সীতাকুণ্ডে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় ৭ শ্রমিক দগ্ধ
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় অবস্থিত জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় কাজ করার সময় গলানো উত্তাপ্ত লোহার সিলকা গায়ে পড়ে ভারতীয় নাগরিকসহ ৭ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ শ্রমিকরা হলো নুরুজ্জামান (৪০), শাহিন আলম(২৮),আমির হোসেন(২৭),কে ওয়াল সিং (৪৬) এবং টিপু সুলতান(৩৩),রাবিন্দ্র(২৫), শহিদুল ইসলাম(২৭)। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৬নং বান এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জনিয়েছেন, জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় লোহা গলানোর ফার্ণেস থেকে হঠাৎ ছুটে আসা উত্তপ্ত সিলকা এসে গায়ে পড়লে ৭ কর্মচারীর শরীরের বিভিন্ন কিছু অংশ পুড়ে যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাদেরকে ৩৬নং বান এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি দেন। আহত শ্রমিকদের শরীরের ১১-১৫ শতাংশ দগ্ধ হলেও তারা বর্তমানে আশংকামুক্ত আছেন বলে জানান তিনি। এব্যাপারে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন, চমেক হাসপাতাল থেকে শুনেছি জিপিএইচ কারখানায় কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছে। তবে এটি তেমন বেশি নয়।
জীবন রক্ষার বদলে মারাত্মক মৃত্যুর ঝুঁকি
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর মাস্ক, গ্লাভস কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের যেমন চাহিদা বেড়েছে, তেমনি চাহিদা বেড়েছে পাল্স অক্সিমিটারসহ ব্লাড প্রেসার কিংবা জ্বর মাপার ইমপ্যাক্ট থার্মোমিটারের। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সাথে লড়তে কমবেশি প্রতিটি ঘরেই মজুদ রয়েছে এসব মেডিকেল ইকুইপমেন্টের। কিন্তু চাহিদা বাড়ার এমন সুযোগে নকল, নিম্মমানের এবং মানহীন মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ছড়িয়ে দিয়েছে একটি চক্র। যা পুরোদমে ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামে ছোট বড় প্রতিটি দোকান কিংবা ফার্মেসিতেই। বাদ পড়েনি বাসা-বাড়ি কিংবা হাসপাতালও। আর এতে জীবন রক্ষার বদলে মারাত্মক মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। তেমনি এ চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকাও। গতকাল সোমবার নগরীর তিন প্রতিষ্ঠানে অভিযানের পর এমন ভয়াবহ তথ্য ওঠে আসে। যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজও পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এ তিনটির বাইরেও এমন সামগ্রী বিক্রি ও তৈরিতে জড়িত আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নজরেও রেখেছে ওষুধ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় এসব সামগ্রী সরবরাহ করছে। মূলত কম দামে নামিদামি কোম্পানির সমমান ও চীন থেকে নিম্মমানের যন্ত্রাংশ নিয়ে এসে ছড়িয়ে দিচ্ছেন চক্রটি। যার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষদের গছিয়ে দিচ্ছেন তারা। সাধারণ মানুষও আসল-নকল যাচাই করতে না পেরে ক্রয় করে পড়ছেন মৃত্যুর ঝুঁকিতে। তবে এসব নিম্ম ও মানহীন সামগ্রী বিক্রি এবং তৈরি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপতে প্রয়োজন হয় অক্সিমিটারের। করোনাকালে মাস্ক-গ্লাভসের মতো এ মেশিনটির ব্যপকহাড়ে চাহিদা বাড়তে থাকে। সুযোগকে নিম্ম ও মানহীন এমন যন্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে নগরীসহ চট্টগ্রামে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ভুল তথ্যই দিয়ে থাকে। এসব যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও বেশিরভাগই নিম্মমানের। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতির ভুল রিপোর্টে বিভ্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। যাতে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিমত তাদের। এরমধ্যে গতকাল সোমবার অভিযানে পাওয়া এমন মানহীন অক্সিমিটারে একই ব্যক্তির শরীরের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন স্বয়ং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও। এ প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, নিম্মমানের এসব মানহীন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলো ছড়িয়ে পড়ার তথ্য ছিল। যার প্রেক্ষিতে অভিযানও পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রীতিমতো চমকে ওঠার মতো গোঁজামিলের চিত্র উঠে আসে। যেখানে একই যন্ত্র দিয়ে একই ব্যক্তির শরীরে ভিন্ন ভিন্ন রিডিং আসতে থাকে। এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে এই যন্ত্রগুলো ভুয়া। শুধু অক্সিমিটারই নয়, মানুষের ব্লাড প্রেসার মাপার যে যন্ত্র আছে, তাও মানহীন পাওয়া গেছে। এমন আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের খোঁজ রয়েছে। যাতে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে। এদিকে ওষুধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরীর হাজারী গলিসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশপাশে এমন সামগ্রী সরবরাহ করা অন্তত শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাদের বেশিরভাগই এমন কাজের সাথে জড়িত। যাদের বিরুদ্ধে আগ থেকেই একই অভিযোগ ছিল। কিন্তু করোনাকালে এসেও তারা এমন অসাধু কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক। তিনি বলেন, করোনা মহামারীতেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের নজরে রাখা হয়েছে। যারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও মানহীন মেডিকেল ডিভাইস বিক্রয় করে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তবে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রগতিশীল লেখক ফোরাম: ইনামুল হক দানু ছিলেন গণতন্ত্র ও অসম্প্রদায়িক চেতনার সিংহ পুরুষ
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরামের স্মরণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইনামুল হক দানু ছিলেন, রাজপথের লড়াকু সৈনিক এবং গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সিংহ পুরুষ। প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অত্র সংগঠনের প্রয়াত প্রধান পৃষ্ঠপোষক, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইনামুল হক দানুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. এনামুল হক লিটনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাহেনা আক্তারের সঞ্চালনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর অক্সিজেন সংলগ্ন সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রবীণ শ্রমিক লীগ নেতা মো. নুরুল হক জেহাদী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুল আলম, সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক অলিউল্লাহ অলি, দপ্তর সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, প্রচার সম্পাদক ইমদাদুল হক ইমন, যুবলীগ নেতা নুরুল কবির স্বপন, কবি হামিদুল ইসলাম দূর্জয়, আমিনুল হক জুয়েল, সামশুল হক সুমন, ইয়াছিন আরাফাত রকি মো. কাজলসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মো. এনামুল হক লিটন বলেন, ষাটের দশকের শেষ পর্যায়ে বাঙালির অধিকারের অগ্নিঝরা সংগ্রামের অত্রসৈনিক, ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফের গ্রুপ কমান্ডার ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু মৃত্যুর আগ মুহুত্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং মানব কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি এর স্বীকৃতি স্বরুপ চকবাজার অলিখাঁ মসজিদ মোড়কে কাজী ইনামুল হক দানুর নামে সড়কের নাম করণের দাবী জানান। সভায় শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইনামুল হক দানুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে ০১ মিনিট নিরবতা পালন ও আত্নার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
ফটিকছড়ির দুই ইউপিতে নৌকার প্রার্থী আজম-জয়নাল
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,সজল চত্রুবর্তি,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর চট্রগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। উপজেলার ১৪ নং নানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম এবং ১১ নং সুয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ দুই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তাঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। রাতে দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিতব্য নানুপুর ও সুয়াবিল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নির্ধারণে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দাবীর মুখে তৃণমূলের ভোটের আয়োজন করে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নানুপুর ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগর সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম এবং সুয়াবিল ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগর সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন বিজয়ী হন। পরে সিদ্ধান্তনুযায়ী চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য এককভাবে এ দুজনের নাম কেন্দ্র পাঠানো হয়।
সিএমপির তিন কর্মকর্তাকে কক্সবাজারে বদলি
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজার জেলা পুলিশে চলমান সংস্কারের অংশ হিসেবে সেখানকার সাত শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের শূণ্যস্থানে সিএমপি থেকেও তিনজনকে পদায়ন করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর) পঙ্কজ বড়ুয়াকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পদে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে সিএমপির সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবউদ্দিনকে এসি (ট্রাফিক) কক্সবাজার জেলা পুলিশ পদে এবং ডিবির এসি জাহেদুল ইসলামকে মহেশখালী সার্কেলের এএসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সড়কে নামলো ২২ বিআরটিসি বাস
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণপরিবহন সংকট মেটাতে নগরের সড়কপথে ১৮টি ডাবল ডেকার ও ৪টি এসি বাস নামিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিইপিজেড শাহেনশাহ টাওয়ার চত্বরে এ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক সুজন বলেন, বাসে যাতে কোনো নারী ইভটিজিংয়ের শিকার না হয় সেজন্য প্রত্যেক যাত্রীসাধারণকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে একজন নারী কোনো না কোনো ভাবে আমাদের আমানত। এ ধরনের কোনো সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য সরাসরি প্রশাসকের মোবাইল ফোনে জানানোর পরামর্শও দেন তিনি। সরকারি কর্মযজ্ঞকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পাকা রাস্তা নির্মাণ করে পরিবহন ব্যবস্থার অনেকটাই উন্নত করেছে। এমন উন্নয়নের ফলে সকল পণ্য-সামগ্রী সহজে স্থানান্তর করা যায়। নগরায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে শহরে যন্ত্র চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ও পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন খরচ তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বেশ কিছু প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। নগরবাসীর অনেকদিনের আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা ছিল কাটগড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করে গণপরিবহণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে কিছুদিন পূর্বে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠাই।একই সাথে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আলাপ করে বিষয়টি তুলে ধরলে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমার আহবানে সাড়া দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নগরীর গণপরিবহণের স্বল্পতা দূরীকরণে ১৮টি ডাবল ডেকার ও ৪টি এসি বাস দেন। এজন্য আমি মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। আজকের এইদিনে যেন আমারই চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণতা পেয়েছে। তেমনি আমি আশা করি নগরবাসীও এর সুফল ভোগ করবেন। প্রশাসক আরও বলেন, বিআরটিসি বাস একটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর সঠিক সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এই অধিকার প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করুন। এজন্য তিনি প্রত্যেক বাসে বিআরটিসির সেবা নাম্বার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর নাম্বার সংযোজনের নির্দেশনা দেন। প্রত্যেক বাসে একটি করে অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে। যাতে যাত্রীগণ যেকোন অভিযোগ এই বাক্সে ড্রপ করতে পারে। তিনি ড্রাইভারদের সতর্ক করে বলেন, বিআরটিসির বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবার পূর্বে মাঝ পথে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া এবং সিট ক্যাপাসিটির বাইরে যাত্রী পরিবহন করলে বাস চালককে তাৎক্ষণিক বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। এবিষয়ে উপস্থিত বিআরটিসির কর্মকর্তারাও একমত পোষন করেন। প্রশাসক বলেন অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য বিবেচনা করলে বাংলাদেশের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যে গতিতে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত-পরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে। তিনি যাত্রী সাধারণকেও উদ্দেশ্য করে বলেন, রাষ্ট্রের সম্পত্তি এ বাসগুলোকে যত্ন সহকারে ব্যবহার করার অনুরোধ রইলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিসি বন্দর পঙ্কজ বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। এছাড়া বিআরটিসির মাসুদ তালুকদার, মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন, সিইপিজেড থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়া, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সুলতান নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, আবদুর রহমান মিয়া, আজাদ খান অভি, স্বপন সিংহ, মুনতাসির জামিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খুলশী-আকবর শাহ থানায় নতুন ওসি
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই থানায় ওসি পদে নতুন দুই পরিদর্শককে পদায়ন করা হয়েছে। খুলশী থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে চান্দগাঁও থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে সদ্য আসা মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান আর আকবর শাহ থানায় পদায়ন করা হয়েছে ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেনকে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর রদবদলের এ আদেশ দেন। একই আদেশে আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে সিএমপির ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পরিদর্শক হিসেবে বদলী করা হয়েছে। আর চান্দগাঁও থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া৷ খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তরর আদেশে ঢাকা সিআইডিতে যোগ দেন।
পরিবেশ অধিদফতর: ৬ মাসে চার শতাধিক অভিযান, জরিমানা ১৫ কোটি
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরিবেশ দূষণ, পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট, পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। গত জানুয়ারি থেকে চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চল ও মহানগর। করোনার সময় দুই মাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও করোনার আগে ও পর থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট চালিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এসব অভিযানে জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয় পরিবেশ দূষণ, পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট, পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ নানা অভিযোগে ৩৫৯ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে মোট ১১ কোটি ৮৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জরিমানা করেছে ৩ কোটি ৯৩ হাজার ২৪০ টাকা। এসব জরিমানার বিপরীতে জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে আদায় হয়েছে ৫০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে গত জানুয়ারি মাসে মোট ৬০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, মার্চ মাসে ১১৯ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, জুনে ৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, জুলাই মাসে ১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ ১১ হাজার টাকা ও আগস্ট মাসে ৭৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদায় হয়েছে জানুয়ারি মাসে ১ কোটি ২৫ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, মার্চ মাসে ১ কোটি ৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, জুন মাসে ৪ লাখ টাকা, জুলাই মাসে ৩২ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং আগস্ট মাসে ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে গত জানুয়ারি মাসে ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ২২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ২৪০ টাকা, মার্চ মাসে ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ও জুন মাসে ৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৯২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদায় হয়েছে জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬ লাখ ১২ হাজার টাকা, মার্চ মাসে ১৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা ও জুন মাসে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক বলেন, পরিবেশ দূষণ, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। কঠোর হয়ে যাদের জরিমানা করা দরকার তাদের জরিমানা করছি, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করছি। পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি আমরা। তিনি বলেন, আমাদের সুস্থ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে পরিবেশ রক্ষা জরুরি। পরিবেশ দূষণ করে, পাহাড় কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে জীববৈচিত্র্যের হুমকি হয়ে যারা দাঁড়াবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনবো আমরা।
পটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,পটিয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পটিয়া উপজেলার শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় সিএনজি উল্টে মাদ্রাসা শিক্ষক মারা গেছেন। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (৫২) চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া এলাকার মৃত এলাহি বক্সের সন্তান। তিনি পটিয়া উপজেলার আমিরুল আওলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন নিউজ একাত্তরকে জানান, রিক্সাকে সাইড দিতে গিয়ে সিএনজি উল্টে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বর আহত হলে তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর