আরো একধাপ বাড়লো চাল, পেঁয়াজের দাম
রাজধানীর পাইকারি বাজারে আবারো বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। আড়তদারদের অতি মুনাফা আর বাড়তি মজুতদারির কারণেই চালের দাম কমছে না বলে দাবি পাইকারদের। রসুন আর আলুর দামে স্বস্তির খবর থাকলেও দাম বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার। মসলার বাজার কিছুটা বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরনের ডালের দাম। তবে হঠাৎ করেই বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীর চালের বাজারে নেই তেমন কোন স্বস্তির খবর। সপ্তাহ ব্যবধানে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে সবধরনের চালের দাম। শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হওয়ারও কোন সুখবর নেই পাইকারদের কাছেও। তবে বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মিল পর্যায়ে মনিটরিং করলে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, 'যে মিনিকেট বিক্রি করেছি ৩ হাজার টাকা আজ সেটা বিক্রি করছি ৩ হাজার ৬৫ টাকা। ২৫ বিক্রি করতাম আড়াই হাজার টাকা সেটা আজ বিক্রি করছি পঁচিশ' পঞ্চাশ টাকা।' আরেক পাইকার বলেন, 'বর্তমানে অটোরাইসমিলের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। যে পরিমাণ ধানের প্রয়োজন সেটা বাজারে নেই। প্রতিযোগিতা করে ধান কিনে এই মিল মালিকরা। এতে ধানের দাম বেশি হয়। এতে করে চালের দামও বেড়ে যায়। এটা যদি সরকার মনিটরিং করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার তাহরে বাজার শিথিলই থাকবে।' পাইকারি পর্যায়ে রসুন আর আলুর দাম কমলেও ৩ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। তবে সরবরাহ ভালো থাকায় শিগগিরই দাম কমার ব্যাপারে আশাবাদী পাইকাররা। মসলার বাজারে জিরা আর এলাচের দাম কিছুটা বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে সবধরনের ডালের দাম রাজধানীর পাইকারি বাজারে ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১০ টাকা বেড়ে ৫শ' ১০ টাকা আর ২ থেকে তিন টাকা বেড়ে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৩ টাকায়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার , বিমানে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো
ঢাকা-লন্ডন রুটে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আজ রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানান। এরপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসংক্রান্ত পত্র বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের কাছে হস্তান্তর করেন। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ থেকে যেকোনো পণ্য যেকোনো বিমানে করে লন্ডনে পাঠানো যাবে। অ্যালিসন ব্লেক বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও দুই দেশের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই সমস্যা চিহ্নিত করে সেখান থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্লেক বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বা প্রত্যাহার কোনোটাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। সম্পূর্ণ নিরাপত্তার কারণেই এটা করা হয়েছিল। বিমানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য তাদের এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় অস্ট্রেলিয়াও তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে, এমনটা আশা করা যায়। ২০১৬ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাজ্যের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে কার্গো পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া।
বেড়েছে চালের দাম, কমেছে পেঁয়াজ-রসুনের
কয়েকদিনের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত। সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও আড়তদাররা বলছেন আমদানি করা চালের মূল্য বেশি হওয়ায় প্রভাব পড়েছে দেশিয় চালে। তবে গেল সপ্তাহের তুলনায় কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দর। অন্যদিকে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে খোলা তেলের দর। কিছুদিন আগেই বাজারে এসেছে নতুন আমন চাল। পাশাপাশি আমদানি করা চালের সরবরাহও রয়েছে যথেষ্ট। দু'য়ে মিলে বাজারে চালের কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু তার কোন প্রভাবই নেই চালের বাজার দরে। উল্টো গেল কয়েকদিনে কেজিতে ১ থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বাজারের সব ধরনের চালের দাম। দোষটা বরাবরই বাড়তি পরিবহন খরচ আর মিলমালিকদের ঘাড়েই চাপাচ্ছেন চালের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এক ব্যবসায়ী বলেন, 'এই সময়ে দেশের বাজারে চালের দাম একটু বাড়েই। যেহেতু আমরা পরনির্ভরশীল, ভারত থেকে চাল না আসলে আমাদের চালের বাজার স্থিতিশীল থাকে না। ভারতের বাজারে চালের দাম বেশি তাই আমাদের এখানেও দাম বেড়েছে।' তবে ক্রেতাদের জন্য সুখবর রয়েছে পেঁয়াজ-রসুনের বাজারে। গেল সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দর। আদা কমেছে ১০ টাকা পর্যন্ত । কমেছে রসুনের দরও। বাজারে সব থেকে কম টাকায় মিলবে আলু। কেজি প্রতি মাত্র ৮ থেকে ১১ টাকায় পাইকারি দরে চলছে এই নিত্যপণ্যটি। নিত্যপণ্যের বাজারে ডালের পাইকারি দর আগের মত থাকলেও খোলা তেলের দর বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত। এক ব্যবসায়ী জানান, 'ডালের ডাম আগের মতোই আছে। ভারতীয় মসুর ডাল ৫৫টাকা এবং দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫টাকা কেজি দরে।' এদিকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মসলা।
হটাৎ বেড়েছে চালের দাম
ঢাকার বাজারে হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের চাল কেজি প্রতি দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। ঢাকার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে কয়েক দিন আগে মোটা চালের কেজিপ্রতি দর ছিল ৩৮ টাকা, যা এখন দেড় টাকা বেশি। মাঝারি মানের বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। ভালো মানের মিনিকেট চালের দামও কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ৫০ পয়সা ও ভারতীয় মিনিকেট ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দর আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেশি পড়ছে। কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির মহিউদ্দিন রাজা বলেন, চালের দাম বেড়েছে মূলত ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায়। বেনাপোল থেকে আসতে প্রতি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা, যা এখন হয়েছে ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে একটি ট্রাকে ২০ টনের জায়গায় চাল আনা যাচ্ছে ১৩ টন। ঢাকা-বেনাপোল পথের পাশাপাশি অন্যান্য পথেও ট্রাকভাড়া বাড়তি দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাস্তার ক্ষতি এড়াতে সরকার অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। মহাসড়কের ওজন স্কেলগুলোতে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছে। গত বোরো মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল থেকেই বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ওঠে ৫০ টাকায়, যা কয়েক বছর ৩৫ টাকার নিচে ছিল। এরপর আমদানি বাড়ায় দাম কিছুটা কমে যায়। জানুয়ারিতে আমন মৌসুমের চাল বাজারে আসার পর দাম এক দফা বেড়েছিল। এখন আবার এক দফা বাড়ল। কুষ্টিয়ার মোকামেও সরু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পৌরবাজার চালের আড়তে গত সপ্তাহে মিলগেটে মিনিকেট চাল বিক্রি হয় ৫৮ টাকা কেজি দরে, যা এখন ৬০ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে তা ভোক্তারা কিনছেন ৬২ টাকা দরে। মিলমালিকেরা বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। পৌরবাজারের চাল ব্যবসায়ী শাপলা ট্রেডার্সের মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ দিন আগে কুষ্টিয়ার বড় চালকল বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুড হঠাৎ মিনিকেট চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতেই বাজারে প্রভাব পড়ে। বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুডের মালিক বায়েজীদ বিশ্বাস মূল্যবৃদ্ধির জন্য ধানের চড়া দামকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়ে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মিনিকেট চালের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়াই চাল আনতে পারবে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশ থেকে চাল আমদানির জন্য তেজস্ক্রিয়তা সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব দেশ থেকে চাল আনতে পারবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মানবদেহে ক্যানসারসহ নানা রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চাল আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। তাদের যুক্তি, পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে এই সনদ নিতে না হলে চাল আমদানিতে সময় কম লাগবে এবং টাকা সাশ্রয় হবে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসার, লিউকেমিয়া, বন্ধ্যাত্ব, চুল পড়ে যাওয়া, জেনেটিক পরিবর্তনসহ মানবদেহের ভয়ানক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানবদেহে নানা রকম ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে। মানসিক বিকার এমনকি বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। চট্টগ্রামের পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের পরিচালক শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসিয়ান দেশগুলোকে সুযোগ-সুবিধা দিতেই একটি মহল হয়তো এমন অনুরোধ করছে। কিন্তু কোনোভাবেই এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমদানি করা চালে ক্ষতিকর কিছু আছে কি না, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষা না করে তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই এটা তুলে দিলে ঝুঁকি থাকবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মূলত ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির সময় সনদ সংগ্রহের জন্য তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার বিষয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের ফি পাঠানোর বিষয়টি জানিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিল চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। তাঁরা বলেছিলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে করা চুক্তিতে বলা আছে, তেজস্ক্রিয়তার বিনির্দেশ মাত্রা পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে যাচাই করতে হবে। তাই ২২ লাখ টাকা পাঠাতে অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু মন্ত্রণালয় টাকা না পাঠিয়ে এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন বলে জানান। আর খাদ্যসচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন, যেখান থেকেই চাল আমদানি করা হোক না কেন, অবশ্যই তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করা উচিত। আমদানি নীতিতে বলা আছে, সার্কভুক্ত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকে সরাসরি চাল, গম ও অন্যান্য খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করতে হবে। তবে তিনটি শর্ত পালন করলে এই বাধ্যবাধকতা শিথিলযোগ্য হতে পারে। এর মধ্যে রপ্তানিকারক দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অনুমোদিত সংস্থার ইস্যু করা উৎস দেশসংক্রান্ত সনদ (সার্টিফিকেট অব অরিজিন) যদি থাকে, যদি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে প্রত্যয়নপত্র শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে দিতে পারে এবং পচনশীল খাদ্যর ক্ষেত্রে ওই দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে তেজস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত সনদ নেওয়া হয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এসব সনদ জমা দেয় না বলে পরমাণু শক্তি কমিশনের সূত্র জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাজমা শাহীন বলেন, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। চুক্তিতে বলা থাকলে অবশ্যই আমদানি করা চাল পরীক্ষা করতে হবে, সেটা যে দেশ থেকেই হোক।
১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত
১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র ১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ৯০তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজয়ী নম্বর-০৪২৯১২১। এছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কারের বিজয়ী নম্বর-০৯২৪৫৩০। দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী পবেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) মো. সেলিম রেজা। একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) এই ড্র পরিচালিত হয় এবং বর্তমানে প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের ৪৯টি সিরিজ যথা- কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, এবং খশ এই ড্র এর আওতাভুক্ত। ড্রতে ১ লাখ টাকা করে দুটি তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী নম্বর হল- ০২৩০৬০৫ ও ০৩৭৬৯৩০। আর প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা করে দুটি চতুর্থ পুরস্কারের নম্বর-০৪৪৪৫৮২ ও ০৫৮৮৯২৪। এছাড়া প্রতিটি ১০ হাজার টাকা করে ৪০টি পঞ্চম পুরস্কারের নম্বরগুলো হল- ০০১২১৫৮, ০২৬৩৭১৮, ০৩৪৪৩৫৫, ০৫৪৮৯৫১, ০৭৫৬০৪৫, ০০৩৫৯০৯, ০২৬৫৮৫২, ০৩৬৯৬৪১, ০৫৪৯৯৫৬, ০৭৯০৯৫১, ০০৪৯৮০৯, ০২৭৫০১২, ০৩৮৬৯৬২, ০৫৯২২১২, ০৭৯৮২৭৯, ০০৫৭৬৭৯, ০২৭৫৭৬৩, ০৪৪৩০৯১, ০৬১৭০১২, ০৮০৮৩৫৪, ০১৪৯৩০৪, ০৩১২১০৭, ০৪৬১৯৩২, ০৬১৯৭৪৪, ০৮৩৫৩৮২, ০১৮২৪৫৬, ০৩১৩৩৯৬, ০৪৬৮০১৯, ০৬৪১৪৭১, ০৮৪৮৮২১, ০১৯৯৫০৬, ০৩৩০৮৩৬, ০৪৮৬৭০৮, ০৬৮৬৮১২, ০৮৬৯৯৯১, ০২৫৯৭১৬, ০৩৩৬৭০৬, ০৪৯৭১৫৯, ০৭৩০১৩৮, ০৯৩৭২১৮।
সর্বোচ্চ সতর্ক কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর এসএক সুর চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থাকা কালো টাকার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন করণীয় নেই। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে যাতে কোন কালো টাকার লেনদেন না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচনী বছর কালো টাকার লেনদেন বাড়তে পারে, অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে ব্যাংক কি ব্যবস্থা নিচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষার্ধের মূদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। এসকে সুর চৌধুরী গর্ভনর ফজলে কবিরের পক্ষে এ কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির, ডেপুটি গর্ভনর রাজী হাসান, এসএম মনিরুজ্জামানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, উপদেষ্টা ও বিভিন্ন পর্যায়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে কালো টাকা রোধসহ আর্থিক সকল লেনদেন রোধে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সব টুল্স আছে সেগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে, দেশ থেকে দেশের বাইরে বা দেশের বাইরে থেকে দেশের অভ্যান্তরে অবৈধ প্রবেশ রোধে সকল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআই) আগে থেকেই এ ব্যাপারে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকার প্রবাহ বৃদ্ধির ব্যাপারে অর্র্থমন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের। এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে এসকে সুর চৌধুরী বলেন, এ ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিতরন করা হচ্ছে এনজিও-এর মাধ্যমে। আর এর সুদ হার দিতে হয় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ হারে। এ ঋণের সুদ হারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবরাহের বিষয়টি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবার বাড়ছে সোনার দাম
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার দর ভরিতে ১ হাজার ৫১৭ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোনার নতুন দর কাল শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দর বৃদ্ধির বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি সোনার দর বাড়ানো হয়েছিল। দর বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনা ৫২ হাজার ২৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৯ হাজার ৯২২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৪ হাজার ৬৭৩ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৪১০ টাকা। আজ পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৫০ হাজার ৭৩৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৮ হাজার ৪০৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪৩ হাজার ১৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ২৬ হাজার ৫৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনার দর পুনর্নির্ধারণ করায় ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৫১৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরিতে ৮৭৪ টাকা দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকবে। প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। অলংকার তৈরিতে সোনার দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) যোগ হবে। বিশ্ববাজারে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববাজার প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৬০ মার্কিন ডলার। গত ১০ জানুয়ারি সেটি ছিল ১ হাজার ৩১৭ ডলার।
ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে দাম কমালেও কমেনি বংলাদেশে
পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত প্রতি টনে ১৫০ ডলার কমালেও তার প্রভাব নেই দেশের পাইকারি বাজারে। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমায় দাম বেড়েছে। তবে ভরা মৌসুম হওয়ায় কমেছে দেশি পেঁয়াজের দর। গেল ১৯ জানুয়ারি এক পরিপত্রে পেঁয়াজের রপ্তানি-মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭০০ ডলার নির্ধারণ করে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে প্রতি টনে খরচ কমেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৩০০ টাকা। এতে দেশীয় বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দর অন্তত কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত কমবে-এমনটাই আশ্বাস ছিল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের। অথচ সপ্তাহ না ঘুরতেই কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দর। তবে কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দর। বিক্রেতারা বলেন, এ সময় দেশি পেঁয়াজে বাজার কম থাকে তাই এলসি কম খুলছে ব্যবসায়ীরা। আদা ৬০ থেকে ৬২ টাকা আর রসুন ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এদিকে নতুন করে কেজিতে ১-২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, মিনিকেট, নাজিরশাইল, আটাশ ও পাইজাম'সহ প্রায় সবধরনের চালের দাম। বিক্রেতারা বলেন, মিনিকেট বিক্রি করা হচ্ছে ৫৯ টাকা থেকে ৬০ টাকা। নাজিরশাইলের দাম ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা। মিনিকেট চাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তায় ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। ডালের বাজারে দেশি মসুরের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে আমদানি করা মসুরের দর। লিটারে ২ টাকা কমেছে বোতলজাত সয়াবিনের দাম। বিক্রেতারা বলেন, মসুরের দামা যেগুলো রফতানির মাধ্যমে আসে সেগুলো দাম ৪ থেকে ৫টাকা বেড়েছে। সয়াবিন তেল লিটারে দুই টাকা কমেছে । অস্থিরতা বেড়েছে মসলার দামে। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৭শ - ১৮শ টাকায়। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি দরে।
পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা
কথা ছিল চলতি বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে যুক্তরাজ্য। তবে কার্গো পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো সন্তুষ্ট নয় যুক্তরাজ্য। তাই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি এখনও। বরং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নতুন করে আরও কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি। এরই অংশ হিসাবে এবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে আসছে ইউরোপীয়ান এভিয়েশন সিকিউরিটি এজেন্সি। গেল নভেম্বরে অডিটে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ। এরপর গত ডিসেম্বরে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রীর লন্ডন সফরে যুক্তরাজ্যের বিমানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন, নতুন বছরের শুরুতেই প্রত্যাহার হবে বাংলাদেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা। সে প্রতিশ্রুতি রাখেনি যুক্তরাজ্য। বরং নতুন করে আরো কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে এবার বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা কতটুকু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করেছে তা খতিয়ে দেখবে ইইউ এভিয়েশন সিকিউরিটি। অডিট মোকাবেলা করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ বিমানও। এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসেই শিথিল হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। তবে চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আরো দু-তিন মাস লাগবে। নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৮ মার্চে যুক্তরাজ্য ও এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে তৃতীয় দেশ হয়ে বাংলাদেশকে এসব দেশে পণ্য রপ্তানি করতে হয়।
অবশেষে সাভারে স্থানান্তরিত নতুন চামড়া শিল্পনগরী নির্মাণে ক্রটির কথা স্বীকার করলো বিসিক
অবশেষে সাভারের স্থানান্তরিত নতুন চামড়া শিল্পনগরী নির্মাণে ক্রটির কথা স্বীকার করলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-বিসিক। চামড়া শিল্প নিয়ে সেমিনারে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারকে ভুল বুঝিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে স্থানান্তর করা হয়েছে ট্যানারি শিল্প। দোষীদের শাস্তিরও দাবি জানান তিনি। গত বছরের ৮ই এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয় সাভারের হেমায়েতপুরে। ১৫৫টি কারখানার মধ্যে ১২১টি স্থানান্তর করা হলেও সেখানকার পরিবেশ ও সিইটিপি বাস্তবায়নে নেই তেমন কোন উন্নতি। রোববার রাজধানীতে ট্যানারি স্থানান্তর বিষয়ে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, সে সময় দরপত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে উল্লেখ না করেই সরকারকে ভুল বুঝিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে ট্যানারি। এ জন্য দোষীদের শাস্তিরও দাবি জানান তিনি। বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, 'একজন প্রতিষ্ঠান ও একজন ব্যক্তি আমাদের বিপদে ফেলেছেন। এদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।' বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে শিল্প এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এখনই সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহিন আহমেদ বলেন, 'লেদার ওয়ার্কার গ্রুপের সার্টিফিকেট কোনো ট্যানারিই পাইনি। বিদেশে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে হলে এগুলো আগে পূরণ করতে হবে।' সভায় ইপিজেড এর মতো পরিকল্পনা নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনই সম্মিলিত পদক্ষেপের উপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান বলেন, 'লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ স্ট্যান্ডার্ড ট্যানারি সিটি আমরা পাচ্ছি কিনা, আমরা নিজেদেরকেই আগে প্রশ্ন করি। তাহলে এতো টাকা, এত বড় প্রজেক্ট এটার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি?' এ সময় জানানো হয়, চামড়া শিল্পে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০২১ সাল নাগাদ এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।
পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৪ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম
শীতের তীব্রতা কমে আসায় পণ্য পরিবহণ এখন স্বাভাবিক। ফলে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৪ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। আলুর দামও রয়েছে কমতির দিকে। এদিকে চাল, ডাল, তেলসহ বেশিরভাগ ভোগ্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও হঠাৎ করে বেড়েছে এলাচ, জিরা, বাদাম, আদাসহ বেশকিছু মসলার দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বছরের এই সময়ে রাজধানীতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহরে তুলনায় চাহিদা এখন দ্বিগুণ। যার প্রভাব পড়েছে দামে। দেশে আলু-পেয়াজের এখন ভরা মৌসুম। কিন্তু তীব্র কুয়াশায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ফেরি চলাচল বিঘ্ন হওয়ায় রাজধানীমুখী পণ্য পরিবহণে তৈরি হয় স্থবিরতা। ফলে সরবরাহ সংকটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দামে। তবে শীত কমে আসায় বাজারে বেড়েছে পণ্যের সরবরাহ। এতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে দামে। চলতি সপ্তাহের প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪ টাকা এবং আমদানি করা মোটা পেঁয়াজ ৩-৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকা দরে। রসুনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন আলুর দাম কমেছে কেজিতে ২-৩ টাকা। তবে কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে দেশি আদা ৬২- ৬৪ এবং আমদানি করা মোটা আদা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। এদিকে অস্বস্তি বেড়েছে মসলার দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৭শ - ১৮শ টাকা দরে।গত সপ্তাহে ১৬শ টাকায় বিক্রি হওয়া পোস্তা বাদাম কেজিতে ৭০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩শ টাকায়। জিরার দামও কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, বছরের শুরুতে বিয়ে-বৌভাতসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটে প্রভাব পড়েছে দামে। নতুন করে বাড়েনি গেল বছরজুড়ে আলোচনায় থাকা চালের দাম। পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশি মিনিকেট ৫৭-৫৯ টাকা, নাজির শাইল ৬০-৭০ টাকা, আটাশ ৪৮-৫০ এবং মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে ৩৯-৪০ টাকায়। তবে দেশি মসুর ডাল কেজিতে ৫-৭ টাকা কমে ৭৫-৭৮ টাকা, আমদানি করা মোটা মসুর ডাল ৪৭-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে তেলের বাজার। খোলা সরিষার তেল প্রতিকেজি ১২০ টাকা এবং সয়াবিন তেল কেজিতে ২ টাকা কমে ৮৬ থেকে ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোম্পানিভেদে ৫ লিটারের প্রতিটি বোতলজাত সয়াবিন তেল ৪৯০ থেকে ৫১৫ টাকা এবং প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা দরে।
শীগ্রই কমছে পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত থাকছে চলের দাম
এক মাসেই ৩০ টাকায় নামবে পেঁয়াজের দাম, আপাতত কমছে না চালের ।আগামী এক মাসের মধ্যেই রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দর নেমে আসবে ৩০-৩৫ টাকায়, এমন আশা পাইকারি পর্যায়ে। ব্যবসায়ীদের যুক্তি নতুন পেঁয়াজ আমদানির সঙ্গে ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতিরও। তবে, ব্যতিক্রম চালের বাজার, আড়তদাররা বলছেন, নাজিরশাইল মিনিকেটের দাম কমবে না বৈশাখের আগে। এদিকে, হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সব ধরনের মশলার দাম। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে রাজধানীর পাইকারি বাজারে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আসতে শুরু করেছে শিকড় থেকে চাষ করা পেঁয়াজ। আড়াই মিলিয়ন টন বার্ষিক চাহিদার খুব সামান্যই পূরণ হয় এ সময়ে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে। তবে, আশার কথা হলো উন্নতি হয়েছে আমদানি পরিস্থিতির, ভারতের বাজারেও কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম ক্রেতাদের নাগালে আসতে সময় লাগবে এক মাস। ব্যবসায়ীরা বলেন, আবহাওয়া ভাল থাকলে আমাদের পেঁয়াজ উঠে যাবে। এক মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে চলে আসবে। ঠিক বিপরীত চিত্র চালের আড়তে, চলতি সপ্তাহে আবারো চড়া হয়েছে দেশীয় চালের বাজার। মিনিকেট, নাজিরশাইল কিংবা আটাশ, বাজারে সরবরাহ কম প্রত্যেকটি চালের। আমদানি করা ভারতীয় চাল থাকলেও তার প্রতি আগ্রহ কম ক্রেতাদের, এমন মত পাইকারদের। তারা বলেন, দেশি আর আমদানি চালের মধ্যে আট দশ টাকা ফারাক। এই সপ্তাহে বাজার বেশি। বেনাপোল থেকে ১৫ টনের জায়গায় ১৩ টন আসছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন এসেছে মশলার বাজারে, এলাচ গোলমরিচ, লবঙ্গ, জিরা কিংবা বাদাম, বেড়েছে সব কিছুরই দাম। ব্যবসায়ীরা বলেন, এলাচের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। পেস্তা বাদাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেড়েছে। যারা আমদানি করে তারা বলছে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে এমন হয়েছে। তুলনামুলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে গুড়োদুধ, চিনি, আর সব ধরণের ডালের দাম। বোতলজাত সয়াবিনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন আর পাম অয়েলের দর বেড়েছে কিছুটা।
চাল রপ্তানিতে এলসি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার
ভারত চাল রপ্তানিতে এলসিমূল্য বাড়ায় দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে চালের দাম। প্রতি মেট্রিক টন চালে এলসি মূল্য ৩০ ডলার বাড়িয়ে সাড়ে ৪শ' ডলার নির্ধারণ করায় দেশের বাজারে কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে চালের দর। অন্যদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে ডলারের পাশাপাশি পরিবহন খরচ বাড়ায় বেড়েছে চালের দাম। দেশে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে ৩৯ টাকা দরে ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি চলবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপরই চাল রপ্তানিতে এলসি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। টন প্রতি রফতানির এলসি মূল্য ৩০ ডলার বাড়িয়ে সাড়ে ৪শ' ডলার নির্ধারণ করায় দেশের বাজারে বেড়ে গেছে সব ধরনের চালের দর। আমদানিকারকরা বলছেন, ডলারের দাম এবং পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক রাজেশ পোদ্দার বলেন, এক সপ্তাহে চালের বাজার ছিল ৪২০ থেকে ৪২৫ ডলার। আর বর্তমানে এটা বেড়ে ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলার হয়েছে। হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক মামুনুর রশিদ লেবু বলেন, তিন আগে এই চালটা বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৩৫ টাকায়। আর সরকার ৩৯ টাকায় চাল কেনার ঘোষণা দেয়ার পর সেটা বেড়ে এখন ৩৯ ও ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা জানান, হিলি স্থলবন্দরে গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৩ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা অভিযোগ করেন নানা প্রতিবন্ধকতার। চালের পাইকারি ক্রেতা জানান, যে চাল কিনছি ৩৬ টাকায়। আর সেই এখন চাল ৩৯ টাকায় কিনতেই হিমশিম খাচ্ছি। অন্য ক্রেতা জানান, গত তিন দিনে প্রতি কেজি চালে তিন টাকা বেড়েছে। গত ১ সপ্তাহে এ বন্দর দিয়ে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলি কাস্টমস।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে:অর্থন্ত্রী
বুধবার সকালে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরো কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে অর্থন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়ায় ভোট কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেসব এলাকা বা দেশে বেশি সংখ্যক প্রবাসী আছে, সেখানে বিশেষ সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদানের বিষয়ে সরকার ভাবছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট হয়তো বা আমার শেষ বাজেট। এ বাজেটে সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে তাদের প্রণোদনার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে আমার দেশের অর্থনীতির চাকা চাঙা। তাই তাদেরকে যেন আমরা কখনো লেবার না বলি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজমের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সেক্রেটারি ড. নমিতা হালদার, ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী, ইউএনের সাবেক কর্মকর্তা ড. একে আব্দুল মোমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন :অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়লে কোনো সমস্যা নেই। কারণ দেশের সব জনগণকে ব্যাংকিং সেবার আত্ততায় আনতে হলে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ আরও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন। মুহিত বলেন, ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার বিধিবিধান রয়েছে। সেটাকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংক একীভূত হতে চায়, নিয়মানুযায়ী তারা একীভূত হতে পারবে। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠী কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও রয়েছে। একটি পার্টি মার্কেট থেকে বড় অংকের লোন নিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই :অর্থমন্ত্রী
ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার রাজধানীর শিশু একাডেমিতে জিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। মুহিত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থ চুরির পর থেকে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে টাকা ফেরতের ব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গড়িমসি শুরু করে। তাই এখন শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তা দিচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। একটি নির্দিষ্ট সময় পর যদি চুরি হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ উদ্ধার না হয়, তবে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসির চারটি অ্যাকাউন্টে আর বাকি দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। ব্যাংকটির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় বদলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে (জুয়া খেলার জায়গা) চলে যায় বেশির ভাগ অর্থ। তবে হ্যাকারদের একটি বানান ভুলে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ফিলিপাইনের সিনেট শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এক কোটি ৫২ লাখ ডলার ফেরত আনতে সক্ষম হয়।
সেরা ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক
প্রাইম ব্যাংক সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) কর্তৃক করপোরেট সুশাসনের জন্য আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ এর সেরা ব্যাংক হিসাবে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্ত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইসিএসবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে প্রাইম ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ এহসান হাবীব এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রম্নল হোসেনসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি