নোয়াখালীর কবিরহাটে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগে আটক ১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন থেকে ইসমাইল হোসেন শামীম (৩৮) নামের এ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃত ইসমাইল হোসেন শামীম ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ও স্থানীয় নলুয়া ভূঁইয়ারহাট বাজারের একজন ব্যবসায়ী। থানা সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের একটি আইডিতে পোস্ট করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের’এর একটি বিকৃত ছবি শামীম তার আইডি থেকে শেয়ার করে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে নলুয়া ভূঁইয়ারহাট বাজারে অভিযান চালিয়ে নিজ দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। কবিরহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিবু রঞ্জন জানান, অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক শামীমের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
তাসপিয়াকে তুলে দেয় তার গ্রুপের হাতে আদনানই !
আদনান-তাসপিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ভালোভাবে নেয়নি তাসপিয়ার পরিবার। তাই আদনানকে ডেকে শাসায় তারা। আর এটাকে ভালোভাবে নেয়নি আদনান। তাই তাসপিয়াকে কৌশলে সে রিচ কিডস গ্রুপর হাতে তুলে দেয়। এরপর তার লাশ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সীবিচে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আদনান পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের এখনো রহস্য উম্মোচন করতে পারেনি। তবে পুলিশ আশা করছে, ওই গ্রুপের চারজন এবং বড় দুই ভাইকে আটক করতে পারলেই হত্যার রহস্য উম্মোচন করা সহজ হবে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। রিচ কিডস গ্রুপ চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ। আর এই গ্রুপের প্রধান হচ্ছে তাসপিয়ার প্রেমিক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ছেলে স্কুলছাত্র আদনান মির্জা। এই গ্রুপে আরো রয়েছে নগরের ইংলিশ মিডিয়ামে অধ্যয়নরত কোটিপতি বাবার সন্তানরা। এ ব্যাপারে সিএমপি পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) গাজী মো. ফৌজুল আজিম বলেন, বুধবার রাতে আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, তাসপিয়ার ফেসবুক তার বাবা বন্ধ করে দেয়ায় সে তার (আদনান) সাথে যোগযোগ করতো ইনস্টাগ্রামে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে তাসপিয়াকে নিয়ে প্রেমের এক মাস পূর্তি উৎসব করে আদনান। এরপর তাসপিয়াকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেয় সে। ওসি বলেন, যাওয়ার সময় আদনানকে জানিয়ে যায়, তাসপিয়া নিজাম রোডের ৫নং সড়কে তার এক বান্ধবীর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবে। এরপর থেকে আদনান আর কিছু জানে না বলে পুলিশকে জানিয়েছে। কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, মেয়ের সাথে সম্পর্ক মেনে না নেয়া এবং শাসানোর প্রতিশোধ নিতেই আদনান তাসপিয়াকে তার গ্রুপের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। ওই সূত্রটি জানায়, তাসপিয়াকে যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে তুলে দেয় আদনান, সেই অটোরিকশার পেছনেই ছিল দুটি মোটরসাইকেলে চার যুবক। এ চারজন যুবক আদনানের পরিচালিত রিচ কিডস গ্রুপর সদস্য। পরে নিজের দোষ আড়াল করতে তাসপিয়াকে তার পরিবারের সাথে খুঁজতে বের হয় আদনান। আদনান চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইসকান্দর মির্জার ছেলে। চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানা এলাকার দক্ষিণ খুলশী মুরগী ফার্ম জালালাবাদ আবাসিকের রয়েল পার্ক বিল্ডিংয়ে আদনানদের বসবাস। স্কুলছাত্রী তাসপিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৫ ঘণ্টার মাথায় তাকে আটক করে পুলিশ। আদনান নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়তো। একই স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়তো তাসপিয়া আমিন। দুইজনের ছিল বেশ জানাশোনা। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদনানকে তার বাবা ভর্তি করে দেন বাংলাদেশ অ্যালিমেন্টারি স্কুলে। ভিন্ন স্কুলে পড়লেও বন্ধুদের মাধ্যমে তাসপিয়ার ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকে আদনান। তাদের সম্পর্কটি গত এক মাস আগে প্রেমে গড়ায়। বিষয়টি জেনে যায় তাসপিয়ার মা-বাবা। এ কারণে কয়েকদিন আগে তাসপিয়াকে শাসান বাবা মোহাম্মদ আমিন। বন্ধ করে দেন তার ফেসবুক আইডি। একই সাথে আদনানকে ডেকে কড়া ভাষায় বলে দেন মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে। এই শাসানোটা ভালোভাবে নেয়নি আদনান। আর অবুঝ তাসপিয়াও মনকে বুঝাতে পারেনি বাবার বাধার কারণ। তাসপিয়ার ব্যবসাযী বাবা মোহাম্মদ আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে। বাসায় তাসপিয়ার মা নাইমা ব্যস্ত ছিলেন গৃহস্থালী কাজে। আর এ সময় বাসার কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে যায় তাসপিয়া। নামাজ পড়ে এসে মেয়েকে বাসায় না পেয়ে বিচলিত হন বাবা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ওইদিন সন্ধ্যায় আদনানকে ডেকে কথা বলেন তাসপিয়ার বাবা। আমিনের সাথে আদনানও তাসপিয়াকে খুঁজতে বরে হয়। এরপর মেয়েকে না পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় আদনানকে। তাসপিয়ার এক স্বজন জানান, রাত ১০টায় আদনাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পর পরই তাদের বাসায় হাজির হন পুলিশের তালিকাভুক্ত দুই সন্ত্রাসী ফিরোজ ও আকরাম। তিনি জানান, তারা আদনানকে ছেড়ে দিতে সময় বেধে দেন। মেয়েকে ফিরে পাবেন এই আশায় মোহাম্মদ আমিন পুলিশকে আদনানকে ছেড়ে দিতে বলেন। এর পর রাত ১১টার দিকে থানা থেকে আদনানকে নিয়ে যান বড় ভাই ফিরোজ ও আকরাম। কিন্তু কথিত দুই বড় ভাই তাদের কথা মতো তাসপিয়াকে ফেরত না পাওযায় বুধবার আদনানকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ এই দুই বড় ভাইকেও খুঁজছে। পুলিশ জানায়, আজ বৃহস্পতিবার আদনানকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন জানান, আজ বৃহস্পতিবার তার মেয়ের ময়নাতদন্ত শেষ হবে। এর পরই লাশ নিয়ে যাবেন টেকনাফ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া গ্রামে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে তাসপিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে নগরের পতেঙ্গা থানা পুলিশ।
জগন্নাথ ফার্মেসী শুভ উদ্ধোধন বৈদ্দ্যেরহাট বাজারে
ভুজপুর ও ফটিকছড়ি থানা অন্তর্গত বৈদ্দ্যেরহাট বাজারে জগন্নাথ ফার্মেসী শুভ উদ্ধোধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জগন্নাথ ফার্মেসী উদ্ধোধন শুভ করেন, পন্ডিত নিরোদ লীলা গীতা বিদ্যা পীঠ ও সূর্যগিরি আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক, গবেষক লায়ন ডাঃ বরুন কুমার আচার্য বলাই। উক্ত শুভ উদ্ধোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন, বারমাসিয়া এ.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাস্টার মোঃ নুরুল আলম, বৈদ্দ্যেরহাট বাজারের সভাপতি মোঃ মাহবুল আলম, হাজী মোহাম্মদ মুন্সি মিয়া সওঃ, মাস্টার মোঃ মিয়াজান, পণ্ডিত তরুণ কুমার আচার্য কৃষ্ণ, বাবুল নাথ, কৃষ্ণ বৈদ্য, নিলু দাশ, দয়াল দত্ত, শিপ্রা বসু মল্লিক, মানিক বড়–য়া, সাংবাদিক সমীর কান্তি দাশ, ঝন্টু শীল, রুবেল শীল, সাংবাদিক এম.ডি.ত্রিপুরা সুজন, ডাঃ রনি শীল (দীপু), মোঃ আব্দুল হাকিম, রিংকন বণিক, মোঃ লিয়াকত, রুবেল বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ ধর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে উদ্বোধক বলেন চিকিৎসা পেশার মানবসেবার উত্তম মাধ্যম। পবিত্রতার সহিত করতে পারলে সমাজ ও জাতি উপকৃত হবে। তাই দুঃস্থ গরীবের কমমূল্যে সেবা প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামে ৮৯ বছরে এই প্রথম একটি সরকারী প্রাইমারী স্কুলের পুনর্মিলনী
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সদরে প্রতিষ্ঠিত ফটিকা রহমানিয়া সরকারী প্রাইমারী স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনী ২৯ এপ্রিল রোববার বেলা ১০টায় স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩১ খ্রি:-এ চট্টগ্রামের কৃতিসন্তান মরহুম আবদুল লতিফ উকিল এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো: জাকেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ব প্রেস কাউন্সিল নির্বাহী পরিষদ সাবেক সদস্য মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী। বকত্ব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মহিবুল হক, হাটহাজারী পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, সমাজকর্মী ওহীদুল আলম, এড. রিয়াজ উদ্দিন, সাইফুদ্দিন শিবলী, মো: শাহজাহান, সাংবাদিক আসলাম পারভেজ মিন্টু প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা বেগম, ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পুনর্মিলনী উদ্যাপনের মূল উদ্যোক্তা মোমিন বাদশা ও মোহাম্মদ রাশেদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, প্রতিষ্ঠার গত ৮৯ বছরের মধ্যে যাঁরা এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, সচিব, উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু, আমরা কেউ স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। তিনি বলেন, ইতিহাস শিক্ষণীয় হয়, ইতিহাসে হস্তক্ষেপ ও বিকৃতি খেয়ানতের সামিল। যারা জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন অর্থ ও সম্পদ দিয়ে তাদের মর্যাদার সাথে স্মরণ করা সকলের দায়িত্ব। প্রধান অতিথি হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী বলেন, দেশের অন্যতম কৃতিসন্তান মরহুম আবদুল লতিফ উকিল ১৯৩১ সালে ফটিকা রহমানিয়া প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলের যেমন ঐতিহ্য রয়েছে তেমনি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। দেশ, সমাজ, রাজনীতি, প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়ে আলোক উজ্জ্বল অবদান রেখেছেন। উদ্বোধনী পর্বের পর স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মধ্যহ্ন ভোজের আয়োজন করেন। প্রস বিজ্ঞপ্তি
ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্র ভাতিজা ও তার চাচা নিহত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষেতে ধান কাটতে গিয়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে কৃষক চাঁন মিয়া (৫৫) জড়িয়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাতিজা আনন্দমোহন কলজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মিসতারুল ইসলাম (২৫) নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হন। বুধবার (০২ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের পানুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পানুর গ্রােেম বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ দমকল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দু জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বদরুল আলম খান এ ব্যাপারে জানান, চাঁন মিয়া ক্ষেতে ধান কাটতে গেলে বিদ্যুৎতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে যান। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আনন্দমোহন কলজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মিসতারুল ইসলাম (২৫) নিজেও বিদুৎস্পৃষ্ট হন। নিহতরা পানুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা বলে আরও জানান তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তাসপিয়া এখন কাটা লাশ ফেসবুক প্রেমে
লাশকাটা ঘরে পড়ে আছে ১৫ বছর বয়সী তাসপিয়ার লাশ। পুরো নাম তাসপিয়া আমিন। পড়াশোনা নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজে, নবম শ্রেণিতে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা লাশটি উদ্ধার করা হয়। পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় পথচারীরা মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। একই সাথে সিআইডি সংগ্রহ করেছে মরদেহের সকল তথ্য-উপাত্ত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তাসপিয়ার লাশ হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, এ ঘটনায় তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান মির্জাকে আটক করেছে পুলিশ। আদনান নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকায় থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে। আর পড়ালেখা সানশাইন গ্রামার স্কুলেই। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর ওআর নিজাম রোডের গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে প্রেমের এক মাস পূর্তিতে মিলিত হয় তাসপিয়া ও আদনান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে তারা দুজন। রেস্টুরেন্টের বয় উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার শবে-বরাত ও মে দিবসের ছুটির কারণে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেস্টুরেন্ট খোলা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেস্টুরেন্টে আসে ওই যুগল। তারা রেস্টুরেন্টের ৮নং কেবিনে বসে। এরপর খাবার ওর্ডার নিতে গেলে শুধু দুটি আইসক্রিম অর্ডার করে তারা। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থানের পর দুজন চলে যায়। এসময় দুইটি আইসক্রিমের মূল্য ১৫০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা এবং ৭৫ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স মিলিয়ে ৩৭৫ টাকা পরিশোধ করে আদনান। এরপর সপ্তম তলার এই রেস্টুরেন্ট থেকে লিফটে একই সাথে নেমে যায় তারা। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দেয় আদনান। পরে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশাটিযোগে আদনানও স্থান ত্যাগ করে। তাসপিয়ার পরিবারের সাথে আলাপকালে স্বজনরা জানান, তাসপিয়ার ব্যবসায়ী বাবা মো. আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে। বাসায় তাসপিয়ার মা ব্যস্ত ছিলেন গৃহস্থালি কাজে। তাসপিয়া বাসা থেকে কাউকে না বলেই বেরিয়ে যায়। নামাজ পড়ে এসে তাকে বাসায় না পাওয়ায় বিচলিত হন বাবা। আগে থেকেই আদনানের সাথে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল তার। খোঁজাখুঁজির পর তাসপিয়াকে না পেয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আদনানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বাবা। এরপর কল করে আনা হয় আদনানকে। তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করেন। আদনানও স্বীকার করে একসাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা। এরপর তাসপিয়াকে আদনান সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিল বলেও জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনা আদনানের স্বীকারোক্তির সাথে মিলে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও বলছে একই কথা। তবে এর পরের ঘটনা উল্টো। অভিযোগ করা হয় নগরের পাঁচলাইশ থানায়। পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আদনানকে। সেখানে প্রায় দুই-দেড় ঘণ্টার মাথায় আদনানের দুই বড়ভাই ফিরোজ ও আকরাম তাসপিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে ছাড়িয়ে নেয় আদনানকে। রফিকুল ইসলাম নামে তাসপিয়াদের এক নিকটাত্মীয় জানান, সন্ধ্যায় যখন তাসপিয়াকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাসপিয়ার মা বেগম আমিন আদনানকে মোবাইল ফোন করে বাসায় ডাকেন। রাত ৮টার দিকে আদনান ওআর নিজাম রোডে তাসপিয়াদের বাসার সামনে গিয়ে তাসপিয়ার মায়ের সাথে দেখা করে। এসময় তাসপিয়া কোথায় জানতে চাইলে আদনান জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়া বাসায় চলে এসেছে। তবে তাসপিয়া সে সময়ও বাসায় ফিরেনি। রফিকুল ইসলাম আরো জানান, ফেসবুক ও ইমোতে যখন ম্যাসেজ আদান-প্রদান হতো, বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছেন তাসপিয়ার মা। এ সময় থেকে মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এর মধ্যেও যে এমন হবে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাসপিয়ার এক আত্মীয় জানান, তাসপিয়ার সাথে আদনানের সম্পর্কের কথা তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনকে কয়েক দিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন তাসপিয়ার মা। ওই সময়ই তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আদনানকে ডেকে শাসিয়ে দেন। মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার জানান, সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের পর দুপুরের দিকে তাসপিয়াকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও সিআইডি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য। আনোয়ার জানান, তাসপিয়াকে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় পাওয়া গেছে। পরনে হালকা গোলাপি সালোয়ার কামিজ। গায়ের রঙ ফর্সা। তবে দুই চোখ ও হাঁটুতে হাল্কা আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখের মধ্যে ফেনা ছিল। ধর্ষণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই তদন্তকারী অফিসার জানান, সেটা সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। সে ব্যাপারে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বলা যাবে ঘটনাটি কী। বিকেল ৫টায় নগরীর পতেঙ্গা থানা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাসপিয়ার মৃতদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্য আরাফাত। এর কিছুক্ষণ পর একটি লাল রঙের মাইক্রো নিয়ে মর্গে আসেন তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন ও চাচা নুরুল আমিনসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বজন ও প্রতিবেশী। এ সময় তাসপিয়ার বাবা মিডিয়াকে বারবার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। চাচা নুরুল আমিন জানান, তাসপিয়া পরিবারের সবার বড়। গ্রামের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকায়। এখানে নগরীর ওআর নিজাম রোডে ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকেন। পরিবারের ৪ সন্তানের মাঝে তাসপিয়া সবার বড়। এরপর আরো দুই বোন। সর্বকনিষ্টজন ভাই। তবে পরিবারের সদস্য ছাড়া তাসপিয়া কখনো একা বাসা থেকে বের হয়নি। গাড়ি নিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। সাথে মা, না হয় বাবা থাকতেন। এর মধ্যেও ফেসবুকে সম্পর্ক হয়ে আজ এতো বড় ক্ষতি।
কুমিল্লার ৩০ গ্রাম তিনদিন বিদ্যুৎহীন
কুমিল্লার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর ছোবলের ধকল তিনদিনেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি জেলার বিদ্যুৎ বিভাগ। আর এ ব্যর্থতার মাশুল দিতে হচ্ছে তিনটি উপজেলার ৩০টিরও অধিক গ্রামের মানুষকে। গেলো সোমবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিদুৎবিহীন বুড়িচং, মুরাদনগর ও তিতাস উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার। বিদ্যুৎহীনতায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ভোগান্তি ভয়াবহরূপ দেখা দিয়েছে বুড়িংয়ে। এ উপজেলার প্রায় ২৫টি গ্রাম গেলো রোববার রাত থেকেই রয়েছে অন্ধকারে। এসব উপজেলায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের চরম ভোগান্তিতেও মাথা ব্যথা নেই বিদ্যুৎ বিভাগের। ঢিমেতালে চলছে তাদের মেরামত কাজ। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ অফিসে অসংখ্যবার ফোন করলেও সে ফোন কেউ রিসিভ করেন না। অথবা ফোন যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অফিসের কর্তাবাবুরা রিসিভার উল্টিয়ে রাখেন যন্ত্রণা-মুক্তির আশায়। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে যাওয়া এবং কিছু এলাকায় তার ছিড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খুঁটি মেরামত ও ছিঁড়ে যাওয়া তার জোড়া লাগিয়ে বিদ্যুৎ যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছে। অচিরেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। অপরদিকে কয়েকবার চেষ্টা করেও ফোনে নাগাল পাওয়া যায়নি কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ২ এর জিএম মাজহারুল ইসলামের। তবে ইতোমধ্যে অন্য যারা তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছেন; তাদের সাথে কথা বলে জানা গেলো-আশার আলো দেখাতে পারেননি বিদ্যুৎ বিভাগের এ কর্মকর্তা। গত সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন দফায় জেলার দাউদকান্দি, তিতাস, বুড়িচং ও দেবীদ্বার উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে গাছপালা, ঘরবাড়ি, বৈদুতিক খুঁটি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখীর এ ছোবল ভয়ানক রূপে দেখা দিয়েছিলো বুড়িচং উপজেলায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া কাল বৈশাখী ঝড় প্রায় ৪০মিনিট স্থায়ী হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার গাছপালা, শত শত ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান বিধস্ত হয়। বিভিন্ন গ্রামে বৈদুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় মাঠের বোরো ফসল। প্রচণ্ড বাতাসে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন কালিকাপুর আখন্দ বাড়ি সংলগ্ন মোটা সেগুন গাছ মূলসহ উপড়ে ঘরের চালা ভেঙ্গে যায়। এসময় নয়ন মিয়া নামে একজন আহত হন। ঝড় শেষে রাজাপুর, পীরযাত্রাপুর, ষোলনল, ময়নামতি, মোকাম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের ছোট বড় গাছ উপড়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবারের ঝড়ের পর থেকে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদকপুর, উত্তর শ্যামপুর, দক্ষিণ শ্যামপুর, কোমাল্লা, বরইয়া, পীরযাত্রাপুর, গোবিন্দপুর, শ্রীপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন। রোববার রাতে বৃষ্টির শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামগুলো অন্ধকারে ডুবে আছে বলে জানান তিনি। একই অবস্থা ষোলনল ইউনিয়নের ভরাসার, কামারখাড়া, ষোলনল, ছয়ঘুড়িয়া, ভান্তি, সোনাইসার, কোশাইয়া, পূর্বহুড়া, ইছাপুরা গ্রামেও। এছাড়াও বাকশীমূল ইউনিয়নের আজ্ঞাপুর, কালিকাপুরসহ কয়েকটি গ্রাম ও রাজাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে রোববার রাতের পর থেকে আর বিদ্যুতের দেখা মেলেনি। বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এইচএসসিরা পরীক্ষার্থী। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শুরু হয়েছে সাময়িক পরীক্ষা। বিদ্যুতের অভাবে তাদের লেখাপাড়ায় বিঘ্নে ঘটছে। সোমবার পরীক্ষা চলাকালে উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অপরদিকে সোমবার দুপুরের পর থেকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দাউদকান্দি উপজেলার ১৩টি গ্রাম ও তিতাস উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের টিনের ঘর বিধস্ত হয়েছে। দুই উপজেলার মধ্যে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্ধরামপুর, মৌটুপি, শিবপুর, গোপালপুরসহ ৬টি গ্রাম। এসব গ্রামের প্রায় ৩০টি টিনের ঘর বিধস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে ফেলে এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ফেলার কারণে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও ঝড়ে কুমিল্লার মুরাদনগর, চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলায়ও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে মুরাদনগরের ৫টি গ্রাম ও তিতাসের ২/৩টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২, ছুরি উদ্ধার
পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার মামামলায় প্রধান আসামি রেহানসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা করেছে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানা পুলিশ। গ্রেফতার অপরজন হলেন মামলার ৬ নম্বর আসামি শফিক (৩৮)। সোমবার ও মঙ্গলবার গভীর রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে রেহান ও শফিক পৃথক পৃথকভাবে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি জানান, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রেহানকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি ধামতী বায়তুল নূর আব্বাস সরকার মসজিদের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে রেহান ও শফিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামের চৌধুরীপাড়া রসুলের বাড়ির মৃত দুধ মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামকে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান প্রতিবেশী রেহান উদ্দিন (৩৫)। পরে রাত ১২টায় ধামতী চৌধুরী পাড়ায় রাস্তার পাশে নুরুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে তার ছেলে হাসান ও বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতরে ছেলে হাসান বাদী হয়ে গত ৩০ এপ্রিল ধামতী চৌধুরী পাড়ার রেহান উদ্দিন ও তার অপর ৩ ভাইসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‌্যা
চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেছেন, আজ মহান মে দিবস। শ্রমিকের শ্রমের-ঘামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমজীবি মানুষেরা এখনো তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। তিনি বলেন, দোহাজারীতে পুলিশ বেপরোয়া গুলি চালিয়ে শ্রমিকদেরকে গুরুত্বর আহত করার পর তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়ে চালকদের হয়রানী করে যাচ্ছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে আহত চালকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবার পরিজনের ভরন পোষনের ব্যবস্থা করতে হবে। চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন এর সমাবেশ ও রেলী কর্মসূচীতে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হারুনুর রশীদ উপরোক্ত কথা বলেন। চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন ১৪৪১ এর উদ্যোগে মহান মে ও আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য রেলীযালী ও শ্রমিক সমাবেশ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি ৭রাস্তার মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের সভাপতি হাজী কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের সঞ্চানায় অনুষ্ঠিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সহসভাপতি বিপ্লব, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী মো: ওমরফ ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, লাইন সম্পাদক পেয়ারু মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, আলী আকবর, হাসান মোল্লা, মো: মানিক প্রমুখ। মেট্টো একসের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু জাফর রিমন, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়জি উল্লাহ, মুভার বিডি প্র:এপসের এম এ ফারুক ও মো: ইমরান। সমাবেশে হারুনুর রশীদ বলেন, ম্যাক্সিমা অটোটেম্পুর রোড পারমিট ইস্যু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যতায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন সার্ভিস রুল সংশোধন করে চট্টগ্রাম নগরীতে ৪হাজার গাড়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বেকার চালকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের পেশকৃত ১২ দফা দাবী মেনে নিয়ে অটোরিকশা চালকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। অটোরিকশা চালকদের উপর পুলিশের যত্রতত্র মামলা,হামলা দিয়ে হয়রানী বন্ধ করতে হবে। নো পার্কিং মামলা বন্ধ করে নগরীতে পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি পুলিশ ও মেয়র মহোদয়ের প্রতি আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে হাজী কামাল উদ্দিন বলেন, আজ থেকে ১৩২ বছর আগে ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন শ্রমজীবি মানুষেরা। এতে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক অংশ নেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করতে সেদিন সমাবেশে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। এছাড়া গ্রেফতার করা হয় অনেককে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে ৬ শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয় সে সময়কার শাসকগোষ্ঠী। কারাগারে বন্দি অবস্থায় এক শ্রমিক আত্মহননও করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তিনি শ্রমজীবি মানুষের দাবী মেনে নিয়ে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান অন্যথায় সেই রক্তঝরা মের মতো শ্রমিকরা সারাদেশে আন্দোলনের ঝাপিয়ে পড়তে বাধ্য হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি