সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
চট্টগ্রামে ত্রাণ নিয়ে টালবাহানা
0১এপ্রিল,বুধবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের এই সংকটময় অবস্থায় অসহায় পরিবারের মানুষরা সরকার ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে আছেন কিছু সাহায্য সহযোগীতার জন্য। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য পাঠানো হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেকে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে সামান্য কিছু ত্রাণ হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে হেয় প্রতিপন্ন করছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। উক্ত ত্রাণ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র যে ত্রাণ সহযোগিতা দিচ্ছেন তা অসহায় ব্যক্তিরা নিয়মিত পেলেও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ৪১ টি ওয়ার্ডে যে ত্রাণ সাহায্য পাঠিয়েছেন তা নিয়ে টালবাহানা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ গ্রাম এলাকায় চেয়্যারম্যান ও মেম্বারদের বেলায় ও। জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে গৃহিত কর্মসূচী (এলআইইউপিসি) প্রকল্পের আওতায় ২১ টি ওয়ার্ড ও চসিকের পক্ষ থেকে বাকি ২০ টি ওয়ার্ডে বরাদ্দ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নগরীর ১ লাখ ১৪ হাজার পরিবারের মাঝে সাবান, বালতি, মাস্ক ৮৪ হাজার স্যানিটাইজার বিতরণসহ ৩৮৪ টি স্পটে হাত ধোয়ার কল স্থাপন হবে। সূত্রে আরো জানা যায় সরকারি ভাবে প্রাপ্ত ২০ মেট্রিকটন চাল চসিকের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪৮৮ কেজি চাল ও ১০০ কেজি ডাল নগরবাসির মাঝে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কঠোর বার্তা দেওয়ার পরেও ত্রাণ নিয়ে টালবাহানা বন্ধ হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু বক্কর নিউজ একাত্তর কে বলেন, শুনেছি আমাদের জন্য সাহায্য এসেছে কিন্তু চোখে দেখি নাই। ০৯ নং ওয়ার্ডের আব্দুল করিম বলেন, এই ওয়ার্ডে এখনো পর্যন্ত কনো সাহায্য এসেছে বলে শুনিও নাই। ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, বর্তমান কাউন্সিলর তার পরিচিত কয়েকজনকে সাহায্য দিলেও অত্র এলাকায় অনেক অসহায় ব্যক্তি অনাহারে দিন কাঠাচ্ছেন। চান্দগাঁও ওয়ার্ডের সাগরিকা সরকার নামের এক মহিলা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ২ কেজি চাউল হাতে ধরিয়ে দিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে ফেইসবুকে ছেড়ে দিলো যা আমার জন্য লজ্জাজনক। একই অভিযোগ ইপিজেড এলাকার আবুল খায়েরের। এ চিত্র শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীতে নই, গ্রামের ইউনিয়ন পর্যায় ও এই ত্রাণ নিয়ে টালবাহানার কমতি নেই। উক্ত বিষয়ে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার স্বর্থে বলেন, এই ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি ওয়ার্ড পর্যায়ে যে জনপ্রতিনিধিরা এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকবেন তাদের তালিকা করে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে অচিরেই পাঠানো হবে। অনেকে মত দিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তালিকা করে ঘরে ঘরে ত্রাণ দিলে আর বিশৃঙ্খলা হবে না।
করোনার প্রাদুর্ভাবে দরিদ্রদের মাঝে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
0১এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের জনক চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় করোনার প্রাদুর্ভাবে দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান, বিপিএম, পিপিএম । এ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং এর আয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীতে করোনার প্রাদুর্ভাবে দরিদ্র ১,৫০০ (এক হাজার পাঁচ শত) পরিবারের মাঝে খাদ্য দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এসময় সেখানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি এর আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল মালেক, চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি এর সদস্য সচিব অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন সহ পুলিশের অন্যান্য উধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
করোনা সংকটে দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে RAB-7
0১ এপ্রিল,বুধবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সমগ্রবিশ্ব জুড়ে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে RAB-7। এছাড়াও RAB মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে কর্মহীন হয়ে পরা দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া ১৫০০ মানুষকে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ নগরীর কয়েকটি স্থানে অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।RAB-7 এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান জুয়েল, পিএসসি জানান, RAB-7 এর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে আমরা ১৫শত দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষের খাদ্য সহায়তার কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। তবে পরিস্থিতি বুঝে এই কার্যক্রম আরো বাড়ানো হবে। পাশাপাশি RAB-7 এর এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। সেই সাথে সকলকে সতর্ক ও নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেন। গুজবে কান দেওয়া ও কেউ যাতে গুজব ছড়াতে না পারে সেই জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে বলেন।RAB-7 এর সহকারী পরিচালক এ এস পি কাজী মোঃ তারক আজিজ বলেন,করোনা ভাইরাসের কারনে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে কর্মহীন হয়ে পরা দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া ১৫০০ মানুষকে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।RAB-7 এর এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।তিনি সবাইকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখা ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তাছাড়া কোন প্রকার গুজব না ছড়ানো ও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। কোন প্রকার আতঙ্কিত না হয়ে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার মাধ্যমে করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।RAB-7এর সহকারী পরিচালক( মিডিয়া) এ এস পি মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে RAB-7। তাছাড়া মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে প্রাথমিকভাবে ১৫০০ মানুষকে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ নগরীর কয়েকটি স্থানে অসহায় মানুষকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। আমাদের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
চট্টগ্রামে ৮ জনের নমুনা পরীক্ষা, আইসোলেশনে ৭
0১ এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস সন্দেহে বর্তমানে চট্টগ্রামে ৭ জন আইসোলেশনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। এছাড়া গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৮ জনের নমুনা পরীক্ষার করার তথ্য জানিয়েছেন বিআইটিআইডির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমদ।বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে তারা এ তথ্য জানান।সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বর্তমানে আইসোলেশনে ৭ জন রয়েছেন। যেহেতু একজনের মৃত্যু হয়েছে, সংখ্যাটি ৬ হওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু মরদেহ এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। তাই ৭ জন দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোয়ারেন্টিন থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে আরও ৯শ ২৮ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ শুরু
0১ এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজ বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করা হয়। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার তথ্যমন্ত্রীর পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের হাতে এসব ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। এসময় এনএনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাষ্টার আবদুর রউফ, জসিম উদ্দিন তালুকদার, কাউছার নুর লিটন, কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম প্রমূখ। এনএনকে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মাষ্টার আবদুর রউফ জানান, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজ রাঙ্গুনিয়ার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, তেল, আলু ও সাবানসহ ১০ কেজির নিত্যপণ্য রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব ত্রাণ সামগ্রী নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে বিতরণ করা হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়ার কর্মহীন অসহায় মানুষের জন্য তথ্যমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রামে আইসোলেশনে থাকা নারীর মৃত্যু
0১ এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এ আইসোলেশনে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে আরফা বেগম (৫৫) নামে ওই নারী মারা যান। আইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। আরফা বেগম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার আবুল হোসেনের স্ত্রী। ডা. এম এ হাসান চৌধুরী বলেন, ওই নারী চট্টগ্রাম নগরীর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মঙ্গলবার তাকে বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। পরে এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। একুশে টেলিভিশন । তিনি আরও বলেন, ওই নারীর জ্বর বা কাশি ছিল না। তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা আমরা নিশ্চিত নই। এটি জানতে আজ (বুধবার, ১ এপ্রিল) তার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। ঢাকার বাইরে যে ১০টি স্থানে এখন করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা চলছে তার মধ্যে বিআইটিআইডি একটি। মঙ্গলবার পর্যন্ত এখানে মোট ৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হলেও তাদের কারও মধ্যেই করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি।
এক পরিবারকে বাজার করে দিয়েছে সিএমপি কোতোয়ালী থানা পুলিশ
২৭মার্চ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা মিরিন্ডা লেইনে এ ঘটনা ঘটে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দিনরাত কাজ করছে পুলিশও। অলি-গলিতে টহল দেয়া ছাড়াও সচেতনতামূলক মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন মাইকিং করে নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। কোনো প্রয়োজনে ৬১৯৯২২ এই নম্বরে কোতোয়ালী থানায় ফোন করে সহায়তা নিন। আমরা আপনার প্রয়োজনে চলে আসব। আপনি প্রয়োজন পূরণ করব। পুলিশের সে আহ্বান শুনে ঘোষিত নম্বরে ফোন করেন এক নারী। সমস্যা শুনে টিম কোতোয়ালীর এক পুলিশ সদস্য গিয়ে ওই নারীকে প্রয়োজনীয় বাজার করে দেন। খবর আমাদের সময় ।কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, মিরিন্ডা লেনের মিসেস রেবেকা সুলতানা (৩০) আমাদের হেল্প লাইনে ফোন করে জানান, তার স্বামী আজাহারুল ইসলাম (৩৭) একজন ক্যাপ্টেন। তিনি সম্প্রতি জাহাজ থেকে বাসায় ফিরলেও করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থাকায় সেলফ কোয়ারেন্টাইনে আছেন। বাসায় আর কোনো পুরুষ মানুষ নেই। এই লকডাউনে দুই মেয়ে নিয়ে তিনি অসহায় অবস্থায় আছেন। বাজারে যেতে পারছেন না। খবর পেয়েই আমি এক পুলিশ সদস্যকে তার বাসায় পাঠাই। পরে সেই পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার-সদাই করে দেয়া হয়েছে।
নিস্তব্ধ চট্টগ্রাম,মানুষকে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ,সেনাবাহিনী ও মেয়র আ জ ম নাছির
২৭মার্চ,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গণমাধ্যম কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ কয়েকটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া আর কেউ ঘরের বাইরে আসছে না।রাস্তায় মানুষ নেই বললেই চলে। তাই সড়কে যানবাহন চলাচলও কমে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ সব ধরনের গণপরিবহন। দূরপাল্লার কোনো বাসও চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়নি। এতে নিরব-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম নগরে। নগরীর বহদ্দারহাট, জিইসি, লালখানবাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ এলাকায় জরুরি পণ্যবাহী গাড়িও খুব কম চোখে পড়ছে।যদিও ট্রাক, কভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন- লকডাউনের নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বাংলাদেশ রেলওয়েও মঙ্গলবার থেকে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাস আক্রমণের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম নগরীতে নির্দেশনা মানতে নগরবাসীর অবহেলা দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। অনেকটাই সচেতন হয়ে উঠেছেন সব শ্রেণি-পেশার লোকজন। বুধবার থেকেই নগরের সড়ক, অলি-গলিতে টহল দেওয়া ছাড়াও সচেতনতামূলক মাইকিং এবং সিভিল প্রশাসনের কাজে সহায়তা করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।এদিকে নগরীর প্রত্যেক এলাকায় মসজিদ থেকে আযানের আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে জনগণকে সচেতনতার বার্তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, নগরে সুনশান নিরবতা বিরাজ করলেও বাসায় অবস্থান করা, নিরাপদ দূরত্বে থাকা, মাস্ক-পরিচ্ছন্ন সামগ্রী ব্যবহার করার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। মেয়র আ জ ম নাছিরের ভিডিও বার্তা করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসীকে বাসা থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বৃহসপতিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভে আসেন মেয়র আ জ ম নাছির। এ সময় তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রতিদিনই পুরো শহরের অলি গলি থেকে রাজপথ পরিষ্কার করা হচ্ছে। ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক পানি, যা চলমান থাকবে। আ জ ম নাছির বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঘরে থাকার জন্য যে কয়দিন বন্ধ দিয়েছেন সে সময়টা পুরোটাই ঘরে বসে কাটান। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। নগরবাসীর প্রতি মেয়র নাছির অনুরোধ জানিয়ে বলেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হবেন না। কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহ করেন, তাহলে নির্ধারিত হেল্প লাইনে ফোন (ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডির হটলাইন ০২৪৪০৭৫০৪২ ও ০২৪৪০৭৫০৪৩) দিলে ঘরে এসেই আপনার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। সচেতনতাই পারে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে।
এখন চট্টগ্রামেও হচ্ছে করোনা পরীক্ষা
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা শনাক্তের কিট আসার পর এখন পর্যন্ত ৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ট্রিপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এর পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসান।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।তিনি বলেন, গতকাল কিট আসার পর থেকে এই পর্যন্ত ৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনার ফলাফল জানাবে আইইডিসিআর। চট্টগ্রাম থেকে কোনো ফলাফল প্রকাশ হবে না।তবে কী পরিমাণ কিট এসেছে তা আজও জানাতে পারেননি তিনি। সতর্কতা হিসেবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লক্ষন দেখা গেলে আপনি আগে ফোনে যোগাযোগ করুন। বিআইটিআইডিও ইতোমধ্যে দুটি ফোন নম্বর হটলাইন হিসেবে চালু করেছে। হটলাইন নম্বর দুটি এ লেখার শেষ অংশে দেয়া আছে। হট লাইনে ফোন করে বিস্তারিত জানান। বিআইটিআইডিতে করোনা পরীক্ষা সংক্রান্ত এরইমধ্যে ৬ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি আপনার লক্ষন ও সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন, পরীক্ষার প্রয়োজন আছে কী না। চিকিৎসকরা যদি মনে করেন, করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন আছে, সেক্ষেত্রেও আপনাকে ঘরের বাইরে যেতে হবেনা। অ্যাম্বুলেন্সযোগে একটি টিম আপনার ঠিকানায়- ঘরেই হাজির হবেন। তারা আপনার ঘর থেকেই প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন। তাই ঘরে থাকুন, নিজেকে নিরাপদ রাখুন-অন্যকেও নিরাপদ থাকার সুযোগ দিন। বিআইটিআইডি হাসপাতালে করোনা সংক্রান্ত হট লাইন - ০২৪৪০৭৫০৪২ এবং ০২৪৪০৭৫০৪৩ পরবর্তীতে হটলাইন হিসেবে মোবাইল নম্বরও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর