শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১
ভয়াবহ যানজটে গ্রাস হচ্ছে চট্টগ্রাম
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,মো.এনামুল হক লিটন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভয়াবহ যানজটে গ্রাস হচ্ছে বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ক্রমশ অসহনীয় যানজটের কারণে কর্মব্যস্ত মানুষ দিবসের অনেকটুকু সময় হারিয়ে ফেলছে ট্রাফিক জ্যামে। নগরীর আগ্রাবাদ, স্টেশন রোড, জুবলী রোড, আন্দরকিল্লা মোড়, বক্সিরহাট, জিইসি মোড়, ষোলশহর ২নং গেট, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আতুরার ডিপো, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের কবলে আটকে পড়ে যানবাহনে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা ঠাঁয় বসে থেকে বিরক্তিকর সময় কাটাতে হচ্ছে। ইদানীং নগরীর প্রধান-প্রধান সড়ক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অলি-গলিতেও তীব্র যানজটে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ফুটপাত দখল করে ফলের দোকান, রাস্তার অর্ধেকজুড়ে হকারদের পণ্যের পসরা, যত্রতত্র গাড়ি থামানো, বিভিন্ন মার্কেট, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা আইন না মানার প্রবণতা, শ্লথ গতিসম্পন্ন রিক্সার আধিক্য, নিত্য-নতুন গাড়ি আমদানি, সড়ক বন্ধ করে দিয়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং ট্রাফিক পুলিশের ইচ্ছাকৃত অবহেলাই যানজটের অন্যতম মূল কারণ। বিশেষ করে, মার্কেট সংলগ্ন সড়ক ও পার্শ্ববর্তী অলি-গলিতে প্রচন্ড রিক্সার ভিড় অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। নগরীতে রিক্সার আধিক্য দেখলে মনেই হয় না যে, এর নিয়ন্ত্রণে কেউ আছে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৈধ রিকশার সংখ্যার তুলনায় অবৈধ রিকশার সংখ্যা তিন গুণ বেশি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তালিকাভুক্ত বৈধ রিকশার সংখ্যা মাত্র নয় হাজার ১২৪টি। আবার চসিকে নিবন্ধিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত এমন ৩০ হাজার রিকশা চলাচলের তথ্য দিয়েছে চসিক ও ট্রাফিক পুলিশ। তার ওপর আবার নগরীতে বাড়তি আরো ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা যোগ হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন বরাবরই রিক্সাকে যানজটের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করে এলেও রিক্সার সংখ্যা দিন-দিন বেড়েই চলছে। নগরীর নিউমার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, সেন্ট্রাল প্লাজা, মুরাদপুর, চকবাজার, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন মার্কেট এলাকাগুলোতে রিক্সার ভিড় অসহনীয়। এসব রিক্সাগুলোর চলাচলের নেই কোনো নির্ধারিত রাস্তা এবং বিধি-নিষেধ। ফলে এলোপাতাড়ি এই রিক্সার জটের কারণে হেঁটে পথচলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ফুটপাতে ত্রিপল টানিয়ে অথবা খুঁপরি ঘর তৈরি করে বা ভ্যানগাড়ীর সাড়ি করে হকাররা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতে-করতে তারা যেন অনেকটা ফুটপাতের মালিক বনে গেছে। অথচ প্রশাসন নীরব। এতে করে তারা দিন-দিন বেপরোয়া হয়ে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার ওপর চলে আসতে শুরু করেছে। রাস্তার ওপর সাজানো শুরু করেছে পণ্যের পসরা। নতুন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন নগর সেবায় ক্যারাভ্যান কর্মসূচীর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রাস্তা ফুটপাত দখলকারিদের কঠোর হুশিয়ারিও দিচ্ছেন। তবুও কোনো কিছুই যেন, তাদের রুখতে পারছে না। নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক, অক্সিজেন মোড়, চকবাজারসহ নগরীর প্রতিটি এলাকার ফুটপাত ও সড়কজুড়ে ভ্যানগাড়ির সাড়ি দেখলে মনেই হয়না যে, এর নিয়ন্ত্রণে কেউ আছে। এসব রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও পরক্ষনেই তারা বসে যাচ্ছে। উচ্ছেদের পর যদি আবারও বসে যায়, তাহলে উচ্ছেদের হেতু কি? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। ভেস্তে যাচ্ছে চসিক প্রশাসকের ক্যারাভ্যান কর্মসূচী এমন মন্তব্য করেছেন, মুরাদপুর এলাকার ব্যবসায়ি আব্দুল জব্বার। বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ব্যবসায়ি মিঠুন জানান, উচ্ছেদের পর তারা স্বদর্পে আবারো বসে গেছে, তাহলে উচ্ছেদের প্রয়োজন কি ছিল। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার এ অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসনে এ মুহূর্ত থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর রূপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এমন আশঙ্কা সচেতন মহলের।
রাউজানে অস্ত্রসহ Rab-7 এর হাতে আটক দুই
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাউজানের শিকদারটেক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে Rab। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) Rabর পক্ষ থেকে তাদের আটকের বিষয়টি জানানো হয়। আটক দুইজন হলো- রাউজান থানাধীন পশ্চিম গুজরা এলাকার খোকন দাশের ছেলে আকাশ দাশ (২৫) ও বন্দর থানাধীন মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৫)। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, রাউজানের শিকদারটেক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের রাউজান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। Rab-7 এর হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. মুশফিকুর রহমান নিউজ একাত্তরকে বলেন, আটক আকাশ দাশ ও মো. আরিফুল ইসলাম উঠতি সন্ত্রাসী। তারা নিজেরা প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্র ব্যবহার করেন। অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গেও তারা জড়িত।
নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ: ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার ও ইপিজেড বাজারে আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মূল্য তালিকা ও কেনার রশিদ পর্যবেক্ষণ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ, সহকারী পরিচালক (মেট্রো) পাপীয়া সুলতানা লীজা ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় মোট এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারের প্রবেশমুখের খাজা সুইটসকে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করায় ১৭ হাজার টাকা জরিমানাসহ প্রায় ১০ কেজি জিলাপি ধ্বংস করা হয়। মক্কা সুইটস এন্ড বেকারিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়া করায় ১০ হাজার, জব্বার সুইটসকে ছাপানো নিউজপ্রিন্ট ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও রাস্তার পাশে ধুলোবালিপূর্ণ স্থানে জিলাপি সংরক্ষণ করায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বর্ণিত মিষ্টি ধ্বংস করা হয়। তিনি আরও বলেন, একজন ক্রেতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুমিস হট কেককে লেবেলবিহীন রং ও ফ্লেভার ব্যবহার করে কেক তৈরি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক তৈরির উপকরণ রাখায় ৮০ হাজার টাকা ও হালিশহরের সুন্নাহ মার্টকে উৎপাদন ও মেয়াদবিহীন পণ্য সংরক্ষণ করায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাগরিকায় বিকাশ ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
১৫,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর সাগরিকা এলাকা থেকে বিজয় কুমার বিশ্বাস (৩২) নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত বিজয় কুমার বিশ্বাসের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায়। তিনি নগরের বন্দরটিলায় একটি দোকানে বিকাশের এজেন্ট ব্যবসা করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুর রহমান। পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিজয় কুমার বিশ্বাস নামের একজন বিকাশ ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা কোথায় কিভাবে তাকে হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান ওসি মাঈনুর রহমান।
বিমানবন্দরে সাড়ে ১০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার
১৫,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণের চালান আটক করা হয়েছে। দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৪৮ ফ্লাইটের দুইটি আসনের নিচ থেকে এ চালান আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে চালানটি আটক করা হয়। বিমানবন্দর কাস্টমস ও এনএসআই টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চালানটি উদ্ধার হয়। বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রামেজিং করার সময় ৩৩ নম্বর সিটের নিচে কালো টেপে মোড়ানো ২টি বান্ডেল এবং ২৯ নম্বর সিটের পাশ থেকে আরেকটি পলিথিনে স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার রোকসানা খাতুন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিজি ১৪৮ ফ্লাইটের ৩৩ ও ২৯ নাম্বার সিটের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগে স্বর্ণের বার পেয়েছি আমরা। স্বর্ণের আনুমানিক দাম প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট : চট্টগ্রামে ফের ব্যাটারি রিক্সার দাপট
১৪,অক্টোবর,বুধবার,মো.এনামুল হক লিটন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: হঠাৎ করে নগরীতে আবারো ব্যাটারি রিক্সার চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র কড়া নির্দেশনার পরও নগরীর অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চলাচল নিষিদ্ধ এসব ত্রিচক্রযান ব্যাটারি চালিত রিক্সা। জানা যায়, গত বছরের জুনে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধে নির্দেশনা দেয়া হয়। এমন নির্দেশনার পর পুলিশ নগরজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাবিরোধী অভিযান শুরু করে। ওই সময়ে নগরীতে ব্যটারি চালিত রিক্সা উধাও হয়ে গেলেও বর্তমানে কতিপয় রিকশা মালিক-চালক সমিতির মাধ্যমে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে নগরীর বিভিন্ন অলিগলি এমনকি মূল সড়কেও এসব রিক্সা চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে এমন অভিযোগ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও প্যাডেল চালিত রিক্সা চালক-মালিকদের। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নগরীর ইপিজেড, বন্দর, কর্ণফুলী, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও এবং বাকলিয়া থানা এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, সড়ক ও উপ সড়কে দিব্রি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ এসব ব্যাটারি রিক্সা। অনভিজ্ঞ এসব রিকশা চালকের বেশিরভাগেরই দ্রুতগতি সম্পন্ন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ নেই। এছাড়া ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকায় এসব চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত, বাড়ছে যানজটও। হতদরিদ্র মানুষগুলোর বেশীরভাগই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে চট্টগ্রাম নগরীতে এসেই সহজ পেশা হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নেমে যাচ্ছে। প্যাডেল রিকশা চালানো কষ্টসাধ্য বলেই তারা দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত রিকশার দিকেই বেশী ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন, বায়েজিদ এলাকার মোতালেব নামের এক রিক্সা চালক। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯১৯ সালে রেঙ্গুন থেকে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে এবং পরবর্তীতে কলকাতা থেকে রাজধানি ঢাকায় রিক্সার সূচনা হয়। ইউরোপিয় পাট ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসা ও নিজস্ব কাজে ব্যবহারের জন্য ওইসময়ে এসব রিক্সা আমদানি করে। পরবর্তীতে জীবিকা অর্জনে সহজ পেশা হিসেবে রিক্সা চালনাকে বেছে নেয় দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। সেই থেকে দেশব্যাপী রিক্সার বিস্তৃত। যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলো। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৈধ রিকশার সংখ্যার তুলনায় অবৈধ রিকশার সংখ্যা তিন গুণ বেশি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তালিকাভুক্ত বৈধ রিকশার সংখ্যা মাত্র নয় হাজার ১২৪টি। আবার চসিকে নিবন্ধিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত এমন ৩০ হাজার রিকশা চলাচলের তথ্য দিয়েছে চসিক ও ট্রাফিক পুলিশ। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে ব্যাটারিচালিত এসব অবৈধ রিকশা নগরীর অলিগলি দাপিয়ে বেড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না নেয়ায় বৈধর চেয়ে অবৈধ রিক্সার আদিক্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতে রিটের দোহাই দিয়ে কতিপয় রিক্সা মালিক সমিতি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে নগরীর অলিগলিতে এসব রিক্সা চলাচল অব্যাহত রেখেছে। সরেজমিনে ঘুরে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ কলোনীর মোড় থেকে স্টারশীপ পর্যন্ত সড়কে প্রায় পঞ্চাশ টিরও অধিক অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে। অজ্ঞ এসব রিকসা চালকরা প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটিয়ে চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দাদের। তারা অভিযোগ করে বলেন, অজ্ঞ এসব চালকরা স্বজোরে হর্ণ বাজিয়ে এলাকায় শব্দ দূষনের পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে রিকশা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনাও ঘটাচ্ছে। স্টারশীপ থেকে রৌফাবাদ পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে সরাসরি বায়েজিদ কিংবা অক্সিজেন-মুরাদপুর যোগাযোগের একটি অন্যতম মাধ্যম হওয়ায় সড়কটি দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলও বেড়ে গেছে। এর উপর আবার ব্যাটারি রিক্সা যোগ হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ সড়কে যানজট লেগে থাকে। তথ্য মতে, নগরীতে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। বৈদ্যুতিক মোটরচালিত এসব রিকশার প্রতিটির ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন খরচ হয় পাঁচ ইউনিট করে বিদ্যুৎ। সে হিসেবে প্রতিদিন খরচ হয় ৫০ হাজার ইউনিট বা কিলোওয়াট (৫০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ। আর বিপুল পরিমাণ এই বিদ্যুতের অনেকটাই অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি পিডিবির কর্মকর্তাদের। এছাড়াও ব্যাটারি রিক্সাকে কেন্দ্র করে টোকেন বানিজ্য, চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্যাডেল চালিত রিক্সা চালক-মালিকরা সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ নিয়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে। বিদ্যুৎ খেকো দ্রুতগতির এসব ব্যাটারি চালিত ত্রিচক্রযান বন্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনায় জেএমবির ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর ষোলশহর ২ নাম্বার গেটের পুলিশ বক্সে হামলা ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট থেকে বিষয়টি জানানো হয়। আটককৃতরা হলেন- লোহাগাড়া থানার নিজতালুক গ্রামের আব্দুর শুক্কুরের ছেলে মহিদুল আলম (২৩), পদুয়া ইউনিয়নের পূর্ব মির পাড়া গ্রামের ওসমান গণির ছেলে মো. জহির উদ্দীন (২৮), পদুয়া থানার উত্তর তেওয়ারী খিল গ্রামের মো. শাহাবুদ্দীনের ছেলে মো. মঈন উদ্দীন (২০), লোহাগাড়া গ্রামের মৌলভীপাড়া গ্রামের মো. আবু সাদেক (১৯), উত্তর আমিরাবাদ চট্টলপাড়ার সালেহ আহম্মদের ছেলে মো. রহমত উল্লাহ ওরফে আকিব (২৪) ও পদুয়ার আমজু মিয়ার বাড়ির নুরুল কবীরের ছেলে মো. আলাউদ্দীন (২৩) । গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর ষোলশহরের পুলিশ বক্সে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট পাঁচজন আহত হন। যাদের মধ্যে ১০ বছরের এক শিশুও ছিল। পরে জঙ্গি সংগঠন আইএস এ ঘটনার দায় স্বীকার করে।
ইলিশ ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ, জরিমানা
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের মোমিনরোড ও রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০কেজি ইলিশ ও ৪০ কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইলিশ বাজারজাতের দায়ে মো. সোহেল নামে এক ব্যবসায়ীকে ২হাজার টাকা ও জেলিমিশ্রিত চিংড়ি বিক্রির দায়ে আবুল কাশেম নামে আরেক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসানের নেতৃত্বে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলীসহ সিএমপির সদস্যরা অংশ নেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান জানান, নগরের মোমিন রোডস্থ অস্থায়ী খুচরা বাজারে মো. সোহেল নামের একজন খুচরা মাছ ব্যবসায়ী থেকে ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করে বিক্রির অপরাধে ২হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানেও ইলিশ পাওয়া যায়নি তবে আবুল কাশেম(৩৫) নামের মাছ ব্যবসায়ীকে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ বিক্রির অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তার কাছ থেকে ৪০ কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ইলিশ এতিমদের মাঝে বন্টনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি প্রসঙ্গত, সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুতও নিষিদ্ধ করা হয়।
মুজিব বর্ষ: আলীগের দুই দিনব্যাপী সাম্পান উৎসব চট্টগ্রামে
১৩,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্র ও শনিবার (১৬-১৭ অক্টোবর) দুই দিনব্যাপী সাম্পান উৎসবের আয়োজন করেছে নগর আওয়ামী লীগ। কর্ণফুলী ও দেশের নদ-নদী দখল, দূষণমুক্ত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, অর্থনীতির সঞ্চালক কর্ণফুলী এখন দখল, দূষণ ও ভরাটসহ নানামুখী সমস্যার কবলে পড়েছে। শুধু কর্ণফুলী নয় দেশের সব নদনদীই আজ দখল, দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তাই কর্ণফুলীসহ দেশের সব নদনদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ চট্টগ্রাম থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টায় কর্ণফুলীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু এলাকা পর্যন্ত সাম্পান শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এ শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন। পরদিন শনিবার বিকাল ৩টায় অভয় মিত্র ঘাট (নেভাল টু) এলাকায় সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সাম্পান শোভাযাত্রা ও সাম্পান খেলায় ১০ জন মাঝি ও তাদের দল অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারীরা হলেন- চট্টগ্রাম ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতি, ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতি, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতি, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, পুরাতন ব্রিজঘাট ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী সমিতি, মালেক শাহ দ্বীপ কালা মোড়ল সমিতি, শিকলবাহার আহমদ উল্লাহ শাহ, মাদ্রাসা পাড়ার মোহাম্মদ তারেক, শিকলবাহার শেখ আহমদ মাঝি ও সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতির নূর মোহাম্মদ। আয়োজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা চাঁটগাইয়া নওজোয়ান। বুক পেতে দিয়ে সব ঝড়তুফান ঠেকিয়ে সামনে এগিয়ে চলার মন্ত্র নিয়ে আমরা বেড়ে উঠি। কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর আওয়ামী লীগের মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া বিভাগের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম চৌধুরী। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, ত্রাণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সাংবাদিক আলীউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সাম্পান মাঝিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর