ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে রিক্রুট ব্যাচের কুচকাওয়াজ
২৬,অক্টোবর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দ্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে (ইবিআরসি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রিক্রুট ব্যাচ ২০২০-২ এর শপথ গ্রহণ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং লে. জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। সুশৃঙ্খল ও মনোজ্ঞ এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রিক্রুটদের মোট ১২টি কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করে। রিক্রুট ব্যাচ ২০২০-২ এর ১ হাজার ৪২৮ জন রিক্রুটের মধ্যে সর্ব বিষয়ে চৌকস নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য রিক্রুট মো. হাসিবুল হাসান শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। প্রধান অতিথি শ্রেষ্ঠ রিক্রুটসহ অন্য সব পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করেন। প্রধান অতিথি নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার একক নেতৃত্বে সূচিত হয়েছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ইবিআরসির প্রতিষ্ঠাতা মেজর এমএ গণি, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী দ্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনানিসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রিক্রুট ব্যাচ ২০২০-২ এর সব নবীন সৈনিক তথা ইবিআরসির সব সেনাসদস্যকে পালনীয় কর্তব্য উল্লেখ করে বিভিন্ন উপদেশ মূলক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া এবং জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ২৪ পদাতিক ডিভিশন, কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, কমান্ড্যান্ট, দ্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের সব অফিসার, জেসিও, এনসিও প্রমুখ কর্মকর্তা।
যেই কথা, সেই কাজ, ছদ্মবেশী সিএমপি কমিশনার- সালেহ মোহাম্মদ তানভীর!
২৬,অক্টোবর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তিনি কখনো সিএনজি অটো রিকশায়; কখনো নিজ প্রাইভেট কারে চেপে ঘুরে বেড়ান চট্টগ্রাম মহানগরীর রাজপথ। এসময় থাকেনা কোনও পুলিশ প্রটেকশন কিংবা অধীনস্থ কর্মকর্তাকে দৌড়ঝাপ! তিনি একাই রাত ৯ টা কিংবা ১০ টার পর বের হন নগরীর বিভিন্ন থানা পরিদর্শনে। তাকে না চেনার জন্য ধরেন ছদ্মবেশ! বুঝার চেষ্টা করেন আসলেই একজন সাধারণ মানুষ কেমন সেবা পাচ্ছেন পুলিশ থেকে! সিএমপিতে যোগ দিয়েই অক্টোবর মাস থেকে এরকমই ছদ্মবেশে থানা পরিদর্শন করছেন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। কখনো থানায় গিয়ে সরাসরি ওসির বা ডিউটি অফিসারের কক্ষে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন আবার কখনো ছদ্মবেশেই থানা পরিদর্শন করে থাকেন। এরকম ছদ্মবেশে কয়েকটি থানা পরিদর্শনে গিয়ে একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে অসদাচরণের জন্য বরখাস্তও করেছেন সিএমপি কমিশনার। আর দায়িত্বে অবহেলার জন্য কয়েকজন সহকারী পুলিশ কমিশার (এসি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তিরস্কারও করেছেন।এ প্রসঙ্গে শনিবার দুপুরে জানতে চাওয়া হয় সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরের কাছে। প্রসঙ্গ শুনেই তিনি হেসে উঠেন! এসময় বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবো না। দেখি কতটুকু করা যায়, কি হয়! ছদ্মবেশে থানা পরিদর্শন, কয়েকজনকে বরখাস্তের বিষয়গুলো তুলে ধরলে তিনি আবারও হেসে উঠেন। বলেন, আমি মন্তব্য করব না।তবে সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা পুলিশ কমিশনারের ছদ্মবেশে থানা ও চেকপোস্ট পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ কমিশনার যখন ছদ্মবেশে নগরীর রাজপথ ও পুলিশি কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে বের হন তখন হয় প্রাইভেট কারে চড়েন না হয় সিএনজি অটো রিকশায় চড়েন। এই বিষয়টা তার বডিগার্ডকেও জানতে দেন না। অনেক সময় বডিগার্ড থাকলেও তাকে থানার বাইরে রাখেন আর তার মোবাইল জব্দ করেন আগেই।অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে নগরীর চান্দগাঁও থানায় এসে ছদ্মবেশে সেবাপ্রার্থী সেজে থানার নীচ তলার পুরো কার্যক্রম দেখেন সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এরপর ওসির রুমে প্রবেশ করে থানার রেজিস্টার যাচাই করেন। সেখান থেকেই ফোন করেন ওই জোনের ডিসিকে। জানতে চান হাজতে থাকা আসামির পরিসংখ্যানসহ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ অনেক তথ্য! এরপর সেখান থেকে দ্রুত চলে যান ছদ্মবেশী পুলিশ কমিশনার।পুলিশ কমিশনার সেখান থেকে বহদ্দারহাট-মুরাদপুর হয়ে আতুরার ডিপো হয়ে অক্সিজেন মোড় পৌঁছান। এই অক্সিজেন মোড় উত্তর চট্টগ্রাম থেকে নগরীতে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশমুখ। সেখানে রাত্রিকালীন চেকপোস্টের কার্যক্রম দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন ছদ্মবেশী কারে থাকা পুলিশ কমিশনার। পরে চেকপোস্টে হাজির হয়ে নিজের পরিচয় সামনে আনেন এবং ওই জোনের (সহকারী পুলিশ কমিশনার) এসিকে স্পটেই হাজির করিয়ে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সর্তক করেন দায়িত্বরতদের।এর কিছুদিন পর এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ছদ্মবেশী পুলিশ কমিশনার সিএনজি অটোরিকশায় ছুটে যান ডবলমুরিং থানায়। সেখানে গিয়ে রাত ১০ টার দিকে ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসারের কাছে একটি জিডি করার অনুরোধ করেন। তখন কর্তব্যরত অফিসার জিডি করতে বকশিস চান ছদ্মবেশি পুলিশ কমিশনারের কাছে। এরপর দ্রুত সেখান থেকে চলে যান পাহাড়তলী থানায়। সেখানে নিজের মত করে পরিদর্শন করে থানার গেটে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবলের কাছে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশা ডেকে দেওয়ার অনুরোধ করেন ছদ্মবেশে থাকা নগর পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতি উত্তরটি সুখকর ছিলনা পুলিশ কমিশনারের জন্য। এই চারটি থানা পরিদর্শনের পর বুঝেছেন কেমন চলছে তার সিএমপির সেবা কার্যক্রম। পরে কয়েকজন এসি ও ওসিকে তিরস্কার করেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। আর জিডি করতে বকশিস চাওয়া ওই এসআই ও অসহযোগিতা করা পুলিশ কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর সিএমপির ৩০ তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন ৩২ মাস আগে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া নগর পুলিশের নতুন অভিভাবক সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এসে জানিয়েছিলেন নানা পরিকল্পনার কথা। শুনিয়েছিলেন সিএমপিতে পরিবর্তনের কথা। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সিএমপির প্রত্যেক সদস্য হবে জনবান্ধব আর থানা হবে পুলিশি সেবার মূল কেন্দ্রস্থল। অপরাধ করে কেউ যেমন পার পাবেনা তেমনি পুলিশ সদস্যরাও জবাবদিহিতার বাইরে থাকতে পারবে না। পুলিশের পোস্টিং বাণিজ্য নিয়ে অনৈতিক লেনদের কথা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। সেই বদনামি ঘোচাতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।যেই কথা, সেই কাজ গতমাসে খুলশী ও আকবর শাহ থানার ওসি পদে দুজনকে পদায়নে লেনদেন হয়নি কোন অর্থ। এমনকি শুনা হয়নি কারো তদবিরও। সম্পূর্ণ পেশাদার চৌকস দুই পরিদর্শককে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পদায়ন করেন পুলিশ কমিশনার। সন্দেহজনক পুলিশ সদস্যদের করানো হচ্ছে ডোপ টেস্ট। থানাকে সেবার মূল কেন্দ্র বানাতেই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন পুলিশ কমিশনার। সেজন্য প্রত্যেক থানাকে সিসিটিভির আওতায় আনার কথাও বলেছিলেন তিনি। এরইমধ্যে নিজেই ছদ্মবেশে রাতে পরিদর্শন করছেন সিএমপির থানাগুলো। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পুলিশে ঘুষ-দুর্নীতি আর হয়রানি বন্ধে ছদ্মবেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম থানায় থানায় যাওয়ার কথা চাউর হয়েছিল। তবে সেটা তেমন কার্যকর না হলেও ওই সময়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এই কার্যক্রম এখন শুরু করেছেন। তার এ ছদ্মবেশী থানা পরিদর্শনে ইতোমধ্যে সিএমপির ১৬ থানা ও ৩১টা ফাঁড়ির কর্তব্যরতদের মনে আতঙ্ক তৈরী করেছে বলে জানা গেছে।বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রাত হলেই নিজ নিজ থানা ও ফাঁড়ি এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়ে দেন। ফোর্স ও ডিউটি অফিসারদের বাড়তি সর্তক করেন। সেবা প্রার্থীদের সেবা প্রাপ্তিতে যাতে বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয় সেটা নিশ্চিতে তৎপর হয়ে উঠেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ভাই এখন কমিশনার স্যার রাতে ছদ্মবেশে বের হন। কোন সময় এসে কি অনিয়ম উনার চোখে পড়ে সেই টেনশনে থাকি।এরকম আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।
পূর্বাশার আলোর ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ
২৫,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আদর্শ শিশু কিশোর সংগঠন পূর্বাশার আলোর ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষভাবে অক্ষম শিশুদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠান নগরীর স্টেডিয়ামস্থ জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বাশার আলোর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইফতেখার সাইমুন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের হুইল চেয়ার তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আদিল কবির,পূর্বাশার আলো দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শিকদার,কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জুবাইর রিয়াজ,কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মো. আরিফুল হোসাইন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো: সোহেল রানা প্রমুখ প্রধান অতিথী বলেন, পূর্বাশার আলো প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে মানবতার কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে। গরীব এতিমদের কল্যানে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। পূর্বাশার আলো তাদের ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী শিশু কিশোরদের নিয়ে নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
শাহ আমানতে বিদেশী অর্থসহ ২ যাত্রী আটক
২৫,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইগামী দুই যাত্রীকে ৪১ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ টাকা সমপরিমাণ বিদেশি অর্থসহ আটক করেছে এনএসআই টিম। বৈধভাবে পাসপোর্টে এ টাকা এনডোসমেন্ট না করে অর্থপাচার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের নিচতলার ৭ নম্বর গেইটে ও দোতলার ডিপার্চার এ দুই জনকে তল্লাশি করে আটক করা হয়। তারা দুইজনই দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন। আটককৃতরা হলেন- নূর কামাল ও ইমরান হোসেন। কামালের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলায়। ইমরানের বাড়ি ফেনী জেলায়। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার নূর কামালকে আটক করা হয় দোতলার ডিপার্চার লাউঞ্জ থেকে। তার কাছে ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬১ টাকার সমপরিমাণ ওমান ও আরব আমিরাতের অর্থ পাওয়া যায়। আরেকজন যাত্রী ফেনীর ছাগলনাইয়ার ইমরান হোসেন নামের এক যাত্রীকে নিচতলার ৭ নম্বর আন্তর্জাতিক গেইট থেকে আটক করা হয়। তার কাছে ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৩ টাকার সমপরিমাণ ওমান, সৌদি, কুয়েত ও আরব আমিরাতের মুদ্রা পাওয়া যায়। এসব মুদ্রার বিপরীতে পাসপোর্টে এনডোসমেন্ট ছিল না। দুইযাত্রীর যাত্রা বাতিল করে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের কাছে সোপর্দ করা হয়। উল্লেখ্য, একজন যাত্রী বৈধভাবে পাসপোর্টে এনডোসমেন্ট করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদেশে নিতে পারেন।
অপরাধী ছেলেকে পুলিশের হাতে দিলেন মা
২৫,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাধারণত ছেলে যতই অপরাধী হোক মা ছেলেকে ঢাল হিসেবে আগলে রাখেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মায়ের আচরণ আবেগকে পরাজিত করে। তেমনই এক মা নিজ ছেলেকে মোটরসাইকেল চুরির দায়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে রিয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুমন্ডি লেইনের বিপরীত পাশে পার্ক করে তালা মেরে মোবাইল মেরামত করতে যান জনৈক মোহাম্মদ আশফাক হোসেন। কিছুক্ষণ পর এসে দেখেন তার মোটরসাইকেলটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, কোন এক ছেলে এসে তার নিজের মোটরসাইকেল বলে তা রিক্সায় উঠে নিয়ে গেছে। হতভম্ব হয়ে আশফাক হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যান টিম কোতোয়ালির একটি টহল দলের কাছে। সেখানে টহল টিমের দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর মনজুরুল আলম ভূঞাঁ ঘটনা শুনে কালবিলম্ব না করে ছুটে যান টিম কোতোয়ালির মশাল হাতে আশাহতের আশার আলো হয়ে। এরপর সম্ভাব্য সব জাগায় খোঁজাখুঁজির পর পুলিশকে দেখে এক যুবক জানান, একটি মোটরসাইকেলকে রিক্সায় করে আসকার দিঘীর পাড় এলাকায় নিয়ে যেতে দেখেছেন এক কিশোরকে। এ সংবাদে অভিযানে আসে এক নতুন মাত্রা ও গতি। সংবাদের ভিত্তিতে আসকার দিঘীর দক্ষিণ পাড়ের শতদল ক্লাবের পাশে একটি গলিতে তুহিন ভূঁইয়া (২২) নামের যুবকের হেফাজত হতে উদ্ধার করা হয় আশফাক হোসেনের স্বপ্নের মোটরসাইকেলটি- যোগ করেন ওসি কোতোয়ালী। তবে এর পেছনের ঘটনা বলতে গিয়ে ওসি মহসীন বলেন, আমাদের টিম যখন ওই এলাকায় অভিযান করছিল তখনই স্কুলের পিয়নের কাজ করা ওই মা নিজের বিবেকের কাছে আবেগকে পরাজয় করান। তিনি নিজে এসে পুলিশকে বাসায় নিয়ে ছেলেকে আইনের হাতে যেমন তুলে দেন তেমনি মোটরসাইকেলও ফেরত দেন। এমন মাকে আমাদের টিম কোতোয়ালীর পক্ষ থেকে সম্মান-শ্রদ্ধা। আটক তুহিন ভূঁইয়া ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে এখন সিএনজি অটোরিকশা চালায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
চমেক হাসপাতালকে ঢেলে সাজাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চমেক হাসপাতালকে আরও আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তাতে হাসপাতালের পরিধি, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, জনবল সংকট নিরসনসহ উন্নয়নমূলক নানান পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরীর দুই নম্বর গেটস্থ চশমাহিলে হাসপাতাল পরিচালনা সভাপতি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব নিয়ে আলোচনা করা হয়। চমেক হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। যাতে চমেক হাসপাতাল ছাড়াও জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে আগত চিকিৎসকদের জন্য নগর আ. লীগের অবিসংবাদিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘরে চিকিৎসকদের জন্য আয়োজন করা হয় দশ পদের খাবারও। উপস্থিত থাকা এক চিকিৎসক বলেন, দশ পদের খাবার দিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করেন উপমন্ত্রী। তারমধ্যে কাচ্ছি, পোলাও, ইলিশ, রুই, গরু, খাসি, ড্রেজার্টের আয়োজন ছিল। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর চিঠি দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক-তত্ত্বাবধায়কসহ সকল বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে নিজ বাসায় আমন্ত্রণ জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শামীম হাসান নিউজ একাত্তরকে বলেন, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর চমেকের কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হয়নি। তাই উনার বাসায় সকলকে দাওয়াত দিয়েছেন। মতবিনিময়ের মতোই সকল বিভাগীয় প্রধানরা তাদের সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরেছেন। একই সাথে মানউন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। সমস্যা ও মান উন্নয়নের মধ্যে হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন, পরিধি বাড়ানো, শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধিসহ হাসপাতালে পরিকল্পিতভাবে আরও আধুনিক কিভাবে করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। চমেক হাসপাতালের এক বিভাগীয় প্রধান নিউজ একাত্তরকে এমনটি জানিয়ে আরও বলেন, হাসপাতালে সেবার মান উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, ওয়ার্ডগুলোকে কিভাবে আরও উন্নত করা যায় সে বিষয়ে কথা বলা হয়। এ বিষয়ে সরকারের একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেছেন। তবে এটি মূলত সবার সাথে পরিচিতি হওয়ার জন্যই এমন আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন নিউজ একাত্তরকে বলেন, হাসপাতালের সমস্যা নিরসনেই আলোচনা হয়। এর বাইরে পৃথক ক্যান্সার ইউনিট, নতুন নতুন ওয়ার্ড সৃষ্টিসহ নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সাথে হাসপাতালের আশপাশে থাকা দোকানপাট বেশি, তা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও স্ব-শরীরে উপস্থিত ছিলেন না শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল। ঢাকা থেকে জুমের মাধ্যমে তিনি যুক্ত ছিলেন। পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার পর হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে এটাই তাঁর প্রথম সভা।
কর্ণফুলীর ঘাটে জাহাজের পণ্য খালাস শুরু
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টির কারণে টানা চারদিন বন্ধ থাকার পর ফের শ্রমিকদের হাঁকডাকে উৎসবমুখর হয়ে উঠছে কর্ণফুলী নদীর ঘাটগুলো। লাইটার জাহাজ থেকে বস্তা ভরে ক্রেনের সাহায্যে নদীপাড়ে আনলোড করা হচ্ছে গম, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য। সেই বস্তা শ্রমিকরা কাঁধে তুলে ট্রাকে বোঝাই করছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মাঝিরঘাট, আনুমাঝির ঘাট, এভারগ্রিন ঘাট, বাংলাবাজার ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে। এমভি মায়ের আদেশ- নামের একটি লাইটার জাহাজের পণ্যখালাসে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানান, চার দিন পর আবার কাজ পেলাম। খুব ভালো লাগছে। ঘাট গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, নৌযান ও লাইটার শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তিন দিন এবং আবহাওয়া অধিদফতরের ৩-৪ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে আরও একদিন লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে পুরোদমে কর্ণফুলীর ১৬ ঘাটে কাজ চলছে।
নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের মাইকিং
২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি পাহাড় ও বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোড এলাকায় করোনাকালীন সময়ে নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি পাহাড়ে মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ২টা ৩০ মিনিট থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে লোকজনকে অপসারণ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কাট্টলী সার্কেলাধীন ফয়েজ লেক সংলগ্ন ঝিল-১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে অপসারণকৃত ১০০টি পরিবারের মধ্যে ৩০টি পরিবারকে ফিরোজ শাহ পি-ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অভিযানে আকবর শাহ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ফয়েজ লেক এলাকার চারদিকের পাহাড়ি জমিতে স্থানীয়রা অপদখল চালায়। নজরদারির ঘাটতির কারণে ঝিল এলাকায় পাহাড়ি জমি কেটে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ঝিল এলাকায় বিভিন্ন স্বনামধন্য এনজিও সংস্থা কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়েই এনজিওর অঅর্থায়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণ করা হয়েছে ঘর, স্কুল ও স্যানিটারি টয়লেট। জেলা প্রশাসনের পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা জানান, ঝিল এলাকায় জাইকার অর্থায়নে ওয়াসার পক্ষ থেকে সুউচ্চ পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২৮ হাজার ইয়াবাসহ Rab-7 এর হাতে ধরা বাসের সুপারভাইজার
২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পটিয়া উপজেলার বাইপাস এলাকায় কক্সবাজার থেকে আসা একটি বাসে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ শরিফুল ইসলাম (৩২) নামে একজনকে আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। আটক শরিফুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানাধীন চাঁন্দপুর এলাকার আবদুল আলিমের ছেলে। তিনি বিআরটিসি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছে Rab। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, পটিয়া উপজেলার বাইপাস এলাকায় কক্সবাজার থেকে আসা একটি বাসে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ শরিফুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। Rab-7 এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান নিউজ একাত্তরকে বলেন, শরিফুল ইসলাম বিআরটিসি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এর আড়ালে তিনি ইয়াবার ব্যবসা করেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর