গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৭৮
১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ।ডিএমপি নিউজ । গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ১,৯৭৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৮২ গ্রাম ৭৮৩ পুরিয়া হেরোইন, ১৮২ গ্রাম ৩৯ পুরিয়া গাঁজা, ৪৫০বোতল ফেন্সিডিল ও ৭৩ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। ১৫ জুলাই, ২০১৯ সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৭টি মামলা রুজু হয়েছে।
সহোদরসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ
১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:খুলনায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর এবং তার বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস চৌধুরীসহ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে আরো ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান আজ মঙ্গলবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ে ধর্ষণের মামলায়ও পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০) ও তার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৫) এবং মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)।
ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত
১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধায় ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল সড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী এলাকার অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, ৮ জন নিহতের সংবাদ পেয়েছি আমরা। বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে, দুর্ঘটনার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।- আলোকিত বাংলাদেশ
জয়পুরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু
১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাপড় শুকানোর তার যে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসেছিল, তা জানতেন না স্বপ্না বেগম (৩৪)। আজ সোমবার সকালে রোদে কাপড় শুকাতে গেলে তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাতরাতে থাকেন তিনি। এ সময় তাঁর শিশুসন্তান শিমু আকতার (৪) মায়ের চিৎকারে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। এ সময় মায়ের সঙ্গে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। তারপর মা-মেয়ে দুজনেরই করুণ মৃত্যু হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল লতিফ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত স্বপ্না বেগম উপজেলার মোলামগাড়িহাট গ্রামের কৃষক ফরিদুল সোনারের স্ত্রী। শিমু আকতার তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল। কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল সোনারের বাড়ির ভেতরে রোদে কাপড় শুকানোর জন্য মোটা জিআই (লোহার তার) তার টানানো ছিল। গতকাল রাতে বৃষ্টির সময় ওই তারের সঙ্গে পাশের খোলা বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তারের স্পর্শ হলে তারটিতে বিদ্যুতের সংযোগ ঘটে। আজ সকালে বাড়ির ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য স্বপ্না বেগম ওই তারে কাপড় শুকানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাতরাতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে শিশুসন্তান শিমু দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলে মা ও মেয়ে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাঁদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কক্সবাজারে
১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে মোঃ আনোয়ার সাদেক (৩৫) ও তার স্ত্রী ওয়ারেসা বেগম (৩০) নামের স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুলাই) দিনগত রাত তিনটার দিকে চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বমুরকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। চকরিয়া বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতলব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এসময় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বমুরকুল গ্রামের রবিউল আলমের ছেলে মোঃ আনোয়ার সাদেকের বসতবাড়িতে একটি পাহাড় ধসে পড়ে। এতে আনোয়ার সাদেক ও তার স্ত্রী ওয়ারেসা বেগম মাটিচাপা পড়ে। এসময় স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় বের করে। মরদেহ দুটি তার বাড়িতে রয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি পেলে আমরা মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করব।
ধর্ষণ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে
১৩ জুলাই২০১৯,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম/ঢাকা: শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকরীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তা দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নারী সাংবাদিকরা। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা বন্ধের দাবিতে নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি করেন। এতে সংগঠনের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন, ধর্ষণ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে পর্নোগ্রাফি ও মাদকের আমদানি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য বন্ধের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির তার বক্তব্যে বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- দিতে হবে ও তা দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি ধর্ষণকারীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা জানান। নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারী নরপশুদের মৃত্যুদন্ড দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি পুরুষদেরও নারী ও শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হবার আহ্বান জানান। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সম্প্রতি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু সায়মার বাবা আবদুস সালামসহ আখতার জাহান মালিক, দিলরুবা খান, নাসরিন শওকত, সানজীদা সুলতানাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্যরা।
স্কুলছাত্রী ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার
১৩ জুলাই২০১৯,শনিবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম/ লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নির্যাতিত শিশুর মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহরাব হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সোহরাব হোসেন একই এলাকার ইমাম হোসেনের ছেলে। মামলা সূত্রে ও নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর মা লুৎফা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বাড়ির পাশে লোকজন মাছ ধরছিল। ওই মাছ ধরা দেখতে যায় তার মেয়ে। এ সময় ৫০ টাকার প্রলোভন দিয়ে কৌশলে শিশুটির মুখ চেপে ধরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহরাব হোসেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এদিকে ওই শিশুর পরিবারকে থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য চাপ দেয় সোহরাব হোসেনসহ তার লোকজন। রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ওই শিশুর মা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
রাঙামাটিতে চলন্ত অটোরিকশার ওপর পাহাড় ধসে দুই যাত্রী নিহত
১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপর পাহাড় ধসে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামাল। নিহতরা হলেন অজয় বড়ুয়া ও সুজয় মং মারমা। তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। টানা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত সপ্তাহেও জেলায় পাহাড় ধসে দুজন মারা গেছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামাল বলেন, অজয় ও সুজন রাউজান থেকে বাগান দেখার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসেছিলেন। বাঙ্গালহালিয়া বাজার থেকে রাইখালী-বাঙ্গালহালিয়া সড়ক ধরে যাওয়ার সময় কারিগরপাড়ায় তাদের অটোরিকশার ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ দুটি উদ্ধার করে, যোগ করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক।
যে ১০ জেলা ভাসছে বন্যায়
১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ১০ জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টায় আরও অন্তত ৩টি জেলা বন্যা আক্রান্ত হতে পারে। বৃষ্টির বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বানের পানি আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। সিকিম-আসামে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা এবং ব্রহ্মপূত্র-যমুনা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ নেপাল এবং ভারতের বিহারে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। এই বৃষ্টি চলতে থাকলে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাবে। এদিকে আসাম-মেঘালয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ওই এলাকার বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসছে মেঘনা অববাহিকার বিভিন্ন নদীতে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। এসব মিলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, নেত্রকোণা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থির অবনতি হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টায় জামালপুর, সিরাজগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জে বন্যা বিস্তৃত হতে পারে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে একটি মাঝারি ধরনের বন্যা চলছে। ইতিমধ্যে মেঘনা এবং ব্রহ্মপূত্র অববাহিকা সক্রিয় হয়েছে। সাধারণত এই দুই অববাহিকা একসঙ্গে সক্রিয় হলে ২৪-২৫টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বড় বন্যা হয় উল্লিখিত দুই অববাহিকার সঙ্গে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা সক্রিয় হলে। যদিও ভারতের বিহারে এবং নেপালে বন্যা হচ্ছে। এর কারণে গঙ্গায় পানি বাড়ছে। পদ্মায়ও প্রবাহ বাড়বে। কিন্তু এই বন্যার পানি বাংলাদেশকে আক্রান্ত কতটা করবে সেটার জন্য আরও দুই-আড়াই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। যদি গঙ্গা-পদ্মায়ও বন্যা হয় তাহলে বাংলাদেশে বড় বন্যা হতে পারে। তবে আমি এখন পর্যন্ত তেমন আশঙ্কা দেখছি না। গত ৯ জুলাই থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সেটি চারদিন ধরে অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরেও মৌসুম সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে প্রথম দিকে দেশের নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব এলাকার ৭ নদী ১০টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার এসব নদী আরও নতুন নতুন এলাকায় বিপদসীমা পার করে প্রবাহিত হতে থাকে। শুক্রবার নতুন করে কুশিয়ারা বিপৎসীমা পার করে তিনটি স্থানে। সুরমাও তিনটি স্থানে বিপদসীমা পার করে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া খোয়াই, সোমেশ্বরী, কংস, সাঙ্গু ও তিস্তা বই বিপদসীমার উপরে। এদিন অবশ্য দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলার নদীগুলো বিপদসীমার নীচে চলে আসে। কিন্তু ফেণী, হালদা, মাতামুহুরী যে কোনো সময়ে বিপদসীমা পার করতে পারে। যমুনা ও ধরলার পানিও দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দায়িত্বরত সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভারতের সিকিম, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে যমুনা নদীর জামালপুর জেলায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপৎসীমা পার করেছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী, গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে যমুনা, কুড়িগ্রামে ধরলা কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিপদসীমা পার করতে পারে।