দেন। ২০১০ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে এইচএসবিসি। এবারের পদক পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড, তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড, এনভয় টেক্সটাইল, সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পণ্য রপ্তানির দেশের সংখ্যা, রপ্তানি আয়ের পরিমাণ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিচালন নীতি এবং আরও কিছু গুণগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিচারক প্যানেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান বাছাই করেন। জুরি বোর্ডের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এবার বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি) স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে। ২০০২ সালে উৎপাদনে আসা প্রতিষ্ঠানটি ২৫টি ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য তৈরি করে, যেগুলো ৭৫টি দেশে রপ্তানি হয়। স্কয়ার ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের কম) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি ৪০ দেশে পণ্য রপ্তানি করে। তারাশিমা অ্যাপারেলসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিশান আলী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক-সরবরাহ ব্যবস্থা ও পশ্চাদমুখী শিল্প খাতে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক, সনাতন ও উদীয়মান (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি তবে পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে সি ফুড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড। সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই এ পদক গ্রহণ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বছরের সেরা রপ্তানিকারকের (বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, তবে তৈরি পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) পুরস্কার পেয়েছে গৃহসজ্জা সামগ্রী তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। নীলফামারীর এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম পদক গ্রহণ করেন। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঁন্সওয়া দ্য ম্যারিকো ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের উপপ্রধান নির্বাহী এবং করপোরেট ব্যাংকিং প্রধান মাহবুবউর রহমান।
যন্ত্রে তৈরি জাজিমের বাজার বড় হচ্ছে
একজন মানুষ দিনে যদি আট ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে তাঁর জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় কাটে বিছানায়। সেই বিছানাকে আরামদায়ক করার পেছনে ব্যয় করতেও মানুষ পিছপা হয় না। বাংলাদেশের মানুষ একসময় ধুনকরদের দিয়ে জাজিম-তোশক তৈরি করে বিছানা সাজাত। এখন জাজিম-তোশকের বাজার দখল করছে আধুনিক কারখানায় যন্ত্রে তৈরি জাজিম বা ম্যাট্রেস। দেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে যন্ত্রে তৈরি ম্যাট্রেসের বাজার। শুধু রাজধানী ঢাকার উচ্চ আয়ের মানুষেরা নয়, জেলা-উপজেলা শহরের বাসিন্দারাও এখন ম্যাট্রেস কিনছেন। এ বাজারে আধিপত্যের পুরোটুকুই দেশি কোম্পানির। অভিজাত আবাসিক হোটেল বাদে দেশে যত ম্যাট্রেস বিক্রি হয়, তার পুরোটাই দেশীয় উৎপাদকেরা সরবরাহ করেন। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে এখন ২০টির মতো কোম্পানি ম্যাট্রেস উৎপাদন করছে। বছরে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। এ বাজার বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। মানুষের আয় যত বাড়বে, বাজারের আকার তত বাড়বে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় ম্যাট্রেস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিফাতুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, একসময় ম্যাট্রেস শুধু অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা ব্যবহার করতেন। এখন দাম কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। তাই এটি এখন আর অভিজাত পণ্য নেই। তিনি বলেন, এখন জাজিমের পরিবর্তে ম্যাট্রেসের ব্যবহার খুব বেড়েছে। পরিবর্তনটি এসেছে গত পাঁচ বছরে। এ সময় মূলত ম্যাট্রেসের দাম কমেছে, বাজার বেড়েছে। দেশীয় বাজারে আধিপত্য থাকলেও দেশি কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে নেই। ম্যাট্রেস রপ্তানিতে ঝক্কি অনেক বেশি। একটি কনটেইনারে খুব কম পরিমাণ ম্যাট্রেস ধরে। এতে জাহাজভাড়া অনেক বেশি পড়ে যায়। তাই কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে সুবিধা করতে পারছে না বলে জানান এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে আসবাবপত্রের সঙ্গে সামান্য কিছু ম্যাট্রেস বিদেশে যায় বলে জানান তাঁরা। অবশ্য ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজার বেশ বড়। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিসার্চমজের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে ৪ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের এখনকার মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে ৯০০ কোটি ডলার বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি ডলার।
দেশের মতো আমেরিকায়ও উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা জেবিবিএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহ নেওয়াজ। শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশে। আমেরিকায় এসেও একই পথ অনুসরণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কমিউনিটি সেবায় কাজ করছেন। ২০০৫ সালে আমেরিকায় আসেন শাহ নেওয়াজ। এখানে শুরু হয় নতুন জীবনসংগ্রাম। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স, আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা ইন পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যয়ন শেষে বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিসহ একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে ঢাকায় তৈরি করেন তৈরি পোশাক কারখানা ভেনাস গ্রুপ ইউএসএ মোড লিমিটেড। ক্রেতাদের হাতে উন্নতমানের পণ্য সহজে পৌঁছানোর জন্য সাদিয়া শপিং মল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সাল থেকে কমিউনিটি সেবায় ভিন্ন কমিউনিটি ও বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে চালু করেন এনওয়াই ইনস্যুরেন্স। পাশাপাশি চালু করেন হোমকেয়ার ও বেইজ সার্ভিস সেবা। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন ১৪ জন কর্মচারী । এদিকে শাহ নেওয়াজ একাধিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি একাধারে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, একাধিক পথ মেলার উদ্যোক্তা, এ ছাড়া অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসায়ীদের জনপ্রিয় সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেবিবিএর নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী। গতবারের নির্বাচনে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
চোখের ভাষা বুঝবে ডিভাইস
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে জোটের শরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন খালেদা জিয়া [reporter] => ডেক্স [text] => প্রায় চার মাস পর জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এতে তাঁর সাম্প্রতিক কক্সবাজার সফর, জোটের ঐক্য ধরে রাখা, নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে রাত পৌনে ১১টায় শেষ হয়। ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের টানা প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বৈঠক শেষে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জোটের শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান, আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে জোটের শরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখারও আহ্বান জানানো হয়। শরিক দলগুলোর নেতারা একমত পোষণ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামী দিনে নির্বাচন ও আন্দোলন করার প্রতিশ্রুতি দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চেয়ারম্যান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জোটের শরিকরাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। যেকোনো মূল্যে জোটের ঐক্য রক্ষার করার বিষয়টি আলোচনায় বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।’ বৈঠকে আটটি বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় খালেদার সফর নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এ সফর সিলেট দিয়ে ডিসেম্বরের দিকে শুরু হতে পারে। তবে এটা চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারেও মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার ও আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব এবং জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড, জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান নিখোঁজ থাকায় নিন্দা প্রস্তাব করা হয়। আগামীতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ ও সংবিধান সম্মতভাবে বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে শরিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। কিছুদিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজধানীতে আইনজীবীদের নিয়ে সমাবেশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে শরিক দলের একটি লেবার পার্টির কোন্দলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে বৈঠক শেষে শরিক দলগুলোর কয়কজন নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মির্জা ফখরুল লেবার পার্টির দুই গ্রুপকে এক হয়ে জোটে রাখার চেষ্টার কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফতে মজলিসের মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকিব, জাগপা সভাপতি রেহানা প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা, এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের কারণে বৈঠকে লেবার পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে