রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১
চট্টগ্রামের গলিপথগুলোতে উদ্বিগ্ন মানুষের সমাগম
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার সংক্রমন ঠেকাতে, সাধারণ ছুটির কারণে দরিদ্র মানুষদের ঘরে খাদ্য পৌছে দেয়ার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় এখনো পৌছেনি কোন সাহায্য সামগ্রী। তবে মাঝে মধ্যে বন্দর নগরীর মোড়ে মোড়ে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিলেও সেখানে তৈরী হয় চরম বিশৃঙ্খলা। জেলা প্রশাসক বলছেন, ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে সচেষ্ট তারা। চট্টগ্রামের গলিপথগুলোতে উদ্বিগ্ন মানুষের সমাগম। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা কিংবা হোম কোয়ারেন্টাইন কোন কিছুই বোঝেন না অভাবী দিনমজুর মানুষেরা। শুধু জানেন, অঘোষিত লকডাউনে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। পেটে দানাপানি দিতে বেরোতে হবে কাজের খোঁজে।ফোন করলে ঘরে ত্রাণ পৌছে দেবে জেলা প্রশাসন কিংবা সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন। এমন খবর গণমাধ্যমে পেলেও বাস্তবে তার দেখা পাননি চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা।পথে ঘাটে মাঝে মধ্যে ত্রাণ দেয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। কিন্তু সেখানে ঘটছে চরম বিশৃঙ্খলা।সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার বালাই তো নেইই, বরং ত্রাণের সন্ধানে সহিংসতায় জড়াতেও প্রস্তুত ছিন্নমুল মানুষ। অবশ্য জেলা প্রশাসকের দাবি, শৃঙ্খলার সাথে ত্রাণ বিতরণের পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।আর বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষম বন্টনের পাশাপাশি বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে না পারলে, ঘটতে পারে করোনার সংক্রমণ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা আর সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে, কোন চেষ্টাই কাজে আসবে না বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোধে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও সেনা বাহিনীকে আইনানুগ নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্যে নগরীতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। আজ রবিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন এর নেতৃত্বে আজ সকাল ৯ টা থেকে নগরীর ডবলমুরিং, বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। তবে এসকল এলাকায় আজ কোন জরিমানা বা মামলা করা হয়নি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আফরোজ এর নেতৃত্বে কোতোয়ালি, সদরঘাট, চকবাজার, বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দন্ডবিধি ২৬৯ ধারা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বায়েজিদ এলাকায় ২ প্রবাসীর হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করণ মনিটরিং করা হয়। এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক এর নেতৃত্বে পাহাড়তলী, হালিশাহ ও আকবরশাহ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টেন নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ কোরিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কলোনীতে আসা একজন তাবলিগের মুসল্লিকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্যে অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও ম্যাজিস্ট্রে আশরাফুল হাসানের নেতৃত্বে চান্দগাও, পাঁচলাইশ, খুলশি, বাকলিয়া এলাকার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়। এসময় ফয়েজ লেক এলাকায় একটি সেলুন খোলা রাখায় এবং সেলুনের ভেতর একসাথে অনেক লোকের ভীড় পাওয়ায় সেলুনের মালিককে ৫০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে হোম কোয়ারেন্টাইন করেছেন ১৫ হাজার ১ শত ৬২, হোম কোয়ারেন্টাইন হতে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯ শত ৬৩ জন, বিভিন্ন হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনরত আছে ৪২ জন, হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইন হতে ছাড়পত্র প্রাপ্ত ২৮ জন, আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ২০ জন, আইসোলেশন হতে ছাড়পত্র প্রাপ্ত ১৩ জন। আজ চট্টগ্রামে করোনায় কোন রোগী মারা যায়নি।
সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
0৫এপ্রিল,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ বন্দর নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, চট্টগ্রামে এসআলম গ্রুপের সহযোগিতায় সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে উক্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান, বিপিএম, পিপিএম । এ কার্যক্রমের আওতায় সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক চট্টগ্রাম নগরীতে করোনার প্রাদুর্ভাবে দরিদ্র ৩০০০ (তিন হাজার) পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারকে ০৫ কেজি চাল, ০১ কেজি ডাল, ০১ কেজি পেঁয়াজ, ০২ কেজি আলু, ০.৫ কেজি লবন, ০.৫ লিটার সয়াবিন তৈল ও ০১টি সাবান সহ সর্বমোট ১১ কেজি খাদ্য দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রত্যেকের বাসায় বাসায় গিয়ে বিতরণ করা হবে। এসময় সেখানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মোঃ তারেক আহম্মেদ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (চট্টগ্রাম অঞ্চল) সভাপতি, মোঃ মুসা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (চট্টগ্রাম অঞ্চল), সাধারণ সম্পাদক, অলি আহমদ, এসআলম গ্রুপের পিএস টু চেয়ারম্যান মোঃ আকিজ উদ্দিন সহ পুলিশের অন্যান্য ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে Rab-7
0৪এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সমগ্রবিশ্ব জুড়ে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে Rab-7। এছাড়াও Rab মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে কর্মহীন হয়ে পরা দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। Rab-7এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান জুয়েল, পিএসসি জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে Rab07। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মানুষকে সতর্ক হচ্ছে। ইতিমধ্যে Rab-7 এর পক্ষ থেকে দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষের খাদ্য সহায়তার কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। সেই সাথে সকলকে সতর্ক ও নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেন। গুজবে কান দেওয়া ও কেউ যাতে গুজব ছড়াতে না পারে সেই জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে বলেন।গুজব ছড়ানো কারিকে আইনের আওতায় আনা হবে। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক এ এস পি কাজী মোঃ তারেক আজিজ বলেন,করোনা ভাইরাসের কারনে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে কর্মহীন হয়ে পরা দুঃস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষকে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা নগরীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় টহল জোরদার করেছি। সবাইকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখা ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। তাছাড়া কোন প্রকার গুজব না ছড়ানো ও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক এ এস পি মাশকুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের এই কর্মসূচী চলমান থাকবে। তিনি সবাইকে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক( মিডিয়া) এ এস পি মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহলের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। যাতে কেউ অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হয় এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলে সে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
নগরীতে হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত ও বাজার মনিটরিং এ ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান
0৪এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথ ভাবে মাঠে নেমেছে। সরকারি র্নিদেশনা অমান্য করে রাস্তায় অহেতুক ঘুরাঘুরি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখার বিরুদ্ধে একটু কঠোর হয়েছে আইনশূঙ্খলা বাহিনী। এর প্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়। আজ শনিবার ৪ এপ্রিল সকাল ৯ঃ০০ ঘটিকা থেকে দুপুর ৩ টা পযর্ন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে চারজন র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। নগরীর পাহাড়তলী, চকবাজার, বায়েজিদ ও কতোয়ালী থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী অভিযানকালে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গণপরিবহনে যাত্রী বহন করার বিষয়ে চালকদের সতর্ক করা হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড়তলী থানাধীন আম বাগান ও বায়েজিদ থানাধীন আপন নগর এলাকায় তিনটি সেলুন খোলা রাখায় ৯০০(নয়শত টাকা) জরিমানা করা হয়। বায়েজিদ থানাধীন মোহাম্মদপুর বাজার ও আপন নগর এলাকায় তিনটি লন্ড্রি দোকান সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খোলা রাখায় ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত টাকা) জরিমানা করা হয়। বায়েজিদ থানাধীন আপন নগর ও শেরশাহ কলোনী বাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে তিনটি টেইলারের দোকান খোলা রাখায় ১৫oo(এক হাজার পাঁচশত টাকা) জরিমানা করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বায়েজীদ থানাধীন শেরশাহ কলোনী বাজারে খাজা হোটেলসহ দুইটি হোটেলকে ১৫০০(এক হাজার পাঁচশত টাকা) জরিমানা করা হয়। এছাড়া জিইসি মোড়ে মোটরবাইকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট তিনজনকে নয়শত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বায়েজিদ বাজার, মোহাম্মদপুর বাজার, শেরশাহ কলোনী বাজার, অক্সিজেন কাঁচা বাজার, পাহাড়তলী বাজার পরিদর্শন ও মাইকিং এর মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হয়। টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারেও বিক্রেতাদের পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাহাড়তলী, আকবরশাহ এবং হালিশহর থানাধীন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকীন নুর । এ সময়ে পাহাড়তলী এলাকার হাট বাজার পরিদর্শন করা হয় এবং জনসমাগম পরিলক্ষিত হয়। অপ্রয়োজনে জনগণকে বাজারে ভীড় করা থেকে বিরত থাকা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করার অনুরোধ করা হয়। জরুরী সেবার আওতাবহির্ভূত বেশ কিছু দোকান খোলা অবস্থায় পাওয়া গেলে তা তাতক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময়ে আকবরশাহ এলাকায় একটি সেলুনের দোকানে খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়,নির্দেশনা অমান্য করে দোকানের কার্যক্রম পরিচালনারে কারনে তাকে ৫শত টাকা জরিমানা করা হয় এবং মৌখিক ভাবে সর্তক করা হয়। এছাড়াও হালিশহর এলাকায় বাজার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে জনগন কে এক সাথে বসে চা পানরত অবস্থায় পাওয়া গেলে দোকান মালিক কে ৩শত টাকা জরিমানা করা সহ উপস্থিত ক্রেতাগনের নিকট হতে মুচলেকা নেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারেও স্বেছাসেবীদের পরামর্শ প্রদান করা হয়।পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করে। নগরীর ডবলমুরিং, পতেঙা, বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে নগরীর অলিতে গলিতে কড়া টহল জোড়দার করা হয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং করা হয়। এছাড়াও মানুষ যাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না আসে সে বিষয়ে সচেতন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে মানুষ আগের তুলনায় সচেতন বলে মনে হয়। এর মধ্যে দুইটি মোটর সাইকেলে অপ্রয়োজনে তিন জন করে ঘুড়াঘুড়ি করায় জরিমানা করা হয়েছে। খুলশী, চান্দগাও, পাচলাইশ, ও বাকলিয়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট ও বাজার মোনিটরিং পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায়। এ সময় খুলশী ও চান্দগাও থানার সামনে উপস্থিত ত্রান সাহায্য প্রার্থী দের মোটিভেট করে সরিয়ে দেওয়া হয়। জিইসি ও দাম্পাড়া এলাকায় ৩টি দোকানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ও ৫ টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্নকারী নাগরিকগণের মাঝে সনদ পত্র বিতরণ
0৪এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার যে সকল নাগরিক রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে যথাযথভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করেছেন এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিদেশ ফেরত যে সকল সদস্য হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করেছেন তাদের মাঝে আজ দামপাড়া পুলিশ লাইন্সস্থ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সনদ পত্র বিতরণ করা হয়। হোম কোয়ারেন্টাইন সমাপ্তিকরণ উপলক্ষে আয়োজিত সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান, বিপিএম, পিপিএম। তিনি নগরীর ১৬ থানায় ১০ জন করে মোট ১৬০ জন হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্নকারী ব্যক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন । উল্লেখিত সনদপত্রগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। যেসব সম্মানিত নাগরিক যথাযথভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করেছেন তাদেরকে উৎসাহিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নির্দেশে প্রত্যেক থানার অফিসার ইনচার্জগণ তাদের হাতে সনদ তুলে দিবেন। এছাড়া পুলিশ কমিশনার জর্ডান থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে আসা সিএমপির ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে সফলভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন সমাপ্ত করায় এই সনদ পত্র প্রদান করেন। এই সনদপত্র বিতরণ প্রক্রিয়া নগরীর সকল নাগরিকদের মাঝে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ এবং হোম কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্তে এক ধরণের প্রনোদনা হিসেবে কাজ করবে মর্মে সিএমপি কমিশনার মহোদয় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ সহ পুলিশের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মীরসরাই উপজেলার অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের উপজেলা প্রশাসন থেকে সহায়তা
0৪এপ্রিল,শনিবার,মীরসরাই প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মীরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের গজারিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের তাৎক্ষনিক সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের খাদ্যসামগ্রী, হাডি পাতিল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিতকরীর পক্ষ থেকে শুকনো খাবার দেয়া হয়। এর আগে সকালে সাহেরখালীর চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষ থেকে চাউল ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। এসময় উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন মহোদয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ রুহুল আমিন মহোদয় ভাইসচেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহোদয় ১৬নং সাহেরখালী ইউপি চেয়ারম্যান জনাব কামরুল হায়দার চৌধুরী মহোদয় হিতকরীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহিদুল ইসলাম রয়েল উপস্থিত ছিলেন।
মানবিক সেবায় মানুষের দোর গোড়ায় চট্টগ্রাম পুলিশ
0৪এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবিক সেবায় নানা মুখি কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যে মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশ। মানবিক পুলিশ হতে চাই এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে অনেকটাই বদলে গেছে পুলিশি সেবার ধরন। চট্টগ্রামের পুরো পুলিশ বিভাগকে যিনি বদলে দিয়েছেন তিনি সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান । চট্টগ্রামের পুলিশ আজ মানবিক পুলিশে পরিনত হয়েছে। তার মধ্যে চট্টগ্রাম পুলিশ বিভাগের অন্যতম একটি রোল মডেল কোতোয়ালী থানা। নানা সেবা মূলক কাজের মাধ্যমে পৌছে গেছে মানুষের দোর গোড়ায়। ওসি মোহাম্মদ মহসিন বদলে দিয়েছেন পুরো থানার অবয়ব।সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে লেখা আছে, পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশসহ নানা স্লোগান। রয়েছে জাতীয় পতাকাসহ নানা চিত্রকর্ম। ফটক দিয়ে ঢোকার সময় হাতের ডান দিকে একটি বাগান। লাগানো হয়েছে নানা ফুলের গাছ। গাছগুলোতে ফুলও এসেছে। রয়েছে একটি ছাউনি। যেটি সেবা ছাউনি নামে পরিচিত, জরুরি সেবা দেওয়া হবে সেখানে। মূল ভবনে ঢুকতে ঝোলানো ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লেখা জিডি করতে টাকা নয় মিষ্টি হেসে ধন্যবাদ দিন। প্রবাদে ছিল, বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা, আর পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ! কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার অনন্য পুলিশিং বদলে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা। এই থানায় যোগ দিয়ে বর্তমান ওসি মোহাম্মদ মহসীন শুরু করেন হ্যালো ওসি প্রোগ্রাম। এটি এখন সিএমপির প্রত্যেক থানায় চালু হয়েছে। হ্যালো ওসি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন হ্যালো কমিশনার চালু করেছে সিএমপি। একটি সেবা ছাউনি করেছি। সেখানে জরুরি সেবা দেওয়া হবে। সীমানা প্রাচীরের স্বাধীনতা, ইতিহাস, পুলিশিং এর বিভিন্ন বাণী লেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে থানায় যারা আসবেন তাদের ভেতর একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলে আশা করছি। এসব দৃশ্য চোখে পড়বে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী মডেল থানায় ঢুকলে। অথচ বছর খানেক আগেও নগরের ব্যস্ততম অনেকের বিরক্তির কারণ ছিল এই থানা প্রাঙ্গণ। সারাক্ষণ জটলা লেগে থাকার পাশাপাশি পরিবেশ ছিল নোংরা। দুর্গন্ধ থাকতো নিয়মিত। ওই এলাকা পাড়ি দিতে দুর্ভোগে পড়তে হতো পথচারীদের। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন উধাও। এখন থানার পাশ দিয়ে গেলেই মন জুড়িয়ে যায়। প্রায় ৬০টি নান্দনিক চিত্রকর্ম ও দেয়াল লিখন দিয়ে কোতোয়ালি থানার ভেতরে-বাইরে সাজানো হয়েছে। কেতোয়ালী মডেল থানার দেয়ালজুড়ে রয়েছে বিখ্যাত মানুষদের উক্তি। ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত না হতে আহ্বানও জানানো হয়েছে। ধর্ষণবিরোধী চিত্রকর্ম ও দেওয়াল লিখনে ব্যবহার করা হয়েছে প্রতীকী চিত্র। থানার প্রবেশপথে চোখে পড়বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত বাণী- শুধু জনগণের ঐকবদ্ধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা গড়ে তুলতে পারি উন্নততর ভবিষ্যৎ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত দেয়াল চিত্রে উল্লেখ আছে, নিজের ভাগ্য গোছানোর জন্য নয়, দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করি। থানার ভেতরে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন করে দেয়ালে লেখা হয়েছে, মাদক নয়, মৃত্যু নয়, মাদকমুক্ত জীবন চাই। পাশেই রয়েছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম, আব্রাহাম লিংকনসহ বিখ্যাত মানুষদের উক্তি। সাধারণ মানুষের ভয়ের জায়গাটা উপরে দিয়েছেন পাল্টে দিয়েছেন থানা সম্পর্কে মানুষের ধারনা। মানুষ এখন সেবা নিতে আসে থানায় । সমপ্রতি এক মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা বাংলাদেশ পুলিশের কাজের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন এই মুহুর্তে বাংলাদেশের নায়ক পুলিশ। মার্কিন পুলিশের কর্মকর্তা মাইক র্পাকার চট্টগ্রামের হ্যালো পুলিশ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করে এবং এর ভুয়সী প্রশংসা করেন। এটা একটা বড় অর্জন। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। আজ কম বেশী সব থানাই এগিয়ে আসছে নানা সেবা মুলক কাজে। পুলিশ জনগনের বন্ধু এর প্রতিফলন ঘটছে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত শুখকর। পুলিশ জনগণের প্রকৃত বন্ধু হবে এটাই সবার প্রত্যাশা। মানুষ আজ হাত বাড়ালেই পুলিশি সেবা পায়। ৯৯৯ তে কল করে বিপদে সাহায্য পায়। হ্যালো অসির মাধ্যমে নগরবাসী নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারে। নানা অভাব অভিযোগ খোলামেলা আলোচনা করতে পারে। মানবিক পুলিশ ইউনিটের মাধ্যমে নানা নাগরিক সুবিধা নিতে পারছে নগরবাসী। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নগরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে। একদিকে করোনা সংক্রমন ঠেকাতে সামাজিক দুরত্ত্ব বজায় রাখার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। অন্য দিকে দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পরা মানুষের মাঝে এাণ বিতরন করছে। পাশাপাশি মধ্যবিও যারা লোক লজ্জায় এাণ নিতে পারে না তাদের বাসায় গোপনীয়তার সহিত পৌঁছে দিচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। এই কাজ নিরবচ্ছিন্ন ভাবে করতে খোলা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। চালু করা হয়েছে ডোর টু ডোর সপ কার্যক্রম। যার মাধ্যমে নগরবাসী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে বসে পাচ্ছে। কল করলেই পুলিশ পৌছে দিচ্ছে বাসায়। এতকিছুর মধ্যে তাদের চাওয়া আপনারা ঘরে থাকুন। নিরাপদে থাকুন।করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমরা সদা জাগ্রত। সিএমপি কমিশনার নগরবাসীর উদদেশ্যে বলেছেন, আপনারা ঘরে থাকুন। নিরাপদে থাকুন। আমরা আপনাকে খারার পৌছে দিব। আপনারা রাষ্ট্রের সাথে। আমরা আছি আপনাদের পাশে।সিএমপি কমিশনার একজন মানবিক মানুষ তার হাত ধরেই বদলে যাচ্ছে সিএমপি।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৭ জনকে জরিমানা
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগরের চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, খুলশী এবং বাকলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে জরিমানা করা হয়। চান্দগাঁও থানার সামনে ২ জন, জিইসি মোড়ে ২ জন এবং লালখান বাজার মোড়ে ৩ জনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন করতে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা না মেনে বাসা ছেড়ে সড়কে মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়েছিলেন তারা। যৌথ বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে বের হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় তাদের মোট ৯ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আরও ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান এর নেতৃত্বে নগরীর ডবলমুরিং, বন্দর এবং ইপিজেড থানায় অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে তার সঙ্গে ক্যাপ্টেন তাজের অধীনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান জানান, সম্প্রতি বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন পর্যালোচনা, লোকজনকে ঘরের বাইরে না আসার আহ্বানের পাশাপাশি কাটগড় এলাকায় বাড়তি দামে মাংস বিক্রি করায় এক দোকানিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নগরের চকবাজার, বায়েজিদ, সদরঘাট, এবং কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা। অভিযানে তার সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা জানান, অভিযানে আন্দরকিল্লার হাজারী গলি এলাকায় হোটেল খোলা রেখে খাবার পরিবেশনের দায়ে ২টি হোটেলকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ৫টি অস্থায়ী ফুলের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। নগরের পাহাড়তলী, আকবর শাহ এবং হালিশহর থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান। অভিযানে তার সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান জানান, লোকজনকে জরিমানার পরিবর্তে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করেছি আমরা। বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন মানার পরামর্শসহ ওই এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসার অনুরোধ জানিয়েছি। অভিযানে হালিশহর এলাকায় হোটেল খোলা রেখে ভেতরে খাবার পরিবেশনের দায়ে মালিককে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদিউল আলম জানান, সম্প্রতি বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার পাশাপাশি লোকজনের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখতে চট্টগ্রামে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। তিনি জানান, আগে এক শিফটে ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট সারাদিন নগরে দায়িত্ব পালন করলেও অভিযানের ব্যপ্তি বাড়াতে এখন দুই শিফটে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছেন। সরকার ছুটি দিয়েছে লোকজনকে ঘরে থাকার জন্য। কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের অভিযানেও ১১টি মামলায় ২০ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর