কথা সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়য়
মানুষের প্রকাশ করার প্রবনতা সবচেয়ে বেশি। নিজেকে প্রকাশ করতে কে না চায়। সবাই চায় নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে। বাহ্যিক সৌন্দর্য্যরে একটি অন্যতম উপাদান হচ্ছে সুন্দর করে কথা বলা, ভাব প্রকাশে সৌন্দর্য্য। গত ৭ এপ্রিল শনিবার থিয়েটার ইন্সটিটিউটে কথা সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, সংগীতানুষ্ঠান ও নাটক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইউএসটিসির ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বড়য়া এ কথাগুলো বলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মেম্বার ও সমাজবিজ্ঞানী ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিইউজের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী কবি এজাজ ইউসূফী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট এর রাজস্ব কর্মকর্তা রুখসানা বেগম ও এডভোকেট শিমুল নাথ। সংবর্ধিত অতিথি কবি এজাজ ইউসুফী বলেন, সুন্দর কথা বলার জন্য নিজের চেষ্টা আর সামান্য কিছু গাইডলাইন-ই যথেষ্ট। কথা সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনের এই আয়োজন তারই বহি:প্রকাশ। আলোচনা প্রসঙ্গে ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল বলেন, যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে কথার এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংবর্ধিত অতিথি রুখসানা বেগম বলেন, বর্তমান সময়ে নারীরা অনেকটা এগিয়ে এসেছে। তাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার মাধ্যমে নারী জাতির সম্মান অক্ষুন্ন থাকবে। কথাসংগঠন সেই ভূমিকায় রাখছে। এডভোকেট শিমুল নাথ বলেন, কিশোর, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ এই সংগঠন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নাট্য অঙ্গনে নতুন ধারার সৃষ্টি করবে। সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানেন সভাপতি সমাজবিজ্ঞানী ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরী, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব দরকার। কথার এই আয়োজন সত্যিকার অর্থেই অপূর্ব। বিশেষ করে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে কথা নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। সংগঠনের সভাপতি সজল কুমার নাথের স্বাগত বক্তব্যের পর এতে বক্তব্য রাখেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কর্ম ও গবেষণা ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান অভিজিৎ চক্রবর্তী, কবিতা পাঠ করেন অধ্যক্ষ ডা. দুলাল কান্তি চৌধুরী। সংবর্ধিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদানের পর নৃত্য ও সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশন করে সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ। এরপরই সজল কুমার নাথ রচিত ও নির্দেশিত দুটি নাটক ২১ আমার অহংকারও সমস্যা নাই মঞ্চস্থ হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সারমেধ মহাস্থবিরের জীবন কর্ম নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে ড. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান সংঘরাজ সারমেধ ম
বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম অগ্রদূত, পূণ্য পুরুষ সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবির। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুন:উদ্ধার করেন। তাঁকে সেজন্য বলা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের সংস্কারক। এতদঞ্চলের বৌদ্ধ সমাজ নিজেদের ধর্মকর্ম ভূলে গিয়ে যখন বিপদগামী হয়ে পড়েছিল ও ত্রিরত অর্থাৎ বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘের প্রকৃত তথ্য সম্পর্কে অজ্ঞছিল ঠিক এই সময়ে ধর্ম সংস্কারক হিসেবে আবির্ভাব হলেন সংঘরাজ মহাস্থবির। সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবিরের নেতৃত্বে ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ফল হল চট্টগ্রামে বৌদ্ধ সমাজকে থেরবাদে রূপান্তর করা। এই অবদানের কারণে তিনি কালজয়ী। বিশিষ্ট লেখক ও ব্যাংকার বাবু দুলাল কান্তি বড়য়ার বৌদ্ধ ধর্ম সংস্কারক সারমেধ মহাস্থবির মানুষ ও মণীষী গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের শিক্ষক ড. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বড়য়া উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ৭ এপ্রিল বিকেলে বহদ্দারহাটস্থ মেরিট বাংলাদেশ কলেজ অডিটরিয়ামে বৌদ্ধ ধর্ম সংস্কারক সারমেধ মহাস্থবির মানুষ ও মণীষী গ্রন্থের প্রকাশনা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীনের সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রাবন্ধিক এ.কে.এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় এই প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের শিক্ষক ড. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বড়য়া। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালী কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল কান্তি দাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক প্রভাস কুসুম বড়য়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার শিশির বড়য়া, অধ্যাপক জীতেন্দ্রলাল বড়য়া, অধ্যক্ষ ইউনুছ কুতুবী, অধ্যাপক ভবতোষ সরকার, বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রাবন্ধিক জামাল উদ্দিন, চকবাজার থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর কান্তি দত্ত, শিক্ষক তরুণ বড়য়া, নাট্যকার অশোক বড়য়া, প্রকৌশলী সজীব বড়য়া, এডভোকেট অর্জুন বড়য়া, ডাঃ লিটন বড়য়া, লায়ন আবু তাহের, সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী ছাদিক কফিল, সাংবাদিক অনুতোষ দত্ত প্রমূখ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
পটিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৫ পরিবারকে বিজিএমইএ নাছিরের অর্থ প্রদান
পটিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৫ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ পোষাক প্রস্তুত ও রপ্তানীকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির। ৭ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের মল্লপাড়া ও কচুয়াই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সূর্য সেনের বাড়িতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৫ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও কাপড়ছোপড় প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পটিয়া উপজেলা আলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, উপজেলা আলীগ নেতা আশিষ তালুকদার, শোভনদন্ডী ইউপির প্রবীণ আলীগ নেতা নুরুল ইসলাম, ১নং ওয়ার্ড আলী সভাপতি মুনির আহমদ, ৪নং ওয়ার্ড আলীগ সভাপতি আমির হোসেন, ৫নং ওয়ার্ড আলীগ সভাপতি ওসমান গণি, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, পটিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাজেদা বেগম, কুসুমপুরা ইউপির মহিলা আলীগ সভাপতি রোকেয়া খানম, কেলিশহর ইউপির মহিলা আলীগের সভাপতি হাসিনা চৌধুরী, খরনা ইউপির মহিলা আলীগ সভাপতি ছকিনা ইয়াছমিন, কচুয়াই ১নং ওয়ার্ড আলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, বর্তমান সভাপতি আবু বক্কর, কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ মোরশেদ, মুছা ফারুকী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা ইরফান উদ্দিন আহমেদ, ওয়াসিক সাকিব, ফাহিম সুফিয়ান, ছাত্রলীগ নেতা নাঈমুল হোসেন। শোভনদন্ডী ও কচুয়াই ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ সামশুল আলম, আবদুল মালেক, আবদুল কালাম, খাদিজা বেগম, আবুল কাসেম, আবুল হাসেম, মোঃ সোলায়মান, সূর্য সেন, অমূল্য সেন, বরুন সেন, তরুন সেন, তপন সেন, শ্যামল দে, নির্মল দের পরিবারকে নগদ অর্থ ও কাপড় প্রদান করা হয়। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী ওই ১৫ পরিবার নগদ অর্থ ও কাপড়ছোপড় পাওয়ায় মহা খুশি। তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
অস্ত্র গুলি মাদকসহ আটক ২ যশোরে
যশোরের ঝিকরগাছায় পৃথক অভিযানে অস্ত্র গুলি মাদকসহ ২ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ। নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সার্জেন্ট পলিটন মিয়া বলেন, রোববার দুপুর ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাভারণ কলোনী বাজারে অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম রবি (২৭) নামে এক অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। সে ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আজাহার ইসলামের ছেলে। প্রথমে তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে আটক করে পকেটের একটি প্যাকেট থেকে ১৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় আরো তল্লাশীকালে তার শরীরের কোমরে হাত দিয়ে দেখি শক্ত কিছু। পরে কোমর থেকে ১টি ওয়ান শুটারগান ও ২রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে বাসে তল্লাশীকালে রোববার দুপুর দেড়টার সময় ময়না বেগম (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ব্যাগে রক্ষিত অবস্থায় ২২ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করা হয়। আটক ময়না বেনাপোল কাগজপুকুর এলাকার সোহাগ রহমানের স্ত্রী। এব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
৪০ মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পন ঝিনাইদহে
ঝিনাইদহে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন না করার অঙ্গীকার করে ৪০ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। রবিবার সকালে সদর থানা চত্বরে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করে। এসময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেই সাথে তাদের মিষ্টি মুখ করানো হয়েছে। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, কেউ সঙ্গদোষে বা কেউ হতাশা থেকে মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এতে করে তাদের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ও সমাজের মানুষ ঘৃনার চোখে দেখেন। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে থানা পুলিশের সহায়তা করার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আত্মসমপর্ণ করেছেন। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঝিনাইদহকে মাদকমুক্ত করার জন্য জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। গতবছর ৯ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। যে কারণে মাদক বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের এই প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখার ধারাবাহিকতা রোববার সদর উপজেলার ৪০ জন আত্মসমর্পণ করে। এসময় ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস, সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান, প্রবীন সাংবাদিক বিমল কুমার সাহা, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু, ডিএসবি শাখার ওসি মীর শরিফুল হক, ডিবি ওসি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতা খুন আলমডাঙ্গায়
জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় হেলালুল ইসলাম হেলাল নামে বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। শনিবার দিনদুপুরে ধানক্ষেতে সেচ দেয়ার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে খুন করা হয়। নিহত হেলালুল ইসলাম খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও আলমডাঙ্গা উপজেলার জুগিরহুদা গ্রামের মৃত একদিল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রূপালী ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহ তিনেক আগে একই গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে মানিকসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ও গাঁজাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তারা জামিন পাওয়ার পর হেলালকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। ওই মাদকব্যবসায়ীদের ধারণা হেলালই পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের ধরিয়ে দেন। শনিবার সকালে গ্রাম থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ধানক্ষেতে সেচ দিতে যান হেলাল। এসময় ওঁৎ পেতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন এসে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেলালকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকা ডা. শামীম কবির তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত হেলালের স্ত্রী স্কুলশিক্ষক রাজিয়া সুলতানা জানান, গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে মানিকসহ কয়েকজন বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল স্বামীকে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মালিক মজু জানান, হেলাল খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। হেলাল দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন। হেলালের ভাতিজা কায়রুল ইসলাম জানান, হেলাল পেশায় রূপালী ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গ্রামে চাষাবাদও ছিল তার। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদেন্তর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বামীর ঘর ছাড়লেন এক সন্তানের জননী প্রেমিকের আশ্বাসে
মোবাইল ফোনে সম্পর্ক করে প্রেমিকের বিয়ের আশ্বাসে স্বামীর ঘর ছাড়লেন এক সন্তানের জননী। পরে প্রেমিক বিয়ে না করায় প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন ওই গৃহবধূ। মানিকগঞ্জের ওই গৃহবধূ শুক্রবার সকাল থেকে বিয়ের দাবিতে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে। অভিযুক্ত প্রেমিক জসীম উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নের পাল কান্দি গ্রামের বাসিন্দা শফিক পালের ছেলে। ভুক্তভোগী ময়না মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইড় উপজেলার বাসিন্দা কোমর আলী মণ্ডলের মেয়ে। শুক্রবার সকালে উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নে শফিক পালের বাড়িতে বিয়ের জন্য অনশনে বসেন ময়না। ভুক্তভোগী ময়না জানান, প্রায় ৩ মাস আগে মানিকগঞ্জের ময়নার সঙ্গে জসীমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জসীমের সঙ্গে সম্পর্কের এক মাস পরে বিয়ে করার আশ্বাসে নিজের স্বামী ও ২ বছর বয়সী মেয়েকে রেখে জসীমের কাছে চলে আসেন ময়না। পরে বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে ময়নার কানের দুল, হাতের চুড়ি, গলার হার ও মোবাইল ফোন বিক্রি করে গাজীপুরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করতে থাকে ময়না ও জসীম। ময়না জসীমকে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকলে ৩ দিন আগে ময়নাকে ঢাকায় রেখে পালিয়ে যায় জসীম। পরে জসীমের আলামিন নামে এক বন্ধুর সহযোগিতায় ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে জসীমের গ্রামের বাড়িতে আসেন ময়না। ময়না আক্তার বলেন, জসীমের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ফলে আমি ১ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গেছি। তার কারণে আমার স্বামী, সন্তান, মা-বাবা সব হারিয়েছি। এখন জসীম আমাকে গ্রহণ করছে না। তাই নিরুপায় হয়ে তার বাড়িতে এসেছি। তাকে না পেলে আমি আত্মহত্যা করব। এ বিষয়ে জানতে জসীমকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে জসীমের মা তাসলিমা বেগম বলেন, জসীম এখন ঢাকায় আছে। মোবাইল ধরছে না তাই যোগাযোগও করতে পারছি না। আমার মনে হয় সব ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে সখিপুর থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
হাজীগঞ্জে গ্যাসের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা বাবার
হাজীগঞ্জে স্বামীর দেয়া আগুনে আহত হননি মুন্নি। বরং গ্যাসের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে আলোচিত সেই মুন্নির সৎবাবা। শুক্রবার সকালে মুন্নির সঙ্গে কথা বললে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসে। মুন্নি (১৮) উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহারা গ্রামের আবু বকরের মেয়ে। সে এখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে (যার নং ৬৩০) ভর্তি রয়েছে। বুধবার হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়ায় সহযোগিতায় মুন্নিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে মুন্নিকে নির্যাতন করে আসছে তার সৎবাবা আবদুল লতিফ। বিষয়টি তার স্বামী সোহাগ দেখে ফেলে। এরপর সোহাগকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। ২৩ মার্চ বিকালে হাজীগঞ্জ বাজারের হকার্স মার্কেটের আলমগীরের ভাড়া বাড়িতে মুন্নিকে গ্যাসের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে আবদুল লতিফ। খবরটি মোবাইল ফোনে সোহাগকে জানানো হয়। সোহাগ ওই বাড়িতে গেলে মুন্নিকে সঙ্গে নিয়ে আবদুল লতিফ ও মা লাইলি বেগমসহ হাজীগঞ্জ থানায় যায়। এ সময় আবদুল লতিফ পুলিশকে জানায়, যৌতুকের জন্য মুন্নিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সোহাগ। তখনই পুলিশ সোহাগকে আটক করে। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান তদন্ত করে এবং অগ্নিদগ্ধ মুন্নির সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনা জানতে পারে। হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম জানান, মুন্নি ও তার স্বামী দুজনেই প্রতিবন্ধী। প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছি। এমন একজন প্রতিবন্ধী মেয়ের উপর তার সৎবাবা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাচার করে আসছিল। ভয়ে মেয়েটি তা প্রকাশ করেনি।
পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৮:ফেনী জেলায়
পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ফেনীতে জসিম উদ্দিন (২৫) নামে একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়ায় একটি ট্রাক বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লেগে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িটির হেলপার জসিমের মৃত্যু হয়। ফেনী সদর হাসপাতাল এলাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জানান, নিহত জসিম লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর নেয়ামত গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। অন্যদিকে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিংস্টেশন এলাকায় সকাল ১০টার দিকে ফেনী ছেড়ে যাওয়া কুমিল্লাগামী মদিনা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আটজন আহত হন। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- কুমিল্লার চিওড়া এলাকার মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা হক(৪০), একইএলাকার ইয়াকুব হোসেনের মেয়ে তানি, ফেনীর দাউদপুল এলাকার নুর নবীর মেয়ে ফেরদৌস আরা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জামপাড়া এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে মামুন, একই এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে শিপন, ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষক বোলায়েত হোসেন, সোনাগাজী উপজেলার পালগিরী এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুল হক এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকড়া এলাকার মো. হুমায়ুন। ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিদওয়ান জানান, আহতদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।