শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১
১০ গুণ বেশি দামে ওষুধ বিক্রি, Rab-7 এর হাতে আটক ৩
৫জুন,শুক্রবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সুযোগে প্রয়োজনীয় ওষুধ অবৈধভাবে মজুদ করে নিয়মিত দামের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করার দায়ে তিন ফার্মেসি মালিককে আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। শুক্রবার (৫ জুন) নগরের ইপিজেড ও বন্দর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের তিনজনকে আটক করে। আটক তিন ফার্মেসি মালিক হলো- আর সি ড্রাগ হাউজের মালিক মো. শাহজাহান (৬০), মেসার্স গাউছিয়া ফার্মেসির মালিক মো. আক্তার হোসেন (৪৯) ও মেসার্স মাসুদা মেডিসিন শপের মালিক মো. রবিউল আলম (৩৩)। আটক মো. শাহজাহান নোয়াখালী জেলার চাটখিল এলাকার হাজী মোহাম্মদ হোসেন মিয়ার ছেলে, মো. আক্তার হোসেন ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা দক্ষিণ হালিশহর এলাকার আবুল বশরের ছেলে এবং মো. রবিউল আলম কক্সবাজার জেলার মহেশখালী কালারমারছড়া এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে ইপজেড ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইপিজেড ও বন্দর থানাধীন এলাকায় অবৈধভাবে মজুদ করে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগে তিন জন ফার্মেসি মালিককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইপিজেড ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, আর সি ড্রাগ হাউজে আইভেরা ৬ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ ৬ প্যাকেট বিক্রি করছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা করে, যার বাজার মূল্য ৭৫০ টাকা। মেসার্স গাউছিয়া ফার্মেসিতে স্ক্যাবো ৬ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৫০০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৫০ টাকা; জিঙ্ক ২০০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৫০ টাকা করে, যার বাজার মূল্য ২৫ টাকা এবং সিভিট ২৫০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৫০ টাকা, যার বাজার মূল্য ২০ টাকা। মেসার্স মাসুদা মেডিসিন শপে রিকোনিল ২০০ মিলিগ্রাম নামে একটি ওষুধ প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছিল ৬০০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৩৬০ টাকা; মোনাস ১০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধের প্রতি প্যাকেট (২ পাতা) বিক্রি করছিল ১ হাজার ৫০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৪৮০ টাকা এবং অ্যাজিথ্রোসিন ৫০০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধের প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছিল ৬০০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৩১৫ টাকা। অবৈধভাবে ওষুধ মজুদদারি ও অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করা ফার্মেসির বিরুদ্ধে Rab এর অভিযান চলবে বলে জানান Rab কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা
৪জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পারেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন,এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা। বিশ্বময় করোনার থাবায় বাংলাদেশে তথা চট্টগ্রামেও এর সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সংক্রমণের হিসাবে চট্টগ্রামকে কোভিড হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে যারা এই সময়ে রোগীদেরকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পক্ষে গড়িমসি করছে এবং তাদের অবহেলার কারণে রোগীরা মৃত্যুবরণ করছে, তারা আসলে শাস্তিযোগ্য কাজ করছে। আমি আশা করি বেসরকারি হাসপাতালগুলোসহ সবাই এহেন আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। তিনি বলেন, এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা। তবে অনেক ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের জীবনকে বিপন্ন করে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য কিন্তু ইদানিং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক ঢালাওভাবে হাঁচি-কাশি,জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগা রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ায় মানুষজন রাস্তাঘাটে মারা যাচ্ছেন। এগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক, প্রাইভেট বা যেকোন হাসপাতালের এ ধরণের আচরণ অগ্রহণযোগ্য। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে বেশি বেশি চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবা সহজতর করার কোন বিকল্প নেই। মেয়র জানান চসিকের উদ্যোগে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ৪ জুন সকালে উত্তর কাট্টলী হাসেম নাজির হেলথ সেন্টারে করোনা টেস্টিং বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। এসময় প্যানেল মেয়র ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, আকবর শাহ থানার আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. লোকমান আলী, আকবরশাহ ই্উনিটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নুর উদ্দিন, বিশিষ্ট শ্রমিক লীগ নেতা শফি বাঙালি, আকবরশাহ থানা সাধারণ সম্পাদক কাজী আলতাফ উপস্থিত ছিলেন। বেসরকারি সংস্থার (ব্রাক) সহায়তায় কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে উন্নত প্রযুক্তির কিওস্ক এর মাধ্যমে স্থাপিত হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা ব্রাক এসব বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে এবং সেগুলো পরীক্ষার গারে পাঠানো হবে। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আরো বলেন, আমরা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ জাতীয় ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দিচ্ছি। অবশ্যই, এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা করোনা টেস্ট বাড়াতে বাড়তি সুবিধা দেবে। এই বুথগুলো প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত গড়ে ৩০জনের নমুনা সংগ্রহ করবে। তিনি জানান, এই বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করতে জনবলও কম লাগবে। সন্দেহভাজন রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করার সময় এই বুথ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিটি নমুনা সংগ্রহ করার পর তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা মূলক সরঞ্জাম (পিপিই) বদলাতে হবে না। নগরীর বিভিন্ন স্পটে এ ধরনের মোট ৬টি নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করা হচ্ছে এবং আমরা আশা করছি শিগগিরি কোভিড-১৯ পরীক্ষাার জন্য নমুনা সংগ্রহ কাজে গতি আসবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন
৪জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে করোনা টেস্টের নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, করোনা সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। এ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে করোনাকে জয় করতে হবে। চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার পরিধি বাড়ছে উল্লেখ করে মেয়র নাছির বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ নগরীতে ছয়টি কালেকশন বুথ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কালেকশন বুথ স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের স ালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রেশমা খানম। সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস প্রেস ক্লাবে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনের মেয়রের সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য অন্তত: দুইটি আইসিইউ বেড বরাদ্দ রাখার জন্য মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী, চসিক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, ব্র্যাক প্রতিনিধি মো. হানিফ উদ্দিন প্রমুখ।
করোনায় মারা যাওয়া পুলিশের জন্য কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের সহায়তা
৪জুন,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই সদস্যের পরিবারের জন্য দুই লাখ টাকা প্রদান করেছে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের হাতে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুর পক্ষে চেক হস্তান্তর করেন জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক সফিক উল আলম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির তওফিক হোসেন ও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু বলেন, মানবতার সেবায় কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন ও আমাদের পরিবার সব সময় নিয়োজিত থাকবে। ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা ২জন পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
চট্টগ্রামে আইসিইউ সংকট, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা
৪জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন এবং আইসিইউর মারাত্মক সংকট। বর্তমানে আড়াই হাজার কোভিড রোগীর বিপরীতে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি। এ অবস্থায় চলতি সপ্তাহে অন্তত ৬০টি নিবিড় পরিচর্যা শয্যার ব্যবস্থা করা না গেলে বিপর্যয় নেমে আসার আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজার রোগীর মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগীর কোনো উপসর্গ ছিল না। ১০ শতাংশের ছিল মৃদু উপসর্গ। আর বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। আর এই ৫ শতাংশ রোগীকে নিয়েই চরম বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক হাজারের বেশি রোগী এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন নগরীর বিশেষায়িত চারটি হাসপাতালে। আর এসব রোগীদের শ্বাসকষ্ট নিবারণের জন্য প্রতিনিয়ত প্রয়োজন হয় অক্সিজেনের পাশাপাশি আইসিইউ সুবিধা। কিন্তু জেনারেল হাসপাতালের ১০টি শয্যা ছাড়া আর কোনো আইসিইউ'র ব্যবস্থা করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় মৃত্যু হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৮৩ জন। এরমধ্যে একজন চিকিৎসক'ও রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিএমএ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মইজ্জুল আকবর চৌধুরী বলেন, সমগ্র চট্টগ্রামের জন্য ২০টি আইসিইউ বেড এটা নামমাত্র ছাড়া কিছুই না। সাধারণ মানুষের চাহিদার কাছে এটা কখনও পর্যাপ্ত নয়। চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি সদস্য সচিব ডা. সুশাস্ত বড়ুয়া বলেন, অক্সিজেন যদি আমরা দিতে পারতাম। তার সাথে আইসিইউ আর ভেন্টিলেটর সাপোর্ট যদি আমরা দিতে পারতাম তাহলে চট্টগ্রামে চিকিৎসার জন্য যে হাহাকার চলছে সেটি কিছুটা হলেও মোকাবেলা করতে পারতাম। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আইসিইউ নিয়ে আমরা যে সুবিধার কথা বলেছিলাম, আসলে নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যাপার আছে। চিকিৎসক যারা আছেন তারাও পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছেন। সব আইসিইউগুলো কার্যকরী হতে আরো দুয়েকদিন সময় লাগবে। শুধু করোনা আক্রান্ত রোগীরা অক্সিজেন কিংবা আইসিইউ সংকটে ভুগছেন, তা নয়। স্বাভাবিক শ্বাসকষ্টের রোগীরাও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে এই সুবিধা পাচ্ছে না। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথে এখানকার ছোট-বড় ৫০টি প্রাইভেট ক্লিনিক চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়। অথচ অন্তত ২০টি ক্লিনিকে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি মেয়রের উদাত্ত আহবান
৩জুন,বুধবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, করোনা বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়ার ফলে বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সংক্রমণের হিসাবে চট্টগ্রামকে কোভিড হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও মৌসুমী আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণেও অনকেই হাঁচি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন। কিন্তু অনেক ডাক্তার নিরাপত্তাজনিত কারণে চেম্বার বন্ধ রাখায় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢালাওভাবে হাঁচি-কাশি,জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগা রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ায় অনেক রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তাঘাটে মারা যাচ্ছেন। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই সবার ভরসাস্থল। মেয়র বলেন, নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সাহস নিয়ে এসব রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে বাঙালিরা নিজের জীবনের পরোয়া না করে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষার্থে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঠিক একইভাবে আজকের করোনা যুদ্ধের ফ্রন্টফাইটার তথা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী ভাই-বোনদের দেশের এ ক্রান্তিকালে একই রকমের অনুভূতি ধারণ করে জনগণকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় দেশ এক মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে । চট্টগ্রামের সম্মানিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকগণ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীগণদের প্রতি মেয়র হিসেবে বিনীত আরজ জানাচ্ছি, আপনারা যে যার যার অবস্থান থেকে করোনার এ মহাবিপর্যয়ে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ যুদ্ধে জয়লাভ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আসুন, আমাদের কোন ভাই বা বোন যেন চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়েন সেটা নিশ্চিত করি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতায় আমরা শীঘ্রই করোনামুক্ত সুন্দর ও নির্মল বাতাসে আবার শ্বাস গ্রহণ করব, ফিরে পাব মানবিক ও সুস্থ বাংলাদেশ।
আগামীকাল প্রেস ক্লাব ও কাট্টলীতে করোনা টেস্টিং বুথ উদ্বোধন
৩জুন,বুধবার,ফয়সাল সিকদার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উদ্যোগে ব্র্যাক বাংলাদেশের সহায়তায় নগরীর ছয়টি পয়েন্টে করোনা টেস্টিং বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। আগামীকাল ৪ জুন সকাল সাড়ে ১০ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও কাট্টলী কর্নেল হাট হাশেম নাজির হেলথ সেন্টারে স্থাপিত টেস্টিং বুথে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। সিটি মেয়র বুথ দুটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করবেন। এছাড়া অবশিষ্ট চারটি বুথ স্থাপনের জন্য আগ্রাবাদ ছোট পুল আবদুস সালাম আরবান সেন্টার, চান্দগাঁও হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদপুর বিবিরহাট কাউন্সিলর কার্যালয় ও কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ব্র্যাক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা চসিক দপ্তরে মেয়রের সাথে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন।
জনস্বার্থে চমেকে ৪টি নমুনা সংগ্রহ বুথ বসাচ্ছে চেম্বার
৩জুন,বুধবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার জনস্বার্থে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ বুথ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) মধ্যে বুথগুলো বসানোর কাজ সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। এরপর নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে আরও নমুনা সংগ্রহ বুথ বসানো হবে চেম্বারের অর্থায়নে। মাহবুবুল আলম বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের রেড জোনে চট্টগ্রাম মহানগরের বেশ কিছু থানা রয়েছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি জরুরি বেশি বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি নমুনা সংগ্রহ বুথ বসানোর। তিনি বিত্তশালী ও করপোরেট গ্রুপগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মহামারীতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এর আগে সোমবার (১ জুন) বুথ স্থাপনের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বিকে চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। চিঠিতে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ক্ষেত্রে বর্তমানে রাজধানী ঢাকার পরে চট্টগ্রামের অবস্থান। দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু এ বন্দর নগরীতে প্রায় ৬০ লাখ লোকের বসবাস। বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এ শহরে সাধারণ জনগণ অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সরকারিভাবে জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি, সিভাসু-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর তুলনায় করোনা পরীক্ষার এ আয়োজন অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশেষ করে নমুনা সংগ্রহের সুবিধা শুধু সেন্টারসমূহে বিদ্যমান বলে করোনা এবং করোনাবিহীন উভয় রোগীদের সংমিশ্রণ হচ্ছে এবং এসব কেন্দ্রের ওপর মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ চাপ নিরসনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকমণ্ডলী চট্টগ্রাম মহানগরে কোভিড-১৯ টেস্ট করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে চেম্বারের পক্ষ থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে কয়েকটি নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারি ব্যবস্থাপনা, বিধি-বিধান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কিট ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহে সার্বিক সহযোগিতা ও যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান মাহবুবুল আলম।
করোণায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে হেনস্তা করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিএমপি
২জুন,মঙ্গলবার,সৈয়দুল ইসলাম,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: এতদ্বারা সম্মানিত নগরবাসীর সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি যদি সামাজিকভাবে বা কারোর কাছ থেকে অবহেলা বা হেনস্থার শিকার হন এ বিষয়ে অভিযোগ শুনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিএমপি। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্র মারফত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তি কর্তৃক আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন, লকডাউন ব্যবস্হা বাস্তবায়ন সহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অনেকেই বাধা প্রদান করেন। যা বিধিসম্মত নয়। এছাড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কে বাড়িওয়ালাগন বাড়ী ভাড়া দিচ্ছেননা অথবা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মর্মেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ মূলক কার্যক্রমে কেউ বাধা প্রদান করলে এবং করোণা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে হেনস্তা বা উদ্রেক করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরূপ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী যে কেউ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হটলাইন (০১৪০০-৪০০৪০০ ০১৮ ৮০ ৮০ ৮০ ৮০ ) নম্বরে ফোন করে জানালে হেনস্তাকারী বা উদ্রেককারী ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্মানিত নগরবাসী, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মহামারীর প্রতি কারোর কোন হাত নেই।সর্বস্তরে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে হবে এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিৎ ও সহযোগিতা করতে হবে। তাই আসুন আমরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যাক্তিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা হেনস্তা না করে আমাদের সকলের স্বার্থে তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। মনে রাখবেন আজ যিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়েছেন, কাল তিনি সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। আর আজ আপনি আমি সুস্থ আছি, আগামীকাল আমরাও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারি। তাই চলুন - শরীরে দুরত্ব রাখি, মনে কাছাকাছি থাকি,অবহেলা না করি, ভালোবেসে সুস্থ থাকি

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর