সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন
১০এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।অভিযানকালে এলাকার কাঁচা বাজার পরিদর্শন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হয় এবং সরকারি র্নিদ্দেশনা অমান্য কারীদের জরিমানা করা হয়। আজ শুক্রুবার ১০ এপ্রিল সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় নগরীর চান্দগাও, বাকলিয়া, পাচলাইশ, খুলশি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ।অভিযানে একাধিক মামলায় ৫০০০( পাঁচ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়। বিনা প্রয়োজনে বাইরে আসা, যে সকল দোকান খোলার অনুমতি নেই তা খোলা রাখা ও লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চালানোর জন্য মামলাগুলো করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান নগরীর ডবলমুরিং,বন্দর,ইপিজেড,পতেঙ্গা এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন । অভিযানকালে এসব এলাকার কাঁচা বাজার পরিদর্শন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হয়। এ সময়ে কাটগড় এলাকায় দুইটি ফার্ণিচারের দোকানকে অবৈধভাবে খোলা রেখে কেনাবেচা করার দায়ে যথাক্রমে ২০০০ ও ১০০০ টাকা এবং একটি ইলেকট্রনিকসের দোকানকে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পতেঙ্গা থানা সংলগ্ন কাঁচা বাজারটি মনিটরিং করার সময় সঠিকভাবে সমাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে এক দোকানদারকে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।এছাড়া পথচারীদেরকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়। যৌক্তিক কারন ছাড়া পথেঘাটে ঘুরাঘুরির কারণে কয়েকজন পথচারীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু দোকানের সামনে জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণে সচেতন করে দেওয়া হয়। এছাড়াও জুমার নামাজে অতিরিক্ত গণজমায়েতকে নিরুৎসাহিত করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক পাহাড়তলী, হালিশাহ ও আকবরশাহ, চকবাজার,কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ।এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বেধে দেয়া প্রতিকার ব্যবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রতিপালনের জন্যে অনুরোধ করা হয়।আকবরশাহ ও পাহাড়তলী এলাকার বস্তিতে অলিগলিতে মাইকিং এর মাধ্যমে তাদের ঘরে ফেরানো হয়।এ কে খান এলাকায় মিনি বাস চালক ও হেল্পারদের গাড়ী না চালানোর জন্যে আহবান জানানো হয়।অত্র এলাকায় ত্রান দেয়ার সময় মানুষের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করা হয়। ওএমএস এর চাল বিক্রয়ে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ব্যবস্থাপনার জন্যে পরামর্শ প্রদান। অভিযানে ৮ টি মামলায় ৪৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম নগরীর চান্দগাও, পাচলাইশ, খুলশী থানায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন । অভিযানকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ১ টি মামলায় একজনকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ শিকদার ডবলমুরিং, বাকলিয়া এলাকায় বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ ঘটিকা পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন । অভিযানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার দায়ে ৫ টি মামলায় ৫ জনকে সর্বমোট ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আরো কয়েকটি টিম এখনো চলমান রয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসনের জনসংযোক কর্মকর্তা ।
চট্টগ্রামে পুলিশে পেটাল স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিককে,নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ
১০এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:গলায় ঝুলানো ছিল পরিচয়পত্র, তবুও লকডাউনের নামে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাল সাংবাদিককে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকের স্বাস্থ্যকর্মী ভাইকেও পেটাল পুলিশ। অথচ লকডাউন বিধিনিষেধের আওতায় নেয় দুজনের একজনও। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার কুয়াইশ বুড়িশ্চর এলাকায়। হাটহাজারী থানার কনেস্টেবল জাহাঙ্গীর সড়কের উপর তাদের দুজনকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে আহত হয়েছেন দুজনেই। এরা হলেন, দৈনিক যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যূরোর স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন রকি ও তার ছোট ভাই নগরীর এপিক হেলথ কেয়ার হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী সাইফুদ্দিন। সাংবাদিক নাসির উদ্দিন রকি জানান, ছোট ভাই ও আমি মোটরসাইকেলে করে রাউজানের বাড়ি থেকে যার যার কর্মস্থলে যাচ্ছিলাম। দুজনের গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো ছিল। কিন্তু কুয়াইশ এলাকায় পৌঁছালে হাটহাজারী থানার কনস্টেবল জাহাঙ্গীর অতর্কিতভাবে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। রকি বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদপত্র ছুটির আওতামুক্ত থাকার বিষয়টি জানানোর পরও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর লাঠিচার্জ করে। বিষয়টি আমি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও হাটহাজারী থানার ওসিকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপার যোগাযোগ করা হলে হাটহাজারী থানার ওসি মো. মাসুদ আলম বলেন, উনি যে সাংবাদিক সেটা চিনতে না পারায় ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। সাংবাদিক নাসির উদ্দিন রকির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ থেকে চলমান সাধারণ ছুটি সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের জন্য প্রযোজ্য হবে। স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য জরুরি প্রতিষ্ঠান চলবে। এমন আদেশ জারি করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। এছাড়া ৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে ছুটি দেওয়া হয়েছে তাতে জরুরি সেবাসহ সংবাদপত্র এর আওতামুক্ত থাকবে। এরপরও দায়িত্বরত সাংবাদিককে পুলিশের পেটানোর ঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সাংবাদিক মহরম হোসাইন এর উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নওশাদ গ্রেফতার
১০এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহানগরীর কোতোয়ালী থানার বক্সিরহাট এলাকায় ব্যবসায়ী নামধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় সাংবাদিক মুহাম্মদ মহরম হোসাইন আহত হওয়ার মামলায় আরও এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম নওশাদ আলী খান।বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে জেলরোড় বদপাতি এলাকা থেকে নওশাদ আলী খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালীর ওসি মো. মহসীন। তিনি জানান, সাংবাদিক মহরম আলীর উপর হামলার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ৩ নং আসামী নওশাদ আলী। হামলার পরপরই এ আসামী পালিয়ে গেছিল।উল্লেখ্য-পণ্যের দাম বেশি কেন রাখা হচ্ছে জানতে চাওয়ায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল বিকেলে) বক্সিরহাট এলাকায় চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক মুহাম্মদ মহরম হোসাইন (৩৪) এ উপর হামলা ব্যবসায়ী নামধারী দুর্বৃত্তরা।এ ব্যাপারে ৩ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা করে হামলার শিকার সাংবাদিক। ঘটনার পরপরই পুলিশ স্বপন কুমার সাহা (৫২) নামেএক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছিল।চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ মহরম হোসাইনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএফইউজের নেতৃবৃন্দ। হামলার ঘটনায় দায়ী সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরো কঠোর ভূমিকা নেয়ার দাবি জানান তাঁরা।
হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের মনিটরিং করার জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু করল সিএমপি
0৯এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি ও বিদেশ হতে আগত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণের কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য INOVACE TECHNOLOGIES (https://inovacetech.com) এর সহায়তায় নিরাপদ-Stay Home, Stay Safe নামীয় মোবাইল অ্যাপ চালু করল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ । আজ দুপুর ২টায় দামপাড়াস্হ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দফতর এর কনফারেন্স হলে এই অ্যাপটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম । এই অ্যাপ জিও ফেন্সিং টেকনোলজির মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান নিশ্চিত করবে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানের বাহিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে উক্ত ব্যক্তিকে নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে সতর্ক করবে এবং ওয়েব ভিত্তিক এ্যাডমিন প্যানেল এর মাধ্যমে থানার মনিটরিং ইউনিটকে তাৎক্ষনিক তথ্য প্রদান করবে। যার ফলে হোম কোয়ারেন্টিন মনিটরিং কার্যক্রম তাৎক্ষনিক, কার্যকর এবং সময় সাশ্রয়ী হবে। এই অ্যাপ ব্যবহারের ফলে পুলিশ সদস্যদের সংস্পর্শজনিত কারণে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস করবে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৬টি থানায় এটির কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই অ্যাপ এবং ওয়েব বেইজড সিস্টেম (থানা ভিত্তিক মনিটরিং কার্যক্রম) এর কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। উল্লেখ্য, এই অ্যাপ এর আওতায় বর্তমানে ৪১ জন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে মনিটরিং করা হচ্ছে। INOVACE TECHNOLOGIES জনস্বার্থে বিনামূল্যে এই অ্যাপ সেবাটি প্রদান করছে। অ্যাপ এর নাম নিরাপদ - Stay Home, Stay Safe গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড লিংক, https://play.google.com/store/apps/details, Short link : https://bit.ly/3b38Pmd, অ্যাপটি উদ্বোধনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার) সহ বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার গন এবং INOVACE TECHNOLOGIES এর কর্মকর্তাবৃন্দ।
সাতকানিয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রতিবন্ধী তরুণের মৃত্যু
0৯এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক প্রতিবন্ধী তরুণের (২৩) মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে সে নিজ বাড়িতে মারা যায়। বৃহস্পতিবার সকালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল কবির জানান, প্রতিবন্ধী ছেলেটি গত চার-পাঁচ দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কিন্তু তার পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাননি।নয়া দিগন্ত। এ অবস্থায় গত বুধবার রাত ১০টার দিকে প্রতিবন্ধী যুবকটির মৃত্যু হয়। এ খবর জানাজানি হলে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদ ওসমানী জানান, আমরা মৃত ছেলেটির পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন ছেলেটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে এনেছেন।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর-এ-আলম জানান, সতর্কতার সাথে নিহত তরুণের লাশ দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা
0৯এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভোগ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেড়েছে ডাল ও তেলের দাম। পাইকারদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে এসব পণ্য সরবরাহ করছেন না মিল-মালিকরা। তাই, মিল পর্যায়ে নজরদারি না বাড়ালে দামে আরো অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। অনেকটা আগের মতো চিরচেনা রুপে দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারী বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। যেখানে যানবাহনের সারি আর মানুষের আনাগোনায় বোঝাই দায়, করোনার কারণে স্থবির জনজীবন। করোনার এই সময়ে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমলেও সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রান বিতরণের কারণে বেড়ে গেছে মসুরডাল আর তেলের চাহিদা। সেইসাথে বেড়ে গেছে দামও। তাতে, আগের তুলনায় মোটা দানার মসুর ডাল কেজিতে দশ থেকে পনেরো টাকা আর ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে লিটারপ্রতি দুই থেকে চারটাকা। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বেশী থাকার সুযোগে তেল মিল মালিকরা সংকট দেখিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছেন দাম। আর অনেক ডালমিল বন্ধ থাকায় নেই ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ। তাতে, বাড়তি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে এসব পণ্য। তবে, পেয়াজ, রসুন আদাসহ অন্যসব ভোগ্যপণ্যের দাম আছে স্থিতিশীল। সরবকরাহও আছে পর্যাপ্ত। তেল ডালসহ বেড়ে যাওয়া নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে এখনই সরকারের নজরদারি চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ভালবাসার থলে উপহার দিলেন ৬৩ জনকে
0৯এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীপেশার মানুষের পাশাপাশি নিম্ন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী ও অল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ বিপদগ্রস্ত। দরিদ্র এবং নিম্নবিত্তদের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সাহায্য করছে। কিন্তু বিপাকে আছেন করোনার কারণে একেবারে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থাকা নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এ দুই শ্রেণির মানুষরা সাধারণত খুব ছোট আকারের চাকরি, ব্যবসাসহ নানান সীমিত আয়ের পেশায় নিয়োজিত। শিক্ষিত সমাজের এ অংশটি অর্থকষ্টে ভুগলেও সামাজিক মান মর্যাদা ও লোকলজ্জার কারণে তাদের অভাবের বিষয়ে কারও কাছে তা প্রকাশ করতে পারছেন না। কারো কাছে সাহায্যও চাইতে পারছেন না। এমন সব মানুষের পরিবারকে ''ভালবাসার থলে'' উপহার দিয়ে প্রতিদিন নিরবে সাহায্য করে যাচ্ছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমীন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৭টায় হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বর্নের দোকানের কারিগর সমিতি এবং হাটহাজারী কার-মাইক্রো সমিতি'র ৬৩ জন সদস্যকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভালবাসার থলে উপহার দেন ইউএনও রুহুল আমীন। ত্রাণসামগ্রী পেয়ে তারা ইউএনও রুহুল আমীন এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দরিদ্রদের সাহায্য করছেন। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত সব পরিবারের কথা চিন্তা করে তাদের সহযোগিতায় সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। খাবারের অভাবে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে তার জন্য আমরা গোপনীয়তা রক্ষা করে ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন না করে রাতের মধ্যেই তাদেরকে খাদ্যসামগ্রীর ভালবাসার থলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করা হয়। এমনকি ত্রাণ দেয়ার সময় ছবিও তুলতে দেয়া হয়নি যাতে তাদের ছবি মিডিয়ায় না আসে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে অনুগ্রহ করে আপনারা নিজ বাড়িতে থাকুন। কারও খাবার প্রয়োজন হলে আমরা আপনার বাড়িতে পৌঁছে দেব।
RAB এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৪২ মামলায় ৮০ হাজার টাকা জরিমানা
0৯এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাবিশ্ব জুড়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে RAB-7। পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পরা দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষকে খাদ্য সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে।এদিকে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪২ টি মামলায় ৮০,১০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। গতকাল বুধবার ৮ এপ্রিল দিনব্যাপী জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তায় নগরীর চাঁন্দগাও, খুলশী, হালিশহর, পাহাড়তলি, পতেঙ্গা ও হাটহাজারী থানা এলাকায় চারটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।এসময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিল। অভিযানে বিভিন্ন দোকান,প্রতিষ্ঠান্অকারনে রাস্তায় ঘুরাঘুরি ও বিনা প্রয়োজনে মোটর সাইকেল চালানো ও দ্রব্য মুল্যের দাম বৃদ্ধির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪২ টি মামলায় ৮০,১০০ টাকা জরিমানা করে।এছাড়াও RAB-7 অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব নিশিত করার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। RAB-7 এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান জুয়েল, পিএসসি জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে RAB-7। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মানুষকে সতর্ক হচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে গতকাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তায় চারটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন অপরাধে ৪২ টি মামলায় ৮০,১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে। RAB-7এর সহকারী পরিচালক এ এস পি কাজী মোঃ তারেক আজিজ বলেন,করোনা ভাইরাসের কারনে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আমরা নগরীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় টহল জোরদার করেছি। নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখা ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য গতকাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তায় চারটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে। RAB-7 এর সহকারী পরিচালক এ এস পি মাশকুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে ।এছাড়াও RAB-7 অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব নিশিত করার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। RAB-7এর সহকারী পরিচালক( মিডিয়া) এ এস পি মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, গতকাল RAB-7 জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তায় নগরীর চাঁন্দগাও, খুলশী, হালিশহর, পাহাড়তলি, পতেঙ্গা ও হাটহাজারী থানা এলাকায় চারটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।এসময় ৪২ টি মামলায় ৮০,১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও RAB-7 সামাজিক দূরত্ব নিশিত করার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
লকডাউনে থাকা পরিবার পালিয়ে লোহাগাড়ায় ,বাড়ি লকডাউন
0৮এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দার হাট এলাকায় লকডাউনে থাকা ৪ সদস্যের ভাড়াটিয়ারা বাসা থেকে কৌশলে লোহাগাড়ায় নিজ বাড়িতে চলে আসায় বাড়িটি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বুধবার সকালে ওই সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌছিফ আহমেদ বাড়িটি লকডাউন করে দেন। জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দার হাট এলাকায় নাজির কমিশনারের বিল্ডিং করোনায় আক্রান্তে একজনের মৃত্যু হলে উক্ত ভাড়াটিয়া বিল্ডিং লকডাউন করে দেন। সেখানে ভাড়াটিয়া বাসায় থাকতেন লোহাগাড়ার রশিদার পাড়ার ইদ্রিসসহ পরিবারের ৪সদস্য। তারা চট্টগ্রামের বাসা থেকে কৌশলে তাদের নিজ বাড়িতে চলে আসেন। খবর পেয়ে রশিদার পাড়াস্হ বাড়িটি লকডাউন করে লাল পতাকা টানিয়ে দেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ।মানবজমিন। তাৎক্ষণিক তাদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার প্রদান করা হয়। ওইসময় উপস্হিত ছিলেন কক্সবাজার-১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট এনায়েত কবির ও লোহাগাড়া থানার এসআই মুহাম্মদ মাহফুজ। এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ বলেন, উপজেলার রশিদার পাড়া একই পরিবারের ৪জন চট্টগ্রাম নগরীতে বহদ্দার হাট এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় থাকতেন। ওই বিল্ডিং লকডাউন থাকা অবস্হায় গত ২দিন পুর্বে তারা কৌশলে বাড়িতে চলে আসে। আমরা খবর পেয়ে বাড়িটি লকডাউন করে দিই।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর