চলনবিলে নৌকাডুবি: ৫ লাশ উদ্ধার
অনলাইন ডেস্ক: চলনবিলের পাবনা চাটমোহর অংশে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৫ জনেরই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল বাহিনীর ডুবুরিদল রোববার সকালে হান্ডিয়াল এলাকার সমাজ ঘাট থেকে বাকি দু’জনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন, ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গণি (৫২) ও ঈশ্বরদী আমবাগান এলাকার সাইদুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে ক্রীড়া সামগ্রী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম স্বপন বিশ্বাস (৪৫)। নৌকাডুবিতে নিহত সাদিয়া ও তার বাবা স্বপন বিশ্বাস, সলিমপুর ইউপি সচিবের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন পারুল (মাঝে) এবং ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গণি নৌকাডুবিতে নিহত সাদিয়া ও তার বাবা স্বপন বিশ্বাস, সলিমপুর ইউপি সচিবের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন পারুল (মাঝে) এবং ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গণি এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছিল ডুবুরিদল। তারা হলেন, ঈশ্বরদীর কলাম লেখক ও সলিমপুর ইউপি সচিব মোশাররফ হোসেন মুসার স্ত্রী শাহানাজ পারভীন পারুল (৪৫), ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গণির স্ত্রী মমতাজ পারভীন শিউলী (৪৫) ও ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাসের শিশুকন্যা সাদিয়া খাতুন (১০)। জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কেএম সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ২৪ জনের একটি দল চলনবিলে নৌকা ভ্রমণে যায়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে ফেরার পথে চলনবিলের চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল পাইকপাড়া ঘাট এলাকায় তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় ১৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫ জন নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তৎপরতা চালিয়ে তিন দিনে তাদের সবার লাশ উদ্ধার করল।
গাজীপুরের টঙ্গীতে আনসার সদস্যের গুলিবিদ্ধ লাশ
অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীতে জুনায়েদ (২৫) নামে এক আনসার সদস্যের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জুনায়েদ টঙ্গীর মরকুনে জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের গুদামে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশের ধারনা তিনি আত্মহত্যা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে টঙ্গী থানার এসআই আশরাফুল জানান, শনিবার দিবাগত ১০টার দিকে জুনায়েদ তার কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে যান। রাত ১১টার দিকে তিনি গুদামের বাথরুমে গেলে সেখানে একটি গুলির শব্দ শুনতে পান তার সহকর্মীরা। পরে সহকর্মীরা সেখানে ছুটে গিয়ে জুনায়েদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কেন্দুয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪
অনলাইন ডেস্ক: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার মাশকা কাঁঠালতলা এলাকার এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। হতাহতরা সবাই সিএনজির যাত্রী বলে জানা গেছে। কেন্দুয়া থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার দুপুরে উপজেলার মাসকা কাঁঠালতলা এলাকায় কেন্দুয়া থেকে আঠারোবাড়িগামী সিএনজি অটোরিকশাকে ঢাকা থেকে কেন্দুয়াগামী মায়ের দোয়া নামে একটি বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সিএনজির চালক জামাল উদ্দিনসহ চার জন নিহত হন। গুরুতর আহত তিন যাত্রীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাতক্ষীরায়
অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরার দক্ষিণ পলাশপোল এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশসহ ৭৭ জন জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সদর থানার উপপরিদর্শক কবির হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় এই মামলা দায়ের করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে দক্ষিণ পলাশপোলের প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে ৭০/৮০ জন বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র নেতাকর্মী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার অভিপ্রায়ে জড়ো হন। তারা সমবেত হয়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করাকালে পুলিশ সেখানে হাজির হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশও পাল্টা লাটিচার্জ করলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় সেখান থেকে সদর থানার ভোমরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ওবায়দুল্লাহসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। অন্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক কবীর হোসেন বাদী হয়ে ৭৭ জন বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীর নামে শুক্রবার মামলা করেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ জানান, তিনি ঈদের আগে থেকেই ঢাকাতে অবস্থান করছেন। অথচ সাতক্ষীরায় তার নামে মামলা হচ্ছে। যেটা হাস্যকর ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করার পাঁয়তারা বলে মনে করেন তিনি। কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে চলমান আন্দোলন বানচাল করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। তিনি সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
জয়পুরহাটের আউশগাড়া এলাকা থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
অনলাইন ডেস্ক: জয়পুরহাটের সদর উপজেলার আউশগাড়া এলাকা থেকে শনিবার সকালে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কলা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম সাইফুল ইসলাম (৪৫)। তিনি একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন। নিহত সাইফুল ইসলাম সদর উপজেলার আউশগাড়া গ্রামের সামির উদ্দিনের ছেলে। জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুমিনুল হক জানান, শুক্রবার রাতে সবার অজান্তে সাইফুল ইসলাম বাসা থেকে বের হয়ে যায়। তার স্বজনরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও পায়নি। শনিবার সকালে আউশগাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে গাছে তার ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ওসি জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা হত্যায় ধর্মমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা আজাদ শেখের হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর থানায় মামলা হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে ও ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তসহ ২৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে শুক্রবার গভীর রাতে এই মামলা গ্রহণ করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। নিহত যুবলীগ সদস্য সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদ ওরফে আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু মামলার মামলার বাদী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম। ময়মনসিংহের আকুয়ায় গত ৩১ জুলাই কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা আজাদকে। এব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হলেও অধিকতর তদন্ত ছাড়া মামলা গ্রহণ সম্ভব নয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়। মামলার বাদীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন আ্যাডভোকেট আফিল উদ্দিন। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ মামলার এজাহার গ্রহণ করতে আদেশ দেন কোতয়ালী পুলিশকে। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করেন। আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে এই মামলা গ্রহণ করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, রাস্তা অবরোধ, মৌন মিছিল, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন আজাদের সমর্থক ও পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, নিহত আজাদ শেখ আগে ধর্মমন্ত্রীপুত্র আজাদের সমর্থনে রাজনীতি করতেন। কিন্তু শান্ত তাকে টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসা করতে বললে আজাদ গ্রুপ বদল করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু গ্রুপে যোগ দেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শান্ত তাকে হত্যা পরিকল্পনা করেন এবং তার নির্দেশেই সমর্থক সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। মামলার বাদী আজাদের স্ত্রী দিলারা আক্তার বলেন, নিজ দলের নেতার নির্দেশেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আজ মামলা করতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছি। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় বোধ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের নিরাপত্তাসহ আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। মামলার আসামি ধর্মমন্ত্রীর পুত্র মোহিত উর রহমার শান্ত বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যকাণ্ড ঘটেছে। কারা কী করেছে পুলিশ সব জানে। এ মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক
অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালি থানার সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে ৩ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করেছে মাদকদ্রব্য অধিদফতর চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা। শনিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে থাকা মাদক দ্রব্য অধিদফতর চট্টগ্রামের কর্মকর্তা তপন কান্তি শর্মা এই খবর নিশ্চিত করেছেন। আটক যুবকরা হলেন, ইয়াবা ইন্ডাস্ট্রি খ্যাত কক্সবাজার জেলার টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মো. ফরিদ মিয়া (২২) ও একই এলাকার ফরিদ আহমদের ছেলে মো. আবদুল্লাহ (২০)। তপন কান্তি শর্মা বলেন, র্সোসের মাধ্যমে গোপন খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের সিনেমা প্যালেস এলাকায় ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় ৩ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. ফরিদ মিয়া ও মো. আবদুল্লাহকে আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে সিএমপির কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অবশেষে বাঁচানো গেল না কলেজছাত্রী মুক্তিকে
অনলাইন ডেস্ক: টানা ৯দিন যন্ত্রণা ভোগ করে অবশেষে মারা গেলেন পেট্রলের আগুনে দগ্ধ কলেজছাত্রী মুক্তি খাতুন (২২)। সোমবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। মুক্তির ভাই নাছির উদ্দিন আজ মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আজই ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মুক্তির লাশ পাবনায় আনা হবে। এদিকে, দীর্ঘ ৯ দিনেও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রলের আগুনে নিহত মুক্তি খাতুনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার মামলা করায় বিভিন্নভাবে আসামিরা তাকে হুমকি দিচ্ছে। আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে দেখে নেবে বলেও প্রচার করে আসছে। তিনি বাড়ি থেকে সাঁথিয়া থানা পুলিশের পাহারায় পুলিশের ভ্যানে যাতায়াত করছেন। মামলার প্রধান আসামি নাগডেমরা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে সালাম ও কেসমত আলীর ছেলে জাহিদ গ্রেফতার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মোজাম্মেল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সালামের পক্ষে থানায় তদবির করছে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হক এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুস সালামের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ১৯ আগস্ট দিনের বেলায় সালাম ও জাহিদের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মোজাম্মেল হক বাড়ি না থাকায় সন্ত্রাসীরা তার মেয়ে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তি খাতুনকে পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর রশিদ বলেন, ‘শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালানো ঘটনাটি জঘন্য ও বর্বরতা।’ ন্যক্কারজনক এই ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েকজন সদস্য বলেন, সালামের সমর্থকদের সঙ্গে মোজাম্মেলের সমর্থকদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। থানা পুলিশ শক্ত হাতে সঠিক দায়িত্ব পালন করলে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটত না। অন্যদিকে, এলাকায় আর কোনো সংঘর্ষ যাতে না হয়, সে জন্য মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেলের বাড়িতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে থানা পুলিশ। সাঁথিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মজিদ জানান, মুক্তি মারা যাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, যদি মারা যায়, তবে আগে দায়ের করা মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি সালাম ও জাহিদ পালিয়ে থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগির তারা গ্রেফতার হবে। ওসি তদন্ত আরো বলেন, এলাকায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে, সেজন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন আছে। বাদীপক্ষ সম্পূর্ণ নিরাপত্তায় রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৭৫
অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা এলাকা থেকে ২০ জন, কলারোয়া থেকে ১০ জন, তালা থেকে ১২ জন, কালিগঞ্জ থেকে ৯ জন, শ্যামনগর থেকে ১১ জন, আশাশুনি থেকে ৭ জন, দেবহাটা থেকে ৩ জন ও পাটকেলঘাটা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ৩৩ বোতল ফেনসিডিল ও ২২ পিচ ইয়াবাসহ বেশ কিছু মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর