নোয়াখালীতে যাত্রীবাহি বাস উল্টে নিহত ৩
৮মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-রামগঞ্জ মহাসড়ক মুন্সী রাস্তারসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। চাটখিল থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, চৌমুহনী থেকে জননী পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-রামগঞ্জ মহাসড়ক মুন্সিরাস্তারসংলগ্ন স্থানে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে সরু খালে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত এবং আহত হন কমপক্ষে ১৫ জন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
সেজেছে ইফতারির পসরায়
৭ মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম :রমজানের প্রথম দিনেই বাহারি সব ইফতারে সেজেছে প্রাচীন ঢাকার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র চকবাজারসহ পুরো রাজধানী। ইফতারের আয়োজনে থাকছে লোভনীয় রসনা বিলাসের সব খাবার। কদরও বেশ। প্রকার আর কোয়ালিটি ভেদে দামেরও রয়েছে ভিন্নতা। হাক-ডাক আর কোলাহলে চলছে বেচা-বিক্রি। মানুষের ভীড়ে বিক্রেতারা গলা ছেড়ে হাক ছাড়ছে মন ভুলানো নানা কথায় ও বাক্যে। বড় বাপের পোলা খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়।রাজধানীর চকবাজার, বেইলি রোড, আজিমপুর, সেন্ট্রাল রোড, ঝিগাতলা, কলাবাগান, গুলশান-১, বনানী সহ প্রতিটি স্থানে বাহারি ইফতারি নিয়ে বসেছে দোকানিরা। দেশীয়ও পাশ্চাত্য ধাচের খাবারও মিলছে এসব দোকানে।দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে সামিয়ানা এবং প্যান্ডেল সাজিয়ে ইফতারি বিক্রি করেছেন চকের ব্যবসায়ীরা। বাহারি ইফতারের পসরায় সাজানো হয়েছে ঢাকার প্রাচীন এ স্থানটিতে।দুপুর থেকেই চকবাজার ছাপিয়ে পুরান ঢাকার অলিগলির বাতাসে ভাসছে নানা স্বাদের মুখরোচক খাবারের মনকাড়া সুবাস।বিক্রেতারা জানায়, বংশগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গায় ইফতারির ব্যবসা করছেন তারা। তাদের বাবা, দাদা, তার বাবারাও এখানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করতেন। ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তাদের এই ব্যবসা। তবে, এখন অনেকেই নতুন নতুন এখানে এসেছেন বলেও জানান তারা। এখানকার খাবারের মধ্যে একটি নবাবী স্বাদ ও আমেজ থাকে।এদিকে মোহাম্মদপুর থেকে চকবাজারে ইফতারি কিনতে এসেছেন শিশির কাউসার। তিনি জানান, প্রতিবছর তিনি চকবাজার থেকে প্রথম দিন ইফতার কিনেন। এখানকার ইফতারি অন্যান্য স্থান থেকে আলাদা। তাই তিনি এখানে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চকবাজারের ইফতারি কিনতে এসেছেন জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিবছর ইফতার কিনতে চকবাজারে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরাও চকবাজারের ইফতার পছন্দ করেন। তাই প্রথম দিনই ইফতারি কিনতে এসেছি। একই সময় গতবারের তুলনায় ইফতারির দাম কিছুটা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন।দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতা ইমরান খান বলেন, এবছর গরু ও খাসির মাংসের দাম বাড়তি। এ ছাড়া চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি। তাতে ইফতার বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।বিক্রেতারা জানান, পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের বাড়ির তৈরি ইফতারির চেয়ে দোকানে তৈরি ইফতারি দিয়েই ইফতার করতে অভ্যস্ত। যে কারণে পুরো রমজান জুড়েই চকের ইফতিারির বাজার থাকে সরগরম। তবে শুধু পুরান ঢাকার বাসিন্দাই নন। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা ও রমজানে চক বজার থেকে ইফতার সামাগ্রী নিতে আসেন। এবার নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ইফতার সমাগ্রীর দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।দেখা যায়, সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিকা কাবাব, ডিম চপ, কবুতর-কোয়েলের রোস্ট, ঐতিহ্যবাহী বড় বাপের পোলায় খায়, খাসির রান, গোটা মুরগি ফ্রাই, মুরগি ভাজা, ডিম ভাজা, পরোটা, শাহী কাবাব, সুতি কাবাব, সাসলিক, ভেজিটেবল রোল, চিকেন রোল, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, হালিম, লাচ্ছি, পনির, পেস্তা বাদামের শরবত, লাবাং, মাঠা পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে।আর পরিচিত খাবারের মধ্যে বেশি পাওয়া যাচ্ছে কিমা পরোটা, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, সমুচা, বেগুনি, আলুর চপ, পিয়াজু, জিলাপিসহ নানা পদের খাবার।পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে। ব্যবসায়ি সালেহ আহমেদ জানায়, এই ইফতার আইটেমটি তেরি করা হয়েছে ২৭টি পদ দিয়ে। এছাড়া খাসির রোস্ট পিস আকার ভেদে ৪৪০ থেকে ৬৫০ টাকায়, মুরগির রোস্ট পিস ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, দইবড়া কেজি ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, কবুতরের রোস্ট ১৫০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। কোয়েল প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ ছাড়া চিকন জিলাপি কেজি ১৫০ টাকা, বড় শাহী জিলাপি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।মন্ত্রিপাড়ার ইফতার বেইলি রোড রাজধানীর অভিজাত শ্রেণীর মানুষের ইফতারির বাজার হিসেবে খ্যাত বেইলি রোড। মন্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা, ব্যাংকার, বিভিন্ন সরকারি আমলা ও কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ি এবং শিল্পপতিরাই মূলত এখানকার ক্রেতা। তবে সাধারণ মানুষেরও ভীড় জমে এখানে। এখানে ফখরুদ্দিনের ইফতার, কাচ্চি বিরিয়ানি ও খাসির হালিমের ক্রেতাই বেশি। এছাড়াও রয়েছে স্কাইলার্ক, গোল্ডেন ফুড, আমেরিকান বার্গার, ক্যাপিটাল কনফেকশনারি, রেডকোর্ট, বুমার্স, মিস্টার বেকারস, কেএফসি, পিৎজা হাটসহ সব লোভনীয় সব ফাস্টফুডের দোকান। দোকানভেদে বেইলি রোডে রয়েছে দামেরও তারতম্য। চিংড়ি মাছের বল ৪০-৫০ টাকা, দইবড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা, সমুচা ১০-১৫, জিলাপি ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, হালিম ৫০ থেকে ৫০০, টানা পরোটা ৩০, কিমা পরোটা ৪৫, চিকেন ললি ৪৫-৬০, বিফমিনি কাবাব ৪০-৫০, চিকেন সিংগার স্টিক ৩০, আলু চপ প্রতিপিস ৫-২০, বেগুনি ও পেঁয়াজু ৫-১০, ছোলা প্রতি কেজি ২০০-২২০, প্রতিপিস শিক কাবাব ৬০, ঝালফ্রাই প্রতি কেজি ৪০০, বিফঝোল চাপ ৫৫০-৬০০ এবং ফালুদা ১৬০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি গরুর কিমা ৬০০ টাকা, গরুর মগজ ৭০০-৮০০, জাম্প রোস্ট ৪০০-৪৫০, দেশী মুরগি প্রতিপিস ২৫০, গরুর শিক কাবাব পিস ৬০ এবং খাসি কাবাব ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
আবাসিক হোটেল থেকে ১৬ তরুণ-তরুণী আটক
৬মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কিশোরগঞ্জে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ১৬ তরুণ-তরুণীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের অর্থদণ্ডের সাজা প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ১৬ জনের প্রত্যেককে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডের সাজা প্রদান করেন। দণ্ডকৃত অর্থ আদায়ের পর পরে আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।সোমবার সন্ধ্যার আগে শহরের বড়বাজার এলাকার অভিজাত আবাসিক হোটেল ক্যাসেল সালামে অভিযান চালায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আট তরুণ ও আট তরুণীকে আটক করা হয়।কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, অভিযানের সময় আটক তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আবাসিক হোটেলে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ওসি জানান।
নুসরাত হত্যা: কিলিং মিশনে অংশ নেয়াদের নিরাপত্তা দেন মামুন ও রানা
৬মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত নুসরাতের সহপাঠী ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, মাদরাসার সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সময় আসামী মামুন ও রানা মাদরাসার গেইট পাহারায় নিয়োজিত ছিল। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর তাদের পাহারায় আসামীরা পালিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জবানবন্দিতে আসামীরা ঘটনার দিন তাদের নিজ নিজ দায়িত্বের বিষয়ে উল্লেখ করেন। এর আগে গত ২ মে আসামী ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুনকে আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ২০ এপ্রিল রাঙামাটি টিঅ্যান্ডটি এলাকার একটি বাড়ি থেকে ইফতেখান হোসেন রানা ও কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে এমরান হোসেন মামুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এমরান হোসেন মামুন সোনাগাজী পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে ও ইফতেখার উদ্দিন রানা সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগিরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি। পরে তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা করেন। মামলার এজহারভুক্ত ৮ আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।
সারাদেশে নৌযান চলাচল শুরু
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আবহাওয়া ভালো হওয়ায় সারাদেশে আবারো নৌ যান চলাচল শুরু হয়েছে। তিনদিন বন্ধ থাকার পর রোববার (৫ মে) সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো ছেড়ে আসে। জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চগুলোও চলাচল শুরু হয়। এতে স্বস্তি ফিরেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের মাঝে। অন্যদিকে ৩১ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চসহ সবধরনের নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় লঞ্চের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এ রুটে ছোট-বড় ১৪টি ফেরি ও ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করছে। এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৪ শতাধিক ছোট-বড় পণ্যবাহী ট্রাক।
পানির নিচে কক্সবাজারের ৩৫ গ্রাম
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ো বৃষ্টি ও সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় তলিয়ে গেছে ৩৫টি গ্রাম। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকেই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের বড় শুটকি মহালও। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। এতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও মাঝে মাঝে প্রচণ্ড বাতাস ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার শহরের সমুদ্র তীরবর্তী উপকূল এলাকা কুতুবদিয়াপাড়া। জোয়ারের পানিতে এই এলাকা প্লাবিত হওয়ায় নৌকা যোগে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন লোকজন। শুধু এ এলাকা নয় তার পাশাপাশি প্লাবিত হয়েছে সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, ফদনারডেইল ও বাসিন্নাপাড়া। বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানালেন,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের বৃহৎ শুটকি মহলও। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ৮ উপজেলার উপকূল থেকে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ৩০টির বেশি গ্রাম জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে।
রোববার থেকে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ শুরু: বিআইডব্লিউটিএ
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীকাল রোববার (৫ মে) সারাদেশে নৌ চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবীর। শনিবার (৪ মে) ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশ অতিক্রম করার পর গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান তিনি। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়রের প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২ মে) রাত থেকেই সারাদেশের সাথে বন্ধ ছিল ঢাকার নৌ যোগাযোগ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন লাখ লাখ যাত্রী। আলমগীর কবীর জানান, ফণীর কারণে বড় কোনো দুর্যোগ না হবার আশায় রোববার সকাল ১০টা থেকেই পুনরায় সদরঘাট নৌ-বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে লঞ্চ ছেড়ে যাবে।
ফণীর প্রভাবে সারাদেশে নিহত ১৩
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চল এবং এদের পাশ্ববর্তী এলাকায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি।এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের ওড়িশায় আঘাত হেনে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে সেখানকার উপকূল এলাকা পুরী, গোপালপুরসহ বিভিন্ন জনপদ।এরপর কলকাতায় আঘাত হানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি। সেখান থেকে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হয় ফণী। তবে এরই মধ্যে এর গতি অনেকটা কমে গেছে। ওড়িশায় আঘাত হানার সময় এর গতি ছিল ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২১০ কিলোমিটার।আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে শুক্রবার রাত থেকেই ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব পড়তে থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। এরই মধ্যে পটুয়াখালী, বরগুনায় বাধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে অনেক গ্রাম।আর সারাদেশে বজ্রপাত ও ঝড়ের তাণ্ডবে ঘর চাপা পড়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ১৩ জন।এর মধ্যে নোয়াখালীতে ঘর চাপা পড়ে ১ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন অন্তত ৩০।বরগুনার পাথরঘাটায় খলিফার হাটে ঘর চাপা পরে ২ জন নিহত হয়েছেন।বাগেরহাটের থানপুরে গাছের ডাল পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার দরুণ বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জে ৬, নেত্রকোণায় ২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর