শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১
কাদের মির্জা-বাদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, বসুরহাটে ১৪৪ ধারা জারি
২২,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,প্রতিনিধি নোয়াখালী,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইউএনও জানান, সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা রুপালি চত্ত্বরে সোমবার বিকেল ৩টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন। একই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলও কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। সংঘাত এড়াতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয় সেজন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পৌরসভাজুড়ে পুলিশ, Rab ও গোয়েন্দা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। জানা গেছে, সাম্প্রতি কোম্পানিগঞ্জে একক সভা-সমাবেশ করে বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আলোচিত হয়ে ওঠেন কাদের মির্জা। গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার বিরুদ্ধে মাঠে নামেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলও। ওই দিন উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশীরহাট বাজারে কাদের মির্জা ও বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন সাংবাদিকও। এর মধ্যে বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির নামে একজন সাংবাদিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। শুক্রবারের সংঘর্ষের পর ফেসবুক লাইভে এসে কাদের মির্জা বলেছিলেন, একরামুল করিম চৌধুরীর সন্ত্রাসী বাহিনী, নিজাম হাজারীর সন্ত্রাসী বাহিনী আমার চাপ্রাশিরহাটের চরফকিরার মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশের সহযোগিতায়। পুলিশের সামনে থেকে আমার লোকদের ওপর গুলি করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ জনের মতো আহত হয়েছে। অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই এলাকার কি অভিভাবক নাই? আজকে যদি একটা মায়ের বুক খালি হয় এটার জন্য ওবায়দুল কাদের, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন এবং প্রশাসনকে দায়ী থাকতে হবে। তবে পরদিন শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন মির্জা কাদের। ফের ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সকল কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নোয়াখালীর রাজনীতির চলমান সংকট নিরসনে আমাদের সকলের আস্থার শেষ ঠিকানা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে আমাদের পূর্বঘোষিত সকল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলাম। আমার দাবি- দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ণ করা হোক। জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের হস্তক্ষেপে সকল সমস্যার সমাধান অতি শিগগিরই হবে। এর একদিন পরই আবার কর্মসূচি ঘোষণা করলেন আবদুল কাদের মির্জা। মূলত সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় বাদল ও তার অনুসারীদের দায়ী করে বিচারের দাবিতে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন কাদের মির্জা।
ভাষা শহীদদের স্মরণে এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন নড়াইলে
২২,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নড়াইল প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো এই শ্লোগান নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোব মাঠে ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্কয়ারের আর্থিক সহযোগিতায় নড়াইল একুশের আলো উদযাপন পর্ষদ-২০২১ একুশের ভাষা শহীদদের স্মরণে ২১শের সন্ধ্যায় এ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১৯৯৮ সাল থেকে নড়াইলে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করছে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এবারের লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নামে উৎসর্গ করা হয়। সূর্যাস্তের সাথে সাথে ২১শের সন্ধ্যায় শুরু হয় এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। সন্ধ্যা ঠিক ৬টার সময় নড়াইলের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি এই গান পরিবেশনের সাথে সাথে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। নড়াইল একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, নড়াইল পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র আঞ্জুমান আরা, একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সহ সভাপতি আ্যাড. ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক কচি খন্দকারসহ অনেকে।
নওগাঁয় মুজিব শতবর্ষে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নওগাঁ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নওগাঁয় মুজিব শতবর্ষে শতবল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শেখ ইউসুফ হারুন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবির, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন বিপিএম পিপিএম ও নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএমসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট নওগাঁ উপকেন্দ্র ও জেলা শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সমন্বিত দল। এই টুর্নামেন্টে মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করবে।
ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
১৯,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,ঝালকাঠি প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বৈচুন্ডি আড়াপোল এলাকার বাঘমারা মাঠে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে এ আয়োজন উপভোগ করেন এলাকাবাসী। হারিয়ে যাওয়া বাংলার এ ঐতিহ্য দেখতে ছুটে আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ। ঘোড়ার পিঠে উঠে চাবুক হাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ঘোড়সওয়াররা। অংশগ্রহণকারী সবার জন্যই ছিল বিশেষ পুরস্কার। ঘোড়দৌড় উপলক্ষে মাঠে পসরা সাজিয়ে বসেন খাবারের দোকানিরা। নলছিটি শহর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা সাইফুর রহমান সোহেল বলেন, ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা দেখে খুবেই ভালো লাগছে। এমন আয়োজনে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে আবেগ আপ্লুত হয়েছি। এ আয়োজন যেন মহামিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্রী আয়শা আক্তার বলেন, জীবনের প্রথম নিজ গ্রামে ঘোড়দৌড় দেখতে পেরে আনন্দিত। এ প্রতিযোগিতা দেখে হারিয়ে যাওয়া ঐহিত্যকে মনে পড়ে গেলো। তবে এমন আয়োজন প্রতিবছর হলেই ভালো হয়। পবন চন্দ্র নামে এক ঘোড়া মালিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অনেক প্রতিযোগিতায় তিনি বিজয়ী হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজও তিনি বিজয়ী হয়েছেন। শারীরিক অবস্থা যতদিন ভালো থাকবে ততদিন তিনি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলেও জানান। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজনকারী ফোরকান হোসেন, নাইম হাওলাদার ও ইমরান হাওলাদার বলেন, ভালো লাগা আর গ্রামীণ ঐহিত্যবাহী টিকিয়ে রাখতে এমন আয়োজন করেছি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন কাদের মির্জা, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
১৭,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নোয়াখালী প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার মূল ফটকের সামনে থেকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অবস্থান ধর্মঘট সমাপ্তির আগে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বসুরহাট বাজারের পূর্বের ঘোষিত বুধবারের হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। অবস্থান ধর্মঘটে কাদের মির্জা বলেন, আমাদের দাবি মানা না হলে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জে হরতাল এবং শুক্রবার থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এর আগে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি, ওসি তদন্তকে প্রত্যাহার এবং উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফখরুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কাদের মির্জা। জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজ টেকেরবাজারে তার কিছু অনুসারীদের নিয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফখরুল ইসলাম সবুজকে আটক করলে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কাদের মির্জা নিজেই থানার ফটক অবরোধ করে অবস্থান নেন এবং পৌর এলাকায় হরতালের ঘোষণা দেন। এছাড়া কর্মসূচি সফল করতে নেতা-কর্মীরা বসুরহাট-বাংলাবাজার সড়কের থানার দুই পাশে বাস-ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এছাড়াও বসুরহাট বাজারের সকল প্রবেশ পথ অবরোধ করে রাখে দলীয় নেতাকর্মীরা।
গদখালিতে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
১৩,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালিতে জমে ওঠেছে ফুলের বেচাকেনা। দেশের সর্ববৃহৎ ফুলের বাজারে এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম। আগামীকালের ভ্যালেনটাইন দিবস, সামনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা নববর্ষ এবং আজকের বসন্ত উৎসব উপলক্ষে ফুল বেচা-কেনায় ব্যস্ত ফুলচাষী ও ক্রেতারা। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১০ মাস ফুলের বেচাকেনায় মন্দাভাব ছিল বলে জানান ফুলচাষিরা। তবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ফুলের বেচাকেনা জমে ওঠেছে গদখালিতে। রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি ফুল ক্রেতারা গদখালিতে এসে ফুল কিনছেন। সারাবছর ফুলচাষিরা ফুল বিক্রি করলেও তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি উৎসব। এছাড়া বাংলা নববর্ষেও ফুলের জমজমাট বেচাকেনা হয়ে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গদখালি, পানিসারা ও মাগুরা এলাকায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, রডস্টিক, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১২ ধরনের ফুল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩ উপজেলায় ফুল চাষ হয়ে থাকে। এবছর মোট ৬শ ৪০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ৬শ ৩০ হেক্টর জমিতে। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা ও নাভারন ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ফুল চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া আরও ৪টি ইউনিয়নসহ হাড়িয়া, নীলকন্ঠ নগর, চাওরা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, চাঁদপুর, বাইশা, কুলিয়া, পাটুয়াপাড়া, নারানজালি গ্রামসহ প্রায় ৫০টি গ্রামে ফুল চাষ হয়েছে বলে জানান তিনি। জেলার শার্শা উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে এবং কেশবপুর উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ১ হেক্টরের সামান্য বেশি জমিতে। দেশের ফুলের মোট চাহিদার ৭০ ভাগই যশোরের গদখালি ও শার্শা থেকে সরবরাহ হয়ে থাকে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়। গদখালি বাজারের ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখানকার ফুল দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানী হচ্ছে। ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ী সেলিম রেজা ও জাহিদুল ইসলাম জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ফুলের বাজার দর বেশ ভালো। চলতি মাসের বিভিন্ন উৎসবের আগে ফুলের দাম আরও বাড়বে। ফলে চাষিরা লাভবান হবে বলে তিনি জানান। গদখালি বাজারের ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৩ দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। গদখালি বাজারের ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, উৎসব এলে তিনি প্রতিদিন ঢাকা ও চট্রগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করে থাকেন। যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারন ও মাগুরা ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এ চারটি ইউনিয়নের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি চাষী ফুল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। ফুলের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদর্শনীসহ ফুলচাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে বলে জানান তিনি। সূত্র : বাসস
ঝিনাইদহে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১০
১০,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,মো.ইমাম,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঝিনাইদহে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যশোর থেকে বাসটি কুষ্টিয়া অভিমুখে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে কালীগঞ্জের বারোবাজার এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
সুন্দরবনে আগুন, পুড়ে গেছে ৩ শতক বনভূমি
৮,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,বাগেরহাট প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্চের ধানসাগর স্টেশনের টহল ফাড়ি এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই আগুন লাগে। প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা পরে বিকেলে ৫টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনে প্রায় ৩ শতাংশ বনভূমি পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিপিজে সদস্য সোলায়মান হোসেন বনের মধ্যে ধোয়ার কুন্ডলী দেখে আমাকে ফোন করেন। পরে আমি সিপিজি সদস্য, স্থানীয় লোক ও বনরক্ষীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে স্থানীয়ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তারা এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।তবে এতক্ষনে ধানসাগর স্টেশনের টহল ফাড়ির এক কিলেমিটার ভিতরে প্রায় তিন শতাংশ বনভূমি পুড়ে গেছে। তবে বড় ধরণের কোন গাছ পুড়েনি। আগুন লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বিড়ি সিগারেটের অব্যবহৃত অংশ থেকে আগুন লাগতে পারে। আগুন লাগার কিছু আগে অল্প বয়সী কয়েকটি ছেলে বনের মধ্য থেকে বের হয়েছে এমন তথ্য পেয়েছি স্থানীয়দের কাছ থেকে।বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ষ্টেশন কর্মকর্তা এস এম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বন বিভাগের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টায় আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলে সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হয়নি। বনের গাছের পাতা পড়ে মাটি প্রায় দেড় দুই ফুট উচু পাতার স্তর তৈরি হয়েছে। যার ফলে মাঝে মাঝে আগুন জ্বলে উঠছে। ঝুটের কারখানায় আগুন লাগলে যেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ষ্টেশন কর্মকর্তা এস এম আব্দুল ওয়াদুদ আরও বলেন, দুপুরের দিকে কিছু উশৃঙ্খল ছেলে মেয়ে বনের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। ধারণা করছি, তাদের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পূর্ব সূন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা(ডিএফও)মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। এখন আর কোন সমস্যা নেই। তবে ওই এলাকায় বনরক্ষিদের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হুইপ-এমপিসহ দিনাজপুরে টিকা নিলেন ৭১৭ জন
৮,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,দিনাজপুর প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: দিনাজপুরে প্রথম দিনে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম ও দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালসহ করোনা টিকা নিয়েছেন ৭১৭ জন। তবে রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা গ্রহণে তেমন আগ্রহ দেখা যায় নি। এদিন সকালে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে টিকা নেনহুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। আর কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিয়েছেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি। জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, জেলায় ১৪টি কেন্দ্রে ৭১৭ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বুথে ১০৬ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতাল বুথে ১১৭ জন, বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৯৯ জন, বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ২০ জন, কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৫২ জন, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ২০ জন, থানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৩০ জন টিকা নেন। এছাড়া জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৩৯ জন, পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ১০ জন, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৩৬ জন, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ১৭ জন, হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ১০১ জন, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৪০ জন ও বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুথে ৩০ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। ৭১৭ জনের মধ্যে পুরুষ ৫৭৪ জন ও মহিলা ১৪৩ জন। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে সংসদ সদস্য, চিকিৎসক, নার্স, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, টিকা নেয়ার ৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আমি কোনো সমস্যা বোধ করছিনা। নিজেকে বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছে এবং নিরাপদ বোধ করছি। সেইসঙ্গে সবাইকে করোনার টিকা গ্রহণ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর