চিরনিদ্রায় শায়িত এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এস আলম গ্রুপের পরিচালক ( মার্কেটিং) মোরশেদুল আলমকে (৬৫) শুক্রবার রাত ১ টা ৩০ মিনিটে জানাযা শেষে পটিয়া পৌর সদরের ৪ নং ওয়ার্ডের নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে জানাযা শেষে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আন্দরকিল্লাহ সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ চট্টগ্রাম শহর থেকে পটিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এস আলম জামে মসজিদ কমপ্লেক্স চত্বরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এস আলম পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মোজাহের আনোয়ার ও চেমন আরা বেগমের এই জ্যেষ্ঠ পুত্রের জানাজায় তার বাকি ছয় ভাইয়ের মধ্যে কেউই উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে মোরশেদুল আলমের দুই পুত্র মাহমুদুল আলম আকিব ও ফসিউল আলম, ভাগ্নে মোস্তান বিল্লাহ আদিল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পিএস আকিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের মেজ সদস্য ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বর্তমানে পরিবারসহ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। অপর চার ভাই মোরশেদুল আলমের সঙ্গেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত ১৭ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবের পরীক্ষায় সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের এই সদস্যরা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। তারা হলেন, এস আলম গ্রুপের পরিচালক রাশেদুল আলম, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ওসমান গণি। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ওই পরিবারের ৩৬ বছর বয়সী এক নারীও। করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মোরশেদুল আলম তার অন্য চার ভাইয়ের সঙ্গে নগরীর সুগন্ধার বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে মোরশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ ওয়ার্ডে আগে থেকেই এস আলম পরিবারের আরেক সদস্য রাশেদুল আলম চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউতে শয্যা না থাকায় তুলনামূলক ভাল অবস্থায় থাকা ছোট ভাই রাশেদুল আলমকে সরিয়ে মোরশেদুল আলমকে জায়গা করে দেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে নিজ বাসভবনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। মৃত্যুর পর একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মোরশেদুল আলমের মরদেহ চট্টগ্রাম শহর থেকে পটিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এস আলম জামে মসজিদ কমপ্লেক্স চত্বরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পটিয়া থানা পুলিশের সার্বিক তত্বাবধানে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পিএস আকিজ উদ্দিন চৌধুরী, পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন, স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোফরান রানা। ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোফরান রানা জানান, মরদেহের গোসল চট্টগ্রাম শহরে দেয়া হয়। মরদেহের ৫০ ফুট দূরত্বে জানাজায় অংশ নেন এলাকাবাসী। যাদের মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস ছিল তাদেরকে জানাজায় অংশ নিতে দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে লাশ দাফন ও জানাজায় সহযোগিতা করে পটিয়া পৌর গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে রোববার ঈদ
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোববার দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা উপজেলার অর্ধ শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রতি বছরের মতো এবারো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের একদিন আগে ঈদুল ফিতর পালন করবেন। রোববার মির্জাখীল দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দরবার শরীফের পীরজাদা মওলানা ড. মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান। তবে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফে এসে ঈদের জামাতে অংশ নিলেও এবার নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছে দরবার কর্তৃপক্ষ। দরবার শরীফের পীরজাদা মওলানা ড. মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান বলেন, প্রায় ২৫০ বছর ধরে সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে আমরা ঈদ, রোজা, কুরবানি পালন করছি। সে অনুযায়ী আমরা রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করব। ওইদিন সকাল ১০টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। করোনার কারণে এবার দরবার শরীফে বড় ঈদ জামাতের আয়োজন হচ্ছে না। নিজ নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে ঈদের জামাত আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাতকানিয়া মির্জাখীল ছাড়া চন্দনাইশের পশ্চিম এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর, খুনিয়ারপাড়া, হাশিমপুর, কেশুয়া, সাতবাড়িয়া, মোহাম্মদপুর, হারালা, চন্দনাইশ পৌরসভার বুলারতালুক, হরিণারপাড়া, ফকির, সর্বল, কাজীবাড়ী, বাঁশখালীর জলদি, কালিপুর, গুনাগড়ি, গণ্ডামারার মিঞ্জিরতলা, ছনুয়া, সাধনপুর, আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ, বাথুয়া, বারখাইন, বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, চুনতি, পুটিবিলা, উত্তর সুখছড়ি, আধুনগর, মইশামুড়া, খোয়ছপাড়ায় ওই দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে।
