জেনারেল হাসপাতালে অক্সিজেন লাইন স্থাপন করছে এস আলম
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই লাইন স্থাপন করে দিচ্ছে এস আলম গ্রুপ। হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই লাইন স্থাপন করতে মেডি ট্রেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডারও দিয়েছে এই শিল্পগ্রুপ। রোববার (১৪ জুন) মেডি ট্রেডকে ওয়ার্ক অর্ডার হস্তান্তর করেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পিএস আকিজ উদ্দিন চৌধুরী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অক্সিজেন সাপ্লাই লাইনের কাজ সমাপ্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মেডি ট্রেডকে। এই কাজ সমাপ্ত হলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্টের স্বল্পতা দূর হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই লাইন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫০ টাকা। যার পুরো ব্যয় বহন করবে এস আলম গ্রুপ। এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পিএস আকিজ উদ্দিন চৌধুরী নিউজ একাত্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অক্সিজেন সংকট দূর করতে কাজ করছি আমরা। রোববার একটি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই লাইন স্থাপন করে দেবে এস আলম গ্রুপ।
জেনারেল হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীদের জন্য অনুদান নওফেলের
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের প্রণোদনা দিতে ৩ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বীর হাতে এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ৩৬ জন অস্থায়ী কর্মীদের জন্য তিন লাখ টাকা তুলে দেন। খুলশীতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সিভিল সার্জনের হাতে এসব অর্থ তুলে দেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে অক্মিজেন সংকটের বিষয়ে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক অক্সিজেন সুবিধার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গোল্ডেন অক্সিজেন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী সাবেক সিটি মেয়র এম মঞ্জুরুল আলমকে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সেবা প্রদানের অনুরোধ জানালে তিনি অক্সিজেন সেবা প্রদানে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
আমরা খেটে খাওয়া মানুষের একটি উন্নয়নশীল দেশ: তথ্যমন্ত্রী
১৩জুন,শনিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: পৌনে এক কোটি মানুষের শহর চট্টগ্রাম। প্রতিদিন আরও ২০ লাখ মানুষ এখানে যাতায়াত করেন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে ৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুরুতে চট্টগ্রাম শহরে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অনেক সংকট ছিলো। এখনো সংকট কেটে গেছে তা নয়, আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা শুরু থেকে চেষ্টা করেছি বিভিন্ন হাসপাতালকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এবং সরকারি ব্যবস্থাপনাগুলো আরও প্রসারিত ও উন্নত করার জন্য। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সিটি হল কোভিড আইসোলেশন সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শুরুতে এখানে কোনো ভেন্টিলেশন সুবিধাই ছিলো না করোনা রোগীদের জন্য। এরপরই জেনারেল হাসপাতালে ১০টি ভেন্টিলেশনসহ এখন ১৫০ বেডে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৪টি ভেন্টিলেশন সিস্টেম দিয়ে শুরু করেছে, সহসাই তারা ভেন্টিলেশন ১০টিতে উন্নীত করবেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ৬টি ভেন্টিলেটর আছে সেখানে আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল চালু হয়েছে, সেখানেও সব ভেন্টিলেটর চালু করার চেষ্টা চলছে। ইউএসটিসির বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালেও করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। তাদের ২০টি ভেন্টিলেটর আছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হবার আগে যেভাবে আমরা চলতাম সেভাবে আর নয়। সেভাবে চললে আমাদের পক্ষে হাসপিটাল প্রস্তুত রেখে ও আরও আইেসোলেশন সেন্টার বানিয়েও করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে আমার সুরক্ষা আমার হাতে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোও মাসের পর মাস বন্ধ রাখেনি, সেখানেও খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে এখনও মানুষ মৃত্যুবরণ করছে করোনা ভাইরাসে। এখনো প্রতিদিন শতশত হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, এরপরও তারা লকডাউন শিথিল করেছে, কাজকর্ম শুরু করেছে। তার মানে এই নয় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হবার আগে যেভাবে চলতাম সেভাবে এখনো চলবো। আমরা কাজ করবো, নিজেকে স্বাস্থ্যগতভাবে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী সুরক্ষিত রেখে, তাহলেই আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠাই আমরা এই মহামারিকে মোকাবেলা করতে পারবো। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি প্রমুখ। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক সমস্ত কিছু মনিটর করছেন, তার নির্দেশনাতেই সিটি করপোরেশনসহ আমরা কাজগুলো করছি। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, আমাদের দেশ উন্নত দেশ নয়, উন্নত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার উন্নত দেশ থেকে কম। এই মহামারী সামাল দেওয়ার জন্য উন্নত দেশগুলোও আগে থেকে প্রস্তুত ছিলো না। যে কারণে সেখানে হাজার হাজার ও লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এই দেশে অর্থনীতি উন্নত দেশের মতো অতো মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নয়। এরপরও মানুষের জীবন রক্ষার তাগিদে বাংলাদেশে দুই মাসের বেশি সময় সবকিছু বন্ধ ছিল। এখন সীমিত আকারে খোলা হয়েছে। কারণ জীবন এবং জীবিকা দুটিই রক্ষা করতে হবে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তথ্য উপাত্ত ঘেঁটে যতটুকু জেনেছি সব রোগীকে ভেন্টিলেটর দিতে হয় না, ৮০ ভাগ করোনা রোগী ঘরেই চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়। ১০ ভাগের মতো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতে পারে, তৎমধ্যে জটিল রোগীর সংখ্যা আরও কম। কিন্তু রোগী যেভাবে বাড়ছে সেজন্য আমাদের আইসোলেশন সেন্টার দরকার। অনেকের উপসর্গ খুব কম হলেও দুই রুমের বাসায় আইসোলেশনে থাকা সম্ভব নয়। সেখানে যদি তাকে আইসেলেশনে রাখা হয় ঘরের অন্যদেরও অসুবিধা হয়। সেই ক্ষেত্রেও আইসোলেশন সেন্টারের দরকার আছে। আবার হালকা চিকিৎসারও দরকার আছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আইসোলেশন সেন্টারে যদি কেউ থাকে তাহলে পরিবারের যেমন সুবিধা হয়, পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভবপর হয়। সে জন্য সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে ধন্যবাদ জানাই। সীকম গ্রুপ সিটি কনভেনশন সেন্টারটি দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক মানবতার কাজ করেছেন। বলেন তথ্যমন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই মহামারী কখন যাবে আমরা জানি না, অতীতে ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ভাইরাস যখন হয় সেটি তিন বছর ছিল। এ ছাড়া প্ল্যাগসহ এ মহামারীগুলো এক বছরে কিন্তু দূরীভূত হয়নি, ফিরে এসেছে। এখন মানুষের চিকিৎসাজ্ঞান অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। এরপরও এ মহামারী নিয়ে অনেকেই বলেছিলেন, গরম শুরু হলে চলে যাবে, কিন্তু সেটি হয়নি। চায়নাতে নির্মূল করার পর আবার ২য় পর্যায়ে দেখা গেছে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ইরানে কমে যাওয়ার পর আবার সেখানে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। সুতরাং এ মহামারী কখন যাবে যেহেতু জানি না, এ মহামারীকে কীভাবে আমরা মোকাবেলা করবো সেইভাবেই আমাদের প্রস্তুতিটা রাখতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রকে এ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আরও দু-একটি এ ধরনের আইসোলেশন সেন্টার করার জন্য এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোগী বাড়লে তাদের রাখা যায়। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইনশাআল্লাহ আমরা এ মহামারী মোকাবেলা করবো। আবার ভোরের সূর্য উদিত হবে, এই পরিবেশে নয়, আগের সেই প্রাণচঞ্চল পরিবেশে আমরা আবার কাজ করতে পারবো। এটিই প্রত্যাশা, এটিই বিধাতার কাছে প্রার্থনা।
রামপুর ওয়ার্ডে তিনশ প্রতিবন্ধীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দিলেন মেয়র
১২জুন,শুক্রবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: রামপুর ওয়ার্ড এলাকার তিনশ জন প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আজ বিকালে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রতিবন্ধীদের প্রত্যেকের হাতে এই উপহার তুলে দেন। এসময় কাউন্সিলর এরশাদ উল্লাহ,আবুল হাশেম, বেলাল আহমেদ, আলহাজ্ব আবুল ফয়েজ,আবুল কাশেম, সুমন দেবনাথ,মামুনুর রশীদ মামুন, আনিসুর রহমান, রুবেল আহমেদ বাবু, আমানত উল্লাহ, মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, ইমরান আলি মাসুদ,আরেফিন সাকি ইভান,নিজাম উদ্দিন মিন্টু, মনিরুল্লা খানসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
করোনা যোদ্ধা ইমরান করোনায় আক্রান্ত
১২জুন,শুক্রবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোানা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম স্থাপনে যেই কয়জন উদ্যমী মানবিক যুবক এগিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ইমরান আহমেদ।প্রতিষ্ঠিত তরুণ ব্যবসায়ী স্পিকার কাউন্সিলের পরিচালক । ইচ্ছে করলে ঘরে বসে থাকতে পারতেন , আরাম-আয়েশে জীবন যাপন করতে পারতেন ।তা না করে এ তরুন ব্যবসায়ী করোনাকে ভয় নয় জয় স্লোগান নিয়ে করোনা রোগীদের সেবা করার উদ্দেশ্যে আরো কয়েকজনসহ আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম নির্মাণে এগিয়ে এলেন । চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লিনিক এবং হাসপাতাল গুলো যখন রোগী ভর্তি করাচ্ছে না ।এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি করতে করতে রোগী অ্যাম্বুলেন্সে মারা যাচ্ছে তখন তারা একটি কমিউনিটি সেন্টার কে ১০০শয্যার আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণ করছেন। করোানা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম স্থাপনে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে নিজে রোগী হয়ে গেলেন করোনা যোদ্ধা ইমরান আহমেদ।করুণা আইসোলেশন চট্টগ্রাম নির্মাণের অগ্রসেনানী কে আবারও করোনা রোগীর সেবায় চট্টগ্রামবাসী দেখতে চাই ।ইমরান আহমেদ বলেন, ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারো চট্টগ্রামের মানুষের সেবায় নিয়জিত হবো।
চিকিৎসাধীন ট্রাফিক সার্জেন্টের মৃত্যু, নমুনা সংগ্রহ
১২জুন,শুক্রবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক সার্জেন্ট মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুবরণ করা ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম মাহবুবুর রহমান (৪৮)। তিনি সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। মাহবুবুর রহমান পাবনা সাথিয়া থানার বনগ্রাম বানিয়াবাহু এলাকার তালেবুর রহমানের ছেলে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সদরঘাট ট্রাফিক অফিস প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করলে সার্জেন্ট মাহবুবুর রহমানকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সার্জেন্ট মাহবুবুর রহমান চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার কোনো ধরনের করোনা উপসর্গ ছিল না। তবুও আমরা স্যাম্পল সংগ্রহ করেছি। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মাহবুবুর রহমান ১৯৯৯ সালে সার্জেন্ট পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। সিএমপির আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, হাইওয়ে রেঞ্জ ও সিলেট জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
অক্সিজেন ও ওষুধের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা চাই: চসিক মেয়র
১১জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত অবনতিশীল অসহনীয় পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করছে একটি অসাধু ও দুষ্ট প্রকৃতির অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। তারা অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধপত্র ও সরঞ্জামের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এ মানবিক বিপর্যয় ঘটানোর কাজে লিপ্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও ঘৃণা প্রকাশ করেন তিনি। মেয়র আজ (১১ জুন ) নগরের সিটি কনভেনশন সেন্টারে আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, মানবিক বিপর্যয় ঘনীভূত করতে অক্সিজেনসহ জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধপত্রের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে লিপ্ত অসাধু ব্যবসায়ী ও দুষ্টচক্র মানবতা ও জীবন বিধ্বংসী ভয়ংকর ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের বিশেষ সিন্ডিকেটের আগ্রাসী নেটওয়ার্ক করোনা আক্রান্ত রোগীসহ সব ধরণের অসুস্থ মানুষের পরিবার ও পুরো জাতিকে জিম্মি করে ফেলেছে। সরকার, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধ, আবেদন ও হুশিয়ারী সত্বেও তাদের কিছুতেই নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে বাজার থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধপত্র সরিয়ে ফেলে গোপনে অবৈধ মজুদ গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, তারা নকল মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের কারবারীদের মাধ্যমে বাজারকে বিষাক্ত করে ফেলেছে। এই ঘাতক দুষ্ট চক্রের লাগামহীনতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রশাসনকে ধোকা দেয়ার জন্য তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের দরজা বন্ধ রেখে পেছনে দরজা দিয়ে অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এদের কু-প্রভাবে খোলাবাজারে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ জীবনরক্ষাকরী ওষুধপত্রের দাম স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ৮/১০ গুন বেশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সিটি মেয়র আরো বলেন, কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধে জাতি আজ হিমশিম খাচ্ছে। এমন কঠিন সময়ে যারা মজুদদারী ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ কোভিড সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন, তারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করে চলেছেন। তিনি তাদেরকে শেষ বারের মত হুশিয়ার করে দেন । অন্যথায় সেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ জড়িত সকলকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি সংকেত দেন। এসময় সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, ঔষধ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মেয়র।
করোনা আইসোলেশান সেন্টার পরিদর্শনে আলীগ নেতারা
১০জুন,বুধবার,মুহাম্মদ মহরম হোসাইন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের জন্য করোনা আইসোলেশান সেন্টার'এর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, ইব্রাহিম হোসেন বাবুল এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ও নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, স্বাচিবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও করোনা বিষয়ক সেল এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয় ডা:আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান, একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার। আজ দুপুর ২ টায় নগরীর হালিশহরে অবস্থিত এই করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন তাঁরা। এসময় তাঁরা বলেন, দল-মতের উর্ধ্বে উঠে সবাইকে এই মহৎ ও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে করোনার এই ক্রান্তিকালে মানবসেবাই একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হওয়া উচিত। এই আইসোলেশান সেন্টার নিঃসন্দেহে এই নগরীতে আশার আলোর সঞ্চার করবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইসোলেশন সেন্টারের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন, অ্যাডভোকেট টি আর খান, নাজিমুদ্দিন মাহমুদ শিমুল, মুহাম্মদ মহরম হোসাইন, তৌহিদুল ইসলাম, জাওইদ চৌধুরী, নুরুল আজম রনি, জাফর আল তানিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম সামদানি জনি প্রমুখ। প্রসঙ্গত, নগীরর হালিশহরে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ১০০ টি শয্যা থাকবে ও ১২ জন চিকিৎসক নিয়মিত সেবা দিয়ে যাবেন।
জীবন রক্ষার আইসিইউ-ভেন্টিলেশনের নৈরাজ্যে দুঃখ ক্ষোভে ফুঁসছে চট্টগ্রাম: খোরশেদ আলম সুজন
১০জুন,বুধবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: জীবন রক্ষার আইসিইউ-ভেন্টিলেশনের নৈরাজ্যে দুঃখ ক্ষোভে ফুঁসছে চট্টগ্রাম বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি আজ বুধবার (১০ই জুন ২০২০ইং) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিমত প্রকাশ করেন। এ সময় জনাব সুজন বলেন করোনাভাইরাস আমাদের জীবনধারাকে কেড়ে নিয়েছে। প্রতিনিয়ত জীবন মৃত্যুর মাঝখানে অবস্থান করছে মানুষের অমূল্য জীবন। কখন যে কার ঘরে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস হানা দেয় তা সবার অজানা। আর এ রকম একটি দুঃসহকর পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্টে ভোগা করোনা রোগীকে একটুকু স্বস্তি দিতে পারে আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধা। অথচ এই আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধাই মিলছে না বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের করোনা আক্রান্ত রোগীদের। একদিকে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অমূল্য জীবন ঝড়ে যাচ্ছে এই নগরীতে অন্যদিকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে বাঁচার করুন ব্যাকুলতা আক্রান্ত রোগীর। মানুষ এখন মৃত্যুকে জয় করে বাঁচতে চায়। কিন্তু কে দিবে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি সে প্রশ্ন আজ চট্টগ্রামবাসীর মুখে মুখে। চট্টগ্রামের মানুষের চোখে মুখে আজ উদ্বেগ উৎকন্ঠা।আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধা থাকা সত্বেও হাসপাতালগুলো প্রতিদিন রোগী ফেরত দেওয়ার নিষ্টুর কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। কোন কিছুতেই তাদের দৌরাত্ন্য থামানো যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে যে রোগীগণ সারাদিন আইসিইউ সুবিধার আশায় হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে রাত্রে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতালসহ নগরীর বেসরকারি হাসপাতালসমূহে কয়টি আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধা আছে তা রোগী কিংবা তার আত্নীয় স্বজনদের অজানা। ফলতঃ এই আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধা নিয়েও নিষ্টুর বাণিজ্য চলছে। তাই চট্টগ্রাম নগরীতে আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধা সম্বলিত কয়টি বেড রয়েছে তার পরিসংখ্যান সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডাটাবেইজ করে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকৃত রোগীর অনুকূলে বরাদ্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সবিনয় অনুরোধ জানান জনাব সুজন। এতে করে আইসিইউ-ভেন্টিলেশন নিয়ে চট্টগ্রামের রোগীদের সন্দেহ এবং অবিশ্বাসও নিরসন হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। তাছাড়া দেখা যাছে যে আইসিইউ খালি রেখে ভূয়া বুকিং এর মাধ্যমে এসব আইসিইউ-ভেন্টিলেশন বুকিং করে রাখা হচ্ছে যার কারণে প্রকৃত রোগীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলতঃ অকালে ঝড়ে পড়ছে অনেক তাজা প্রাণ, বিপরীতে দুঃখ ক্ষোভে ফুঁসছে চট্টগ্রামবাসী। এ ক্ষোভ থেকে যে কোন সময় বড় কোন ধরণের দূর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। এ সমস্যা নিরসণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনেরও আহবান জানান তিনি। আমরা জানতে পেরেছি সরকারও এ সমস্যা নিরসণে আন্তরিকতার সাথে নানামূখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম ছগীর গতকাল হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে চট্টগ্রামের একজন পরিচিত মুখ ছিলেন শফিউল আলম ছগীর। ঢাকার রাজপথে নূর হোসেন শহীদ হওয়ার মিছিলেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। একজন প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ হিসেবে যিনি নিজের জীবনকে তিলে তিলে জনগনের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন অথচ সেই মানুষটিই মৃত্যুর সময় সামান্য পরিমান চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। হাসপাতালগুলো তাকে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত করতে বাধ্য করেছে। আমরা মনে করি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তার মৃত্যু ও চিকিৎসা সেবা বঞ্চিতের বিষয়ে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিচারপতির নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান তিনি। সাথে সাথে তার পরিবারবর্গকে এ রকম একটি অমানবিক হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে আগ্রহী হলে সর্বাত্নক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন জনাব সুজন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে বাঁধাগ্রস্ত করতে চায় কারা? কারা প্রধানমন্ত্রীর এতোসব অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়? এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকটও উদাত্ত আহবান জানান সুজন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর