মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯
কুমিল্লা ইপিজেডের আগুন ৮ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
৯এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুমিল্লা ইপিজেডের আরএন স্পিনিং মিলের আগুন প্রায় আট ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের অবিরাম চেষ্টার পর মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। সকালে ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহাম্মদ। তবে কারখানার ভেতর বিপুল পরিমান সুতা, তুলা ও অন্যান্য মালামালে এখনও আগুন রয়েছে। এসব আগুন পুরোপুরি নেভাতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এদিকে ওই কারখানায় ৩ শিফটে যেসব শ্রমিক কাজ করতেন তাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোমবার বিকেলের শিফটেও যারা কাজ করে বাড়ি ফিরেছিলেন সেই কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মালিক পক্ষ ও তাদের প্রতিনিধি এবং কর্মকর্তারাও বাকরুদ্ধ। কারখানার মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মী দিদার জানান, কারখানার ভেতর ৩টি শিফটে কাজ হয়। প্রতি শিফটে অন্তত ৫শ শ্রমিক কাজ করেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার এলার্ম শুনতে পেয়ে সকল শ্রমিক নিরাপদেই বাহিরে চলে আসে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ Rab ও পুলিশের কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি তদারকি করেন। এদিকে আগুনে ওই কারখানার ভেতর থাকা সকল মেশিনপত্র, মালামাল ও অবকাঠামো ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। এ নিয়ে মালিক পক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, স্টিলের অবকাঠামো দিয়ে তৈরি ওই স্পিনিং মিলে প্রচুর পরিমাণ সুতা ও তুলা থাকায় আগুন অল্প সময়েই পুরো কারাখানায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যে পরিমাণ পানি দরকার ছিল তা ইপিজেডের ভেতর ছিল না। তাই পাম্প চালিয়ে বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করা হয়। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে তবে ভেতরে মালামালের ভেতর জ্বলতে থাকা আগুন নিভিয়ে ফেলেতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অতিরিক্ত মদপানে রাশিয়ান প্রকৌশলী ও ২ রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
৭এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অতিরিক্ত মদপানে রাশিয়ার একজন প্রকৌশলী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ও রোববার ভোরে তারা মারা যান। একই কারণে রাশিয়ান আরও দুই প্রকৌশলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতরা হলেন, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান প্রকৌশলী বেলি দিমিত্রী (৪১) এবং রাবির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহতাসিম রাফিক খান তুর্য (২৫) ও অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তুর্য রায় (২৫)। রাফিক খানের বাড়ি খুলনা। আর তুর্য রায়ের বাড়ি নীলফামারী। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাফিস রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে রাশিয়ান চারজন প্রকৌশলী মদপান করেন। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চার বিদেশি প্রকৌশলীকে রামেক হাসপাতালে আনা হয়। কিছুক্ষণ পর বেলি দিমিত্রীর মৃত্যু হয়। মিকায়েল দিমা, লোগেচেভ লেভ নামের দুই প্রকৌশলী হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর এক প্রকৌশলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাবির সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তুর্য নগরীর বালিয়াপুকুরের একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। আর রাফিক খান থাকতেন মোন্নাফের মোড়ের একটি ছাত্রাবাসে। দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। দুজনের বন্ধুত্ব ছিল খুব ভাল। শুক্রবার রাতে রাফিক খান, তুর্য রায় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে মদপান করেছিলেন। এদের মধ্যে রাবির দুই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের নেতা তোহরাব হোসেন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে রাফিক খান তুর্য তাকে ফোন করে মদপানের কারণে তাদের দুজনের অসুস্থতার কথা জানান। তিনি তাদের তার বাসার রোড এলাকার ছাত্রাবাসে ডাকেন। তখন রাফিক খান ও তুর্য রায় তার ছাত্রাবাসে যান। তোহরাব তাদের হাসপাতালে নিতে চাইলে তারা বলেন, কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলে তারা ঠিক হয়ে যাবেন। তোহরাব তাদের ডাবের পানি ও স্যালাইন পান করতে দেন। এরপর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত ৩টার দিকে রাফিক খান বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৪টার মধ্যে তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। এরই মধ্যে ছাত্রাবাসে থাকা তুর্য রায়েরও অবস্থার অবনতি হয়। তখন তাকেও হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রোববার ভোর ৫টার দিকে রাফিক খান এবং সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তুর্য রায় মারা যান। এ ব্যাপারে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত তিনজনের মরদেহ রামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদেরও খবর দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর বিদেশি প্রকৌশলীর মরদেহের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি।
নয় দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের অবরোধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ
২এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নয় দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রেলপথ অবরোধ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসব দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, গ্রাচুইটি ও পিএফর টাকা দেয়াসহ নয় দফা দাবিতে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছেন। তিন দিন তারা ধর্মঘট পালন করবেন। এই তিন দিন সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা করে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিও পালন করছেন শ্রমিকরা। মহানগরে নতুন রাস্তার মোড়ের কবির বটতলা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। রেলপথ অবরোধের কারণে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে খুলনা রেলস্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছাড়েনি। ফলে যাত্রীরা স্টেশনেই অবস্থান করছেন। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের। খুলনা স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, সকাল আটটা থেকে অবরোধ শুরু হলেও সকাল ছয়টা থেকে ট্রেন ছাড়া সম্ভব হয়নি। শ্রমিকরা ভোর ছয়টা থেকেই ট্রেন ছাড়তে বাধা দিয়েছেন। ফলে সকাল ছয়টার কমিউটার, সাড়ে ছয়টার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, সোয়া সাতটার রূপসা এক্সপ্রেস, ৮টা ৪০-এ চিত্রা এক্সপ্রেস, ৯টা ১০-এ রকেট ছাড়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, বিজেএমসি চেয়ারম্যান গত ২৮ মার্চের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। দাবি আদায়ে বাধ্য হয়ে আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
পৃথক বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফে নিহত ৩
৩১মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে কথিত পৃথক বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নারীসহ তিন ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোররাতে সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ও একই উপজেলার দমদমিয়া নাফনদীর ওমরখাল এলাকায় বিজিবির সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল ৬টিএলজি বন্দুক, ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৮টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। নিহত ইয়াবা কারবারিরা হলেন, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলী আকবর পাড়া এলাকার মিয়া হোসনের ছেলে মাহামুদুর রহমান (২৮) ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আফছার (২৫) এবং লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/৬ ব্লকের বদরুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা আকতার (২০)। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একদল ইয়াবা কারবারি বিক্রির জন্য একত্রিত হচ্ছে এমন খবর পেয়ে রোববার রাতে টেকনাফ উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ঠোড়ে। এভাবে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ গুলি চালানোর পর ইয়াবা কারবারিরা পিছু হঠলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ দুইটি দেহ পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক কক্সবাজার রেফার করেন। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুইটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশের একজন এসআইসহ তিন সদস্য আহত হয়েছে। এরা হলেন এস আই দীপক বিশ্বাস, সহকারি উপ-পরিদর্শক এএসআই আমির ও কনেষ্টবল শরিফুল। তাদের টেকনাফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ ৫/৬টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি। অপরদিকে, টেকনাফ ২নং বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানিয়েছেন, রোববার ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া ওমরখাল নাফনদী এলাকায় টহলে বের হন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) সদস্যরা। এ সময় কিছু লোক মিয়ানমার থেকে ওমরখাল পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় থামার জন্য সংকেত দেয়। কিন্তু, বিজিবির সংকেত অমান্য করে উল্টো বিজিবির টহলদলের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এতে বিজিবি টহলদলের একজন সদস্য আহত হয়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবি টহলদল কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০-১৫ মিনিট গুলি বিনিময় চলে। অস্ত্রধারী চোরাকারবারীরা গুলি করতে করতে খালের কিনারা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুলির শব্দ থামার পর ভোরের আলোতে টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশী করে এক জন নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নৌকার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে। পরে স্থানীয়রা তাকে রোহিঙ্গা নারী বলে সনাক্ত করে। এ সময় ১০ হাজার পিস ইযাবা ও ৩টি লোহার ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি টেকনাফ থানার মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বন্ধ,বাস খাদে পড়ে নিহত ৮
২৮মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাদারীপুরে মাহফিলের যাত্রীবাহী বাস খাদে পরে ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া এলাকায় মাহফিল শেষে মাদারীপুর সদরের ভাংগ্রাবীজ এলাকায় ফিরছিলেন মুসল্লিরা। সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে খাদে পড়ে যায় মাহফিলের যাত্রীবহনকারী বাসটি। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত অর্ধশত। খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরো একজনের। এ ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। দুর্ঘটনায় ৭জন নিহত হলেও এর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। মাদারীপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেলে অফিসার অখিল সরকার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বললেন ভিসি
