শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯
রাঙামাটিতে গুলি করে মা-মেয়েকে হত্যা
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাঙামাটিতে উপজাতীয় বৃদ্ধ মা ও মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। সোমবার গভীররাতে জেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন রাইখালী ইউনিয়নের গবাছড়ার আগাপাড়া এলাকায় এই হত্যাকা- ঘটে। রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ৩০ বছর বয়সী পাহাড়ি নারী ও তার বৃদ্ধ মাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। নিহতরা হলেন, কং সু ইউ মারমার স্ত্রী ম্রা সাং খই মারমা (৬০) ও তার মেয়ে মে সাংনু মারমা (২৯)। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এবং চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি টিম নিহতদের লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থল গবাছড়ার আগা পাড়ার হ্লাম্রাউয়ের বাড়ি নামক এলাকাটিতে গেছে। স্থানীয় একটি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নিহত মা-মেয়ে উভয়ের স্বামী ইতিপূর্বে মারমা লিবারেশন পার্টি এমএলটির সক্রিয় সদস্য ছিলো। সম্প্রতি তারা সেই দল ত্যাগ করে পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমএলটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করে চলে যায়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ দুজনের ফাঁসি
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সফিবাদ গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শাহনাজা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মঞ্জিল মিজি ও তার বন্ধু মো. মিজানুর রহমানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আকেইসঙ্গে উভয়কে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আজ দুপুরে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান এই রায় দেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর গভীররাতে শাহনাজ বেগমকে তার স্বামী মঞ্জিল ও বন্ধু মিজান গলাচেপে করে হত্যা করে। এই ঘটনায় ওই দিন শাহনাজ এর পিতা মো. শাহ্ আলম কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নিজাম উদ্দিন ২০১২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি আসামীদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ জানান, দীর্ঘ ৮ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে। আদালত স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামীদের মৃত্যুদন্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
এবার ছেলের আত্মা যদি একটু শান্তি পায় : রিফাতের বাবা
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার শিকার রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। তিনি বলেছেন, বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার খবর শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। দুলাল শরীফ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত দিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, যার নির্দেশে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরই প্রশাসন তৎপর হয়েছে। তারা রাত-দিন কাজ করে আসামিদের ধরেছে। গত রাতে নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, এতে আমার ছেলের আত্মা যদি একটু শান্তি পায় বলেই কেঁদে ফেলেন তিনি। দুলাল শরীফ আরও বলেন, মিডিয়া কর্মীদের আমি ধন্যবাদ জানাই। তাদের প্রচার আসামিদের ধরতে সহায়তা করেছে। এই আসামিরা কারা, তারা কাদের ছত্রছায়ায় চলে এটা গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্ত করে বের করে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালায় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির একপর্যায়ে নয়ন বন্ড বাহিনী পিছু হটলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুটি শর্টগানের গুলির খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।- আলোকিত বাংলাদেশ
সারা দেশে ভারী বর্ষণের আভাস
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝড়ো হাওয়া। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে সারা দেশে মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মৌসুমি লঘুচাপটি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশ হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাংশে এবং দেশের অন্যত্রও মোটামুটি সক্রিয়। এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল বরগুনা
২৯জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে বরগুনাবাসী। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ এর ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বরগুনা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে নানা শ্রেণি-পেশার তিন সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রইসুল আলম রিপন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দীন সাবু, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জুবায়ের আদনান অনিক প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটসের কাউন্সিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস এন্ড জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষ্যে ২৪ জুন সংস্থার দিলকুশাস্থ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এডভোকেট আব্দুস সাত্তারের সঞ্চালনায় সংস্থার কাউন্সিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা মেজর (অবঃ) মোমিনুল ইসলাম, সভায় আগামী ২১শে ডিসেম্বর ২০১৯ পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কাউন্সিলকে সুন্দর ও অর্থবহ করার জন্য সংস্থার সকল সদস্যদেরকে এখন থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী কাউন্সিলে দেশের সকল জেলা ও মহানগর কমিটির চেয়ারম্যান, মহাসচিবদেরকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান দেশের সকল জেলা ও মহানগর কমিটির চেয়ারম্যান, মহাসচিব মনোনীত করার বা অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে সংস্থার সকলে একমত পোষণ করেন। উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুছ ছামাদ আজাদ, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যাংকার মোছাম্মৎ ফারজানা বেগম সুরাইয়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা প্রফেসর সুজন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাংবাদিক আব্দুল হাকিম, যুগ্ম মহাসচিব সাবেক কাউন্সিলর (ঢাকা) ফাতেমা বেগম, অর্থ সচিব ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোছলেম উদ্দিন, সমাজ কল্যান সচিব-ইসলামি ফাউন্ডেশনের সাবেক সচিব মোঃ জহিরুদ্দিন, আইন বিষয়ক সচিব, এডভোকেট জানে আলম, ক্রীড়া সচিব লাখী আক্তার, মহিলা বিষয়ক সচিব এডভোকেট মাধবী রানি দাস, নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক রুহুল আমিন, সাংবাদিক জয়শ্রী দে, সাংবাদিক মোঃ হান্নান, সাংবাদিক আলমগীর প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
রিফাতের শ্বশুরকে মর্গ থেকে বের করে দিল বন্ধুরা
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বামী শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফের (২৫) মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের জামাইয়ের মরদেহ আনতে মর্গে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন নিহত রিফাতের শ্বশুর মোজ্জাম্মেল হোসেন। এ সময় মোজ্জাম্মেল হোসেনকে হাসপাতালের মর্গ থেকে বের করে দেন রিফাতের বন্ধুরা। বৃহস্পতিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রিফাত শরীফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪০মিনিট পর্যন্ত রিফাতের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক জামিল হোসেনের নেতৃত্বে ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক চিকিৎসক মাইদুল হোসেন ও ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক চিকিৎসক তন্নী নিহত রিফাতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক জামিল হোসেন বলেন, রিফাত শরীফের শরীরে মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে। তার গলায়, মাথায়, বুকের ওপর তিনটি বড় ক্ষত রয়েছে। তার গলার রগ কেটে গেছে। গলার রগ কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভারী অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত করা হয়েছে। তার ডান হাত এবং বাম হাতে দুটি বড় ক্ষত রয়েছে। রিফাতের শরীরে সাত থেকে আটটি বড় আঘাত রয়েছে। যেসব আঘাতে বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে রিফাত মারা যায়। এদিকে, মেয়ের জামাইয়ের মরদেহ আনতে মর্গে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন নিহত রিফাতের শ্বশুর মোজ্জাম্মেল হোসেন। এ সময় মোজ্জাম্মেল হোসেনকে হাসপাতালের মর্গ থেকে বের করে দেন রিফাতের বন্ধুরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মর্গের সামনে আসেন রিফাতের শ্বশুর মোজ্জাম্মেল হোসেন। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। কয়েকজন সাংবাদিক তার কাছে জামাই রিফাত হত্যার কারণ জানতে চান। তখন তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান এটি নারীঘটিত ঘটনা হলেও আমার মেয়ের সঙ্গে খুনিদের কোনো পরিচয় ছিল না। আমার মেয়েকে খুনিরা উত্ত্যক্ত করতো। জামাই এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল বলেই তাকে খুন করা হয়েছে। এ সময় রিফাতের কয়েকজন বন্ধু মোজ্জাম্মেল হোসেনের ওপর চড়াও হন। সেই সঙ্গে মোজ্জাম্মেল হোসেনকে মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন রিফাতের বন্ধুরা। এ সময় রিফাতের কয়েকজন বন্ধু মোজ্জাম্মেল হোসেনের দিতে তেড়ে যান। এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন, বিল্লাল হোসেন, নাজমুলসহ কয়েজনজন জানান, মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের মিথ্যা বলছেন। তার মেয়ের সঙ্গে খুনিদের পরিচয় ছিল। বিষয়টি আমরা আগে থেকেই জানতাম। নয়নের সঙ্গে মিন্নির আগে থেকে সম্পর্ক আছে, সেটিও আড়াল করেছেন মিন্নির বাবা। এসব বিষয় তদন্ত করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। মিন্নির বাবা সবই জানেন এবং মিন্নিও অনেক বিষয় জানেন।
রিফাতের খুনির সঙ্গে স্ত্রীর ছবি ভাইরাল
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: গতকাল বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে খুন হন রিফাত নামের এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সেই খুনের ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপনে লড়ে যাচ্ছেন স্ত্রী। আজ (বৃহস্পতিবার) ফেসবুকে আরেকটি স্থিরচিত্র ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, রিফাতের খুনী নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী দাঁড়ালো। তার হাতে ফুল, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য আরেকজন যুবক রিফাতের স্ত্রীকে মিস্টি খাইয়ে দিচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যাকরীদের মধ্যে অন্যতম একজন রিফাত ফরাজী (২৫)। বরগুনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে তিনি। নিহত রিফাতের পরিবার জানায়, স্ত্রীর সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে পুলিশ লাইন্স সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নামের এক মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন নামে এক যুবক মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকে। সেই সঙ্গে রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে নয়নের পরকীয়া সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করে নয়ন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নয়নকে নিষেধ করে রিফাত। এরপরও শোনেনি নয়ন। এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করে রিফাত। সেই জেরেই তাকে খুন করা হয়। রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন বলেন, পরকীয়ার জেরে একবার রিফাত শরীফকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছিল নয়ন বন্ড। মঞ্জুরুল আলম জন আরও বলেন, বুধবার সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়নসহ কয়েকজন রিফাতের ওপর হামলা চালায়। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নয়ন ও তার সহযোগীরা। রিফাতের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড ও তার প্রতিবেশী দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী এবং রাব্বি আকন আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। আমার সামনে ওই সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি শত চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করবে পুলিশ।- আলোকিত বাংলাদেশ
স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রীর উপস্থিতিতেই স্বামী রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম চন্দন। তিনি মামলার চার নম্বর আসামি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন রিফাত জানান, প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। এদের মধ্যে চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে নয়নের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রিফাতকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এক পর্যায়ে গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রিফাত মারা যান। বর্তমানে রিফাতের মরদেহ বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।-আলোকিত বাংলাদেশ