চট্টগ্রামে ছবি তুলে ত্রাণ কেড়ে নেওয়া ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ত্রাণ বিতরণের ছবি তুলে সেই ত্রাণ কেড়ে নিয়ে দরিদ্র মানুষদের মারধর করা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বরখাস্ত বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। খবর ইউএনবি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কেন তাকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবেনা আগামী একশ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। গত ০৬ এপ্রিল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ২৬টি অসহায় পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করে ছবি তোলার পর সেই ত্রাণ কেড়ে নেয়। ঘটনার প্রতিবাদ করে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হন অসহায় পরিবারের সদস্যরা। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা রুহুল আমীন জানান, চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমানিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে নুরুল আবছার বলেন, তাকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
করোনায় চট্টগ্রামে প্রথম মৃত্যু
১২এপ্রিল,রবিবারনিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:করোনায় প্রথম মৃত্যু দেখলো চট্টগ্রামবাসী। ৬৯ বছর বয়সী মৃত ওই ব্যক্তির নাম সিরাজুল ইসলাম। চট্টগ্রামে প্রথম করোনা আক্রান্ত তিনি। চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়া এলাকায় মেয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আলী নগরের ইছামতি এলাকায়। তিনি একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। আজ রোববার সকালে এ তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় শনিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। একই হাসপাতালে তার ছেলেও আইসোলেশনে রয়েছেন বলেন জানান সিভিল সার্জন।মানবজমিন। সিভিল সার্জন বলেন, আইসোলেশনে থাকা ওই ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ওমরা ফেরত মেয়ের সংস্পর্শে ছিলেন। মেয়ের সঙ্গে নগরীর দামপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ৩রা এপ্রিল সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আসেন। এর আগে তিনি নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩রা এপ্রিল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিআইটিআইডিতে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলে ন্যাশনাল হাসপাতালের তিন চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের ছেলে-মেয়েসহ ২৫ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এছাড়া দামপাড়ায় নিজেদের থাকা ভবনসহ ৬ বাড়ি এবং সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে তার নিকটাত্মীয়দের ১৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়। পরে ৫ই এপ্রিল তার ছেলের নমুনা পরীক্ষায়ও করোনা শনাক্ত হয়। ফলে তাকেও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে নেয়া হয়। এ অবস্থায় শনিবার রাতে সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু ঘটে। সিভিল সার্জন জানান, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় এ পর্যন্ত লক্ষীপুরের একজনসহ ১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাবা ও ছেলে ছাড়া গত ৮ই এপ্রিল তিনজন, ৯ই এপ্রিল ২ জন এবং ১০ই এপ্রিল ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুজন নগরীর হালিশহরের শাপলা আবাসিক এলাকা ও সাগরিকা এলাকায় থাকেন। একজন ফিরিঙ্গিবাজারের শিববাড়ি লেইন ও আরেকজন আকবরশাহ থানার ইপাহানি গেট গোলপাহাড় এলাকার বাসিন্দা।
চট্টগ্রামে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান
১১এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:বিশ্ব জুড়ে ছরিয়ে পড়া করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদান, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীদের সচেতন করা, অতীব জরুরি প্রয়োজন এ বিভিন্ন যানবাহনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বের হওয়ার নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। অাজ শনিবার ১১ এপ্রিল সকাল ৯.৩০ হতে ২.৩০ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন ডবলমুরিং,বন্দর,ইপিজেড ও পতেঙ্গার আদালতে র আবাসিক এলাকা ও বাজারে করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীদের সচেতন করা হয়। অতীব জরুরি প্রয়োজন এ বিভিন্ন যানবাহনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বের হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এসময় হার্ডওয়ার ও ইলেকট্রনিক্স পন্যের দোকান, টেইলার্স দোকান খোলা থাকায় ৫ টি পৃথক মামলায় ১২,০০০ (বার হাজার )টাকা জরিমানা করা হয়। নগরীর বায়েজিদ, সদরঘাট, কতোয়ালী ও চকবাজার এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রামক প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে বাজার মনিটরিং এর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর। এসময় সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন -২০১৮ এ মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপরোক্ত আইনে ৬টি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় ৬,৪০০(ছয় হাজার ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আকবরশাহ,পাহাড়তলী ও হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম- কোয়ারেন্টেন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বেধে দেয়া প্রতিকার ব্যবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রতিপালনের জন্যে অনুরোধ করা হয়।আকবরশাহ ও পাহাড়তলী এলাকার বস্তিতে অলিগলিতে মাইকিং এর মাধ্যমে তাদের ঘরে ফেরানো হয়।এ কে খান এলাকায় মিনি বাস চালক ও হেল্পারদের গাড়ী না চালানোর জন্যে আহবান জানানো হয়।অত্র এলাকায় ত্রান দেয়ার সময় মানুষের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করা হয়। টিসিবি এর পণ্য বিক্রয়ে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ব্যবস্থাপনার জন্যে পরামর্শ প্রদান। অপ্রয়োজনে বাইরে আসায় ১৩ টি মামলায় ১৩ জনকে ২৮৫০(দুই হাজার আটশত পঞ্চাশ ) টাকা জরিমানা করা হয়। এবং কয়েকজনকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান অভিযান চালায় বাকলিয়া, পাচলাইশ, খুলশী, চান্দগাও এলাকায়। অভিযানে ৫ টি মামলায় ১৮,৫০০(আঠার হাজার পাঁচ শত) জরিমানা করা হয়। অনুমতি না থাকলেও দোকানের শাটার কিঞ্চিৎ খোলা রেখে ভিতরে ব্যবসা পরিচালনা করায় এবং দোকানে লোক সমাগম থাকায় শোলক বহর বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ কে ৫০০০(পাঁচ হাজার ) টাকা, পুরাতন চান্দগাও আল রিয়াদ গ্লাস হাউস কে ১০,০০০ (দশ হাজার )টাকা, নেপাল ইলেক্ট্রনিকস কে ১০০০ (এক হাজার )টাকা জরিমানা করা হয়। বহদ্দার হাট পুলিশ বক্সের সামনে চায়ের দোকান খোলা রাখায় দোকানের মালিক দীলিপ বনিক কে ২০০০(দুই হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হয়ায় মনসুর নামে একজন কে ৫০০(পাঁচ শত) টাকা জরিমানা করা হয়। বাজারসহ যেখানেই লোক সমাগম দেখা যায় সেখানে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। বিভিন্ন পয়েন্ট যানবাহান মনিটর করা হয় কেউ অপ্রয়োজনে বের হয়েছে কিনা বা পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন করছে কি না। এছাড়া আরো চারটি পৃথক টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
চট্টগ্রামে আরও ৩ জনের করোনা শনাক্ত
১১এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজএকাত্তরডটকম:ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় আরও ৩ জনের শরীরের করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ২ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ১ জন। এনিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ জন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। আক্রান্তদের একজনের বাড়ি পাহাড়তলীর সিডিএ মার্কেট এলাকায়, অন্যজনের বাড়ি সাতকানিয়া আলী নগরের ইছামতি এলাকার। এছাড়া তৃতীয় জনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দানপাড়া কোদাল বাড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, এরআগে চট্টগ্রামে ৭ জন করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ৫ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এবং ২ জন বিআইটিআইডি তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনার শনাক্তের পরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার প্রতিটিতে ৫ সদস্যের কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত
১১এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কের মাঝে অজ্ঞাতপরিচয় লাশ দাফনের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম। নগরীর ১৬ থানার প্রতিটিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫ সদস্যের বিশেষ টিম। এদের প্রত্যেকেই পিপিই পরিহিত অবস্থায় সুরক্ষিত থাকার প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ইউনিফর্মের উপরেই পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট পরছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। অথচ প্রয়োজন ব্যতীত চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ছাড়া অন্যদের পিপিই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায় শনাক্ত হওয়া এক করোনা রোগীর বাসা লকডাউন করার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এই কুইক রেসপন্স টিমের মূল কাজ। এখন থেকে নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় পাওয়া যাবে এই টিমের জরুরি সেবা-এমনটিই জানালেন সিএমপির এই উপ কমিশনার। সিএমপি উপ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, রাস্তায় কেউ অসুস্থ বা মরে পড়ে থাকলে সেখানে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসবে। এদিকে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে বাজারগুলো থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাই কাঁচাবাজারগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে সেনা বাহিনীর টহল টিম।
চট্টগ্রামে গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় এগিয়ে এলো কেএসআরএম
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) দিয়ে এগিয়ে এলো ইস্পাত নির্মাণকারী শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন চট্টগ্রামর সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতার হাতে কেএসআরএমের পক্ষে এসব পিপিই তুলে দেন প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের ব্যুরো প্রধান মাসুদুল হক। এ প্রসঙ্গে কেএসআরএমের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের সংকট ও সমস্যায় এগিয়ে আসে কেএসআরএম। সেই ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে দেশের বৃহত্তর ইস্পাত প্রস্তুতকারী শিল্পগ্রুপ কেএসআরএম। সাংবাদিকরা দেশের যেকোনো যুদ্ধ, বিগ্রহ ও দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সঠিক তথ্য ও পরিস্থিতি তুলে ধরেন জাতির সামনে। নানা প্রতিকূলতায় তাদেরকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। অথচ বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে যেখানে পুরো বিশ্ব থমকে আছে, ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন পরিস্থিতিতেও গণমাধ্যমকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে ঘটনার পেছনে ছুটছে নিরন্তর। তাই তাদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে কেএসআরএমের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান। মূলত তাঁর উদ্যোগ ও আন্তরিকতায় এ অঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এসব পিপিই দেওয়া হয়েছে। টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন চট্টগ্রামর সভাপতি ও বাংলাভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান নাসির উদ্দিন তোতা বলেন, করোনা পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি কেমন হবে তা অনুমান করা যাচ্ছে না। দিনদিন পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে লাশের মিছিল। কিন্তু এ অবস্থায়ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঘরে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সকাল সন্ধ্যা ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করতে হচ্ছে। দেশের যেকোনো পরিস্থিতির আপডেট কিন্তু আমরাই দিয়ে থাকি। প্রতিনিয়ত আমাদের পেশাগত ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে কেএসআরএম অন্যতম। অতীতেও আমরা আমাদের যেকোনো প্রয়োজনে কেএসআরএমকে পাশে পেয়েছি। আমরা আশা করছি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি এমন আন্তরিক সহযোগিতা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলায় বিএফইউজে'র নিন্দা
১০এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তরডটকম:করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম জরুরি সেবার আওতায় থাকলেও কতিপয় অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্য পরিচয় পাওয়া সত্বেও সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ করছেন। আজ শুক্রবার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন রকির উপর পুলিশ কনস্টেবল জাহাঙ্গীরের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ের নেতৃবৃন্দ। আজ শুক্রবার সংগঠনটির সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, নির্বাহী সদস্য রুবেল খান, নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ঘোষিত লকডাউনে প্রশাসন ও পুলিশ দিনরাত পরিশ্রম করলেও তাদের গুটিকয়েক কর্মকর্তা কমর্চারীর কারণে প্রশাসনের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দৈনিক আজাদীর একজন পিয়নও পুলিশি হামলার শিকার হন। এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের জন্য চরম উদ্বেগের। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং আগামীতে যাতে এই ধরণের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করার দাবি জানাোনা হয় বিবৃতিতে।
সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন
১০এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।অভিযানকালে এলাকার কাঁচা বাজার পরিদর্শন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হয় এবং সরকারি র্নিদ্দেশনা অমান্য কারীদের জরিমানা করা হয়। আজ শুক্রুবার ১০ এপ্রিল সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় নগরীর চান্দগাও, বাকলিয়া, পাচলাইশ, খুলশি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ।অভিযানে একাধিক মামলায় ৫০০০( পাঁচ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়। বিনা প্রয়োজনে বাইরে আসা, যে সকল দোকান খোলার অনুমতি নেই তা খোলা রাখা ও লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চালানোর জন্য মামলাগুলো করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান নগরীর ডবলমুরিং,বন্দর,ইপিজেড,পতেঙ্গা এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন । অভিযানকালে এসব এলাকার কাঁচা বাজার পরিদর্শন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হয়। এ সময়ে কাটগড় এলাকায় দুইটি ফার্ণিচারের দোকানকে অবৈধভাবে খোলা রেখে কেনাবেচা করার দায়ে যথাক্রমে ২০০০ ও ১০০০ টাকা এবং একটি ইলেকট্রনিকসের দোকানকে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পতেঙ্গা থানা সংলগ্ন কাঁচা বাজারটি মনিটরিং করার সময় সঠিকভাবে সমাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে এক দোকানদারকে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।এছাড়া পথচারীদেরকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়। যৌক্তিক কারন ছাড়া পথেঘাটে ঘুরাঘুরির কারণে কয়েকজন পথচারীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু দোকানের সামনে জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণে সচেতন করে দেওয়া হয়। এছাড়াও জুমার নামাজে অতিরিক্ত গণজমায়েতকে নিরুৎসাহিত করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক পাহাড়তলী, হালিশাহ ও আকবরশাহ, চকবাজার,কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ।এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বেধে দেয়া প্রতিকার ব্যবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রতিপালনের জন্যে অনুরোধ করা হয়।আকবরশাহ ও পাহাড়তলী এলাকার বস্তিতে অলিগলিতে মাইকিং এর মাধ্যমে তাদের ঘরে ফেরানো হয়।এ কে খান এলাকায় মিনি বাস চালক ও হেল্পারদের গাড়ী না চালানোর জন্যে আহবান জানানো হয়।অত্র এলাকায় ত্রান দেয়ার সময় মানুষের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করা হয়। ওএমএস এর চাল বিক্রয়ে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ব্যবস্থাপনার জন্যে পরামর্শ প্রদান। অভিযানে ৮ টি মামলায় ৪৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম নগরীর চান্দগাও, পাচলাইশ, খুলশী থানায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন । অভিযানকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ১ টি মামলায় একজনকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ শিকদার ডবলমুরিং, বাকলিয়া এলাকায় বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ ঘটিকা পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন । অভিযানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার দায়ে ৫ টি মামলায় ৫ জনকে সর্বমোট ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আরো কয়েকটি টিম এখনো চলমান রয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসনের জনসংযোক কর্মকর্তা ।
চট্টগ্রামে পুলিশে পেটাল স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিককে,নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ
১০এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:গলায় ঝুলানো ছিল পরিচয়পত্র, তবুও লকডাউনের নামে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাল সাংবাদিককে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকের স্বাস্থ্যকর্মী ভাইকেও পেটাল পুলিশ। অথচ লকডাউন বিধিনিষেধের আওতায় নেয় দুজনের একজনও। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার কুয়াইশ বুড়িশ্চর এলাকায়। হাটহাজারী থানার কনেস্টেবল জাহাঙ্গীর সড়কের উপর তাদের দুজনকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে আহত হয়েছেন দুজনেই। এরা হলেন, দৈনিক যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যূরোর স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন রকি ও তার ছোট ভাই নগরীর এপিক হেলথ কেয়ার হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী সাইফুদ্দিন। সাংবাদিক নাসির উদ্দিন রকি জানান, ছোট ভাই ও আমি মোটরসাইকেলে করে রাউজানের বাড়ি থেকে যার যার কর্মস্থলে যাচ্ছিলাম। দুজনের গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো ছিল। কিন্তু কুয়াইশ এলাকায় পৌঁছালে হাটহাজারী থানার কনস্টেবল জাহাঙ্গীর অতর্কিতভাবে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। রকি বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদপত্র ছুটির আওতামুক্ত থাকার বিষয়টি জানানোর পরও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর লাঠিচার্জ করে। বিষয়টি আমি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও হাটহাজারী থানার ওসিকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপার যোগাযোগ করা হলে হাটহাজারী থানার ওসি মো. মাসুদ আলম বলেন, উনি যে সাংবাদিক সেটা চিনতে না পারায় ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। সাংবাদিক নাসির উদ্দিন রকির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ থেকে চলমান সাধারণ ছুটি সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের জন্য প্রযোজ্য হবে। স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য জরুরি প্রতিষ্ঠান চলবে। এমন আদেশ জারি করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। এছাড়া ৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে ছুটি দেওয়া হয়েছে তাতে জরুরি সেবাসহ সংবাদপত্র এর আওতামুক্ত থাকবে। এরপরও দায়িত্বরত সাংবাদিককে পুলিশের পেটানোর ঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর