তরুণ প্রজন্মের মাঝে একুশের চেতনা জাগ্রত করতে হবে : চুয়েট ভিসি
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযু্িক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, একুশ আমাদের চেতনা, আমাদের অহংকার। সেই চেতনার উপর ভর করেই আমরা চূড়ান্ত স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের সুদীর্ঘ পরিক্রমায় আজো সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন সম্ভব হয় নি। মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য রক্তদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। একুশের সেই মহান চেতনাকে তরুণ প্রজন্মের বুকে ধারণ করতে হবে। বাংলা ভাষার ব্যবহারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের চেতনাবোধ জাগ্রত করতে হবে। তবেই ভাষার প্রতি ও ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে। তিনি অদ্য ২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২০ খ্রি. চুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চুয়েটে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি এবং পুরকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহম্মদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রধানগণের পক্ষে পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল, প্রভোস্টগণের পক্ষে শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রনজিৎ কুমার সূত্রধর, শিক্ষক সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ড. মো. সানাউল রাব্বী, কর্মকর্তা সমিতির পক্ষে সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, কর্মচারী সমিতির পক্ষে সভাপতি জনাব মো. জামাল উদ্দিন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ‘১৫ ব্যাচের ফাহিম শাকিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সানাউল রাব্বী, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এটিএম শাহজাহান, মানবিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব নাহিদা সুলতানা ও সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়) জনাব মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনের প্রথম প্রহরে সকাল সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসের উত্তর গোল চত্ত্বর হতে প্রভাতফেরীর মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচীর শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। এরপর চুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। পরে একে একে চুয়েটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আকিব। এছাড়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা মধ্যে ছিল- রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান প্রভৃতি।
ভাষাশহীদদের প্রতি সাবেক মেয়র মনজুর আলমের শ্রদ্ধাঞ্জলী
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে উত্তর কাট্টলী আলহাজ্ব মোস্তফা-হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আয়োজনে ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম এর উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় নগরির আকবরশাহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও উত্তর কাট্টলী আলহাজ্ব মোস্তফা-হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এম মনজুর আলম। অনুষ্ঠানে মনজুর আলম বলেন, আজ মহান শহীদ দিবস। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য বিশেষ দিন নয়, এটা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘ অধিভুক্ত পৃথিবীর সব দেশেই এখন এই দিবসটি পালন করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে নিজের মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এটাই প্রথম। ভাষা আন্দোলনের আজ ৬৮ বছর পূর্ণ হলো। আমাদের জন্য এটা একটি বেদনার দিন। এই দিন আমরা হারিয়েছি ভাষাশহীদ রফিক, জব্বার, সালাম ও নাম না জানা আরো অনেককে। অন্যদিকে এটি একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিন। এই দিবসে ভাষাশহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা। আজ আমরা সকল ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, উত্তর কাট্টলী আলহাজ্ব মোস্তফা-হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর, উপাধ্যক্ষ মাহফুজুল হক চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক মো. আবু ছগির, কাজী মাহবুবুর রহমান, অসীম চক্রবর্তী, আকবরশাহ থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি লোকমান আলী, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
বাঙালি জাতির প্রেরণার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি:মোছলেম উদ্দিন আহমদ এম.পি
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, বাঙালি জাতির প্রেরণার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুটা হয়েছিল মূলত একুশে ফেব্রুয়ারি। এরই ধারাবাহিকাতায় আমরা নিজস্ব মাতৃভাষা পেয়েছি, একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র পেয়েছি। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯টায় সংগঠনের আন্দকিল্লাস্থ কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন হতে শুরু করে ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও স্বৈরাচার এবং সাম্প্রদায়িক বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ ও জনগণের জন্য নাম জানা-অজানা শহীদদের জীবন দানের মধ্য দিয়ে রচিত বিশাল অহংকারের উত্তরাধিকার আমরা বহন করে চলেছি। তাই আমাদের জাতীয় কর্তব্যকে কখনোই অবহেলা করা যাবেনা। একুশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সম্মান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের ভাষা সংস্কৃতি তথা স্বাধীনতার বিরোধী অপশক্তিই বিশ্ব সমাজ কর্তৃক ধীকৃত হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, এ ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে অনেকেই। শেখ হাসিনা সরকার বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদায় উন্নীত করেছে। সাম্প্রদায়িক জঙ্গীবাদ অপশক্তির বিরুদ্ধে একুশ আমাদের পথ দেখায় প্রেরণা যোগায়। এই অফুরন্ত জাগরনী শক্তির কারনেই আমরা বার বার জয়ী হই, জয়ী হবো। আজ আমরা স্মরণ করি ভাষা আন্দোলনের সব শহীদকে। সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, এম আবু সাঈদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মহিউদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড: মির্জা কছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব আবু জাফর, শিক্ষা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, ধর্ম সম্পাদক আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা: তিমির বরণ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এড: কামরুন নাহার, প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, কৃষি সম্পাদক এড: আবদুর রশিদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন চৌধুরী, বন বিষয়ক সম্পাদক এড: মুজিবুল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য দেবব্রত দাশ, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, এম ছিদ্দিক আহমদ বি.কম, মাহবুবুর রহমান শিবলী, আওয়ামী লীগ নেতা মৌলভী নুর হোসেন, মাহফুজুর রহমান মেরু, শামসুল ইসলাম, নাছির উদ্দিন, চৌধুরী আবুল কালাম প্রমুখ। সভার পূর্বে ভোর ৭টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে একুশের ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক জোট এর উদ্যোগে অমর শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অন
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:অমর শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক জোট এর উদ্যোগে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কদম মোবারক এম.ওয়াই উচ্চ বালক-বালিকা বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক জোট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সজল দাশ এর সঞ্চালনায় এবং সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ভানু রঞ্জন চক্রবর্ত্তী। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি আশীষ সেন। বিশেষ আলোচক ছিলেন বঙ্গবন্ধু সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা এম.এ. সালাম, ডিজিটাল পাবলিসিটি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক স.ম. জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক ওচমান জাহাঙ্গীর, সংগঠক সালাউদ্দিন লিটন, কবি আসিফ ইকবাল, সংগঠক মো: ছবির আহমদ, শিল্পী অচিন্ত্য কুমার দাশ, সুজন মজুমদার, গণসংগীত শিল্পী হানিফুল ইসলাম চৌধুরী, শিল্পী নারায়ণ দাশ, সংগঠক দিলীপ সেনগুপ্ত, সংগঠক কে.এইচ.এম তারেক, সংস্কৃতিকর্মী নিলয় দে, সংগঠক সুরেশ দাশ, শিল্পী হারাধন নাহা বাসু, সাংবাদিক ইমরান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক দুলাল বড়–য়া, মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ নুরুল আলম, মো: মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, প্রিয়াংকা মন্ডল, মো: হাবিব ও মো: জাফর আলম প্রমুখ। প্রধান অতিথি ভানু রঞ্জন চক্রবর্ত্তী বলেন, একুশ মানে মাথা নত না করা, একুশ প্রতিবাদের ভাষা। ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাভাষার দাবীতে ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলের উপর তৎকালিন শাসক গোষ্ঠীর পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হন। পরে তা অমর শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৯৯ সালের বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে তা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি লাভ করে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, আজও সর্বত্র বাংলাভাষার প্রচলন হয়নি, এটা জাতির জন্য খুবই লজ্জাষ্পদ ব্যাপার। আজকের এই দিনে আমরা ভাষা দিবসের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। প্রধান আলোচক কবি আশীষ সেন বলেন, আমাদের বাংলা ভাষা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। পৃথিবীতে কোনো দেশের ভাষার জন্য রক্ত দিতে হয়নি। আমাদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে, ভাষাসৈনিকরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষার সোপান রচনা করে গেছেন। চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক জোট এর পক্ষ থেকে ভাষা দিবসে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করার জন্য সংগঠনের কর্মকর্তাদের তিনি সাধুবাদ জানান। সভার সভাপতি সজল দাশ বলেন, আমরা প্রতিবছর ভাষা দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। আমরা বায়ান্নের ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং সাথে সাথে যারা কষ্ট করে অনুষ্ঠানে এসে অনুষ্ঠানকে সফল করেছেন তাদের সকলের প্রতি শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বাঙালির আত্মপরিচয়ের সাহসী ঠিকানা একুশে
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজ বিজ্ঞানী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন বলেছেন, বায়ান্নের মহান একুশ বাঙালির আত্মপরিচয়ের সাহসী ঠিকানা। একুশের পথ ধরেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসম সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলন সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির বিজয় অর্জিত হয়েছে। বিশ্বে বাঙালি একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষায় জীবন দিয়েছে। তিনি বলেন, একটি জাতির অগ্রগতিতে তার ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মুক্ত চর্চা করতে হবে। এসবের অন্তরায় হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা। তাই একুশের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা তথা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মর জাগরণ গড়ে তুলতে হবে। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর শাখা আয়োজিত আলোচনা সভা ও ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম মন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আসন্ন চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এএইচ এম জিয়াউদ্দিন, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, সিভাসুর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম। আলোচনায় অংশ নেন অ্যাড. বি কে বিশ্বাস, সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, ফজল আহমেদ, গৌরি শংকর চৌধুরী, বাদশা মিয়া, নুরুল আমিন, ফোরকান উদ্দিন আহমেদ, অ্যাড. ইফতেখার রাসেল, আব্দুল মালেক খান প্রমুখ।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
মোবাইল নয়, সন্তানের হাতে তুলে দিতে হবে বই
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর কাট্টলী নূরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুইদিন ব্যাপী কাট্টলী বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্র্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, বর্তমান ছেলেমেয়েরা বই পড়তে আগ্রহী নয়। তারা বেশি সময় কাটায় মোবাইল নিয়ে। এদের বইমুখী করতে এ ধরনের মেলা ভূমিকা রাখবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মোবাইল নয়, সন্তানের হাতে বই তুলে দিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. অনুপম সেন বলেন, পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি জ্ঞান অর্জন করেছে তারা তত বেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়েছে। ইউরোপের বহু ছোট ছোট দেশ শুধু জ্ঞান বিজ্ঞানের কারণে অন্যদের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে গেছে। জ্ঞান অর্জনেই মানুষের পরিবর্তন এসেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। কাট্টলী বইমেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন আহমদ চৌধুরীর সভাপত্বিতে ও তাসলিমা আক্তার বৃষ্টির উপস্থাপনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইমেলার উদ্যোক্তা টুনটু দাশ বিজয়। অন্যদের মধ্যে মহিলা কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, ডা. মুকেশ কুমার দত্ত, সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী, শাহাদাত হোসেন শাহেদ, জুয়েল শীল, চৌধুরী আব্বাস উদ্দীন, রোকেয়া হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চমেক হাসপাতালে কার্ডিওলজী ক্যাথল্যাব উদ্বোধন করেছেন মেয়র নাছির
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কার্ডিলজী ক্যাথল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কার্ডিলজী বিভাগে ফলক উম্মোচন করে কার্ডিলজী ক্যাথল্যাব-১ও ২ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন। এই ক্যাথল্যাব উদ্বোধনের ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ হ্নদরোগের চিকিৎসা সুবিধা পাবে। এই চিকিৎসা সুবিধার মধ্যে থাকছে এনজিও গ্রাম,এনজিও প্লাষ্টিক (রিং পরানো),স্থায়ী ও অস্থায়ী পেকমেকার স্থাপন। এই উপলক্ষে আয়োজিত কার্ডিলজী বিভাগ কনফারেন্স হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন শহরমুখি জনতার চাপ নগরে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেমনি বৃহত্তর চট্টগ্রামের এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় চমেক হাসপাতালকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন এই প্রতিষ্ঠানটি ৫শ বেডে একটি হাসপাতাল। পরবর্তীতে ৫শ থেকে ১৩১৩ শয্যা বিশিষ্ট চট্গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। ৫শ বেডের জনবল দিয়ে আজো ধুকেধুকে চলছে চমেক হাসপাতাল। তিনি আরো বলেন এই জনবল দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৭হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে চমেক। এছাড়া রোগী হিসেবে প্রত্যন্তাঞ্চল থেকে আসা প্রতিদিন আউট ডোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোগী। বলতে গেলে চমেক হাসপাতালে নিয়োজিত ডাক্তাররা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখে অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন কার্ডিলজী ক্যাথল্যাবে গত বছরের এদিন পর্যন্ত ১২হাজার রোগীকে এনজিও গ্রাম চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ক্যাথল্যাব উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্ডিলজী সংক্রান্ত সকল সুযোগ সুবিধা এতদাঞ্চলের মানুষ আরো বেশী চিকিৎসা সেবা ভোগ করতে পারবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। চমেক হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলার হৃদরোগ বিভাগে স্থাপিত কার্ডিলজী এ ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রি:জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কার্ডিলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার প্রবীর কুমার দাশ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ডাক্তার মুজিবুল হক খান,সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, চমেক হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডাক্তার নাসির উদ্দিন মাহমুদ,ডাক্তার রিজোয়ান রেহান, ডাক্তার আবুল হোসেন শহীনসহ অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান ও চিকিৎসক গন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় ছিলেন ডাক্তার ল²ক্ষীপদ দাশ।
নগরীর হালিশহর এলাকায় RAB-7 এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,কমল চক্রবর্তী,নিউজ একাত্তর ডট কম:চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন টোল রোডের পাশে আব্দুর রহমান ডিপো এলাকায় RAB-7 কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে কাস্টমস কর্তৃক ইতোপূর্বে ধ্বংসকৃত পশুখাদ্য ও মৎস্যখাদ্য উত্তোলন করে বিক্রি করায় ৩ জনকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা। আজ বৃহস্পতিবার ২০শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত RAB-7 চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার এর সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন টোল রোডের পাশে আব্দুর রহমান ডিপো এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কাস্টমস কর্তৃক ইতোপূর্বে ধ্বংসকৃত পশুখাদ্য ও মৎস্যখাদ্য উত্তোলন করে বিক্রি করায় ৩ জনকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান, RAB-7 এর সহকারী পরিচালক(মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। RAB-7 এর সহকারী পরিচালক(অপারেশন) এএসপি মাশকুর রহমান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঘটনাস্থলে আটক তিন জনকে সর্বমোট ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। হালিশহর থানাধীন উত্তর মধ্যম গ্রামের এম এম সাইফুল হক এর ছেলে এম এম ফয়সাল কে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। হালিশহর থানাধীন উত্তর হালিশহর গ্রামের মোঃ নাছির এর ছেলে মোঃ ইয়াছিন (নয়ন) কে ১ লক্ষ টাকা এবং হালিশহর থানাধীন উত্তর হালিশহর (বড়পোল) গ্রামের মৃত আবদুস সালাম এর ছেলে মোঃ জাহেদ কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। RAB-7 এর সহকারী পরিচালক এএসপি কাজী মোঃ তারেক আজিজ জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পা্রি যে, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক ধ্বংসকৃত মেয়াদ উত্তীর্ণ পশু ও মৎস্যখাদ্য উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি চোরাকারবারী চক্র। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার এর সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন টোল রোডের পাশে আব্দুর রহমান ডিপো এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আটক তিন জনকে সর্বমোট ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় আনুমানিক ২০ হাজার কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পশু ও মৎস্যখাদ্য জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত আলামত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর উপস্থিতিতে ধ্বংস করেছে RAB-7। তিনি আরও জানান, আদায়কৃত জরিমানার সর্বমোট ৩ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে । উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ১৯শে ডিসেম্বর তারিখে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ১৯৪ কন্টেইনার মেয়াদে উত্তীর্ণ পণ্য মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে আনুমানিক ২,৮০০ টন পোল্ট্রি ও মাছের খাবার।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর