সোনার বারসহ যাত্রী আটক
অনলাইন ডেস্ক :চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে ১৩৬টি সোনার বার জব্দ হয়েছে। আটক করা হয়েছে ওই যাত্রীকে। তার নাম জামাল আহমেদ। রোববার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জামাল সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসেন। তার বাড়ি হাটহাজারি উপজেলায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আজ সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে একটি উড়োজাহাজে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সন্দেহ হলে উড়োজাহাজের জামাল আহমেদ নামের ওই যাত্রীকে তল্লাশি করা হয়। তার ব্যাগ থেকে ১৩৫টি ও মোবাইলের ভেতর থেকে সোনার একটি বার উদ্ধার করা হয়। এসব সোনার ওজন ১৫ কেজি ৯১২ গ্রাম।
শিবির সন্দেহে আটক করে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ
অনলাইন ডেস্ক :চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা মোড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সরকার দলীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা চোখ রাখছে এদিক-সেদিক। সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করছেন পরিচয়। মোবাইলের ফেসবুক মেসেঞ্জার ঘেঁটে দেখছেন সরকারবিরোধী কোনো গ্রুপে সংযুক্ত আছে কী-না। থাকলে ধরে পুলিশে সোপর্দ করছেন তারা। রোববার (০৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিবির সন্দেহে এরকম ৫ জনকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তারা। শিবির সন্দেহে আটক ২, ওয়াসার মোড়ে ছাত্রলীগ শুধু ছাত্রলীগ নয়, মোবাইল ঘেঁটে সরকার বিরোধী কী-না তা যাচাই করতে দেখা গেছে খোদ পুলিশকেও। বেলা ১১টা, ওয়াসা মোড়ের একপাশে সন্দেজনক ঘোরাঘুরি করছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইআইইউসি) ছাত্র মো. সিফাত। সন্দেহ হলে তার মোবাইল চেক করেন নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা দেখতে পান, ফেসবুক মেসেঞ্জারে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে একটি গ্রুপে তিনি সংযুক্ত আছেন। ওয়াসার মোড়ে শিবির সন্দেহে আটক করে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ। ছবি: সোহেল সরওয়ারগিয়াস নামে এক ছাত্রলীগ তার মেসেঞ্জার ঘেঁটে দাবি করেন, তিনি শিবিরের কর্মী। পরে তাকে হালকা মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশও এসময় তার মোবাইল চেক করে জিজ্ঞেসবাদের জন্য থানায় পাঠান। এর ২০ মিনিট পর মোবাইল চেক করে আরও একজনকে শিবির সন্দেহে পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ। দুপুর ১টা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিবির সন্দেহে এরকম ৫ ছাত্রকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ ও কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন। সূত্র :বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রুখে দিতে অঘোষিত গণ পরিবহন ধর্মঘটে ক্যাবের উদ্বেগ, দ্রুত প্
নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা অঘোষিতভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলনের সাথে সাধারণ মানুষের জীবনে যোগ হলো আরেক ভোগান্তি। ২৯ জুলাই ঢাকায় বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স চেক এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়নের চেষ্টা করে। এসময় অধিকাংশ গাড়ির চালকদের কাছে বৈধ লাইলেন্স পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা এইসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশদের বাধ্য করেন। ট্রাফিক আইন প্রয়োগে বাধ্য হওয়ায় গাড়ি এবং নিজেদের নিরাপত্তার কাল্পনিক কারন দেখিয়ে শহর এলাকাসহ দূরপাল্লার গাড়িও বন্ধ করে দেয় চালক-মালিকরা। তবে কিছু সংখ্যক টেম্পো, হিউম্যান হলার, সিএনজি চলতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অঘোষিত ধর্মঘট আহবান, যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে কর্মজীবী মানুষসহ নানা শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ ও বয়স্করা। এ অবস্থায় সাধারন জনগনকে জিম্মি করে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়নে দেশের আপামর জনসাধারনের প্রাণের দাবিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য অঘোষিত গণপরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা, অনতিবিলম্বে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়ন, ভোগান্তি ও হয়রানি লাগবের দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিভ্রান্ত করার জন্য কৃত্রিমভাবে পরিবহন সংকট তৈরী করে জনদুর্ভোগ সৃষ্ঠি করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রুখে দিতে মালিক শ্রমিক পরিবহন গ্রুপের অপতৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন প্রায় ছয়দিন পেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দাবি সরকার ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জাতির সুপ্ত বিবেককে জাগ্রত করেছেন। সেকারনে জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে কিছু রাজনৈতিক উচ্চ বিলাশী নেতা-কর্মীরা সাধারন শির্ক্ষাথীদের সামাজিক আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারে নানা অপকর্ম, গুজব ছড়াছে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। কারন রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমানে সাধারন জনগনের সমস্যা, ভোগান্তির নিয়ে আন্দোলনের চেয়ে কিভাবে নিজেরা ক্ষমতায় আরোহন ও থাকতে পারবে সেটাই মুখ্য হয়ে আছে, সেখানে সাধারন জনগনের স্বার্থ তাদের কাছে গৌণ। যার জলন্ত প্রমান দেশব্যাপী সাধারন শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গণপরিবহনে শৃংখলা আনায়নে প্রধান বাধা গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিক গ্রুপ যারা কোন আইন ও নিয়মনীতি তোয়াক্তা করতে চান না। যার কারনে দেশব্যাপী যতবারই গণপরিবহন নিয়ে সভা সেমিনার ও আলোচনা করা হয় ততবারই তাদের নিজেদের মধ্যে আন্তঃকোন্দল, দলাদলি ও শক্তি প্রয়োগে তা ফলপ্রসু হতে দেয়নি। যার কারনে প্রশাসন বারবার গণপরিবহনে শঙ্খলা আনতে উদ্যোগ নিলেও মালিক-শ্রমিকদের প্রভাব, শক্তি প্রয়োগ, জনগনকে জিম্মি করে অবৈধ ঘর্মঘট আহবান করে কোন উদ্যোগ সফল হতে দেয় না। যার ফলে শুধুমাত্র ফিটনেসবিহীন গাড়ী নয়, ২০-৩০ বছরের বেশী লক্কর যক্ক্র গাড়ী ছাড়া চলাচলের বিকল্প কোন উপায় নাই। ফিটনেস, লাইসেন্স সবকিছুই যেন টোকেনে চলে। গাড়ীগুলি অবৈধ ও ফিটনেস না থাকার কারনে একশ্রেণীর পুলিশকে চাঁদা দিয়েই গাড়ী চালাতে হচ্ছে। আর ভোক্তাদের পকেট থেকে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির চাঁদার পুরো অংশই যাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ প্রশাসন রেগুলেটরী কর্তৃপক্ষ হিসাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু বিআরটিএ এর আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিতে পরিবহন মালিক- শ্রমিক ও প্রশাসনের দ্বিপাক্ষিক ও বৈঠকগুলো অনেকটাই দেনদরবারের আলোচনা ছাড়া কিছু হচ্ছে না। ফলে প্রশাসন কার্যত আইনের প্রয়োগ ঘটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। আর আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি বা গণপরিবহন সংক্রান্ত যাবতীয় নীতি নির্ধারনীতে ভোক্তাদের কোন অংশগ্রহনের সুযোগ নাই। তাই গণপবিহনে শৃংখলা আনায়ন ও নৈরাজ্য বন্ধে যে কোন আলোচনায় পরিবহন মালিক গ্রুপ ও শ্রমিকদের পাশাপাশি ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে জনস্বার্থ উপেক্ষিত থেকে যাবে। অন্যদিকে গণপরিবহনে অনিয়ম, শৃংখলা আনতে নাগরিক পরীবিক্ষন জোরদার, নাগরিক নজরদারি বাড়ানো দরকার। তাই সে বিষয়ে সরকারকে আশু ব্যবস্থা নিতে হবে। বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুেপর সভাপতি চৌধুরী কে এনএম রিয়াদ প্রমুখ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় ড. সেকান্দর চৌধুরী, রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জাতির অস্ত
বোয়ালখালী কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে এক আলোচনা, কবিতা পাঠ, সংগীত, গীতা আলেখ্য অনুষ্ঠান গত ৪ আগস্ট সকাল ১১টায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শফিউল আজম শেফুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো সেকান্দর চৌধুরী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল কান্তি দাশ ও শুভাশীষ নাথের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মিলন দাশগুপ্ত, বিশিষ্ট ভাস্কর ডি কে. দাশ মামুন, শিক্ষাবিদ অলক দাশগুপ্ত, পরিতোষ চৌধুরী, দীপক চৌধুরী, ভানুভূষণ চৌধুরী, সন্তোষ চৌধুরী, ইলিয়াছ সিকদার, মোঃ মহিউদ্দীন, জি.এম. সোহেল, দিদারুল আলম রিপন, শিক্ষক উবাইদুল হক, অমরনাথ চক্রবর্তী, দেবী দত্ত, তনুশ্রী বিশ্বাস, মিজানুর রহমান, প্রকাশ ঘোষ, কধুরখীল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ মহিউদ্দীন, বোয়ালখালী উপজেলা কৃষকলীগের সদস্য মোঃ ফরিদ, কধুরখীল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক, বিদ্যালয় কমিটির সদস্য জমিউল হুদা সোহেল, চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের সদস্য সচিব আসিফ ইকবাল, দক্ষিণজেলা ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক দিদারুল আলম রিপন, কধুরখীল ইউনিয়ন যুবলীগনেতা মোঃ সুমন, মোঃ এমদাদ, মোঃ ফরিদ, মোঃ ফরহাদ, মোঃ মনির, কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ ছাত্রলীগনেতা কামরুল হাসান রিফাত। গীতা আলেখ্যে অংশগ্রহণ করেন তুলি, বৃষ্টি, ফাইরিন, সাদিয়া, নাজমা, মুমু, তনুশ্রী, টিসা, পূর্ণা, অর্পিতা, মিতু, ইসমত, অর্পা। অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল কান্তি দাশ। মানবিকতাবোধ, সাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতি শ্রেণী সংগ্রাম, মানবমুক্তির চেতনা নিহিত এই তিন কবির কবিত্বে। প্রফেসর ড. সেকান্দর আরো বলেন রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত এ তিন কবি বাংলা সাহিত্যে কেবল ঐতিহ্য হিসেবে নয় ভবিষ্যতের পথ প্রদর্শক হিসেবেও বরণীয়। শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে শুদ্ধ চেতনা ধারণ করে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে গড়ে তোলার আহবান জানান শিক্ষার্থীদের। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও দেশ প্রেমের শিক্ষা নিয়ে আলোকিত মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনার সভার শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, বঙ্গবন্ধু- জাতির পিতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান
চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্রলীগ পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক স্মরণালোচনা সভা পরিষদের সভাপতি ও বিএমএ এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা: শেখ শফিউল আজমের সভাপতিত্বে গত ৪ আগস্ট বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক অলিদ চৌধুরী ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আনজুমান আরার পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ সরফরাজ খান বাবুল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর শহীদুল আলম, পরিষদের সহ সভাপতি ও দক্ষিণজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা শামীমা হারুন লুবনা, সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম চৌধুরী, নিবেন্দু বিকাশ চৌধুরী, পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক লিয়াকত আলী খান, সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, মহিম উদ্দীন মহিম, সৈয়দ দিদার আশরাফী, এম.হামিদ হোসাইন, এম. এসকান্দর আলী, অধ্যাপিকা নিশাত হাসিনা শিরিন প্রাণেশ বড়ুয়া, আসিফ ইকবাল, আবদুর রহমান, এম. আনোয়ার আজম, আবদুল হালিম, রুমকি সেনগুপ্তা, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, জানে আলম, দক্ষিণজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস.এম. বোরহান উদ্দীন, শাহজাহান শেলী, আ.ম হেদায়ত হোসাইন সোহেল, আবদুল মোনাফ, এস.এম. কাদের প্রমুখ। কুরআন তেলওয়াত করেন সৈয়দ আবদুল খালেক। বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন অধ্যাপিকা নিশাত হাসিনা শিরিন ও জসিম উদ্দীন চৌধুরী। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব আ. জ. নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু- জাতির পিতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান স্থপতি ও বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারি। হাজার বছরের বাঙালি জাতির আরাধনার ধন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এ জনপদে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই বাঙালিরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছে। এ স্বাধীনতাকে যারা ব্যর্থ করতে চায় তারা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ভিশন ২০২১-২০৪১ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে সতের শতাব্দীর মীর জাফরের কারণে যে স্বাধীনতা অস্তমিত হয়েছিল সেই স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফিরে ফেলেও উনবিংশ শতাব্দীর মীর জাফরের উত্তরসূরি উনবিংশ শতাব্দীর মীর জাফর জিয়া খন্দকার মোশতাক ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার বিলুপ্তি ঘটাতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। আজ প্রমাণিত হয়েছে জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব অনেক শক্তিশালী। বাঙালি জাতির হৃদয়ের মুজিবকে মুছে ফেলার ক্ষমতা কারো নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু মুজিবের স্বপ্ন পূরণ হবে। বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে মর্যাদাশীল ও উন্নত দেশ গঠনে জাতীয় শোককে শক্তিতে রূপান্তরিতকরতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রধান বক্তা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একটি নাম যার তুলনা শুধুই তিনি। বাঙালি জাতি ও জাতীযতাবাদের উন্মেষের পর থেকে বাঙালিরা শাসিত, শোষিত, নির্যাতিত ও নিষ্পেশিত হয়ে আসছিল, হাজার হাজার বিপ্লবী সৃষ্টি হলেও বাঙালির স্বাধীনতা ও আত্ম পরিচয়ে স্বীকৃতি কেউ এনে দিতে পারেনি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বাঙালিরা সামনের কাতারে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও স্বাধীনতা পায়নি। বরং পাকিস্তানের অধীনস্থ একটি কলোনী রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে পেরেছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে এ জাতিকে উদ্ধারে সঠিক সময়ে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে জনগণেকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিল বলেই তারই নেতৃত্ব আমরা বাঙালিরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলাম এ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার অব্যাগত প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থারেখে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে অগ্রণি ভূমিকা পালন করতে হবে জাতীয় শোক দিবসে এটা শোক আমাদের শপথ। সভাপতির বক্তব্যে ডা: শেখ শফিউল আজম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়া বিপ্লবের মহান নেতা ভøাদিমি ইলিচ লেলিনের বিপ্লবী চেতনা আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী ‘লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্থানের শামন ও শোষনের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে সঠিক কর্মসূচী দিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন বলে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন ত্রিশলক্ষ শহীদের আত্মদানকে সম্মান করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের যোগার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ আত্মনিভরশীলতা লাভ করতে সক্ষম, হবে এজন্য প্রতিটি নাগরিকে শেখ হামিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থাকতে হবে, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্য বদ্ধ থেকে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। এটায় থেকে শোক দিবসের এ মাসের শপথ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সাতকানিয়া সতি পাড়ায় মতবিনিময় সভায় ড. আবু রেজা নদভী এমপি, ধর্মের নামে উচ্ছৃঙ্খল ও উগ্র জীবন পরিহার
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়েছে, দেশে চলমান মেগা প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করতে এবং সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ মুক্ত দেশ গড়তে, দেশের চলমান উন্নয়ন ধরে রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে জয়যুক্ত করার কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে চার বছর ধরে সাতকানিয়া লোহাগাড়াবাসীর কল্যাণে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়েছি। নির্বাচনের পূর্বে জনগণের কাছে দেয়া অধিকাংশ অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা পূরণের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরেন এবং আগামী নির্বাচনে এলাকাবাসী উন্নয়নের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় চলমান ব্যাপক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট থাকবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আওয়ামীলীগ সরকারকে দেশের ইসলামের প্রকৃত সেবক উল্লেখ করে প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভী এমপি বলেন, ইসলাম ধর্মে জঙ্গীবাদ ও আত্মহননের কোন সুযোগ নেই। ইসলাম ও জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী। যারা জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে তারা ইসলাম কি তাও জানেনা। তিনি ধর্মের নামে উচ্ছৃঙ্খল ও উগ্র জীবন পরিহার করে দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আজ ৪ জুলাই ২০১৮ইং শনিবার সকাল ১১টায় সাতকানিয়া পৌরসভাস্থ সতি পাড়ায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ভোলা মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র-সহ সভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মোজাম্মেল হক, লায়ন ওসমান গণি চৌধুরী, প্রফেসর মো: ইদ্রিছ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাইদুর রহমান দুলাল, যুগ্ম আহবায়ক চেয়ারম্যান আ.ন.ম সেলিম চৌধুরী, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক, চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম ফারুক রুবেল, সাবেক ছাত্রনেতা সালাউদ্দিন হাসান চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ ওসমান, রকিবুল হক দিপু, নাজিমুদ্দিন লালু, মামুনুল হক, মোহাম্মদ লিটন, শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহ আলম, দিদারুল আলম, মীর আহমদ, নুরুল আলম, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুশ শুক্কুর, সাবেক আহ্বায়ক হারেজ মোহাম্মদ, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, স্থানীয় সাংসদ এর সহকারী একান্ত সচিব এস এম সাহেদ, উপজেলা যুবলীগের নেতা দিদারুল ইসলাম শিপন, দেলোয়ার হোসেন বেলাল,মোহাম্মদ আসাদ, ছাত্রলীগ নেতা জোনায়েদ, মো: ইদ্রিছ, জাহেদ প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শ্রমিক নেতাদের বাধায় বেনাপোল বন্দরে আটকে গেলো যাত্রীরা
অনলাইন ডেস্ক: বেনাপোল বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন ছাড়ার প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত শ্রমিক নেতাদের বাধায় বাস ছাড়তে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে তিনদিন ধরে বন্দরে আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। রোববার (৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় শ্রমিক নেতারা বেনাপেলে অবস্থিত সব পরিবহন কাউন্টারে গিয়ে বাস ছাড়তে নিষেধ করেন। আগে বাস চলাচল করবে বলে পরিবহন ব্যবসায়ীরা শনিবার (৪ আগস্ট) ভারত থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের কাছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেন। সকালে বেনাপোল বাজারে অবস্থিত বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, অসহায়ের মতো সাধারণ যাত্রীরা আটকা পড়ে কাউন্টারের সামনে বাসের আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে। কাছাকাছি গন্তব্যের যাত্রীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়, মোটরসাইকেল যেতে পারলেও দূরের যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। অন্যদিকে বেনাপোল বন্দর এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আবাসিক হোটেল না থাকায় ভারত ফেরত যাত্রীদের সমস্যায়ও পড়তে হয়েছে। কয়েকটি হোটেলে সিট পাওয়া গেলেও পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হোটেল মালিকদের বিরুদ্ধে। ভারত ফেরত ফাইভ স্টার পরিবহনের যাত্রী জেবা বলেন, তিনি গতকাল ভারত থেকে ফেরার আগে বাস কাউন্টারে যোগাযোগ করলে তারা জানায় গাড়ি ছাড়া হবে। পরে বাস ছাড়ার আগ মুহূর্তে কাউন্টার থেকে বলা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে গাড়ি ছাড়তে পারছেন না তারা। কবে নাগাদ ছাড়বে তার বিষয়েও মুখ খুলছেন না। সঙ্গে খরচের টাকাও শেষের দিকে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন কীভাবে চলবেন বুঝতে পারছেন না তিনি। বেনাপোল ফাইভ স্টার পরিবহনের ম্যানেজার আশা জানান, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের নিষেধাজ্ঞায় তারা বাস ছাড়তে পারছেন না। যাত্রীদের কাছে বিক্রিত টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে প্রায়ই বাস-ট্রাক চাপায় প্রাণ হারায় পথচারীরা। তাই নিরাপদ সড়কের দাবিতে এখানে ছাত্ররা রাস্তায় না নামলেও এখানকার সড়ক সংস্কার ও শৃঙ্খলা রক্ষা জরুরি। এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হলেও বন্দর নগর বেনাপোলে এ পর্যন্ত কোনো ছাত্র-ছাত্রীরা দাবি আদায়ে রাস্তায় নামেনি। জানা গেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের ইচ্ছা থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপে তারা নামতে পারছেন না।
কোরবানিতে ৫০ হাজার পশু আমদানির টার্গেট
অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মিয়ানমার থেকে ৫০ হাজার গরু-মহিষ আমদানির টার্গেট নিয়েছে টেকনাফের পশু আমদানিকারকরা। সেই টার্গেট পূরণের জন্য মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে পশু রাখার স্থান। কিন্তু বাধ সেধেছে প্রতিকূল আবহাওয়া আর বাজার দর। ভারত থেকে কোরবানি উপলক্ষে পশু আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দরপতন ঘটেছে। এ কারণে ঈদের আগেও টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানিতে আগ্রহ পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। জুন মাসে মিয়ানমার থেকে প্রায় ১৫ হাজার গরু-মহিষ আমদানি করা হয়েছে। এর বিপরীতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে জুলাই মাসে এসেছে ৬ হাজার পশু। আর আগস্টের প্রথম চারদিনে এসেছে ১ হাজার ৬৮০টি গবাদি পশু। টেকনাফ পশু আমদানিকারক সমিতি সূত্র জানায়, শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে জুন মাসে ১২ হাজার ৭৪০টি গরু ও ২ হাজার ৩৭২টি মহিষ আমদানি করা হয়। এরপরের মাসের বাজার দরের কারণে আমদানি অর্ধেকে কমে গেছে। জুলাই মাসে তা কমে ৪ হাজার ৬০১টি গরু ও ১ হাজার ৫০৫টি মহিষ আনা হয়েছে। আর চলতি মাসের প্রথম দুইদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো পশু আমদানি হয়নি। তবে ৩ ও ৪ আগস্ট দুইদিনে ১ হাজার ১৩২টি গরু ও ৫৪৮টি মহিষ এসেছে এপারে। শাহপরীর দ্বীপ করিডোর ঘুরে দেখা গেছে, করিডোর সংলগ্ন নানা জায়গায় হাজারও গরু-মহিষ মজুদ রয়েছে। তবে তা অপ্রতুল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী এই হাটে এসেছেন। ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, গরুর বাজার দর এখানে কম শুনেই এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখছি দর অনেক বেশি। এখান থেকে গরু নিয়ে আমার জেলায় যেতে গড়ে গরুর দাম পড়বে ৬০ হাজারের উর্ধ্বে। কক্সবাজারের গরু ব্যবসায়ী সালাম বলেন, বেচা কম ও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় গরু কম আসছে। শাহপরীর দ্বীপের ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল বলেন, ব্যবসায়ীরা সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব দিলেও করিডোর ও পশু রাখার স্থান নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। মনের মতো করে পশুগুলো রাখা যাচ্ছে না। শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় মেম্বার ও গরু ব্যবসায়ী মো. শরীফ বলেন, বাজার দর কম থাকায় পশু মজুদ করা হচ্ছে। আর মজুদ করা কিছু পশুর মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেখার জন্য পশু বিভাগের পরীক্ষাগার থাকলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেখা যায়নি। টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ মনির জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার পশু আমদানির টার্গেট রয়েছে। সেভাবে টার্গেট নিয়ে পশু আমদানিকারকরা শত কোটি টাকা অগ্রিম দাদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছেন। কিন্তু বর্ষার মূল সময় হওয়ায় বৈরী আবহাওয়া ও অন্যদিকে কেনাবেচায় পশুর দামে তারতম্য হওয়ায় আমদানিও আগের চেয়ে কম। দাম যা-ই হোক আমদানিকারক হিসেবে দায়িত্বের খাতিরে হলেও লক্ষ্য পূরণে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কেনার সঙ্গে বেচা সমান্তরাল হলেও নিত্যদিন ট্রলার বোঝাই আমদানি পশু আসবে। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় পশু কম আসছে জানিয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আছাদুদ জামান চৌধুরী বলেন, এখন পশু আসা শুরু হয়েছে। আমরা ব্যবাসয়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। পশু আমদানি বাড়াতে বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। টেকনাফ শুল্ক স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদের আর মাত্র বাকি ১৭/১৮ দিন। ঈদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পশু আমদানি হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে এ সময়ে যে পরিমাণ পশু আমদানি হয়েছিল চলতি বছরে তার সিঁকি ভাগও এখনও হয়নি। আমদানি পশুর বাজারে বিক্রয় মূল্য কম থাকায় হতাশায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা।

সারা দেশ পাতার আরো খবর