তাসপিয়ার মৃত্যু রহস্যের কিনারা পেয়েছে পুলিশ
চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার আরও একাধিক সিসি টিভির ফুটেজ হাতে পেয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনায় বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা ভিসেরা রিপোর্টের। এটি পেলেই তাসপিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যার শিকার তার রহস্য জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। পুলিশ এখন মোটামুটি নিশ্চিত, নগরীর চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তাসপিয়া আর বাসায় ফিরে আসেনি। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে নতুন করে ওই রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এছাড়া নগরের সন্দেহভাজন বেশ কিছু এলাকার সিসি টিভির ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে তাসপিয়াদের বাসার সিসি টিভির ফুটেজ। সূত্র জানায়, ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাসপিয়া আমিনকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কারা নিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তারও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (ভিসেরা ও সিআইডি) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। এ বিষয়ে সিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) মো. জাহেদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই সব কিছু জানানো হবে। নতুন করে তাসপিয়ার বাসার সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১ মে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় তাসপিয়া। এরপর আর ফেরেনি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী লোকমান হোসেনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন। আর নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাসপিয়া ও তার বন্ধু আদনান মির্জা সেখানে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ৩৭ মিনিটের দিকে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে যায়। এরপর রেস্টুরেন্টের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তাসপিয়াকে তুলে দিয়ে আদনান আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তার পিছু নেয়। সন্ধ্যা ছয়টা ৪৮ মিনিটে ওআর নিজাম রোডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার বাসার গলির খানিক সামনে ধীরগতিতে চলছিল সিএনজি অটোরিকশাটি। বাসায় যেতে হলে ওয়েলফুড রেস্টুরেন্টের সামনের পথ পাড়ি দিয়ে মেডিকেল সেন্টারের গলি দিয়ে ঢোকার কথা। কিন্তু, সে পথে যায়নি তাসপিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি। একই সিএনজি অটোরিকশাতে রাত আটটা ১০ মিনিটে তাসপিয়াকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতপাড়ে দেখা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, যতটুকু জেনেছি তাসপিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কে দিল? পুলিশের ধারণা, চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে তাসপিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গেছে। কিন্তু, মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। এমনকি সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও এখনঅব্দি পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ২ মে স্থানীয়রা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা লাশটি তাসপিয়ার বলে সনাক্ত করেন। সুরতহাল রিপের্টে মরদেহের এক চোখ উপড়ে ফেলা, অপর চোখ নষ্ট করে দেয়া ছাড়াও নাক-মুখ থেঁতলানো, পিঠ, বুক এবং নিতম্বে নির্যাতনের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। তার বুকের মাঝেও নখের দাগ রয়েছে। এর আগে গত ১ মে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিন। এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল। তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনেছেন।
বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত ফেনীতে
ফেনীতে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলগাজী-ফেনী সড়কের বন্ধুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাই আলী হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, সকালে শহরে বাবার বাসা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে মেয়েসহ ফুলগাজীতে স্বামীর বাড়ীর উদ্দেশে বের হন হাসিনা আক্তার। তাদের বহনক অটোরিকশাটি বন্ধুয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে হাসিনা আক্তার (২৮) ও তার মেয়ে উম্মে হাফসা (২) নিহত হয়। এসময় চালকসহ আরো দুইজন আহত হয়েছেন। নিহত হাসিনা আক্তার ফুলগাজী বিজয়পুর উপজেলার মো. সবুজের স্ত্রী। ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কুমার সাহা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড় হঠাৎ অশান্ত
আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়। গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি-জেএসএসের (এমএন লারমা) সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমাকে হত্যার একদিনের মাথায় প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ার করে মারা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। গতকাল শুক্রবার শক্তিমানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে খালিয়াজুড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহতরা হলেন- ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা, জেএসএসের সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির (এমএন লারমা) মহালছড়ি শাখার সভাপতি সুজন চাকমা, সদস্য তনয় চাকমা, রবিন চাকমা এবং তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসচালক মো. সজীব। জেএসএসের (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই মারা যান তপন, সুজন ও তনয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রবিন ও সজীব। তিনি জানান, শক্তিমানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মী খাগড়াছড়ি থেকে মাইক্রোবাসে করে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে বেতছড়ি এলাকায় তাদের গাড়িতে অতর্কিতে ব্রাশফায়ার করা হয়। জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দাবি করেছে, ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আগের দিন শক্তিমান চাকমাকেও হত্যা করেছে তারাই। জেএসএসের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,ইউপিডিএফের সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা, সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা, আনন্দ প্রকাশ চাকমা ও রঞ্জন মনি (আদি) চাকমার সিদ্ধান্তে জনসংহতি সমিতির নেতাদের খুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রঞ্জন মনি (আদি) চাকমা বর্তমানে ইউপিডিএফের কোম্পানি কমান্ডার। তিনি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ইউনিটে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের মাচালং দীপুপাড়া এলাকার লক্কোচ চাকমা, ডাক নাম বাবু চাকমা, দলীয় নাম অর্পন চাকমা (কালেক্টর) একজন সহকারী নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দুই ঝোলা কাঁধে রেখে অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে খুব কাছে ও সামনে থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্ত্রাসী ও হত্যাকারী সংগঠন ইউপিডিএফ সরাসরি দায়ী। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাই। ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা বলেন, শক্তিমান চাকমাকে হত্যা করার পর তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইউপিডিএফ একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ। গত বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের পরপরই এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপিডিএফের মুখপাত্র নিরন চাকমা। তিনি বলেন,এটা মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনার সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই ইউপিডিএফ জড়িত না। জেএসএসের এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এটা তাদের মনগড়া অভিযোগ। শক্তিমান যেখানে থাকতেন সেখান থেকে বাইরের কেউ গিয়ে তাকে হত্যা করে ফিরে আসা কঠিন। তাই আমার মনে হয়, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হতে পারে। অথবা তৃতীয় কোনো পক্ষ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। রাঙ্গামাটি জেলা সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিমানের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি। একইভাবে শক্তিমানের শেষকৃত্যে আসার পথে যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তাদের কারা হত্যা করেছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে দ্রুততম সময়ে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার। এ ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন। গতকাল শুক্রবার কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, এলসা স্টামাতোপৌলৌ ও মির্না কানিংহাম কেইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবিতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে ১৯৯৭ সালে সরকারের শান্তিচুক্তির সময়ই মত ও পথ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে জেএসএস থেকে বের হয়ে যায় একটি বিদ্রোহী গ্রুপ এবং শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে ১৯৯৮ সালে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে তারা গড়ে তোলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। টানা ১৯ বছর পর ইউপিডিএফও ভাঙনের মুখে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে। ইউপিডিএফ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক), যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তপনজ্যোতি চাকমা বর্মা। অপরদিকে ২০১০ সালেই জেএসএস থেকে বেরিয়ে গিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) নামে পৃথক সংগঠন গড়ে তোলেন সুধাসিধু খীসা। বৃহস্পতিবার দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা জেএসএসের এ অংশের সহ-সভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াকালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাও ছিলেন। পরে পড়াশোনা শেষ করে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে যুক্ত হন জেএসএসের রাজনীতিতে। অভিযোগ উঠেছে, জুম্ম জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের চেয়ে বিভক্ত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে তিন পার্বত্য জেলা। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে গ্রুপগুলো নিজেদের মধ্যে রক্তারক্তিতে মেতে উঠেছে। ভাতৃঘাতী হয়ে উঠেছে এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরস্পরে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেই পাহাড়ে একের পর এক খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজির মতো ঘটনা সবুজ পাহাড়কে রক্তে রঞ্জিত করছে। প্রতিটি ঘটনার জন্য সংগঠনগুলো দুষছে একে-অপরকে। এ নিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের প্রতিমুহূর্তে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই দিন কাটাতে হয়। এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে পাহাড়ে বিবদমান জেএসএস, ইউপিডিএফ, জেএসএস (এমএন লারমা) এবং নবসৃষ্ট ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এ চার সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের জেরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় গত দুই দশকে প্রায় ৬০০ জনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন বছরের মতো পার্বত্যাঞ্চলে কোথাও ভাতৃঘাতী ঘটনা ঘটেনি। জানা গেছে, তিন আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস (মূলধারা), ইউপিডিএফ ও জেএসএসের (এমএন লারমা) মধ্যে অস্ত্রবিরতি চলছিল এ তিন বছর। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের পর ফের অশান্তির মুখে পড়ে পাহাড়। সংগঠনটি আত্মপ্রকাশের মাত্র ২০ দিনের মাথায় ৫ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউপিডিএফ নেতা অনাদি রঞ্জন চাকমাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে পড়ে পার্বত্য অঞ্চল। একই দিন পৃথক ঘটনায় জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা, ১৫ ডিসেম্বর রাতে ধামাইছড়া এলাকায় ইউপিডিএফের সংগঠক অনল বিকাশ চাকমা ওরফে প্লুটো, ১০ মার্চ মধ্য রাতে ইউপিডিএফ নেতা নতুন মনি চাকমাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। খাগড়াছড়িতে ৩ জানুয়ারি আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমাকে মারা হয় গুলি করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরের হরিনাথ পাড়ায় ইউপিডিএফ কর্মী দীলিপ কুমার চাকমা, ২১ ফেব্রুয়ারি দীঘিনালা জামতলি এলাকায় সাইন চাকমা হত্যার ঘটনা আরও উত্তাপ ছড়িয়ে দেয় পাহাড়ে। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙ্গামাটি শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমা অপহরণের ঘটনা সংঘাতে জড়িত দলগুলোর মধ্যে আরও প্রতিহিংসা তৈরি করে। ওই অপহরণের ঘটনায় ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন। এমনই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও মারিশ্যা দীঘিনালার জোড়া ব্রিজ এলাকায় ইউপিডিএফের দুই নেতা তপন চাকমা (৪০) ও বিজয় চাকমাকে (৩২) গুলি করে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার জেএসএস (এমএন লারমা) নেতা ও নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা এবং গতকাল তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে আরও পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় তিন পার্বত্যাঞ্চলকে চূড়ান্ত অশান্তি ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। এ ঘটনার পর থেকেই পার্বত্যাঞ্চলের সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি অধিবাসীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক মহল। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের নিন্দা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়। পার্বত্যাঞ্চলে সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন বলেছে, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের কোনো খবর এখনো শোনা যায়নি। সংঘটিত এসব ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার যেখানে পুনর্বার ব্যক্ত করছে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নীরব ভূমিকা মোটেও কাম্য নয়। বিবৃতিতে ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামে যাতে আর কোনো হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো ঘটনা সংঘটিত না হয় সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারকে এ বিষয়ে আরও সোচ্চার থাকতে জোরালো আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, এলসা স্টামাতোপৌলৌ ও মির্না কানিংহাম কেইন। কমিশনের সদস্য হিসেবে- ড. স্বপন আদনান, লারস এন্ডারস বেয়ার, টোনা ব্লাই, হার্স্ট হেনাম, ড. ইয়াসমিন হক, ড. জাফর ইকবাল, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, খুশী কবির, মাইকেল সি ভন ওয়াল্ট প্রাগ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বীণা ডিকস্টা এবং উপদেষ্টা ইয়েনেকি এরেঞ্জ, টম এস্কিলসন, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতার নাম উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।
বোয়ালখালীতে বোদ্ধ ভিক্ষুকে লাঞ্চিত ও হামলার ঘটনায় আদলতে মামলা দায়ের
নিজেস্ব সংবাদদাতা,চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানাধীন হাজারীরচর এলাকায় গত ২৯ শে এপ্রিল বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৌদ্ধ পূর্নিমা পালনের দিনে হাজারীরচর বৌদ্ধ মন্দিরের কতৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিজ্ঞ আদালতে দায়ের কৃত মামলার সূত্রে জানাযায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৌদ্দ পুর্নিমা পালনের উদ্দেশ্যে পল্টু বড়য়া উক্ত বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আয়োজন করা কালীন সময়ে উক্ত বৌদ্ধ বিহারে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঝুন্টু বড়য়া ও যীশু বড়য়া কতৃক স্বাক্ষরিত একটি আবেদন গত ২৮ শে এপ্রিল অফিসার ইনচার্জ বোয়ালখালী থানাকে প্রদান করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বোয়ালখালী থানার পুলিশ কতৃক উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন রুপ আইনগত সহযোগীতা প্রদান না করার কারনে গত ২৯ শে এপ্রিল বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ষড়যন্ত্র কারী ব্যক্তিগন কতৃক অতর্কিত ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র সজ্জিত হয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের অনুমোদিত শ্রীমৎ সংঘপাল ভিক্ষু মন্দিরে সন্নিকটে পূর্ব কালুরঘাট বাদামতলে তাহাকে লাঞ্চিত ও নির্যাতন করা কালীন সময়ে মাইকেল বড়য়া,বিপ্লব বড়য়া ও এলফেট বড়য়া (আশুতোষ) তাহারা বাধা প্রদান করিলে সত্যেন্দ্র বড়য়া সহ আরো ১৫/১৬ জন ব্যক্তিগনে হামলা করিলে তাহাতে এলফেট বড়য়া (আশুতোষ) আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত ঘটনায় বোয়ালখালী থানা কতৃক কোন প্রকার আইনগত সহযোগীতা প্রদান না করায় মাইকেল বড়য়া গত ৩ মে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে উল্লেখিত ব্যক্তিগনকে আসামী করিয়া একটি সি আর মামলা দায়ের করেন সি আর মামলা নং৭৭/১৮,উক্ত মামলা বিজ্ঞ আদালতে গ্রহন করিয়া বোয়ালখালী থানার ওসিকে ২০ দিনের মধ্যে সত্যতা তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। মাইকেল বড়য়া কতৃক দায়ের কৃত মামলার আইনজিবী এডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন,আমার মক্কেল সহ আরো অপরাপর ব্যক্তিগনে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেও বোয়ালখালী থানায় গিয়ে তারা কোন প্রকার আইনি সহযোগিতা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হয়েছেন, আশা করি আমরা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাব।
আনোয়ারায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭৩তম জন্মদিন পালিত
আনোয়ারা উপজেলায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপির ৭৩তম জন্ম বার্ষিকী। গতকাল সকালে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল, কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন কেককাটাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাহার উদ্দিন খালেক শাহজী, সাবেক সভাপতি শামসুর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার দেব, বারখাইন ইউপি চেয়াম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল, রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ফজলুল করিম চৌধুরী বাবুল, এম. নজরুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আলম চৌধুরী টিপু, দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগের সহ সাধারন সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী টিপু, সাবেক চেয়ারম্যান সুশীল ধর চান্দু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজল আহমদ, নজরুল ইসলাম বকুল, আজাদ সিকদার, আবদু শুক্কুর, মো. ফোরকান, মো. জাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাশেদ প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
১লা মে বিকাল ৩ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা শ্রমিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিক লীগের উদ্যোগে জাতীয় শ্রমিক দিবস ও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পদার্পণে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণোত্তর সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার শ্রমিকদেরও অন্যতম ভূমিকা ছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল গরিব, কৃষক, শ্রমিক সমাজের মধ্যবিত্ত মানুষরা। তাদের অধিকার আদায়ে যা যা করা করণীয় আমি তাতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবো। প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ্ উদ্দীন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান সরওয়ার আলমের সুযোগ্য কন্যা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দীন শ্যামল, চ্যানেল-আই এর ব্যুরো চীফ চৌধুরী ফরিদ, জননেতা এম.এ. আজিজ এর সুযোগ্য পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান সুরজিত দত্ত সৈকত। বিশেষ অতিথি ছিলেন জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর সুযোগ্য পুত্র আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরফুদ্দীন চৌধুরী রাজু, গ্রামাণী ব্যাংকের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা সগীরুর রশিদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রোজিনা বেগম, মো: নোমান, সিরাজ মিয়া, আফজাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা শ্রমিক ফাউন্ডেশনের ও বাংলাদেশ আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিক লীগ এর সভাপতি মো: দুলাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিংকু পালিত। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব শ্রমিক ফাউন্ডেশন। ঐতিহাসিক জাতীয় শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণোত্তর সংবর্ধনা পেয়েছেন যাঁরা- জননেতা এম.এ. আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম.এ. মান্নান, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ্এস.এম. জামাল উদ্দিন, সেকান্দর হায়াত খাঁন ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নেপাল চন্দ্র দত্ত। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার শেখ হাসিনার সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছেন। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ন্যায় যাতে সাধারণ শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরী পায়, সেজন্য এই সরকারের শ্রমনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। পরিশেষে কক্সবাজার বারোয়াখালী লবণের মাঠ ভরাট না করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান। এখানে প্রায় ১শ পরিবার এই লবণ বিক্রি করে দিনযাপন করেন। তাই এদের কথা বিবেচনা করে অনাবাদি চাষী ভূমিতে উৎস গ্রাম করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে পুড়ে যুবলীগ নেতার মৃত্যু
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ইছামতী গ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন আবুল হাশেম তালুকদার (৫৫) নামের এক যুবলীগ নেতা। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত আবুল হাশেম রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আবুল কাশে তালুকদারের রাশ উদ্ধার করেছি। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লাগা আগুনে তিনি দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে এখনো কোনো কিছু নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। স্ত্রী ও সন্তান বেড়াতে যাওয়ায় হাশেম রাতে একাই বাসায় ছিলেন বলে জানান ওসি ইমতিয়াজ।
চট্টগ্রামের হালিশহরে ৪৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ ২ ভাই গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ৪৫ কোটি টাকার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার ভোররাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান নগর গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ডিবি (পশ্চিম) মো. মঈনুল হোসেন। গ্রেফতার হওয়া দুই ভাই হলেন— আশরাফ আলী (৪৭) ও মো. হাসান (২২)। তাদের গ্রামের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যছড়ির হাসান বাড়িতে। তারা ওই এলাকার মৃত তৈয়বের ছেলে। নগরের হালিশহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকায় তারা ভাড়া বাসায় থাকতেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মো. মঈনুল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালিশহরের শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩ লক্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং তাদের প্র্রাইভেটকার (চট্টমেট্রো-গ-১১-৫৯২৪) তল্লাশি করে ১০ লক্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর আনুমানিক মূল্য ৪৫ কোটি টাকা বলে জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে সিএমপি হালিশহর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
ফেনীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত
ফেনীতে ৩ মে (বৃহস্পতিবার) পালিত হয়েছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ উপলক্ষে ইয়ুথ জার্নালিস্টস্ ফোরাম বাংলাদেশ ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার আগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর জেলা পরিষদের ড. সেলিম আল দীন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ আহম্মদ চৌধুরী। সংগঠনের ফেনী জেলা শাখার সভাপতি শাহজালাল ভূঞার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহিবুল্লাহ ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল আফসার ভূঞা, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল করিম মজুমদার, আবু তাহের, বখতেয়ার ইসলাম মুননা, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শওকত মাহমুদ, দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন ও সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এনএন জীবন। বক্তব্য রাখেন ওয়াইজেএফবি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নাজমুল হক শামীম, ফেনী শাখার সহ-সভাপতি আতিয়ার সজল, যুগ্ম সম্পাদক এবিএম নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ হোসাইন মামুন, প্রচার সম্পাদক শরিফ ভূঞা, সদস্য মোতাহের হোসেন ইমরান। বক্তারা সংবাদ সংগ্রহ, খবর প্রকাশ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা নানাভাবে হয়রানি, হুমকি, ধামকি, হামলা-মামলার শিকারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে আইন প্রনয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজ আহম্মদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে। এ সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার ও উন্নয়ন ঘটেছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আলাদাভাবে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। সৎ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।