প্রতিবন্ধী,শিক্ষকসহ আড়াই হাজার শ্রমিককে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দিলেন মেয়র
২২ মে,শুক্রবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দুর্যোগের এই সময়ে কর্মহীন আড়াই হাজার শ্রম পেশাজীবীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আজ ২২ মে শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবী সংগঠন নেতাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মেয়র প্রত্যেককে একটি করে সাবাব ও মাস্ক বিতরণ করেন। মেয়র প্রথমে টাইগার পাস চসিক কার্যালয় বিন্নাঘাস প্রকল্প চত্বরে ৩শ জন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-শিক্ষিকার মাঝে উপহার তুলে দেন। এরপর তিনি পাহাড়তলী রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ২৫০ জন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে উপহার তুলে দেন। সেখান থেকে তিনি পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে ৪০০ জন নির্মাণ শ্রমিকের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার বিতরণ করেন। বিকালে চকবাজার দেবপাহাড় বধির সংঘের ২৭০জন প্রতিবন্ধী সদস্যকে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি রৌফাবাদ নির্মাণ শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ৫২৮ জন নির্মাণ শ্রমিকের হাতে উপহার তুলে দিয়েছেন। এরপর তিনি দুই নম্বর গেইটে শাহ আমানত সিটি কর্পোরেশন শপিং কমপ্লেক্সের ৫৯৪ জন কর্মচারীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। মেয়র বলেন, এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি। এই রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা,নিয়মিত হাত ধোয়া,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা,জরুরী প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া-এসব পরামর্শ মানতে হবে।বাইরের দেশে সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলার জন্য নাগরিকদেরকে জরিমানাসহ বিভিন্ন দন্ড প্রদান করা হচ্ছে। আমাদেও দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে সরকার এমন কঠোর বিধিবিধান এখনো প্রয়োগ করছে না। তবে আমাদেরকে নিজের স্বার্থেই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাসথ্য বিধি মানতে হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে পরস্পরের সাথে করমর্দন,কোলাকুলি, অযথা ঘোরাঘুরি না করে ঘরে থাকার জন্য জন্য তিনি জনসাধারণকে পরামর্শ প্রদান করেন। এসময় চসিক কর্মকর্তাবৃন্দসহ থানা,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা
২২ মে,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভা, কলেজগেট, বাড়বকুণ্ড বাজার, জোড়ামতল বাজার, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের অন্তর্গত মাদাম বিবির হাট, নেভি রোড, ভাটিয়ারী বাজার ও জলিল স্টেশনে (দক্ষিণ ভাটিয়ারী) করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আইনগত নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় ১৭টি মামলায় ৫৩১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আজ শুক্রবার ২২ মে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আজকের অভিযানে বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাড়বকুণ্ড বাজারের দুইটি মুদি দোকানকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা, মাদাম বিবির হাটের একটি মুদি দোকানকে তিন হাজার টাকা এবং দক্ষিণ ভাটিয়ারীর জলিল স্টেশনের দুইটি মুদি দোকানকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসব দোকানকে মূল্য তালিকা না থাকা, মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অপরাধে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় সীতাকুণ্ড পৌর বাজারের জিয়া ক্লথ স্টোরকে দশ হাজার টাকা, তানিশা ফ্যাশনকে সাত হাজার টাকা ও স্মার্ট জেন্টস পার্লার এন্ড এসি সেলুনকে পাচ হাজার টাকা, জোড়ামতল বাজারের মুন্নি সু এন্ড কসমেটিকসকে দুই হাজার টাকা, মাদামবিবি হাটের এবি হার্ডওয়ার এন্ড ক্লথ স্টোরকে পাচ হাজার টাকা, নেভী রোডের কামাল ক্লথ স্টোরকে দুই হাজার টাকা, ইয়াছিন ক্লথ স্টোরকে এক হাজার টাকা, রিমন স্টোরকে এক হাজার টাকা ও জুয়েল সেলুনকে এক হাজার টাকা, ভাটিয়ারী বাজারের খাজা কালু শাহ স্টোরকে দুই হাজার টাকা ও নিহারিকা হেয়ার কাটিং সেলুনকে দুই হাজার টাকা এবং জলিল স্টেশনের স্বরনীল বুটিকসকে একশত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী।
চট্টগ্রামে আরও ৯০ জনের করোনা পজিটিভ
২২ মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘন্টায় ৪৬২ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষায় চার চিকিৎসকসহ ৯০ জনের পজিটিভ ( নতুন) এসেছে । এছাড়াও ২ জন ফলোআপ রোগীর (পুরাতন) নমুনা পজিটিভ এসেছে। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পজিটিভের হার ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বলে জানান, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ ফজলে রাব্বী। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্হ বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সিএমসিএইচ), সিভাসুতে (CIVASU) এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে প্রতিদিন করোনার আপডেট রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও গত ২১মে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ২১ তারিখের রিপোর্ট আজ ২২ মে সকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৭ জন এবং উপজেলায় ১৩ জন। করোনার নমুনা পরীক্ষার ল্যাব গুলোর মধ্যে বিআইটিআইডিতে ২০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সিএমসিএইচ) ৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে সিভাসুতে (CIVASU) এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে চট্টগ্রাম থেকে কোন পজেটিভ শনাক্ত হয়নি। চট্টগ্রাম বিআইটিআইডিতে ২৬৪ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তন্মধ্যে ২০জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরমধ্যে মহানগরীতে ১০জন এবং উপজেলায় ১০ জন। উপজেলার মধ্যে সন্ধীপপ ২ জন, হাটহাজারী ৫ জন, সীতাকুণ্ডে ১ জন ও রাউজানে ২ জন। মোট নেগেটিভ ২৪২জন। এর বাইরে ২ জন পুরনো রোগীর (ফলোআপ) নমুনা পজিটিভ এসেছে। এদিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটিতে (CVASU) ৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রামে কোন পজিটিভ আসেনি। এদিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম জেলায় কোন পজিটিভ আসেনি৷ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (CMCH) ১২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎমধ্যে ৭০ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তন্মধ্যে মহানগরীগে ৬৭ জন ( ১জন মৃত) এবং উপজেলায় ৩ জন। সাতকানিয়া ১ জন পটিয়া ১ জন ও ফটিকছড়ি ১ জন। মোট নেগেটিভ ৫৯ জনের।
হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ
২২ মে,শুক্রবার,হাটহাজারী প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মধ্যরাতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছের অল্প কিছু ডিম সংগ্রহ করেছেন জেলেরা। বর্তমানে নদীতে অবস্থানকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ডক্টর মঞ্জুরুল কিবরিয়া জানান, যদি টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয় তবে শুক্রবার মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। এখন ডিম ছাড়ার অনূকুল পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবশ্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নমুনা ডিম মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য প্রস্তুতের আভাস। মাছ আগে নমুনা ডিম ছেড়ে পরীক্ষা করে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই মা মাছ ডিম ছাড়বে। পাহাড়ি ঢল, ব্রজসহ বৃষ্টি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, পূর্ণিমা, অমবশ্যার তিথিতে মূলত মা মাছ ডিম ছাড়ে, এখন সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ আছে। হালদা থেকে গত বছর ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। এদিকে, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ডিম ফুটানোর জন্য তিনটি হ্যাচারি এবং ৬০টি কুয়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলেদের সকল ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে এবার ফায়ার সার্ভিস ও RAB সদস্যও করোনায় আক্রানত্ম
২২ মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার ফায়ার সার্ভিস ও RAB এর সাত জন সদস্য করোনায় আক্রানত্ম হয়েছে।চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাব ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ৩৯৩ টি নমুনার মধ্যে ৯২ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। পজিটিভ হওয়া সবাই চট্টগ্রামের। নতুন করে ৯২ জন আক্রানত্ম হওয়ায় করোনায় মোট আক্রানেত্মর সংখ্যা ১২৮৪ জন। এদের মধ্যে সুস হয়ে বাড়ি গেছে ১২৭ জন ও মারা গেছেন ৪৬ জন। সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায় বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ২৬৪টি নমুনার মধ্যে ২২টি পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর সবগুলো চট্টগ্রামের। এরমধ্যে ১০টি মহানগরীর ও ১২টি বিভিন্ন উপজেলার। বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে রয়েছে সন্দ্বীপের ৩ জন, হাটহাজারির ৬ জন, রাউজানের ২ জন ও সীতাকু-ের একজন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ১২৯ জনের নমুনার মধ্যে ৭০ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর সবগুলোই চট্টগ্রামের। তবে মহানগরী আর উপজেলার পৃথক শনাক্ত করা যায়নি। এদিকে গতকাল ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কক্সবাজার ল্যাবের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী। এদিকে আজ নতুন করে ৯২ জন করোনা শনাক্ত হওয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা হলো ১,২৮৪ জন। এর আগে২০ মে ২৬০ জন, ১৯মে ১২৮ জন, ১৮মে ৫৪ জন, ১৭ মে ৭৩ জন, ১৬ মে ৭৫ জন, ১৫ মে ৬৮ জন, ১৪ মে শনাক্ত হয়েছিল ৬১ জন, ১৩ মে শনাক্ত হয়েছিল ৯৫ জন, ১২ মে ৭৫ জন, ১১ মে ৬৫ জন, ১০ মে ৪৮ জন, ৯ মে শনিবার ১৩ জন, মে শুক্রবার ১১ জন, ৭ মে বৃহস্পতিবার ভেটেরিনারিতে ৩৮ জন ও বিআইটিডিতে ১৯ জন ( কক্সবাজারে একজনসহ) করোনা শনাক্ত হওয়ায় একদিনে ৫৭ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল চট্টগ্রামে। ৬ মে ১১ জন করোনা পজিটিভ হওয়ার আগে ৫ মে সোমবারের ভেটেরিনারি রিপোর্টের ১৩ জন, ৫ মে বিআইটিআইডি এর রিপোর্টে ৯ জন (ঢাকা, কুমিলস্না ও কক্সবাজার থেকে আসা তিনজন রোগী সহ), ৪মে ১৬ জন, ৩ মে ১৩ জন, ২ মে তিনজন, ১ মে তিনজন, ৩০ এপ্রিল একজন, ২৯ এপ্রিল ৪ জন, ২৮ এপ্রিল তিনজন, ২৭ এপ্রিল নয়জন, ২৬ এপ্রিল সাতজন ( রাজবাড়ী থেকে আসে একজন), ২৫ এপ্রিল দুই জন ( ঢাকা থেকে আসে একজন), ২৪ এপ্রিল একজন, ২২ এপ্রিল তিনজন, ২১ এপ্রিল একজন, ১৩ এপ্রিল চারজন, ১৮ এপ্রিল একজন, ১৭ এপ্রিল একজন, ১৬ এপ্রিল একজন, ১৫ এপ্রিল পাঁচজন, ১৪ এপ্রিল ১১ জন, ১৩ এপ্রিল দুইজন, ১২ এপ্রিল পাঁচজন, ১১ এপ্রিল দুইজন, ১০ এপ্রিল দুই জন, ৭ এপ্রিল তিনজন, ৫ এপ্রিল একজন ও ৩ এপ্রিল একজন আক্রানত্ম হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম শুরু
২১মে,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে দুদিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বর্হিনোঙ্গর থেকে ভিড়তে শুরু করে পণ্যবাহী জাহাজ। সকাল থেকে বন্দর জেটি ও ইয়ার্ডে পণ্য উঠানামাও শুরু হয়েছে। তবে এখনো সাগর উত্তাল থাকায় বহিনোঙ্গরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রশাসন জাফর আলম জানান, এখন বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারসহ গভীর সাগর এবং বহিনোঙ্গরে এখন ৯৯টি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজ ক্রমান্বয়ে বন্দরে প্রবেশ করবে। আম্ফানের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বন্দরের নিজস্ব সর্বোচ্চ সতর্কতা অ্যালার্ট ৪ জারির পর গত মঙ্গলবার থেকে বন্দরে সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
চমেক করোনা ব্লক ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালের যাত্রা হলো শুরু: মেয়র
২১মে,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোগী চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রস্তুতকৃত করোনা ব্লক ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছে। চমেকের করোনা ব্লকটিতে একশ শয্যা এবং হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৮০ শয্যা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ দশটি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রশাসন। আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ব্লকটি উদ্বোধন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ৩০ জন চিকিৎসক ও ১৬৬ জন জন নার্স করোনা ব্লকে দায়িত্ব পালন করবে। হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালেও শয্যা,অক্সিজেন লাইন প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন করোনা বিশেষায়িত হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালটিও উদ্বোধন করেছেন। এসময় তিনি ঘুরে ঘুরে হাসপাতালের চুড়ান্ত প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। মেয়র বলেন, চমেকে স্বতন্ত্র করোনা ব্লক ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল চালু হওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবার গতি একধাপ এগিয়ে গেল। চট্টগ্রামে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণ বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। এতে করে চিকিৎসা সেবার চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচটিতে। তিনি জনগণকে শারীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধৈর্য্যশীলতার সাথে দুর্যোগ মোকাবেলার আহবান জানান। উদ্বোধনের সময় বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা হাসান শাহরিয়ার কবির, জেলা সিভিল সার্জন ডা শেখ ফজলে রাব্বি, চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর , চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্তবধায়ক ডা অসীম কুমার নাথ, বিএমএ চট্টগ্রাম সভাপতি ডা মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, প্রাইভেট ক্লিনিক এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডা লিয়াকত আলী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর