মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা সরকারের ত্রাণ তহবিলে দিলো শিক্ষার্থী
২৬এপ্রিল,রবিবার,ইফতানা ইয়াছমিন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের এক শিক্ষার্থী মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়েছে সরকারের ত্রাণ তহবিলে। রোববার সকালে ওই শিক্ষার্থী বাবার সাথে জেলা কালেক্টরেট ভবনে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম এর হাতে তুলে দেন জমানো টাকার ব্যাংকটি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরাজ চৌধুরী। সে সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ছোট বালিয়া গ্রামের এ্যাডভোকেট ইমরান আলীর ছেলে। ওই শিক্ষার্থী জানায়, করোনা সংকট মোকাবেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকতে জেলার অনেকে ত্রাণ তহবিলে টাকা দিচ্ছেন। তাই আমিও আমার জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দিতে পেরে অনেক খুশি। শিক্ষার্থীর বাবা এ্যাডভোকেট ইমরান চৌধুরী জানান, যে যেভাবে পারছে করোনা সংকট মোকাবেলায় দরিদ্র মানুষের পাশে এগিয়ে আসছে। তেমনি আমার ছেলেও মনে করেছে তার জমানো টাকা কিছুটা হলেও মানুষের সাহায্যে ভুমিকা রাখবে। তাই উৎসাহ নিয়ে সে তার জমানো টাকার ব্যাংকটি জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে দিয়েছে। এতে আমারও ভাল লাগছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম নিউজ একাত্তরকে জানান, মানুষ মানুষের জন্য এই কথা মিথ্যে নয় বলেই একে একে অনেকে এগিয়ে আসছে। এভাবে যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসেন তাহলে করোনা সংকট মোকাবেলায় অনেকটাই সহজ হবে। আমি ধন্যবাদ জানাই শিক্ষার্থী মুক্তা ও শাহরাজকে তারা তাদের জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দিয়েছে। সামান্য হলেও তা গর্বের বিষয়। এর আগে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুক্তা আক্তার তার মাটির ব্যাংকে দুই বছরের জমানো টাকাসহ মাটির ব্যাংকটি জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দিয়ে সবার দৃষ্টি কাড়ে।
ঘরের জানালা কেটে পালিয়ে গেল করোনা
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুমিল্লায় করোনা শনাক্ত হওয়া মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ঘরের জানালা কেটে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। শুক্রবার রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে লকডাউনে থাকা একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই ব্যক্তির সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস জানান, মিজানুর রহমান গত কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে কাজিয়াতল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি জানার পর আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করি। আইইডিসিআর থেকে দেয়া রিপোর্টে ওই ব্যক্তি করোনা শনাক্ত হন। শুক্রবার দুপুরে ওই ব্যক্তির ঘরটি আইসোলেশনের জন্য নির্বাচন করে বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়। বাহিরের দিক থেকে তালা থাকলেও ঘরের জানালা কেটে শুক্রবার রাতের যে কোন সময় ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান।মানবজমিন। তাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম জানান, রোগীর শরীরে বাহ্যিক কোন লক্ষণ না থাকায় তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন বেডে না রেখে বাড়িতে আইসোলেশন নিশ্চিত করে বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছিল। তবে পালিয়ে যাওয়া এই রোগী কারো সংস্পর্শে গেলে ওই ব্যক্তিও সংক্রমিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলম জানান, পালিয়ে যাওয়া করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তারসহ করোনা আক্রান্ত আরও ২০
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হবিগঞ্জে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ নতুন আরো ২০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ জন। আজ বিকেলে আইসিডিসিআর থেকে নতুন ২০ জন আক্রান্তের রিপোর্ট আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল। এর ফলে করোনা আক্রান্তের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মাঝে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হবিগঞ্জ জেলা। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসনের ১ জন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৪ জন রয়েছেন। এছাড়া হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের ১ জন চিকিৎসক, ২ জন নার্স, ২ জন ব্রাদার, ২ জন প্যাথলজিস্ট, ২ জন এ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার ও ২ জন ঝাড়ুদার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা অধিকাংশই হবিগঞ্জ জেলা শহরের বলে জানা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ১ চিকিৎসকসহ ৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।মানবজমিন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত বিশেষায়িত ল্যাবে তাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবারে নতুন আক্রান্ত ৫ জনের মধ্যে চিকিৎসকসহ ৪ জনই চুনারুঘাট উপজেলার। বাকি ১ জন লাখাই উপজেলার। এর আগে বৃহস্পতিবার ৩ জন রোগী করোনা শনাক্ত হন। বৃহস্পতিবার আক্রান্তদের মধ্যে বাহুবলের একজন নারী, মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ব্রাদার ও আজমিরীগঞ্জের একজন নারী ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ২ জন, সোমবার ১০ জন, বুধবার ৫ জন শনাক্ত হন। ১১ এপ্রিল হবিগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। আক্রান্ত সবাই বর্তমানে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাহুবল উপজেলার গোহারুয়া গ্রামটি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। লাখাই উপজেলার ডাক্তার ও নার্স করোনা আক্রান্ত হওয়ায় লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায়ও আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সকালে করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেট সামছুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের একজন মারা যান। তার লাশ করোনা রোগীর যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে দাফন করা হবে বলে জানায় সিভিল সার্জন অফিস।
বিদ্যুৎ স্পর্শে সড়কে মারা গেলো ৪ টি গরু
২৫এপ্রিল,শনিবার,সালে অাহমেদ,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মোমেনবাগে বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালি পনায় মারা গেলো অসহায় এক কৃষকের শেষ সম্বলের ৪ টি গরু। যা দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীর এই কৃষকের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,অাড়া বাড়ী এলাকার এক অসহায় কৃষক গরু চরানো শেষে গরু গুলো নিয়ে যখন বাড়ি ফিরে তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ স্পর্শে ৪ টি গরু এবং ১ টি কুকুর ঘটনাস্থলে মারা যায়। তবে ভাগ্যিসক্রমে কৃষকের পায়ে জুতা পরিহিত ছিল বলে বিদ্যুৎ স্পর্শ থেকে তিনি এবং রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা বেচেঁ যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,বিদ্যুৎ যে রাস্তায় মাটিতে থাকবে এবং টার কারণে ৪ টা প্রানির জীবন কেঁড়ে নেবে, সেটা কে জানতো। রাস্তায় থাকা ঐ বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে একজন নিরিহ কৃষকের ৪ টি গরু মারা যায়।এর দায়ভার কে নিবে!দেশের এই ক্রাইসিস এর সময় অসহায় কৃষকের ৪টা গরু সেই বিদ্যুৎ তেই স্পৃষ্ট হয়ে সাথে সাথে মারা যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনাপাড়া এ্যাপোলো ডেন্টালের ডা.,ফিরোজ বলেন, ঘটনাটি শোনার পর অামি নিজে সেখানে উপস্থিত হই এবং গরুগুলোর অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়ি।অামি মনে করি এখানে বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালির কারনে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।তখন অামি অামার ব্যক্তিগত ফেসবুক অাইডি থেকে একটি লাইভ ভিডিও করি। তারপর সেখানে করুন কৃষকের গরু গুলোর অবস্থা তুলে ধরলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে প্রথমে বেলা ১২ টার দিকে কিছু যুবক করোনা প্রতিরোধে জন্য র্স্পে প্রয়োগ করছিলো হঠাৎ তারা বিদ্যুৎ এর অাচঁ পাচ্ছিললো।তাদের মধ্যে একজন দুপুর ২ টায় বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রোল রুমে ফোন দিলে তা বন্ধ পেয়ে লাইন ম্যান রবিউল কে জানানোর পর প্রতুত্তরে রবিউল বলে "খানকির ছেলে, তুই মরলি না ক্যান"।ডা.,ফিরোজ অারো বলেন, গরিব এই অসহায় হিন্দু লোকটা এখন কি করবে,তার মুখের দিকে তাকিয়ে তার কষ্ট সইতে পারি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অামার অাবেদন এই সময় কৃষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিলে লোকটা কিছুটা হলে সন্তোষ প্রকাশ করবে নয়তো লোকটা তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবে। ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিফাত সাদেকিন বলেন,প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল লোকটি গরু গুলোকে মাঠে চরানোর জন্য নিয়ে গেলে বাড়িতে অাসার পথে বিদ্যুৎ স্পর্শ হয়ে মারা যায়।৪ টি গরুর দুধ বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ভাগ্যিসক্রমে কৃষক বেচেঁ গেলে ও তার গরুর নিস্তার হয় নি।অসহায় এই লোকটা এখন কি করবে। অামি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অাকুল অাবেদন জানাই অসহায় এই কৃষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাকে শেষ রক্ষা করুক।সেই সাথে যারা এর খামখেয়ালীর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হউক। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডেমরা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী জানাব শামীম বলেন,গ্রাহক কন্ট্রোল রুমে কল করলে অামরা তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেই।অামাদের বিকেল ৩.৪৫ মিনিটে কন্ট্রোল রুমে কল দেয়ার পর বন্ধ করেছি। লাইন ম্যানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,লাইন ম্যান তখন কাজে ছিল, কন্ট্রোলে জানালে অামরা সাথে সাথে বন্ধ করতে পারতাম। তবে রবিউল যে কাজটি করেছে বিয়য়টি খুবই দুঃখজনক।করোনা পরিস্থিতির জন্য এমনিতে লোকবল কম, করোনা পরিস্থিতি শেষ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।কৃষককে ক্ষতি পূরন দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি অামরা উধ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি।
ময়মনসিংহ মহানগর যুবদল নেতা শাকিলের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ
২৫এপ্রিল,শনিবার,কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ ব্যুরো,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ময়মনসিংহে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিলের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যদ্রব্য ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নগরীর শিকারিকান্দায় চাল, ডাল, আলু, তেল, পেঁয়াজ, ছোলা, মুড়িসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেন তিনি। এসময় মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ, জেলা যুবদলের সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান লোমন, ময়মনসিংহ সদর থানা যুবদলের অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর হোসেন, মহানগর যুবদলের অন্যতম নেতা শরিফুল ইসলাম আকন্দ, আশরাফুল আলম আকন্দ আলম, আলমগীর হোসেন, নাজিমউদ্দীন নাজিম, কাজী ইনসান, আশরাফুল ইসলাম সুখন, আহাম্মেদ আকাশ, মোহাম্মদ নয়ন মিয়া, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সুজন, মোহাম্মদ লায়ন মিয়া, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, হিমেল, হ্নদয়, শাওন, রায়হানসহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর কাকলী হত্যার আসামি আটক
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,চাঁদপুর প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চাঁদপুরের মতলব উত্তরে স্কুলছাত্রী শারমিন আক্তার কাকলীর হত্যাকারীকে খুঁজে পেলো পুলিশ। একই সঙ্গে ছাত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা এবং ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত ত্রিভূজ প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মম এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন মতলব উত্তর থানার ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা।এর আগে গত বুধবার দুপুরে উপজেলার মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম অক্সফোর্ড একাডেমী নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ থেকে ঘটনার শিকার নবমশ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার কাকলীর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ মার্চ ভোরে মুঠোফোনে শারমিন আক্তার কাকলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় তার সাবেক প্রেমিক ও সহপাঠী সাইফ উদ্দিন। অক্সফোর্ড একাডেমীতে আগে থেকেই হাজির ছিল কাকলীর নতুন প্রেমিকও। এসময় সাইফ উদ্দিন প্রতারিত হয়েছে এবং নতুন প্রেমিকও প্রতারিত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তারা দুজনে মিলে কাকলীকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে ঘাতকরা কাকলীর বিচ্ছিন্ন মাথা প্রায় একহাজার গজ দুরের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। এ ঘটনার পর নতুন প্রেমিক কৌশলে গা ঢাকা দিলেও সাইফ উদ্দিন পাশের সুজাতপুর গ্রামে নিজের বাড়িতেই থেকে যায়। তবে গত বুধবার কাকলীর লাশ উদ্ধারের পর সে বাড়ি থেকে গা ঢাকা দিয়ে আশ্রয় নেয় নানার বাড়িতে। সূত্রটি আরও জানায়, শারমিন আক্তার কাকলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনের আলাপ ধরেই তার সহপাঠী সাইফ উদ্দিনকে কৌশলে গ্রেফতার এবং তার দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে কাকলীর বিচ্ছিন্ন মাথা এবং হত্যায় ব্যবহৃত ধারলো চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় জড়িত পালিয়ে যাওয়া অপর কিশোরকেও খুঁজছে পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তরের পূর্ব ইসলামাবাদ গ্রামের প্রবাসী বজলু বেপারীর বড় মেয়ে শারমিন আক্তার কাকলীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাশের সুজাতপুর গ্রামের রাসেল আহমেদের ছেলে সাইফ উদ্দিনের। এরই মাঝে গত কয়েক মাস আগে কাকলী সাইফ উদ্দিনকে বাদ দিয়ে নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজে আসা রাজশাহীর আরেক কিশোরের সঙ্গে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাইফ উদ্দিন খুব ঠাণ্ডা মাথায় ওই কিশোরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। মূলত ব্যর্থ প্রেমের প্রতিশোধ নিতেই তাদের দুজনের মাঝে এই সখ্যতা তৈরি হয়েছিল। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মতলব উত্তর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিবের দিকনির্দেশনায় পুলিশের তিনটি টিম চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন এবং দ্রুততার সঙ্গে হত্যার প্রকৃত রহস্য বের করে নিয়ে আসে।তিনি জানান, গ্রেফতারের পর সাইফ উদ্দিন নামে এই কিশোর কাকলী হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় পুলিশের কাছে। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হওয়া রাজশাহী থেকে ওই কিশোর গা ঢাকা দিলেও তাকেও গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।হত্যাকান্ডের শিকার শারমিন আক্তার কাকলী এবং সাইফ উদ্দিন মতলব উত্তরের মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবমশ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বুধবার ওই স্কুল মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায় একদল কিশোর। এসময় খেলার বল কুড়াতে গিয়ে পাশের অক্সফোর্ড একাডেমীর শ্রেণিকক্ষে কাকলীর গলাকাটা লাশের সন্ধান মেলে।তারপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটিত করে পুলিশ।
ভালুকায় বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে দিশেহারা কৃষক
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,মো.মোকছেদুর রহমান মামুন,ভালুকা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নের বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ করেছে। এতে ধান গাছ পুরে যাওয়ার মতো করে শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকার না পেয়ে চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ রোগে ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন কৃষকদের মাথায় হাত। দিশেহারা হচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৮হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নে নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পরছে। এ রোগের প্রভাবে ক্ষেতের ধানের শীষ আস্তে আস্তে সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। ধান চিঠা হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারগাড়া গ্রামে গেলে আতাউর রহমান নামে একজন মৌসূমী কৃষক বলেন, আমার ৪ একর বোরো ধানের ক্ষেতে বর্তমানে প্রায় ৫০শতাংশ ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ ছরিয়ে পরছে। ধানের শীষ গুলো চিঠা হয়ে যাচ্ছে। বাকী ধান গুলোও হুমকির মধ্যে আছে। দোকান থেকে কিটনাশক এনে ক্ষেতে প্রয়োগ করে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। আমাদের এলাকায় নিয়োজিত কৃষি ব্লক সুপারভাইজারকে আমরা চিনি না। আজ পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি। সুপারভাইজারকে আমাদের গ্রামে কখনও দেখা যায়নি। একই গ্রামের কৃষক আফতাব উদ্দিনের ২০শতাংশ, শাহ আলমের ৪০শতাংশ, মনির হোসেনের ৩০শতাংশ জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে মনিরের ৩০শতাংশ ক্ষেতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ। এক মুঠ ধানও সে ঘরে নিতে পারবে না। এলাকার আরও অনেক কৃষকের ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার কৃষকরা জানান, তারা দিশেহারা হয়ে হাটে-বাজারে ছোটাছুটি করে দোকানদারদের পরামর্শে কিটনাশক স্প্রে করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। কৃষি বিভাগের প্রতি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান তারা আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। তাছারা ওই ইউনিয়নের ডালুয়া গ্রামের কৃষক আশ্রাবউদ্দিনের ১০কাঠা, আ.রহমানের ১২কাঠা সহ বহু কৃষকের ক্ষেতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ ১০/১২দিন যাবৎ এ রোগ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের লোকজন তাদের কোন খবর নিচ্ছে না। এছাড়া মেদুয়ারী ইউনিয়নের অনেক কৃষককের ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগে শেষ পর্যায়ে এসে ধান নষ্ট হয়ে চিঠা হয়ে যাচ্ছে। পানিভান্ডা গ্রামের কৃষক সুলতান আহম্মেদ জানান, আমার প্রায় ১০কাঠা জমিতে ব্লাষ্ট রোগে শেষ হয়ে গেছে। আমার অন্য জমিগুলো নিয়ে খুব চিন্তিত আছি। আঙ্গারগাড়া কৃষক আতাউর রহমান কামাল জানান, আমি মঙ্গলবার দিন আমার ক্ষেতের ব্লাস্ট রোগের ছবি সহ ফেইজবুকে পোষ্ট দিলে বুধবার দিন উপ সহকারী ব্লক সুপারভাইজার আমার ক্ষেত পরিদর্শন করতে আসে। এর আগে তাঁকে আমরা পায়নি। আঙ্গারগাড়া ব্লকের উপ-সহকারী ব্লক সুপারভাইজার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, আমি আর একটা ব্লকে কাজ করি এই ব্লকে আমি ভারপ্রাপ্ত হিসাবে আছি। আমি আগামীকালকে গিয়ে খোঁজ খবর নিবো। ২টা ব্লক চালানোর কারনে হিমশিম খাচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারিগিছ আক্তার জানান, আমরা কৃষকদের ব্রি ২৮ ধান চাষ না করতে নিরুৎসাহিত করি। এই ধানে এই রোগটা বেশী হয়। আমার ৩৪জন এস এ এ ও থাকার কথা কিন্তু আছে ২২জন। ১২টা ব্লক ফাঁকা । তাদের একজন ব্লক সুপারভাইজদেরকে ২টি ব্লক দেখতে হচ্ছে। তাই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। পুরো ডাকাতিয়া ইউনিয়নে মাত্র ২জন ব্লক সুপারভাইজার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আমি আগামী কালকে তাদের ওই এলাকায় পাঠাবো ।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেনাবাহিনীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
২২এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মহামারীর এ সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মহীন মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন সেনাবাহিনী। আজ দুপুরে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাফায়েত খানের নেতৃত্বে জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ইউনিয়নের নাখান্দা গ্রামের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল চাল, ডাল আটা, তেল, লবণ, বিস্কুট ও সুজি বিতরণ করেন। ক্যাপ্টেন সাফায়েত খান জানান, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। এ সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ফেনীতে এক ধর্ষককে আটক করেছে Rab-7
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনী জেলার ফেনী সদর থানাধীন পাঠানবাড়ী পুলিশ কোয়াটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগে মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) নামক এক যুবককে আটক করেছে Rab-7, ফেনী ক্যাম্প। মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল সকালে ফেনী সদর থানাধীন পাঠানবাড়ী পুলিশ কোয়াটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগে মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) এক ধর্ষককে আটক করা হয়েছে বলে জানান, Rab-7 এর সহকারী পরিচালক( মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। আটককৃত আসামী হলেন মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন শাহের আলী গ্রামের মোঃ মোস্তফার ছেলে। বর্তমান ঠিকানাঃ রেনেসা টাওয়ার(৭ম তলা) ফালাছিয়া মাদ্রাসার পাশে, ফেনী সদর। Rab-7 এর ফেনী ক্যাম্প কমান্ডার মোঃ নুরুজ্জামান জানান, ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী সদর থানাধীন পাঠানবাড়ী পুলিশ কোয়াটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযোগকারী গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগে মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) নামক এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সে ধর্ষিতার নিজ বাসায় এসে রুমালে নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে নাক চেপে ধরে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও করে রাখে। পরে ভিডিও ধর্ষিতার স্বামীকে দেখাবে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন যাবত ধর্ষণ করে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছিল। আটককৃত আসামীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, Rab-7 এর ফেনী ক্যাম্প কতৃক ধর্ষনের অভিযোগে আটককৃত মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) নামে একজনকে ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ধর্ষিতা বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছে। আটককৃত আসামী ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন শাহের আলী গ্রামের মোঃ মোস্তফার ছেলে। উল্লেখ্য, আসামীর বিরুদ্ধে ফেনী সদর থানায় অশ্র ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ২ টি মামলা রয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর