সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
করোনাকালে নাগরিক সুবিধা যেন হারিয়ে না যায় : সুজন
২৮,জুন,রবিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার প্রাদুর্ভাবে নাগরিক সুবিধা যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য চসিক মেয়রের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি গতকাল শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহবান জানান। এ সময় সুজন সিটি কর্পোরেশনকে সীমাবদ্ধতার মাঝেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসার জন্য চসিক মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পোর্ট কানেকটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন খ্যাত এ সড়কটির সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ প্রায় চার বছরেও শেষ করতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন। এ সড়ক দিয়ে পুরো নগরীর চলাচলের প্রায় অর্ধেক গাড়ি আমদানি রপ্তানি কাজে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ এবং বের হয়। বিশেষ করে বাস, ট্রাক, ট্রেইলর, কাভার্ড ভ্যানের মতো ভারী বাহন ছাড়াও অনেক হালকা বাহনও এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়ক হিসেবেও যাত্রীসাধারণ ব্যবহার করে এ সড়কটি। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটি সংস্কারের নামে বন্ধ থাকায় ভারি যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে ঐ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর চাপ পড়ছে নগরীর অন্য সড়কগুলোতেও। আর এর প্রভাবে পুরো নগরী যানজটে স্থবির হয়ে থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা। রাস্তাগুলো সহসাই মেরামত না করলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে করোনা কেন্দ্রিক মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি করোনা কেন্দ্রিক মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপরও নজর দানের জন্য মেয়রের প্রতি আহবান জানান।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ছদ্মবেশে ব্যাংকের সামনে ঘোরাঘুরি, সুযোগ বুঝে ডাকাতি
২৭,জুন,শনিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ছদ্মবেশে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন তারা। একজন (সংকেত নাম বেদি) টার্গেট করা ব্যক্তিকে অনুসরণ করেন। টার্গেট করা ব্যক্তি কোন ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করছেন, কত টাকা উত্তোলন করছেন এসব তথ্য সংগ্রহ করেন। ওই ব্যক্তি যখন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হন- তখন তাকে অনুসরণ করতে থাকেন বেদি। পরে তার দলের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে দেন তিনি। তারা সিএনজি অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল করে এসে টাকা ছিনিয়ে নেন। একটি ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান। গ্রেফতার ছয় আসামি হলেন- মো. কামাল হোসেন (৩০), মোক্তার হোসেন (২২), সাদ্দাম (২৬), শের আলী (৩২), মাসুদুর রহমান (৪০) ও মো. এরশাদ (৩৩)। গত ১৬ জুন সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, শুক্রবার বিকেলে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক এলাকা থেকে এক আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে দামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আনোয়ারা ও ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফের তত্বাবধানে কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমার নেতৃত্বে কোতোয়ালীর একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, আসামিরা মূলত ছদ্মবেশী ডাকাত। তারা বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে ঘোরাঘুরি করে সুযোগ বুঝে ডাকাতি করে। তিনি বলেন, তাদের দলে একাধিক সদস্য রয়েছে। এদের কেউ টার্গেট করা ব্যক্তিকে অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করে। অন্যরা টাকা ছিনিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, গত ১৬ জুন দামপাড়া এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এ ডাকাত দলের বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ। আসামিদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র, দুই রাউন্ড কার্তুজ, ডাকাতি করা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাসান মুরাদ বিপ্লবের ফ্রি অক্সিজেন, টেলিমেডিসিন ও ঔষধ সেবা চালু
২৭,জুন,শনিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের ব্যক্তিগত উদ্যেগে ও নিজস্ব অর্থায়নে করোনা রোগীর সেবায় ফ্রি অক্সিজেন, টেলিমেডিসিন ও ঔষধ সেবা প্রদান চালু করা হয়েছে। ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড অফিস থেকে এই সেব প্রদান করা হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন ও ঔষধ সেবা প্রদান করা হবে। কোভিড ও নন কোভিড সকলেই এই সেবার আওতায় থাকবে। আজ শনিবার ২৭ জুন সকাল ১১ টায় ওয়ার্ড কার্যলয়ে ফ্রি অক্সিজেন, টেলিমেডিসিন ও ঔষধ সেবা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবদুল হালিম দোভাষ, শিক্ষক শাহাদত হোসেন, মোঃ তারেক সর্দার, মোসলেহ উদ্দিন দিদার, আবদুল মাবুদ, মন্জুর আলম, হাজি নাছির আহমদ, লক্ষিপদ দাশ,মন্জুর মোর্শেদ, সবির আহমদ, খোরশেদ আলম রহমান,মোঃ সাইফুদ্দীন, কমোঃ তাজুদ্দিন রিজভী, জাহাঙ্গীর আলম,আবদুল আজিজ,তারাপদ দাশ,তানভীর আহমদ রিংকু,অসিউর রহমান, কায়সার হামিদ,ফরহাদ আহমদ,অনিন্দ্য দেব,সৌরভ দাশ। কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব জানান,বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে করোনা রোগীর জীবন বাচাতে অক্সিজেন ও ঔষধ এর বিকল্প নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অক্সিজেনের সল্পতার কারনে রোগীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জীবন সংকট তৈরী হচ্ছে। অনেকের অক্সিজেন ব্যবহারের সামর্থ্য নেই। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমার ব্যক্তিগত উদ্যেগে ও নিজস্ব অর্থায়নে করোনা রোগীর সেবায় ফ্রি অক্সিজেন, টেলিমেডিসিন ও ঔষধ সেবা প্রদান চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই করোনা পরিস্থিতিকে কাটিয়ে উঠতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি সবসময় ওয়ার্ডবাসী তথা সকলের সেবায় প্রস্তুত। আমার এই কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
লকডাউন এলাকায় রান্না করা খাবার বিতরণ মেয়র নাছিরের
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরে প্রথম কঠোর লকডাউনের আওতায় আনা ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খাবার বিতরণের সময় চসিক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি লোকমান আলী, আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন। করোনায় বিশ্বমানবতা বিপর্যস্ত উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী আক্রান্ত পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকের বিবেককে মানবতা ও সামাজিকতায় জাগিয়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মতো ঘনজনবসতির দেশে সামাজিকতা, বিবেক, নৈতিকতা বিবর্জিত মনোবৃত্তি আমাদের তাড়িত করছে আত্মকেন্দ্রিকতার দিকে। অথচ কোনো মানবিকতা, সামাজিকতা, ধার্মিকতা ও সহমর্মিতা আমাদের প্রভাবিত ও তাড়িত করছে না । আমাদের বোধ বিবেকের মহামারীকে এ সময়ে নিয়ন্ত্রণ এবং অসৎ মানসিকতা প্রতিরোধ করা দরকার। বিবেক যদি আমাদের পরিচালক না হয় তবে করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থেকে বিবেকহীন মানুষ হয়ে আমরা যে জীবনের দিকে যাব তাকে জীবন বলে ভাবার কথা অর্থহীন। আসুন আমরা বিবেককে জাগিয়ে সামাজিকতার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না করে সহমর্মী হয়ে সমষ্টির স্বার্থ বিবেচনায় এনে এ সংকটকে মোকাবেলা এবং উত্তরণের পথে নিজেদের নিয়োজিত করি। সর্বোপরি মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে নিজেকে বিকশিত করি । মেয়র বলেন, বিশ্বের সব দেশেই জীবন সংহারী এ ভাইরাস প্রতিহত করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশেও ভাইরাসটি প্রতিহত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় ব্যক্তিগত সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনার ছোবল থেকে বাঁচা অনেকটা সহজ। এ ব্যাপারে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব।
চট্টগ্রামে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে ডা. শহিদুল আনোয়ার নামে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হলেও ফুসফুস এবং হার্টের জটিলতায় ভুগছিলেন। বুধবার (২৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা থেকে সুস্থ হলেও তার ফুসফুসের বেশ ক্ষতি হয়। ডা. শহিদুল আনোয়ার আগে থেকে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।
লকডাউন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা কাছের স্বজন: মেয়র নাছির
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন চলাকালে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের অবরুদ্ধ মানুষের কাছের স্বজন ও ভালো বন্ধু অভিহিত করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, এ জন্য তাদের জানতে হবে, শিখতে হবে কীভাবে মানুষের মন জয় করে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে করোনা সংক্রমণমুক্ত থাকা যায়। মনে রাখতে হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ ও অভ্যাসগত নেতিবাচক প্রবণতা পরিহার এবং প্রচলিত বেপরোয়া জীবনাচারের পরিবর্তন না হলে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি সুদূর পরাহত-এ বার্তা স্বেচ্ছাসেবকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তবে লকডাউন কোথায় কীভাবে-কখন হবে এবং সংক্রমেণের হার প্রবণ এলাকা সুনির্দ্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে শুধু সেখানে তা প্রয়োগ করার বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পজেটিভ ক্যাম্পেইন পাওয়ার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্বের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। আমাদেরও ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সে সম্পর্কে ধারণাও ছিল না। শুরুতেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়হীনতা ছিলো। এসব নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, তবে পরামর্শও থাকতে হবে। তাই কখন-কোথায়-কী ভুল হয়েছে, কেন হয়েছে সে কথা বার বার না লিখে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, কী করা যায় সেই পরামর্শ ও পথ বাতলে দিলে আমরা অবশ্যই গ্রহণ করবো। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটি চট্টগ্রাম মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আইইডিসিআর ও সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত রেড জোন ৪, ৮, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের কোভিড-১৯ কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং সংক্রান্ত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রেড জোন চিহ্নিত এলাকায় লকডাউন কার্যকর করতে প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল স্বেচ্ছাসেবকরাই অবদান রাখতে পারেন। এ পরিস্থিতি প্রত্যেকের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিজের সুরক্ষা নিজেরই হাতে। এ বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অনেকেই আমলে আনছেন না। এ উদাসীনতাও একটি মারাত্মক ব্যাধি। তিনি একাজটি করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে শারীরিকভাবে সরাসরি যেতে হবে না। এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে। কর্মশালায় কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ বাচ্চু, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আসিফ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, কর্মশালার আইইডিসিআরের প্রশিক্ষক ডা. মোহাম্মদ ওমর কাইয়ুম, ডা. তৌহিদুল আনোয়ার খান, ডা. তাহমিনা করীম, ডা. হায়দার, ডা. নাবিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ে অভিযান: ৩৫০ স্থাপনা উচ্ছেদ, ১০ জনের জেল
২৪,জুন,বুধবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোড এলাকায় পাহাড় দখল করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা ৩৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। উচ্ছেদ কাজে বাধা দেওয়ায় দায়ে এই সময় ১০ জনকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সিডিএ লিংক রোড এলাকার পাহাড়ে সিটি করপোরেশন, সিডিএ, পরিবেশ অধিদফতর, সিএমপিসহ সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। অভিযানে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায়, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম, আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুস সামাদ, চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ এবং হাটহাজারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্ল্যাহ নেতৃত্ব দেন। অভিযানে সিডিএ লিংক রোডের দুইপাশের ১৬টি পাহাড় থেকে প্রায় ৩৫০টি ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। বায়েজিদ প্রান্ত এবং সীতাকুণ্ড প্রান্ত থেকে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদফতরের দুইটি টিম ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানের শুরুতে হাটহাজারী উপজেলার জালালাবাদ মৌজা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী দল পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বসবাসকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তাদের হামলায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী দলের দুই কর্মী আহত হন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী দলের দুই কর্মীকে মারধর করায় ১০ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযান দুইপ্রান্ত থেকে শুরু হয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান ক্যাম্পাস এলাকায় এসে শেষ হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম নিউজ একাত্তরকে বলেন, করোনা ভাইরাস দুর্যোগ পরিস্থিতিতে এপ্রিল-মে মাসে নবনির্মিত সিডিএ লিংক রোডের দুই পাশের পাহাড় কেটে ব্যক্তিগত ও সরকারি জমিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রচুর অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এইসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বুধবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা ৩৫০টি ঘর-বাড়ি উচ্ছেদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ এর ৩০টি মিটার জব্দ করা হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় বিনা মালিকানার জমিতে কীভাবে বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দেওয়া হলো তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এবং জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। অভিযানে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অধিদফতরের পরিচালক (মেট্রো) নুরুল্লাহ নূরী, পরিচালক (অঞ্চল) মোয়াজ্জেম হোসেন। রেলওয়ের পক্ষে ছিলেন এস্টেট অফিসার মাহবুবুল আলম। সিমএমপি টিমের নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রাণ তালুকদার।
চট্টগ্রামে প্রথম প্লাজমা নেওয়া ডা. সমিরুল আর নেই
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম প্লাজমা থেরাপি নেওয়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সমিরুল ইসলাম আর নেই। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির মহাব্যবস্থাপক ডা. মোহাম্মদ সেলিম। ডা. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, গত ১৩ জুন থেকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছিলো। করোনার কারণে তার ফুসফুসে যে ক্ষতি হয়েছে তা সারানো যায়নি। হঠাৎ ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হলে আমরা তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেই। তারপরও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর আগে প্লাজমা দেওয়ার পর গত ৩১ মে দ্বিতীয় দফা করোনা টেস্ট করানো হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে। সেই সময় ডা. সমিরুলের চিকিৎসাসেবা দেওয়া চমেক হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ করোনার কারণে তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানান। গত ২৬ মে রক্তের প্লাজমা দেওয়া হয় চমেক হাসপাতালের এ চিকিৎসককে। এর আগে ডা. সামিরুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে ১১ দিন বাসায় চিকিৎসা নেন। গত ২১ মে তাকে চমেক হাসপতালের একটি কেবিনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর