বিজেএমসি বন্ধ করে দেয়া উচিত :অর্থমন্ত্রী
সরকারের লোকসানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) একেবারে বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পাটের বিকাশে বাধা অর্থমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের এমন অভিযোগের দুই দিনের মাথায় এই মন্তব্য করলেন মুহিত। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির স্মরণিকা ‘প্রয়াস’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। গত সোমবার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পাট নিয়ে অর্থমন্ত্রী নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অর্থমন্ত্রীর এ নেতিবাচক মনোভাবের প্রভাব অর্থ মন্ত্রণালয়েও পড়েছে। ফলে পাটের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাট প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। সুতরাং এটার ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। অসুবিধা যেটা আমাদের হয়, পাটকে আমরা রিভাইস করতে চাই। পাটের একটা নতুন বাজারও সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রিভিশনের প্রক্রিয়াটা আমার ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ওল্ড বিজেএমসি’র এক্সিসটেন্সের (থাকার) কোন প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। আমি তাদের (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়) বলেছি বিজেএমসির কোন জায়গা নেই এই নতুন ব্যবস্থায়। নতুন ব্যবস্থা আমরা বলছি পিপিপি (সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব) প্রজেক্ট হবে সবগুলো। সেখানে বিজেএমসি ইট সুড বি অ্যাবুলিশ (বিলোপ করা)। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি একদম বন্ধ করে দেয়া উচিত। ইট সুড নট হ্যাভ এনি এক্সিসটেন্স, মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়ের একটা সেল থাকবে, তারাই সব দেখবে। আমি তাদের অফিসিয়ালি পর্যন্ত বলেছি। বাট দে ডু নট অবলাইজ। তারা বিজেএমসির খপ্পরে পড়েছে। বিজেএমসি বহাল তবিয়তে রয়েছে।
বছরের ব্যবধানে ডলারপ্রতি দাম বেড়েছে ৪ টাকা
বছরের ব্যবধানে ডলারপ্রতি দাম বেড়েছে ৪ টাকা : বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, বিপাকে ভোক্তারা হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। বিশ্বব্যাপী ক্রয় বিক্রয়ের বিনিময়ের অন্যতম এই মুদ্রাটির বাজারে (বিনিময় মূল্য) যেন আগুন লেগেছে। জুলাইয়ে যে ডলারের দর ছিল ৮০ দশমিক ৬৬ টাকা; গত বৃহস্পতিবার সে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৫ দশমিক ২৫ টাকায়। জুন থেকেই দেশে ডলারের বাজারে সংকট চলছে। বাজারে ডলার ছেড়েও সক্রিয় সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। অথচ গত অর্থ বছরে কোন ডলারই বিক্রি করতে হয়নি। আর তাই ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রতিনিয়তই কমছে। এক বছর আগের চেয়ে এখন বেড়েছে প্রায় চার টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি বৈঠকও করেছে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)। সংগঠনটি ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডলারের দর বাড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এদিকে গত বছরের নভেম্বর মাসে ডলার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে তিনটি বিদেশী ও ১৭টি দেশীয় ব্যাংককে সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও থামানো যায়নি ডলারের উচ্চ মূল্য বৃদ্ধি। এদিকে ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় বাড়ছে আমদানি ব্যয়। এটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য এক শতাংশ বাড়ার অজুহাতে দেশের আমদানিকারকরা পণ্যের মূল্য দুই শতাংশ বাড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ ভোক্তার ভোগান্তিও বেড়ে যায়। অপরদিকে আমদানির তথ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকেও এর একটি কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তাই কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নয়, আমদানি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির গতি ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ডলার সংকট আরও তীব্র হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের ধারণা, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কথা ঠিক যে আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আমদানি ব্যয় যেভাবে বাড়ছে; রপ্তানি আয় তার চেয়ে অনেক কম হারে বাড়ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতিও খুব বেশি নয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দর বাড়ছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়টি হল, বিরাট একটা অংশ বিদেশে পাচার হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থার বরাত দিয়ে ফরাসউদ্দিন গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। আহসান মনসুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এটা হয়ে আসছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ কারণে এটা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সজাগ দৃষ্টি দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ মোট দুই হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে এক হাজার ৭৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই হিসাবে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। অর্থবছর শেষে এই ঘাটতি ১৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। যদিও বাণিজ্য ঘাটতি কখনোই ১০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেনি। আর তাই বাণিজ্য ঘাটতি বৈদশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ কারণে চলতি অর্থ বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবেই স্থানীয় মুদ্রার মান ৩ টাকা ৬৪ পয়সা হ্রাস পেয়েছে। যদিও বাস্তবে এটা ৫ টাকার বেশি। এতে করে চাপে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই শেষে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮০ দশমিক ৬৬ টাকা। গত জানুয়ারি শেষে এই দর বেড়ে হয়েছে ৮২ দশমিক ৯০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার ডলার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৫ দশমিক ২৫ টাকায়। গত সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২০ ফেব্রæয়ারি প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ৭৯ টাকা ৩০ পয়সা। এ বছরের ২০ ফেব্রæয়ারি প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হয়েছে ৮২ টাকা ৯৪ পয়সা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ডলারপ্রতি দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৬৪ পয়সা। যদিও বাস্তবে তা আরও বেশি। গত বৃহষ্পতিবারও ব্যাংকগুলোর ঘোষিত প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংক ঘোষিত দামের চেয়েও দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দরে ডলার বিক্রি করে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে রফতানি ও রেমিটেন্স প্রবাহ কম হওয়ায় ডলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোন কোন ব্যাংক ডলার ধরে রেখে ব্যবসা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলোর আয়ের একটি বিশেষ অংশই ডলার কেনাবেচা থেকে হচ্ছে। সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শকোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বিক্রি করেছিল মাত্র ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিপরীতে কিনেছিল ১৯৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত কয়েক মাসে বাজারে প্রচুর ডলার ছেড়ে দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য গত দুই-তিন মাসে দাম ব্যাপকহারে না বাড়লেও ডলারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এক বছর আগের চেয়ে এখন বেড়েছে প্রায় চার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, আন্তঃব্যাংক দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ডলার প্রতি আরও প্রায় দেড় টাকা বেশি রাখছে আমদানি পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে। গত বৃহস্পতিবার ডলারের আন্তঃব্যাংক দর ছিল ৮২ দশমিক ৯৬ টাকা। অন্যদিকে আমদানি পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর ডলারের দর ছিল সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ টাকা। বিদেশি ওরি ব্যাংকের ডলারের দর ছিল আন্তঃব্যাংক দরের থেকেও কম, ৮২ দশমিক ৪০ টাকা। ওই দিন বেশির ভাগ ব্যাংকেরই নগদ ডলারের দর ছিল ৮৪ দশমিক ৩০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩০ টাকার মধ্যে। সূত্রমতে, বৈদশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয়। কয়েকটি ব্যাংকও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলারের প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের তথ্য গোপন করছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। অন্যদিকে আমদানিকারকদের পাশাপাশি সাধারণ বিদেশগামী রোগীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, বিশেষ একটি গোষ্ঠী হুন্ডির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচার বাড়িয়ে দেওয়ায় টাকার বিপরীতে হু হু করে দাম বেড়ে চলেছে ডলারের। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থ। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে এসব দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রাসাদ গড়ে তুলছে চিহ্নিত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অনেকে বাণিজ্যিক ভবনও ক্রয় করছেন। আবার কেউ কেউ ভুয়া এলসি অথবা ওভার ইনভয়েস করে অর্থ পাচার করছেন বিভিন্ন দেশে। অব্যাহতভাবে ডলারের দাম বাড়ায় সংকটে পড়েছেন আমদানিকারকরা। তাই বাড়ছে আমদানি ব্যয়। ফলে আমদানি পণ্যের দামও বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক অর্থনীতিতে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং দেশের বৈদেশিক লেনদেনে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা পূরণ করতে পর্যাপ্ত ডলারের জোগান দিতে গিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। যে কারণে সাপ্রতিক সময়ে ডলারের দরে কিছুটা উর্ধমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত মঙ্গলবার বৈঠক করেছে বাফেদা। সংকট উত্তোরণের বিষয়ে বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- বাজারের পরিস্থিতি ও ব্যাংকগুলোর সংকট নিয়ে বাফেদার পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাবনা তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করা। এছাড়া রফতানি আয় বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ এবং রেমিটেন্স বাড়াতে জোরালো পদক্ষে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাফেদা চেয়ারম্যান সোনালী ব্যাংকের সিইও ও এমডি মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ইনকিলাবকে বলেন, ডলারের দর বৃদ্ধির প্রধান কারণ আমদানি বৃদ্ধি। ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র খোলার তুলনায় নিষ্পত্তি কম। চাহিদার তুলনায় যোগানের স্বল্পতার কারণে দর বাড়ছে। পাশাপাশি রপ্তানি ও রেমিটেন্স প্রবাহ কম হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। রেমিটেন্স বাড়লে আস্তে আস্তে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বায়েদার সভায় টেকনিক্যাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়ার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। এছাড়া বাফেদার পক্ষ থেকে বিদেশী মুদ্রার বাজারের ওপর প্রতিনিয়ত নজরে রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া ইনকিলাবকে বলেন, আজ (রোববার) সভা রয়েছে। সভায় ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণ তুলে ধরা হবে। মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘সময়ে সময়ে ডলারের দাম বাড়ে। পেমেন্ট প্রেসার ও ডিমান্ড ও সাপ্লাই ব্যবধানের কারণেও হয়ে থাকে। তবে কিছুদিন থেকে এটা একটু বেশি বেড়েছে।পাশাপাশি বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে অনেক খরচ হচ্ছে। গত বছর বন্যায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যশস্য আমদানি অনেকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় রফতানি আয় না বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে এর দরকে একটু একটু করে বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডলার ছেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে রেমিটেন্স প্রবাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। আরও বাড়বে। তাই তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই ডলারের বাজার ঠিক হয়ে যাবে। সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসেই এলসি খোলার পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বছর শেষে এই অঙ্ক ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমদানি বাড়ার কিছু ক্ষেত্র যেমন বড় উন্নয়ন প্রকল্পের যন্ত্রাংশ উপকরণ আমদানি বেড়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৬ শতাংশ। যেখানে রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এই সময়ে খাদ্য (চাল ও গম) আমদানি বেড়েছে ২১২ শতাংশ। শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশের মতো। জ্বালানি তেলের আমদানি বেড়েছে ২৮ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ (৯০০ শতাংশ) বেশি। সাধারণত চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি তৈরি হলে দেশকে ঋণ করে ওই ঘাটতি মেটাতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে তিন হাজার ২৭৬ কোটি ডলারের বেশি বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। ডলারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৫০ কোটির বেশি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকের মতো মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ডলারের দর বেড়েছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহে বিভিন্ন মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ডলার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৫ টাকায়। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আমদানি এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পরিমাণ রফতানি আয় ও রেমিটেন্স দেশে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে খোলা এলসিগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। ফলে বাজারে ডলার সংকট আরো তীব্র হবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আমাদের পাশে চাচ্ছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদার আলোকে বাজারে ডলার ছাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। অন্যথায় বিদ্যমান সংকট আরো তীব্র হয়ে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তী বলছেন, ডলারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার প্রয়োজন নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার কোন প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। শর্ত পূরণ করলেই জিএসপি সুবিধা দেয়া হবে--মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা যতই অগ্রগতি করি না কেনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দেবে না। আর আমাদের সুবিধার প্রয়োজনও নেই।' তোফায়েল আরও বলেন, সব শর্ত পূরণ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ সুবিধা দেবে না। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে এ সুবিধার আর দরকার হবে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, 'আমরা অচিরেই স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে চলেছি। তাই জিএসপির প্রশ্নই ওঠে না। তখন জিএসপির প্রশ্ন উঠবে আমাদের সাথে ইইউ'র সঙ্গে। যাদের কাছ থেকে আমরা জিএসপি প্লাস চাইবো।' বাংলাদেশের সামান্য পণ্যতে জিএসপি পেতাম উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'ইইউ'র জিএসপি আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি এক নয়। আমরা শুধু তামাক, সিরামিক, প্লাস্টিক এরকম ৩-৪টি পণ্যের ওপর জিএসপি পেতাম। তৈরি পোশাকে দিতো না। মাত্র ২৫ মিলিয়ন ডলারের উপর আমরা জিএসপি পেতাম। অথচ আমরা রপ্তানি করি ৬ বিলিয়ন ডলারের মত।'
বস্ত্র আইন ২০১৮ খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রফতানির গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ বস্ত্র আইন-২০১৮ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই নতুন আইনের লক্ষ্যই হচ্ছে বস্ত্রজাত পণ্যের মান বজায় রাখা, কারণ তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করছে। তিনি বলেন, গত বছরে দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮৩ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে। গত অর্থ বছরে ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। তিনি বলেন, খসড়া আইনের সেকশন ৬ অনুযায়ি, আইনটি প্রণয়নের লক্ষ্য অজর্নে যে কোন বস্ত্র শিল্পের জন্য সরকার ইনসেন্টিভ দিতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের আলোকে একটি অধিদপ্তর গঠিত হবে। সরকার সংস্থার প্রধান হিসাবে একজন মহাপরিচালক নিয়োগ দেবে। সংস্থার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, ডিজি সংস্থার রেজিষ্টার হিসাবে কাজ করবেন। উৎপাদিত পণ্যে ব্যবহৃত রং ও অন্যান্য কেমিকেলসহ অন্যান্য বিষয়ের মান যাচাই করে দেখতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকবেন। তিনি আরো বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শাস্তির বিধান সম্পর্কে বলেন, নিবন্ধন নেয়ার সময়ে কোন মিথ্যা তথ্য দেয়া হলে সংস্থা কোম্পানিটির নিবন্ধন বাতিল অথবা স্থগিত করতে পরবে। তিনি বলেন, সরকার বায়িং হাউজগুলোও রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসবে। গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান ও নবায়ন করা হবে। শফিউল আলম বলেন, আইনে উল্লেখিত বিধানের আলোকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যে কোন শিল্প পরিদশর্ন করতে পারবে। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সরকারকে দিতে পারবে। যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করতে পারবে। শফিউল আলম বলেন, সরকার অথবা অধিদফতরের নির্দেশে নির্ধারিতব্য শর্ত অনুযায়ি, যে কোন ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা অথবা সংস্থাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেলা সদরে এক বা একাধিক শিশু ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের বিধান রেখে আজ মন্ত্রিপরিষদ শিশু (সংশোধিত) আইন, ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, মামলার প্রক্রিয়ায় যাতে বিলনা ঘটে সে জন্য পুনরায় এই আইনকে বিস্তৃত ও উন্নত করে শিশু আইন, ২০১৩ সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছিলো। তিনি বলেন, সংশোধিত খসড়া আইন অনুযায়ী, এই আইন বিদ্যমান নারী ও শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু ট্রাইব্যুনাল হিসেবে কাজ করবে। যা শিশুদের দ্বারা অপরাধ সংঘটন না করার অঙ্গীকারের চেষ্টা করবে। মন্ত্রিপরিষদ ;বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধনী) আইন, ২০১৮-এর খসড়ারও সম্মতি দিয়েছে। যাতে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে কর্মচারি হিসেবে উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। আলম বলেন, এই আইনটি বিদ্যমান ২০০৪ সালের আইনের সংশোধন করে খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে বোর্ডের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয় এবং গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ের কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। খসড়াটি আইন অনুযায়ী যে কোনো কর্মচারি বেনেভোলেন্ট ফান্ড-এ তার মূল বেতনের শতকরা এক ভাগ সঞ্চয় জমা করবে। যা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ৫০ টাকার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হবে। এ ছাড়া গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম হবে শতকরা শূন্য দশমিক ৭০ ভাগ, যা বিদ্যমান টাকার স্থলে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা হবে। একজন কর্মচারি একবার সাধারণ চিকিৎসা মঞ্জুরি হিসেবে বিদ্যমান ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা পাবেন। অন্যদিকে যে কোন কর্মচারি দাফনের জন্য বিদ্যমান ৫ হাজার টাকার স্থলে ১০ হাজার টাকা প্রাপ্য হবেন। এ ছাড়া একজন কর্মচারি যৌথ বীমা মঞ্জুরি হিসেবে একবারে এক লাখ টাকার স্থলে দুই লাখ টাকা পাবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিদ্যমান আইনকে আরো সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর খসড়ারও অনুমোদন দিয়েছে। আলম বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং চায়না হুয়াদিয়ান হংকং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে ৫০:৫০ অংশীদারিত্বে ১৩২০ মেগাওয়াট বিশিষ্ট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে যৌথ কোম্পানি গঠনের যৌথ চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দেয়। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ এই কোম্পানির সংঘস্মারক এবং আর্টিক্যালেরও অনুমোদন প্রদান করে।
আরো একধাপ বাড়লো চাল, পেঁয়াজের দাম
রাজধানীর পাইকারি বাজারে আবারো বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। আড়তদারদের অতি মুনাফা আর বাড়তি মজুতদারির কারণেই চালের দাম কমছে না বলে দাবি পাইকারদের। রসুন আর আলুর দামে স্বস্তির খবর থাকলেও দাম বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার। মসলার বাজার কিছুটা বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরনের ডালের দাম। তবে হঠাৎ করেই বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীর চালের বাজারে নেই তেমন কোন স্বস্তির খবর। সপ্তাহ ব্যবধানে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে সবধরনের চালের দাম। শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হওয়ারও কোন সুখবর নেই পাইকারদের কাছেও। তবে বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মিল পর্যায়ে মনিটরিং করলে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, 'যে মিনিকেট বিক্রি করেছি ৩ হাজার টাকা আজ সেটা বিক্রি করছি ৩ হাজার ৬৫ টাকা। ২৫ বিক্রি করতাম আড়াই হাজার টাকা সেটা আজ বিক্রি করছি পঁচিশ' পঞ্চাশ টাকা।' আরেক পাইকার বলেন, 'বর্তমানে অটোরাইসমিলের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। যে পরিমাণ ধানের প্রয়োজন সেটা বাজারে নেই। প্রতিযোগিতা করে ধান কিনে এই মিল মালিকরা। এতে ধানের দাম বেশি হয়। এতে করে চালের দামও বেড়ে যায়। এটা যদি সরকার মনিটরিং করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার তাহরে বাজার শিথিলই থাকবে।' পাইকারি পর্যায়ে রসুন আর আলুর দাম কমলেও ৩ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। তবে সরবরাহ ভালো থাকায় শিগগিরই দাম কমার ব্যাপারে আশাবাদী পাইকাররা। মসলার বাজারে জিরা আর এলাচের দাম কিছুটা বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে সবধরনের ডালের দাম রাজধানীর পাইকারি বাজারে ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১০ টাকা বেড়ে ৫শ' ১০ টাকা আর ২ থেকে তিন টাকা বেড়ে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৩ টাকায়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার , বিমানে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো
ঢাকা-লন্ডন রুটে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আজ রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানান। এরপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসংক্রান্ত পত্র বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের কাছে হস্তান্তর করেন। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ থেকে যেকোনো পণ্য যেকোনো বিমানে করে লন্ডনে পাঠানো যাবে। অ্যালিসন ব্লেক বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও দুই দেশের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই সমস্যা চিহ্নিত করে সেখান থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্লেক বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বা প্রত্যাহার কোনোটাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। সম্পূর্ণ নিরাপত্তার কারণেই এটা করা হয়েছিল। বিমানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য তাদের এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় অস্ট্রেলিয়াও তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে, এমনটা আশা করা যায়। ২০১৬ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাজ্যের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে কার্গো পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া।
বেড়েছে চালের দাম, কমেছে পেঁয়াজ-রসুনের
কয়েকদিনের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত। সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও আড়তদাররা বলছেন আমদানি করা চালের মূল্য বেশি হওয়ায় প্রভাব পড়েছে দেশিয় চালে। তবে গেল সপ্তাহের তুলনায় কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দর। অন্যদিকে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে খোলা তেলের দর। কিছুদিন আগেই বাজারে এসেছে নতুন আমন চাল। পাশাপাশি আমদানি করা চালের সরবরাহও রয়েছে যথেষ্ট। দু'য়ে মিলে বাজারে চালের কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু তার কোন প্রভাবই নেই চালের বাজার দরে। উল্টো গেল কয়েকদিনে কেজিতে ১ থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বাজারের সব ধরনের চালের দাম। দোষটা বরাবরই বাড়তি পরিবহন খরচ আর মিলমালিকদের ঘাড়েই চাপাচ্ছেন চালের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এক ব্যবসায়ী বলেন, 'এই সময়ে দেশের বাজারে চালের দাম একটু বাড়েই। যেহেতু আমরা পরনির্ভরশীল, ভারত থেকে চাল না আসলে আমাদের চালের বাজার স্থিতিশীল থাকে না। ভারতের বাজারে চালের দাম বেশি তাই আমাদের এখানেও দাম বেড়েছে।' তবে ক্রেতাদের জন্য সুখবর রয়েছে পেঁয়াজ-রসুনের বাজারে। গেল সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দর। আদা কমেছে ১০ টাকা পর্যন্ত । কমেছে রসুনের দরও। বাজারে সব থেকে কম টাকায় মিলবে আলু। কেজি প্রতি মাত্র ৮ থেকে ১১ টাকায় পাইকারি দরে চলছে এই নিত্যপণ্যটি। নিত্যপণ্যের বাজারে ডালের পাইকারি দর আগের মত থাকলেও খোলা তেলের দর বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত। এক ব্যবসায়ী জানান, 'ডালের ডাম আগের মতোই আছে। ভারতীয় মসুর ডাল ৫৫টাকা এবং দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫টাকা কেজি দরে।' এদিকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মসলা।
হটাৎ বেড়েছে চালের দাম
ঢাকার বাজারে হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের চাল কেজি প্রতি দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। ঢাকার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে কয়েক দিন আগে মোটা চালের কেজিপ্রতি দর ছিল ৩৮ টাকা, যা এখন দেড় টাকা বেশি। মাঝারি মানের বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। ভালো মানের মিনিকেট চালের দামও কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ৫০ পয়সা ও ভারতীয় মিনিকেট ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দর আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেশি পড়ছে। কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির মহিউদ্দিন রাজা বলেন, চালের দাম বেড়েছে মূলত ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায়। বেনাপোল থেকে আসতে প্রতি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা, যা এখন হয়েছে ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে একটি ট্রাকে ২০ টনের জায়গায় চাল আনা যাচ্ছে ১৩ টন। ঢাকা-বেনাপোল পথের পাশাপাশি অন্যান্য পথেও ট্রাকভাড়া বাড়তি দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাস্তার ক্ষতি এড়াতে সরকার অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। মহাসড়কের ওজন স্কেলগুলোতে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছে। গত বোরো মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল থেকেই বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ওঠে ৫০ টাকায়, যা কয়েক বছর ৩৫ টাকার নিচে ছিল। এরপর আমদানি বাড়ায় দাম কিছুটা কমে যায়। জানুয়ারিতে আমন মৌসুমের চাল বাজারে আসার পর দাম এক দফা বেড়েছিল। এখন আবার এক দফা বাড়ল। কুষ্টিয়ার মোকামেও সরু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পৌরবাজার চালের আড়তে গত সপ্তাহে মিলগেটে মিনিকেট চাল বিক্রি হয় ৫৮ টাকা কেজি দরে, যা এখন ৬০ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে তা ভোক্তারা কিনছেন ৬২ টাকা দরে। মিলমালিকেরা বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। পৌরবাজারের চাল ব্যবসায়ী শাপলা ট্রেডার্সের মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ দিন আগে কুষ্টিয়ার বড় চালকল বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুড হঠাৎ মিনিকেট চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতেই বাজারে প্রভাব পড়ে। বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুডের মালিক বায়েজীদ বিশ্বাস মূল্যবৃদ্ধির জন্য ধানের চড়া দামকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়ে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মিনিকেট চালের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা ছাড়াই চাল আনতে পারবে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশ থেকে চাল আমদানির জন্য তেজস্ক্রিয়তা সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব দেশ থেকে চাল আনতে পারবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মানবদেহে ক্যানসারসহ নানা রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চাল আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। তাদের যুক্তি, পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে এই সনদ নিতে না হলে চাল আমদানিতে সময় কম লাগবে এবং টাকা সাশ্রয় হবে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসার, লিউকেমিয়া, বন্ধ্যাত্ব, চুল পড়ে যাওয়া, জেনেটিক পরিবর্তনসহ মানবদেহের ভয়ানক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানবদেহে নানা রকম ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে। মানসিক বিকার এমনকি বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। চট্টগ্রামের পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের পরিচালক শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসিয়ান দেশগুলোকে সুযোগ-সুবিধা দিতেই একটি মহল হয়তো এমন অনুরোধ করছে। কিন্তু কোনোভাবেই এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমদানি করা চালে ক্ষতিকর কিছু আছে কি না, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষা না করে তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই এটা তুলে দিলে ঝুঁকি থাকবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মূলত ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির সময় সনদ সংগ্রহের জন্য তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার বিষয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের ফি পাঠানোর বিষয়টি জানিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিল চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। তাঁরা বলেছিলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে করা চুক্তিতে বলা আছে, তেজস্ক্রিয়তার বিনির্দেশ মাত্রা পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে যাচাই করতে হবে। তাই ২২ লাখ টাকা পাঠাতে অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু মন্ত্রণালয় টাকা না পাঠিয়ে এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন বলে জানান। আর খাদ্যসচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন, যেখান থেকেই চাল আমদানি করা হোক না কেন, অবশ্যই তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করা উচিত। আমদানি নীতিতে বলা আছে, সার্কভুক্ত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকে সরাসরি চাল, গম ও অন্যান্য খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করতে হবে। তবে তিনটি শর্ত পালন করলে এই বাধ্যবাধকতা শিথিলযোগ্য হতে পারে। এর মধ্যে রপ্তানিকারক দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অনুমোদিত সংস্থার ইস্যু করা উৎস দেশসংক্রান্ত সনদ (সার্টিফিকেট অব অরিজিন) যদি থাকে, যদি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে প্রত্যয়নপত্র শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে দিতে পারে এবং পচনশীল খাদ্যর ক্ষেত্রে ওই দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে তেজস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত সনদ নেওয়া হয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এসব সনদ জমা দেয় না বলে পরমাণু শক্তি কমিশনের সূত্র জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাজমা শাহীন বলেন, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। চুক্তিতে বলা থাকলে অবশ্যই আমদানি করা চাল পরীক্ষা করতে হবে, সেটা যে দেশ থেকেই হোক।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর