চুয়েটের ৪র্থ সমাবর্তন আজ, রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে
০৫ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিউজ চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তনে যোগ দিতে নগরীতে এসে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় সার্কিট হাউসে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। সেখানেই রাত্রিযাপন করেন তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে গতকাল বিকেল থেকেই কাজীর দেউড়ি এলাকায় সকল দোকান-পাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। নিয়ন্ত্রণে আনা হয় সাধারণ মানুষের চলাচলও। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাউজানের চুয়েট ক্যাম্পাসে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সমাবর্তন শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন। এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন, সমাবর্তনে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় ফিরে যাওয়াকে ঘিরে নগর ও জেলা পুলিশ পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা। নগর ও জেলা পুলিশ নিয়োজিত ফোর্সের পাশাপাশি রেঞ্জ পুলিশ থেকেও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। উল্ল্লেখ্য, চুয়েটের এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা ২ হাজার ২৩১জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সমাবর্তন বক্তা থাকবেন মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।
চট্টগ্রামের মেয়েরা এখন ঘরে বসে নেই: লায়ন্স গভর্নর
০৫ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের মেয়েরা এখন আর ঘরে বসে নেই। একসময় চট্টগ্রাম অনেক রক্ষণশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রামে অনেক নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫-বি-৪ এর গভর্নর লায়ন কামরুন মালেক গতকাল বুধবার অনলাইন ভিত্তিক গ্রুপ শেলিস, গ্লোরি গার্লস, লাভলী লেডিসের উদ্যোগে ও চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সহযোগিতায় ১৩ তম আন্তর্জাতিক মহিলা এসএমই বাণিজ্য মেলার এক্সিবিশন হলে আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী ফ্যাশন ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলার নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করে চলছে। সকলের সহযোগিতা পেলে আজকের নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে অনেক দূর যেতে পারবে। চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেলার চেয়ারপার্সন ডা. মুনাল মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশাত ইমরানসহ অনলাইনভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের গ্রুপ গ্লোরী গার্লসের স্বত্বাধিকারী নিলুফা আক্তার, শেলিসের স্বত্বাধিকারী রুপা, লাভলী লেডিসের স্বত্বাধিকারী লুৎফুন্নেসা রুম্পা। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ফ্যাশন ফেস্ট, যেখানে থাকবে পার্লার, বুটিঙ, প্রসাধনী, অলংকার, জুতা, ব্যাগ, মেহেদীসহ নানান ধরনের ঘরোয়া খাবারের স্টল। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উইম্যান চেম্বারের পরিচালক, সদস্যসহ নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রতিবন্ধীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে: ইউসিবিএল চেয়ারম্যান
০৪ডিসেম্বর,বুধবার,মো:ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) চেয়ারম্যান রুখমিলা জামান বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে তাদের সহায়তায় সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করা গেলে, প্রতিবন্ধীরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে চিটাগাং উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ১৩তম আন্তর্জাতিক মহিলা এসএমই বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে পুতুলঘর অ্যাপস ও শিশু উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের সামাজিক মর্যাদা সমুন্নতকরণ ও তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। এতে ইউসিবিএলের পক্ষ থেকে ৫০জন প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবকদের মাঝে মোবাইল সেট বিতরণ করা হয়। এছাড়াও মেলায় শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন কিউ উপভোগ, উপহার সামগ্রী ও খেলাধূলার ব্যবস্থা ছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উইমেন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মুনাল মাহবুব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ সাবিহা নাহার বেগম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশাত ইমরান, প্রাক্তন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রুহি মোস্তফা প্রমুখ।
খুলশীতে অস্ত্রসহ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী,স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেফতার
০৩ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের খুলশী থানা এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে (২৮) অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে পাহাড়তলী কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার ওয়াকিল হোসেন বগা খুলশী ওয়ারলেস কলোনির মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে। তিনি ১৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি প্রনব চৌধুরী।
ঘরে মিলল স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা লাশ, স্বামী পলাতক
০২ডিসেম্বর,সোমবার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম নগরে বিয়ের ১০ মাসের মাথায় নিজ ঘরে হাত-পা ও গলায় তার পেঁচানো অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন। নিহতের নাম রোজী আক্তার (২০)। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঝাউতলা ডিজেল কলোনির আবুল কাশেমের ভাড়া বাসা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রোজী আক্তার উপজেলার খুলশী ঝাউতলা এলাকার বেসরকারি পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির কর্মচারী ছিলেন। তার স্বামী রেজাউল করিমও (২৮) একই প্রতিষ্ঠানে প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের আবুল মনসুরের ছেলে। খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জানান, বেসরকারি পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির কর্মচারী রোজীর সঙ্গে রেজাউলে বিয়ে হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। গত মার্চে ঝাউতলা ডিজেল কলোনির আবুল কাশেমের কাছ থেকে ওই বাসা ভাড়ায় ওঠেন তারা। সকালে স্থানীয়দের খবরে ওই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রোজীর মরদেহ হাত-বাঁধা ও গলায় তার পেঁচানো অবস্থায় ছিল। তার মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামীকে পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।
বাঙালির গ্রামীণ অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধশালী
০২ডিসেম্বর,সোমবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি সমাজ মুখ্যত গ্রামীণ। এই সংস্কৃতি ও সমাজে পিঠার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বাঙালির কাছে এই পিঠার কদর চিরদিন থাকবে। তিনি গতকাল রবিবার নগরীর হাজারী লেইনস্থ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ভবনে অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। দিনব্যাপী এই উৎসবে অনেক রকমের পিঠা ও খাবারের প্রদর্শনী ছিল। যেমন, ভাঁপা পিঠা, মাছ পিঠা, তাল পিঠা, চুঁ্ই পিঠা, ডিম পুডিং, পাস্তা, বাঁধাকপির রোল, অন্তন, নেশেস্তা হালুয়া, পানতুয়া পাটিসাপ্টা, ফুসকা, চকলেট কেক, ডিম চপ, চটপটি, ক্ষীর পাটিসাপ্টা, জলপাই আচার, মোমো, বড়া পিঠা, পরোটা, নারকেল চিড়া, অরেঞ্জ বরফি, লেয়ার পুজি, ভর্তা চিতই, মিষ্টি পিঠা, সীম পাক্কন, নারকেল পুলি, সাঁজ পিঠা, ঝিনুক পিঠা, ডোনাট এবং বুটের হালুয়া প্রভৃতি। পিঠা ও খাবারসমূহ রঙচঙ পিডে, পিঠা বাড়ি, কুটুম বাড়ি পিঠা স্টল, নাগরদোলা, প্রজ্জ্বল ২৪, পিঠা পার্বণ এবং পিঠা বাহার প্রভৃতি স্টলের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর এ কে এম তফজল হক। অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াছমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উৎসবে উপস্থিত ছিলেন এই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কান্তি নাথ, প্রভাষক বদরুল হাসান আউয়াল, অর্পিতা দত্ত, ফারিয়া হোসেন বর্ষা, সুদিপ দে এবং উম্মে সালমা প্রমুখ। এছাড়া আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রক্টর আহমদ রাজীব চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ফের ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
০১ডিসেম্বর,রবিবার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে নার্স-চিকিৎসকদের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় ১৩ মাস বয়সী এক সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ এনেছেন তার মা। রোববার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগে ম্যাক্স হাসপাতালের অব্যস্থাপনার কথা তুলে ধরে তার প্রতিকার চেয়েছেন শিশুটির মা লালখান বাজারের বাসিন্দা মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা। শিশুটির বাবার নাম শামীম সারোয়ার। গত বছরের ২৮ জুন রাইফা নামের চার বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর এই ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতি, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এবার যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তার বয়স ছিল এক বছর ২৪ দিন। সিভিল সার্জনের কাছে দেওয়া লিখিতি অভিযোগে শিশুটির মা জানিয়েছেন, গত ১৭ নভেম্বর তার শিশু সন্তান জিহান সারোয়ার প্রিয় অসুস্থ বোধ করলে তাকে ম্যাক্স হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। সন্তানকে হারানো মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা বলেছেন, ভর্তির পর অনকলে চিকিৎসক সনৎ কুমার বড়ুয়াকে দেখালে তিনি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। এরপরই ম্যাক্স হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মুখে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। এনআইসিইউর মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নেই। গত ২১ নভেম্বর দুপুরে আমার সন্তানকে মেশিনের মাধ্যমে ধীরে ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও অনভিজ্ঞ নার্স ওই ওষুধের শেষের অংশ হাত দিয়ে পুশ করেন। আর তখনই আমার সন্তান পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয়। ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চারদিনে প্রায় সময়ই নার্স, আয়া ও চিকিৎসকদের অবহেলার শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সময়ে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ নার্সরা ডিউটিতে রাতে ঘুমিয়ে থাকে। তাদের ডাকলে উল্টো বকা শুনতে হয়। এছাড়া তার সন্তানের বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দেখতে দেয়নি দাবি করেছেন মোহছেনা। আমার সন্তানের চিকিৎসার বিস্তারিত তারা আমাদের দেয়নি। তারা যে ওষুধ আমার সন্তানকে দিয়েছে তার মেয়াদ ছিল কিনা তাও আমরা জানি না, অভিযোগে উল্লেখ করেছেন এই নারী। ম্যাক্স হাসপাতাল শুধু তাদের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি পূর্ণ করে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের সুচিকিৎসা প্রদানে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। এসব কারণে আমার সন্তানের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং ম্যাক্স হাসপাতালের প্রতিটি অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অভিযাগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, যেকোনো মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত । আমরা অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের সাথে সমন্বয় করে তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে। চিকিৎসায় যদি কোনো গাফিলতি, ত্রুটি বা অবহেলা হয় তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পত্রিকায় এই ঘটনার বিষয়ে সংবাদ দেখে একটি তদন্ত কমিটি গঠনও করা হয়েচিল জানিয়ে সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী বলেন,কমিটির একজন চিকিৎসক তদন্তে অপরাগতা প্রকাশ করলে আবার তিন সদস্যের কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়েছে। এখন এই অভিযোগ পাওয়ায় আমাদের তদন্তে সুবিধা হবে। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যদি গাফিলতি থাকে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি নীতিমালা অনুসারে যদি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করে তাহলে আমার ব্যবস্থা নেব। এর আগে ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেছিল, মস্তিষ্কের প্রদাহের কারণে শিশুটির অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নেফ্রলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সনৎ কুমার বড়ুয়ার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। তিনি সেসময় বলেছিলেন, শিশুটি মস্তিষ্কের প্রদাহে আক্রান্ত ছিল। গত ১৫ নভেম্বর থেকে তার জ্বর ছিল, এরপর খিঁচুনি হয়। শিশুটির অবস্থা একটু ভালো হয়। জ্বর একটু কমেছিল। তবে এ রোগের ধরণ এমন, যে কোনো সময় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় সেটির কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। নির্ধারিত সময় নিয়েই সেটি দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। হয়ত শিশুটির মস্তিষ্কে প্রদাহ আবারও কাছাকাছি সময়ে শুরু হয়েছিল। ওষুধের কারণে কিছু হয়নি। শিশুটি মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত ছিল জানিয়ে ম্যাক্স হাসাপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন,অবস্থা খুব খারাপ থাকায় শুরু থেকে শিশুটি এনআইসিইউতে ছিল। মেনিনজাইটিস খুবই মারাত্মক অসুখ। শারীরিক অবস্থা কিছুটা ইমপ্রুভ করেছিল। এতে হয়ত স্বজনরা ভেবেছেন শিশু সুস্থ হয়েছে। ইনজেকশনের কোনো প্রভাব নেই। হয়ত ইনজেকশন দেওয়ার একটু পর আবার প্রদাহ শুরু হয়। তবে সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা। তিনি বলেন, ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। তারা খুঁজে বের করুক। আধ ঘণ্টা আগেও ছেলে সুস্থ ছিল। কোথায় ভুল ছিল সেটাই তারা বের করুক। আমি তো শূন্য হয়েছি আর কেউ যেন শূন্য না হয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কানেক্টিং ক্লাসরুম প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ: নওফেল
০১ডিসেম্বর,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রিটিশ কাউন্সিলের কানেক্টিং ক্লাসরুমের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাওয়ার্ড (আইএসএ) পেয়েছে কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের কানেক্টিং ক্লাসরুম প্রোগ্রাম শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। নিরাপদ পৃথিবী তৈরিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্র্ণ। পরে অনুষ্ঠানস্থলে কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্টলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ বিশ্বকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসতে পেরেছেন। তারা কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করেছেন। তাই ২০১৭ সালের ডিসেম্বর রাউন্ডে আমরা এ পুরস্কার পেয়েছি। পুরস্কারপ্রাপ্তিতে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদ সাজ্জাদ রশিদ, বাংলাদেশে নিয়োজিত ডেপুটি ব্রিটিশ হাইকমিশনার কানবার হুসেন বর, ব্রিটিশ কাউন্সিলের রিজিওনাল ডিরেক্টর (দক্ষিণ এশিয়া) অ্যাড্রিয়ান চ্যাডউইক, কান্ট্রি ডিরেক্টর টম মিশসা প্রমুখ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে কানেক্টিং ক্লাসরুম প্রোগ্রাম।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর