চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযান
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন আইচ ফ্যাক্টরী রোড সংলগ্ন বাস্তুহানা কলোনী ধোপারমাঠস্থ রেলওয়ের জায়গায় জনৈক কামালের দখলীয় টিনসেড পরিত্যক্ত ঘরের পার্শ্বে হতে ৫০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পলাতক আসামী ১। মোঃ মনছুর (৩৫), পিতা-মৃত ফরিদ আহমেদ, সাং- আলমপুর, থানা-হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-৫১ আলকরণ, ৪নং গলি, নুরুল সওদাগরের বিল্ডিং, ৪র্থ তলা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম, ২) রাজিব দাশ (৩৭), পিতা-মোনা দাশ প্রকাশ গোপাল দাশ, সাং-বারীপাড়া (মিলন সেক্রেটারীর বাড়ি) থানা-বাঁশখালী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে- আলকরণ, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৩) মোক্তার হোসেন (৩০), পিতা-নাদেরুজ্জামান, সাং-আইচ ফ্যাক্টরী রোড, বাস্তুহারা কলোনী (ধোপার মাঠ), থানা-কোতোয়ালী, জেলা- চট্টগ্রাম, ৪) রকি প্রকাশ বড় রকি (২৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-বাস্তুহারা কলোনী (ধোপার মাঠ), থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম। ২১ মে ২০১৮ খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত ০১.১৫ ঘটিকায় মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জনাব অংসা থোয়াই মারমা এর নের্তৃত্বে এসআই/মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এসআই/মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানাধীন আইচ ফ্যাক্টরী রোড সংলগ্ন বাস্তুহানা কলোনী ধোপারমাঠস্থ রেলওয়ের জায়গায় জনৈক কামালের দখলীয় টিনসেড পরিত্যক্ত ঘরের পার্শ্বে হতে ৫০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামণি আর নেই
সাতক্ষীরার বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামণি (১২) আর নেই। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার নিজ গ্রাম দক্ষিণ কামারবায়সায় মুক্তামণির মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।২০১৭ সালের জুলাইয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তামণির বিরল রোগের খবর প্রকাশের পর টনক নড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের। প্রথমে স্বাস্থ্যসচিব তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেন।ওই বছরের ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় মুক্তামণিকে। সেখানে তার চিকিৎসায় গঠন হয় মেডিকেল বোর্ড। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে মুক্তামণির হাত রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয় তার হাতের অতিরিক্ত মাংস পিণ্ড
মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে আরও ১১ মাদক কারবারি নিহত
দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে বিগত কয়েকদিনের মতো সোমবার দিনগত রাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশে এদিন কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। বরাবরের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে, নিহতরা সবাই মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে এসব প্রাণহানি হয়। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে ২ জন ছাড়া চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, চুয়াডাঙ্গা, ফেনী, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৭ মে গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ৩৬ ‘মাদক কারবারি’ নিহত হলেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে সোমবার গভীর রাতের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলো দেয়া হলো; কুমিল্লা কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার দিনগত রাত পৌনে একটার দিকে সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী অরণ্যপুর গ্রামের বড় দিঘীর পাড়ে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদরের শুভপুর এলাকার আলী মিয়ার ছেলে পেয়ার আলী (২৪) ও সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা-মহেশপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শরিফ (২৬)। আহত চাঁদপুরের শাহরাস্তির আজিজ নগরের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সেলিমকে (২৫) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, হতাহতরা সবাই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধে কোতোয়ালি থানার এক পরিদর্শকসহ চার সদস্য আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে শহরের শুভপুর এলাকা থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী পিয়ার আলীকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, একটি পাজেরো জিপে করে মাদকের বড় চালান ঢাকায় পাঠানো হবে। পরে তাকে নিয়ে রাতে অরণ্যপুর গ্রামের বড়দিঘির পশ্চিমপাড়ে অভিযানে যায় পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে পাজেরো গাড়ি থেকে নেমে মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও শর্টগান থেকে পাল্টা ৫২ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যকার গোলাগুলির মধ্যে পড়ে পিয়ার আলী, শরীফসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাজেরো জিপ, একটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি, ৫০০ বোতল ফেনসিডিল ও ৫০ কেজি গাজা উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে আহত কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি-অপারেশন) রুপ কুমার সরকার, এসআই শাহ আলম, গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই শাহীনূর ও কোতোয়ালি মডেল থানার কনস্টেবল তানভিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহত পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে একটি হত্যাসহ ১৩টি এবং শরিফের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন। নীলফামারী নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগের বাসিন্দা জনি ও নিচু কলোনী এলাকার বাসিন্দা শাহিন। সৈয়দপুর থানার ওসি শাহজাহান পাশা দাবি করেন, নিহতরা মাদক কারবারি সঙ্গে জড়িত। সোমবার গভীর রাতে মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হন। এ সময় পুলিশের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত দেড়টার দিকে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের অদূরে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুজ্জামান সাদু (৩৮) আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের ছেলে। পুলিশের দাবি, কামরুজ্জামান সাদু এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের সময় দুই কর্মকর্তাসহ পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্যে, আলমডাঙ্গা স্টেশনের পশ্চিম দিকের একটি জঙ্গলের ভিতরে ৮/১০ জন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে- এমন সংবাদে পুলিশের একটি দল ওই স্থানে অভিযান শুরু করে। রাত দেড়টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি। আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, গোলাগুলির খবর পেয়ে থানা থেকে আরও দুই প্লাটুন ফোর্স নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে পিছু হটে মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ কামরুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় আহত আলমডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল হামিদ, কনস্টেবল মাসুদ রানা ও কনস্টেবল রাকিবুল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ জানান, কামরুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মোস্ট ওয়ানটেড মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদক পাচারসহ ১২টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীররাতে থানার ডেবারপাড় এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের দাবি, নিহত শুক্কুর আলী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি ওয়ানশ্যুটার গান ও বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। নেত্রকোনা নেত্রকোনা সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নেত্রকোনা শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকার বাসিন্দা আমজাদ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে সদর উপজেলার বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আমজাদের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ আমজাদ হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বন্দুকযুদ্ধে সদর থানার উপ-পরিদর্শক মহসিন, মামুন, মকবুল ও কনস্টেবল মালেক আহত হয়েছেন। তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেনী ফেনীতে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া নামক স্থানে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার রুপকানিয়া গ্রামের হাজি আবদুল করিমের ছেলে। র‍্যাবের দাবি, মঞ্জুরুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায় ডাকাতি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। ফেনীস্থ র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক সাফায়াত জামিল ফাহিম জানান, রাতে র‍্যাব ফেনী ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনীর লেমুয়ায় অভিযান চালায়। এ সময় মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে লেমুয়া এলাকায় পৌঁছলে উপস্থিতি টের পেয়ে তারা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে মঞ্জু গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ মঞ্জুরুলকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, ৫টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। দিনাজপুর দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. প্রবল হোসেন (৩৫) নামের এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। প্রবল হোসেন উপজেলার দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের খলিল হোসেনের ছেলে। বিরামপুর থানার ওসি আব্দুর সবুর জানান, মঙ্গলবার ভোরে বিরামপুর থানার একটি দল পৌরসভার মনিরামপুর মাঠে টহল দিচ্ছিল। ওই সময় ১০-১২ জন মাদক ব্যবসায়ী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে মো. প্রবল হোসেন মারা যান। এ সময় পুলিশের দুই এসআই রাম চন্দ্র ও খুরশিদ আলম আহত হন। তাদের উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১টি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ৫টি ককটেল ও ৯২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার সোনারামপুরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ধন মিয়া উপজেলার মরিচাকান্দি এলাকার মো. হোসেন মিয়ার ছেলে। এ সময় তার স্ত্রী আরজিদা বেগমকে আটক করেছে র‍্যাব। র‍্যাবের দাবি, ধন মিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। র‍্যাব-১০ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, রাতে স্ত্রী আরজুদা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ধন মিয়া নারায়ণগঞ্জ এলাকার একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ইয়াবার প্যাকেট নিয়ে প্রাইভেটকারে রওনা দেন। গোপন সংবাদে র‍্যাবের একটি দল তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি আঁচ করে পেরে দ্রুত চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ঢুকে পড়লে সোনারামপুর এলাকায় একটি গর্তে তাদের গাড়ি ফেঁসে যায়। গাড়ি থেকে নেমে ধন মিয়া পালানোর চেষ্টা করেন। র‍্যাব পিছু নিলে তারা এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ধন মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় তার স্ত্রী আরজুদা বেগমকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১২ হাজার পিছ ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, এক্স করোলা একটি প্রাইভেটকার ও মাদক বিক্রির ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী আরও জানান, ধন মিয়ার স্ত্রী ও উদ্ধারকৃত মালামাল বাঞ্ছারামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই দম্পতির নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খাঁন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে আড়াইহাজারের শিমুলতলী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু খাঁন রাজধানী ঢাকার উত্তরার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে। র‍্যাবের দাবি, বাচ্চু শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের সময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, বিদেশি অস্ত্র ও একটি জিপ গাড়ি। র‍্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনার সময় বাচ্চুসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু নিহত হন। বাকি দু’জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এর আগে গত ১৭ মে গভীর রাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন, ১৮ মে গভীর রাতে ৪ জন, ১৯ মে গভীর রাতে ৪ জন এবং ২০ মে গভীর রাতে ১৪ জন ‘মাদক কারবারি’ নিহত হন।
ছাত্রলীগের দু-পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষ্মীপুরে আহত ৫
লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের হাসপাতাল রোডে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মী সাকিব ও ফাহিম গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এসময় আহত হয় ছাত্রলীগ কর্মী ফাহিম, মিরাজ ও মঞ্জু। সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে পার্শ্ববর্তী দোকানদার মামুন ও তার কর্মচারী জিহাদকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শরীফ অস্বীকার করে বলছেন ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। শহর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরায় ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ আরাফাত (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। সোমবার দিনগত রাত সাড়ে নয়টার সময় কামাল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত ওই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বশর জানান, এলাকার পপুলার জিমের সদস্য ছিল নিহত আরাফাত। সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক আরমানের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুরিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, রাত পৌনে সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় কামাল বাজার (মোহরা) এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত আরাফাতকে একা পেয়ে গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রতক্ষ্যদশীরা জানান, শিপ ইয়ার্ড কর্মী আরাফাতকে রাতে স্থানীয় কবির টাওয়ারের সামনে একা পেয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তরা আরফাতের পেছনে দিক থেকে ঘাড়ের ‍ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় এবং কাঁধের এক পাশে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয় আরফাত। স্থানীয় লোকজন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনজন গ্রেফতার
নগরের সদরঘাট থানার বরিশাল কলোনিতে থেকে ৬২৩ পিস ইয়াবা, ৪ রাউন্ড গুলিসহ ১টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি কিরিচসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ মে) ভোররাতে কলোনির মালিপাড়া রেলওয়ে ৯ নম্বর কোয়ার্টারের ভেতরে চলাচলের সড়কের ওপর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন জানান, গ্রেফতার তিনজন হলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার দুর্গাপুর কুটিরহাট বাজারের হোসেন বেপারির বাড়ির মো. আবদুর রউফের ছেলে মো. হানিফ ওরফে খোকন (৩৫), সাতকানিয়া উপজেলার ৫ নম্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজ সওদাগরের বাড়ির কাজী গোলাম মাওলার ছেলে কাজী মো. আবদুল্লাহ (২৮) ও পটিয়া উপজেলার ৯ নম্বর ইউনিয়নের অজিত ড্রাইভারের বাড়ির রঞ্জিত কুমার দাসের ছেলে খোকন কুমার দাস (৩২)। ওসি জানান, গ্রেফতার তিনজন মাদক ব্যবসা সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। খোকন কুমার দাস মাদক সম্রাট খ্যাত ‘বস ফারুক’র চালক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে বরিশাল কলোনিতে তারা দীর্ঘদিন ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছিল। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লা ও ফেনী থেকে মাদক এসে বিক্রি করত। তারা বিপক্ষের মাদক ব্যবসায়ীদের ঠেকাতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করত।
পানি সরবরাহের কাজে সহযোগিতায় তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু
রমজানে নগরে পানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।নিয়ন্ত্রণ কক্ষ তিনটি হলো: দামপাড়া প্রধান কার্যালয় (০৩১-৬১৬৫৯২), আগ্রাবাদ মড-১ (০৩১-৭২৪৮৭৫) এবং জুবিলি রোড (০৩১-৬১৬৭৬৮)।রমজানে পানি সরবরাহ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে এসব নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পানির অপচয় ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পানি ব্যবহার থেকে বিরত থেকে সুষ্ঠু পানি সরবরাহের কাজে সহযোগিতার অনুরোধও জানিয়েছে ওয়াসা
আত্মমানবতার কল্যাণে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে :ডা. শাহাদাত
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রমজান আসলেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য লাগামহীন ভাবে বেড়ে যায়। যার ফলে সমাজের হতদরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দূর্ভোগের সীমা থাকেনা। তাই লাগামহীন ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য রোধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও গরীব দুঃস্ত অসহায়দের কথা চিন্তা করে দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। ডা. শাহাদাত আরো বলেন, আত্ম মানবতার কল্যাণে গরীব, দুঃস্থ, অসহায় এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি অদ্য শনিবার ১৯শে মে বাদে আছর পাথরঘাটায় মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও সেহেরী সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অথিতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল বালির সভাপত্তিত্বে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, আরো উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম স্বপন, নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দীন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, ওয়ার্ড বিএনপি নের্তৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ হাছান, মো: তালেব, মো: মুন্না, মো: নাবিল, মান্নান, জাহাঙ্গীর, ইলিয়াছ, সালাউদ্দীন, ইয়াকুব আলী সিফা, ইসহাক, রিমন, নাবিল, মূছা, ফারুক প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সারা দেশ পাতার আরো খবর