বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে আগামীকাল থেকে
সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বুধবার থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিরাজমান শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে। তবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এদিকে টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া, অঞ্চলসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সকাল ৬ টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে এবং আগামীকাল শনিবার সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৪৪ মিনিটে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার সন্ধায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরে বৈঠকে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর রাতেই তার নাম ঘোষণা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে গত শনি থেকে সোমবার এই তিন দিনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেন ১৬ জন। প্রথম দিনেই মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল, কবি রাসেল আশিকী, ব্যবসায়ী আদম তমিজি হক, মণিপুর স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, শিক্ষক শাহ আলম, এফবিসিসিআই পরিচালক হেলাল উদ্দিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবায়ের আলম। দ্বিতীয় দিনে ফরম সংগ্রহ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামীম হাসান, ব্যবসায়ী আবেদ মনসুর, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াদ আলী ফকির ও যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার। শেষ দিন গতকাল সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ওসমান গণিসহ তিন জন ফরম সংগ্রহ করেন। অন্য দুজন হলেন জামান ভূঞা ও আসমা জেরিন ঝুমু। প্রসঙ্গত, আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদটি শুণ্য হয়। এই পদের ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়াতে হলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ জানুয়ারি। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংকেত পেয়ে ভোটের জন্য জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আতিকুল ইসলাম। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আতিকুলকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন, কিন্তু তাকে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি।
ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা দরকার
নগরজুড়ে আলোচনায় এখন ঢাকা উত্তরের সিটি নির্বাচন। পূর্ণ মেয়াদের না হলেও এই নির্বাচন এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের বছর হলেও এই উপনির্বাচনে সবার নজরে থাকবে কমিশন। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, অভিযোগ আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে নির্বাচন পরিচালনায় এসব বিষয়ে কমিশনের কি ভূমিকা থাকবে সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। নির্বাচন বিশ্লেষক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, 'এবারে আমার মনে হয় অভিযোগের প্রতিকার করার বিষয়টা শুধু ঢাকা উত্তরে নয় ভবিষ্যতে যে জাতীয় নির্বাচন আসছে ওটাতেও নির্বাচন কমিশন অনেক বেশি সচেষ্ট হবে। মানুষ নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতার ওপরও নজর রাখবে যে, তারা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারছেন কিনা। সরকারের প্রতিও নজর থাকবে তারা বাড়তি কোনো প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে কিনা।' তবে নির্বাচন কমিশন একা নয় সফল একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার, আর রাজনৈতিক দলের সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক মো. আব্দুল আলিম বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের একার প্রচেষ্টায় কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এখানে রাজনৈতিক দলের, প্রার্থীর ভূমিকা থাকতে হয় এবং সরকারের একটা বড় ভূমিকা থাকতে হয়। কাজেই কমিশন এখানে উদ্যোগ নেবে এবং বাকি যারা আছে তারা এতে সহায়তা করবে।' এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেছেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আপোষ করবেন না তারা। তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন একটা নির্দিষ্ট আইন-কানুনের মাধ্যমে নির্বাচন করে থাকে। আমরা আশা করবো, আমাদের প্রার্থীরা সবসময় যেনো আইন-কানুনগুলো মেনে চলেন। যাতে নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।' আগামী ৩০ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় মাঠে নামবেন প্রার্থীরা।
চলতি সপ্তাহের শেষে স্বাভাবিক হতে পারে তাপমাত্রা
বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক হতে পারে তাপমাত্রা। শৈত্য প্রবাহ। ইতোমধ্যে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় (দুই দশমিক ছয় ডিগ্রী সেলসিয়াস) অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে। তবে চলতি সপ্তাহের বুধবারের পর স্বাভাবিক হতে পারে তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি বুধবারের পর থেকে স্বাভাবিক হতে পারে দেশের তাপমাত্রা। বিক্ষিপ্তভাবে দেশের কয়েকটি স্থান ব্যতীত আর কোথাও শৈত্য প্রবাহ থাকবে না। সে হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে পারে দেশবাসী। কুয়াশার সাথে উত্তরীয় ঠান্ডা বাতাসই গত দুই সপ্তাহ যাবত প্রবল শীতের কারণ বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার তাপমাত্রার হিসেব অনুযায়ী, ৮-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ আর ৬ ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রাকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বলা হয়।
চার দিনের ব্যক্তিগত সফরে আজ ঢাকা আসছেন প্রণব মুখার্জি
চার দিনের ব্যক্তিগত সফরে আজ রোববার ঢাকায় আসছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। বিকেল ৪টায় তাঁর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্ধরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাসহ বিভিন্ন পদস্থ ব্যক্তিরা। ঢাকায় এসে প্রণব মুখার্জি প্যানপ্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করবেন। বাংলাদেশ সফরকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মৃতি জাদুঘরও পরিদর্শন করবেন তিনি। সফরে প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তাকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি দেওয়া হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সফরকালে তিনি শহীদ সূর্য সেনের বাড়ি পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর এই প্রথম ভারতের বাইরে সফর করছেন প্রণব মুখার্জি। সফর শেষ করে আগামী ১৮ জানুয়ারি তাঁর ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
শীতে রোহিঙ্গাদের দিন কেমন কাটছে ?
বাংলাদেশ জুড়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শীতে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখভাল করে এমন একটি এনজিও সোসাইটি ফর হেলথ এক্সটেনশনাল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ শওকত আলী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা এ শীতে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য অনুদান দেয়া শীতবস্ত্রগুলো পর্যাপ্ত নয়। অল্প কিছুদিন আগে যারা এসেছেন, তাদের আবাসনের ব্যবস্থাও তেমন মজবুত নয়। শীতে রোহিঙ্গাদের দিন কেমন কাটছে ? এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, তারা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারের নির্ধারিত তিন হাজার একর জায়গাতে মেগাক্যাম্প করা হয়েছে। সে মেগাক্যাম্পের বাইরেও, টেকনাফ ও উখিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা বসবাস করছে। এখানে তারা যেভাবে শেল্টারগুলোতে থাকছে, সেগুলো প্লাস্টিক শিট ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি। রাতে যখন কুয়াশা পড়ে এগুলো ঘেমে গিয়ে বৃষ্টি হয়ে তাদের ঘরের ভিতরে পড়ে। পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের বসবাস হওয়ার ফলে মাটির নিচ থেকেও ঠান্ডা ওঠে। সেখানে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। অনেকগুলো শীতবস্ত্র এবং কম্বল বিতরণ করেছে। অনেকগুলো পরিবার তিনটা বা পাঁচটা করেও কম্বল পেয়েছে। কিন্তু এগুলো তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। অনেকগুলো পরিবারে ৭ থেকে ৮ জন সদস্য থাকে, তাদেরকে অনেক পাতলা কম্বল দেয়া হয়েছে, এ কম্বলগুলো দিয়ে বৃদ্ধা এবং শিশুদের শীত নিবারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শীতবস্ত্র এবং আবাসন ছাড়া তাদের কোন ধরণের সহায়তা প্রয়োজন আছে কী ? জবাবে শওকত আলী বলেন, আমাদের সাথে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম তাদের নেতৃত্বে অনেকগুলো সহায়তা দিচ্ছে। এখানে ওয়াটার স্যানিটেশন, হেলথ হাইজিন এবং নিউট্রিশনের সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। ডব্লিউএসফির সহায়তা আইএফোর এবং এনএফআই অনেকগুলো সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এরপরেও অনেক সহায়তার দরকার। যেমন জ্বালানি সরবরাহ, এখানে এটার অত্যন্ত প্রয়োজন। গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের সাপ্লিমেন্টারি খাবার আরো বাড়ানো দরকার। মেডিকেল সাপোর্ট, ওয়াটার স্যানিটেশন সাপোর্ট বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে কমিউনিটি লিডার, যারা ম্যানেজমেন্টের কাজ করে তাদের ক্যাপাসিটি ডেভলপমেন্ট করা দরকার। জেন্ডার ভায়োল্যান্স যাতে না ঘটে মানুষকে সর্তক করা এবং সে বিষয়ে কাজ করা দরকার।
শীতে উত্তরে জনজীবন অচল দ্রুতই শীত পরিস্থিতির উন্নতির কোন সুখবর নেই।
দ্রুতই শীত পরিস্থিতির উন্নতির কোন সুখবর নেই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানের এই অবস্থা আরও কয়েকদিন বিরাজ করতে পারে। ধীরে ধীরে যেমন তাপমাত্রা বাড়ছে, শীতের মাত্রাও ধীরে ধীরেই কমে আসবে। বর্তমানে সারাদেশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যশোরে টানা তিনদিন তাপমাত্রা সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। শনিবার এ জেলায় সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে উত্তরের মানুষ কার্যত ঘরবন্দী। জানুয়ারি শেষ নাগাদ আবারও শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছেন তারা। গত ৪ জানুয়ারি থেকে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। তা তীব্র আকার ধারণ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বনিম্ন ২.৬ ডিগ্রীতে নেমে আসে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও শীত পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। খোদ রাজধানীবাসীও এবার শীতে কাবু। আর উত্তরাঞ্চলের শীত উপস্থিতি হয়েছে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে। এক সপ্তাহ ধরে শীতে তারা কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়ছে। বিশেষ প্রয়োজন এবং কাজের সন্ধ্যানে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কোন কোন এলাকা সূর্যের মুখটা দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনজীবন। দিনেরবেলায়ও কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যানবাহনের জন্য বেশি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে শীতের সঙ্গে পড়া ঘন কুয়াশা। এই অবস্থায় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দ্রুত শীত পরিস্থিতির উন্নতির কোন সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, আস্তে আস্তে তাপমাত্রা বাড়ছে। এভাবে আস্তে আস্তেই শীত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমানের অবস্থা আরও কয়েকদিন বিরাজ করবে। তাপমাত্রা আরও বাড়লেও শীত তখন কমে আসবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি শেষ নাগাদ আবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে সারাদেশে। তখন শীত আবার বাড়তে পারে। তবে জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের আবহ থাকবে বলে জানান। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তারা জানায় টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, সীতাকু- ও রঙ্গামাটি অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ দেশের কোন কোন এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রী সেঃ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এদিকে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। উত্তরের জনগণ এখন শীতে জবুথবু। ৫ থেকে ৭ ডিগ্রী তাপমাত্রার মধ্যে ১০দিন ধরেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। শীতের কারণে স্বাভাবিক কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। হাড় কাঁপনো শীত মানুষকে অনেকটা ঘরবন্দী করে ফেলেছে। শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার চাদরে কাটছে তাদের জীবন। গরম কাপড়েও যেন শীত মানতে চাচ্ছে না। প্রাণীকুলের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে দিন দিন। শীতে অভাবী মানুষের করুণ দশা যেন বেড়েই চলেছে। রাজশাহী# এবার প্রলম্বিত শীতের কবলে পড়েছে উত্তরের রাজশাহী অঞ্চল। শীতকালে সাধারণত কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহ স্থায়ী হলেও এবারের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শৈত্যপ্রবাহ স্থায়ী রয়েছে এ অঞ্চলে। ফলে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। টানা শীতে প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। দীর্ঘমেয়াদী শৈত্যপ্রবাহে এরইমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে লাখ লাখ টাকার পান। বোরোর বীজতলায় দেখা দিয়েছে কোল্ড ইনজুরি। এমন টানা শীত এর আগে পার করেনি এ অঞ্চলের মানুষ। টানা শীতে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছে হিমাগারে। যশোর# দশদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকুল। প্রতিদিনই ৫ থেকে ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে তাপমাত্রা। শনিবার সকালেও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন সকালে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ নিয়ে এই মৌসুমে তিনদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড করা হলো। প্রচ- শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। খুব সকালে ক্ষেতে প্রতিদিনের মতো চাষির দেখা মেলেনি। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষকে। কুড়িগ্রাম# টানা শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তাপমাত্রা বেশি নিম্নগামী ও শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বাড়ছে শীত জনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হার্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। দুপুরের পর সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ ছড়াতে না পাড়ায় দিনেরবেলায়ও তাপমাত্রা বাড়ছে না। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো টপ টপ করে পড়ছে কুশায়া। কুয়াশার পানিতে ভিজে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। কৃষি শ্রমিকরা কাজে যেতে না পারায় বিলম্বিত হচ্ছে চাষাবাদ। খাদ্য সঙ্কটে পড়ার উপক্রম হয়েছে শ্রমিকদেরও। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন গত বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো নদ-নদীর তীরবর্তী মানুষ। নীলফামারী# কনকনে ঠান্ডার কমতি নেই। শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার চাদরে কাটছে উত্তরের নীলফামারীসহ পার্শ¦বর্তী এলাকার জনজীবনের দিনরাত। গরম কাপড়ও যেন শীত নিবারণে ফেল মেরেছে। শুকনো পাতা, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে যাচ্ছে মানুষজন। পথঘাটে কমেছে চলাফেরা। পারদ যত নামছে ততই গুটিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। শনিবার ছিল প্রচ- ঘন কুয়াশা। শীত মহাসঙ্কটে ফেলে দিয়েছে সকলকে। ক্ষেতখামারে কাজ থমকে গেছে। হাত-পা জমে যাওয়ার মতো এমন শীত অচল করে রেখেছে জনজীবন। দিনরাত শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রকৃতি। মাঝে দুপুরের পর একআধটু রোদের দেখা মিললেও তা নিমিষেই হারিয়ে যাচ্ছে। ১০দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ছক্কা হাঁকিয়ে পারদ নামিয়ে কনকনে শীত এনেছে। সঙ্গে কুয়াশা ঘন মেঘলা আবহাওয়ায় ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় কাঁপুনি বাড়তে থাকে। প্রচ- শীতে শহরের ভবঘুরেদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। দিনাজপুর # দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানের চিড়িয়াখানায় শীতের কারণে ৪৭টি চিত্রা হরিণের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া না হলে হরিণগুলোর মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া ১২টি মা হরিণ যে কোন সময় নতুন শাবকের জন্ম দিতে পারে। সৈয়দপুর # চলমান তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতে আড়ষ্টতা কাটছে না সৈয়দপুরের প্রাণিকুলের। শীতের হিমেল হাওয়ায় আর ঘন কুয়াশায় বস্ত্রাভাবে কাহিল হয়ে পড়েছে অভাবী মানুষজন। ইরি-বোরো বীজতলা পড়েছে কোল্ড ইনজুরিতে। বাড়ছে শীত জনিত রোগ। সকল বয়সীই আক্রান্ত হচ্ছে শীত জনিত রোগে। তবে গতকালের বাড়ন্ত তাপমাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। উপজেলার প্রায় ২০ হাজার দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্রের জন্য হাহাকার বিরাজ করছে।
এমজেএফ মানবাধিকার সংস্থা এর পক্ষ থেকে অসহায় শীতার্তের মাঝে কম্বল বিতরণ
অদ্য ১৩ জানুয়ারি আকবর শাহ্ থানার কর্ণেলহাটস্থ হাসেম নাজের মা ও শিশু হাসপাতালে মানবাধিকার সংস্থা মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) চট্টগ্রাম এর পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠান এমজেএফ মানবাধিকার সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ লোকমান আলির সভাপতিত্বে ও এমজেএফ এর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সচিব জুয়েল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১০ নং ওয়ার্ড এর দুই দুইবার সফল কাউন্সিলর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতা আলহাজ্ব নেছার উদ্দিন আহম্মেদ (প্রফেসর মঞ্জু),বিশেষ অতিথি ছিলেন এমজেএফ মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব ও নিউজ একাত্তর ডট কম,জাতীয় সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ এর সম্পাদক ও পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশনস লিঃ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান,বিশিষ্ট সংগঠক ও প্রবীন সাংবাদিক জনাব, মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী। এতে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর কমিটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক জিয়া উদ্দিন কাদের, মহাসচিব মৃদুল মজুমদার,সাংগঠনিক সচিব তসলিম কাদের, যুগ্নমহাসচিব সোহাগ,নারী ও শিশু বিষয়ক সচিব মিলি চৌধুরী, উত্তর জেলার চেয়ারম্যান এম.এ নুরুন্নবী চৌধুরী,আকবর শাহ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজি আলতাব,সাবেক শিক্ষিকা সবিতা বিশ্বাস,সাংবাদিক আকবর হোসেন ভূইয়া,ফটো সাংবাদিক শান্তা তালুকদার,যুগ্ন মহাসচিব সাইফুল ইসলাম ,নিহার কান্তি দাশ, এম.এ. হক চৌধুরী রানা,মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক প্রমুখ।
চলমান শৈতপ্রবাহ থাকতেপারে আরো দুইদিন
চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরও এক-দুই দিন থাকতে পারে। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় গতকাল শুক্রবার রাত ও ভোরে তাপমাত্রা বাড়লেও দিনে কমেছে। দিনের তাপমাত্রা এক দিনের ব্যবধানে ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। ফলে দিনেও অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। দিন-রাত ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ দেশের বেশির ভাগ মানুষকে পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। ঘন কুয়াশার কারণে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সাত ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ এবং মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল। গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি জেলা বাদে প্রায় পুরো দেশ হাড়কাঁপানো শীতে ছিল জবুথবু। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, আরও দুই-এক দিন চলবে শৈত্যপ্রবাহ। আজ শনিবারও দেশের বেশির ভাগ নদীতীরবর্তী এলাকা ও অন্যান্য স্থানে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যা হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শৈত্যপ্রবাহটি শুরু হয়েছিল মূলত জেট বায়ু নামে একটি শীতল বাতাসের প্রবাহ ও উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপবলয় একসঙ্গে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হয়ে পড়ায়। জেট বায়ুটি বাংলাদেশের ওপর থেকে সরে গেলেও উচ্চ চাপবলয়টি এখনো সক্রিয়। ফলে শৈত্যপ্রবাহটি সক্রিয় রয়েছে এবং এটি আরও এক-দুই দিন থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল এক লাফে তা কমে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও অনেক এলাকায় তা এখনো ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ এলাকার ওপর মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ছিল। আর থেমে থেমে ঠান্ডা বাতাসও বয়ে গেছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছিতে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। দেশের অন্যান্য এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রির নিচে ও সামান্য ওপরে। এসব এলাকায় আজও একই ধরনের তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কুয়াশায় বন্ধ ফেরি চলাচল ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল ভোর থেকে ছয় ঘণ্টা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুই নৌপথের উভয় পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। মাদারীপুর # মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন জানান, এই নৌপথে ভোর চারটার দিকে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া চারটি ফেরি মাঝনদীতে নোঙর করে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কুয়াশা কমে এলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গোয়ালন্দ #বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভোররাত সাড়ে তিনটা থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া চারটি ফেরি মাঝনদীতে আটকা পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। মানিকগঞ্জ # বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) তানভীর হোসেন বলেন, গতকাল ছয় ঘণ্টা ফেরি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তবে যাত্রীভোগান্তি কমাতে বাসগুলোকে আগে পারাপার করা হয়।

সারা দেশ পাতার আরো খবর