এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা
আগামী ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বর্তমান সরকারের এটি শেষ বাজেট এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আজ সোমবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদ্যস্যদের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা জানান। এ সময় মুহিত বলেন, বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং অবকাঠমো খাতকে প্রধান্য দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার দারিদ্র দূরীকরণে সাফল্য দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,দেশে বর্তমানে দারিদ্র পীড়িত মানুষের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ ভাগ। তবে শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র সীমার মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি জানান। বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান ঢাকা চেম্বারের নেতৃত্ব দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র পীড়িত মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে অধিকতর মনোযোগ দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রয়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। তবে এসব ব্যাংক প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশে কর্পোরেট করের হার খুবই বেশি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,এটা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি হার বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান আরোও বেশ কিছু বছর বজায়ে থাকবে এবং বাইরের দেশগুলোতে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে দূর্নীতি কমেছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দূর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। তিনি জানান, সঞ্চয়পত্রের সুদের কমানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান এ সময় বলেন, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্পতা, বন্দর ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, আর্থিক খাতে ঋণ প্রবাহের স্বল্পতা, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো খাতের দূর্বলতা প্রভৃতি বিষয় দেশের বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হলে ৮ থেকে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার অর্জন করতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা বান্ধব নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান। ডিসিসিআই সভাপতি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডালিটির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং অ্যাডভাইজরি অথরিটি (নিদমা) নামে একটি প্লাটফর্ম গঠণের করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ধরার পরেই তদবির আসা শুরু হয়-ভেজালকারীদের তো আমরা ধরতেই পারি
রমজান উপলক্ষে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে কেবল রোজা নয় সারা বছরই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা। বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমে যায়। অথচ বাংলাদেশে এ চিত্র পুরোটাই উল্টো। পণ্যের দামের লাগাম টানতে যেনো সব প্রচেষ্টাই বিফলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে ভোগ্য পণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, সারাদেশে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি খাদ্য কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া উচিত। অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, '২০০৯ সালে আমরা ভোক্তা আইন পেয়েছি। কিন্তু এগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। শুধু পুলিশ-প্রশাসনের সীমিত লোক দিয়ে তা প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে, খাদ্য কর্মকর্তাদের পাওয়ার দিতে হবে।' ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ না নিয়ে রমযানের এক থেকে দুই মাস আগে তোড়জোড় শুরু করে সরকার। এতে ভোক্তারা তেমন সুফল পায় না। এদিকে, ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে বিভিন্ন মহলের তদবিরের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না বলে নিজেই স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বেতন-ভাতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকরা অসন্তোষ থাকবে না
বেতন-ভাতার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন, সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত সংলাপে একথা বলেন তিনি। এসময় গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে শিক্ষিত তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। তার মতে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেড়েছে বেতন বৈষম্য। এ অবস্থায় সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণে 'জাতীয় মজুরী বোর্ড' গঠনের সুপারিশ করেন সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা।
বাংলাদেশে ঝুঁকির ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি
বাংলাদেশে ঝুঁকির ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বলে মন্তব্য করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য ব্যাংক খাতে তদারকি বাড়াতে হবে। আবার ঋণ আদায়ে আইনগত ও আর্থিক কাঠামোর উন্নতি করতে হবে।’ সোমবার (৯ এপ্রিল) অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকে তারল্য সংকট না থাকলেও খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। আবার বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংকে তারল্য সংকট আছে। আগারগাঁওয়ের বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংক আরো বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এটি মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছর ধরে এই ঘাটতি নিরসনে বাজেটের মাধ্যমে অর্থ দেয়া হচ্ছে। তার মতে, মুদ্রানীতি এখন সম্প্রসারণমূলক হয়ে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির গতি প্রকৃতি অনুযায়ী, সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি হওয়া উচিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করে বলেছে, চলতি অর্থবছরের ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হবে। এই হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে কিছু প্রশ্ন করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রশ্নগুলো হলো-এত প্রবৃদ্ধি কি অর্থনীতির সক্ষমতার অতিব্যবহার নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা? এত প্রবৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই নাকি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে? আবার আইনি পরিবর্তন হয়নি, তেলের দামও কমেনি, স্বস্তিবোধের কোনো কারণও নেই। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করেন, এ দেশে ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা আছে। সরকারি হিসাবে তা অতিক্রম করে ফেলেছে।
ট্যুরিজম মেলায় উপচে পড়া ভিড় রাজধানীতে
রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ট্রাভেল মার্ট-২০১৮ এর শেষ দিন ছিল উপচে পড়া ভিড়। দর্শনীয় স্পটসহ বিভিন্ন মানের হোটেলে বুকিং এর ক্ষেত্রে ছিল নানা অফার। কিন্তু অভ্যন্তরীণ স্পটগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অভিযোগ ছিল বিভিন্ন বিষয়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলায় দেশীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিচিত তুলে ধরার পরামর্শও দেন দর্শনার্থীরা। পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বা বিশ্বের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ভ্রমণ পিপাসুদের যাত্রা সহজ ও নান্দনিক করতে পর্যটন খাতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে নতুন-পুরাতন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকা ট্রাভেল মার্ট-২০১৮। দর্শনার্থীরা জানান, 'বাংলাদেশে পর্যটন খাতের উন্নতি হয়েছে তা বুঝা যাচ্ছে এ মেলা থেকে। মানুষ আসলে ভ্রমণের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।' আরেকজন দর্শনার্থী বলেন, 'ব্যাংককে প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ আগেও সেখানে গিয়েছি। সময়ের কারণে সবগুলো দ্বীপ দেখা হয় নি। এবার গেলে বাকিগুলো দেখে আসবো।' পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও হোটেল ভাড়া কম হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। দেশীয় স্পটগুলোর প্রচারণা ও সংরক্ষণে সরকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতার অভাব আছে বলেও মনে করেন অনেকে। তবে ট্যুরিজম করপোরেশন জানায়, নানা তৎপরতার কথা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, 'ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে পারলে পর্যটনের দ্রুত উন্নতি হতো।' আগামীতে মেলার প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ৫টি প্যাভিলিয়ন ও ৬০টি স্টলে অংশ নেয়।
মিরসরাই পোশাক শিল্প পার্কের কাজ চলতি বছরেই শুরু হতে যাচ্ছে
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পোশাক শিল্প পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে । বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র মধ্যে জমি বরাদ্দের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে একথা বলা হয়। চুক্তির আওতায় পোশাক শিল্প গড়ে তুলতে বিজিএমইএ'কে ৫শ' একর জমি উন্নয়ন করে দিবে বেজা কর্তৃপক্ষ। শিল্প পার্কে মোট ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে মোট ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে বলেও জানানো হয়। এর আগে পোশাক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৮শ' একর জায়গা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক শিল্প সম্প্রসারণের জন্য আরো ৭শ' একর জায়গা রাখা হয়েছে বলে জানান বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত চেষ্টায় দেশের উন্নয়ন বেগবান হয়েছে। বিজিএমইএ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'আলাদাভাবে জায়গা কিনে কিনে আমরা কৃষি জমি নষ্ট করেছি, ইন্ডাস্ট্রিগুলো থেকে বিল পেতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আশা করি এসব থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব।' এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'এ বছরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে।এখন এক হাতে তালি বাজে না। তালি বাজতে হলে আপনাকেও লাগবে। আপনি আপনার বিনোয়োগ নিয়ে যাবেন, আর আমাদের চেয়ারম্যানের কাজ হবে এই বিনিয়োগকে উপযোগী করে তোলা।'
সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডব্লিউটিও'র সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ডব্লিউটিও-এর দোহা রাউন্ডে গৃহীত সিদ্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববাণিজ্য ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এলডিসি ভুক্ত দেশগুলোকে ডব্লিউটিও-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক যে সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা, সেগুলো সকল উন্নত দেশ দিচ্ছে না। ডব্লিউটিও-কে কার্যকর করতে দোহা মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে গৃহীত সকল সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত ইনফরমাল ডব্লিউটিও মিনিস্টেরিয়াল মিটিং এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রুভুর সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রীদের এ মিটিং-এ ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, কানাডা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বেরর ৫৩টি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী অথবা তাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত প্রদান করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, হংকং, বালী এবং নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্স গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডব্লিউটিও-কে কার্যকর করতে নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পূর্বের সিদ্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য সক্ষমতা সীমিত, ক্রমেই পিছিয়ে পরছে রফতানি বাণিজ্যে। রফতানি বাণিজ্যে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অবদান শতকরা একভাগের নিচে। দারিদ্র্য বিমোচন ও শিল্পায়নের জন্য এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০২৭ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যআয়ের বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন তা বাস্তব। উন্নয়নশীল দেশের জন্য যে সকল চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশ সেগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেয়া এভ্রিথিংস বাট আর্মস এর আওতায় বাংলাদেশকে দেয়া ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশকে অনেক সহায়তা প্রদান করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে গেছে। এজন্য বাংলাদেশ ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মধ্য আয়ের বাংলাদেশে ২০২১ সালের মধ্যে মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ২ হাজার মার্কিন ডলার হবে, যা ২০১১ সালে ছিল মাত্র ৭৫৫ মার্কিন ডলার। দারিদ্র্যসীমা ৪০ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ১৫ শতাংশে। রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ডব্লিউটিও-র বিগত মিনিস্টিরেয়িাল কনফারেন্সে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ডিউটি ফ্রি-কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা, প্রিফারেন্সিয়াল রুলস অফ অরিজিন, সার্ভিস ওয়েভার, ট্রিফস চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার মতো প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য খুবই প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী পরে কনফারেন্সের ওয়ে ফরওয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় যে পাঁচজন বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তাদের মধ্যে অন্যতম।
চার কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে চার কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৩২০ কোটি টাকারও বেশি। জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় হবে। জার্মান দাতা সংস্থা কে এফ ডব্লিউ-এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (০৮ মার্চ) দুপুরে সরকারের এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং কে এফ ডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য (এশিয়া এবং ইউরোপ বিভাগ) রোলান্ড সিলার। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) আওতায় এটি প্রথম প্রকল্প। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা ও সাতক্ষীরার ২০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। মুহিত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা অতি নগণ্য। অথচ বাংলাদেশই জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন। একক দেশ হিসেবে প্রতিবেশী ভারত ও চীন সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। আশার কথা হচ্ছে, দেশ দুটি জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি বর্তমানে আমলে নিচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নিচ্ছে। জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৭ লাখ ৫০হাজার ডলার। এর মধ্যে জিসিএফের ৪ কোটি ডলার পাওয়া যাচ্ছে অনুদান হিসেবে। এছাড়াও জার্মানি সরকার অনুদান সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে আরও দেড় কোটি ডলার। আর বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া আবহাওয়া সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য ও দুযোর্গ মোকাবেলার প্রস্তুতিমূলক তথ্যের জন্য একটি জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো উৎকর্ষ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ছয় বছর মেয়াদী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রসঙ্গত, জিসিএফ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)-এর আওতায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত তহবিল। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করা হয়। বাংলাদেশে জিসিএফের অনুমোদন পাওয়া এটিই প্রথম প্রকল্প।
বিজেএমসি বন্ধ করে দেয়া উচিত :অর্থমন্ত্রী
সরকারের লোকসানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) একেবারে বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পাটের বিকাশে বাধা অর্থমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের এমন অভিযোগের দুই দিনের মাথায় এই মন্তব্য করলেন মুহিত। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির স্মরণিকা ‘প্রয়াস’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। গত সোমবার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পাট নিয়ে অর্থমন্ত্রী নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অর্থমন্ত্রীর এ নেতিবাচক মনোভাবের প্রভাব অর্থ মন্ত্রণালয়েও পড়েছে। ফলে পাটের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাট প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। সুতরাং এটার ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। অসুবিধা যেটা আমাদের হয়, পাটকে আমরা রিভাইস করতে চাই। পাটের একটা নতুন বাজারও সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রিভিশনের প্রক্রিয়াটা আমার ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ওল্ড বিজেএমসি’র এক্সিসটেন্সের (থাকার) কোন প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। আমি তাদের (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়) বলেছি বিজেএমসির কোন জায়গা নেই এই নতুন ব্যবস্থায়। নতুন ব্যবস্থা আমরা বলছি পিপিপি (সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব) প্রজেক্ট হবে সবগুলো। সেখানে বিজেএমসি ইট সুড বি অ্যাবুলিশ (বিলোপ করা)। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি একদম বন্ধ করে দেয়া উচিত। ইট সুড নট হ্যাভ এনি এক্সিসটেন্স, মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়ের একটা সেল থাকবে, তারাই সব দেখবে। আমি তাদের অফিসিয়ালি পর্যন্ত বলেছি। বাট দে ডু নট অবলাইজ। তারা বিজেএমসির খপ্পরে পড়েছে। বিজেএমসি বহাল তবিয়তে রয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর