কে আমাদের খাবার দিবে? আমাদের যে আর কিছুই রইলো না
৩০জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নাছিম আহম্মেদ,টাঙ্গাইল,নিউজ একাত্তর ডট কম: কে আমাদের ওষুধ কিনে দিবে? কে আমাদের খাবার দিবে? আমাদের যে আর কিছুই রইলো না। আমাদের ছেলের লাশটা যেন তাড়াতাড়ি দেশে আনা হয় এজন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই। এই আহাজারি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের আউলাতৈল গ্রামের আল আমিনের বাবা বাবা ফরহাদ আলী ও মা খাতু বেগমের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আল আমিনের বাবা-মা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে আল আমিন ছিলেন ছোট। পাঁচ বছর আগে স্থানীয় আউলিয়াবাদ গ্রামের বাবুলের মেয়ে বিলকিসকে বিয়ে করেন তিনি। অভাবের সংসারের হাল ধরতে প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবের জেদ্দায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রথমে আল ওয়ান কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন আল আমিন। পরবর্তীতে তিন বছর আগে সেখান থেকে জেদ্দার ইয়ামামা নামের একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে যোগ দেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে জেদ্দার হাইআল সামির এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়িটিকে একটি বড় লরি ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান আল আমিন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দেশে আসার কথা ছিল তার। সরেজমিনে আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন অসুস্থ বাবা ফরহাদ আলী ও মা খাতু বেগম। ছেলেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় তাদের আহাজারি যেন কিছুতেই থামছে না। এলাকার শত শত নারী পুরুষ ছুটে এসেছেন তাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য। আল আমিনের স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে তার সাথে আমার শেষ কথা হয়। পরে বিকালেই তার মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। আমাদের কোনও সন্তান নেই এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আল আমিন অনেক ভালো ছেলে ছিল। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। সরকার যেন এ পরিবারটির দিকে নজর দেন। আর তার লাশটি যেন দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।
গোপালগঞ্জে ইউপি সদস্যের গুলিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত
৩০জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আব্দুল লতিফ,নিউজ একাত্তর ডট কম: গোপালগঞ্জে সাবেক এক ইউপি সদস্যের গুলিতে রনি হাওলাদার (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বনগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় দু-পক্ষের সংঘর্ষের সময় রনি নিহত হয়। নিহত রনি ওই এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে। আগামি ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় বলাকইড় আজাহারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার অংশ নেয়ার কথা ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় শেখ বংশের নতুন শেখকে ৪ থেকে দিন আগে মোল্লা বংশের রহিম মোল্লা ও ভুলু মোল্লা মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে নতুন শেখ রহিম মোল্লাকে মারধর করলে দুই বংশের লোকজন দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সাবেক ইউপি মেম্বার আজিজুর শেখ গুলি ছুড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রনি হাওলাদার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মোল্লা বংশের ইউসুফ মোল্লা ও সাবেক ইউপি মেম্বার শেখ বংশের আজিজুর শেখের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ৪ থেকে ৫ দিন আগে শেখ বংশের নতুন শেখকে মোল্লা বংশের রহিম মোল্লা ও ভুলু মোল্লা মারপিট করে। এ ঘটনার জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নতুন শেখ রহিম মোল্লাকে মারধর করে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংষর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় সময় করপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আজিজুর শেখ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে রনি হাওলাদার ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মামলাবাজ সিন্ডিকেটের ভুয়া মামলায় বিপাকে সাধারণ মানুষ
২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। রোববার (২৬ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে মানববন্ধন করেছেন। হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির। হয়রানিমূলক মামলা থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী পরিবারের এই মানববন্ধন। উচ্চ আদালতে এমন প্রতিবাদ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ভুক্তভোগী কয়েকজনের দাবি, মামলাবাজ সিন্ডিকেটকে কয়েক লাখ টাকা দিয়েও এই চক্র থেকে মুক্তি মেলেনি। তাই সর্বোচ্চ আদালতে এই প্রতিবাদ। তারা বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে কোর্টে বিভিন্ন মামলা দেয়া হচ্ছে। বাদী সাক্ষীকে চেনে না, সাক্ষী বাদীকে চেনেনা। অনেকে বলেন, এই লোকটাকে টাকা দিয়ে ৫ বছরের জন্য কিনে নিলাম। যত মামলা হবে, ৫ বছর সে জেল খাটবে। প্যাকেজ সিস্টেমে টাকা দিয়ে মানুষ কিনে নেয়। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা বিচার চাই। আমাদের বাবাকে আমরা বাঁচাতে চাই। আইনজীবীরা বলছেন, মামলার তদন্ত ঠিকমত হলে এবং বিচারক আরো সচেতন হলে দৌরাত্ম কমবে মামলাবাজ সিন্ডিকেটের। অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে বলেন, মামলা নিয়ে সন্দেহ থাকলে পুলিশের উচিত মামলা গ্রহণের আগেই প্রাথমিক একটি তদন্ত করা। তদন্তের পর মামলা গ্রহণ করা উচিত। কোর্টেও পিটিশন মামলা হলে প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা নেয়া উচিত। এ বিষয়ে বিচারবিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।somoynews.tv ।
কুতুববাগ পীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে। চেক জালিয়াতি মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে বন্দরের এক ব্যবসায়ীর দায়েরকৃত মামলায় নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক-অঞ্চল) আদালত রোববার এ পরোয়ানা জারি করেন। পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মো. ফজর আলী। এদিকে পরোয়ানা জারির খবর ছড়িয়ে পড়ায় গত দুইদিন ধরে শহর ও বন্দর এলাকায় তোলপাড় চলছে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, পারস্পরিক সুসম্পর্কের সুবাদে এক সঙ্গে ব্যবসা করার লক্ষ্যে পীর জাকির শাহ ব্যবসায়ী মো. ফজর আলীকে ৮ কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালের ১১ই র্ফেরুয়ারি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ৮ কোটি টাকা দেয়ার বিপরীতে ব্যবসায়ী মো. ফজর আলীর কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা এবং ৬টি চেক গ্রহণ করেন জাকির শাহ। কিন্তু ব্যবসায়ী মো. ফজর আলী ৮ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও চেক দিলেও তার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে পীর জাকির শাহ তাকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রদান করে। পরবর্তীকালে পীর জাকির শাহ জানিয়ে দেন আর কোনো টাকা দিতে পারবেন না তিনি। এরপর ব্যবসায়ী ফজর আলী ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে দেন জাকির শাহকে। ওই সময় স্ট্যাম্প ও ৩টি চেক পীর জাকির শাহ ফেরত দিলেও বাকি ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়ে দেন ব্যবসায়ী ফজর আলীকে। ওই সময়ে স্ট্যাম্পের পেছনে চেক নম্বর উল্লেখ করে হারানো ৩টি চেক বাবদ কোনো দাবি-দাওয়া নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন জাকির শাহ। পরবর্তীকালে খুঁজে পেলে ফেরত দেবেন বলে অঙ্গীকারও করেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর ব্যবসায়ী ফজর আলী জানতে পারেন- ওই চেক হারানো যায়নি এবং এগুলো নিয়ে পীর জাকির শাহ টাকা দাবি করার ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ২০১৯ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী ফজর আলী নিজ বাড়িতে দাওয়াত দেন পীর জাকির শাহ এবং সহযোগি ইসমাইল হোসেন বাবুকে। এ সময় চেক ফেরতের বিষয়ে কথা বললে পীর জাকির শাহ ও সহযোগি বাবু ৫ কোটি টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ই জানুয়ারি ব্যবসায়ী ফজর আলী বাদী হয়ে কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহ ও তার সহযোগি ইসমাইল হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ২৬শে জানুয়ারি (রোববার) আদালত পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ভুক্তভোগী মামলার বাদী ব্যবসায়ী ফজর আলী জানান, একজন পীর হিসেবে আমি তাকে যথেষ্ট বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করতাম। সরল বিশ্বাসে আমি কোনো টাকা না পেয়েই ৮ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও চেক ওনাকে দিয়েছি। পরে উনি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি আর দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। তখন এই টাকায় ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে টাকা ফেরত দিয়ে দেয়া হয়। তিনি আমাকে স্ট্যাম্প ও ৩ কোটি টাকার ৩টি চেক ফেরত দিয়ে বাকি ৫ কোটি টাকার ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়ে দেন। বন্দর এলাকায় অবস্থিত কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় গত দুদিন ধরে শহর ও বন্দর এলাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।মানবজমিন ।
মৌলভীবাজারে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ জন নিহত
২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আমিনুল ইসলাম,মৌলভীবাজার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রাহমান রোডে পিংকি সু স্টোরে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পরিমল দেব জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একটি পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিমাণ জানা যায়নি বলে জানান ওসি পরিমল দেব। স্থানীয়রা জানান, সুভাষ রায় নামে এক ব্যক্তি দোকানটি পরিচালনা করতেন; তার বাসাও ছিল দোকান লাগোয়া। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। আগুনে দোকান ও বাসা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। পরে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। মৌলভীবাজার ফায়ার স্টেশনের ম্যানেজার জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। সদর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজারে সিএনজি-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত ৪
২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আমিনুল ইসলাম,মৌলভীবাজার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার বাউরভাগ এলাকায় কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোজাহিদুর রহমান (৩৫) ও পাবনা জেলার ইশ্বরদী গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৫)। আহতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার উত্তর কুশিপাড়া গ্রামের মৃত মছদ্দির মিয়ার ছেলে শাহানুর রহমান (৩০), সদর উপজেলার দুগর গ্রামের মৃত রাজেন্দ্র সূত্র ধরের ছেলে নগেন্দ্র সূত্র ধর (৫০) ও একই গ্রামের মৃত হামিদ মিয়ার ছেলে মো. আরমান মিয়া (৩৬)। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. শাহীন আহম্মদ নিউজ একাত্তরকে জানান, শেরপুর থেকে একটি সিএনজি যাত্রী নিয়ে মৌলভীবাজারের দিকে আসছিল। পথে বাউরভাগ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা যাত্রী মুজাহিদুর রহমান মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আল আমিন নামের আরও একজন মারা যান।
হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিলেট
২৭জানুয়ারী,সোমবার,মাহাতাব উদ্দিন,সিলেট,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিলেটে হঠাৎ করে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪. ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুপুর সোয়া ২টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতরের সিলেট কার্যালয় থেকে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঢাকা আবহাওয়া অফিসের ইলেকট্রিক্যাল সহকারী মো. হানিফ জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সিলেট সদর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তরে গোয়াইনঘাট উপজেলা। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিকটার স্কেলে ৪ দশমিক ১। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আতঙ্কে মানুষ বাসাবাড়ি ও মার্কেট থেকে দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পে নগরের কয়েকটি বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দোহার-নবাবগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাসের যাত্রা শুরু
২৬জানুয়ারী,রবিবার,আলিয়া জান্নাত,নবাবগঞ্জ.নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকার দোহার-শ্রীনগর হয়ে ঢাকা ও বান্দুরা-নবাবগঞ্জ-ঢাকা সড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সরকারি পরিবহণ সংস্থা-বিআরটিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে প্রথমে দোহারের করম আলীর মোড়ে ও বিকেলে নবাবগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সার্ভিসটি দোহারের করম আলী মোড় থেকে শ্রীনগর হয়ে ও নবাবগঞ্জের বান্দুরা থেকে কেরানীগঞ্জ হয়ে ঢাকার ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত চলাচল করবে। এরআগে একাধিকবার বান্দুরা-ঢাকা সড়কে বিআরটিসি বাস সার্ভিস শুরু হলেও অন্য পরিবহনগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। তবে এবার এ ধরনের সুযোগ নেই বলে জানান সালমান এফ রহমান এমপি। উদ্বোধনকালে সালমান এফ রহমান বলেন, বিআরটিসি বাস সরকারি সম্পদ। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জনগণের। এ নিয়ে সড়কে যেন কোনও নৈরাজ্যের সৃষ্টি না হয়, বদনাম না হয়, এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে। বিআরটিসি বাস চলাচলের ক্ষেত্রে কেউ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করলে জিরো ট্রলারেন্স দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন সচিব মো. সাইদুর রহমান, ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহম্মদ নুর আলী, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
টানা ৫ দিনের শৈত্যপ্রবাহে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত
২৫জানুয়ারী,শনিবার,আল মুসা,কুড়িগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: টানা পাঁচ দিন থেকে কুড়িগ্রামে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। এই শৈত্য প্রবাহে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা গেল কয়েক দিনের চেয়ে আজ কিছুটা বাড়লেও উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা কমেনি উত্তরের এই জনপদে। গতকাল শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। এর আগে ২১ জানুয়ারি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ২২ জানুয়ারি তা কমে দাড়ায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২৩ জানুয়ারি রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নদীপাড় এবং চরাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। এছাড়াও ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ এবং শিশু ও বৃদ্ধরাও। ১৬টি নদ-নদীর এ জেলায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমারসহ ৩১৬ দৈর্ঘ্য কিলোমিটার নদী পথে ৫২০টি চর-দ্বীপচর প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিবছরই শীতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয় চরাঞ্চলবাসী। এবারও শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এসব মানুষ। শীতের সময় কাজ কমে যাওয়ায় কম মজুরিতে শ্রম বিক্রি করতে হয় চরাঞ্চলের শ্রমজীবীদের। কম আয়ে সংসার চালানোই দায় সেখানে শীতবস্ত্র ক্রয় যেন তাদের কাছে অধরা স্বপ্ন। তাই তীব্র এই ঠাণ্ডাতে পুরাতন কাপড়েই ভরসা তাদের। সন্ধ্যার পরপরই চরাঞ্চলে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। শীতের কারণে কোনও রকমে সন্ধ্যায় খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায় এসব এলাকার মানুষ। সামান্য শীতের কাপরে কোনও রকমে রাত পাড় করে ভোরে উঠেই বেড়িয়ে পড়তে হয় কাজের সন্ধানে। পরিবারের মহিলা, শিশু এবং বৃদ্ধরা একটু উষ্ণতা পেতে রোদের অপেক্ষায় থাকে অথবা খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে। শীতে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি অভিযোগ রয়েছে চরবাসীদের। জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার চরশৌলমারী, ধনীরামপুর, কৃঞ্চপুর, বালাবাড়ি, নারায়নপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ জানান, এবার শীতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। গেল বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাড়িঘর ভালো করে ঠিকঠাক না করায় রাতে হিমেল বাতাস ঢুকে পড়ে। ফলে প্রতিরাতে তাদের শীতের সঙে যুদ্ধ করে কাটাতে হয়। তরির হাট এলাকা সোবাহান মিয় জানায়, বন্যায় ভাঙা ঘর এখনো ঠিক করতে পারে নাই। প্রতি রাতে বেড়ার ফাঁক গলিয়ে ঠাণ্ডা প্রবেশ করে তাই কষ্টে পরিবার পরিজনদের নিয়ে রাত পার করতে হয়।

সারা দেশ পাতার আরো খবর