২৭মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলার প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে ভিসির ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ক্লাস-পরীক্ষাও বর্জন করেছে তারা। একইসঙ্গে দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বক্তব্য প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে আন্দোলনরতরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইমামুল হক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও ফুল দেয়া ছাড়া আর কোনো অনুষ্ঠানে (মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) শিক্ষার্থীদের রাখা হয়নি। এর প্রতিবাদ করা হলে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেন ভিসি। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। তার ধারাবাহিকতায় ভিসির ওই উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।-আলোকিত বাংলাদেশ
কক্সবাজারে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪
২৭মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি বন্দকযুদ্ধে দুজন করে চারজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। বাকি দুজন জলদস্যু বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে। এর মধ্যে আজ বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার খারাংখালী এলাকায় বিজিবির সঙ্গে রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ীদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এরপর সেখান থেকে দুজনের মরদেহ ও এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। এর ঠিক আধা ঘণ্টা পর ভোর ৫টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট এলাকায় Rabর সঙ্গে জলদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এরপর সেখান থেকে দুজনের মরদেহ এবং দেশীয় তৈরি আটটি বন্দুক ও ২৬টি গুলি উদ্ধার করা হয়। নিহত জলদস্যুদের পরিচয় জানাতে পারেনি Rab। টেকনাফে বিজিবির ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানিয়েছেন, ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে খারাংখালী নাফ নদ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দুজন ব্যক্তি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় কর্তব্যরত বিজিবির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এ ঘটনায় মিয়ানমারের দুজন রোহিঙ্গা নাগরিক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। দুটি মরদেহ টেকনাফ থানা পুলিশের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিজিবি বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলার প্রক্রিয়া করছে বলে জানিয়েছেন শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার। Rab-15 কক্সবাজার কার্যালয়ের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে Rabর একটি দল পেকুয়া উপজেলার মগনামা এলাকায় অভিযানে যায়। ভোর ৫টার দিকে একটি জলদস্যু বাহিনীকে ধাওয়া করলে Rab কে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে জলদস্যুরা। Rab আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।RAb-জলদস্যু গোলাগুলির একপর্যায়ে জলদস্যুরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি আটটি বন্দুক ও ২৬টি গুলিসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজন জলদস্যুকে পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পেকুয়া থানা পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত জলদস্যুদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ব্রাশফায়ারে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ নিহত ৫ রাঙামাটিতে
১৮মার্চ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে বাঘাইছড়ির নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে নয়মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীরর সদস্য(ভিডিপি) মো. আল আমিন, বিলকিস (৩৫), মিহির কান্তি দত্ত ও কিশালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমির হোসেন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাঘাইছড়ির কংলাক থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে পাঁচজন নিহত হন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় আরও ৭-৮ জন গুলিবিদ্ধ আছেন। আহতদের বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।
নরসিংদীতে মা-মেয়েকে গণধর্ষণ
১৬মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় মহাসড়কে বিকল হয়ে যাওয়া বাস থেকে মা ও মেয়েকে ফুসলিয়ে অন্য বাসে তুলে দেয়ার কথা বলে আটকে রেখে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সৃষ্টিঘর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও আব্দুল বারেকের ছেলে শফিককে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৃষ্টিঘর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মা ও মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে বাসে করে ধর্ষণের শিকার মা ও মেয়ে হবিগঞ্জ যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৃষ্টিঘর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে বাসটি বিকল হয়ে যায়। এসময় গ্রেপ্তার দেলোয়ার ও শফিক মা ও মেয়েকে অন্য বাসে তুলে দেয়ার কথা বলে স্থানীয় একটি জুটমিলের পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে আলাদা দুটি কক্ষে আটকে রেখে মা ও মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। এসময় মা ও মেয়ের চিৎকারে আসামিরা পালিয়ে যায়। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মা বাদী হয়ে ছয়জনের নামে মামলা করেছেন। পরে পুলিশ রাতেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর