বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
ইমার্জেন্সি রোগীর ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে যাত্রী পরিবহনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
২৩মে,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীতে ইমার্জেন্সি রোগী স্টিকার লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে মাইক্রোবাস সমুহ। গন পরিবহন বন্ধ এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে এই সকল সুযোগ সন্ধানীরা। আইনশিংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত এই ভাবে যাত্রী পরিবহণ করছে। এছাড়া মোটরবাইকে করেও প্রতিনিয়ত যাত্রী পরিবহন করছে। শাহ আমানত সেতুর এপাশ থেকে মইজ্জারটেক পর্যন্ত জনপ্রতি ৫০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করছে। সেই সাথে কিছু মাইক্রোবাস ইমার্জেন্সি রোগীর স্টিকার লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। এমন অভিযোগে শাহ আমানত এলাকায় মাইক্রোবাস আটক করে চালককে জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার ২৩ মে সকালে শাহ আমানত সেতু এলাকায় সিএমপির পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, এখানে এসে ইমারজেন্সি রোগী- স্টিকার লাগানো একটি মাইক্রোবাস দেখে সন্দেহ হয়। পরে মাইক্রোবাসটি তল্লাশী করে দেখা যায়, সবাই যাত্রী, কোন রোগী নেই। শাহ আমানত সেতুর শুরুতে ট্রাফিক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে মাইক্রোবাসটি শাহ আমানত ব্রীজের মাঝপথে আসলে চালক এবং যাত্রীদের প্রতারণার বিষয়টি আমাদের চোখে ধরা পড়ে। তিনি আরও জানান, এছাড়া দেখা যায় কিছু লোক মোটরবাইকে করে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান এবং কক্সবাজার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে ১৫ টি মোটরবাইকের চাবি জব্দ করে যাত্রীদেরকে নিজ নিজ বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পথশিশুদের মাঝে ইকো র নতুন জামা কাপড় বিতরণ
২৩মে,শনিবার,মুহাম্মদ মহরম হোসাইন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে আজ ২৩ মে ২০২০ ইং শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি, ওয়াসা, ইস্পাহানি মোড়, কাজির দেউরী, জুবলী রোড ও আশপাশের এলাকায় ৩০০ জন সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে নতুন জামা কাপড় বিতরণ করেছে বেসরকারি সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থা-ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান অপিনিয়ন (ইকো)। এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইকোর সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, সম্পাদক ড. ওমর ফারুক রাসেল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এস এম আবু ইউসুফ সোহেল, চবির শিক্ষক কাজেমুর নূর সোহাদ প্রমূখ। পথ শিশুদের মাঝে ঈদেও নতুন জামা-কাপড় বিতরণকালে ইকোর সম্পাদক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের এসময় পথশিশুরা এমনি অনেক মানবেতর জীবন যাপন করছে। এর পরও ঈদের আনন্দ শুধু নিজের জন্য নয় বরং সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নেয়ার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা আসে। পথ-শিশুরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে পথ-শিশুরা বিভিন্ন ধরনের অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সুদৃষ্টির অভাবে এরা বরাবরই আনন্দ খুশি থেকে বঞ্চিত থাকে। সমাজের উচ্চবিত্তদের সামান্য সহযোগিতায় সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা আনন্দ উৎসবের অংশীদার হতে পারে। দেশে প্রতিটি উৎসবে-পার্বণে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের করুণ চাহনি দেখতে হয়। এ দৃশ্য বড় বেদনাদায়ক ও অমানবিক। আমাদের সকলের উচিৎ এই বেদনাদায়ক দৃশ্যকে আনন্দময় দৃশ্যে পরিণত করা। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ইকো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে।
ফরিদ মাহমুদের ঈদের শুভেচ্ছা, এবারের অন্যরকম ঈদ মানবতার সর্বোচ্চ পরীক্ষা
২৩মে,শনিবার,মুহাম্মদ মহরম হোসাইন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব ফরিদ মাহমুদ নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেছেন, আমাদের প্রজন্মের ইতিহাসে এবার এক অন্যরকম ঈদ এসেছে সবার জীবনে। বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এবার সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, মেনে চলতে হবে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবার ঈদের অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা যেমন নতুন কাপড় পরে, ঈদ জামাতে কোলাকুলি কিংবা কদমবুচির মতো বিষয় থেকে আমাদের এবার দূরে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারাটাই ঈদ আনন্দ এবং দেশ ও মানুষের প্রতি বড় দায়িত্ব। একই কারণে এবারের ঈদই হচ্ছে আমাদের জীবনের জন্য মানবতা দেখানো ও সচেতন থাকার সর্বোচ্চ পরীক্ষা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জাতিকে সংক্রমণ থেকে রক্ষায় এবং সব মানুষের আহার-নিদ্রা নিশ্চিত করার জন্য। ঈদের সময় আমরা নিজেকে সুরক্ষিত রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকে সফল করব এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবো। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমরা মানবতার যে শিক্ষা পেয়েছি তাতে প্রতিটি মানুষ আরও পরিশুদ্ধ হয়েছেন, আরও মানবিক হয়ে উঠেছেন, ভবিষ্যতে এটাই আমাদের সুন্দরের পথ দেখাবে। করোনা পরিস্থিতির এই দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েই চলেছেন, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তার নেতৃত্বে সমাজের অগ্রভাগে থেকে সারাদেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সিভিল প্রশাসন, সাংবাদিকরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে গর্বে বুক ভরে ওঠে। সংকটে পড়া মানুষকে সাহায্য করতে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তার মনবতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা এবং যারা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের জন্য শুভ কামনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা, পৃথিবীর এই অসুখ দ্রুত সেরে যাক, আঁধার কেটে নতুন দিন ফিরে আসুক। ঈদ মোবারক।
মূল্য তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
২৩মে,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভা, কলেজগেট, বাড়বকুণ্ড বাজার, কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা বাজার ও রয়েল গেট পরীর রাস্তা এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আইনগত নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় ১০টি মামলায় ৩৮০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। আজ শনিবার ২৩ মে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সিএমপির সহায়তায় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভা, কলেজগেট, বাড়বকুণ্ড বাজার, কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা বাজার ও রয়েল গেট পরীর রাস্তা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মূল্য তালিকা না থাকা, মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অপরাধে সীতাকুণ্ড পৌর বাজারের একটি মুদি দোকানকে ৫০০০ টাকা এবং বড় কুমিরা বাজারের ইদ্রিছ স্টোরকে ৮০০০ টাকা ও রয়েল গেট পরীর রাস্তার একটি মুদি দোকানকে ২৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় সীতাকুণ্ড পৌর বাজারের বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরকে ১০,০০০ টাকা, বড় কুমিরা বাজারের আনসারী সুজকে ৫০০০ টাকা, কুমিরা ডিপার্টমেন্ট স্টোরকে ২৫০০ টাকা, রাজু সু স্টোরকে ২,০০০ টাকা ও আলিফ টেইলার্সকে ২,৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। সীতাকুণ্ড পৌর বাজার ও বড় কুমিরা বাজারে শারীরিক দূরত্ব না মানায় দুইটি ভিন্ন মামলায় ৫ জনকে মোট ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী।
হাটহাজারীতে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী ও পলাতক আসামিকে আটক করেছে Rab
২৩মে,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন ফতেয়াবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ টি ওয়ানশুটারগান, ৫ রাউন্ড খালি খোসা, ১৪ টি রামদা, ১ টি চাইনিজ কুড়ালসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং ২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে Rab-7। আজ ২৩ মে ভোর ৫ঃ২৫ মিনিটের সময় হাটহাজারী থানাধীন ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী, ফতেয়াবাদ সন্দ্বীপ কলোনী এলাকায় অভিয়ান চালিয়ে ২জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। আটককৃত আসামীরা হলেন মোঃ আবু বক্কর (২২), পিতা- মোঃ হুসাইন, গ্রাম- হামজারবাগ, হিলভিউ, রোড নং- ০২, ব্লক-এ, জান্নাতমঞ্জিল, পোঃ- আমিন জুট মিলস, থানা- পাঁচলাইশ, জেলা- চট্টগ্রাম মহানগর এবং মোঃ সাঈদ (২৮), পিতা- মোঃ বিল্লাল, গ্রাম- সন্দ্বীপ কলোনী, দক্ষিণ পাহাড়তলী, ১নং ওয়ার্ড, ফতেয়াবাদ, থানা- হাটহাজারী, জেলা- চট্টগ্রাম। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক(অপারেশন) মেজর মাশকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী, ফতেয়াবাদ সন্দ্বীপ কলোনী এলাকার একটি বাড়িতে কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পলাতক আসামি অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে Rab-7 এর একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে দুই জনকে আটক করে। পরে আটককৃত আসামীদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেখানো ও সনাক্ত মতে সন্দ্বীপ কলোনীর একটি বসত বাড়ীর পশ্চিম পার্শ্বে লাকড়ির স্তুপের মধ্য হতে দুটি প্লাষ্টিকের বস্তায় লুকানো অবস্থায় ১ টি ওয়ানশুটারগান, ৫ রাউন্ড খালি খোসা, ১৪ টি রামদা, ১৩ টি ছোরা, ৩ টি চাপাতি এবং ১ টি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত রয়েছে।আটককৃত আসামীদের হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চিরনিদ্রায় শায়িত এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এস আলম গ্রুপের পরিচালক ( মার্কেটিং) মোরশেদুল আলমকে (৬৫) শুক্রবার রাত ১ টা ৩০ মিনিটে জানাযা শেষে পটিয়া পৌর সদরের ৪ নং ওয়ার্ডের নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে জানাযা শেষে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আন্দরকিল্লাহ সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ চট্টগ্রাম শহর থেকে পটিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এস আলম জামে মসজিদ কমপ্লেক্স চত্বরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এস আলম পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মোজাহের আনোয়ার ও চেমন আরা বেগমের এই জ্যেষ্ঠ পুত্রের জানাজায় তার বাকি ছয় ভাইয়ের মধ্যে কেউই উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে মোরশেদুল আলমের দুই পুত্র মাহমুদুল আলম আকিব ও ফসিউল আলম, ভাগ্নে মোস্তান বিল্লাহ আদিল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পিএস আকিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের মেজ সদস্য ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বর্তমানে পরিবারসহ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। অপর চার ভাই মোরশেদুল আলমের সঙ্গেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত ১৭ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবের পরীক্ষায় সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের এই সদস্যরা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। তারা হলেন, এস আলম গ্রুপের পরিচালক রাশেদুল আলম, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ওসমান গণি। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ওই পরিবারের ৩৬ বছর বয়সী এক নারীও। করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মোরশেদুল আলম তার অন্য চার ভাইয়ের সঙ্গে নগরীর সুগন্ধার বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে মোরশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ ওয়ার্ডে আগে থেকেই এস আলম পরিবারের আরেক সদস্য রাশেদুল আলম চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউতে শয্যা না থাকায় তুলনামূলক ভাল অবস্থায় থাকা ছোট ভাই রাশেদুল আলমকে সরিয়ে মোরশেদুল আলমকে জায়গা করে দেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে নিজ বাসভবনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। মৃত্যুর পর একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মোরশেদুল আলমের মরদেহ চট্টগ্রাম শহর থেকে পটিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এস আলম জামে মসজিদ কমপ্লেক্স চত্বরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পটিয়া থানা পুলিশের সার্বিক তত্বাবধানে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পিএস আকিজ উদ্দিন চৌধুরী, পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন, স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোফরান রানা। ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোফরান রানা জানান, মরদেহের গোসল চট্টগ্রাম শহরে দেয়া হয়। মরদেহের ৫০ ফুট দূরত্বে জানাজায় অংশ নেন এলাকাবাসী। যাদের মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস ছিল তাদেরকে জানাজায় অংশ নিতে দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে লাশ দাফন ও জানাজায় সহযোগিতা করে পটিয়া পৌর গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে রোববার ঈদ
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোববার দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা উপজেলার অর্ধ শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রতি বছরের মতো এবারো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের একদিন আগে ঈদুল ফিতর পালন করবেন। রোববার মির্জাখীল দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দরবার শরীফের পীরজাদা মওলানা ড. মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান। তবে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফে এসে ঈদের জামাতে অংশ নিলেও এবার নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছে দরবার কর্তৃপক্ষ। দরবার শরীফের পীরজাদা মওলানা ড. মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান বলেন, প্রায় ২৫০ বছর ধরে সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে আমরা ঈদ, রোজা, কুরবানি পালন করছি। সে অনুযায়ী আমরা রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করব। ওইদিন সকাল ১০টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। করোনার কারণে এবার দরবার শরীফে বড় ঈদ জামাতের আয়োজন হচ্ছে না। নিজ নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে ঈদের জামাত আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাতকানিয়া মির্জাখীল ছাড়া চন্দনাইশের পশ্চিম এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর, খুনিয়ারপাড়া, হাশিমপুর, কেশুয়া, সাতবাড়িয়া, মোহাম্মদপুর, হারালা, চন্দনাইশ পৌরসভার বুলারতালুক, হরিণারপাড়া, ফকির, সর্বল, কাজীবাড়ী, বাঁশখালীর জলদি, কালিপুর, গুনাগড়ি, গণ্ডামারার মিঞ্জিরতলা, ছনুয়া, সাধনপুর, আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ, বাথুয়া, বারখাইন, বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, চুনতি, পুটিবিলা, উত্তর সুখছড়ি, আধুনগর, মইশামুড়া, খোয়ছপাড়ায় ওই দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে।
প্রতিবন্ধী,শিক্ষকসহ আড়াই হাজার শ্রমিককে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দিলেন মেয়র
২২ মে,শুক্রবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দুর্যোগের এই সময়ে কর্মহীন আড়াই হাজার শ্রম পেশাজীবীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আজ ২২ মে শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবী সংগঠন নেতাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মেয়র প্রত্যেককে একটি করে সাবাব ও মাস্ক বিতরণ করেন। মেয়র প্রথমে টাইগার পাস চসিক কার্যালয় বিন্নাঘাস প্রকল্প চত্বরে ৩শ জন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-শিক্ষিকার মাঝে উপহার তুলে দেন। এরপর তিনি পাহাড়তলী রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ২৫০ জন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে উপহার তুলে দেন। সেখান থেকে তিনি পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে ৪০০ জন নির্মাণ শ্রমিকের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার বিতরণ করেন। বিকালে চকবাজার দেবপাহাড় বধির সংঘের ২৭০জন প্রতিবন্ধী সদস্যকে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি রৌফাবাদ নির্মাণ শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ৫২৮ জন নির্মাণ শ্রমিকের হাতে উপহার তুলে দিয়েছেন। এরপর তিনি দুই নম্বর গেইটে শাহ আমানত সিটি কর্পোরেশন শপিং কমপ্লেক্সের ৫৯৪ জন কর্মচারীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। মেয়র বলেন, এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি। এই রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা,নিয়মিত হাত ধোয়া,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা,জরুরী প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া-এসব পরামর্শ মানতে হবে।বাইরের দেশে সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলার জন্য নাগরিকদেরকে জরিমানাসহ বিভিন্ন দন্ড প্রদান করা হচ্ছে। আমাদেও দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে সরকার এমন কঠোর বিধিবিধান এখনো প্রয়োগ করছে না। তবে আমাদেরকে নিজের স্বার্থেই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাসথ্য বিধি মানতে হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে পরস্পরের সাথে করমর্দন,কোলাকুলি, অযথা ঘোরাঘুরি না করে ঘরে থাকার জন্য জন্য তিনি জনসাধারণকে পরামর্শ প্রদান করেন। এসময় চসিক কর্মকর্তাবৃন্দসহ থানা,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা
২২ মে,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভা, কলেজগেট, বাড়বকুণ্ড বাজার, জোড়ামতল বাজার, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের অন্তর্গত মাদাম বিবির হাট, নেভি রোড, ভাটিয়ারী বাজার ও জলিল স্টেশনে (দক্ষিণ ভাটিয়ারী) করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আইনগত নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় ১৭টি মামলায় ৫৩১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আজ শুক্রবার ২২ মে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আজকের অভিযানে বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাড়বকুণ্ড বাজারের দুইটি মুদি দোকানকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা, মাদাম বিবির হাটের একটি মুদি দোকানকে তিন হাজার টাকা এবং দক্ষিণ ভাটিয়ারীর জলিল স্টেশনের দুইটি মুদি দোকানকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসব দোকানকে মূল্য তালিকা না থাকা, মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অপরাধে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় সীতাকুণ্ড পৌর বাজারের জিয়া ক্লথ স্টোরকে দশ হাজার টাকা, তানিশা ফ্যাশনকে সাত হাজার টাকা ও স্মার্ট জেন্টস পার্লার এন্ড এসি সেলুনকে পাচ হাজার টাকা, জোড়ামতল বাজারের মুন্নি সু এন্ড কসমেটিকসকে দুই হাজার টাকা, মাদামবিবি হাটের এবি হার্ডওয়ার এন্ড ক্লথ স্টোরকে পাচ হাজার টাকা, নেভী রোডের কামাল ক্লথ স্টোরকে দুই হাজার টাকা, ইয়াছিন ক্লথ স্টোরকে এক হাজার টাকা, রিমন স্টোরকে এক হাজার টাকা ও জুয়েল সেলুনকে এক হাজার টাকা, ভাটিয়ারী বাজারের খাজা কালু শাহ স্টোরকে দুই হাজার টাকা ও নিহারিকা হেয়ার কাটিং সেলুনকে দুই হাজার টাকা এবং জলিল স্টেশনের স্বরনীল বুটিকসকে একশত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর