দ্বিতীয় ধরলা সেতু খুলে দেয়া হলো আজ
কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লক্ষাধিক লোকের বহুল প্রতিক্ষিত দু’জেলার সংযোগস্থল কবিরমামুদ-কুলাঘাট এলাকায় ধরলা নদীর উপর নবনির্মিত দ্বিতীয় ধরলা সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হল। আজ শনিবার বিকোল ৫টায় কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাফর আলী, জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন, জেলা পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হামিদুল হক খন্দকার ও সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম সেতুটির পূর্ব পাড়ে কবিরমামুদ পয়েন্টে পলক উম্মোচিত করে চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেন। এ সময় সেতুটির উপর হাজার হাজার মানুষ উছ্বসিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে মূহর্মূহু শ্লোগানে উক্ত এলাকা মুখরিত করে তোলেন। ধরলাপাড়ের পানের দোকানদার নুর ইসলাম জানালেন, তার এখন বেচা-কেনা ভালোই হবে। সেতুটি চালু হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে দোকানে খরচ করবে। শিক্ষক জিয়াউল হায়দার মন্ডল ও স্থানীয় বাসিন্দা রাজু জানালেন, শত বছরের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হল। আর নৌকা পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ধরলা নদী পাড় হতে হবে না। অনন্তপুরের সৌলেন্দ্র নাথ জানালেন, নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হল। দ্রব্যমূল্য অনেক কমে আসবে। চিকিৎসা নিতে আর হয়রানীর শিকার হতে হবে না। ধরলাপাড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী জানালেন, শত বছরের সাধনা আজ পুরণ হল। ফুলবাড়ী উপজেলার আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা এসে দিল সেতুটি চলাচলে উম্মুক্ত করে দিয়ে। সেতুটি চালু হওয়ায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ লোক উপকৃত হবে। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। কমে যাবে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার সড়ক পথ। অন্যদিকে সেতুটি চালু হওয়ায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ী দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৭ টি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুনাচলের সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পন্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। যুগান্তকারী অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটবে বাংলাদেশ ও ভারতের এসব এলাকার। একই সাথে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে কলিকাতার যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালমনিরহাটের কুলাঘাট ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর মধ্যস্থিত ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডার ধরলা দ্বিতীয় সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দীর্ঘতম এই সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডি সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালে। সেতুটির নদী শাসন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা। সেতুটি জুন ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের কারণে প্রথম দফায় ৩১ জুন ২০১৭ এবং দ্বিতীয় দফায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ জানুয়ারি ২০১৮ সালে নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপ নির্মাণের কাজ শেষ করে। কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী জানান, আসছে পবিত্র মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর এর কারণে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হল। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন জানান, আপাতত জনগণের সুবিধা বিবেচনা করে সেতুটি খুলে দেয়া হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেতুটি চালু হওয়ায় পিছিয়ে পড়া ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সাধারণ মানুষজন উন্নয়নের আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
যুবককে কুপিয়ে হত্যা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বদিউল আলম (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার দিবাগত রাত ১০ ঘটিকায় নিহতের বাড়ির পাশে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদিউল উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের কেচকিমুড়া উত্তরপাড়ার মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে এবং মহাসড়কের যমুনা পরিবহনের সাবেক লাইনম্যান। এ ঘটনায় নিহত বদিউল আলমের মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ১০ ঘটিকার সময় বাড়ির পাশে বদিউল আলমকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায় লোকজন। এসময় তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম সরকারী হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়ার পথে বদিউল আলমের মৃত্যু হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত বদিউলকে রাত ১টায় স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সে করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় মনিরুলের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা যায়। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফয়সল জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তা মা বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
৪শ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ আটকা চাঁদপুর মেঘনার চরে
প্রায় ৪ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনার চরে আটকা পড়েছে ঢাকাগামী লঞ্চ এমভি দেশান্তর। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া চরে রোববার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি। তবে যাত্রীরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চের মালিক পক্ষ জানান, ঢাকা থেকে তাদের আরেকটি লঞ্চ এমভি সোনারতরি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে গন্তব্যে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছেন। লঞ্চে থাকা এক যাত্রী জানান, সকাল ৭টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর ঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে নয়টার সময় প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলে চালক মুন্সিগঞ্জের কাছাকাছি চরে লঞ্চ থামিয়ে অবস্থান নেন। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দেখা যায় লঞ্চটি ওই স্থানের চরে আটকে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও চালক সেটি নামাতে পারেননি। লঞ্চের ওই যাত্রী আরো জানান, চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি ঈগল-৩ লঞ্চটিও একই স্থানে ঝড়ের কবলে পড়েছিল, তবে সেটি চরে আটকায়নি বলে ঝড়ের পরে ঢাকার উদ্দেশে চলে যায়।
বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১ সাতক্ষীরায়
সাতক্ষীরায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নবাব আলী নামে ১৫ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, চারটি রামদা ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদেরহাট এলাকায় রোববার (২৯ এপ্রিল) ভোর রাত ৪টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত নবাব আলী সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের মুজিব মোল্লার ছেলে। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মারুফ আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আবাদেরহাট এলাকায় অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। এ সময় পাল্টা গুলি ছুড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নবাব আলীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ, একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, চারটি রামদা ও ছুরি উদ্ধার হয়। বন্দুকযুদ্ধে সদর থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল, কনস্টেবল আশিক ও কনস্টেবল তুহিন আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিশ্রামে রয়েছেন বলে জানান ওসি। বন্দুকযুদ্ধে নিহত নবাব আলী হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, চুরি, স্বর্ণ চোরাচালানসহ ১৫টি মামলার আসামি ছিলেন বলেও জানান তিনি।
গণহিস্টিরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুরে শ্রেণিকক্ষে ঢলে পড়ল ১০ ছাত্রী
পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গণহিস্টিরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে একে একে ১০ ছাত্রী ঢলে পড়ে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ ওই ছাত্রীদের দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থরা হলো নবম শ্রেণির ছাত্রী সায়মা আক্তার, সামিয়া আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস, সপ্তম শ্রেণির জাহিদা সুলতানা জ্যোতি, রূপসা আক্তার, মিথিলা এবং পঞ্চম শ্রেণির সানজানা হক, তাহারিন, লামিয়া আক্তার ও ঐশি। হাসপাতাল ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে নবম শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার (১৪) হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরপর অন্য ছাত্রীরাও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়া ছাত্রী সামিয়া ও লামিয়াকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান জানান, কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় শনিবারের জন্য সব শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ননী গোপাল রায় জানান, অসুস্থ ছাত্রীরা মাস সাইকোলজিক্যাল ইলনেসে আক্রান্ত, তাদের চিকিৎসা দেয়ার পর কয়েকজন সুস্থ হয়ে উঠছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় পরকীয়ায় ধরা পড়ে প্রাণ হারালেন যুবক
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় হোটেলের পেছনে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা পড়ে মারধরে মাজেদুল (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।শনিবার ভোরে রাবনা বাইপাস এলাকার মায়া হোটেলের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিদ্দিক হোসেন এবং সাজ্জাত হোসেন নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মাজেদুলের বাড়ি গাজীপুরে। তিনি মায়া হোটেল সংলগ্ন একটি তাঁত ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। টাঙ্গাইল থানা পুলিশের ওসি ছায়েদুর রহমান জানান, মাজেদুল তাঁত ফ্যাক্টরির পাশের বাড়ির স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।ভোরে মাজেদুল ওই নারীর বাড়িতে যান। এ সময় টের পেয়ে ওই নারীর পরিবারের লোকজন মাজেদুলকে আটক করে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাজেদুলকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
আড়াই লাখ টাকার জাটকা জব্দ চাঁদপুরে
চাঁদপুর মেঘনা মোহনায় এম ভি আওলাদ-৭ ও এম ভি তাসরিফ-১ দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে ১ হাজার কেজি জাটকা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী স্টেশান চাঁদপুরের একটি অপারেশান দল শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জাটকাগুলো জব্দ করে। জানা যায়, সংবাদের ভিত্তিতে স্টেশান কমান্ডার লে এম এনায়েত উল্লাহ, (পিএন্ডআরটি), বিএন এর নেতৃত্বে টিম লিডার এম মোকারম হোসেন, পিওসহ এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী স্টেশান চাঁদপুরের স্টেশান কমান্ডার লে. এম এনায়েত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী মৎস্য সম্পদ রক্ষার নিমিত্তে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার প্রতিরোধ, মা ইলিশ ও অভায়াশ্রমের সুরক্ষা এবং জাটকা আহরণ বন্ধের অভিযান অব্যাহত রাখবে। এ সময় জব্দকৃত জাটকাগুলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হক ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিম খানায় বিতরণ করা হয়।
নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ ভেসে উঠল বুড়িগঙ্গায়
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে গেলে ওই দুইজন নিখোঁজ হন। তারা হলেন পটুয়াখালী জেলার পাটুয়া গ্রামের আদেল পেয়াদার ছেলে ট্রলার চালক ইউনুছ এবং নীলফামারী জেলার ডোমার থানার আমবাড়িয়া গ্রামের কোমর উদ্দিনের ছেলে সাবলুর রহমান। ফতুল্লার পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ জানান, বুধবার রাতে উপজেলার আকবর নগর আনন্দবাজার থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে ফতুল্লায় যাচ্ছিলেন ট্রলার চালক ইউনুছ। ধর্মগঞ্জ এলাকায় আসার পর কালবৈশাখীর কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন ট্রলারে থাকা দুইজন যাত্রী সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও চালকসহ দুইজন নিখোঁজ হন। এসআই ফরহাদ আরও জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ধর্মগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ইউনুছের এবং পানগাঁও এলাকার সাবলুর রহমানের মরদেহ ভেসে উঠে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর নিহতের পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যায়।
ব্যর্থতার দায় শেখ হাসিনার নয়,দায় জনপ্রতিনিধির: দোলন
সারা দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো স্থানীয় এলাকার উন্নয়ন না হওয়া সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশী আরিফুর রহমান দোলন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের উন্নয়ন করছেন, তার কাছে চেয়ে আনতে না পারা শেখ হাসিনার দায় নয়, জনপ্রতিনিধির ব্যর্থতা। প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধি বদলানোর তাগিদ দিয়ে তিনি সবাইকে আবার শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। আজ শুক্রবার বিকালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাননগর মহিলা সংঘের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ভাগবতীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দোলন। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহসভাপতি দোলন ফরিদপুরের এই এলাকার যথাযথ উন্নয়ন না হওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন করছেন। সারা দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কেন হবে না। এই দায়িত্ব কার, এর জবাব কে দেবে। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের এই কার যনির্বাহী সদস্য বলেন,আমি বিশ্বাস করি আপনারা সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দেন। নৌকা মার্কা হচ্ছে উন্নয়নের মার্কা। তাহলে কেন এ রাস্তা কাঁচা? এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,আমরা যারা রাজনীতিতে আছি, ভোটের সময় আপনাদের কাছে যাব আর ভোটের পরে খবর থাকবে না- এটা কিন্তু রাজনীতি না। এটা জনগণের উন্নয়নের রাজনীতি না। এ অঞ্চলের উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে জনপ্রতিনিধির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন ঢাকাটাইমস সম্পাদক দোলন। না কাঁদলে মাও দুধ দেয় না প্রবচনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন করতে চান। কিন্তু এখানে বোঝা যাচ্ছে শেখ হাসিনার কাছে ঠিকমতো চাওয়া হচ্ছে না। আমরা যদি শেখ হাসিনার কাছ থেকে কিছু আনতে না পারি, এটা আমাদের ব্যর্থতা, জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা। সমবেত জনগণের উদ্দেশে দোলন বলেন,আপনাদের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, শেখ হাসিনার কাছ থেকে আনার দায়িত্ব তাদের। আপনারা জনগণ হচ্ছেন মনিব। আর যারা নির্বাচিত হন তারা হচ্ছেন আপনাদের সেবক। আপনাদের সেবা করাই জনপ্রতিনিধিদের কাজ। তারা আপনাদের সেবাটা ঠিকমতো করছেন না। যারা নির্বাচিত হন, তারা সরকার থেকে অর্থকড়িসহ নানা সুবিধাদি পান। ঢাকাটাইমস সম্পাদক বলেন,আপনাদের টাকায় তাদের এসব সুবিধা দেয়া হয়। আপনাদের ভ্যাট ট্যাক্সের টাকায় তারা এসব সুবিধা পান। কিন্তু আপনারা যদি সুবিধা না পান, দুঃখে-কষ্টে থাকেন, তাদের সুবিধা পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী- এ অঞ্চলের জনগণ সব সময় নৌকায় ভোট দেয়। নয় বছর ধরে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায়। দোলন বলেন,এ কথা বলা চলবে না যে অন্য সরকার ক্ষমতায় তাই উন্নয়ন হয় নাই। এ রাস্তা পাকা হয় নাই। আপনারা যারা শতভাগ নৌকা মার্কায় ভোট দেন, তাদের রাস্তা যদি পাকা না হয়, অন্য রাস্তা কেন পাকা হবে। আপনারা যাদের ভোট দিয়েছেন তারা কেন আপনাদের জন্য আনছেন না। এ সময় তিনি এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাঁচারাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ফরিদপুর সদর আসনের এমপি এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে এ রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করবেন তিনি। এ সময় হাজারো জনতা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে করতালি দেন ও উল্লাস প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের কথা পৌঁছে দেবেন জানিয়ে সমবেতদের উদ্দেশে দোলন বলেন,নেত্রীকে বলব, এ অঞ্চলের মানুষ আপনাকে শতভাগ ভোট দেয়, এ অঞ্চল কেন পিছিয়ে থাকবে। নেত্রী যদি আপনাদের অবস্থার কথা শোনেন মনে কষ্ট পাবেন। একই সঙ্গে দোলন জনগণের কাছেও একটি আবদার রাখেন। তিনি বলেন,আপনারা দয়া করে এখানকার জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতার জন্য শেখ হাসিনার ওপর মনে কষ্ট নেবেন না। শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিশ্রম করছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ রাখার চেষ্টা করছেন। জঙ্গিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য কাজ করছেন। বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যর্থতার দায়ভার শেখ হাসিনার না। প্রয়োজনে আমরা স্থানীয় নেতা পরিবর্তন করে নেব। কিন্তু আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। আগামী দিনেও নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। উন্নয়নের জন্য সবাইকে মিলেমিশে কাজ করার তাগিদ দিয়ে দোলন বলেন,শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব। আজকে আমি রাস্তা পাকা করে দেয়ার অঙ্গীকার করতে পারলাম। কারণ রাষ্ট্রক্ষমতায় শেখ হাসিনা। উনি যদি না থাকতেন আমি করতে পারতাম না। কথা দিচ্ছি, যেভাবে পারি, যত দ্রুত পারি এ রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করব। এ সময় নিজের জন্যও সবার কাছে আশীর্বাদ চান আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন-প্রত্যাশী। তিনি বলেন,আমি এমপি হই আর না হই, আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন যেন আপনাদের সেবা করে যেতে পারি। ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে যদি এলাকার প্র্রতিনিধিত্ব করতে পারি, ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে আপনাদের সেবা করে যাব, আপনাদের উন্নয়নে কাজ করব- এ অঙ্গীকার করে যাচ্ছি। এর আগে দোলন তার তার পারিবারিক ঐতিহ্যগত জনসেবার কথা তুলে ধরেন। সেই ধারাবাকিতায় জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে তিনি তাদের মাঝে হাজির হয়েছেন বলে জানান ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের এই কারযনির্বাহী সদস্য। দোলন বলেন,আমার বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রামে। আমার প্রপিতামহ কাঞ্চন মুন্সী। উনি মানুষের সেবা করে গিয়েছেন। তারপর ওনার ছেলে আমার দাদা এ অঞ্চলের মানুষের সেবা করে গেছেন। স্কুল করেছেন, হাসপাতাল করেছেন, কলেজ করেছেন, হাজার হাজার মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। খুলনায়, কলকাতায় নিজের বাড়িতে শত শত মানুষকে রেখেছেন। লেখাপড়া শিখিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতায় তিনিও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমি মনে করি রাজনীতি হচ্ছে সমাজসেবা। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের সেবা। সমাজসেবা আরো বড় আকারে করতে গেলে রাজনীতি করতে হয়। বক্তব্যের শুরুতে দোলন দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,গত নয় বছর ধরে দেশে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বজায় আছে। কিন্তু এর আগে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সারা দেশে আক্রমণ চালিয়েছিল। দোলন বলেন,আমাদের সজাগ থাকতে হবে যেন বিএনপি-জামায়াত চক্র ক্ষমতায় আসতে না পারে। তারা চেষ্টা করছে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করার। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যরা সবাই মিলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করব।

সারা দেশ পাতার আরো খবর