ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে দাম কমালেও কমেনি বংলাদেশে
পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত প্রতি টনে ১৫০ ডলার কমালেও তার প্রভাব নেই দেশের পাইকারি বাজারে। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমায় দাম বেড়েছে। তবে ভরা মৌসুম হওয়ায় কমেছে দেশি পেঁয়াজের দর। গেল ১৯ জানুয়ারি এক পরিপত্রে পেঁয়াজের রপ্তানি-মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭০০ ডলার নির্ধারণ করে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে প্রতি টনে খরচ কমেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৩০০ টাকা। এতে দেশীয় বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দর অন্তত কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত কমবে-এমনটাই আশ্বাস ছিল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের। অথচ সপ্তাহ না ঘুরতেই কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দর। তবে কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দর। বিক্রেতারা বলেন, এ সময় দেশি পেঁয়াজে বাজার কম থাকে তাই এলসি কম খুলছে ব্যবসায়ীরা। আদা ৬০ থেকে ৬২ টাকা আর রসুন ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এদিকে নতুন করে কেজিতে ১-২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, মিনিকেট, নাজিরশাইল, আটাশ ও পাইজাম'সহ প্রায় সবধরনের চালের দাম। বিক্রেতারা বলেন, মিনিকেট বিক্রি করা হচ্ছে ৫৯ টাকা থেকে ৬০ টাকা। নাজিরশাইলের দাম ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা। মিনিকেট চাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তায় ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। ডালের বাজারে দেশি মসুরের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে আমদানি করা মসুরের দর। লিটারে ২ টাকা কমেছে বোতলজাত সয়াবিনের দাম। বিক্রেতারা বলেন, মসুরের দামা যেগুলো রফতানির মাধ্যমে আসে সেগুলো দাম ৪ থেকে ৫টাকা বেড়েছে। সয়াবিন তেল লিটারে দুই টাকা কমেছে । অস্থিরতা বেড়েছে মসলার দামে। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৭শ - ১৮শ টাকায়। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি দরে।
পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা
কথা ছিল চলতি বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে যুক্তরাজ্য। তবে কার্গো পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো সন্তুষ্ট নয় যুক্তরাজ্য। তাই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি এখনও। বরং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নতুন করে আরও কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি। এরই অংশ হিসাবে এবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে আসছে ইউরোপীয়ান এভিয়েশন সিকিউরিটি এজেন্সি। গেল নভেম্বরে অডিটে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ। এরপর গত ডিসেম্বরে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রীর লন্ডন সফরে যুক্তরাজ্যের বিমানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন, নতুন বছরের শুরুতেই প্রত্যাহার হবে বাংলাদেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা। সে প্রতিশ্রুতি রাখেনি যুক্তরাজ্য। বরং নতুন করে আরো কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে এবার বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা কতটুকু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করেছে তা খতিয়ে দেখবে ইইউ এভিয়েশন সিকিউরিটি। অডিট মোকাবেলা করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ বিমানও। এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসেই শিথিল হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। তবে চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আরো দু-তিন মাস লাগবে। নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৮ মার্চে যুক্তরাজ্য ও এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে তৃতীয় দেশ হয়ে বাংলাদেশকে এসব দেশে পণ্য রপ্তানি করতে হয়।
অবশেষে সাভারে স্থানান্তরিত নতুন চামড়া শিল্পনগরী নির্মাণে ক্রটির কথা স্বীকার করলো বিসিক
অবশেষে সাভারের স্থানান্তরিত নতুন চামড়া শিল্পনগরী নির্মাণে ক্রটির কথা স্বীকার করলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-বিসিক। চামড়া শিল্প নিয়ে সেমিনারে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারকে ভুল বুঝিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে স্থানান্তর করা হয়েছে ট্যানারি শিল্প। দোষীদের শাস্তিরও দাবি জানান তিনি। গত বছরের ৮ই এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয় সাভারের হেমায়েতপুরে। ১৫৫টি কারখানার মধ্যে ১২১টি স্থানান্তর করা হলেও সেখানকার পরিবেশ ও সিইটিপি বাস্তবায়নে নেই তেমন কোন উন্নতি। রোববার রাজধানীতে ট্যানারি স্থানান্তর বিষয়ে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, সে সময় দরপত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে উল্লেখ না করেই সরকারকে ভুল বুঝিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে ট্যানারি। এ জন্য দোষীদের শাস্তিরও দাবি জানান তিনি। বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, 'একজন প্রতিষ্ঠান ও একজন ব্যক্তি আমাদের বিপদে ফেলেছেন। এদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।' বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে শিল্প এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এখনই সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহিন আহমেদ বলেন, 'লেদার ওয়ার্কার গ্রুপের সার্টিফিকেট কোনো ট্যানারিই পাইনি। বিদেশে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে হলে এগুলো আগে পূরণ করতে হবে।' সভায় ইপিজেড এর মতো পরিকল্পনা নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনই সম্মিলিত পদক্ষেপের উপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান বলেন, 'লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ স্ট্যান্ডার্ড ট্যানারি সিটি আমরা পাচ্ছি কিনা, আমরা নিজেদেরকেই আগে প্রশ্ন করি। তাহলে এতো টাকা, এত বড় প্রজেক্ট এটার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি?' এ সময় জানানো হয়, চামড়া শিল্পে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০২১ সাল নাগাদ এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।
পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৪ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম
শীতের তীব্রতা কমে আসায় পণ্য পরিবহণ এখন স্বাভাবিক। ফলে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৪ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। আলুর দামও রয়েছে কমতির দিকে। এদিকে চাল, ডাল, তেলসহ বেশিরভাগ ভোগ্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও হঠাৎ করে বেড়েছে এলাচ, জিরা, বাদাম, আদাসহ বেশকিছু মসলার দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বছরের এই সময়ে রাজধানীতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহরে তুলনায় চাহিদা এখন দ্বিগুণ। যার প্রভাব পড়েছে দামে। দেশে আলু-পেয়াজের এখন ভরা মৌসুম। কিন্তু তীব্র কুয়াশায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ফেরি চলাচল বিঘ্ন হওয়ায় রাজধানীমুখী পণ্য পরিবহণে তৈরি হয় স্থবিরতা। ফলে সরবরাহ সংকটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দামে। তবে শীত কমে আসায় বাজারে বেড়েছে পণ্যের সরবরাহ। এতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে দামে। চলতি সপ্তাহের প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪ টাকা এবং আমদানি করা মোটা পেঁয়াজ ৩-৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকা দরে। রসুনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন আলুর দাম কমেছে কেজিতে ২-৩ টাকা। তবে কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে দেশি আদা ৬২- ৬৪ এবং আমদানি করা মোটা আদা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। এদিকে অস্বস্তি বেড়েছে মসলার দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৭শ - ১৮শ টাকা দরে।গত সপ্তাহে ১৬শ টাকায় বিক্রি হওয়া পোস্তা বাদাম কেজিতে ৭০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩শ টাকায়। জিরার দামও কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, বছরের শুরুতে বিয়ে-বৌভাতসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটে প্রভাব পড়েছে দামে। নতুন করে বাড়েনি গেল বছরজুড়ে আলোচনায় থাকা চালের দাম। পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশি মিনিকেট ৫৭-৫৯ টাকা, নাজির শাইল ৬০-৭০ টাকা, আটাশ ৪৮-৫০ এবং মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে ৩৯-৪০ টাকায়। তবে দেশি মসুর ডাল কেজিতে ৫-৭ টাকা কমে ৭৫-৭৮ টাকা, আমদানি করা মোটা মসুর ডাল ৪৭-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে তেলের বাজার। খোলা সরিষার তেল প্রতিকেজি ১২০ টাকা এবং সয়াবিন তেল কেজিতে ২ টাকা কমে ৮৬ থেকে ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোম্পানিভেদে ৫ লিটারের প্রতিটি বোতলজাত সয়াবিন তেল ৪৯০ থেকে ৫১৫ টাকা এবং প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা দরে।
শীগ্রই কমছে পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত থাকছে চলের দাম
এক মাসেই ৩০ টাকায় নামবে পেঁয়াজের দাম, আপাতত কমছে না চালের ।আগামী এক মাসের মধ্যেই রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দর নেমে আসবে ৩০-৩৫ টাকায়, এমন আশা পাইকারি পর্যায়ে। ব্যবসায়ীদের যুক্তি নতুন পেঁয়াজ আমদানির সঙ্গে ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতিরও। তবে, ব্যতিক্রম চালের বাজার, আড়তদাররা বলছেন, নাজিরশাইল মিনিকেটের দাম কমবে না বৈশাখের আগে। এদিকে, হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সব ধরনের মশলার দাম। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে রাজধানীর পাইকারি বাজারে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আসতে শুরু করেছে শিকড় থেকে চাষ করা পেঁয়াজ। আড়াই মিলিয়ন টন বার্ষিক চাহিদার খুব সামান্যই পূরণ হয় এ সময়ে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে। তবে, আশার কথা হলো উন্নতি হয়েছে আমদানি পরিস্থিতির, ভারতের বাজারেও কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম ক্রেতাদের নাগালে আসতে সময় লাগবে এক মাস। ব্যবসায়ীরা বলেন, আবহাওয়া ভাল থাকলে আমাদের পেঁয়াজ উঠে যাবে। এক মাসের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে চলে আসবে। ঠিক বিপরীত চিত্র চালের আড়তে, চলতি সপ্তাহে আবারো চড়া হয়েছে দেশীয় চালের বাজার। মিনিকেট, নাজিরশাইল কিংবা আটাশ, বাজারে সরবরাহ কম প্রত্যেকটি চালের। আমদানি করা ভারতীয় চাল থাকলেও তার প্রতি আগ্রহ কম ক্রেতাদের, এমন মত পাইকারদের। তারা বলেন, দেশি আর আমদানি চালের মধ্যে আট দশ টাকা ফারাক। এই সপ্তাহে বাজার বেশি। বেনাপোল থেকে ১৫ টনের জায়গায় ১৩ টন আসছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন এসেছে মশলার বাজারে, এলাচ গোলমরিচ, লবঙ্গ, জিরা কিংবা বাদাম, বেড়েছে সব কিছুরই দাম। ব্যবসায়ীরা বলেন, এলাচের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। পেস্তা বাদাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেড়েছে। যারা আমদানি করে তারা বলছে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে এমন হয়েছে। তুলনামুলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে গুড়োদুধ, চিনি, আর সব ধরণের ডালের দাম। বোতলজাত সয়াবিনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন আর পাম অয়েলের দর বেড়েছে কিছুটা।
চাল রপ্তানিতে এলসি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার
ভারত চাল রপ্তানিতে এলসিমূল্য বাড়ায় দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে চালের দাম। প্রতি মেট্রিক টন চালে এলসি মূল্য ৩০ ডলার বাড়িয়ে সাড়ে ৪শ' ডলার নির্ধারণ করায় দেশের বাজারে কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে চালের দর। অন্যদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে ডলারের পাশাপাশি পরিবহন খরচ বাড়ায় বেড়েছে চালের দাম। দেশে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে ৩৯ টাকা দরে ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি চলবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপরই চাল রপ্তানিতে এলসি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। টন প্রতি রফতানির এলসি মূল্য ৩০ ডলার বাড়িয়ে সাড়ে ৪শ' ডলার নির্ধারণ করায় দেশের বাজারে বেড়ে গেছে সব ধরনের চালের দর। আমদানিকারকরা বলছেন, ডলারের দাম এবং পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক রাজেশ পোদ্দার বলেন, এক সপ্তাহে চালের বাজার ছিল ৪২০ থেকে ৪২৫ ডলার। আর বর্তমানে এটা বেড়ে ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলার হয়েছে। হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক মামুনুর রশিদ লেবু বলেন, তিন আগে এই চালটা বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৩৫ টাকায়। আর সরকার ৩৯ টাকায় চাল কেনার ঘোষণা দেয়ার পর সেটা বেড়ে এখন ৩৯ ও ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা জানান, হিলি স্থলবন্দরে গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৩ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা অভিযোগ করেন নানা প্রতিবন্ধকতার। চালের পাইকারি ক্রেতা জানান, যে চাল কিনছি ৩৬ টাকায়। আর সেই এখন চাল ৩৯ টাকায় কিনতেই হিমশিম খাচ্ছি। অন্য ক্রেতা জানান, গত তিন দিনে প্রতি কেজি চালে তিন টাকা বেড়েছে। গত ১ সপ্তাহে এ বন্দর দিয়ে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলি কাস্টমস।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে:অর্থন্ত্রী
বুধবার সকালে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরো কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে অর্থন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়ায় ভোট কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেসব এলাকা বা দেশে বেশি সংখ্যক প্রবাসী আছে, সেখানে বিশেষ সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদানের বিষয়ে সরকার ভাবছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট হয়তো বা আমার শেষ বাজেট। এ বাজেটে সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে তাদের প্রণোদনার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে আমার দেশের অর্থনীতির চাকা চাঙা। তাই তাদেরকে যেন আমরা কখনো লেবার না বলি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজমের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সেক্রেটারি ড. নমিতা হালদার, ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী, ইউএনের সাবেক কর্মকর্তা ড. একে আব্দুল মোমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন :অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়লে কোনো সমস্যা নেই। কারণ দেশের সব জনগণকে ব্যাংকিং সেবার আত্ততায় আনতে হলে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ আরও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন। মুহিত বলেন, ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার বিধিবিধান রয়েছে। সেটাকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংক একীভূত হতে চায়, নিয়মানুযায়ী তারা একীভূত হতে পারবে। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠী কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও রয়েছে। একটি পার্টি মার্কেট থেকে বড় অংকের লোন নিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই :অর্থমন্ত্রী
ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার রাজধানীর শিশু একাডেমিতে জিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। মুহিত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থ চুরির পর থেকে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে টাকা ফেরতের ব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গড়িমসি শুরু করে। তাই এখন শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তা দিচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। একটি নির্দিষ্ট সময় পর যদি চুরি হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ উদ্ধার না হয়, তবে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসির চারটি অ্যাকাউন্টে আর বাকি দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। ব্যাংকটির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় বদলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে (জুয়া খেলার জায়গা) চলে যায় বেশির ভাগ অর্থ। তবে হ্যাকারদের একটি বানান ভুলে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ফিলিপাইনের সিনেট শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এক কোটি ৫২ লাখ ডলার ফেরত আনতে সক্ষম হয়।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর