চট্টগ্রামের মানুষ এতো ভালোবাসেন বোধগম্য ছিলো না
১৮ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজনীতি ও খেলাধুলা-এ দুটোকে এবাদত হিসেবে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চরম দুঃসময়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড আমাকে নাড়া দিয়েছিলো। ৭৫ এর পর সর্বপ্রথম জানুয়ারি মাসে আমরা চার-পাঁচজন ছেলে একত্রিত হয়ে মিছিল করেছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে চন্দনপুরা দিয়ে চলে গেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছিলো। আমার কোনো অভিমান, ক্ষোভ, রাগ নেই। আমি রাজনৈতিক কর্মী, মাঠের কর্মী। মাঠ থেকে আজ এ পর্যায়ে এসেছি। অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলাম। চট্টগ্রাম কলেজকে শিবিরমুক্ত করতে গিয়ে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম। নির্যাতন ছিলো নিত্যদিনের সঙ্গী। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী আমাকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। এরপর মেয়র পদে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মনের কষ্টের কথা যদি বলেন একটা বিষয়ে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। যেখানে আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চট্টগ্রাম কলেজে প্রতিবাদ মিছিল করেছি, বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুকের সভা পণ্ড করেছি এবং এ শহরে তাদের কোথাও কোনো সভা-সমাবেশ করতে দিইনি সেই জায়গায় খুনির কোন এক ভাইয়ের ছবি ফেসবুকে দিয়ে চরম অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করা হয়েছে। যে ছবিটি দেখানো হয়েছে সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমার দুঃসময়ে পাশে থাকা আকরাম খানের আহ্বানে অক্সিজেন এলাকায় একটি দোকান উদ্বোধনে গিয়েছিলাম। অপপ্রচারকারীরা যে বঙ্গবন্ধুর খুনির ভাইয়ের ছবি দাবি করছে তাকে আমি চিনিও না, কোনো দিন দেখিওনি। হয়তো আকরাম খান বলতে পারবে। মেয়র পদের মনোনয়ন আটকে দেওয়ার জন্য এ ধরনের ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া খুবই দুঃখজনক। কারও মেয়র পদ লাগলে আমাকে সরাসরি বলতে পারতো। প্রয়োজনে আমি মনোনয়ন সংগ্রহ করতাম না। কিন্তু এ রকম এ অপপ্রচার কিছুতেই কাম্য নয়। যার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে বলছি। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে জয়ী করতে শতভাগ কাজ করবেন জানিয়ে মেয়র বলেন, আমি সবাইকে বলছি- তোমরা আমাকে নির্বাচিত করার জন্য যেভাবে কাজ করতে, সেই ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীর জন্য কাজ করবে। আমি শতভাগ উজাড় করে দেবো। বিগত দিনে এ শহরের প্রতিটি নির্বাচনে প্রত্যেকটি প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কী করেছি সেটা আপনারা (সাংবাদিকরা) জানেন। তিনি বলেন, আমার বড় প্রাপ্তি হচ্ছে সততা। স্বচ্ছতার মধ্যে চসিকের দায়িত্ব পালন করেছি। চট্টগ্রামবাসী এতো ভালোবাসেন এটা আমার বোধগম্য ছিলো না।আমি জানি মানুষের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা আছে। আমাকে কাজ পাগল বলা যায়। আমার বাবাও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। খেলাধুলা আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ২৫ বছরে ২৫৫০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবো। অনেক প্রকল্প দেওয়ার কারণে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি কাজ বাস্তবায়ন করেছি। আরও অনেক প্রকল্পের কাজ বাকি আছে। এলইডি লাইটের আওতায় আসছে পুরো শহরে। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, এখানে সড়কবাতি ছিলো না। অন্ধকার থাকতো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর লাইটিংয়ের আওতায় এনেছি। ময়লা-আবর্জনা মাসের পর মাস দুর্গন্ধ ছড়াতো। এখন সেই অবস্থায় আছে? আমার মূল লক্ষ্য ছিলো টেকসই উন্নয়ন। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। দেশপ্রেমী সেনাবাহিনী ড্রেন, খাল প্রশস্ত করছে, গভীর করছে। প্রকল্পগুলো যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে জনগণ এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। আগে সড়ক ছিলো ফুটপাত ছিলো না। নালা ছিলো না। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে আগে ফুটপাত, ড্রেন, লাইটিং ছিলো? এখন সবই করা হয়েছে। পোর্ট কানেকটিং রোড করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নগরটা ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছি। আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- আমি মানুষকে ভালোবাসার চেষ্টা করি। মানুষের আর্থিক অবস্থা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। তিনি বলেন, আমি সাংবাদিক সমাজের পক্ষে। আমি যেখানে থাকি, যে অবস্থানে থাকি সাংবাদিকদের পাশে থাকবো। সাংবাদিকদের কাছে আমি ঋণী ও কৃতজ্ঞ। আমরা যে কাজগুলো করেছি তার সুফল নগরবাসী পেতে শুরু করেছেন। কাজের মধ্যে সময় অতিবাহিত করেছি। রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত অফিস করেছি। কোনো ফাইল জমে থাকেনি। দিনের কাজ দিনে করার চেষ্টা করেছি। এরপরও ভুল ত্রুটি হলে চুল চেরা বিশ্লেষণ করবেন আপনারা। যত ব্যস্ততা থাক, স্টেডিয়াম ছুটে যাই। স্টেডিয়াম এলাকা আগে কোন অবস্থায় ছিলো, এখন কোন অবস্থায় এসেছে। অবকাঠামো থেকে শুরু করে খেলাধুলায় পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রামের দুইজন ক্রিকেটার আছেন আন্ডার ১৯ দলে। তারা বিরল সম্মান বয়ে এনেছে দেশের জন্য। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামশুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য কাজী আবুল মনসুর প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
শাহ আমানতে ৯৪৫ কার্টন সিগারেট জব্দ
১৮ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫ যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৯৪৫ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিমানবন্দরে দায়িত্বরত এনএসআই টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিগারেটগুলো জব্দ করে। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রীদের তল্লাশি করা হয়। এসময় পাঁচ যাত্রীর লাগেজ থেকে এসব সিগারেট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রতি কার্টন ২ হাজার টাকা করে এসব সিগারেটের বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এসব সিগারেটের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিমানবন্দর কাস্টমসকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে সিটি মেয়র পদটি উপহার দেবো,জীবনবাজি রেখে চেষ্টা চালিয়ে যাবো: নাছির
১৭ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থী রেজাউল করিমকে জয়ী করতে যতটুকু সামর্থ্য আছে তার শতভাগ উজাড় করে দেবেন বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন, তাকে বিজয়ী করার জন্য আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে- তার শতভাগ উজাড় করে দেবো। জীবনবাজি রেখে চেষ্টা চালিয়ে যাবো। প্রধানমন্ত্রীকে সিটি মেয়র পদটি উপহার দেবো। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে নিজ বাসভবনের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাতকার দিতে গত শনিবার তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রেজাউল করিম ভাইয়ের সঙ্গে আজকেও আমার কথা হয়েছে। গতকালও আমরা কথা বলেছি। আগামী পরশুদিন তিনি চট্টগ্রামে আসবেন। তাকে রেলস্টেশন চত্বরে আমরা বরণ করে নেবো। এরপর নগর আওয়ামী লীগের নেতারা সবাই তার সঙ্গে বসে কীভাবে সিটি নির্বাচন পরিচালনা করা হবে তার কৌশল ঠিক করবো। পরিকল্পনা নেবো। আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মনোনয়ন আমার পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আজীবন আমি একটি পদে থাকবো না। প্রত্যেকেই ক্রমান্বয়ে পদে আসবে। এটি সাধারণ বিষয়। কেউ আসবেন, কেউ বিদায় নেবেন- এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এসব নিয়ে কাল্পনিক কারণ খোঁজাটা আমি স্বাভাবিক মনে করি না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদক করেছেন। তিনবারের সফল মেয়র আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে তিনিই আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেন। তখন মহিউদ্দিন ভাইয়ের পরিবর্তে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো, এখন আমার পরিবর্তে আরেকজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চসিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিজেকে শতভাগ সফল দাবি করে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কাজের ক্ষেত্রে আমাকে ব্যর্থ বলার কোনো সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে ৪০ বছরে যত কাজ হয়নি, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ এবার আমার আমলে হয়েছে। এ সময় যতগুলো প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন, বিগত দিনে কেউ এতো প্রকল্প পাননি। কাজের ক্ষেত্রে আমি শতভাগ সফল। এটা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। এদিকে দলের নেতাকর্মীদের ভিড় এড়াতে অনেকটা নিরবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরলেও নগরের আন্দরকিল্লা এলাকায় আ জ ম নাছির উদ্দীনের বাসভবনে বিকেলে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। মুহূর্তেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে ভিড় জমান। এ সময় অনেকে আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে সমন্বয় সভা
১৭ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ দামপাড়া পুলিশ লাইন্স কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অবৈধ সি.এন.জি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে প্যাডেল চালিত রিক্সা ও সিএনজি মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অবৈধ সি.এন.জি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি ভ্যানে জিনিসপত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করন, গ্রাম সিএনজি ও নিলাম সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ করণ, প্রধান প্রধান সড়কগুলো হকারমুক্ত রাখা, সর্বোপরি সুষ্ঠু ট্রাফিক নিশ্চিতকল্পে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময় সেখানে উপ-পুলিশ কমিশনার ডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মোঃ তারেক আহম্মেদ সহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও পরিবহন সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে ভেজাল ও নিম্নমানের ভোগ্যপণ্য ঠেকাতে নমুনা সংগ্রহে মাঠে নামছে বিএসটিআই
১৭ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের বাকি আর মাত্র ২ মাস ১ সপ্তাহ। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের, নকল, ভেজাল ভোগ্যপণ্য বাজারজাত করার কাজটি শুরু করেছে আরও আগেই। রমজানের সেহেরি, ইফতারে অত্যাবশ্যক এমন ভোগ্যপণ্য ও উপকরণে ভেজাল ঠেকাতে খোলাবাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে মাঠে নামছে বিএসটিআই টিম। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাজার থেকে তোলা হবে ঘি, ময়দা, আটা, সুজি, সরিষার তেল, ফর্টিফাইড সয়াবিন, পাম অয়েল, পাম অলিন, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, লাচ্ছা সেমাই, বাংলা সেমাই, দই, নুডলস, সফট ড্রিংকস পাউডার, লবণ, বিস্কুট ইত্যাদি পণ্যের নমুনা। সম্প্রতি বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. তাহের জামিল রমজান সামনে রেখে বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যের নমুন সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। প্রতি বছরের মতো পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আগামী জুন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে খাদ্যপণ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যের ওপর সার্ভিল্যান্স বা মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ওই চিঠিতে গৃহীত কার্যক্রমের সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মহাপরিচালকের বরাবর পাঠাতেও অনুরোধ জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সিএম) মোস্তাক আহমেদ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকা থেকে চিঠি পাওয়ার পর থেকে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। শিগগির আমরা তালিকাভুক্ত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করবো বাজার থেকে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি নিম্নমানের পণ্য, নকল, ভেজাল পণ্য পাওয়া যায় তবে মামলাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি আমরা। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে অনেক পণ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী উপকরণ বা প্যারামিটারগুলো সঠিক মাত্রায় পাওয়া যায়নি। মানোত্তীর্ণ না হওয়া পণ্যের নাম ও প্রতিষ্ঠানের নামসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে সতর্ক করা হয়। এর ফলে অনেক কোম্পানি তাদের পণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়। ব্যাপক জনসচেতনতাও সৃষ্টি হয়।
চোরাইপথে আমদানি করা ফার্নেসওয়েলসহ ২জনকে আটক করেছে Rab
১৫ফেব্রুয়ারী,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর শুলকবহর এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আমদানি করা ৯ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েলসহ দুই কারবারিকে গ্রেফতার করেছে Rab-7 এর একটি দল। এসময় তেল বহনকারী একটি ট্যাংকারও জব্দ করা হয়েছে। আজ শনিবার ১৫ই ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে শুলকবহর ফ্লাইওভারের কাছ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। গ্রেফতার দুইজন হলেন- কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটা এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে রিজুয়ানুল ইসলাম (৩৫) ও পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া এলাকার ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. রহমান (৩৪)। এদের মধ্যে রিজুয়ানুল ইসলাম এসব চোরাই ফার্নেস অয়েলের মালিক পক্ষের লোক ও মো. রহমান ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাংকারের চালক। Rab-7 এর চান্দগাঁও ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. শামীম সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুলকবহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েলসহ দুই কারবারিকে গ্রেফতার করেছে Rab। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ,দীর্ঘদিন ধরে তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে আমদানি করা এসব তেল নিয়ে এসে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে আসছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বিপন্ন সময়ে ভালোবাসা প্রয়োজন
১৫ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: যান্ত্রিক সভ্যতা বোধের সৌন্দর্য গ্রাস করে ফেলছে। বিলুপ্ত হতে চলেছে মানবিক সংস্কৃতি। এই বিপন্ন সময়ে ভালবাসার কথা বলা প্রয়োজন। ভালবাসা ছাড়া বেঁচে থাকা অকল্পনীয়। অপ্রাপ্তি-বেদনার ভেতরেও তাই ভালবাসার কথা বলতে হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চেরাগী পাহাড়ের কদম মোবারক এম ওয়াই স্কুলের মহড়া কক্ষে ভালবাসার কবিতা, ভালবাসার আবৃত্তি শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গন। অনুষ্ঠানে এসব কথাই বললেন ক্বণন সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী মোসতাক খন্দকার। এর আগে তৃষা সেনের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হয় ভালোবাসা দিবসের এই অনুষ্ঠান। সৌভিক চৌধুরী ও তাহমিনা গণির সঞ্চালনায় এতে একক, দ্বৈত আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন রাশেদ মোহাম্মদ, শিমু বিশ্বাস, শরীফ মাহমুদ, সাইমুম মুরতজা, আবসার তানিম, মোহাম্মদ ওয়াসিম, সায়েম বিন আলিম, রুহুল্লাহ আকমল, প্রেমা চৌধুরী, ফারুক আজম, সূচনা দাশ, হোসেন সোহেল, তমা দাশ, শুভ্রা চক্রবর্তী, শারমিন প্রমুখ।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাছিরের বিকল্প নেই,ঘোষণা আগামীকাল
১৪ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শূন্য হওয়া পাঁচ সংসদীয় আসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রির শেষ দিন আজ শুক্রবার। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আগ্রহীরা মনোনয়ন ফরম কিনতে ও জমা দিতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে দলীয় প্রার্থী। এর আগে গত শনিবার সকালে দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তপসিল হওয়া তিন আসনে (গাইবান্ধা-৩, ঢাকা-১০ ও বাগেরহাট-৪) ফরম বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। শূন্য হওয়া অন্য দুটি সংসদীয় আসন (যশোর-৬, বগুড়া-১) এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য এক দিন পর থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রি শুরু করে ক্ষমতাসীনরা।জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৭ জন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। তিনি আগে বলেছিলেন, দল থেকে ডাক পেলে তিনি মনোনয়ন ফরম কিনবেন। সেই ডাক পেয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার মনজুরের পাশাপাশি নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ কে এম বেলায়েত হোসেনও মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুচ ছালামও মেয়র প্রার্থী হতে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের কাছেই হেরেছিলেন সেই সময়কার বিএনপি নেতা মনজুর। সেবার ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। একসময় আওয়ামী লীগ থেকে কাউন্সিলর হওয়া মনজুর পরে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চসিকের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে নির্বাচনের দিন কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন। একসময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মনজুর দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে অনেকদিন ধরেই তৎপর ছিলেন। শেষ মুহূর্তে হয়তো নাছিরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম শোনা গেলেও তারা আগ্রহী নন। ফলে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাছিরের বিকল্প নেই।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর