সিরাজগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রত্যাহার: অভিযোগ নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের
সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর-জগন্নাথবাড়ী মহল্লায় বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজ হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছ। রোববার রাতে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজ হাসানকে প্রত্যাহার করে চৌহালী থানায় সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী। এর আগে বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ শহরের ধানবান্ধী মহল্লার মুক্তিযোদ্ধা মানিকের ছেলে শিহাব হোসেনের সঙ্গে পুঠিয়াবাড়ী মহল্লার কয়েক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সোহাগ হোসেনকে মারধর করে ওই যুবকেরা। পরে সোহাগকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিন দিন দুমহল্লাবাসীর মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। রোববার সকাল থেকে উভয়পক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকার নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজ হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব বরাবর দাখিল করা হয়।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা:বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ
আজ সোমবার এইসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিলো কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী শান্তার। কিন্তু প্রতিবেশী মাইনুল হোসেনের লালসার শিকার হয়ে পরীক্ষার একদিন আগে রোববার প্রাণ হারাতে হলো এ শিক্ষার্থীর। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মনকচুরী গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়ার মেয়ে কলেজ পড়ুয়া শান্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো প্রতিবেশী লাল মিয়ার মাস্টার্স পড়ুয়া ছেলে মাইনুল হোসেনের। গত ২৫ মার্চ প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে এক পর্যায়ে শান্তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় বলে ফোন করে জানায় মাইনুল। এইকথা শুনে ২৬ মার্চ সকাল ৯টার দিকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শান্তা। পরে থাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। কিন্তু; ঢাকা মেডিকেল কলেজে আইসিইউ বেড না পাওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয় জাপান-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ হাসপাতালে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ভর্তি করা হয় সেন্টাল হসপিটালে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত রোববার দুপুরে মৃত্যু হয় শান্তা আক্তারের। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় শান্তার বাবা ফিরোজ মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন নিহত শান্তার ভাই মিজান মিয়া। এদিকে, ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌছার পর থেকে ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রেমিক মাইনুল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
ঝিনাইদহের অর্ধকোটি টাকা ব্যায়ে তৈরি ব্রীজটি জনসাধারনের উপকারে আসেনি
রাস্তা থাকার পরও চলাচলের সুবিধার্তে ঝিনাইদহের মহাম্মদপুর গ্রামবাসি ফসলি জমির মাঝ দিয়ে আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাঁধসাধে ফসলি জমির মালিকগণ। তারপরও থেমে থাকেনি তাদের প্রচেষ্টা। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যায়ে ৩৬ ফুট লম্বা এবং ১২ ফুট চওড়া ব্রীজ নিমার্ণ করা হয়েছে। তবে ব্রীজের দুই পাশে রাস্তার সংযোগ না থাকায় ব্রীজটি জনসাধারণের উকারেই আসেনি। bridgeজানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চড়িয়ারবিল গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চড়িয়ার বিল। দ্রীর্ঘ প্রায় ২৮/২৯ বছর আগে মহাম্মদপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামবাসি বিলের মাঝদিয়ে চড়িয়ারবিল গ্রামের সাথে সহজে যোগাযোগের জন্য রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। ফসলি জমি নষ্ট করে বিলের মাঝ দিয়ে রাস্তা তৈরির বাঁধসাধে জমির মালিকগণ। শুরু হয় জমির মালিক রাস্তা তৈরি করতে চাওয়া লোকজনের সাথে বিরোধ। এক পর্যায়ে তারা রাস্তাবাদে বিলের মাঝে ব্রীজ তৈরি করে পরে জমির মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে রাস্তা তৈরির কৌশল আটে প্রভাবশালীরা। অর্ধকোটি টাকা ব্যায়ে এলজিডি’র অর্থে ব্রীজ তৈরি করতে সক্ষম হয়। তবে ব্রীজটির দুই পাশে রাস্তার সংযোগ না থাকায় ব্রীজটি জনসাধারনের কোন উপকারেই আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, আব্দুল খালেক জানান, মহাম্মদপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের রোকজনের যোগাযোগের জন্য রাস্তা রয়েছে। কিন্তু দেড়/দুই কিলোমটিার ঘুরে চলতে হয়। সহজে যোগাযোগের জন্য মহাম্মদপুর গ্রামবাসিসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন চড়িয়ারবিল গ্রমের রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়। জমির মালিকগণ তখন বাঁধা দেয়। তারা বিলের মাঝদিয়ে রাস্তা তৈরি করতে পারেনি। পরে সরকারি ভাবে ব্রীজ তৈরি করে রাস্তা তৈরির জন্য চেষ্টা করেও রাস্তা নির্মাণ করতে পারেনি। যে কারনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যায়ে তৈরি ব্রীজ জনসাধারনের উপকারে আসেনি। বিষয়টি ঝিনাইদহে এলজিডি অফিসে জানতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী জানান ব্রীজ সম্পর্কে আমরা অবগত নই।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক বাহিনীর প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ দিবস আজ:বিষয়খালীতে
আজ ১ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার বাহিনীদের সাথে ঝিনাইদহ জেলার বিষয়খালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। দখলদার বাহিনী সংবাদ পায় ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধারা তাদেরকে আক্রমন করার জন্য বিষয়খালী বাজারের বেগবতী নদীর তীরে সংগঠিত হচ্ছে। ১ এপ্রিলের এই দিনে পাকবাহিনী যশোর ক্যান্টমেন্ট থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝিনাইদহ দখলের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসতে থাকে। এ আক্রমণের খবর জেলার মুক্তিযোদ্ধারা পেয়ে যান। তারা যুদ্ধের অন্যতম স্থান হিসেবে বেছে নেন বিষয়খালীর বেগবতী নদীর তীরে তাদেরকে প্রবল বাঁধার সৃষ্টি করে। পাকবাহিনীকে রুখতে নদীর তীরের সেতু ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধারা। প্রায় ৮ ঘন্টা তুমুল যুদ্ধ হয়। নদীর তীরের সম্মুখ যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে পাকহানাদার বাহিনী ফিরে যায় যশোর ক্যান্টমেন্ট অভিমুখে। যাবার পথে পাকহানাদার বাহিনী চালালো বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। আর সেই হত্যাযজ্ঞে শহীদ হলেন বিষয়খালী হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণীর তরুন ছাত্র গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও যারা শহীদ হলেন সদর উদ্দীন, মুখী মাহমুদ, আব্দুল কুদ্দুস, খলিলুর রহমান, কাজী নজির উদ্দিন, শমসের আলী ও বিষয়খালী গ্রামের কৃতি সন্তান মাহাতাব মুনিরসহ অসংখ্যা মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তাদের প্রাণকে উৎসর্গ করলেন। আর তাইতো ঝিনাইদহের অমিততেজী দামাল তরুন দল বাংলাদেশের ইতিহাসের যুদ্ধ বিজয়ের গৌরবের প্রথম মাইল ফলক স্থাপন করলো এই বিষয়খালী যুদ্ধে। এই যুদ্ধের কাহিনী প্রথমে বিবিসি, ফরাসী বার্তা সংস্থা ও অষ্ট্রেলিয়া রেডিও এবিসিতে প্রচারিত হয়। এই সম্মুখ যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ছিলেন যশোর সেনানিবাসের বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক এবং ইপিআর এর জোয়ানরা, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের হাবিলদারাসহ স্থানীয় বিষয়খালী গ্রামের সংগ্রামী জনতা। এই দিনটি প্রতিবছর বিষয়খালী তথা ঝিনাইদহবাসী পালন করে আসছে। বিষয়খালী শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ ও প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ নামের মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কার্য।
হবিগঞ্জের বিউটি ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা করে কিশোরীর মরদেহ হাওরে ফেলে দেয়া বাবুল মিয়া অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। র‌্যাব-৯ সিলেটের একটি টিম তাকে সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার এলাকা থেকে শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুরে তাকে নিয়ে সিলেট র‌্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের কথা রয়েছে। বিষয়টি র‌্যাবের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, বিউটি আক্তার (১৬) নামে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউপির মহিলা সদস্য কলম চান বিবির ছেলে বাবুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে কলম চান বিবিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এবং বাবুলের বন্ধু ইসমাইল মিয়াকে অলিপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল আসামি বাবুল শুরু থেকেই পলাতক ছিল। মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন, স্থানীয় মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিউটি আক্তারকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো বাবুল মিয়া। এক পর্যায়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ জানুয়ারি বাবুল তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে গত ৪ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা করা হয়। নির্যাতিত কিশোরীর বাবার ভাষ্য, এ ঘটনার পর বিউটিকে লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে তার নানার বাড়িতে রেখে আসেন। ১৬ মার্চ রাত ১২টার দিকে টয়লেটে গিয়ে আর ঘরে ফিরেনি বিউটি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ১৭ মার্চ গুনিপুর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে হাওরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ। এ ঘটনায় ১৮ মার্চ কিশোরীর বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের বাবুল মিয়া (৩২) ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে (৪৫) আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে কলম চান বিবিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এবং বাবুলের বন্ধু ইসমাইল মিয়াকে অলিপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাওরে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর থেকেই বেরিয়ে আসতে শুরু করে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
আজও তীব্র যানজটের আকার ধারণ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে
শুক্রবার দিনভর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ৪২ কিলোমিটার এলাকা ও মেঘনা সেতু থেকে কাচপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের পর শনিবারও মহাসড়কের অবস্থা অভিন্ন। জানা যায়, শুক্রবার রাতে যানজট কিছুটা কমে এলেও শনিবার ভোর থেকে আবার তীব্র আকার ধারণ করে। দাউদকান্দির টোলপ্লাজা থেকে যানজট গৌরিপুর স্টেশন ছাড়িয়ে যায়। যানজটের আটকা পড়ে যাত্রী ছাড়াও পণ্যবাহী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও ভিআইপিদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতুতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দাউদকান্দির টোলপ্লাজা এলাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলে সংশ্লিষ্টদের অবৈধ বাণিজ্য এবং শনিবারও সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বেপরোয়া গতিতে এলোমেলো গাড়ি চলাচলের কারণে যাত্রীরা ফোর লেনের তেমন সুফল পাচ্ছেন না। তারা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন সড়কের যানবাহনের গতি ডাবল লেনের মেঘনা গোমতী ব্রিজে গিয়ে যানজটে থেমে যাচ্ছে। তাই শনিবার ভোর থেকে মহাসড়কের গোমতী ও মেঘনা সেতু কেন্দ্রিক শুরু হওয়া যানজট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানা পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় যানবাহনের চাপ এমনিতেই বেশি। এছাড়াও দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং টোলপ্লাজায় ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলে ধীরগতির কারণে কিছু যানজট আছে। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
বগুড়ায় পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম
বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজাহান কবিরকে (৩৭) দিনে দুপুরে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বগুড়া শহরের কইগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে বন বিভাগের সামনে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত তাঁর ওপর হামলা চালায়। খানদার এলাকার কার্যালয় থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, তার মাথা, হাত ও পায়ে কোপ লেগেছে। তিনটা জখম গুরুতর। অস্ত্রোপচার চলছে। ঘটনার পর পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা ও জেলা প্রশাসক মোহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী হাসপাতালে যান। পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা পাঁচ-ছয়জন ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে। পাসপোর্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা পাসপোর্টের তদবির নিয়ে আসলে তা রাখেননি সাজাহান। তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন যশোরের ঝিকরগাছায়
যশোরের ঝিকরগাছায় বাবার আলী ওরফে কাঠু (৭৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার মাদকাসক্ত ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৫)। পুলিশ ঘাতক ছেলে আনারুল ইসলামকে আটক করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি মাঠুয়াপাড়া গ্রামে নিহতের নিজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাঠু গদখালি মাঠয়াপাড়া গ্রামের মৃত শ্যাম মড়োল আলীর ছেলে। স্থানীয় গদখালির ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বাবর আলী পেষায় একজন কৃষক ছিলেন। তার ছেলে আনারুল ইসলাম একজন মাদক সেবি। মাদক সেবনের কারনে তাকে তিনবার করে জেলহাজতে দেওয়া হয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মাদকের নেশা ছাড়তে পারেনি। বুধবার দিবগত রাতে আনারুল সে তার বাবা কাঠুর কাছে নেশার টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রাকাশ করলে আনারুল বিচুলি কাটা বঠি দিয়ে সে তার বাবার ঘাড়ের ডান পাশে কোপ মারে। এসময় তিনি গরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরিবারের লোকজন ওই রাতেই কাঠুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনতে গেলে বানিয়ালি গ্রামে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে যায়। ঝিকরগাছা থানার ওসি আবু সালেহ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, মাদকাসক্ত ছেলেকে নেশার টাকা না দেওয়ায় বাবার আলী নামে এক কৃষককে কুপি হত্যা করেছে তার ছেলে আনরুল। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতল মর্গে পাঠিয়েছে। বাবাকে কুপিয়ে হত্যাকারী মাদকাসক্ত ছেলে আনারুলকে আটক করা হয়েছে৷
যমুনা নদীর পাথর্শী মোরাদাবাদে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে !
জামালপুরের ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবত যমুনা নদী থেকে বুলগেট মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে যমুুনা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে নতুন নতুন এলাকাসহ সরকারের ৪৬৮কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ। সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি পাইলিং ঘাট পর্যন্ত এলাকায় যমুনার বামতীর ঘেঁষে ১৫ ফুট উচু একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ র্নির্মাণ চলছে। ওই বাঁধ নির্মাণের জন্য এবং বিভিন্ন এলাকায় বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা যমুনার বুকে জেগে উঠা হরিণধরা ও শশারিয়া নামক দুটি নতুন চরের পাশ থেকে বুলগেট মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয়রা জানান, যমুনার বুকে কয়েক বছর আগে জেগে উঠেছিল পাথর্শী ইউনিয়নের হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক দুটি বিশাল আকারের নতুন চর। ওই চর দুটি জেগে উঠার পর থেকে সেখানে ফসল ফলিয়ে জীবন ধারণ করছিলেন পাথর্শী ও কুলকান্দি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। কিন্তু চাষীদের বিধি বাম। দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রভাবশালীরা বুলগেট মেশিনে অবৈধ ভাবে নতুন চর দুটির তিন দিক থেকে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। ওই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক নতুন চর দুটির প্রায় তিন হাজার একর জমি ফসলসহ যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম, সাহেব আলী, আব্দুল মান্নান, ফকির আলী খান, বেলাল মিয়া, নয়ানী শেখ, সুমন শেখ, ধন মিয়া, গেল্লা শেখ, বাহাদুর মাষ্টার, শাপলা রহমান, সামছুল হক, সুমন মন্ডল ও আতিকুর রহমান সরকার গংরা যমুনা নদী থেকে ৪টি বুলগেট মেশিনে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার সেপ্টি বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছেন। তারা ওই বালু মোরাদাবাদ নৌঘাট ও দক্ষিণ শ্বশারিয়াবাড়ি স্কুল মাঠের পাশে জমিয়ে সেখান থেকে ট্রাক ও ভটটভটি যোগে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে রোজগার করছেন। ওই অবৈধ বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা বালু বিক্রি করে ব্যপক লাভবান হলেও যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুপ প্রভাবে যমুনার বুকে জেগে উঠা নতুনচর সমুহ নদীগর্ভে দেবে যাচ্ছে এবং নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। উল্টো বালু উত্তোলন বন্ধের অভিযোগ করায় বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে নিরীহ কৃষকরা লাঞ্ছিত হয়েছে। পাথর্শী ইউনিয়নের বালু ব্যবসায়ীরা নিরীহ কৃষকদের মারধোর করাসহ কয়েক দফা প্রান নাশের হুমকিও প্রদান করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগে আরও জানান, পাথর্শী ইউনিয়নে যমুনা নদী থেকে দীঘদিন যাবত বাঁধাহীনভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। আর যমুনা থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার বিরুপ প্রভাবে সম্প্রতি হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক চর দুটি ইতিমধ্যেই যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। অপরদিকে যমুনা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে ইসলামপুরে ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ। এব্যাপারে পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেননি। ইসলামপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান জানান, তিনি এ ব্যাপারে শিগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। অভিযোগ উঠেছে, কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট, পাথর্শী ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান সরকার ও সুমন মন্ডল গংরা এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য দুইটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ওই বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট সদস্যরাই মোটা অঙ্কের বিশেষ সমঝোতায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার সেপ্টি বালি উত্তোলন পূর্বক বিক্রি করছে। তবে কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের সাথে কোন ভাবেই সংশ্লিষ্ট নয় বলে দাবী করেছেন। পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল আরও জানান, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশকে তিনি কয়েক দফা অনুরোধ করেও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারেননি। এদিকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারায় সম্প্রতি পাথর্শী ইউনিয়নের হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক দুটি চর যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে এবং যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও বালু উত্তোলন করে শশারিয়া বাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে স্তুপ করায় ক্লাস চলাকালীন সময় বালুর ট্রাক আসা-যাওয়ার ফলে স্কুলের ক্লাসের পরিবেশ বিঘ্ন ঘটছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর