আইসিইউসহ করোনা আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হলে চট্টগ্রাম অচলের ঘোষণা
৬জুন,শনিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানববন্ধন সমাবেশে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেছেন, পেশাজীবির নামে যারা মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে মাস্তানি করেন তাদেরকে কি করে স্বাস্থ্য সেবা সমন্বয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়। যারা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নয়ছয় করবে তাদের অচিরেই গ্রেপ্তার করার দাবী জানান তিনি। বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমাম বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামে ১০০ আইসিইউ বেড সহ সরকারি বেসরকারি সকল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলে সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে চট্টগ্রাম অচল করে দেয়া হবে। তিনি বলেন দেশের মোট জাতীয় আয়ের ৩৩ শতাংশ প্রদাবকারী চট্টগ্রামের মানুষ একটু অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরবে সেটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। করোনা মহামারীতে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার দাবীতে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম আয়োজিত মানব বন্ধন সমাবেশ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইদ্রিচ আলীর সভাপতিত্বে ০৬ জুন শনিবার দুপুর ১২ টায় আয়োজিত উক্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইদ্রিচ আলী বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ জাতীয় সকল সংকটে সবার আগে নিজেদের উৎসর্গ করেছে। দেশের অন্যতম ধনী এলাকা হিসাবে চিহ্নিত চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবার এই দৈন্যতা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। সার্ক মানবাধিকার সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ আফছারুল হক বলেন, ত্রিশ টাকার ঔষধ তিনশত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অক্সিজেন এখন সোনার হরিন। ম্যাজিস্ট্রেসি অভিযান করে এইসব অরাজকতা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্য মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও আবৃত্তিকর্মী মোঃ তাজুল ইসলাম, এডভোকেট মোঃ জাফর হায়দার, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতির সভাপতি এসএম পেয়ার আলী, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ মিজান, সদস্য আলী নূর, রোটারিয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ছাত্রনেতা মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন, সাংবাদিক রিয়াজুর রহমান নারীনেত্রী আরিকা মাইশা প্রমুখ।
ফার্মেসীগুলির ডাকাতি ঠেকাতে হাজারীর গলিতে অভিযান করুন: ক্যাব চট্টগ্রাম
৬জুন,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে করোনামহামারীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারী ক্লিনিক মালিকরা যেভাবে জনগনকে সেবা না দিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তেমনি ফার্মেসি মালিকেরাও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে ডাকাতি শুরু করে দিয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছে করোনার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওষুধ। চট্টগ্রামের অলিতে গলিতে ফার্মেসীগুলিতে এ সমস্ত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দাম বেশী দিলে আবার বের করে দিচ্ছে। ফার্মেসীগুলির এই অতিরিক্তি দামে ওষুধ বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামের ওষুধের পাইকারী বাজার হাজারী গলিতে Rab, জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের ফার্মেসীগুলিতে করোনা সংস্লিষ্ঠ ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের কৃত্রিম সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করে ০৬ জুন ২০২০ শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কে এনএম রিয়াদ ও সম্পাদক নিপা দাস উপরোক্ত দাবি জানান। বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছু ফার্মেসী করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে ৭৫০ টাকা দামের আইভেরা ৬ মিলিগ্রাম নামের ওষুধ ৬ প্যাকেট বিক্রি করছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ৫০ টাকার স্ক্যাবো ৬ মিলিগ্রাম নামের ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছে ৫০০ টাকা, ২৫ টাকা দামের জিঙ্ক ২০০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছে ৫০ টাকা, ২০ টাকা দামের সিভিট ২৫০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছে ৫০ টাকা। ৩৬০ টাকা দামের রিকোনিল ২০০ মিলিগ্রাম নামে ওষুধ প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছে ৬০০ টাকা, ৪৮০ টাকা দামের মোনাস ১০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধের প্রতি প্যাকেট (২ পাতা) বিক্রি করছে ১ হাজার ৫০ টাকা, ৩১৫ টাকা দামের অ্যাজিথ্রোসিন ৫০০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধের প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছে ৬০০ টাকায়। বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ওষুধ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূলহোতা কারা সবই তারা জানে। তারপরেও মূল জায়গায় অভিযান পরিচালনা না করে লোক দেখানো ছিটেফোটা অভিযান পরিচালনা করে জনগনের ভোগান্তির মাত্রা বাড়ায়। ওষুধের কৃত্রিম সংকট ও দাম বেশী নেবার ঘটনায় ওষুধ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ হাত থাকায় এ অপরাধীরা করোনা শুরু হবার সময় সেনিটাইজার, ডেটল, সেভলন বাজার থেকে গায়েব করে দেন। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করা বা তাদের ডেকে বলার প্রয়োজনটুকু অনুভব করেনি। ফলে তারা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে কৃত্রিম সংকট করে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যা শুধু দুঃখজনক নয়, অমানবিকও বটে।
স্ত্রীকে খুন করে ফেনীতে আত্মগোপন, Rab-7 এর হাতে আটক
৬জুন,শনিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে শ্বাসরোধে নাসিমা হত্যা মামলায় পলাতক স্বামী আবুল হোসেন লিটনকে (৩৮) আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। শনিবার (৬ জুন) ভোর ৬টার দিকে ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন মাদ্রাসা মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে Rab-7 এর একটি টিম। আটক আবুল হোসেন লিটন ফেনী সোনাগাজী থানাধীন রাগবপুর এলাকার হাফেজ আহমদের ছেলে। আবুল হোসেন লিটন তার স্ত্রী নাসিমাকে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে শ্বাসরোধে নাসিমা হত্যা মামলায় পলাতক স্বামী আবুল হোসেন লিটনকে ফেনীর সোনাগাজী থেকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন আবুল হোসেন লিটন। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ পাহাড়তলী এলাকায় হত্যার শিকার হন নাসিমা নামের এক গৃহবধূ। হত্যার পর নাসিমার মরদেহ ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৪ সাল থেকে আবুল হোসেন লিটন পলাতক ছিলেন। মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি আবুল হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়।
চট্টগ্রামের কদমতলীতে শীর্ষ সন্ত্রাস জয়নাব আলীর নির্যাতনের স্বীকার মা ও মেয়ে বৃষ্টি
৬জুন,শনিবার,ফয়সাল সিকদার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে গার্মেন্স কর্মী উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করে হামলার শিকার হয়েছেন মা ও মেয়ে। জয়নাব আলী নামের এক যুবক সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে উভয়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে চমক মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সকালে যুবক সন্ত্রাসী জয়নাব আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী চট্টগ্রাম কদমতলী মোড়ে ফুট পাতে চায়ের দোকানে এই হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গার্মেন্স কর্মী ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের কে একই এলাকার মৃত ছালামত আলী ছেলে জয়নাব আলী দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একইভাবে (৩১মে) সকাল ৭.২০ মিনিটে গার্মেন্সে কর্মী বৃষ্টি যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে। বাসা কদম তলী মোড় রেল লাইনের পাসে সড়কে গার্মেন্স কর্মী বৃষ্টির মা মোরশেদা বেগম (৪৫) ওপর একদফা হামলা করে সন্রাসী জয়নাব আলী। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতির খবর পেয়ে জয়নাব আলী মোরশেদা বেগমমের চায়ের দোকান হামলা করে। একপর্যায়ে গার্মেস কর্মী বৃষ্টিকে মারধর করলে তার মা মোরশেদা বেগম ও পাসে থাকা চায়ের দোকান দার ইমান (৬০) প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এসময় সন্ত্রাসীরা মোরশেদা বেগমক ও ইমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোরশেদা বেগমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার চারদিন পর আসামী জয়নাব আলীকে ডবল মুরিং থানা পুলিশ আটক করেন আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
১০ গুণ বেশি দামে ওষুধ বিক্রি, Rab-7 এর হাতে আটক ৩
৫জুন,শুক্রবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সুযোগে প্রয়োজনীয় ওষুধ অবৈধভাবে মজুদ করে নিয়মিত দামের চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করার দায়ে তিন ফার্মেসি মালিককে আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। শুক্রবার (৫ জুন) নগরের ইপিজেড ও বন্দর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের তিনজনকে আটক করে। আটক তিন ফার্মেসি মালিক হলো- আর সি ড্রাগ হাউজের মালিক মো. শাহজাহান (৬০), মেসার্স গাউছিয়া ফার্মেসির মালিক মো. আক্তার হোসেন (৪৯) ও মেসার্স মাসুদা মেডিসিন শপের মালিক মো. রবিউল আলম (৩৩)। আটক মো. শাহজাহান নোয়াখালী জেলার চাটখিল এলাকার হাজী মোহাম্মদ হোসেন মিয়ার ছেলে, মো. আক্তার হোসেন ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা দক্ষিণ হালিশহর এলাকার আবুল বশরের ছেলে এবং মো. রবিউল আলম কক্সবাজার জেলার মহেশখালী কালারমারছড়া এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে ইপজেড ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইপিজেড ও বন্দর থানাধীন এলাকায় অবৈধভাবে মজুদ করে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগে তিন জন ফার্মেসি মালিককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইপিজেড ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, আর সি ড্রাগ হাউজে আইভেরা ৬ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ ৬ প্যাকেট বিক্রি করছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা করে, যার বাজার মূল্য ৭৫০ টাকা। মেসার্স গাউছিয়া ফার্মেসিতে স্ক্যাবো ৬ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৫০০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৫০ টাকা; জিঙ্ক ২০০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৫০ টাকা করে, যার বাজার মূল্য ২৫ টাকা এবং সিভিট ২৫০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধ প্রতি পাতা বিক্রি করছিল ৫০ টাকা, যার বাজার মূল্য ২০ টাকা। মেসার্স মাসুদা মেডিসিন শপে রিকোনিল ২০০ মিলিগ্রাম নামে একটি ওষুধ প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছিল ৬০০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৩৬০ টাকা; মোনাস ১০ মিলিগ্রাম নামের ওষুধের প্রতি প্যাকেট (২ পাতা) বিক্রি করছিল ১ হাজার ৫০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৪৮০ টাকা এবং অ্যাজিথ্রোসিন ৫০০ মিলিগ্রাম নামের একটি ওষুধের প্রতি প্যাকেট (৩ পাতা) বিক্রি করছিল ৬০০ টাকা, যার বাজার মূল্য ৩১৫ টাকা। অবৈধভাবে ওষুধ মজুদদারি ও অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করা ফার্মেসির বিরুদ্ধে Rab এর অভিযান চলবে বলে জানান Rab কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা
৪জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পারেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন,এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা। বিশ্বময় করোনার থাবায় বাংলাদেশে তথা চট্টগ্রামেও এর সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সংক্রমণের হিসাবে চট্টগ্রামকে কোভিড হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে যারা এই সময়ে রোগীদেরকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পক্ষে গড়িমসি করছে এবং তাদের অবহেলার কারণে রোগীরা মৃত্যুবরণ করছে, তারা আসলে শাস্তিযোগ্য কাজ করছে। আমি আশা করি বেসরকারি হাসপাতালগুলোসহ সবাই এহেন আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। তিনি বলেন, এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা। তবে অনেক ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের জীবনকে বিপন্ন করে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য কিন্তু ইদানিং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক ঢালাওভাবে হাঁচি-কাশি,জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগা রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ায় মানুষজন রাস্তাঘাটে মারা যাচ্ছেন। এগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক, প্রাইভেট বা যেকোন হাসপাতালের এ ধরণের আচরণ অগ্রহণযোগ্য। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে বেশি বেশি চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবা সহজতর করার কোন বিকল্প নেই। মেয়র জানান চসিকের উদ্যোগে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ৪ জুন সকালে উত্তর কাট্টলী হাসেম নাজির হেলথ সেন্টারে করোনা টেস্টিং বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। এসময় প্যানেল মেয়র ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, আকবর শাহ থানার আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. লোকমান আলী, আকবরশাহ ই্উনিটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নুর উদ্দিন, বিশিষ্ট শ্রমিক লীগ নেতা শফি বাঙালি, আকবরশাহ থানা সাধারণ সম্পাদক কাজী আলতাফ উপস্থিত ছিলেন। বেসরকারি সংস্থার (ব্রাক) সহায়তায় কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে উন্নত প্রযুক্তির কিওস্ক এর মাধ্যমে স্থাপিত হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা ব্রাক এসব বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে এবং সেগুলো পরীক্ষার গারে পাঠানো হবে। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আরো বলেন, আমরা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ জাতীয় ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দিচ্ছি। অবশ্যই, এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা করোনা টেস্ট বাড়াতে বাড়তি সুবিধা দেবে। এই বুথগুলো প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত গড়ে ৩০জনের নমুনা সংগ্রহ করবে। তিনি জানান, এই বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করতে জনবলও কম লাগবে। সন্দেহভাজন রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করার সময় এই বুথ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিটি নমুনা সংগ্রহ করার পর তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা মূলক সরঞ্জাম (পিপিই) বদলাতে হবে না। নগরীর বিভিন্ন স্পটে এ ধরনের মোট ৬টি নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করা হচ্ছে এবং আমরা আশা করছি শিগগিরি কোভিড-১৯ পরীক্ষাার জন্য নমুনা সংগ্রহ কাজে গতি আসবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন
৪জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে করোনা টেস্টের নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, করোনা সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। এ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে করোনাকে জয় করতে হবে। চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার পরিধি বাড়ছে উল্লেখ করে মেয়র নাছির বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ নগরীতে ছয়টি কালেকশন বুথ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কালেকশন বুথ স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের স ালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রেশমা খানম। সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস প্রেস ক্লাবে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনের মেয়রের সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য অন্তত: দুইটি আইসিইউ বেড বরাদ্দ রাখার জন্য মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী, চসিক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, ব্র্যাক প্রতিনিধি মো. হানিফ উদ্দিন প্রমুখ।
করোনায় মারা যাওয়া পুলিশের জন্য কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের সহায়তা
৪জুন,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই সদস্যের পরিবারের জন্য দুই লাখ টাকা প্রদান করেছে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের হাতে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুর পক্ষে চেক হস্তান্তর করেন জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক সফিক উল আলম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির তওফিক হোসেন ও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু বলেন, মানবতার সেবায় কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন ও আমাদের পরিবার সব সময় নিয়োজিত থাকবে। ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা ২জন পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
চট্টগ্রামে আইসিইউ সংকট, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা
৪জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন এবং আইসিইউর মারাত্মক সংকট। বর্তমানে আড়াই হাজার কোভিড রোগীর বিপরীতে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি। এ অবস্থায় চলতি সপ্তাহে অন্তত ৬০টি নিবিড় পরিচর্যা শয্যার ব্যবস্থা করা না গেলে বিপর্যয় নেমে আসার আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজার রোগীর মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগীর কোনো উপসর্গ ছিল না। ১০ শতাংশের ছিল মৃদু উপসর্গ। আর বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। আর এই ৫ শতাংশ রোগীকে নিয়েই চরম বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক হাজারের বেশি রোগী এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন নগরীর বিশেষায়িত চারটি হাসপাতালে। আর এসব রোগীদের শ্বাসকষ্ট নিবারণের জন্য প্রতিনিয়ত প্রয়োজন হয় অক্সিজেনের পাশাপাশি আইসিইউ সুবিধা। কিন্তু জেনারেল হাসপাতালের ১০টি শয্যা ছাড়া আর কোনো আইসিইউ'র ব্যবস্থা করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় মৃত্যু হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৮৩ জন। এরমধ্যে একজন চিকিৎসক'ও রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিএমএ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মইজ্জুল আকবর চৌধুরী বলেন, সমগ্র চট্টগ্রামের জন্য ২০টি আইসিইউ বেড এটা নামমাত্র ছাড়া কিছুই না। সাধারণ মানুষের চাহিদার কাছে এটা কখনও পর্যাপ্ত নয়। চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি সদস্য সচিব ডা. সুশাস্ত বড়ুয়া বলেন, অক্সিজেন যদি আমরা দিতে পারতাম। তার সাথে আইসিইউ আর ভেন্টিলেটর সাপোর্ট যদি আমরা দিতে পারতাম তাহলে চট্টগ্রামে চিকিৎসার জন্য যে হাহাকার চলছে সেটি কিছুটা হলেও মোকাবেলা করতে পারতাম। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আইসিইউ নিয়ে আমরা যে সুবিধার কথা বলেছিলাম, আসলে নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যাপার আছে। চিকিৎসক যারা আছেন তারাও পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছেন। সব আইসিইউগুলো কার্যকরী হতে আরো দুয়েকদিন সময় লাগবে। শুধু করোনা আক্রান্ত রোগীরা অক্সিজেন কিংবা আইসিইউ সংকটে ভুগছেন, তা নয়। স্বাভাবিক শ্বাসকষ্টের রোগীরাও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে এই সুবিধা পাচ্ছে না। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথে এখানকার ছোট-বড় ৫০টি প্রাইভেট ক্লিনিক চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়। অথচ অন্তত ২০টি ক্লিনিকে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর