রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১
চট্টগ্রামে বন্ধ পত্রিকা চালুর দাবিতে সিইউজের সমাবেশ
১০আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ ও চট্টগ্রামে মালিক কর্তৃক বন্ধ রাখা পাঁচ পত্রিকার প্রকাশনা চালুর দাবিতে সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, সাংবাদিকরা যখন ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে তখন মালিকপক্ষ কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঘোষণা ছাড়াই পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে রেখেছে। সরকারি সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরও আইনের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পত্রিকা বন্ধ করে সাংবাদিক ইউনিয়নের আন্দোলন নস্যাৎ করা যাবে না। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় ৭ জন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ৩ শতাধিক। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আমরা লক্ষ্য করলাম, মালিকপক্ষ আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর ন্যূনতম প্রয়োজনও বোধ করেননি। স্বনামধন্য পত্রিকাসমূহও মধ্যরাতে পর্যন্ত কোনো ধরনের যানবাহন সুবিধা না দিয়ে সাংবাদিক-কর্মচারীদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। এমনকি মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যস্থা নেয়নি কর্তপক্ষ। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সংবাদপত্র মালিকদের এ অমানবিক আচরণ শুধু দুঃখজনকই নয়, চরম বিষ্ময়করও বটে। এসময় অবিলম্বে সাংবাদিকদের পাওনা পরিশোধ ও পত্রিকা চালু না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সিইউজে সভাপতি। সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, মালিকরা পত্রিকা বন্ধ করতে চাইলে সরকারি নিয়ম মেনে লে-অফ ঘোষণা করার পর সকল সাংবাদিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে হবে। পত্রিকার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে হবে। কোন ঘোষণা ছাড়া পত্রিকা বন্ধ করা দু:খজনক। তিনি এসময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে সমস্যা সমাধানের জন্য মালিকপক্ষকে আহ্বান জানান। সিইউজে সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম বলেন, একটি দালালচক্রকে ব্যবহার করে মালিকরা মনে করছেন সিইউজের আন্দোলন নস্যাৎ করবেন। অতীতকে ভুলে গিয়ে সারাদেশে সাংবাদিকদের ন্যায্য আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা এ সংগঠনকে দুর্বল মনে করলে মালিকরা ভুল করবেন। আর দালালদের পরিণতিও সবসময় হয়েছে ভয়াবহ। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের প্রাপ্য সকল বকেয়া ও দুই ঈদের পূর্ণ বোনাস দ্রুত প্রদান করে পুনরায় পত্রিকা প্রকাশের কার্যক্রম চালু করে সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলার থেকে বেরিয়ে আসুন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রের সকল প্রশাসন যখন এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত সেখানে চট্টগ্রামের ৫টি পত্রিকা প্রকাশনা লাগাতার বন্ধ রেখে বৃহত্তর চট্টগ্রামের জনগণকে তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। পত্রিকা বন্ধ রাখার কারণে মানুষ চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির খবর জানতে পারছেন না। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মালিকপক্ষ বেআইনীভাবে পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ রাখার পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তাদের এই পদক্ষেপ মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে দূর্বল করার অপচেষ্টা। সমাবেশে সিইউজের সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ বলেন, আগস্ট মাসের ১০ তারিখ পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত জুলাই মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। অবিলম্বে ঈদের বকেয়া বোনাস ও জুলাই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে পত্রিকা চালু করতে হবে। সমাবেশে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিইউজে সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটো ও টিভি ইউনিটের প্রধান মাসুদুল হক। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, অর্থ সম্পাদক কাশেম শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইফতেখার ফয়সাল, বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ মহরম হোসাইন, দৈনিক পূর্বদেশ ইউনিটের প্রধান জীবক বড়–য়া, প্রতিনিধি ইউনিটের ডেপুটি প্রধান সোহেল সরওয়ার, টিভি ইউনিটের ডেপুটি প্রধান তৌহিদুল আলম, সিইউজে সদস্য মোস্তাফা ইউসুফ, ফরিদ উদ্দিন, আলাউদ্দিন হোসেন দুলাল, চৌধুরী আহসান খুররম, মাখন লাল সরকার, চম্পক চক্রবর্তী, আবীর চক্রবর্তী, রুমন ভট্টাচার্য্য, মিনহাজুল ইসলাম, ইমরান এমি, বাচ্চু বড়–য়া, সুজন আচার্য্য, কাউসার আলম, সাইমন আল মুরাদসহ চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন ও টিভি সাংবাদিকরা।
শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন চট্টগ্রামের ডিসি ইলিয়াস হোসেন
১০আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা অনুযায়ী শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। সরকারি সেবা প্রদানে শুদ্ধাচার চর্চার স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মো. ইলিয়াস হোসেনকে শুদ্ধাচার পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ। এ সময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহাসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব নেন বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত কর্ণফুলী নদীর দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। টানা পাঁচ দিন অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী তীরের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বেদখলে থাকা প্রায় ১০ একর সরকারি জমি উদ্ধারের পাশাপাশি পাঁচটি খালের মুখও দখলমুক্ত করা হয় এই অভিযানে। নগরের সরকারি বেসরকারি মালিকানাধীন ১৭টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা স্থাপনা উচ্ছেদে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয় মো. ইলিয়াস হোসেনের সময়ে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন না করলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রতি বর্ষার আগেই জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানসহ নানা উদ্যোগের কারণে গত কয়েকবছরে পাহাড়ে ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। মো. ইলিয়াস হোসেনের সময়ে দেশের প্রথম জেলা হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সনাতন পদ্ধতির কাগুজে লাইসেন্সের পরিবর্তে স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড দেওয়া শুরু হয় অস্ত্রের মালিককে। এর ফলে ভুয়া এবং জাল অস্ত্রের লাইসেন্স তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যায়। স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স ছাড়াও স্মার্ট ডিলিং লাইসেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের প্রায় ১৭টি সেবা ডিজিটাল করা হয়। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ক্ষতিপূরণের চেক উত্তোলনে হয়রানি এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিলো দীর্ঘদিনের। ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭ অনুযায়ী চট্টগ্রামে যেসব প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে সেসব প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ঘরে বসেই পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন শুরু করেন মো. ইলিয়াস হোসেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজেই তাদের পাঠদান করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে গড়ে তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তার বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা, স্কুলে খেলনা সামগ্রী উপহার দেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ ডিসি নির্বাচিত হন মো. ইলিয়াস হোসেন। তার সময়ে ভেজাল খাদ্য, মাদক, বেশি দামে ওষুধ বিক্রি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নজিরবিহীন অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। এক সময়ে ময়লার ভাগাড় হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে বদলে দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করায় ২০১৯ সালে জনপ্রশাসন পদক লাভ করেন মো. ইলিয়াস হোসেন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার, সাধারণ ও অবহেলিত দুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাণি বিষয়ক সচেতনতামূলক শিক্ষা কার্যক্রম, নতুন নতুন প্রাণি সংযোজন, সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি এ পদক গ্রহণ করেন। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর চট্টগ্রামে লোকজনকে ঘরে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, কর্মহীন দিনমজুরদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ করোনার চিকিৎসা সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রশংসা পায়। করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের এসব কাজ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। গত ২৬ জুলাই বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নৈতিকতা কমিটির এক সভায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ তিন জনকে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত বাকি দুই জনের মধ্যে একজন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত এবং অন্যজন উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী নেপাল কান্তি দাশ।
শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ডিসি ইলিয়াস হোসেন
০৯আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থ বছরে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নৈতিকতা কমিটির এক সভায় মো. ইলিয়াস হোসেনকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে শুদ্ধাচার পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব নেন বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত কর্ণফুলী নদীর দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। টানা পাঁচ দিন অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী তীরের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বেদখলে থাকা প্রায় ১০ একর সরকারি জমি উদ্ধারের পাশাপাশি পাঁচটি খালের মুখও দখলমুক্ত করা হয় এই অভিযানে। নগরের সরকারি বেসরকারি মালিকানাধীন ১৭টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তৈরি করা স্থাপনা উচ্ছেদে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয় মো. ইলিয়াস হোসেনের সময়ে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন না করলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রতি বর্ষার আগেই জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানসহ নানা উদ্যোগের কারণে গত কয়েকবছরে পাহাড়ে ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। মো. ইলিয়াস হোসেনের সময়ে দেশের প্রথম জেলা হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সনাতন পদ্ধতির কাগুজে লাইসেন্সের পরিবর্তে স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড দেওয়া শুরু হয় অস্ত্রের মালিককে। এর ফলে ভুয়া এবং জাল অস্ত্রের লাইসেন্স তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যায়। স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স ছাড়াও স্মার্ট ডিলিং লাইসেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের প্রায় ১৭টি সেবা ডিজিটাল করা হয়। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ক্ষতিপূরণের চেক উত্তোলনে হয়রানি এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিলো দীর্ঘদিনের। ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭ অনুযায়ী চট্টগ্রামে যেসব প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে সেসব প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ঘরে বসেই পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন শুরু করেন মো. ইলিয়াস হোসেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজেই তাদের পাঠদান করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে গড়ে তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তার বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা, স্কুলে খেলনা সামগ্রী উপহার দেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ ডিসি নির্বাচিত হন মো. ইলিয়াস হোসেন। তার সময়ে ভেজাল খাদ্য, মাদক, বেশি দামে ওষুধ বিক্রি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নজিরবিহীন অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। এক সময়ে ময়লার ভাগাড় হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে বদলে দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করায় ২০১৯ সালে জনপ্রশাসন পদক লাভ করেন মো. ইলিয়াস হোসেন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার, সাধারণ ও অবহেলিত দুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাণি বিষয়ক সচেতনতামূলক শিক্ষা কার্যক্রম, নতুন নতুন প্রাণি সংযোজন, সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি এ পদক গ্রহণ করেন। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর চট্টগ্রামে লোকজনকে ঘরে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, কর্মহীন দিনমজুরদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ করোনার চিকিৎসা সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রশংসা পায়। করোনা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের এসব কাজ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। নৈতিকতা কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান নিউজ একাত্তরকে জানান, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ তিন জনকে আমরা শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছি। শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত বাকি দুই জনের মধ্যে একজন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত এবং অন্যজন উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী নেপাল কান্তি দাশ বলে জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বঙ্গমাতা: নাছির
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর উত্তাল রাজনৈতিক জীবনে একজন সার্বক্ষণিক ছায়াসঙ্গী হয়ে কঠিন সময় উত্তরণে পরামর্শ ও রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাছির বলেন, বঙ্গমাতা এতই দূরদর্শী ছিলেন যে- বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তাকে কাগজ-কলম যুগিয়ে দিয়ে লেখালেখি করার তাগিদ দিয়েছিলেন। সেই তাগিদ থেকেই বঙ্গবন্ধুর লেখালেখির ফসল- অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারে রোজনামচা। তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা তখনই পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন, যখন তার জীবনসঙ্গীনি নিজের রাজনৈতিক চেতনা, আদর্শ ও স্বপ্ন সাধনার পরিপূরক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেন। জাতির জনকের পরিপূর্ণ রাজনৈতিক জীবনে অনিবার্য ও অতুলনীয় অংশ হলেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। নাছির বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে ও হুলিয়া মাথায় আত্মগোপনে, তখন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সংসার আগলে রাখার পাশাপাশি দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের যোগাযোগের সূত্রাধার ছিলেন। জেলখানায় বন্দি বঙ্গবন্ধুকে বাইরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তিনি অবহিত করতেন। আমরা জানি, লাহোরে ৬৯ সালে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর সাথে গোল টেবিল বৈঠকে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু বেগম মুজিব জেলগেইটে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন- প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবে না। সেই সময় এটাই ছিল সবচেয়ে কার্যকরী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। অনুষ্ঠানে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহিয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শুধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী হিসেবে নন, জাতির কঠিন ক্রান্তিকালে একজন দক্ষ রাজনীতিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে স্বীয় কর্মগুণে ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন। মাহতাব বলেন, তিনি কঠিনকে জয় করার মতো একজন সাহসিনী যোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন কারান্তরে তখন দিশেহারা অগণিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অভিভাবক হিসেবে তিনি টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রেরণা যুগিয়ে গেছেন। তাই তিনি আমাদের মাঝে শুধু স্মৃতি নয়, প্রতিদিনের প্রেরণা হয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদ, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শফর আলী, শেখ মাহমুদ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ হোসেন, ধর্ম সম্পাদক জহুর আহমেদ, উপ-প্রচার সম্পাদক শহীদুল আলম প্রমুখ।
করোনায় চট্টগ্রামে মৃত্যুহীন আরেকদিন
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় মৃত্যুহীন আরও একটি দিন পার করলো চট্টগ্রাম। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ১১৭ জন শনাক্ত হলেও এই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা যাননি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ৬ ল্যাব, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৯০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন করে আরো ১১৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনামুক্ত হয়েছেন ১০৩ জন। এতে চট্টগ্রামে করোনা হতে মোট সুস্থ তিন হাজার ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি নিউজ একাত্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের ৬টি ল্যাবে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৯০৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে নগরীর ৯০ জন ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৭ জন। এনিয়ে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪ হাজার ৯৯১ জনে। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরো ১০৩ জনসহ মোট ৩ হাজার ৬১ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় কেউ মারা যায়নি। মোট মৃত্যু ২৪০ জনই। এদিকে ৯০৯ জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১৫২টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৬ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়। তার মধ্যে নগরীর ১২ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১৪ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ১৮০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় আরও ৩ জন। এর মধ্যে নগরীর ২ জন ও উপজেলার ১ জনের পজিটিভ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ১৮৬ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৭ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২২ জন নগরীর ও ৫ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ১৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের পজেটিভ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ৮ জন নগরীর বাসিন্দা ও উপজেলার ১ জন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জন শনাক্ত হয়। ২৫ জনই নগরীর বাসিন্দা। বেসরকারি শেভরনে ১৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে নগরীর ২১ জন ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৪ জন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৭ জন শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হল- বাঁশখালী ২ জন, পটিয়ার ৩ জন, বোয়ালখালী ২ জন, রাউজানের ৯ জন, ফটিকছড়ির ১ জন, হাটহাজারীর ৭ জন এবং সীতাকুণ্ড ৩ জন।
৩১৫০০ পিস ইয়াবাসহ Rab-7 এর হাতে ট্রাকের হেলপার আটক
০৭আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভিন্ন মালামাল নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে যায় ট্রাক। ফেরত আসার সময় সেই ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয় ইয়াবা। এমন একটি ইয়াবার চালান ধরা পড়েছে Rapid Action Battalion (Rab) হাতে। ৩১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি আটক করা হয়েছে ট্রাকের হেলপারকে। জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে নগরের বাকলিয়া থানাধীন তুলাতলী এলাকা থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে হেলপারকে আটক করা হয়। Rab এর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ট্রাক চালক। আটক ট্রাকের হেলপারের নাম মো. আলাউদ্দীন (৪০)। তিনি কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ কুনিয়াপালং এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, বাকলিয়া থানাধীন তুলাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। Rab-7 এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান নিউজ একাত্তরকে বলেন, ট্রাকে করে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসা হচ্ছিল এসব ইয়াবা। Rab সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক চালক পালিয়ে গেলেও হেলপার আলাউদ্দিনকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি- চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে তারা টেকনাফ যায়। আসার পথে ইয়াবা নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব কাজে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
১৮০ দিন সময় পেয়েছি, ১৮০ দিনই রাস্তায় থাকব: চসিক প্রশাসক
০৬আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, আমি ১৮০ দিন সময় পেয়েছি, ১৮০ দিনই রাস্তায় থাকব। আমার ভুল হতে পারে, তবে অসততা থাকবে না। ভুল যদি দেখিয়ে দিবেন, সেটা স্বীকার করার এবং সংশোধন করার সৎ সাহস আমার আছে। ১৮০ দিনের প্রতিটি মুহূর্তই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আগে আমাকে পুকুরে নামতে দিন। পুকুরে নামলে তখন দেখবেন আমি কিভাবে সাঁতার কাটি। দায়িত্ব গ্রহণের পর চসিকের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নতুন প্রশাসক এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় নগরীর টাইগার পাসে অস্থায়ী নগর ভবনে প্রশাসকের দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি। এর আগে সকাল ৮টায় বাসভবন থেকে বের হয়ে কাট্টলী হজরত মঈনুদ্দিন শাহ্ (রহ.) এবং জেল রোডে হজরত আমানত শাহ্ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে চসিকের টাইগারপাস অস্থায়ী কার্যালয়ে আসেন। এ সময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে স্বাগত জানান। এর কিছুক্ষণ পরেই আসেন সদ্য বিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। দায়িত্ব গ্রহণ করে সম্মেলন কক্ষে চসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নতুন প্রশাসক। এ সময় পাশে ছিলেন বিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সদ্যবিদায়ী মেয়র প্রশাসককে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপর বেলা ২টায় পোর্ট কানেকটিং রোডের দুর্ভোগের চিত্র পরিদর্শন করেন। প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না। মেয়র দায়িত্ব শেষ করে চলে যাবেন, কিন্তু আপনারা এখানে থাকবেন। তাই আমার অনুরোধ, আপনাদের উপর অর্পিত যে দায়িত্ব তা শতভাগ সততার সঙ্গে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগকৃত প্রশাসক হিসেবে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। এই সিটি কর্পোরেশনকে আমি দলীয় কার্যালয় করব না। এখান থেকে নগরবাসীর সেবায় যা প্রয়োজন সেটাই করব। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের উদ্দেশে সুজন বলেন, যেদিন বৃষ্টি হবে আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকব। দেখব কোথায় পানি জমে, কেন জমে। ঘরের মধ্যে থেকে, ওয়াকিটকিতে- হ্যালো আমি কামাল স্টোরের নিচে আছি, পানি পরিষ্কার করছি সেটা হবে না। আমরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মী। রাতের একটা দুইটা পর্যন্ত কাজ করেছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে সুজন বলেন, কোথায় সমস্যা আছে আমাকে জানান। সমালোচনাকে ভয় পাই না। আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করব। আমাকে ১৮০ দিন সময় দিয়েছে, ইনশাআল্লাহ ১৮০ দিনই আমি রাস্তায় থাকব। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ আমার হাতে নেই যে রাতারাতি সব সমস্যা শেষ করতে পারব। কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পাওে, কিন্তু ডিজঅনেস্টি থাকবে না। ভুল ধরিয়ে দিলে সংশোধন করার মত মন আমার আছে। সদ্য বিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ১৮০ দিনের জন্য নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিকের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমি খুশি। তিনি যখনি সহযোগিতা চাইবেন শতভাগ করবো। আমরা একসঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিদায়ী মেয়র বলেন, চসিক প্রশাসক সঠিক ও সুচারুভাবে যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন। নেতিবাচক সংবাদে জটিলতা সৃষ্টি হয়। চসিকের বিভাগীয় প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন আরও বেশি করে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে উনাকে সহযোগিতা করবেন। তাহলে নগরবাসী বেশি সেবা পাবে। চসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহমদ, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া প্রমুখ।- বিডি-প্রতিদিন
চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন খোরশেদ আলম
০৬আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খোরশেদ আলম সুজন। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি চসিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। বৃহস্পতিবার(৬ আগস্ট) সকালে সদ্য বিদায়ী মেয়র আজম নাছির উদ্দিনের কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা। এরপর চসিক সম্মেলন কক্ষে দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন খোরশেদ আলম সুজন। পরে চসিক সম্মেলন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ ও প্রধান নগর পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রমুখ। প্রসঙ্গত করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় স্থগিত রয়েছে চসিক নির্বাচন। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক খোরশেদ আলম সুজনকে চসিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর