বুধবার, জানুয়ারী ২০, ২০২১
চট্টগ্রামের প্রথম রেড জোনে মধ্যরাত থেকে কড়া লকডাউন শুরু
১৬জুন,মঙ্গলবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের প্রথম রেড জোন হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড লকডাউন হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার) মধ্যরাত থেকে। রাত ১২টার পর থেকে লকডাউন কার্যকর হবে। সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে চট্টগ্রাম নগরের ১১টি জোনকে রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করেছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করবে সিটি করপোরেশন। তাই সিটি করপোরেশনের নিজেদের সুবিধার জন্য এটিকে ১০টি ওয়ার্ডে ভাগ করে নিয়েছে। মূলত প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় বিগত ১৪ দিনে ৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে- এমন এলাকাগুলোকেই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জেলার প্রথম রেড জোন উত্তর কাট্টলী লকডাউন হচ্ছে আজ মধ্যরাত থেকে। লকডাউন চলাকালীন রেড জোন ঘোষিত এলাকায় প্রবেশ ও বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ লক্ষ্যে ওই এলাকার ২০টি প্রবেশপথ চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রবেশপথগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কর্নেল টোল রোড, ঈশান মহাজন রোড, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, সাগরিকা বিটেক রোড, কৈবল্যধাম রোড, নিউ মনছুরাবাদ রোড, সিডিএ আবাসিক রোড, সাগরিকা আলিফ রোড। এছাড়া প্রধান সড়কে কোনো প্রকার যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না দূরপাল্লার গাড়ি, তবে রাত ১২টার পর পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। প্রাথমিকভাবে ২১ দিনের জন্য এই লকডাউন কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করোরেশন। আর এই এলাকায় সেনাটহল থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। তবে এ সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীসহ জরুরি সেবায় যারা নিয়োজিত তাদের বের হতে দেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য মহল্লাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিমও কাজ করবে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো হলো- ০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪ এবং ০১৮১১-৮৮৭০৮৪। লকডাউন কার্যকর থাকাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারা যেকোনো সমস্যা এসব নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন। হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সামর্থ্যবানদের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যানে বা ই-কমার্সের আওতায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জরুরি ওষুধ ন্যায্যমূল্য সরবরাহ করা হবে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ১৬ তারিখ মধ্যরাত থেকে এই এলাকা পুরোপুরি লকডাউন থাকবে। যানবাহন চলবে না। বাসিন্দারা ঘরে থাকবেন। তাদের প্রয়োজন মেটাতে পাশে থাকবে সিটি করপোরেশন। মেয়র বলেন, আগামী ২১ দিন লকডাউন চলাকালীন এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য থাকবে সিটি করপোরেশনের একাধিক কন্ট্রোল রুম ও এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম। বিশেষ প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে মিলবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা প্রতিটি ঘরে জিনিসপত্র পৌঁছে দেয়া হবে। চসিকের পক্ষ থেকে চলবে দিনভর প্রচারাভিযান ও লিফলেট বিতরণ।
স্বামীর নির্যাতনের শিকার করোনা যোদ্ধা স্ত্রী ডা. নাজমা
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে একরকম যুদ্ধ করছেন ডা. নাজমা আক্তার। তিনি চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসক। আর এরমধ্যে তাঁকে সইতে হচ্ছে স্বামীর নির্মম নির্যাতন। বিয়ের চার বছর সংসার করলেও তাঁকে ঘরে তোলা হয়নি এখনো। আর ঘরে তোলার কথা বললেই শুরু হয় মারধর। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। মিথ্যা মামলাসহ এসডি মেরে প্রাণনাশের হুমকি। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত কচির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন ডা. নাজমা আক্তার নুর। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনও করেন তিনি। যেখানে স্বামী ইয়াসিন আরাফাত কচির নানা ধরণের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরেন স্ত্রী ডাক্তার নাজমা আক্তার। ডা. নাজমা আক্তার বলেন, চার বছর আগে ইয়াসিন আরাফাত কচির সাথে প্রেমের বিয়ে হয় আমার। বিয়ের সময় তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ পাবেন তিনি। এরপর আমাকে ঘরে তুলে নিবেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার পর ঘরে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে আমার উপর নির্যাতন শুরু করে কচি। নাজমা আক্তার বলেন, এমন পরিস্থিতে আমার দুইবার বেবি কনসিভ হয়। কিন্তু জোরপূর্বক আমাকে বাচ্চা নষ্ট করতে বাধ্য করে কচি। বার বার বাচ্চা এ্যাবরশান করার ফলে আমার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার কথা বললেও তিনি তা শুনেন নি। বরং বিয়ের কথা প্রকাশ করলে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দেন। ২০১৮ সালের ৫ জুন তিনি একবার ডিভোর্স দেন আমাকে। পরবর্তীতে আমি আমার ফেসবুক আইডিতে আমাদের কাবিননামাসহ বিয়ের কথা প্রকাশ করলে তিনি আমার কাছে মাফ চান এবং ডিভোর্স প্রত্যাহার করে নেন। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ঘরে তোলার কথা বলায় কচি আমার উপর আবার অত্যাচার শুরু করেছে। আমাকে প্রতিদিন সে মারধর করে যাচ্ছে। ডা. নাজমা বলেন, কচি অন্যমেয়ে নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে, কিন্তু আমাকে ঘরে তুলছে না। আমাকে আবার ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা ও এসিড মেরে আমার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসন ও দলের শীর্ষ নেতাদের সহায়তা কামনা করছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত কচি বলেন, ডা. নাজমা আক্তার আমার স্ত্রী ছিলেন। গত ৪ জুন তাকে আমি ডিভোর্স দিয়েছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমার মান-সম্মান ধুলোয় লুটাতে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করছে। তবে প্রশ্নের জবাবে স্ত্রী হিসেবে চার বছর সংসার এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে না তোলার কথা স্বীকার করেন ইয়াসন আরাফাত কচি। তিনি বলেন, আমার মা ও পরিবারের উপর অত্যাচারের কারনে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে। এরপর সংবাদটি প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানান তিনি। এদিকে কচি ও তার পরিবারের উপর অত্যাচারের কথা বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ডা. নাজমা আক্তার নুর।
মোটরসাইকেলে ঘুরে ছিনতাই করেন তারা
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ান তারা। ঘুরতে ঘুরতে সুযোগ বুঝে করেন ছিনতাই। রিকশা আরোহী, সাইকেল আরোহী, পথচারীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন মোবাইল ও টাকা। ছিনতাই শেষে মুহূর্তেই চম্পট দেন। খুলশী থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন একটি ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেফতার তিন ছিনতাইকারী হলেন- মো. সেলিম উদ্দিন প্রকাশ সবুজ, হৃদয় ও আবদুল্লাহ। এদের মধ্যে সেলিম ও হৃদয়ের বাড়ি সীতাকুণ্ডে এবং আবদুল্লাহর বাড়ি মিরসরাই বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রথমে সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। সেলিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রান তালুকদার নিউজ একাত্তরকে বলেন, তিন পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সেলিম নামে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যে বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেফতার তিনজন গত ২৪ মে রাতে খুলশী থানাধীন ফয়েজ লেক বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সামনে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এক বাই সাইকেল আরোহীকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। গ্রেফতার হৃদয় ও আবদুল্লাহকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান পরিত্রান তালুকদার।
অ জ্যাডা ফইরার বাপ, খ্যাত গানের গীতিকার ও শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন চিকিৎসা সহায়তা তহবিল গঠন
১৫জুন,সোমবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তী সৈয়দ মহিউদ্দীন (মহি ভাণ্ডারী) দীর্ঘদিন ধরে নানান জটিল রোগে ভুগছেন। করোনার এই সময়ে তিনি নগরীর চকবাজারস্হ মা মনি হাসপাতালে গত তিন মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় ওনার চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। চট্টগ্রামের গর্ব এই শিল্পীকে বাঁচাতে ওনার সম্মতিক্রমে শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন চিকিৎসা সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। চকবাজার থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ নাজিমউদ্দীন উদ্দীনকে আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নিবার্হী সদস্য, মানবিক সংগঠন মুসাফির এর আহ্বায়ক মুহাম্মদ মহরম হোসাইনকে সদস্য সচিব এবং সংগীত শিল্পী প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব, সাংবাদিক কমল দাশ ও চেরাগীর আড্ডা এডমিন সমাজ কর্মী শৈবাল পারিয়ালকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট- শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দীন চিকিৎসা সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই গুণী শিল্পীকে বাঁচাতে নিম্নলিখিত ব্যাংক/বিকাশ নম্বরে যে কেউ অংশ নিয়ে সাহায্য/সহযোগিতা পাঠাতে পারেন। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ সৈয়দ মহিউদ্দীন, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৭২৭০১০০০১৬৬৯ রূপালী ব্যাংক, পাঁচলাইশ শাখা, চট্টগ্রাম। বিকাশ পারসোনাল- ০১৮১৬৪৪৭৪৪৩ (প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব)। শিল্পী সৈয়দ মহিউদ্দিন এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ সৈয়দ মহিউদ্দিন দেশের সংগীত অঙ্গনের অতি পরিচিত এবং প্রিয় মুখ। চট্টগ্রামে অসংখ্য গুনী শিল্পীর তিনি ওস্তাদ। সঙ্গীতে পান্ডিত্য আছে, এমন গুনীজনরা সৈয়দ মহিউদ্দিনকে গুরু বলেই সম্বোধন করে। জীবনের সকল স্বাদ আহ্লাদকে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন সঙ্গীতের মাঝে। তাঁর গানের সাথে পরিচিত নয়, দেশে এমন সংগীত বোদ্ধা এবং শ্রোতা নেই বললেই চলে। জীবন শুরু করেছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। গীতিকার এবং সুরকার হিসেবে রয়েছে দেশজোড়া খ্যাতি। তাঁর রচিত এবং সুরারোপিত গান যা মানুষের মুখে মুখে। উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। অ জ্যাডা ফইরার বাপ, মেজ্জান দিয়ে মেজ্জান দিয়্যে আসকার ডি'র পুব পারত আঁ র ভাংগা চুরা ঘর, মন হাচারা মাঝি, পিরিত মানে ফুডুর ফাডুর, পাতা বালি, সাম্মান মাঝি সাম্মান বার, গিরাইল্ল্যা কচুর লতি, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জনক তিনি। সৈয়দ মহিউদ্দিনকে জীবনমুখী আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা বলা হয়। আধুনিক গানের ডামাডোলে যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান আকর্ষণ হারাতে বসেছিল তখনই হাতেগোনা যে কজন গীতিকার-সুরকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আবারও প্রাণ দিয়েছেন সৈয়দ মহিউদ্দিন তাদের মধ্যে একজন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের সঙ্গীত গুরু সৈয়দ মহিউদ্দিন। তাঁর কথা ও সুরে শেফালী-শ্যামের বহু গান আজো দাগ কাটে শ্রোতাদের হৃদয়ে, হয়েছে কালজয়ী। শেফালী-শ্যাম যুগের পর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আজও দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঠাঁই করিয়ে দেয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সৈয়দ মহিউদ্দিনের।
কাট্টলীতে মেয়রের মাইকিং, নিজেদের সুরক্ষায় ঘরে অবস্থান করুন
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রেড জোনে লকডাউন চলাকালে এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলছেন, প্রধান সড়কে কোনো যাত্রী উঠা-নামা চলবে না, তবে রাত ১২টার পর পণ্যবাহী গাড়ি চলবে। এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য থাকবে সিটি করপোরেশনের একাধিক কন্ট্রোলরুম ও এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে কন্ট্রোলরুমের নম্বরে যোগাযোগ করলে মিলবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা প্রতিটি ঘরে জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। সোমবার (১৫ জুন) নগরের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলীতে রেড জোন ঘোষণার আগে জনসচেতনতামূলক পরিদর্শনে মেয়র এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, সরকারি সাধারণ ছুটির ৬৬ দিন অতিবাহিত করেছি আমরা। শুধু উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ৭৮ হাজার মানুষের মধ্যে গত ১৪ দিনের হিসাবে ১৪৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও ৭ জন মারা গেছে, যা-কোন ভাবেই কাম্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে লাগাম টানতে ঘরে অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে, যা আগামী ২১ দিন বহাল থাকবে। মেয়র মাইকিং করে এলাকাবাসীকে লকডাউন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনায় বলেন, লকডাউন এখন সময়োচিত একটি পদক্ষেপ। তাই নিজেদের সুরক্ষায় ঘরে অবস্থান করে করোনা মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেজন্য আপনারা দৈনন্দিন প্রয়োজন সীমিত করে ঘরে অবস্থান করুন। অহেতুক কোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি ও চসিকের নির্দেশনা মেনে চলুন। প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা করা থেকেও বিরত থাকুন। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই সংগ্রহ করুন। তিনি বলেন, এলাকার নিম্নবিত্তদের মধ্যে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে। মুমূর্ষ রোগী পরিবহনে থাকবে অ্যাম্বুলেন্স। মোট কথা ঘরে থাকার নিশ্চয়তা দেবেন এলাকাবাসী আর আপনাদের প্রয়োজন মেটাতে আছি আমরা। এ ওয়ার্ড ছাড়াও নগরের আরও ৯টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধাপে ধাপে সেগুলো লকডাউন করা হবে। তবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এসব এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে না। এ সময় চসিক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈনুর রহমান, কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান আলি,ইকবাল চৌধুরী, মো. দুলদুল, সুদীপ কুমার দাশ, মো. ছগির আলম, নুর আলম, হায়দার আলী, মুজিবুর রহমান, রোমন উদ্দিন, হারুন উর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Rab-7 এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গণধর্ষণ মামলার আসামি নিহত
১৫জুন,সোমবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাঁশখালীতে Rapid Action Battalion (Rab)সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি নিহত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে বাঁশখালী উপজেলার মিয়ার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থ থেকে Rab সদস্যরা একটি অস্ত্র ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বলে নিউজ একাত্তরকে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, সোমবার ভোরে বাঁশখালীর মিয়ার বাজার এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে Rabর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ ও অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম আবদুল মজিদ (৩০)। তিনি গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি Rab। Rab-7 এর হাটহাজারী ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. মুশফিকুর রহমান নিউজ একাত্তরকে জানান, গত ২৭ এপ্রিল বাঁশখালীর বৈলছড়ি এলাকায় এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। আবদুল মজিদ ও তার দুই সহযোগী মিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ছিল। জানা যায়, ২৭ এপ্রিল গণ্ডামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই তরুণী তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজের সন্ধান করেন। ওই তরুণী বৈলছড়ী ঘোনাপাড়া এলাকায় এক মহিলার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে বখাটে আবদুল মজিদ ও তার দুই সহযোগী চাকরি দেওয়ার নাম করে ওই তরুণীকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়াস উদ্দিন (৪৮) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত গিয়াস উদ্দিন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের থানাদার বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা ওহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি ব্যাংক এশিয়া কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। বিষয়টি জানিয়েছেন গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বোরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ। বোরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ জানান, গিয়াস উদ্দিনের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল। রোববার সন্ধ্যার দিকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্বাসকষ্টের পাশপাশি তিনি স্ট্রোকও করেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আগে গিয়াস উদ্দিনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ ছিল।
করোনা উপসর্গ নিয়ে বেশি মৃত্যু চট্টগ্রামে
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা সংক্রমণের চেয়েও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি চট্টগ্রামে। একদিনে সর্বোচ্চ ৫ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হলেও উপসর্গ নিয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই আইসিইউ ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন সাপোর্টের অভাবে মারা গেছে। তবে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা নেই চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের কোথাও। এমনকি উপসর্গ নিয়ে মৃত কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে করোনার নমুনাও পরীক্ষা হচ্ছে না। যা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি সংকটাপন্ন অবস্থায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ সময় তাদের জরুরি দরকার আইসিইউ সম্বলিত ভেন্টিলেটর সুবিধা বা অক্সিজেন সাপোর্ট। যেটা নগরীর সরকারি কোন হাসপাতালে নেই। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মাত্র ১০টি ভেন্টিলেটর সুবিধা থাকলেও তা চালুই হয়নি। আর নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধা থাকলেও সেখানে করোনা সন্দেহে উপসর্গযুক্ত কোন রোগীকে ভর্তিই করা হচ্ছে না। ফলে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন লাশের সারি বাড়ছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে গড়ে প্রতিদিন ১৫-১৬ জন করে মানুষ মারা গেছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে তারা বেসরকারি হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে আইসিইউ বা অক্সিজেন সাপোর্ট না পেয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে একদিনে ১৯ জন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির কোন হিসেব দিতে পারেনি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১১১ জন মারা গেছেন। কিন্তু উপসর্গ নিয়ে এর চারগুণের বেশি লোক মারা গেলেও তাদের কোন তালিকা নেই। তিনি বলেন, উপসর্গ নিয়ে মৃতদের হিসাব শুরুতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় দেখা গেল, হার্টের রোগীকেও করোনা উপসর্গের রোগী হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এতে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। তখন থেকে করোনা উপসর্গের রোগীদের তালিকা করা হচ্ছে না। সিএমপির কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, গত ২৫শে মে থেকে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত ১৭২ জনের হিসেব তাদের কাছে রয়েছে। এদিকে করোনা দুর্যোগে চট্টগ্রামে লাশ দাফন ও সৎকার কাজ করছেন ছয়টি প্রতিষ্ঠান। সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৫০৬ জনের লাশ দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে করোনা শনাক্ত যেমন রয়েছে তেমনি উপসর্গ নিয়ে মৃতও রয়েছে। যাদের দাফন ও সৎকার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই এদের কাছে আসেনি। এরমধ্যে আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের মাওলানা ফরিদ উদ্দীন আহমেদ জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৬৭ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোসাহেব উদ্দিন বখতেয়ার জানান, তারা ১০২ জনের লাশ দাফন করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বোরহানউদ্দিন আবু আহসান জানান, তারা এ পর্যন্ত ৪৪ জনের লাশ দাফন করেছেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম সেন্টারের অ্যাডভাইজার কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, তারা এ পর্যন্ত ৬৯ জনের লাশ দাফন ও সৎকার করেছেন। স্ব স্ব ধর্মবিশ্বাস মতে দাফন এবং সৎকার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মৃত নারীদের দাফনের কাজ করছে এসআইপিএফ মুর্দা সেফা নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের প্রকল্প পরিচালক ও উদ্যোক্তা আলোকচিত্রী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, করোনাকালে তারা ৬৯ জন নারীকে দাফন করেছেন। কাউন্সিল জহরলাল হাজারী জানান, করোনা মৃতদেহ সৎকার সংঘ কাট্টলী শ্মশানে ৩৫ জন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বৌদ্ধ মহাশ্মশান কমিটি ২০ জনকে সৎকার করেছে। সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, করোনা বা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ী-শিল্পপতি থেকে শুরু করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আলেম, কাস্টমস কর্মকর্তা, বন্দর কর্মকর্তা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, মেম্বার, পৌর কাউন্সিলর, রাজনৈতিক নেতা এবং শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মতে, শহরে বা হাসপাতালে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশের নাম সামাজিক যোগাযোগ বা গণমাধ্যমে এলেও গ্রামে মারা যাওয়া অনেকেই হিসেবের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এছাড়া করোনা পরীক্ষার সুযোগ সমপ্রসারিত না হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।
নগরীর ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ২১ দিন ব্যাপী লাগাতার লকডাউন
১৪জুন,রোববার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ১৬ জুন রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে নগরীর ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ২১ দিন ব্যাপী লাগাতার লকডাউন শুরু হচ্ছে। সরকারি প্রজ্ঞাপণ অনুযাযী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১০ টি ওয়ার্ডকে করোনা সংক্রমণপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রেডজোনের আওতায় আনা হয়েছে। ১০ নং উত্তর কাট্টলী ছাড়াও রেডজোন চিহ্নিত নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডগুলো হলো চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ৩৭ ও ৩৮ নং ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নং ওয়ার্ড, কোতোয়ালীর ১৬,২০,২১ ও ২২ নং ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নং ওয়ার্ড এবং হালিশহর এলাকার ২৬ নং ওয়ার্ড। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির শনিবারের অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর উল্লেখিত এলাকাগুলোকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী চিহ্নিত এলাকার সংশ্লিস্ট জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন এবং পুলিশ সুপার মিলে সু-নির্দ্দিষ্টভাবে এসব রেড জোন চিহ্নিত করেছেন। চিহ্নিত এলাকায় প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায় বিগত ১৪ দিনে ৭ জন আক্রান্ত হয়েছে এমন এলাকাগুলোকেই রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। টেকনিকেল কমিটির এই সিদ্ধান্তের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীতে এই প্রথম আগামী ১৬ই জুন থেকে লকডাউন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এভাবে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত ১০টি ওয়ার্ডকে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের আওতায় আনা হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপণ অনুযায়ী নতুনভাবে জোন ভিত্তক লকডাউন এলাকা ঘোষনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য আজ বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিস্ট সকল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক সমন্বয় বৈঠকে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এই তথ্য জানান। এই সময় তিনি বলেন সরকার একইসাথে লকডাউন চলাকালীন সময়ে চিহ্নিত এলাকায় সরকারি আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিসষ্ঠানে সরকারি প্রজ্ঞাপণ অনুযায়ী সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। লকডাউন চলাকালীন সময়ে চিহ্নিত ওয়ার্ডে যানবাহন ও জনচলাচল ও দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া প্রত্যেককেই অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুনভাবে জোনভিত্তিক লকডাউন ঘোষনা এবং তা যথাযথভাবে পালনের বিষয়ে । এসময় তিনি বলেন, সরকার একইসাথে সারা দেশে লকডাউন না করে অধিকতরভাবে সংক্রমণপ্রবন এলাকা চিহ্নিত করার প্রেক্ষিতে আগামী ১৬ তারিখ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এবং এই পদক্ষেপ যথাযথবাবে কার্যকর হলে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় শতভাগ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ে করোনা মহামারি প্রতিরোধে ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ যেসকল কর্তৃপক্ষের উপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তাদেরকে সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, লকডাউনকালীন সময়ে আরোপিত বিধি নিষেধগুলো শতভাগ প্রয়োগ করা হয়। তিনি আরো বলেন যে, লকডাউন চলাকালীন সময়ে এলাকার অধিবাসিরা নিজের এলাকায় থাকবেন এবং বাইরের কেউ নিজেদের এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। যারা ঘরে আবদ্ধ থাকবেন তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের জন্য চসিক এর পক্ষ থেকে মহল্লায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দ্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরে এলাকাবাসীর চাহিদা মোতাবেক ন্যায্য বাজারমূল্যে খাদ্য,ওষুধপত্রসহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবন যাপনের উপকরণ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। যারা হতদরিদ্র তাদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে চসিক তাদের সকল চাহিদা পূরণ করবে। বৈঠকে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ, বাংলাদেশ ইনফেনট্রি রেজিমেন্টের (বিআইআর) এর সিও লে.কর্ণেল মাহবুব, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম, চসিক প্রধান ¯স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সম্বয়ক ডা. আইমং প্ররু ও সিইও ইয়াছিন মিয়া, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হানিফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর