টেকনাফ উপজেলা সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ী নিহত
২২এপ্রিল,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারী নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা ও ধারালো কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের কেরুনতলী মৃত আবুল কাশেমের বাঁশ বাগানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকার ১৩ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শামসুল আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২১) ও ১৯ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নবী হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন (২৫)। তারা মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতার পরে এপারে পালিয়ে এসেছিলেন। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই দীপংকর রায় জানিয়েছেন, উখিয়া উপজেলার পালংখালী বিজিবির সঙ্গে ওই এলাকায় ব্যবসায়ীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওই দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়। এমন সংবাদ বিজিবি জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুইজনের মরদেহ ও সেই সাথে ধারালো কিরিচসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র ও ২ কার্ড ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধদের টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আল আমিন ও সোহেলের দাফন সম্পন্ন
১৩এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের আল আমিন ও সোহেলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরভাগল গ্রামে আল আমিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আল আমিনের বাবা মাওলানা আমির হোসেন বলেন, অত্যন্ত কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমার ছেলে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল। যে টাকা ঋণ করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম তা পরিশোধ করার মতো অবস্থা আমার নেই। আমি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানাই। ছেলের লাশ ঠিকভাবে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আমির হোসেন। অপর দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর গ্রামে বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মো. সোহেলকে দাফন করা হয়। শুক্রবার মধ্যরাতে সোহেল ও আল আমিনের লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। গত ৭ এপ্রিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের কাছে বিদেশি শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ৫ বাংলাদেশি নিহত হন।
ফেনীতে গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন তিন ডাকাত নিহত
১৩এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর দাগনভূঞাঁর মাতুভূঞা ইউপির উত্তর আলীপুর গ্রামের বাগেরহাট এলাকায় শুক্রবার রাত ২ টায় গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন তিন ডাকাত নিহত হয়েছেন। এসময় আরেক সন্দেহভাজন ডাকাত গুরুতর আহত হন। নিহত সোহাগ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জসিম উদ্দিনের ছেলে। নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত মনির হোসেন একই এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। দাগনভূঞাঁ থানার ওসি ছালেহ আহাম্মদ পাঠান বলেন, ডাকাতি করতে গেলে গণপিটুনিতে পাঁচ ডাকাত আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান। তাদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। গুরুতর একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আবু তাহের বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জয়পুরহাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে,নিহত ৮
১২এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: জয়পুরহাটের সদর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে আটজন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। আহতদের জযপুরহাট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি কর হয়েছে। জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন, জয়পুরহাট থেকে বগুড়া যাওয়ার পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হরিয়ে রাস্তার পাশে একটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয় বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
সুন্দরবনে সারবোঝাই কার্গো ডুবি, নিখোঁজ ৩
১০এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: খুলনা জেলার সুন্দরবনের পশুর নদীতে মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি হারদ্দা নামে সারবোঝাই একটি কার্গো ডুবে গেছে। এ ঘটনায় তিনজন নিরাপত্তারক্ষী নিখোঁজ রয়েছেন। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ তথ্য জানান পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি আরো জানান, রাত ৮টার দিকে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া এলাকায় টিএসপি সারবোঝাই একটি কার্গো ডুবে যায়। এসময় কার্গো থেকে পাঁচজন সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও তিনজন নিরাপত্তারক্ষী নিখোঁজ রয়েছেন।
কুমিল্লা ইপিজেডের আগুন ৮ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
৯এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুমিল্লা ইপিজেডের আরএন স্পিনিং মিলের আগুন প্রায় আট ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের অবিরাম চেষ্টার পর মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। সকালে ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহাম্মদ। তবে কারখানার ভেতর বিপুল পরিমান সুতা, তুলা ও অন্যান্য মালামালে এখনও আগুন রয়েছে। এসব আগুন পুরোপুরি নেভাতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এদিকে ওই কারখানায় ৩ শিফটে যেসব শ্রমিক কাজ করতেন তাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোমবার বিকেলের শিফটেও যারা কাজ করে বাড়ি ফিরেছিলেন সেই কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মালিক পক্ষ ও তাদের প্রতিনিধি এবং কর্মকর্তারাও বাকরুদ্ধ। কারখানার মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মী দিদার জানান, কারখানার ভেতর ৩টি শিফটে কাজ হয়। প্রতি শিফটে অন্তত ৫শ শ্রমিক কাজ করেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার এলার্ম শুনতে পেয়ে সকল শ্রমিক নিরাপদেই বাহিরে চলে আসে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ Rab ও পুলিশের কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি তদারকি করেন। এদিকে আগুনে ওই কারখানার ভেতর থাকা সকল মেশিনপত্র, মালামাল ও অবকাঠামো ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। এ নিয়ে মালিক পক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, স্টিলের অবকাঠামো দিয়ে তৈরি ওই স্পিনিং মিলে প্রচুর পরিমাণ সুতা ও তুলা থাকায় আগুন অল্প সময়েই পুরো কারাখানায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যে পরিমাণ পানি দরকার ছিল তা ইপিজেডের ভেতর ছিল না। তাই পাম্প চালিয়ে বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করা হয়। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে তবে ভেতরে মালামালের ভেতর জ্বলতে থাকা আগুন নিভিয়ে ফেলেতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অতিরিক্ত মদপানে রাশিয়ান প্রকৌশলী ও ২ রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
৭এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অতিরিক্ত মদপানে রাশিয়ার একজন প্রকৌশলী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ও রোববার ভোরে তারা মারা যান। একই কারণে রাশিয়ান আরও দুই প্রকৌশলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতরা হলেন, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান প্রকৌশলী বেলি দিমিত্রী (৪১) এবং রাবির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহতাসিম রাফিক খান তুর্য (২৫) ও অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তুর্য রায় (২৫)। রাফিক খানের বাড়ি খুলনা। আর তুর্য রায়ের বাড়ি নীলফামারী। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাফিস রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে রাশিয়ান চারজন প্রকৌশলী মদপান করেন। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চার বিদেশি প্রকৌশলীকে রামেক হাসপাতালে আনা হয়। কিছুক্ষণ পর বেলি দিমিত্রীর মৃত্যু হয়। মিকায়েল দিমা, লোগেচেভ লেভ নামের দুই প্রকৌশলী হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর এক প্রকৌশলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাবির সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তুর্য নগরীর বালিয়াপুকুরের একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। আর রাফিক খান থাকতেন মোন্নাফের মোড়ের একটি ছাত্রাবাসে। দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। দুজনের বন্ধুত্ব ছিল খুব ভাল। শুক্রবার রাতে রাফিক খান, তুর্য রায় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে মদপান করেছিলেন। এদের মধ্যে রাবির দুই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের নেতা তোহরাব হোসেন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে রাফিক খান তুর্য তাকে ফোন করে মদপানের কারণে তাদের দুজনের অসুস্থতার কথা জানান। তিনি তাদের তার বাসার রোড এলাকার ছাত্রাবাসে ডাকেন। তখন রাফিক খান ও তুর্য রায় তার ছাত্রাবাসে যান। তোহরাব তাদের হাসপাতালে নিতে চাইলে তারা বলেন, কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলে তারা ঠিক হয়ে যাবেন। তোহরাব তাদের ডাবের পানি ও স্যালাইন পান করতে দেন। এরপর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত ৩টার দিকে রাফিক খান বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৪টার মধ্যে তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। এরই মধ্যে ছাত্রাবাসে থাকা তুর্য রায়েরও অবস্থার অবনতি হয়। তখন তাকেও হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রোববার ভোর ৫টার দিকে রাফিক খান এবং সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তুর্য রায় মারা যান। এ ব্যাপারে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত তিনজনের মরদেহ রামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদেরও খবর দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর বিদেশি প্রকৌশলীর মরদেহের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি।
নয় দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের অবরোধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ
২এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নয় দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রেলপথ অবরোধ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসব দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, গ্রাচুইটি ও পিএফর টাকা দেয়াসহ নয় দফা দাবিতে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছেন। তিন দিন তারা ধর্মঘট পালন করবেন। এই তিন দিন সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা করে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিও পালন করছেন শ্রমিকরা। মহানগরে নতুন রাস্তার মোড়ের কবির বটতলা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। রেলপথ অবরোধের কারণে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে খুলনা রেলস্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছাড়েনি। ফলে যাত্রীরা স্টেশনেই অবস্থান করছেন। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের। খুলনা স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, সকাল আটটা থেকে অবরোধ শুরু হলেও সকাল ছয়টা থেকে ট্রেন ছাড়া সম্ভব হয়নি। শ্রমিকরা ভোর ছয়টা থেকেই ট্রেন ছাড়তে বাধা দিয়েছেন। ফলে সকাল ছয়টার কমিউটার, সাড়ে ছয়টার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, সোয়া সাতটার রূপসা এক্সপ্রেস, ৮টা ৪০-এ চিত্রা এক্সপ্রেস, ৯টা ১০-এ রকেট ছাড়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, বিজেএমসি চেয়ারম্যান গত ২৮ মার্চের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। দাবি আদায়ে বাধ্য হয়ে আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
পৃথক বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফে নিহত ৩
৩১মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে কথিত পৃথক বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নারীসহ তিন ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোররাতে সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ও একই উপজেলার দমদমিয়া নাফনদীর ওমরখাল এলাকায় বিজিবির সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল ৬টিএলজি বন্দুক, ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৮টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। নিহত ইয়াবা কারবারিরা হলেন, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলী আকবর পাড়া এলাকার মিয়া হোসনের ছেলে মাহামুদুর রহমান (২৮) ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আফছার (২৫) এবং লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/৬ ব্লকের বদরুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা আকতার (২০)। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একদল ইয়াবা কারবারি বিক্রির জন্য একত্রিত হচ্ছে এমন খবর পেয়ে রোববার রাতে টেকনাফ উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ঠোড়ে। এভাবে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ গুলি চালানোর পর ইয়াবা কারবারিরা পিছু হঠলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ দুইটি দেহ পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক কক্সবাজার রেফার করেন। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুইটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশের একজন এসআইসহ তিন সদস্য আহত হয়েছে। এরা হলেন এস আই দীপক বিশ্বাস, সহকারি উপ-পরিদর্শক এএসআই আমির ও কনেষ্টবল শরিফুল। তাদের টেকনাফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ ৫/৬টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি। অপরদিকে, টেকনাফ ২নং বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানিয়েছেন, রোববার ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া ওমরখাল নাফনদী এলাকায় টহলে বের হন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) সদস্যরা। এ সময় কিছু লোক মিয়ানমার থেকে ওমরখাল পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় থামার জন্য সংকেত দেয়। কিন্তু, বিজিবির সংকেত অমান্য করে উল্টো বিজিবির টহলদলের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এতে বিজিবি টহলদলের একজন সদস্য আহত হয়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবি টহলদল কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০-১৫ মিনিট গুলি বিনিময় চলে। অস্ত্রধারী চোরাকারবারীরা গুলি করতে করতে খালের কিনারা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুলির শব্দ থামার পর ভোরের আলোতে টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশী করে এক জন নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নৌকার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে। পরে স্থানীয়রা তাকে রোহিঙ্গা নারী বলে সনাক্ত করে। এ সময় ১০ হাজার পিস ইযাবা ও ৩টি লোহার ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি টেকনাফ থানার মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা।

সারা দেশ পাতার আরো খবর