চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ, ব্যারাক লকডাউন
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:চট্টগ্রামে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাতে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ওই পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে আসা ২০০ পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত পুলিশ সদস্য যে ব্যারাকে থাকেন তা পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান সোমবার সকালে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের বয়স ৫৫ বছর। তিনি ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন।মানবজমিন। পুলিশের যে সকল সদস্য আক্রান্ত সদস্যের সংস্পর্শে ছিলেন তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাকে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার-নার্সসহ ১৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং একই কক্ষে চিকিৎসাধীন আরও ১২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার জানান, রোববার রাতে বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় পূরণো একজন ছাড়া আরও ছয়জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের একজন নগর পুলিশ লাইন্সের সদস্য। একজন লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা। বয়স ৫২ বছর। অন্যরা চট্টগ্রামের। এদের মধ্যে পটিয়ায় ছয় বছরের শিশুটি রাতে মারা গেছে। দুজন সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৩২ ও ১৭ বছর। একজন সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাটের ৪৫ বছর। আক্রান্তদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার।
চট্টগ্রামে আরও ৭ জনের করোনা শনাক্ত
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) আরও ৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৬ জন সম্পূর্ণ নতুন ও আরেকজন আগে করোনার উপসর্গ ছিল। রোববার রাত ৯টায় এই তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, রোববার করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা এমন ৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় বিআইটিআইডি হাসপাতালে। এরমধ্যে সাতজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।মানবজমিন। এর আগে গত ৩ এপ্রিল ও ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। দুইজনই সপর্কে বাবা-ছেলে। তাদের বাসা নগরের দামপাড়া এলাকায়। দুইজনই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। এরপর গত ৮ এপ্রিল আরও তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয় চট্টগ্রামে। এর মধ্যে একজন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুইজন নগরীর হালিশহরের শাপলা আবাসিক এলাকা ও সাগরিকা এলাকায় থাকেন। গত ১০ এপ্রিল আরো দুইজনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। দুজনই পুরুষ। এরমধ্যে একজন নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারের শিববাড়ি লেইনের বাসিন্দা। তার বয়স ৫৭, তিনি ব্যবসায়ী। আরেকজন আকবরশাহ থানার ইপাহানি গেইট গোলপাহাড় এলাকার বাসিন্দা। তার বয়স ৩৫, তিনি দোকান কর্মচারী। এরপর ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের আরও দুইজনের ও লক্ষ্মীপুরের একজনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। এরমধ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আলীনগর ইছামতি এলাকার একজন গত বৃহস্পতিবার মারা যান। পরে পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজের (বিআইটিআইডি) ল্যাবে আজকে পর্যন্ত ১৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও আড্ডাবাজি বন্ধে ড্রোন দিয়ে নজরদারি
১২এপ্রিল,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও অহেতুক আড্ডাবাজি বন্ধে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার হতে যাচ্ছে ড্রোন। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে পরীক্ষামূলকভাবে থানা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘর থেকে অহেতুক বের হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আমরা বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে সচেতন করেছি। তবুও অনেকে অহেতুক ঘোরাফেরা করছে। তাই টহল দেওয়া শুরু করি। কিন্তু তাতে দেখা যায়, অনেকেই আমরা গেলে গায়েব হয়ে যায়। আমরা চলে এলে আবারও আড্ডাবাজি শুরু করে। তাই এখন ড্রোন ব্যবহার করছি। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সময় টিভি। কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত এবং গলি উপগলিতে অহেতুক আড্ডাবাজি বন্ধে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করা হয়। বিকেলে কোতোয়ালি থানা এলাকার জামালখান,কাজীর দেউরি, ব্যাটারি গলি,পাথরঘাটা, আলকরণ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন উড়ানো হয়। ড্রোনে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও করা হয়। এসব ফুটেজ যাচাই বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সোমবার থেকে নিয়মিতভাবে আকাশে উড়বে ড্রোন। পাহারা দেবে চট্টগ্রাম। নিশ্চিত করবে সামাজিক দূরত্ব।
নগরীতে আদালতের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত,২৪ মামলায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
১২এপ্রিল,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসন করোনা ভাইরাস সংক্রামক প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে বাজার মনিটরিং করার লক্ষ্যে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে। এ লক্ষ্যে আজ নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ অভিযান পরিচালনা করে। আজ রবিবার ১২ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সরকারি নির্দেশনা বাস্থবায়নে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। নগরীর সদরঘাট, কতোয়ালী ও ডবলমুরিং এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রামক প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে বাজার মনিটরিং করা হয়। এসময় সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন -২০১৮ এ মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপরোক্ত আইনে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় ৩,৭০০ (তিন হাজার সাত শত)টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় চান্দগাও, পাচলাইশ, খুলশী থানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযানে ৫টি মামলায় ১৬,০০০ (ষোল হাজার )টাকা জরিমানা করা হয়। নগরীর আকবর শাহ,হালিশহর ও পাহাড়তলী এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন। নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এসব এলাকার কাঁচা বাজার পরিদর্শন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা হয়। এ সময়ে পাহাড়তলী ও আকবর শাহ অননুমোদিতভাবে খোলা রাখায় দুইটি রড- সিমেন্টের দোকানকে যথাক্রমে ১০,০০০ (দশ হাজার )ও ৪,০০০ (চার হাজার )টাকা জরিমানা করা হয়।বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে আজ কর্ণেলহাট কঁাচাবাজার পরিদর্শনের সময় অনিয়ম ধরা পড়লে এক দোকানদারকে ২,০০০(দুই হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়।হালিশহর এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা ও মাস্ক না পরার কারণে ১,০০০(এক হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়।এছাড়া কয়েকটি গার্মেন্টসের সামনে বকেয়া বেতনভাতার জন্য জড়ো হলে তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয় এবং ফোন করে মালিক পক্ষকে এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। যৌক্তিক কারন ছাড়া পথেঘাটে ঘুরাঘুরির কারণে কয়েকজন পথচারীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু দোকানের সামনে জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণে সচেতন করে দেওয়া হয়। বিকাল ৫ টার পর ফার্মেসী ব্যাতীত অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। আকবর শাহ থানা সংলগ্ন এলাকায় ডিলার কতৃক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ন্যায্যমুল্যে বিক্রির সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। হালিশহর এলাকায় এক ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ত্রাণ দেওয়ার সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য বলা হয় এবং ঘরে ঘরে ত্রাণ পোঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। এসময় ৪টি মামলায় ১৭,০০০(সতের হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তাহমিনা সারমিন অভিযান চালায় নগরীর চাঁদগাও, বাকলিয়া, চকবাজার এলাকায়। অভিযানে ৪ টি মামলায় মোট ৮,০০০(আট হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া আরও ৪ টি ভ্রাম্যমান আদালত চলমান আছে বলে জানান জেলা প্রশাশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
চট্টগ্রামে ছবি তুলে ত্রাণ কেড়ে নেওয়া ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ত্রাণ বিতরণের ছবি তুলে সেই ত্রাণ কেড়ে নিয়ে দরিদ্র মানুষদের মারধর করা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বরখাস্ত বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। খবর ইউএনবি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কেন তাকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবেনা আগামী একশ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। গত ০৬ এপ্রিল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ২৬টি অসহায় পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করে ছবি তোলার পর সেই ত্রাণ কেড়ে নেয়। ঘটনার প্রতিবাদ করে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হন অসহায় পরিবারের সদস্যরা। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা রুহুল আমীন জানান, চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমানিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে নুরুল আবছার বলেন, তাকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
করোনায় চট্টগ্রামে প্রথম মৃত্যু
১২এপ্রিল,রবিবারনিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:করোনায় প্রথম মৃত্যু দেখলো চট্টগ্রামবাসী। ৬৯ বছর বয়সী মৃত ওই ব্যক্তির নাম সিরাজুল ইসলাম। চট্টগ্রামে প্রথম করোনা আক্রান্ত তিনি। চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়া এলাকায় মেয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আলী নগরের ইছামতি এলাকায়। তিনি একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। আজ রোববার সকালে এ তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় শনিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। একই হাসপাতালে তার ছেলেও আইসোলেশনে রয়েছেন বলেন জানান সিভিল সার্জন।মানবজমিন। সিভিল সার্জন বলেন, আইসোলেশনে থাকা ওই ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে ওমরা ফেরত মেয়ের সংস্পর্শে ছিলেন। মেয়ের সঙ্গে নগরীর দামপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ৩রা এপ্রিল সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আসেন। এর আগে তিনি নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩রা এপ্রিল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত বিআইটিআইডিতে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলে ন্যাশনাল হাসপাতালের তিন চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের ছেলে-মেয়েসহ ২৫ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এছাড়া দামপাড়ায় নিজেদের থাকা ভবনসহ ৬ বাড়ি এবং সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে তার নিকটাত্মীয়দের ১৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়। পরে ৫ই এপ্রিল তার ছেলের নমুনা পরীক্ষায়ও করোনা শনাক্ত হয়। ফলে তাকেও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে নেয়া হয়। এ অবস্থায় শনিবার রাতে সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু ঘটে। সিভিল সার্জন জানান, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় এ পর্যন্ত লক্ষীপুরের একজনসহ ১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাবা ও ছেলে ছাড়া গত ৮ই এপ্রিল তিনজন, ৯ই এপ্রিল ২ জন এবং ১০ই এপ্রিল ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুজন নগরীর হালিশহরের শাপলা আবাসিক এলাকা ও সাগরিকা এলাকায় থাকেন। একজন ফিরিঙ্গিবাজারের শিববাড়ি লেইন ও আরেকজন আকবরশাহ থানার ইপাহানি গেট গোলপাহাড় এলাকার বাসিন্দা।
চট্টগ্রামে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান
১১এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:বিশ্ব জুড়ে ছরিয়ে পড়া করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদান, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীদের সচেতন করা, অতীব জরুরি প্রয়োজন এ বিভিন্ন যানবাহনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বের হওয়ার নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। অাজ শনিবার ১১ এপ্রিল সকাল ৯.৩০ হতে ২.৩০ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন ডবলমুরিং,বন্দর,ইপিজেড ও পতেঙ্গার আদালতে র আবাসিক এলাকা ও বাজারে করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীদের সচেতন করা হয়। অতীব জরুরি প্রয়োজন এ বিভিন্ন যানবাহনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বের হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এসময় হার্ডওয়ার ও ইলেকট্রনিক্স পন্যের দোকান, টেইলার্স দোকান খোলা থাকায় ৫ টি পৃথক মামলায় ১২,০০০ (বার হাজার )টাকা জরিমানা করা হয়। নগরীর বায়েজিদ, সদরঘাট, কতোয়ালী ও চকবাজার এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রামক প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে বাজার মনিটরিং এর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর। এসময় সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন -২০১৮ এ মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপরোক্ত আইনে ৬টি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় ৬,৪০০(ছয় হাজার ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আকবরশাহ,পাহাড়তলী ও হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম- কোয়ারেন্টেন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বেধে দেয়া প্রতিকার ব্যবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রতিপালনের জন্যে অনুরোধ করা হয়।আকবরশাহ ও পাহাড়তলী এলাকার বস্তিতে অলিগলিতে মাইকিং এর মাধ্যমে তাদের ঘরে ফেরানো হয়।এ কে খান এলাকায় মিনি বাস চালক ও হেল্পারদের গাড়ী না চালানোর জন্যে আহবান জানানো হয়।অত্র এলাকায় ত্রান দেয়ার সময় মানুষের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করা হয়। টিসিবি এর পণ্য বিক্রয়ে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ব্যবস্থাপনার জন্যে পরামর্শ প্রদান। অপ্রয়োজনে বাইরে আসায় ১৩ টি মামলায় ১৩ জনকে ২৮৫০(দুই হাজার আটশত পঞ্চাশ ) টাকা জরিমানা করা হয়। এবং কয়েকজনকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান অভিযান চালায় বাকলিয়া, পাচলাইশ, খুলশী, চান্দগাও এলাকায়। অভিযানে ৫ টি মামলায় ১৮,৫০০(আঠার হাজার পাঁচ শত) জরিমানা করা হয়। অনুমতি না থাকলেও দোকানের শাটার কিঞ্চিৎ খোলা রেখে ভিতরে ব্যবসা পরিচালনা করায় এবং দোকানে লোক সমাগম থাকায় শোলক বহর বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ কে ৫০০০(পাঁচ হাজার ) টাকা, পুরাতন চান্দগাও আল রিয়াদ গ্লাস হাউস কে ১০,০০০ (দশ হাজার )টাকা, নেপাল ইলেক্ট্রনিকস কে ১০০০ (এক হাজার )টাকা জরিমানা করা হয়। বহদ্দার হাট পুলিশ বক্সের সামনে চায়ের দোকান খোলা রাখায় দোকানের মালিক দীলিপ বনিক কে ২০০০(দুই হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হয়ায় মনসুর নামে একজন কে ৫০০(পাঁচ শত) টাকা জরিমানা করা হয়। বাজারসহ যেখানেই লোক সমাগম দেখা যায় সেখানে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। বিভিন্ন পয়েন্ট যানবাহান মনিটর করা হয় কেউ অপ্রয়োজনে বের হয়েছে কিনা বা পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন করছে কি না। এছাড়া আরো চারটি পৃথক টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
চট্টগ্রামে আরও ৩ জনের করোনা শনাক্ত
১১এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজএকাত্তরডটকম:ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় আরও ৩ জনের শরীরের করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ২ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ১ জন। এনিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ জন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। আক্রান্তদের একজনের বাড়ি পাহাড়তলীর সিডিএ মার্কেট এলাকায়, অন্যজনের বাড়ি সাতকানিয়া আলী নগরের ইছামতি এলাকার। এছাড়া তৃতীয় জনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দানপাড়া কোদাল বাড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, এরআগে চট্টগ্রামে ৭ জন করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ৫ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এবং ২ জন বিআইটিআইডি তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনার শনাক্তের পরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার প্রতিটিতে ৫ সদস্যের কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত
১১এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কের মাঝে অজ্ঞাতপরিচয় লাশ দাফনের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম। নগরীর ১৬ থানার প্রতিটিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫ সদস্যের বিশেষ টিম। এদের প্রত্যেকেই পিপিই পরিহিত অবস্থায় সুরক্ষিত থাকার প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ইউনিফর্মের উপরেই পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট পরছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। অথচ প্রয়োজন ব্যতীত চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ছাড়া অন্যদের পিপিই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায় শনাক্ত হওয়া এক করোনা রোগীর বাসা লকডাউন করার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এই কুইক রেসপন্স টিমের মূল কাজ। এখন থেকে নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় পাওয়া যাবে এই টিমের জরুরি সেবা-এমনটিই জানালেন সিএমপির এই উপ কমিশনার। সিএমপি উপ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, রাস্তায় কেউ অসুস্থ বা মরে পড়ে থাকলে সেখানে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসবে। এদিকে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে বাজারগুলো থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাই কাঁচাবাজারগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে সেনা বাহিনীর টহল টিম।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর