বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন :অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়লে কোনো সমস্যা নেই। কারণ দেশের সব জনগণকে ব্যাংকিং সেবার আত্ততায় আনতে হলে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ আরও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন। মুহিত বলেন, ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার বিধিবিধান রয়েছে। সেটাকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংক একীভূত হতে চায়, নিয়মানুযায়ী তারা একীভূত হতে পারবে। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠী কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও রয়েছে। একটি পার্টি মার্কেট থেকে বড় অংকের লোন নিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের বাণিজ্য মেলা শুরু ১ ডিসেম্বর
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোগে নগরীর হালিশহর আবাহনী মাঠে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা ২০১৭। ধারাবাহিক চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এবারের মেলায় দুই শতাধিক স্টল এবং অর্ধশতাধিক প্যাভেলিয়ন ও মিনি প্যাভেলিয়ন অংশ নিচ্ছে। রোববার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদস্থ মেট্রোপলিটন চেম্বার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুজ্জামান ভুঁইয়া। মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চতুর্থবারের মতো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে। ১ ডিসেম্বর নগরীর হালিশহরস্থ আবাহনী মাঠে বেলা ১১টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এবারের মেলায় দেশি বিদেশি ২০০টি স্টল থাকবে। এর মধ্যে বড় প্যাভেলিয়ন থাকবে ২০টি, মিনি প্যাভেলিয়ন থাকবে ৩০টি। ভারতের গোদরেজ সিকিউরিটিজ, পিএইচপি গ্রুপের গাড়ি এবং টাটা গ্রুপের স্বল্পমূল্যের মোটরসাইকেল ও গাড়ির প্রদর্শনী এবং কম মূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এই মেলায়। ভারত ছাড়াও থাইল্যান্ড, পাকিস্তান বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদেশে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মেলা চলাকালীন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ ভিআইপিদের মেলা পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। খলিলুর রহমান বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মেট্রোপলিটন চেম্বার মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজন করছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশে ও প্রসারে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।এই মেলা চট্টগ্রামবাসীর একটি মিলন মেলায় পরিণত হবে। মেলায় প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে পূর্বের ন্যায় ১০ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেলার কো-কনভেনার মাহবুব চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো: আব্দুস সালাম, পরিচালক প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ, প্রফেসর জাহাঙ্গীর চৌধুরী, রাসেল মাহমুদ, সুলতানা শিরিন আক্তার প্রমুখ।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ
ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মন্ত্রীপর্যায়ের ৭ম সম্মেলনে যোগ দেবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ লক্ষ্যে তিনি আজ সকালে অস্ট্রিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) মহাপরিচালক লি ইয়ংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। আগামী ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ইউনিডো আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইউনিডোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শিল্পমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, অর্থনীতিবিদ, শিল্পগবেষক, পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক, বিশ্ববরেণ্য শিল্পউদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও উৎপাদনশীলতা অর্জনে উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি শিল্পখাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ, অধিকতর জনগোষ্ঠীকে শিল্পখাতে সংম্পৃক্ত করে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের আয় ও জীবনযাত্রার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া, সম্মেলনে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রীপর্যায়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এতে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে উপস্থিত মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করবেন।
পাঁচ রপ্তানিকারক পেল এইচএসবিসি পদক
পাঁচ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পদক দিয়েছে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক পুরস্কার জয়ী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের হাতে পদক তুলে দেন। ২০১০ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে এইচএসবিসি। এবারের পদক পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড, তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড, এনভয় টেক্সটাইল, সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পণ্য রপ্তানির দেশের সংখ্যা, রপ্তানি আয়ের পরিমাণ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিচালন নীতি এবং আরও কিছু গুণগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিচারক প্যানেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান বাছাই করেন। জুরি বোর্ডের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এবার বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি) স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে। ২০০২ সালে উৎপাদনে আসা প্রতিষ্ঠানটি ২৫টি ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য তৈরি করে, যেগুলো ৭৫টি দেশে রপ্তানি হয়। স্কয়ার ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের কম) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে তারাশিমা অ্যাপারেল লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি ৪০ দেশে পণ্য রপ্তানি করে। তারাশিমা অ্যাপারেলসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিশান আলী পদক গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক-সরবরাহ ব্যবস্থা ও পশ্চাদমুখী শিল্প খাতে (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার গ্রহণ করেন। বছরের সেরা রপ্তানিকারক, সনাতন ও উদীয়মান (যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি তবে পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে সি ফুড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড। সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই এ পদক গ্রহণ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বছরের সেরা রপ্তানিকারকের (বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, তবে তৈরি পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল ব্যতীত) পুরস্কার পেয়েছে গৃহসজ্জা সামগ্রী তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ। নীলফামারীর এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম পদক গ্রহণ করেন। বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঁন্সওয়া দ্য ম্যারিকো ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের উপপ্রধান নির্বাহী এবং করপোরেট ব্যাংকিং প্রধান মাহবুবউর রহমান।
যন্ত্রে তৈরি জাজিমের বাজার বড় হচ্ছে
একজন মানুষ দিনে যদি আট ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে তাঁর জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় কাটে বিছানায়। সেই বিছানাকে আরামদায়ক করার পেছনে ব্যয় করতেও মানুষ পিছপা হয় না। বাংলাদেশের মানুষ একসময় ধুনকরদের দিয়ে জাজিম-তোশক তৈরি করে বিছানা সাজাত। এখন জাজিম-তোশকের বাজার দখল করছে আধুনিক কারখানায় যন্ত্রে তৈরি জাজিম বা ম্যাট্রেস। দেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে যন্ত্রে তৈরি ম্যাট্রেসের বাজার। শুধু রাজধানী ঢাকার উচ্চ আয়ের মানুষেরা নয়, জেলা-উপজেলা শহরের বাসিন্দারাও এখন ম্যাট্রেস কিনছেন। এ বাজারে আধিপত্যের পুরোটুকুই দেশি কোম্পানির। অভিজাত আবাসিক হোটেল বাদে দেশে যত ম্যাট্রেস বিক্রি হয়, তার পুরোটাই দেশীয় উৎপাদকেরা সরবরাহ করেন। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে এখন ২০টির মতো কোম্পানি ম্যাট্রেস উৎপাদন করছে। বছরে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। এ বাজার বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। মানুষের আয় যত বাড়বে, বাজারের আকার তত বাড়বে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় ম্যাট্রেস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিফাতুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, একসময় ম্যাট্রেস শুধু অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা ব্যবহার করতেন। এখন দাম কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। তাই এটি এখন আর অভিজাত পণ্য নেই। তিনি বলেন, এখন জাজিমের পরিবর্তে ম্যাট্রেসের ব্যবহার খুব বেড়েছে। পরিবর্তনটি এসেছে গত পাঁচ বছরে। এ সময় মূলত ম্যাট্রেসের দাম কমেছে, বাজার বেড়েছে। দেশীয় বাজারে আধিপত্য থাকলেও দেশি কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে নেই। ম্যাট্রেস রপ্তানিতে ঝক্কি অনেক বেশি। একটি কনটেইনারে খুব কম পরিমাণ ম্যাট্রেস ধরে। এতে জাহাজভাড়া অনেক বেশি পড়ে যায়। তাই কোম্পানিগুলো রপ্তানি বাজারে সুবিধা করতে পারছে না বলে জানান এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে আসবাবপত্রের সঙ্গে সামান্য কিছু ম্যাট্রেস বিদেশে যায় বলে জানান তাঁরা। অবশ্য ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজার বেশ বড়। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিসার্চমজের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ম্যাট্রেসের বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে ৪ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের এখনকার মোট রপ্তানি আয়ের চেয়ে ৯০০ কোটি ডলার বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি ডলার।
দেশের মতো আমেরিকায়ও উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা জেবিবিএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহ নেওয়াজ। শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশে। আমেরিকায় এসেও একই পথ অনুসরণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কমিউনিটি সেবায় কাজ করছেন। ২০০৫ সালে আমেরিকায় আসেন শাহ নেওয়াজ। এখানে শুরু হয় নতুন জীবনসংগ্রাম। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স, আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা ইন পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যয়ন শেষে বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিসহ একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে ঢাকায় তৈরি করেন তৈরি পোশাক কারখানা ভেনাস গ্রুপ ইউএসএ মোড লিমিটেড। ক্রেতাদের হাতে উন্নতমানের পণ্য সহজে পৌঁছানোর জন্য সাদিয়া শপিং মল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সাল থেকে কমিউনিটি সেবায় ভিন্ন কমিউনিটি ও বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে চালু করেন এনওয়াই ইনস্যুরেন্স। পাশাপাশি চালু করেন হোমকেয়ার ও বেইজ সার্ভিস সেবা। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন ১৪ জন কর্মচারী । এদিকে শাহ নেওয়াজ একাধিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি একাধারে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, একাধিক পথ মেলার উদ্যোক্তা, এ ছাড়া অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসায়ীদের জনপ্রিয় সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেবিবিএর নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী। গতবারের নির্বাচনে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।